• Colors: Blue Color

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে তিনি মার্কিন আলোচকদের ‘তাড়াহুড়া না করার’ নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তাঁরা একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।

আলোচনাধীন চুক্তিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিনে বাড়ানোর প্রস্তাব, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনার পরিকল্পনার কথা বলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘গঠনমূলক’ আলোচনা এগিয়ে চলছে, তবে ‘উভয় পক্ষকেই সময় নিতে হবে এবং বিষয়টি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে’।

গত শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’। তাঁর এ বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছিল যে শিগগিরই কোনো ঘোষণা আসতে পারে।

এ সপ্তাহান্তে ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষই একই সঙ্গে ‘খুব কাছে’ এবং ‘খুব দূরে’ রয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তি কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা নয়; বরং এতে কিছু জটিল বিষয় পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি, জব্দ করা ইরানি তহবিল মুক্ত করার আহ্বান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের দাবি।

খবর অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তি রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেছে। দলের কিছু সদস্য প্রকাশ্যে বলছেন, এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। হামলার জবাব দিতে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।

এপ্রিলের শুরুতে উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হয়। যুদ্ধবিরতির পর হামলা বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। ইরান এখনো প্রণালিটি প্রায় বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যতক্ষণ না একটি চুক্তি সম্পন্ন, অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত হয়, নৌ অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকবে।

গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প আবারও উল্লেখ করেন যে ইরানকে ‘বুঝতে হবে’ তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। অন্যদিকে তেহরান বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

ট্রাম্প রোববার তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও পেশাদারপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে; তবে তাদের বুঝতে হবে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি বা অর্জন করতে পারে না।’

মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে ‘তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য’ ধন্যবাদও জানান ট্রাম্প।

বিবিসি

চলতি বছর পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে স্থানীয় সময় আজ সোমবার, ৮ জিলহজ। আজ আল্লাহর মেহমান হজযাত্রীরা পবিত্র মক্কা নগর থেকে মিনায় যাচ্ছেন।

এর আগে গতকাল রোববার সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ সোমবার হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। হাজিদের তাঁবুনগরী হিসেবে পরিচিত মিনায় নিয়ে যেতে মাঠপর্যায়ের এবং সব ধরনের কার্যক্রমের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ পালনের উদ্দেশ্যে আজ সোমবার ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ (তারবিয়ার দিন) পালনের জন্য হজযাত্রীরা মক্কার নিজ নিজ বাসস্থান থেকে মিনায় যেতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ বছর পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে সৌদি আরবের আরও কয়েক লাখ হজযাত্রী যোগ দেবেন।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে হজযাত্রীরা তালবিয়া পাঠ করতে করতে ও আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করতে করতে আজ ভোর থেকে তাঁবুর নগরী মিনার দিকে রওনা হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি হজ মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের নিজস্ব ক্যাম্পে যাতায়াতব্যবস্থা সাজাতে এবং পবিত্র স্থানগুলোতে দেওয়া সেবার মান তদারক করতে সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করেছে। মন্ত্রণালয়ের এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হজযাত্রীদের থাকার জায়গা ও আতিথেয়তা কেন্দ্র থেকে মিনায় যাওয়ার বিষয়টি দেখভাল করা; তাঁবুতে তাঁদের সহজ প্রবেশ নিশ্চিত করা; নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক সেবা দেওয়া এবং ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করা।

মিনায় তাঁবুতে হজযাত্রীরা
মিনায় তাঁবুতে হজযাত্রীরা, ফাইল ছবি: এএফপি
 

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মন্ত্রণালয় মিনার ভেতরে হজযাত্রীদের থাকা, খাওয়া ও পরিবহনসেবার সার্বিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য মাঠপর্যায়ের নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এসব প্রচেষ্টা পবিত্র স্থানগুলোতে হজযাত্রীদের অবস্থানের শুরুর দিনগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে।

