• Colors: Blue Color

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আজ সোমবার ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন।

নতুন ৩৫ জন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্তির ফলে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়াল ৪১–এ।

আজ কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর এন রবি বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করান। বিকেলের দিকে নির্ধারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন নতুন নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষ, অর্জুন সিং, তাপস রায়, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এ ছাড়া দুধকুমার মণ্ডল, দীপক বর্মণ, মনোজ ওঁরাও এবং গৌরীশঙ্কর ঘোষও পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক রাজেশ মাহাতো, ইন্দ্রনীল খাঁ এবং মালতী রাভা রায়।

মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন জোয়েল মুর্মু, অশোক দিন্দা, আনন্দময় বর্মণ, কৌশিক চৌধুরী, গার্গী দাস ঘোষ, ভাস্কর ভট্টাচার্য, দিবাকর ঘরামী ও সুমনা সরকার। এ ছাড়া বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক, পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং উমেশ রাইও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপিশাসিত অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী।

অধিকারীর পাশাপাশি বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনীয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও অগ্নিমিত্রা পালও সেদিন শপথ নিয়েছিলেন।

সূত্র জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার ফলে আগে বরাদ্দ দেওয়া দপ্তর কিছুটা রদবদল হতে পারে।

গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার পর এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হলো।

সম্প্রতি শেষ হওয়া নির্বাচনে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় ২০৮টি আসনে জয়ী হয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি। এর মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে এবং পূর্ব ভারতে এটিই বিজেপির সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সাফল্য।

ইরান তাদের ভূগর্ভে চাপা পড়া অস্ত্রভান্ডারগুলো দ্রুত খুঁড়ে বের করেছে। এখন দেশটি ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে আরও অনেক বেশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই তৎপরতা মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে আগ্রাসন চালায়। তারা রাস্তাঘাট ধ্বংস করে দেয় এবং সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। এতে ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে প্রবেশ করতে পারছিল না।

তবে সিএনএন কিছু স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে দেখা যায়, বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেই ইরান ওই ব্যয়বহুল হামলার জবাব দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, শুধু সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখে হামলা চালিয়ে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি আবার চালুর বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। তবে এর বিস্তারিত চূড়ান্ত করতে কয়েক মাস সময় লাগবে।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন (পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ) স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী স্যাম লেয়ার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, যদি আবার সংঘাত শুরু হয়, তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে যেতে পারবে। এর জন্য তাদের কেবল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক (লঞ্চার) এবং কর্মী দরকার।

স্যাম লেয়ার আরও বলেন, ইরানের কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। এই লঞ্চারগুলোকে অস্ত্রে সজ্জিত করতে বাধা দেওয়ার মতো কিছু নেই।

লড়াই চলার সময় ইরান চরম ঝুঁকি নিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলো খননের কাজ করেছে। খননকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ওপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার হামলা চালিয়েছিল। ওই খননকাজের কারণেই তেহরান যুদ্ধাবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখতে পেরেছিল। তবে তখন হামলার মাত্রা বেশ কম ছিল। সাত সপ্তাহের বেশি সময় আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর পর থেকেই ঘাঁটিগুলো খননের কাজে ইরানের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সিএনএন দেখতে পেয়েছে, ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৬৯টি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল। এর মধ্যে ৫০টির বাধা ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলেছে ইরান। ঘাঁটির অন্যান্য অংশও মেরামত করেছে তারা। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রের চলাচল ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেসব রাস্তায় বোমা ফেলেছিল, সেগুলোও মেরামত করা হয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, বোমার আঘাতে সৃষ্ট প্রায় সব গর্ত ভরাট করা হয়েছে। দুটি স্থানে নতুন করে রাস্তাও পাকা করা হয়েছে।

স্যাম লেয়ার বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কৌশলগত সাফল্য অর্জনে বেশ দক্ষ। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীকে আটকে রাখা ও দমন করা তারই একটি চমৎকার উদাহরণ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর সঙ্গে যদি যুদ্ধে যুক্তিসংগত কৌশলগত লক্ষ্য এবং বিজয়ের বাস্তবসম্মত তত্ত্ব না থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত তা কৌশলগত ব্যর্থতায় রূপ নিতে পারে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সিএনএনের এসব তথ্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। তবে তিনি আগের একটি বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রেসিডেন্টের পছন্দমতো যেকোনো স্থান ও সময়ে অভিযান চালানোর মতো সবকিছুই তাদের রয়েছে।’

যুদ্ধের লক্ষ্য

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের একটি প্রধান কারণ হিসেবে বরাবরই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারের কথা উল্লেখ করেছেন। এই ভান্ডার ধ্বংস করা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। গত মার্চে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর এক পোস্টে ট্রাম্প যুদ্ধের পাঁচটি ‘উদ্দেশ্য’ নির্ধারণ করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছু পুরোপুরি অকেজো করে দেওয়া’।

ইরান ২০ বছরের বেশি সময় আগে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির নেটওয়ার্ক নির্মাণ শুরু করে। এটি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ মঞ্চগুলোকে বেশ ভালো সুরক্ষা দেয়। কিছু স্থাপনা কয়েক শ মিটার পাথরের নিচে অবস্থিত। এর ফলে এসব ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার সুযোগ বেশ সীমিত হয়ে পড়েছে।

এ কারণে সংঘাতের প্রথম দিকের সপ্তাহগুলোতে দুই বাহিনী সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখগুলোতে হামলার কৌশল নেয়। একই সঙ্গে তারা উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলো খুঁজে বের করে ধ্বংস করার চেষ্টাও চালায়। ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।

এসব হামলায় ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। বেশির ভাগ সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এবং ঘাঁটিতে যাওয়ার রাস্তাগুলো চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। সিএনএন সেই সময়ের স্যাটেলাইট ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা যায়, অন্যতম প্রধান ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ইসফাহান নর্থ মিসাইল বেসের মতো স্থাপনাগুলো একাধিক হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায় এবং বাইরে থাকা উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলোও ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) ধ্বংস করারও বিস্তৃত উদ্যোগ নিয়েছিল। ছোট ছোট ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা থেকে শুরু করে রকেটের জ্বালানি এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মূল কাঠামো তৈরির স্থানগুলোতে তারা হামলা চালিয়েছিল।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব হামলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ইরান এখন কেবল তাদের বেঁচে যাওয়া উৎক্ষেপণ যন্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খুঁড়ে বের করছে। এসবের অভাব পূরণের কোনো ক্ষমতা তাদের নেই। তোমাদের (ইরান) কোনো প্রতিরক্ষা শিল্প আর অবশিষ্ট নেই।’

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোতে এখনো প্রায় ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। মাটির অনেক গভীরে থাকায় ভূপৃষ্ঠের এসব হামলায় এই ভান্ডারের খুব একটা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। বিশেষ করে গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একইভাবে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখগুলোতে হামলা চালিয়েছিল।

হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৈমুর কাদেশেভ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের যুদ্ধের জন্য তারা ২০ বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।’

মেরামতের জোর প্রচেষ্টা

ঘাঁটিগুলো আবার চালু করতে ইরান বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ ও মাটি কাটার সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে। স্যাটেলাইট ছবিগুলোতে দেখা যায়, ফ্রন্ট-এন্ড লোডার (এমন একটি ভারী গাড়ি বা ট্রাক্টর, যার সামনের অংশে একটি বড় বালতি বা কোদাল আকৃতির পাত্র যুক্ত থাকে) দিয়ে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা হচ্ছে। আর ডাম্প ট্রাকগুলো মাটি দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করছে।

যুদ্ধের সময় ইসফাহানের বাইরের একটি ঘাঁটিতে চারটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বহুবার হামলা চালায়। ওই ঘাঁটির দুটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে অন্তত ১৮টি বোমার গর্ত দেখা যায়। সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করতে ঠিক কী পরিমাণ গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এটি তারই প্রমাণ।

মে মাসের শুরুর দিকের একটি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, গর্তগুলো ভরাট করতে একটি ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে। গর্ত ও ধ্বংসস্তূপের কারণে অবরুদ্ধ বাকি দুটি প্রবেশপথ আগেই খুলে ফেলা হয়েছে। এমনকি বোমার আঘাতে ধ্বংস হওয়া রাস্তাগুলো নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।

মধ্য এপ্রিলে খোমেনের বাইরের একটি ঘাঁটির ছবিতে দেখা যায়, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত অন্তত ১০টি গাড়ি একটি প্রবেশপথ খোলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পুনরুদ্ধার করে ঘাঁটিগুলো সচল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, এই অস্ত্রভান্ডারের ধারাবাহিক হুমকিকে খাটো করে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার সরবরাহ কমে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যত দিন চায়, তত দিন তেহরানকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা পুনর্গঠন থেকে বিরত রাখতে নাও হতে পারে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাগুলোতে চালানো হামলা খুব একটা কাজে আসছে না। ১২ দিনের সংঘাতের সময়ও ঠিক এই কারখানাগুলোর কয়েকটিতে হামলা চালানো হয়েছিল।

সাম্প্রতিক হামলাগুলো অনেক বেশি ব্যাপক হলেও স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, গত বছরের জুনে নিশানা করা কিছু স্থাপনা ইরান ইতিমধ্যে পুনর্নির্মাণ করে ফেলেছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে তাদের মূল সামরিক সক্ষমতা আবার গড়ে তুলছে। তারা ড্রোন উৎপাদন আবার শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং উৎপাদন সক্ষমতাও প্রায় পুনরুদ্ধার করে ফেলেছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘পুনর্গঠনের জন্য যে সময়সীমা ধারণা করা হয়েছিল, ইরান তা পার করে অনেক আগেই সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।’

হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৈমুর কাদেশেভের মতে, প্রযুক্তির এই পার্থক্য ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্প ব্যবহারের কঠিন বাস্তবতাকে উন্মোচিত করে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ক্ষতিসাধনের জন্য আপনাকে অত্যন্ত অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। অথচ সেগুলো মেরামতের পদ্ধতি অত্যন্ত সাধারণ—কেবল বুলডোজার।’

সিএনএন

মিয়ানমারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি অঞ্চলের গ্রামে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। স্থানীয় একটি সূত্র বিবিসিকে এমন তথ্য দিয়েছে।

চীন সীমান্তের কাছে শান রাজ্যের নামখাম শহরতলির কাউং তাত গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বলেছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। তবে অন্য কিছু প্রতিবেদনে নিহত মানুষের সংখ্যা সামান্য ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরই গ্রামটিতে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠী তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) বলেছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

টিএনএলএর বিবৃতিতে উদ্ধৃত করে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ১২টা (গ্রিনিচ মান সময় ০৫:৩০) নাগাদ এই ‘বিস্ফোরণ’ ঘটে। একে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেছে টিএনএলএ। গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, ‘এই বিস্ফোরণের কারণে বহু স্থানীয় গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন; পাশাপাশি তাঁদের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে টিএনএলএ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। আশপাশের বহু ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে তখনো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ও চরম বিভ্রান্তির কথা বর্ণনা করেছেন।

এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, প্রথম দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে এটি কোনো বিমান হামলা। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, নিহত মানুষের মধ্যে শিশুরাও আছে। এ ছাড়া শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় পুরো একটি মহল্লাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, ‘নিছক ভাগ্যের জোরেই আমার মুঠোফোন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি তখন নিজের শোবার ঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম এবং ফোন দেখছিলাম। যদি রান্নাঘরে বসে খেতাম, তাহলে সম্ভবত আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।’

ওই বাসিন্দা বলেন, বিস্ফোরণে তাঁর পায়ে সামান্য আঘাত লেগেছে। তাঁর নিজের বাড়িটিও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ওই বাসিন্দা লিখেছেন, ‘মানুষ কান্নাকাটি করছিল, নিজেদের মা–বাবাকে খুঁজে ফিরছিল। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ দিন এসে গেছে।’

কীভাবে আবাসিক এলাকার এত কাছে বিস্ফোরক সংরক্ষণের এমন একটি স্থাপনা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিবার শান্তি পাবে না।

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি হলো টিএনএলএ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের সামরিক কার্যক্রমের অর্থ জোগাতে মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে। তবে এসব খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সেখানে খনিধস অনেকটা নিয়মিত ঘটনার মতো হয়ে উঠেছে।

বিবিসি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করে, রোববার (৩১ মে) দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।

তবে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের কথা অস্বীকার করেছে তেহরান। এমন খবরকে 'মিডিয়া গেইম' আখ্যাও দিয়েছে। জানিয়েছে— ইরান ঐক্য ও সংহতির পথ থেকে পিছিয়ে আসবে না।

মূলত, কয়েক মাস ধরেই ইরানের সরকার ও সামরিক-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিভেদের দাবি করে আসছে মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা। দাবির পক্ষে বিভিন্ন খবরও প্রচার করছে বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যম।

এর আগে, ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল— ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্টের বহু ক্ষমতা সীমিত করে দিয়েছে এবং কার্যত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।

এর ফলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসনে।

এবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে একই গণমাধ্যম দাবি করছে, অবিলম্বে পদত্যাগের অনুমতি চেয়ে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতাবা খামেনির কাছে চিঠি দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।

প্রতিবেদন বলছে, চিঠিতে পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেছেন— দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কার্যত প্রেসিডেন্ট এবং সরকারকে বাইরে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট শূন্যতার সুযোগে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে আইআরজিসি'র কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং নিজের আইনগত দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

পদত্যাগপত্রের বিষয়টি সত্যি হলে তা ইরানের ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরে গভীর ও নজিরবিহীন বিভেদের ইঙ্গিত।

এদিকে, এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবায়ি বলেন, কিছু বিদেশি গণমাধ্যমের 'মিডিয়া গেইম-এর ধারাবাহিকতা এমন খবর। দেশের অভ্যন্তরে বিভক্তি নিয়ে চলমান জল্পনাকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। বলেন, ইরানের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার চেষ্টাকারীদের নিজেদের ইচ্ছা নিয়ে কবরে যেতে হবে।

পেজেশকিয়ান কখনোই ইরানের জনগণের সেবা থেকে সরে দাঁড়াবেন না— এমন মন্তব্যও করেন মেহদি।

 

আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেওয়া হবে।  আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক দেবেন।

জাতিসংঘের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী হলেন- মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা ও সান্ত মণ্ডল।

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।

১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ ছাড়া গত বছর নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেওয়া হবে।

বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ বাংলাদেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারায় পরিচালিত মিশনগুলোতে ২৭৭ জন নারীসহ ৪ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সদস্য কর্মরত আছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ৫০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ শান্তিরক্ষী কাজ করছেন। মোট ১১৮টি দেশ ১১টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা গত সপ্তাহান্তে ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে দেশটির রাডারসহ ড্রোন–সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম এই তথ্য জানায়। সেন্টকম বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ–১ ড্রোনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়াসহ ইরানের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপের’ জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, একটি স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও একমুখী হামলার জন্য ব্যবহৃত দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এগুলো আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ‘স্পষ্ট হুমকি’ ছিল।

এর আগে গতকাল রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ–১ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুতামূলক অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে মার্কিন ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। ড্রোনটিকে দ্রুত শনাক্ত করা হয়। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয়।

আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব