বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার মতো এমন অপকর্ম করার সাহস পেত না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ ও নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিএনপির আয়োজিত র্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় যেমন জিয়াউর রহমান ভূমিকা রেখেছিলেন, তিনি বেঁচে থাকলে আজ ফিলিস্তিনের পক্ষে কার্যকর উদ্যোগ নিতেন এবং ইসরায়েল এমন সহিংসতা চালানোর সাহস পেত না।
তিনি বলেন, ইসরায়েল শুধু ফিলিস্তিন নয়, ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের মুসলমানদের নিঃশেষ করবে। এরপরও মুসলিম বিশ্বের মোড়লরা চুপ করে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই অত্যাচার চলবে। ধীরে ধীরে মুসলমানদের ধ্বংস করে দেবে ইসরায়েল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনে চলমান সহিংসতার ছবি দেখলে সহ্য করা যায় না বলেও উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-এর প্রথম দিনে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে প্রদর্শিত হয়েছে ড্রোন শো। তাতে সন্ধ্যার পর ঢাকার আকাশ হয়ে ওঠে ঝলমলে। হাজার হাজার দর্শক উপভোগ করেন এই শো।
ঢাকার চীনা দূতাবাসের কারিগরি সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় সোমবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় এ ড্রোন শো শুরু হয়।

যেখানে প্রদর্শিত হয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো আবু সাঈদ, পানির বোতল হাতে প্রতীকী মুগ্ধতা, ‘২৪-এর বীর’, পায়রার খাঁচা ভাঙা থিম এবং ফিলিস্তিনের জন্য প্রার্থনা। বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের শুভেচ্ছাবার্তা-ও ছিল।
এছাড়া, জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ ও গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার প্রতিবাদও প্রতীকীভাবে শোতে স্থান পায়।

ড্রোন শোর আগে বিকেলে বৈশাখী কনসার্ট চলে। বান্দরবানের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর গানের দল বেসিক গিটার লার্নিং স্কুলের খুদে শিল্পীদের পরিবেশনার মাধ্যমে আয়োজনটি শুরু হয়।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্কৃতিবি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বিশেষ অতিথি ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিসহ সরকারি ও বেসরকারি দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শুধু অতীতের ভিত্তি ধরে রাখা নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বাড়াতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য। সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে যমুনা টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত রোজি উইন্টারটন।
তাঁর ইঙ্গিত, ইউকে এক্সপোর্ট ফান্ডের ২ বিলিয়ন পাউন্ড ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে তার আগে বাংলাদেশকে কমাতে হবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
এর আগে, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত রোজি উইন্টারটন যোগ দিয়েছিলেন এবারের বিনিয়োগ সম্মেলনে। বক্তব্য রেখেছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্বে।
সম্মেলনের পর, যমুনা টেলিভিশনে সাথে যুক্ত হন একান্ত সাক্ষাৎকারে। এসময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দান এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণের বিনিময়ে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটানোকে বিস্ময়কর মনে করেন এ ব্রিটিশ দূত।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিমুখী বাণিজ্যের অপার সুযোগ রয়েছে এমনটাও জানান উইন্টারটন। বলেন বাংলাদেশি পোশাক খাত প্রতিষ্ঠিত এবং ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর কাজের সুযোগ রয়েছে এখানে। এছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবেলা, এভিয়েশন, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপাক্ষিক কাজের সুযোগকে কাজে লাগাতে চান তিনি।
তিনি আরও জানান ইউকে এক্সপোর্ট ফান্ডে ২ বিলিয়ন পাউন্ড আছে, যা ব্রিটিশ কোম্পানির বিনিয়োগে বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে। এছাড়া ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ঘটলেও কম শুল্কহার সুবিধা ২০২৯ পর্যন্ত অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য বলেও জানান উইন্টারটন।
বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীলতা চান উল্লেখ করে ব্রিটিশ বাণিজ্য দূত বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের জন্য উৎসাহজনক, যা ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়াচ্ছে।
স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের সম্পদ ফেরত ও গণহত্যার জন্য সাধারণ ক্ষমা চাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান। ঢাকা-ইসলামাবাদ বিদ্যমান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই দেশই একমত— এমনটা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দীন।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে দুই দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের সম্পদ হিসেবে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ফেরত চেয়েছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে ইসলামাবাদ। বাংলাদেশে এখনও তিন লাখ ২৫ হাজার আটকে পড়া পাকিস্তানি রয়েছে। তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে দুই দেশই অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। খুব শিগগিরই পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে। জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি মাথায় রেখেই দেশটির সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করছি। তবে তাদের দিকে ঝোঁকার কোনও বিষয় নেই।
এ সময় ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ বলেছেন, ঢাকায় এসে তিনি খুশি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দীন এবং পাকিস্তানের হয়ে ঢাকা সফররত দেশটির পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ অংশ নেন।
আসন্ন কাতার সফরে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হচ্ছেন বাংলাদেশের চার জাতীয় নারী ক্রীড়াবিদ। তারা হলেন- ফুটবলার আফিদা খন্দকার ও শাহেদা আক্তার রিপা, ক্রিকেটার সুমাইয়া আক্তার ও শারমিন সুলতানা। এবারই প্রথম কোনো সরকার প্রধানের রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গী হতে যাচ্ছেন নারী ক্রীড়বিদদের একটি দল।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার সফরসঙ্গী হতে যাওয়া এই চার ক্রীড়াবিদ। বাংলাদেশের এই নারী ক্রীড়াবিদদের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কাতার সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে কাতার ফাউন্ডেশন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন চার নারী ক্রীড়াবিদ। তারা বলেন, আমরা এ সফরের আমন্ত্রণ পেয়ে ভীষণ আনন্দিত এবং আমাদের টিমমেটরাও আমাদের এ আমন্ত্রণে উচ্ছ্বসিত।
নারী ফুটবলাররা জানান, দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে এশিয়ার অন্য দলের সঙ্গে ম্যাচ খেলার খুব একটা সুযোগ তাদের হয় না। তারা কাতার নারী টিমকে প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানাতে চান। এ সফরে আমরা তাদের স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিসগুলো ঘুরে দেখতে এবং প্রফেশনাল চিন্তাভাবনাগুলো জানতে চান তারা।
নারী ক্রিকেটাররা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, কাতারে ক্রিকেট তেমন জনপ্রিয় নয়। আমরা এ সফরে ক্রিকেট নিয়ে তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরির চেষ্টা করব। আমাদের পুরুষ ক্রিকেট দল ও নারী ক্রিকেট দলের গল্পগুলো তুলে ধরব। তারা একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করে নিয়ে যাবেন বলেও জানান তারা।
বৈঠকে নিজেদের জীবনন সংগ্রামের কথা প্রধান উপদেষ্টাকে জানান চার নারী ক্রীড়াবিদ। সরকারপ্রধানের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সফরের সুযোগ দেয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তারা।
তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও কাতার সফর নিয়ে পরিকল্পনা শুনে ব্যাপক উৎসাহ ও সমর্থন জানান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আমি চাই, তোমরা তোমাদের জীবনের সত্যিকারের কথাগুলো তাদের কাছে তুলে ধরবে। তোমরাই এদেশের স্পোর্টস অ্যাম্বাসেডর। সেখানে তোমরা এদেশের স্পোর্টসকে প্রতিনিধিত্ব করবে। তোমাদের এ রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে আমিও ভীষণ আনন্দিত। নারী ক্রীড়াবিদদের এ সফর সফল করতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
আর্থনা সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ এপ্রিল) চার দিনের সফরে কাতার যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।