জিলকদ মাসের শুরু থেকে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে ৮৩ হাজারের বেশি পরিদর্শন ও মাঠপর্যায়ের সফর সম্পন্ন করেছে। হাজিদের বাসস্থান, আতিথেয়তা কেন্দ্র, তাঁবু এবং সব ধরনের সেবাকেন্দ্র এই পরিদর্শনের আওতাভুক্ত থাকছে। এতে তাদের কাজের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়, নির্ধারিত নিয়মগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা যায় এবং যেকোনো সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করে হজযাত্রীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতার মান উন্নত করা যায়।

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি শাটল ট্রেনে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৮২ জন আহত হয়েছেন। 

রোববার (২৪ মে) সকালে কোয়েটার চামান ফাটকের কাছে এই ঘটনা ঘটে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া পুলিশ সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী জাফর এক্সপ্রেস নামের ওই শাটল ট্রেনটি ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে রওনা হয়েছিল। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫ মিনিটের দিকে চামান ফাটকের কাছে পৌঁছালে ট্রেনটি লক্ষ্য করে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং দুটি বগিতে আগুন ধরে উল্টে যায়। এ সময় ট্রেনের আশপাশে থাকা কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হতাহতদের মধ্যে সাধারণ নারী ও শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫৭ জনকে একটি সামরিক হাসপাতালে এবং ২৫ জনকে কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি) রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বরাতে জানায়, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে বিশেষ উদ্ধারকারী ট্রাক ও একটি ত্রাণ ট্রেন পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, ৭০ কেজির বেশি বিস্ফোরকভর্তি একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা ব্যবহার করে এই নৃশংস হামলাটি চালানো হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি ও এর পেছনে কোন গোষ্ঠী জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

 

টোকিও থেকে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগরেহিও গত সপ্তাহেই দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি আসার কথা জানিয়েছেন।

যুদ্ধ বন্ধের এই চুক্তি হলে তাতে কী কী বিষয় থাকতে পারে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তাতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিষয়ে আলোচনা চলমান।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:

# যুদ্ধবিরতির এ সময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো টোল আদায় করা হবে না। তা ছাড়া হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করবে ইরান।

# ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে ইরানের জ্বালানি তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞায় কিছু ছাড় দেবে ওয়াশিংটন।

# ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা করবে না—সেই প্রতিশ্রুতি দেবে দেশটি। তা ছাড়া ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ আরও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাবে।

# অবরুদ্ধ করা ইরানের বিভিন্ন তহবিল থেকে দেশটিকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

# ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থান করবে মার্কিন বাহিনী। চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার পর মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করবে ওয়াশিংটন।

দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এই চুক্তির মেয়াদ ৬০ দিন পরও বাড়ানো যেতে পারে বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এসব খবর স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার প্রতিশ্রুতিও প্রস্তাবে রয়েছে।

বিবিসি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় একটি সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং 'প্রায় চূড়ান্ত' পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর, আল জাজিরার। 

শনিবার (২৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। 

ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। তবে তিনি বলেন, চুক্তিটি এখনো মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি লেখেন, চুক্তির শেষ ধাপ ও বিস্তারিত বিষয়গুলো বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে।

এর আগে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, জর্ডান, মিশর, তুরস্ক ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।

গত সপ্তাহজুড়ে ট্রাম্পের অবস্থানে নানা পরিবর্তন দেখা গেছে। সপ্তাহের শুরুতে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পরে তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তিনি সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছেন।

এরপর কখনও তিনি উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনও চুক্তি খুব কাছাকাছি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানের মানচিত্রের ওপর মার্কিন পতাকার একটি ছবিও পোস্ট করেন।

এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির শনিবার (২৩ মে) ইরান সফর শেষে দেশে ফিরে গেছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে সফরটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতার পথে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।

তবে তেহরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। কারণ, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই দুই দফায় ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চালু রয়েছে, তবে মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত। 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমলে বিশ্ববাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব