• Colors: Blue Color

প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে আবারও একটি নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রাণ গেছে অন্তত ৩ জনের। মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা বলে দাবি মার্কিন সেনাবাহিনীর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্য এক্সে এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানিয়েছে, শুক্রবার বেআইনি তৎপরতার খবর পেয়ে একটি নৌযানকে তাড়া করে তারা। মাদক পাচারে জড়িত ছিল সেটি।

সাউথকম কমান্ডারের নেতৃত্বে যৌথ টাস্কফোর্স পরিচালনা করা হয় এই অভিযান। হামলার একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে মার্কিন বাহিনী।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। যার প্রধান টার্গেট ভেনেজুয়েলার নৌযান।

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শুক্রবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া শহরের অন্তত ২৫টি জায়গায় গাছ ভেঙে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এসব গাছ বিভিন্ন এলাকার গাড়ির ওপর পড়লে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের সময় কলকাতার হুগলি নদীর প্রিন্সেপ ঘাটের রেললাইনের ওপর একটি গাছ ভেঙে পড়ে রেললাইনের তারে আগুন ধরে যায়। এ সময় ভেঙে পড়া আমগাছ থেকে সড়কের ওপর ঝরে পড়া আম কুড়াতে গিয়ে একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তাঁর পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে রেলের চিকিৎসকেরা মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।

ঘূর্ণিঝড়ে গাছ ভেঙে পড়েছে গাড়ির ওপরে। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ২৯ মে
ঘূর্ণিঝড়ে গাছ ভেঙে পড়েছে গাড়ির ওপরে। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ২৯ মে
 

এই ঘূর্ণিঝড়ের বেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লেন্স ডাউন, মুদিয়ালী, সল্টলেক, সাউদার্ন অ্যাভিনিউ, হরিস মুখার্জী রোড, ময়দান, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, পাতিপুকুর, কাঁকুড়গাছি, খিদিরপুর, পিজি হাসপাতাল, হাইল্যান্ড পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট, লেক গার্ডেন্স, টালা পার্ক এলাকায় গাছ ভেঙে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
ঝড়ের কারণে শিয়ালদহ-বনগাঁ লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কলকাতা বিমানবন্দরে পানি জমে যাওয়ায় বিমানের ওঠানামা এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে। বিভিন্ন এলাকার রেললাইনে পানি জমে যায়।

ঝড়বৃষ্টির কারণে পানি জমে যায় বিভিন্ন রাস্তায়। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ২৯ মে
ঝড়বৃষ্টির কারণে পানি জমে যায় বিভিন্ন রাস্তায়। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ২৯ মে
 

পানি জমেছে কলকাতার পিজি হাসপাতাল সড়কসহ আম হার্টস্টিটেও। হরিস মুখার্জী রোডে গাছ ভেঙে একটি গাড়ির ওপর পড়ায় গাড়িটি ভেঙে যায়। যদিও ড্রাইভার মুহূর্তের মধ্যে নিজে গাড়ি থেকে বের হয়ে বাঁচেন। যাদবপুরে ট্রাফিক সিগন্যালের পোস্ট ভেঙে পড়ে।

কলকাতা শহরে ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে নেওয়ার জন্য নেমে পড়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। কর্মীরা গাছ কাটার করাত নিয়ে বড় বড় গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ করেন। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভা জমে যাওয়া রাস্তার পানিনিষ্কাশনের জন্য চালু করে দেয় পাম্প মেশিন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কন্ট্রোল রুম খোলে রাজ্য সরকার।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। তেহরান জানায়, এই অভিযানে তারা একটি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাসের পর মাস মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পরও ইরান পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপের কাছে ড্রোনটি নামানো হয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘আরাশ-ই কামানগির’ নামক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাটি এই প্রথম কোনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

সম্প্রতি বন্দর আব্বাসের কাছে একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল এই নৌপথে আলোচিত মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, পাল্টা জবাবে তারা একটি ‘মার্কিন বিমানঘাঁটিতে’ হামলা চালিয়েছে।

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মাসের পর মাস চলা ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার পর দেশটির সক্ষমতা আর কতটুকু টিকে আছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। বিশেষ করে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান নতুন কোনো আক্রমণ সামলাতে পারবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

‘ইউক্রেনের মতো ইরানও ক্ষেপণাস্ত্রের নকশায় স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক কৌশল বদলে দিচ্ছে। সস্তা ও সাধারণ ব্যবস্থা এখন অনেক জটিল ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।’
কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র লেকচারার মার্ক হিলবোর্ন

ইরান কী বলছে

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘শত্রু’ গোয়েন্দা ড্রোন ঠেকাতে ‘আরাশ-ই কামানগির’ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার রাডার ফাঁকি দেওয়া যান বা ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তি শনাক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে এর কারিগরি বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইরানি গণমাধ্যমের বলছে, আকাশ ও জলসীমায় অবস্থান করা শত্রু বিমানের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তার মতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় তেহরান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ফারস নিউজ জানায়, ‘গোপন সক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান একটি সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছে।’

নতুন এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ফারসি অর্থ ‘তিরন্দাজ আরাশ’। পারস্যের পৌরাণিক এক বীরের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। লোকগাথায় উল্লেখ রয়েছে, তিনি একটি তির ছুঁড়ে ইরান ও মধ্য এশিয়ার সীমানা নির্ধারণ করেছিলেন। বিদেশি আধিপত্যবিরোধী বীর হিসেবেও সাহিত্য ও কবিতায় তিনি সমাদৃত।

ইরানের সামরিক মহড়ার সময় উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্র। ১৬ জানুয়ারি এ ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রেভোল্যুশনারি গার্ডসের ওয়েবসাইট সেপাহ নিউজ
ইরানের সামরিক মহড়ার সময় উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্র। ১৬ জানুয়ারি এ ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রেভোল্যুশনারি গার্ডসের ওয়েবসাইট সেপাহ নিউজছবি: এএফপি

ইরানের দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য

বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেহরানের এই দাবি সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। কারণ, দেশটির সামরিক অগ্রগতির অনেক তথ্যই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা কঠিন।

কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র লেকচারার মার্ক হিলবোর্ন আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আরাশ-ই কামানগির’ সম্পর্কে ‘নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা তথ্য খুব কম’। তবে এই হামলা ‘একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ’।

হিলবোর্ন আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের মতো ইরানও ক্ষেপণাস্ত্রের নকশায় স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক কৌশল বদলে দিচ্ছে। সস্তা ও সাধারণ ব্যবস্থা এখন অনেক জটিল ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।’

‘আরাশ-ই কামানগির’ আসলে কী

হরাইজন এনগেজের নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলমেইদা আল-জাজিরাকে বলেন, এই ব্যবস্থা সম্ভবত ইরানের অন্যান্য স্বল্পপাল্লার সমরাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, এটি আগের কোনো ব্যবস্থারই উন্নত সংস্করণ।’

আলমেইদা আরও বলেন, ‘এটি প্রথাগত রাডারের স্থির নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে না। সম্ভবত এতে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল বা তাপ শনাক্তকরণ (হিট-সিকিং) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত এটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য এমন এক ‘পপ-আপ’ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, যা খুব সহজে মোতায়েন ও উৎক্ষেপণ করা যায়।’

ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, এসব বহনযোগ্য ব্যবস্থার বড় সুবিধা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এসব ব্যবস্থার বড় সুবিধা হলো এগুলো দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া যায়। এটি প্রমাণ করে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখনো টিকে আছে।’

বিশ্লেষক আলমেইদা বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান এখনো এমন কিছু ব্যবস্থা ধরে রেখেছে যা ‘সীমিত ও নিম্নস্তরের আকাশ হুমকি’ টিকিয়ে রাখতে সক্ষম। এসব ব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করা বেশ কঠিন।

ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র
ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রছবি : রয়টার্স

কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ

গ্রাজিউস্কি বলেন, ইরানের সামরিক কৌশল মূলত ‘সহনশীলতা, ধৈর্য ও গতিশীলতার’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযানের সাফল্য নিয়ে বাড়িয়ে বলছে।’

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের সমালোচনা করে গ্রাজিউস্কি বলেন, ‘পাশ্চাত্যের বিশ্লেষকেরা প্রায়ই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রকে ত্রুটিপূর্ণ বা অকার্যকর বলেন। কিন্তু শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে ইরান আসলে তাদের নিজেদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছে।’

আল–জাজিরা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকা গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে নিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির উগ্রপন্থী ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা জানান।

এদিন অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক সম্মেলনে সাক্ষাৎকার দেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি বলেন, হামাসের ওপর ইসরায়েল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে।

কট্টরপন্থী এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা এখন আমাদের হাতে। আগে আমরা ৫০ শতাংশ এলাকায় ছিলাম। সেখান থেকে আমরা ৬০ শতাংশে পৌঁছেছি।’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার নির্দেশ হলো ধাপে ধাপে এগোনো। প্রথমেই ৭০ শতাংশে যেতে হবে। আপাতত এ লক্ষ্য নিয়েই আমরা শুরু করি।’

যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু এ কথার বলার সময় উপস্থিত উগ্রপন্থী ইহুদিরা দর্শকেরা পুরো গাজা দখলে নেওয়ার দাবি জানান।

গত এপ্রিলের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে কিছু মানচিত্র দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। সেসব মানচিত্রে দেখা যায়, গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা আগে থেকেই ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গাজার আরও এলাকা ইসরায়েল দখলে নিলে সেখানকার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি চরম বিপাকে পড়বেন। এই উপকূলীয় উপত্যকার সামান্য ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকায় তাঁদের গাদাগাদি করে থাকতে হবে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনারা ‘ইয়োলো লাইন’ (হলুদ রেখা) নামের একটি সীমানায় পিছিয়ে যায়। এর ফলে গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ওই সীমানা সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে হামাস। মঙ্গলবার হামাস বলেছে, এর মাধ্যমে ইসরায়েল প্রকাশ্যেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তারা জোরপূর্বক নতুন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মূলত গাজার ওপর নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করাই ইসরায়েলের লক্ষ্য। এর ফলে ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানো ও সংঘাত কমানোর যেকোনো চেষ্টাই ব্যর্থ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি গত অক্টোবরে কার্যকর হয়। ইসরায়েল ও হামাস—উভয় পক্ষেরই এই চুক্তির শর্ত মেনে চলার কথা। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে এর বাস্তবায়ন থমকে আছে। এতে গাজা ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন বুলগেরিয়ার কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ। চলতি মাসের শুরুতে তিনি একটি সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না হলে এই ‘ইয়োলো লাইন’ একসময় সীমানাপ্রাচীর বা দেয়ালে পরিণত হতে পারে। এর ফলে গাজা স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

গাজার বর্তমান বাস্তবতার কথাও স্বীকার করেন ম্লাদেনভ। তিনি বলেন, সেখানে ‘এখনো বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন’। ইসরায়েলি বিমান হামলার ‘ভয়ে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো’।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় বারবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তারা নিজেদের মতো করে অভিযোগ তুলেছে, হামাস নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং নিজেদের বাহিনীকে আবার সংগঠিত করছে। এর মধ্য দিয়ে হামাসই প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

ফিলিস্তিনের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ইসরায়েলের এসব হামলায় গাজায় ৮৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে হামাসের সামরিক শাখার নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যা করে ইসরায়েল। এর ১১ দিন পর আরেক হামলায় তাঁর উত্তরসূরিকেও হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলের আরেক উগ্রবাদী নেতা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘৭ অক্টোবরের হামলায় যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে হত্যার শপথ নিয়েছিলাম আমরা। আর আমরা সেটাই করব। তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁদের মৃত্যুদণ্ড অবধারিত।’

ম্লাদেনভ আরও বলেন, হামাসও তাদের অস্ত্র সমর্পণ বা ধ্বংস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অথচ গাজার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার এই প্রধান শর্তটির ওপর। শর্ত অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গাজার বিভিন্ন অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এরপর ইসরায়েলি বাহিনী গাজার দখল করা এলাকা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাবে।

বেশ কয়েকটি দেশ গাজায় নিরাপত্তা বাহিনী পাঠাতে চেয়েছে। তবে ঠিক কবে এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তার কোনো সুস্পষ্ট সময়সীমা নেই। যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নেও কোনো অগ্রগতি নেই। এই সুযোগে গাজার আরও বেশি এলাকা ক্রমশ দখলে নিচ্ছে ইসরায়েল। ধ্বংসপ্রাপ্ত এই ভূখণ্ডে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করছে।

সিএনএন

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব