• Colors: Cyan Color

দেশে বর্তমানে ৪৪০টিরও বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ৫জি সেবা চালু হয়েছে। এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের জন্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজও চলছে। তবে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও উৎপাদন খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর প্রস্তুতির ওপর পূর্ণাঙ্গ ৫জি সেবা চালু নির্ভর করবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৫জি ইকোসিস্টেম ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত খাতগুলো চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম পরিকল্পনা, ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধির কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক পর্যায়ে ৫জি সেবা চালুর প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তবে ইতোমধ্যে আবাসিক ও শিল্প এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সীমিত আকারে ৫জি সেবা চালু করা হয়েছে। রাজধানীর আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও রেস্তোরাঁসহ প্রায় ৪০টি স্থান বর্তমানে ৫জি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার বাইরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটের ৪শ’টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানও সীমিত পরিসরের ৫জি সেবা চালু হয়েছে। সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা জানান। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চললেও ৫জি প্রযুক্তির পূর্ণ সুফল পেতে যেসব খাত এ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, সেসব খাতের প্রস্তুতিও জরুরি।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোন কোন শিল্পখাত ৫জি প্রযুক্তি ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে উপযোগী, তা নির্ধারণেও কাজ চলছে।

দেশের প্রস্তুতি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ট্রান্সমিশন অবকাঠামো শক্তিশালী করা। ‘৫জি সক্ষমতার জন্য বিটিসিএল অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নিরবচ্ছিন্ন ট্রান্সমিশন সেবা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলাকে ব্যাকআপ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের (ওএফসি) মাধ্যমে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে জেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে উপজেলায় উচ্চগতির ব্যান্ডউইথ সরবরাহের জন্য এএসওএন  (অটোমেটিক্যালি সুইচড অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক)-সক্ষম ডিডব্লিউডিএম সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর এলাকাতেও ব্যাকআপ সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, অপটিক্যাল ফাইবার ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রায় ৭৯ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে ৫জি সম্প্রসারণের জন্য আরও শক্তিশালী ট্রান্সমিশন অবকাঠামো গড়ে উঠবে।

প্রযুক্তিটির বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ৫জি সেবার জন্য ২.৩ গিগাহার্টজ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ৫জি সম্প্রসারণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) একটি স্পেকট্রাম রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। সে অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা প্রদান ও মান উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার গ্রাহকবান্ধব ইন্টারনেট শুল্ক চালু করেছে এবং ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্টারনেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেবার মান নিশ্চিতে কোয়ালিটি অব সার্ভিস ও এক্সপেরিয়েন্সের মানদ- চালু করা হয়েছে। সেখানে সেবামান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের ৫জি সেবার প্রস্তুতির লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৪২০টি স্থানে উচ্চগতির ৪জি সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, টেলিটক ইতোমধ্যে ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (ভিওওয়াইফাই), ভয়েস ওভার এলটিই (ভিওএলটিই) চালু করেছে এবং সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চারটি স্থানে পাইলট ৫জি সেবা চালু করেছে। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেটার গতি বাড়াতে ও নেটওয়ার্কের আওতা সম্প্রসারণে বৈদেশিক সহায়তায় আরও দুটি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার নতুন ৪জি সাইট এবং ১ হাজার ৬০০টি ৫জি সক্ষম সাইট স্থাপন করা হবে। এতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা ও কভারেজ আরও উন্নত হবে।

স্থলভিত্তিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ৫জি সেবার ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বর্তমানে সি-মি-উই ৪ এবং সি-মি-উই ৫ সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করছে।

দুটি ব্যবস্থার সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২২০ জিবিপিএস। এর মধ্যে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ নেটওয়ার্ক নির্ভরযোগ্যতা বজায় রেখে দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস সরবরাহ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে সি-মি-উই ৬ কনসোর্টিয়ামের আওতায় দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি শেষ হলে আরও ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত হবে। এতে বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএসে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশে ব্যাপক পরিসরে ৫জি সেবা চালুর ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। সামগ্রিকভাবে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশ সীমিত পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে ব্যাপকভিত্তিক ৫জি গ্রহণের ভিত্তি নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ৫জি সেবায় উত্তরণ ক্যাবল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও স্পেকট্রাম প্রাপ্যতার ওপর নয়, বরং মূল শিল্পখাতগুলো এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহারে কতটা প্রস্তুত তার ওপরও নির্ভর করবে।

 

পৃথিবীর বুকে মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় উপাদান হলো বিশুদ্ধ পানি। কিন্তু এই পানির বুকেই যখন বিষাক্ত আর্সেনিক লুকিয়ে থাকে, তখন তা মানব সভ্যতার জন্য এক নীরব মহাবিপর্যয় ডেকে আনে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ কোটিরও বেশি মানুষ বর্তমানে আর্সেনিকযুক্ত দূষিত পানি পানের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। বড় বড় আধুনিক পানি শোধনাগারগুলো পানি থেকে আর্সেনিক দূর করতে পারলেও, দরিদ্র ও অনুন্নত অঞ্চল কিংবা প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক বিষক্রিয়ার সমস্যা থেকেই যায়। এবার বিশেষ ধরনের টি-ব্যাগের মাধ্যমে পানি থেকে ৯০ শতাংশেরও বেশি আর্সেনিক সফলভাবে দূর করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিক টান নামের এক শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের কেমিক্যাল সোসাইটির বিজ্ঞান সাময়িকী এসিএস ওমেগাতে প্রকাশিত এই গবেষণা ফলাফলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানুষের পানের জন্য প্রতি লিটার পানিতে সর্বোচ্চ ১০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিকের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু মাটির নিচের খনিজ থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে কিংবা খনি খননের মতো মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা এই সীমার চেয়ে অনেক বেশি থাকে। সাধারণত এই বিষ দূর করতে রিভার্স অসমোসিসের মতো অত্যন্ত উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ও ব্যয়বহুল ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো যেসব অঞ্চলে বড় বড় পানি শোধনাগার নেই, সেখানে আর্সেনিকের প্রকোপ অনেক বেশি। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় ভুগছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যানসার ও শিশুদের মানসিক বিকাশের মতো নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই চরম বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানী অ্যাডাম ব্রাউনশগের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজ করার সময় ভিক টান আর্সেনিক দূর করার সহজ একটি পদ্ধতির কথা জানান, যা মূলত এক কাপ চা বানানোর মতোই সহজ।

নিজের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের বিষয়ে ভিক টান বলেন, বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার বিষয়টি কোনো দামি বা বড় অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। আমাদের এই গবেষণা প্রমাণ করে খুব সাধারণ এবং কম খরচের উপাদানগুলোকেও বৈজ্ঞানিক উপায়ে উন্নত করে পানি থেকে আর্সেনিক দূর করার মতো বড় ও মাপযোগ্য সমাধানে রূপ দেওয়া সম্ভব। এটি বিশ্বের অন্যতম জরুরি জনস্বাস্থ্য সংকটের একটি সহজ সমাধান।

বিজ্ঞানীরা আগেই আবিষ্কার করেছিলেন, চা তৈরির প্রক্রিয়া চলাকালীন পানির ভেতরে থাকা আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতুগুলো স্বাভাবিকভাবেই টি-ব্যাগের গায়ে আটকে যায়। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে ভিক টান এবং অন্য বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে আর্সেনিক শুষে নেওয়ার উপযোগী একটি টি-ব্যাগের নকশা করেন। এরপর তাঁরা চুম্বকীয় আয়রন অক্সাইড ন্যানোকণা এবং গুঁড়া করা ডিমের খোসা দিয়ে পূর্ণ করেন টি-ব্যাগটি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই দুটি উপাদানই পানি থেকে আর্সেনিক শুষে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। ফলাফল ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। মাত্র একটি টি-ব্যাগ পানি থেকে অন্তত ৯০ শতাংশ আর্সেনিক আয়রন দূর করতে পেরেছে। ৬ ঘণ্টার একটি বিশেষ পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি ৫০ মিলিলিটার দূষিত পানি থেকে ৯৮ শতাংশের বেশি আর্সেনিক টেনে নিয়েছে।

বাংলাদেশের নলকূপে পাওয়া আর্সেনিকযুক্ত পানির নমুনার মতো তৈরি একটি বিশেষ মিশ্রণে টি–ব্যাগটির পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে, টি-ব্যাগটি পানির আর্সেনিককে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়েও নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। একটি ব্যবহৃত টি-ব্যাগ ফেলে না দিয়ে সেটিকে আবার পরিষ্কার করে, ক্ষারীয় দ্রবণে ধুয়ে ও শুকিয়ে নিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচবার পর্যন্ত পুনরায় ব্যবহার করা যায়। তবে প্রতিবার ব্যবহারের পর এর আর্সেনিক দূর করার ক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ করে কমতে থাকে। এই টি-ব্যাগের সাহায্যে মাত্র এক লিটার পানি সম্পূর্ণ আর্সেনিকমুক্ত করতে খরচ হয় মাত্র ৭ সেন্ট। এটি রিভার্স অসমোসিসের মতো দামি প্রযুক্তির তুলনায় অনেক কম সাশ্রয়ী।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কাজ একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যার নতুন এবং সহজ সমাধান প্রদর্শন করে। তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হলো এই উদ্ভাবনকে আরও উন্নত করে দ্রুত সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া।  বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম আর্সেনিকপ্রবণ অঞ্চল। ডিমের খোসা এবং আয়রন অক্সাইডের মতো সহজলভ্য উপাদান দিয়ে তৈরি এই টি-ব্যাগ প্রযুক্তি যদি এ দেশের গ্রামীণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে খুব সহজেই ঘরে ঘরে প্রতিদিনের খাবার পানিকে শতভাগ নিরাপদ করা সম্ভব হবে।

সূত্র: ফিজিস

জাহিদ হোসাইন খান

হালনাগাদ প্রযুক্তি এবং নজরকাড়া নকশার নতুন মডেলের গাড়ি ও মোটরবাইক নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন্স’। প্রদর্শনীতে একই স্থানে একসঙ্গে চলছে ঢাকা মোটর শো, ঢাকা বাইক শো এবং ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) বাংলাদেশ এক্সপো। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক অনুপম সাহা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবালের ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের সভাপতি এবং গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
 

মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান প্রচলিত জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি এই খাতে নতুন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্ব পাচ্ছে। আর তাই এই প্রদর্শনী প্রচলিত অটোমোটিভ শিল্পকে যেমন এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে, তেমনি নতুন বিকল্প প্রযুক্তি ও সমাধান গ্রহণেও সহায়তা করবে।

প্রদর্শনীতে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ফলে সহজেই মিতসুবিশি, টয়োটা, মার্সিডিজ বেঞ্জ, হুন্ডা, এমজি, প্রোটন, চাঙ্গান, গ্যাক মোটরস, ডংফেন প্রভৃতি ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি দেখার সুযোগ মিলছে। দুই চাকার বাহনের মধ্যে আছে জিহো বাংলাদেশ, সিএফ মটো বাংলাদেশ, লংজিয়া, ভিমোটো প্রভৃতি। বাণিজ্যিক যানের মধ্যে আছে ফোটন, ফোরল্যান্ড প্রভৃতি। প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মোটর যন্ত্রাংশও প্রদর্শন করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

সেমস-গ্লোবালের তথ্যমতে, ঢাকা মোটর শো বাংলাদেশের মোটর, বাইক ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ তথা অটোমোটিভ শিল্পের সবচেয়ে বড় ও একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এর ফলে ক্রেতা, দর্শক ও উদ্যোক্তারা সহজেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি, যন্ত্রাংশ, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও নিত্যনতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ঢাকা বাইক শোতে মোটরবাইক, স্কুটার, ইজিবাইক, হালকা বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রদর্শনী ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি সমস্যার কারণে বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেকে বেড়েছে। আর তাই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং বাইক।

প্রদর্শনীতে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে
প্রদর্শনীতে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে
 

প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আইসিসিবির ১ নম্বর হলে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে। ২ এবং ৪ নম্বর হলে গাড়ি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রদর্শন করা হচ্ছে। ৩ নম্বর হলে দুই চাকার বিভিন্ন মোটর এবং বৈদ্যুতিক বাইকের দেখা মিলছে। রয়েছে পছন্দের গাড়ি ও বাইকের টেস্ট ড্রাইভ করার সুযোগও। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী।

মঙ্গল গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে নাসার কিউরিওসিটি রোভারের সাম্প্রতিক আবিষ্কার। গ্রহটিতে এমন কিছু জৈব অণুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তির মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছাকাছি একটি প্রাচীন শুকনো হ্রদের তলদেশ থেকে এসব অণু শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া সাতটি অণুর মধ্যে পাঁচটিই আগে কখনও মঙ্গলে দেখা যায়নি। তবে এগুলো প্রাচীন কোনো জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত, নাকি উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে এসেছে বা ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে— সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবুও এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যদি কখনো মঙ্গলে অণুজীবের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে তার রাসায়নিক চিহ্ন এখনও টিকে থাকতে পারে।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক অ্যামি উইলিয়ামস। তিনি বলেন, আমরা মনে করছি মঙ্গলে প্রায় ৩৫০ কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত থাকা জৈব পদার্থের সন্ধান পেয়েছি। এটা কি জীবন— তা এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

২০১২ সাল থেকে কিউরিওসিটি রোভারটি মঙ্গলের গেইল ক্রেটার ও মাউন্ট শার্প এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মঙ্গলের পরিবেশ অত্যন্ত প্রতিকূল— রাতে তাপমাত্রা মাইনাস ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায় এবং ঘন বায়ুমণ্ডল না থাকায় সূর্যের তীব্র বিকিরণে আক্রান্ত হয় গ্রহটি। তবে অতীতে সেখানে তরল পানি প্রবাহিত হতো এবং একটি সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডলও ছিল।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গ্রহবিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যান্ড্রু কোটস বলেন, পৃথিবীতে যখন জীবনের সূচনা হচ্ছিল, তখন মঙ্গলেও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিবেশ ছিল। তাই সেখানে জীবন শুরু হয়নি— এমন কোনো কারণ নেই।

তবে বিজ্ঞানীরা এতদিন নিশ্চিত ছিলেন না, প্রায় ৩৭০ থেকে ৪১০ কোটি বছর আগে সম্ভাব্য বাসযোগ্য সময়ের জীবনের রাসায়নিক চিহ্ন এখনো টিকে আছে কিনা।

অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, অনেকদিন ধরে ধারণা ছিল, মঙ্গলের কঠিন বিকিরণ পরিবেশে সব জৈব পদার্থ নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পরিবেশে জটিল জৈব উপাদান টিকে থাকতে পারে— যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

রোভারটি তার বিশ্লেষণ যন্ত্র ব্যবহার করে কার্বন-সম্পর্কিত বেশ কিছু যৌগ শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেঞ্জোথিওফিন, যা সাধারণত উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে গ্রহে পৌঁছায়। এছাড়া নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ আরেকটি জৈব যৌগের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যার গঠন ডিএনএ তৈরির পূর্বসূরি উপাদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উইলিয়ামস বলেন, আমরা যা পেয়েছি এবং ডিএনএর মধ্যে এখনো অনেক ধাপ রয়েছে। এটি ডিএনএ তৈরির একটি মৌলিক উপাদান হতে পারে, কিন্তু পুরো কাঠামো নয়— এটি শুধু ইটের মতো, বাড়ি নয়। এসব অণু ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতেও তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যে উপাদানগুলো উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে মঙ্গলে এসেছে, একই উপাদান পৃথিবীতেও এসেছে— এবং সেগুলোই সম্ভবত পৃথিবীতে জীবনের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

এই আবিষ্কার ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভার ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এই রোভারটি প্রায় দুই মিটার গভীরে ড্রিল করে আরও উন্নত পরীক্ষা চালাতে পারবে, যা জৈব অণুর উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সহায়তা করবে।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

কিছুদিন আগেই দ্বিতীয়বার মা হওয়ার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সোনম কাপুর। এবার সুখবর দিলেন আরও এক বলিউড অভিনেত্রী। মা হতে চলেছেন কারিশমা তান্না। সোমবার একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে দুই থেকে তিন হওয়ার খবর দিলেন তিনি।

ছোট্ট জুতা, মম-ড্যাড লেখা টুপি পরে নানান ভঙ্গিমায় ক্যামেরাবন্দী হবু মা–বাবা কারিশমা–বরুণ ভাঙ্গেরা। খুশি খবর জানিয়ে যৌথ পোস্টে লিখেছেন, ‘মিরাকল ঘটতে চলেছে। আমাদের জীবনের সেরা উপহারটা পাব অগাস্টে।’ খুব শিগগির পরিবারে নতুন সদস্যের পদধূলি পড়তে চলেছে—এ খবর শেয়ার করতেই শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় ভাসছেন যুগল।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের পরেই কারিশমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁর ভক্ত থেকে শুরু করে সহকর্মীরা।

শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সহ–অভিনেত্রী খুশি কাপুর। ২০১৭ সালে ‘মম’ ছবির সিকুয়েলে প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীকন্যা খুশি কাপুরের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন কারিশমা। হবু মাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলি ডিভা দিয়া মির্জা থেকে জেসমিন ভাসিন, তাহিরা কাশ্যপ, সোনাল চৌহানসহ আরও অনেকেই।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের পরেই কারিশমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁর ভক্ত থেকে শুরু করে সহকর্মীরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের পরেই কারিশমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁর ভক্ত থেকে শুরু করে সহকর্মীরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

উপেন প্যাটেলের সঙ্গে প্রেম ভাঙতেই বরুণকে বিয়ে করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন কারিশমা তান্না।

২০২১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী বরুণের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে বাঁধা পড়েন করিশমা। বিয়ের পাঁচ বছর পর সন্তানসুখ পেতে অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন দুজনেই। হিন্দি মেগা থেকে সিনেমা, সিরিজে অভিনয় করে দর্শকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন কারিশমা। হিন্দি টেলিভিশনের মাধ্যমেই সফর শুরু করিশমার। ধীরে ধীরে কাজের পরিসর বৃদ্ধি হয়। সিনেমা-সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পান গুজরাটের কন্যা।

হংসল মেহতার ‘স্কুপ’ সিরিজে জাগ্রুতি পাঠকের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। রিয়্যালিটি ‘বিগ বস’-এ মডেল উপেন প্যাটেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন কারিশমা। ২০১৬ সালে সেই প্রেম ভেঙে যায় এবং ২০২২ সালে বরুণকে বিয়ে করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন অভিনেত্রী।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

কারিশমা তান্না। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কারিশমা তান্না। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

স্মার্ট পিভি (ফোটোভোলটাইক) ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের (ইএসএস) ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের শীর্ষ ১০টি প্রবণতা (ট্রেন্ড) প্রকাশ করেছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। সম্প্রতি হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শীর্ষ ১০টি প্রবণতার তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে পিভি, উইন্ড পাওয়ার এবং ইএসএস-কে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও বাস্তবমুখী দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। শিল্পের মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয় অনুষ্ঠানে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ।  

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ারের স্মার্ট পিভি ও ইএসএস প্রোডাক্ট লাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ মার্কেটিং অফিসার এরিক ঝং জানান, গত এক দশকে পিভি, উইন্ড পাওয়ার এবং ইএসএস খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রিড ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে।

শিল্প খাত এখন উন্নয়নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে একক উদ্ভাবন থেকে সরে এসে সমন্বিত অগ্রগতির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পিভি ও এনার্জি স্টোরেজ খাতে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হুয়াওয়ে শীর্ষ ১০টি প্রবণতার পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি ব্যবহারভিত্তিক (সিনারিও-নির্ভর) এবং ছয়টি প্রযুক্তিকেন্দ্রিক উদ্ভাবন।

একনজরে প্রবণতাগুলো দেখে নেওয়া যাক—

১. পিভি, উইন্ড ও ইএসএসের সমন্বয় নবায়নযোগ্য শক্তিকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য, নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ উৎসে পরিণত করবে।

২. গ্রিড-ফর্মিং ইএসএস পাওয়ার গ্রিডের স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

৩. বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ, ব্যবহার ও সংরক্ষণের সমন্বয় স্থানীয় স্বনির্ভরতা বাড়াবে এবং বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে।

৪. আবাসিক পিভি ও ইএসএস ব্যবস্থায় এআই-সক্ষম (এআই-এনাবলড) থেকে এআই-নেটিভ ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটবে, যা আরও উন্নত অভিজ্ঞতা দেবে।

৫. উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ও উচ্চ ঘনত্ব পিভি এবং ইএসএস যন্ত্রের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
৬. উচ্চ ভোল্টেজ ও নির্ভরযোগ্যতা এলসিওই (লেভেলাইজড কস্ট অব এনার্জি) কমাতে সহায়তা করবে।

৭. ইএসএস মানে কেবল ব্যাটারি নয়, নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিচালনার জন্য সিস্টেম-লেভেল ব্যাটারির ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

৮. উন্নত গ্রিড-ফর্মিং প্রযুক্তি ব্যবস্থা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার নির্মাণকে ত্বরান্বিত করবে।

৯. এআই এজেন্ট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা সম্ভব করবে।

১০. নিরাপত্তার পরিমাপযোগ্য মান নির্ধারণ এনার্জি স্টোরেজ শিল্পে সামগ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।

Page 1 of 2

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব