• Colors: Blue Color

আপাতত হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে ইসরায়েল যদি আবার ইরানে বা লেবাননে হামলা চালায়, তাহলে এর জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বাহিনীর চলমান অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হলো।’ পাশাপাশি বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যদি ইরান ও লেবাননে হামলা চালাতে থাকে তেহরান ‘আগের চেয়ে আরও কঠোর এবং শক্তিশালী’ জবাব দেবে।

সূত্র: বিবিসি

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় তিনি এই বৈঠক ডাকবেন বলে একাধিক ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এক বেনামী সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বৈঠকটি হবে সীমিত পরিসরে। এতে অল্পসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অংশ নেবেন।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

ইরানে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা ইসরায়েলের নেভাতিম ও তেল নোফ বিমানঘাঁটি নিশানা করে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, কিছু আগেই এসব হামলা চালানো হয়।

আইআরজিসি বলছে, ইরানের তিনটি অঞ্চলে রাডার স্থাপনায় ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

তেহরান

টানা দুই দশকের সরকারি বিনিয়োগের ফলে তুরস্ক এখন ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো যখন নতুন করে অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে এবং নিরাপত্তা জোটগুলো পুনর্গঠিত হচ্ছে, তখন এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক।

এই তুরস্ক একসময় অস্ত্রের জন্য নির্ভরশীল ছিল বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর। এখন তারা উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রায় ৪০টি এবং ইউরোপেরও কিছু দেশে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ক্রেতাদের দৃষ্টিতে, তুরস্কের অস্ত্র তুলনামূলক সস্তা, দ্রুত হাতে পাওয়া যায় এবং সহজেই ব্যবহার করা যায়।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউরোপীয় সরকারগুলো তাদের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত নির্ভরতা নতুন করে মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি কতটা টেকসই, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ন্যাটোর অনেক মিত্রদেশ তুরস্ককে এখন কেবল এই সামরিক জোটের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের একটি শক্তিশালী সামরিক দুর্গ হিসেবেই দেখছে না; বরং দেশটিকে সামরিকশিল্পের সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করছে।

আগামী মাসে তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্য নেতারা অংশ নেবেন। আঙ্কারা আশা করছে, এর ফলে পশ্চিমা বাজারে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাদের অস্ত্র বিক্রি ও যৌথ উৎপাদন প্রসারিত হবে।

এ ক্ষেত্রে তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু কাঠামোগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে কেবল নির্দিষ্ট সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত প্রতিরক্ষা উদ্যোগ এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক বিরোধের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক বাধা।

বাণিজ্য পরিসংখ্যান নিয়ে রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে তুরস্কের সমরাস্ত্র রপ্তানি তিন গুণের বেশি বেড়ে গত বছর এক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত আধুনিক সশস্ত্র ড্রোনও রয়েছে। এই সময়ে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি প্রায় চার গুণ বেড়ে ৫৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

এই প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষাশিল্প কতটা পরিপক্ব হয়েছে। ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাইকার ও টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরকা ডিফেন্স ও কাইলের মতো ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সাফল্যের অংশীদার।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ সরবরাহব্যবস্থা এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র তৈরির কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। যেখানে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সীমাবদ্ধতা ও বিপণন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার মতো জটিলতা রয়েছে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ৮ মে ২০২৬
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ৮ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধের হুমকি ও সুযোগ

তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। এই খাত থেকে আসা আয়ের মাধ্যমে তারা দেশের ঋণ শোধ করতে ও আরও উন্নয়নমূলক কাজের তহবিল জোগাড় করতে চায়।

উত্তরে ইউক্রেন এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইরান—এই দুই বড় সংঘাতের মাঝে দেশটির অবস্থান। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের ইঞ্জিনের অভাবের কারণে তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যবসা ও প্রযুক্তি চুক্তির মাধ্যমে তারা এই ঘাটতি মেটাতে পারে।

হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো চান কাসাপোলু বলেন, আধুনিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে ড্রোন রপ্তানি করে তুরস্কের প্রতিরক্ষাশিল্প ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ অর্জন করেছে।

কাসাপোলু আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধ শুধু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; বরং শিল্পের সক্ষমতা ও স্থায়িত্বেরও প্রয়োজন আছে। আর এই জায়গায় তুরস্ক বেশ আস্থা অর্জন করেছে।

ইস্তাম্বুলের ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে তুর্কি প্রতিষ্ঠান বায়কারের তৈরি ড্রোন ‘কে২ কামিকাজে’। ৮ মে ২০২৬
ইস্তাম্বুলের ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে তুর্কি প্রতিষ্ঠান বায়কারের তৈরি ড্রোন ‘কে২ কামিকাজে’। ৮ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

নজরে ন্যাটো সম্মেলন

বিশ্বে ব্যবহৃত সশস্ত্র ড্রোনের ৬৫ শতাংশই সরবরাহ করে তুরস্ক। পাশাপাশি তারা গোলাবারুদ রপ্তানিতেও অন্যতম শীর্ষ দেশ।

এ ছাড়া তারা যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরি, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং সাঁজোয়া যান তৈরি করছে বা তৈরির পরিকল্পনা করছে। ইন্দোনেশিয়া গত বছর জানিয়েছে, তারা তুরস্ক থেকে ৪৮টি যুদ্ধবিমান কিনবে, যেগুলো তৈরির কাজ এখনো চলছে।

তবে তুরস্কের এই বড় লক্ষ্যের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক ও সুনামের ঝুঁকিও রয়েছে।

গত মাসে ইস্তাম্বুলের এক প্রদর্শনীতে তুরস্ক নিজেদের তৈরি একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মডেল দেখিয়েছে। এর প্রচারণামূলক ভিডিওতে দেখানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর আমেরিকার দিকে ছোড়া হচ্ছে। এটি নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেছেন।

তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিরক্ষা খাতই হবে আলোচনার প্রধান বিষয়।

ন্যাটোপ্রধান মার্ক রাটে বলেছেন, এই সম্মেলনে প্রতিরক্ষাশিল্প নিয়ে যে সংলাপের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা হবে ন্যাটোর ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে সমন্বিত আয়োজন।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে দেশটির আসেলসান কোম্পানির তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ৮ মে ২০২৬
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে দেশটির আসেলসান কোম্পানির তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ৮ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইউরোপীয় বাধা

ন্যাটোর মিত্রদেশগুলোকে নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি করে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি জার্মানি থেকে হাজার হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপে তুরস্কের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী রয়েছে তুরস্কের।

গত এপ্রিলে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি একটি আহ্বান জানান তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার। তিনি বলেন, ইউরোপের যেসব নিরাপত্তা চুক্তিতে তুরস্কের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের ন্যাটো সদস্যদের রাখা হয়নি, সেসব চুক্তি বাতিল করা উচিত। তাঁর মতে, এ ধরনের নীতি ইউরোপের নিরাপত্তা ও সক্ষমতার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে সেনা কমালে যতটা ক্ষতি, এই নীতি তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করবে বলে মনে করেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ (সেফ)’ কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে একপ্রকার বাদই দেওয়া হয়েছে। যদিও আঞ্চলিক নীতি নিয়ে বিরোধের জেরে কিছু দেশের সরকার তুরস্ককে এড়িয়ে চলছে। তুরস্কের প্রধান বিরোধী দলের ওপর আইনি দমন–পীড়নসহ গণতন্ত্রের অবনতি নিয়ে দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।

এত কিছুর পরও পোল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল ও রোমানিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তি করেছে তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে ইতালির ‘পিয়াজ্জো অ্যারোস্পেস’ অধিগ্রহণ করেছে তুরস্কের ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার। এ ছাড়া ড্রোন উৎপাদনের জন্য ইতালীয় কোম্পানি লিওনার্দোর সঙ্গেও তারা অংশীদারত্ব গড়েছে।

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে তুরস্কের তৈরি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’-এর মডেলের পাশে দাঁড়িয়ে এক দর্শনার্থী। ৮ মে ২০২৬
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘সাহা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে তুরস্কের তৈরি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’-এর মডেলের পাশে দাঁড়িয়ে এক দর্শনার্থী। ৮ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয়ের হিড়িক

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলার। এই সময়ে শুধু ইউরোপেই সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৭৫ শতাংশ।

একই সময়ে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে নিজেদের অর্থায়নে চলা প্রকল্পের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা। দেশটিতে এ ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা এখন ১ হাজার ৪০০টির বেশি।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আরদা মেভলুতোলু মনে করেন, রাজনৈতিক বাধাগুলো সামলানো গেলে ইউরোপের সঙ্গে তুরস্কের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। সে ধরনের গভীর সহযোগিতার পরিবেশ এখন তৈরি হয়েছে।

মেভলুতোলু বলেন, ইউরোপের এখন এমন সমাধান দরকার, যা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। তবে এই সহযোগিতাকে একটি স্বাভাবিক ধারায় এগিয়ে নিতে হলে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তাঁর মতে, তুরস্ক এখন ইউরোপ এবং ন্যাটো—উভয়ের সঙ্গেই নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন ও জোরদারের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

রয়টার্স

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আজ রোববার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভুটানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনাখার ১৫ কিলোমিটার পশ্চিম উত্তর–পশ্চিমে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্প হয়। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪৩২ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

রংপুর, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, নীলফামারী, সৈয়দপুর, বগুড়া, শেরপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা।

এই ভূম্পিকম্পের প্রভাবে ভারত, নেপাল ও চীনেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে অ্যানড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো জং। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি আজ রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) ওই বিবৃতি প্রকাশ করে।

বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, ‘পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অবস্থান নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করবে না।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বরাবরই দাবি করে আসছে, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে।

২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে।

দেশটির যোগাযোগ ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত কিম ইয়ো জংয়ের এ মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, তাঁর মন্তব্যটি এসেছে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগমুহূর্তে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সি চিন পিং আগামীকাল সোমবার উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। তাঁর এ সফর মঙ্গলবার শেষ হবে।

চীন উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা উত্তর কোরিয়ার জন্য বেইজিংয়ের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ বছর এটিই হবে সি চিন পিংয়ের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। গত মাসে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টানা বৈঠক করেছেন।

এএফপি

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব