• Colors: Blue Color

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত মধ্যযুগীয় বিউফোর্ট দুর্গ দখল করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে ঐতিহাসিক এ দুর্গ দখলের ঘটনা ঘটেছে।

ইসরায়েল–লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলার মধ্যে গত রোববার দুর্গটি দখল করার ঘোষণা আসে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ওই দিন ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধে নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘গ্যালিলি অঞ্চলের (ইসরায়েলের উত্তরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক পাহাড়ি এলাকা) জনপদগুলোর ওপর নজর রাখায় ব্যবহৃত পাহাড়চূড়াগুলোতে আবারও ইসরায়েলের পতাকা উড়ছে।’

ইসরায়েলি সংবাদপত্র দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে কাৎজের এমন বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দুর্গের নিয়ন্ত্রণ বহুবার হাতবদল হয়েছে। ক্রুসেডার শাসকদের কাছ থেকে এর নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির হাতে গেছে। এর মধ্যে অটোমান সাম্রাজ্যও ছিল। ঐতিহাসিকভাবে দুর্গটির উঁচু অবস্থানের কারণে এটি এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল।

কাৎজ আরও বলেন, ‘আমাদের বীর সেনারা আবারও বিউফোর্ট দুর্গ দখল করেছেন এবং লেবাননের ভেতর “নিরাপত্তা অঞ্চলের অংশ” হিসেবে সেখানে অবস্থান করবেন।’

কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিউফোর্ট দুর্গের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে ইসরায়েলের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি দেশটির সেনাবাহিনীর গোলানি ব্রিগেডের (প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচিত ও সম্মুখসারির পদাতিক ব্রিগেড) পতাকাও দেখা যায়।

প্রশ্ন হলো—বিউফোর্ট দুর্গ প্রকৃতপক্ষে কী, ইসরায়েল কীভাবে এটি দখল করল এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিউফোর্ট রিজে অভিযান চালাচ্ছেন। ৩১ মে, ২০২৬
ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিউফোর্ট রিজে অভিযান চালাচ্ছেন। ৩১ মে, ২০২৬, ছবি: রয়টার্স
 

বিউফোর্ট দুর্গ কী

বিউফোর্ট দুর্গ আরবিতে কালাত আল-শাকিফ নামে পরিচিত। ৯০০ বছরের পুরোনো দুর্গটির অবস্থান লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ মিটার (২ হাজার ৩০০ ফুট) উঁচু একটি পাথুরে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত। ১২ শতকে ক্রুসেডাররা এই দুর্গটি নির্মাণ করেছিল। এখান থেকে লিতানি নদীর ওপর নজর রাখা যায়।

ক্রুসেডাররা (ক্রুসেডার হলেন মধ্যযুগে, বিশেষ করে একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইউরোপের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত রাজ্যগুলো থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ বা ক্রুসেডে অংশ নেওয়া যোদ্ধারা) দুর্গটির নাম রাখেন বিউফোর্ট। প্রাচীন ফরাসি ভাষায় এটির অর্থ ‘সুন্দর দুর্গ’।

শতাব্দীর পর শতাব্দী এ দুর্গের নিয়ন্ত্রণ বহুবার হাতবদল হয়েছে। ক্রুসেডার শাসকদের কাছ থেকে এর নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির হাতে গেছে। এর মধ্যে ছিল অটোমান সাম্রাজ্যও। উঁচু অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল এটি। ফলে দুর্গটি যে পক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকত, সেই পক্ষ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলাচলের ওপর নজরদারি রাখতে পারত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এ স্থানকে একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেন। ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় এটি দখল করেছিল ইসরায়েল। ২০০০ সালে ওই এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করা হয়।

লেবাননের পঞ্চম বৃহত্তম শহর নাবাতিয়েহর কাছে একটি কৌশলগত পাহাড়চূড়ায় বিউফোর্ট দুর্গের অবস্থান। ইসরায়েলি বাহিনী এর আশপাশের পাহাড়ি চূড়ার নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে। বিউফোর্ট দুর্গটি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
 

দুর্গটির কৌশলগত গুরুত্ব

লেবাননের পঞ্চম বৃহত্তম শহর নাবাতিয়েহর কাছে একটি কৌশলগত পাহাড়চূড়ায় বিউফোর্ট দুর্গের অবস্থান। ইসরায়েলি বাহিনী এর আশপাশের পাহাড়ি চূড়ার নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে। বিউফোর্ট দুর্গটি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

দুর্গটি দখল করার কারণে ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর নজরদারির এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র পেয়েছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করা ও ইসরায়েলি সীমান্তের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ উঁচু ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থানকারী আল–জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো বলেন, দুর্গটি দখল করার কারণে ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘উল্লেখযোগ্য কৌশলগত সুবিধা’ পেয়েছে।

ওবাইদা বলেন, ‘এখান থেকে নাবাতিয়েহ শহরের আশপাশের সব শহর ও গ্রামের ওপর নজর রাখা হয়। পাশাপাশি পশ্চিম বেকা উপত্যকা, অধিকৃত গোলান মালভূমি ও উত্তর গ্যালিলি পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণ করা যায়।’

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে এখন কী ঘটছে

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষেরা যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানের মধ্যে আছেন। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় অঞ্চলটিতে ৩ হাজার ৪১২ জনের মতো নিহত ও ১০ হাজার ২৬৯ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি বাহিনী কয়েক দিন ধরে লড়াই ও আশপাশের গ্রামগুলোতে বিমান হামলার পর বিউফোর্ট দুর্গ দখল করে। নাবাতিয়েহর কাছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার দিকে অগ্রসর হয়ে তারা হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।

আল–জাজিরার হিসাব অনুযায়ী, শুধু গত রোববারই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ৩৬টির বেশি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনশটে বিউফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের দেখা যাচ্ছে। ৩১ মে, ২০২৬
ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনশটে বিউফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের দেখা যাচ্ছে। ৩১ মে, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। এরপর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ দখল করে ইসরায়েল। দেশটি বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, যা লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

লেবাননে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গত ২ মার্চ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হাইফা এলাকার কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা স্থাপনায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিকতম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তারা। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুপক্ষের যুদ্ধবিরতির পর থেকে গত ২ মার্চের আগ পর্যন্ত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা করেনি।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননে আরও ভেতরে ঢুকে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব এলাকা আগে হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেখানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করা হবে।

গতকাল সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। গ্রামগুলো হলো—হুমাইন আল-ফাওকা, বনাফৌল, আরব সালিম, রুমিন, আজজি, আরকি ও জাবা।

এসব গ্রামের বাসিন্দাদের অন্তত এক হাজার মিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, সেখানে তাদের নতুন হামলার পরিকল্পনা আছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘোষণা করেন, ইসরায়েল হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে সরে যেতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধানের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি আলি আকবর খান। 

সোমবার (১ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়।

আলি আকবর খান ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রেঞ্জ পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগসহ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তিনি কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলে বেশ সমাদৃত।

পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলি আকবর খান দেশ-বিদেশে বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ইতালিতে অনুষ্ঠিত মানবপাচার প্রতিরোধ, বৈধ অভিবাসন উৎসাহিতকরণ ও অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিতকরণবিষয়ক আন্তর্জাতিক কর্মশালা এবং মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহবিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।

সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় সিআইডি পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংস্থাটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছেন, তার যোগ্য নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি ও দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতার মাধ্যমে সিআইডির অপরাধ অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল, আধুনিক ও সময়োপযোগী হয়ে উঠবে।

 

ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে টেলিফোনে কড়া কথা শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে সম্মোধন করেছেন। নেতানিয়াহু যে এখন সবার কাছে অপ্রিয় হয়ে উঠেছেন, সে কথাও শোনাতে ছাড়েননি ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের ইতি টানতে যুক্তরাষ্ট্র যখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তাদের সামরিক বাহিনী লেবাননে অভিযান আরও জোরদার করবে। এমনকি রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলা চালাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ফোনে নেতানিয়াহুর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়ে জানেন, এমন দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানায়, কথা বলার সময় নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘পাগল’ বলেন ট্রাম্প। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘অকৃতজ্ঞ’ও বলেন তিনি।

ওই মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, কথোপকথনে বেশ নরম সুরে নেতানিয়াহুকে কড়া কথা শুনিয়ে দেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে। এ কারণে (যুদ্ধ) সবাই ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।’

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কথোপকথনের এক পর্যায়ে বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। তিনি নেতানিয়াহুর ওপর রীতিমতো চিৎকার করে ওঠেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে বেশ কয়েকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। কিন্তু এবারের কথোপকথন ছিল বেশ ‘উত্তপ্ত ও তিক্ত’।

সিএনএন জানিয়েছে, ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প তাঁর ইসরায়েলি মিত্রকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তিনি অতীতে নেতানিয়াহুকে বিভিন্ন বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেন, লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখলে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

অ্যাক্সিওসে প্রকাশিত ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুর উত্তপ্ত ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে এ ফোনালাপকে তিনি ‘ফলপ্রসূ’ বলেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অন্যের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করবে। ইসরায়েলি বাহিনীও বৈরুতের দিকে অগ্রসর হবে না।

পরে নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লেবানন থেকে যদি ইরান সমর্থক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে ইসরায়েলও বৈরুতে হামলা চালাবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইসরায়েল অবস্থান পরিবর্তন করেনি। আর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযান পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।

আল–জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা আবার সঠিক পথে ফিরেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আঞ্চলিক একটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, লেবাননে নির্বিচার ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান।

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত হয়নি, বরং তা ‘দ্রুতগতিতে’ এগিয়ে চলছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করা প্রসঙ্গে তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের শাসকগোষ্ঠীর অব্যাহত হামলা ও যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের মতে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রতিবাদে ইরানের আলোচক দল ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা এবং তথ্য আদান–প্রদান বিনিময়’ স্থগিত করছে।

দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত হয়নি, বরং তা ‘দ্রুতগতিতে’ এগিয়ে চলছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বা দর–কষাকষি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি কোনো তোয়াক্কা করবেন না। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হিজবুল্লাহর একজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা পরস্পরের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করবেন।

তাসনিম নিউজ জানায়, ইরান গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের পাশাপাশি লেবানন থেকে ইসরায়েলের সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলেছে, এসব বিষয়ে ইরান ও প্রতিরোধযোদ্ধাদের অবস্থানে সন্তুষ্টি না আসা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।

তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান এবং এ অঞ্চলে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো এখন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া ও অন্যান্য ফ্রন্টকে সক্রিয় করার বিষয়টি এজেন্ডায় রেখেছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালিও রয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের কথা উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল এক্সে লিখেছেন, ‘একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অর্থ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। যেকোনো লঙ্ঘনের পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী।’

গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই দেশের নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখে ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা না থামিয়ে স্পষ্টভাবেই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। প্রতিটি পছন্দেরই একটা মূল্য আছে; আর সেই মূল্যটা একসময় চুকানোই লাগে।

এদিকে আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিএনবিসিকে বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, এগুলো (ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা) শেষ হয়ে গেলেও আমার কিছু আসে যায় না। আমি মোটেও পরোয়া করি না।’

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ ফোনালাপ হয়েছে। বৈরুতে কোনো সেনা পাঠানো হবে না এবং যে সেনারা রওনা হয়েছিলেন, তাঁদের ইতিমধ্যে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, হিজবুল্লাহর সঙ্গেও তাঁর ‘খুব ভালো কথা’ হয়েছে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল পরস্পরের ওপর হামলা চালাবে না।

অবশ্য এ বিষয়ে ইসরায়েল বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা

গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই দেশের নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

গতকাল কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার ভোরে কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি।

অন্যদিকে কুয়েত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, ইরানের সিরিক দ্বীপে হামলার জন্য কুয়েতের যে ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তারা সেটি লক্ষ্য করেই এ প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।

এ ঘটনার পর আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে কুয়েতের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।

তবে ইরান এ হামলাকে বৈধ আত্মরক্ষা বলে দাবি করে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, যেসব আঞ্চলিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, সেগুলোতে পাল্টা আঘাত করার আইনি অধিকার তেহরানের রয়েছে। কোনো দেশের ভূখণ্ড যেন অন্য দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ হামলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিন্দার সমালোচনা করে একে ‘ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দেন ইসমাইল বাঘাই।

লেবাননে যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন রোডম্যাপ বা পথনকশা নিয়ে কাজ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গত ৪৮ ঘণ্টায় পৃথক বৈঠক করেছেন।

নতুন পথনকশা অনুযায়ী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতে আর কোনো হামলা চালাবে না।

তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হবে না।

সিএনএন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিও থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এই বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায়, ইরানের হামলার পরিধি যতটা ব্যাপক বলে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে, প্রকৃত চিত্র তার চেয়ে অনেক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিশানা করে ইরান। এতে এসব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ ও রাডার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এসব ব্যাটারি একটি ‘অত্যন্ত জটিল’ আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু, যা দ্রুত বা সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।মার্ক মেলেট, সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল, আয়ারল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনী

আর মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের হিসাবে, অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর থেকে তারা ইরানে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে তাঁর সামরিক বাহিনীর সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন ঘাঁটির জন্য এখন আর ‘নিরাপদ কোনো স্থান’ নয়।

অথচ হোয়াইট হাউস বারবার দাবি করেছে, ইরানের সামরিক বাহিনীকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন স্থাপনাগুলোতে যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, তা থেকে বোঝা যায়, তেহরানের পাল্টা হামলা মার্কিন কর্মকর্তাদের আগের স্বীকারোক্তির চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত ও ব্যাপক ছিল।

এ বিষয়ে বিবিসি ভেরিফাইয়ের অনুসন্ধানের পক্ষ থেকে একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু ‘নিরাপত্তার কারণে’ তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত-সংক্রান্ত স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ সীমিত করার চেষ্টা করেছে। এ লক্ষ্যে প্রধান স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটকে তারা ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এলাকার নতুন স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানায়।

এ পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে প্ল্যানেট বলেছে, তারা চায় না তাদের স্যাটেলাইট ছবি ‘বৈরী পক্ষের’ হাতে পড়ে মিত্রদেশ ও ন্যাটো-অংশীদার বাহিনী কিংবা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে ব্যবহৃত হোক।

বিবিসি ভেরিফাই ইরানি হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর রাখতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের স্যাটেলাইট চিত্রের পাশাপাশি প্ল্যানেটের পুরোনো ছবি ব্যবহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব সামরিক স্থাপনা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের হিসাবে, অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু হওয়ার পর তারা ইরানে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

বিবিসি ভেরিফাই যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, কোনো কোনো বিশ্লেষক এ সংখ্যা ২৮ পর্যন্ত হতে পারে বলে মনে করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মূল্যবান লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদার এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা তিনটি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যাটারি সিস্টেম রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মাত্র আটটি ‘টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড ব্যাটারি রয়েছে বলে জানা যায়, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে মোতায়েন করা আছে। এ ব্যবস্থা তৈরি করতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) খরচ হয়। প্রতিটি ব্যাটারি পরিচালনায় প্রায় ১০০ সেনার একটি দল প্রয়োজন হয়। আর এটি থেকে উৎক্ষেপণ করা প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ (প্রায় ১২ দশমিক ৭ মিলিয়ন) ডলার।

সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ই–৩এস উড়োজাহাজ
সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ই–৩এস উড়োজাহাজ, ছবি: রয়টার্স
 

আয়ারল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, এসব ব্যাটারি একটি ‘অত্যন্ত জটিল’ আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু, যা দ্রুত বা সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহকারী ও নজরদারি বিমানে ইরানি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিমানবন্দর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিমান ও গর্ত স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।

ইরান যদি নতুন করে হামলা চালায়, তবে সংঘাতের শুরুর দিকে (যুক্তরাষ্ট্রের) যে পরিমাণ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল, এবার তার সামান্য অংশ দিয়ে তা মোকাবিলা করতে হবে।কেলি গ্রিকো, স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভূস্থানিক ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মায়ারের (এমএআইএআর) একজন বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিমানকে ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমান হিসেবে শনাক্ত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি প্রতিস্থাপন করতে ৭০ কোটি (৭০০ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

অন্য জায়গার মধ্যে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজানেও হামলা চালিয়েছে ইরান। সংঘাতের সময়ে একাধিকবার আক্রান্ত হওয়া আলী আল সালেম ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্রে জ্বালানি মজুত রাখার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাংকার, বিমানের হ্যাঙ্গার ও সেনাদের থাকার জায়গা শনাক্ত করেছেন মায়ারের বিশ্লেষকেরা।

পাশাপাশি ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি জেনস ক্যাম্প আরিফজানে স্যাটেলাইট যোগাযোগ যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করেছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব