• Colors: Blue Color

মার্কিন সিনেটে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে আজ। বুধবার (৪ মার্চ) প্রস্তাবটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বিলটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায়। বিকেল ৪টায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে।

এরই মধ্যে সমালোচনা জোরদার হয়েছে যে, ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানে হামলা চালিয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ইরানে এতো বড় হামলায় চালাতে পারেন কিনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও কংগ্রেসকে উপেক্ষা করে হামলা শুরুর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। দেশটির আইন প্রণেতারা ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ সমর্থন করছেন না বলা জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এদিকে, ইরান বলছে, এই যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলকে সন্তুষ্ট করার জন্য কাজ করছে; মার্কিন নাগরিকদের জন্য নয়। 

 

 

 

 

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ঘিরে নাটকীয় দাবির প্রেক্ষাপটে। বুধবার (৪ মার্চ) ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে দেশটির এসেম্বলি অব এক্সপার্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন এবং তাকে মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজারে সমাহিত করা হবে। তবে দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের নিকটে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, হামলার পর কনস্যুলেটের আশপাশ এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

দুবাই মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোন হামলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও হামলার খবর পাওয়া যায়। তবে সেখানেও প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

সাইপ্রাসে রণতরি ও হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ এক পোস্টে এ কথা জানিয়েছেন।

গত সোমবার সাইপ্রাসে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের আক্রোটিরি ঘাঁটির রানওয়েতে ইরানি ড্রোন আঘাত হানে। এতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সাইপ্রাসে রণতরি পাঠানোর উদ্যোগ নেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, রণতরি 'এইচএমএস ড্রাগন' সাইপ্রাসে পাঠানো হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিরোধিতা এবং অবিলম্বে এই সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়েছে চীন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সারের সঙ্গে এক ফোনালাপে ওই আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টেলিফোনে আলাপকালে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ওয়াং ই বলেছেন, বলপ্রয়োগ করে কখনোই সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়; বরং এটি প্রায়ই নতুন সমস্যার জন্ম দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি গুরুতর পরিণতি ডেকে আনে। সামরিক শক্তির আসল সার্থকতা যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং যুদ্ধ প্রতিরোধ করার মধ্যে নিহিত।

মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরান, লেবাননের রাজধানী বৈরুত, বাহরাইনের মানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলায় আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা-পাল্টা হামলায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। 

এসব বিষয় উল্লেখ করে গিডিওন সারকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সব সমস্যা সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে চীন বিশ্বাস করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন জারি রাখবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া গত রোববার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গেও ইরান সংকট নিয়ে আলোচনা করেন ওয়াং ই। তবে গত শনিবার থেকে ইরানে হামলা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনও কথা বলেননি চীনের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলায় শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির চার ডজনের বেশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটিতে ওই দুই দেশের চলা হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

সূত্র: রয়টার্স।

 

ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ–১৩৬’ ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছে রাশিয়া। সেই ড্রোন এখন মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যবহার করছে ইরান। ৫০ হাজার ডলার মূল্যের এই ড্রোনগুলো ইঞ্জিনের কর্কশ শব্দের জন্য আলাদা করে চেনা যায়।

গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে কয়েক শ শাহেদ ড্রোন। যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখাতে তেহরান এই কৌশল নিয়েছে।

বাহরাইন থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আঁধারে একটি ডেল্টা-উইং ড্রোন ঘাস টাকার মেশিনের মতো (লনমাওয়ার) কর্কশ শব্দে একটি বহুতল ভবনের দিকে ধেয়ে আসছে এবং সজোরে সেটিতে আঘাত হানছে। এতে ভবনের ব্যালকনি দিয়ে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা যায়। সম্ভবত অ্যাপার্টমেন্টটি সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা পায়নি।

গত শনিবার সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর একটি বড় অংশই শাহেদ–১৩৬ মডেলের।

সোমবার বিকেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের ওপর ৬৮৯টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪৫টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ৪৪টি ড্রোন (মোট ড্রোনের প্রায় ৬ শতাংশের বেশি) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

যেভাবে কাজ করে শাহেদ ড্রোন

শাহেদ–১৩৬ ড্রোন ৩ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ এবং এর ডানার বিস্তার ২ দশমিক ৫ মিটার। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি সস্তা এবং তৈরি করা সহজ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরান বছরে কয়েক ডজন তৈরি করতে পারত। ফলে কিছু সময়ের জন্য চলমান সংঘাতের একটি অংশজুড়ে থাকতে পারে এসব ড্রোনই।

একটি শাহেদ ড্রোন প্রায় ৫০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে, যা একটি আকাশচুম্বী ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট হলেও তা ধসিয়ে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নয়।

এই ড্রোনগুলো তুলনামূলক ধীরগতির (যদিও ইউক্রেনে অবশ্য এর দ্রুতগতির জেট ইঞ্জিন সংস্করণও দেখা গেছে), কিন্তু এগুলোর বড় আকৃতি, ইঞ্জিনের উচ্চ শব্দ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার ধরন সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

বাহরাইন থেকে পাওয়া দ্বিতীয় একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের ঠিক ওপর দিয়ে একটি ডেল্টা-উইং ড্রোন উড়ে যাচ্ছে। ড্রোনটি সফলভাবে নিচের দিকে নেমে একটি রাডার ডোমে আঘাত হানে এবং সেটি ধ্বংস করে দেয়।

ইরানের ড্রোন হামলার পর বাহরাইনের মানামায় একটি বহুতল ভবনে আগুনে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি
ইরানের ড্রোন হামলার পর বাহরাইনের মানামায় একটি বহুতল ভবনে আগুনে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ছবি: রয়টার্স
 

এ ছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও শাহেদ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সাইপ্রাসের আক্রোতিরিতে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর (আরএএফ) একটি ঘাঁটিতেও সম্ভবত এই ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।

এই ড্রোনগুলোর পাল্লা সর্বোচ্চ দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এগুলো সাধারণত আগে থেকেই ঠিক করে দেওয়া জটিল পথ ধরে উড়তে সক্ষম। রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য এগুলো নিচ দিয়ে উড়ে যায়। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে এমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে এই ড্রোনগুলো দূর থেকে অপারেটরের মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যার ফলে একদম শেষ মুহূর্তেও এগুলো দিক পরিবর্তন করতে পারে।

শাহেদ–১৩৬ ড্রোনগুলো গত দশকের শেষের দিকে ইরানে নকশা করা হয়েছিল। ২০২১ সালের জুলাই মাসে ইসরায়েলি মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজ ‘মার্সার স্ট্রিট’-এ হামলার মাধ্যমে প্রথম এই ড্রোনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। ওই হামলায় একজন ব্রিটিশ ও একজন রোমানিয়ার নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।

এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় হামলায়ও সম্ভবত এই ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ রিসার্চ সেন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান মূলত এই ড্রোনের নকশা করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অধীনস্থ। তবে ২০২২ সালের শরৎকাল থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্যাপক ব্যবহারের ফলেই এই ড্রোন বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।

শুরুতে ইরান থেকে রপ্তানি করা হলেও পরবর্তী সময়ে এই ড্রোনের প্রযুক্তি রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে তেহরান। এরপর রাশিয়ার ভোলগা নদীর তীরে অবস্থিত ইয়েলাবুগা শহরের একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণে এই ড্রোন তৈরি করা হচ্ছে।

রাশিয়া সাধারণত ইউক্রেনে হামলার সময় একসঙ্গে প্রায় ৮০০টি শাহেদ–১৩৬ ড্রোন, একই রকম দেখতে ‘জেবেরা’ ডেকয় (ধোঁকা দেওয়ার ড্রোন) এবং অল্পসংখ্যক ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। মূলত ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতেই ‘ঝাঁক বেঁধে’ এই হামলা চালানো হয়, যাতে ড্রোনের আড়ালে আরও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যে আঘাত হানতে সফল হতে পারে।

ইউক্রেনের হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন
ইউক্রেনের হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন, ফাইল ছবি: রয়টার্স

তবে গত সপ্তাহান্তে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শাহেদ ড্রোনের বেশির ভাগ ভিডিওতে দেখা গেছে, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে ড্রোনের বিশাল কোনো ঝাঁক নয়, বরং বিচ্ছিন্নভাবে একেকটি ড্রোনকে আঘাত হানতে দেখা গেছে।

ইউক্রেনে শাহেদ ড্রোনগুলো স্থির লক্ষ্যবস্তুতে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে চলতি শীতে দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ ঘরবাড়িতে এর প্রভাব পড়েছে।

ইরান যদি এই একই কৌশল অবলম্বন করে তবে তারা সফল হতে পারে। সোমবার সকালে সৌদি আরবের বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরায় ড্রোন হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর ফলে শোধনাগারটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি শাহেদ ড্রোন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে এর ধ্বংসক্ষমতা ছিল একই রকম।

দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার সরকাল পর্যন্ত ৭৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।

তবে ইরানে চলমান সংঘাতে হতাহতের বিষয়ে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেওয়া তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব