• Colors: Purple Color

তিলোত্তমা ঢাকা। দুই কোটির বেশি মানুষের আবাস। এই মহানগরে যারা বসবাস করেন, একেক এলাকায় তাদের উপলব্ধি একেক রকম। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, ঋতু পরিবর্তন হলেও সড়কের করুণ চেহারা বদলায় না। শুকনো মৌসুমে ধুলোর রাজ্য আর বাকিসময় কাদাপানিতে চলাচল দায়।

অথচ এই পথের দু'পাশেই কয়েকটি স্কুল-কলেজ, মসজিদ আর গণ কবরস্থান। কিছুদূর এগুলেই দক্ষিণখান থানা। খানাখন্দের সড়ক ধরে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে প্রতিদিন।

সড়ক নিয়ে প্রশ্ন করলে একজন বাসিন্দা বলেন, এই এলাকার রাস্তার অবস্থা অনেক করুণ। একটু বৃষ্টি হলেই পানি উঠে যায়।

একই চিত্র এয়ারপোর্ট রোডের পশ্চিমের এলাকা বাউনিয়ায়। ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলো এই এলাকা। কিন্তু বছরজুড়ে সড়ক খোড়াখুড়ি আর সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নাকাল স্থানীয়রা।

দক্ষিণখান ও উত্তরখানসহ ডিএনসিসিতে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের উন্নয়নে ২০২২ সালে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। কিন্তু আজও তা শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

এত এত সমস্যা যখন, সমাধানের দায়িত্ব কার? কী বলবেন নগর অভিভাবক?

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ধীর গতি মাঝেমাঝে হয় না, সেটি আমি অস্বীকার করবো না। এখনে বিশাল একটা ফান্ডের প্রয়োজন রয়েছে। ফান্ড সমস্যা নিয়ে মোকাবিলা করছি। আশা করছি, অচিরেই সমস্যা কেটে যাবে।

তবে, ডিএনসিসির নতুন এলাকাগুলোতে উন্নয়ন তরান্বিত করতে নগরবাসিকে হোল্ডিং ট্যাক্স ও রাজস্ব পরিশোধের আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

 

 

 

ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে আবারও লম্বা ছুটি পেতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী ২৪ মে থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসাগুলোতে একযোগে এই ছুটি শুরু হবে। তবে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে ক্লাসের পরেই লম্বা ছুটিতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি (ছুটির তালিকা) বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের ছুটি কার্যকর হবে ২৪ মে (রোববার) থেকে। কিন্তু তার আগে ২২ মে (শুক্রবার) এবং ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২১ মে বৃহস্পতিবারই হবে প্রতিষ্ঠানের শেষ কর্মদিবস। অর্থাৎ, ২২ মে থেকেই কার্যত শিক্ষার্থীরা ছুটির আমেজে প্রবেশ করবে।
ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ২৪ মে থেকে শুরু হয়ে চলবে ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এই স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হবে ৭ জুন (রোববার)। অর্থাৎ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরিতে নির্ধারিত ছুটি থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটিসহ শিক্ষার্থীরা টানা ১৬ দিনের ছুটি ভোগ করবে।

অন্যদিকে, দেশের সব মাদ্রাসায় (আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল) ছুটি কিছুটা দীর্ঘ। মাদরাসার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হয়ে চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে মাদরাসার ক্লাস পুনরায় শুরু হবে ১৪ জুন। অর্থাৎ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা টানা ২১ দিনের (সাপ্তাহিক ছুটিসহ প্রায় ২৩ দিন) বড় ছুটি পাচ্ছে।

জুন মাসে স্কুল-মাদরাসা খোলার পর পরবর্তী উল্লেখযোগ্য ছুটি শুরু হবে জুলাই মাসে। ২৯ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষে একদিনের ছুটি রয়েছে। এরপর ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা এবং ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে জন্মাষ্টমী ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি রয়েছে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মের তীব্রতা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের অবকাশ যাপনের জন্য সমন্বয় করে শিক্ষাপঞ্জিতে প্রতি বছরই এই দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়।

 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো স্থাপন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব নির্দেশ দেন। প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতে করণীয় ঠিক করতে এই সভা হয়। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। এমন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের সব কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা এবং অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবন নির্মাণ নীতিমালায় হাসপাতাল, রেস্টুরেন্টসহ সরকারি ও বেসরকারি সব স্থাপনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াতের উপযোগী অবকাঠামো ও টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। কক্ষের দরজা এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে, যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সহজেই প্রবেশ করতে পারেন।

নারীদের জন্য চালুর পরিকল্পনায় থাকা ইলেকট্রিক বাসেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর জোর দেন তিনি।

এছাড়া সারা দেশে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলগুলো সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রাথমিকভাবে ১০ জেলার ১০ উপজেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করতে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প চালু করা হবে। দ্রুত এ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানানো হয়।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলালও সভায় অংশ নেন।

 

পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প পাস করেছে সরকার। এই প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা।

আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বছরের জুলাই মাস থেকে এই ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পে কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০৩৩ সালের জুন মাসে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প পাসের তথ্য জানানো হয়েছে। আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা হয়।

এই প্রকল্পের নথি অনুসারে, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীতে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। পদ্মা নদীর ওপর নির্ভরশীল দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ জমিতে পানির সমস্যা সমাধানে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি নদীকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। যার মাধ্যমে সুন্দরবন অঞ্চল থেকে আসা লবণাক্ততার নিরসন হবে। এতে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে। বাড়বে কৃষি ও মাছের উৎপাদনও।

আজ সব মিলিয়ে একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ১টি।

আজকের সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন (২য় সংশোধন); গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ (২য় সংশোধন); জেলা শহরে বিদ্যমান মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে উন্নীতকরণ বা পুনর্নির্মাণ (প্রথম পর্যায়); হাইটেক সিটি-২–এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ (৩য় সংশোধন); সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমণি নিবাস নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ (২য় সংশোধন); সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ; চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড (পতেঙ্গা হতে সাগরিকা) (৫ম সংশোধিত) নির্মাণ; ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য ধনুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধন)।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির প্রমুখ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি হামে আক্রান্ত ছয় মাস বয়সী শিশু নূর নাহারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। তিনি শিশুটির চিকিৎসা, পরিবারটির সার্বিক খোঁজখবর এবং বিষয়টি তদারকের দায়িত্ব দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’কে।

আজ বুধবার ‘হামে ৬ মাসের শিশুর অবস্থা গুরুতর, মায়ের কাছে টাকা নেই, জানেন না কী করবেন’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি জুবাইদা রহমানের নজরে আসে।

জুবাইদা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) বোর্ড অব ডিরেক্টরস কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘সুরভি’র অন্যতম সংগঠক।

গতকাল মঙ্গলবার নূর নাহারকে নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে হাসপাতালটিতে আসেন তার মা স্বর্ণা আক্তার। তিন দিন ধরে তীব্র জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা মেয়েকে হাসপাতালে নিতে বললে স্বর্ণার স্বামী রাজি হননি। তাই স্বর্ণা প্রতিবেশীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে হাসপাতালে চলে আসেন।

দুই সপ্তাহ আগেও নূর নাহারকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্বর্ণা। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির নিউমোনিয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার দিন থেকে টাকার অভাবে হাসপাতাল ছেড়ে কেরানীগঞ্জে চলে গিয়েছিলেন।

হামের উপসর্গ নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সন্তান নূর নাহারকে ভর্তি করিয়েছেন মা স্বর্ণা আক্তার। নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে
হামের উপসর্গ নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সন্তান নূর নাহারকে ভর্তি করিয়েছেন মা স্বর্ণা আক্তার। নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে
 

আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শিশু নূর নাহারের মা স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রতিনিধিদলটি অসহায় পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেয় এবং শিশুটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. এম আর হাসান, আবদুল্লাহ আল মিসবাহ, মশিউর রহমান মহান প্রমুখ।

 

হাসপাতালে ভর্তি শিশুটির আজ কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। হাসপাতালের শিশু কনসালট্যান্ট এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘শিশুটির হাম হয়েছে আরও ৯ দিন আগে। আমাদের কাছে গুরুতর অবস্থায় এসেছে গতকাল। হাম হওয়ার পর তার নিউমোনিয়াও হয়েছে। এর সঙ্গে যত্নের অভাবে তার ওজন কমে গেছে। এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা তার সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করছি। চিকিৎসা চলতে থাকলে আশা করি স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।’

আজ সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে সেখানে কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, গতকাল চোখ মেলতে পারছিল না নূর নাহার। চিকিৎসা দেওয়ার পর আজ তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চোখ মেলতে পারছে। খাবারও খেতে পারছে নূর নাহার।

গতকাল মা স্বর্ণা আক্তার সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। আজ সহযোগিতা পেয়ে তাঁর মুখে হাসি ফুটেছে। আমরা বিএনপি পরিবারের সহযোগিতা পেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
স্বর্ণা আক্তার জানান, প্রথম আলোতে সংবাদ প্রকাশের পর আজ সকাল থেকে বেশ কিছু আর্থিক সহযোগিতাও পেয়েছেন তিনি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব