• Colors: Blue Color

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির আল-সালাম নৌঘাঁটিতে একটি গুদাম লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলার ফলে সাধারণ সরঞ্জাম রাখা দুটি কনটেইনারে আগুন ধরে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এ ঘটনাকে ‘সুস্পষ্ট আগ্রাসন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আবুধাবির একটি সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত দুটি হামলা চালানো হয়েছে। তবে কেন ওই ঘাঁটিতে হামলা চালানো হলো, সে বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।

এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, শনিবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১৬৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৪১টি ইরানি ড্রোন হামলা মোকাবিলা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার সকালে ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে ইরান।

বিবিসি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অনন্ত ২৭ জন।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

ইসরায়েলি জরুরি সেবা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৯ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ৩ জন সদস্য নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন।

রোববার (১ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সির (আইএলএনএ) বরাতে এ তথ্য জানায় ডেইলি সাবাহ। আইএলএনএ মূলত ইরানের শ্রমিক সংগঠন, কর্মসংস্থান, সামাজিক বিষয় ও শ্রম অধিকার–সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে তার বাসভবনে চালানো এক বিমান হামলায় ৬৯ বছর বয়সী আহমাদিনেজাদ ও তার দেহরক্ষী নিহত হন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলের শুরুতে তিনি শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্ব, কট্টরপন্থি ও পার্লামেন্টের রক্ষণশীলদের সমর্থন পেয়েছিলেন।

তবে মেয়াদের শেষদিকে তার নীতিনির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে তার পারমাণবিক নীতির কারণে ইরানের ওপর একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ফলে দেশটি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।

ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন। তার শাসনামলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকির জেরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার সমর্থকরা দূরে সরে যান এবং মেয়াদের শেষদিকে কট্টরপন্থিদের কাছেও তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অন্তত তিনজন প্রবাসী নিহত এবং আরও ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এবং আমিরাতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম খালিজ টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি এবং একজন নেপালি নাগরিক রয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া মোট ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ১৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও, ইরানের ছোড়া দুটি শক্তিশালী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকেও মাঝপথে ভূপাতিত করেছে আমিরাতি বাহিনী। তবে বিশাল এই ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির কিছু অংশ আবাসিক এলাকায় আঘাত হানায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোনও উড়ে এসেছে আমিরাতের দিকে। রাডারে মোট ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি ড্রোন আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর সিস্টেমগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো মূল্যে আকাশপথ নিরাপদ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তিন সদস্য নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরও কয়েকজন আঘাতে সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের পুনরায় কাজে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চলছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলমান পরিস্থিতির নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। আপাতত নিহতদের পরিচয় বা এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য তাদের স্বজনদের জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত গোপন রাখা হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাহাদাত বরণের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। লেবাননভিত্তিক শক্তিশালী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ও ভয়ংকর’ প্রতিশোধ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) হিজবুল্লাহর বর্তমান প্রধান নাঈম কাসেম এক বিশেষ বিবৃতিতে জানান, তাদের সর্বোচ্চ নেতার রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

নাঈম কাসেম বলেন, মার্কিন ও ইহুদিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের যে দায়িত্ব, তা আমরা খুব শিগগিরই পালন করব। এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে প্রতিরোধ যুদ্ধ অব্যাহত রাখা হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন আধিপত্য রুখে দিতে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে বদ্ধপরিকর।

এর আগে, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর শনিবার ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে দেশটিতে।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব