• 'ছায়া মন্ত্রিসভা' গঠনের প্রক্রিয়া চলছে— বললেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

    সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। সরকার গঠনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কারা কোন দফতর পাচ্ছেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা। এই যখন অবস্থা, তখন ভোটে পরাজিত জামায়াত জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বললেন, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা।

    রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

    পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।

    মূলত, ছায়া মন্ত্রিসভা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে বিরোধী দল থেকে একদল জ্যৈষ্ঠ সদস্য একটা মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এটি সরকারের মন্ত্রিসভার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এখানে, সরকারী মন্ত্রিসভার প্রতি সদস্যের বিপরীতে একজন ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য থাকেন যিনি সরকারে থাকা মন্ত্রীর কাজকে বিশ্লেষণ করেন এবং প্রয়োজনে বিকল্প পথ তুলে ধরেন।

    উন্নত বিশ্বের কিছু দেশে এর অস্তিত্ব রয়েছে যারা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কেবল বিরোধী দল হয়েই সংসদে কথা বলেন না, সরকারের মন্ত্রিসভার আদলে কিছুটা ছোট পরিসরে বিরোধী দলের একটা 'কেবিনেট প্ল্যাটফর্ম' রূপে কাজ করেন।

    উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ ও জামায়াত জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। বাকিগুলোতে জিতেছে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য কিছু দলের প্রার্থীরা।

  • অক্সফোর্ড ইকোনমিকস রাজনীতিতে স্বস্তি ফিরলেও অর্থনীতিতে ঝুঁকি বেড়েছে

    বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে ১৬৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪১তম।

    — চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৫% এবং আগামী বছর ৫.৭% হতে পারে।

    — সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ও ঝুঁকি এখন বাণিজ্যঋণ নিয়ে।

    — মূল্যস্ফীতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এরপর বিএনপি সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরেছে। তবে গত আগস্টের পর থেকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেড়েছে। এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি দশমিক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭ দশমিক ১–এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের গড় ঝুঁকি স্কোর ৫ দশমিক ১। বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে ১৬৪টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪১তম।

    বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ‘রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরলেও রূপান্তরের ঝুঁকি এখনো আছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমালেও আস্থা পুরোপুরি ফিরতে সময় লাগবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

    অক্সফোর্ড ইকোনমিকস পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকি পরিমাপ করে। সেগুলো হচ্ছে—বাজার চাহিদা, বাজার ব্যয়, বিনিময় হার, রাষ্ট্রের ঋণমান ও বাণিজ্যঋণ। ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয় ১ থেকে ১০ স্কেলে; ১০ মানে সর্বোচ্চ ঝুঁকি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বাণিজ্যঋণ–সংক্রান্ত। এ ক্ষেত্রে স্কোর সর্বোচ্চ ১০। বিপুল খেলাপি ঋণ, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে; দুর্বল তদারকি এবং সীমিত ঋণতথ্য পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ব্যাংকগুলো বড় ঋণগ্রহীতা ও সেবা খাতকে বেশি ঋণ দিলেও ঝুঁকি কম থাকা সত্ত্বেও গৃহস্থালি ও আবাসন খাত তুলনামূলক কম ঋণ পায়।

    উচ্চ সুদের হার ও খেলাপি ঋণের চাপে বাজারের ব্যয়ও বেশি—এই সূচকে স্কোর ৮। বাজার চাহিদায় স্কোর ৭, যেখানে আঞ্চলিক গড় ৫ দশমিক ১। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিয়মকানুন–সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিশ্চয়তা এবং প্রবাসী আয়ের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা বাজার চাহিদায় ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

    মুদ্রা বিনিময় হার মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে—স্কোর ৫। ভাসমান বিনিময় হার চালু হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করছে। গত বছরের শুরুতে বড় অবমূল্যায়নের পর টাকা কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। রিজার্ভ ঘুরে দাঁড়ালেও মহামারিপূর্ব অবস্থার নিচে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্মসূচির আওতায় সংস্কার অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে।

    রাষ্ট্রের ঋণমান এখনো উচ্চ ঝুঁকিতে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, কম মাথাপিছু আয়, প্রতিষ্ঠানগত উদ্বেগ ও প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ স্কোরকে নিচের দিকে টানছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের ঋণমানকে প্রভাবিত করতে পারে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলেও কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংস্কার–সংক্রান্ত ঝুঁকি রয়ে গেছে।

    প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস

    ব্যবসা–বাণিজ্যের শ্লথগতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

    ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশ—করোনা মহামারি ছাড়া গত কয়েক দশকের মধ্যে দুর্বলতম। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণ–অভ্যুত্থানে পটপরিবর্তন, বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যা এবং বৈদেশিক চাহিদার মন্দা এতে ভূমিকা রেখেছে।

    মূল্যস্ফীতি এখনো বড় বাধা। সাময়িকভাবে কমার পর আবার বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে (বার্ষিক) উঠেছে, যা অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রিজার্ভ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে মজুরি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ হওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং ভোক্তা চাহিদা সীমিত রয়েছে।

    বাহ্যিক চাপ বাড়ছে

    রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক নতুন চাপের মুখে। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়ালেও চতুর্থ প্রান্তিকে রপ্তানি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ক্রয়াদেশ কমে আসা এবং জার্মানিসহ ইউরোপে চাহিদা হ্রাসের কারণ। মোট পণ্য রপ্তানির এক–পঞ্চমাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। সেবা রপ্তানি কমায় প্রভাব আরও বেড়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলনামূলক কম শুল্ক ও নতুন বাণিজ্যচুক্তি স্বল্প মেয়াদে স্বস্তি দিলেও আগামী নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ মধ্যমেয়াদে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। উত্তরণের পর পণ্য রপ্তানিতে ৯–১২ শতাংশ শুল্ক বসতে পারে, যা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমাবে।

    তবে চলতি বছর দেশে রপ্তানি বাড়তে পারে বলে মনে করছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস। নতুন বাণিজ্যচুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার ফলে ক্রয়াদেশ বাড়তে পারে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নত হওয়া এবং এলডিসি উত্তরণের আগে বাণিজ্য–সুবিধা বহাল থাকাও সহায়ক হতে পারে।

    বৈদেশিক লেনদেন ও বিনিয়োগ

    কঠোর মুদ্রানীতি ও আইএমএফ সহায়তায় রিজার্ভ গত বছরের মাঝামাঝি ২২ বিলিয়ন ডলারে ওঠে, যা ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। তবু বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে মাত্র চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

    সরকারি ব্যয় সংকোচন ও ঋণের উচ্চ খরচে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রাখতে চায়। জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ থাকায় শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা কম।

    অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বলেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর আস্থা পুনর্গঠনে সময় লাগবে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি অনিশ্চয়তার উৎস দূর করলেও সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্যসহায়তা মুদ্রানীতির কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছে।

  • অনুমতি ছাড়া শিক্ষকরা অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

    অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষক অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর-১ আসনের কচুয়া উপজেলায় নিজ নির্বাচনি এলাকায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পেয়েছেন। এহছানুল হক বলেন, শিক্ষকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের পুরো সময় ও মনোযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে দিতে হবে।

    সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে কেউ যদি অন্য পেশায় সম্পৃক্ত হন, তবে তা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে গণমাধ্যম তা প্রকাশ করতে পারে।

    গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে কচুয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নেন এবং স্থানীয় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

     

  • অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

    বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

    আজ রোববার রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আশিক চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানান, আজ রোববার ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ওই চিঠি এসেছে। চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইজারা চুক্তি নিয়ে চলমান দর–কষাকষির (নেগোসিয়েশন) অগ্রগতির প্রশংসা করেছে এবং এটা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এই নেগোসিয়েশন ভবিষ্যতে আরও এগোবে এবং সঠিক দিকেই যাবে। নেগোসিয়েশনের অগ্রগতি প্রশংসার পাশাপাশি ডিপি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শেয়ার করা খসড়া কনসেশন চুক্তি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তবে তারা এটি আরও পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে।

    আশিক চৌধুরী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ রয়েছে আর দুই কার্যদিবস। যেহেতু তারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) সময় চেয়েছে, সে কারণে বিষয়টি বর্তমান সরকারের আমল পেরিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গিয়ে নেগোসিয়েশনটি আবারও কন্টিনিউ হতে পারে।’

    এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকারের সময়ে চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না, আমার মনে হয়, এটা নিশ্চয়তার মাত্রা বিবেচনায় বলা যায়। কারণ আর দুই কার্যদিবস আছে। এর মধ্যে ওনারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) ফেরত আসবে, তারপর আমরা আমাদের ক্যাবিনেটে নিয়ে এটাকে অনুমোদন করিয়ে স্বাক্ষর করব, সময়ের বিবেচনায় এই প্রক্রিয়াটা খুব কঠিন হবে।’

    আশিক চৌধুরী জানান, নিউমুরিং টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া নিয়ে ২০১৯ সালে কাজ শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে প্রকল্পটির চূড়ান্ত ধাপের দর–কষাকষি শুরু হয়েছিল।

    আশিক চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে এবং এ আলোচনা ও দর–কষাকষি প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। তবে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে।’

  • অপরাজিত থেকেই সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা

    চ্যাম্পিয়ন হলে অপরাজিতই হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বের পর সুপার এইটেও তাদের হারাতে পারেনি কোনো দল।

    এই পর্বের শেষ ম্যাচে আজ দিল্লিতে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে তাদের সামনে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই রান ১৩ বল হাতে রেখে ছুঁয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

    সিকান্দার রাজা ছাড়া আর কারও ব্যাটই সেভাবে ভরসা জোগাতে পারেনি। রাজা আউট হয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল দেড় শও হয়তো করতে পারবে না জিম্বাবুয়ে। তবে ক্লাইভ মাদান্দের ২০ বলে করা ২৬ রানের ইনিংসে তা করেছে জিম্বাবুয়ে।

    পরে আর কাজটা কঠিন হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। ২৪ বলে ক্রিস্টিয়ান স্টাবস ২১ ও জর্জ লিন্ডা ২১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

    এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হয়েছে জিম্বাবুয়ের এবারের বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলে সুপার এইটে এলেও কোনো ম্যাচ না জিতেই তারা বিদায় নিচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল আগেই, শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।

  • অবশেষে মেয়েদের বিপিএলের ঘোষণা বিসিবির

    নারী ক্রিকেটারদের দাবিটা ছিল অনেক দিনের। বিসিবিও বেশ কয়েকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মেয়েদের বিপিএল আয়োজনের, কিন্তু পরে সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। অবশেষে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউবিপিএল) আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি।

    এটিই হবে বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটারদের জন্য প্রথম কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট। বিস্তারিত সূচি না দিলেও বিসিবি জানিয়েছে, তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে আগামী ৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত হবে ডব্লিউবিপিএলের ম্যাচগুলো। প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে স্থানীয় ক্রিকেটারদের নেবে দলগুলো।

    মেয়েদের বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান করা হয়েছে নারী উইংয়ের প্রধান রুবাবা দৌলাকে। বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে এই টুর্নামেন্ট সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। আজ প্রথম আলোকে রুবাবা দৌলা বলেছেন, ‘আমরা তিনটি দল নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট করব। মেয়েদের ক্রিকেটে এটা খুব ভালো সুযোগ হবে। দলগুলো চাইলে বিদেশি ক্রিকেটারদেরও আনতে পারবে।’

    বিদেশি ক্রিকেটার কতজন নেওয়া যাবে, ফ্র্যাঞ্চাইজি কীভাবে বাছাই করা হবে—এসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নারী ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে এ নিয়ে সমস্যা হবে না বলে বিশ্বাস রুবাবার, ‘বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা খুব ভালো খেলছে। আশা করছি স্পনসরস ও দলের মালিক পেতে অসুবিধা হবে না। আমি সেটা নিশ্চিত করব। আমরা ওই ধরনের মালিকদের চাইব, যাঁরা অন্তত কয়েক বছর দলের সঙ্গে থেকে নারী ক্রিকেট উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।’

    দেরিতে হলেও মেয়েদের বিপিএল আয়োজনের দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে কথা হচ্ছিল মেয়েদের বিপিএল হবে। গত বছর তো হতে হতে হয়নি। এবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে শুনে অনেক বেশি ভালো লাগছে।’

    নারী ক্রিকেটের প্রধান রুবাবা দৌলার সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ নারী ক্রিকেট দল
    নারী ক্রিকেটের প্রধান রুবাবা দৌলার সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ নারী ক্রিকেট দল

    আগামী জুনে ইংল্যান্ডে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টে যাওয়ার ঠিক আগে নারী বিপিএল ক্রিকেটারদের সাহায্য করবে বলেই বিশ্বাস তাঁর, ‘বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আপনি যখন একটা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট খেলবেন, প্রস্তুতির দিকে থেকে সেটা অনেক সাহায্য করবে। বিভিন্ন দেশের তিন-চারজন করে খেলোয়াড় বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলবে। ওদের স্কিল অনেক ভালো থাকে, টুর্নামেন্টটা তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। আমাদের মেয়েদের জন্য খুব ভালো একটা সুযোগ হবে এই টুর্নামেন্ট খেলা।’

  • অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত, অস্ত্রোপচার চলছে

    ‘আমাদের সবার প্রিয় তানিয়া বৃষ্টি বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। এ মুহূর্তে তাঁর সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও চিকিৎসা প্রয়োজন। অনুরোধ করছি শুটিং বা কাজ–সংক্রান্ত বিষয়ে আপাতত ফোনকল/খুদে বার্তা দিয়ে বিরক্ত না করার জন্য। সুস্থ হয়ে উঠলে ইনশা আল্লাহ নিজে থেকেই সবাইকে জানানো হবে।’

    তানিয়া বৃষ্টি
    তানিয়া বৃষ্টি, ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
     

    মডেল ও অভিনয়শিল্পী তানিয়া বৃষ্টির ফেসবুক থেকে এভাবেই তাঁর অসুস্থতার খবর জানিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। এরপর গতকাল শনিবার আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল। ভালোবাসি। কাল আমার মাথায় অস্ত্রোপচার, দোয়া করবেন সবাই। ব্রেন টিউমার।’

    তানিয়া বৃষ্টির ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার খবরে তাঁর সহকর্মীরা দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। আজ রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে কথা হয় পরিচালক সকাল আহমেদের সঙ্গে।

    তানিয়া বৃষ্টি
    তানিয়া বৃষ্টিছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

    প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে সকাল আহমেদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করছিলেন তানিয়া। কখনো তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করতেন, কখনোবা জ্বর-ঠান্ডা লেগে থাকত তাঁর। কিন্তু খুব একটা পাত্তা দেননি। কয়েক দিন আগে পরিস্থিতি একটু খারাপ হলে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, তানিয়া ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত।

    তানিয়া বৃষ্টি
    তানিয়া বৃষ্টি, ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
     

    ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতাল থেকে পরে তানিয়া বৃষ্টিকে আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় বলে জানান সকাল আহমেদ। আজ বিকেল চারটায় তাঁর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়। সন্ধ্যা সাতটায় কথা হলে সকাল আহমেদ বলেন, ‘খবর নিয়ে জেনেছি, অস্ত্রোপচার চলছে। মস্তিষ্কের বিষয় তো, তাই কিছুটা চিন্তার বিষয়। অস্ত্রোপচার ঠিকঠাক হলে আজ রাতটা পোস্ট অপারেটিভে রাখা হবে। আগামীকাল সোমবার যেকোনো সময় তাঁকে কেবিনে নেওয়া হতে পারে।’

  • আইসিসি র‍্যাঙ্কিং অলরাউন্ডারদের ‘সিংহাসন’ ফিরে পেলেন রাজা

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জিম্বাবুয়েকে সুপার এইটে তোলার পুরস্কার পেলেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। আইসিসির সাপ্তাহিক হালনাগাদ র‌্যাঙ্কিং তালিকায় টি-টুয়েন্টিতে অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন রাজা।

    গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন রাজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবকে দুইয়ে ঠেলে শীর্ষস্থানে উঠে এলেন রাজা। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ২৯৪। সাইম আইয়ুবের রেটিং পয়েন্ট ২৮১। এই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার অলরাউন্ডারদের শীর্ষস্থান হাতবদল হয়েছে। দুই ধাপ এগিয়ে ভারতের শিবম দুবে উঠে এসেছেন সাতে। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী তিন ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন আটে।

    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা
    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা, এএফপি
     

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বড় ইনিংসের দেখা পাননি ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হন। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ রানে আউট হন। অভিষেক বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গেলেও এ সংস্করণে ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন। ৮১৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের সঙ্গে তাঁর ৬১ পয়েন্টের ব্যবধান।

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এ পথ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন তৃতীয় অবস্থানে। তিন ধাপ এগিয়ে ভারতের ঈশান কিষান উঠে এসেছেন পাঁচে, ১০ ধাপ উন্নতি করে নয়ে উঠে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভাল্দ ব্রেভিস। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার এইটে সেঞ্চুরি করে জেতানো ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ১০ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন ১৮তম অবস্থানে।

    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনে উঠে এসেছেন সাহিবজাদা ফারহান
    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনে উঠে এসেছেন সাহিবজাদা ফারহান, এএফপি
     

    টি-টুয়েন্টি বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের স্পিনার বরুন চক্রবর্তী। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়া পেসার করবিন বশ ২১ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন তৃতীয় স্থানে। সাতে উঠে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার ম্যাথু ফোর্ড উন্নতি করেছেন ২৩ ধাপ। ৭ ধাপ উন্নতি করে আটে ভারতের পেসার যশপ্রীত বুমরা। যৌথভাবে ২১তম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার গুড়াকেশ মোতি উন্নতি করেছেন ১৭ ধাপ।

  • আইসিসির বিবৃতি বিশ্বকাপ না খেলায় শাস্তি হবে না বিসিবির, পাচ্ছে পুরস্কারও

    নিজেদের দাবিতে অটল থেকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করবে না আইসিসি। উল্টো বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের স্বাগতিক করা হবে বাংলাদেশকে। আজ আইসিসির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানানোর পর গতকাল আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভা হয়। আজ রাতেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এরপরই আইসিসি বাংলাদেশকে নিয়ে হওয়া এসব সিদ্ধান্তের কথা জানাল।

    আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে তাদের। সেখানে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের না থাকাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক অনুপস্থিতি’ বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে আইসিসি। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তাসংকটের কারণে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আইসিসি তাতে রাজি না হওয়ায় বিশ্বকাপই খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।

    রোববার রাতে লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার (বাঁ থেকে প্রথম) সঙ্গে বৈঠক করে পিসিবি ও বিসিবি
    রোববার রাতে লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার (বাঁ থেকে প্রথম) সঙ্গে বৈঠক করে পিসিবি ও বিসিবি

    আইসিসি জানিয়েছে, গর্ব করার মতো ক্রিকেট ঐতিহ্য এবং বৈশ্বিক ক্রিকেট বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বাংলাদেশের। ২০ কোটির বেশি সমর্থক নিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজারে ক্রিকেটের বিকাশে তারা তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যেন না ফেলে, সেটিও দেখবে আইসিসি।

    কোনো শাস্তি হবে না

    পরে দুটি বিষয়ের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছে বিসিবি। বিশ্বকাপ না খেলায় বিসিবির ওপর বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো আর্থিক, খেলা নিয়ে অথবা প্রশাসনিক জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হবে না। বিসিবি চাইলে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে যাওয়ার অধিকার রাখে। আইসিসির বর্তমান বিধিমালার আওতায় এই অধিকার বিদ্যমান এবং তা অক্ষুণ্ন থাকবে।

    বাড়তি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্ব

    এ ছাড়া আইসিসির সঙ্গে বিসিবি ও পিসিবির সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে, যা আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া, সময়সূচি এবং পরিচালনাগত শর্তাবলির অধীন থাকবে। ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা বাংলাদেশের।

    আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে, ‘টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক। তবে এটি বাংলাদেশকে একটি প্রধান ক্রিকেট জাতি হিসেবে আইসিসির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারকে পরিবর্তন করবে না। বিসিবিসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা দেশটির ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগ আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোনিবেশ করে যাচ্ছি।’

  • আজ থেকে বন্ধ থাকছে দেশের সব স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা

    আজ থেকে শুরু হলো পবিত্র রমজান মাস। এই উপলক্ষ্যে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ছুটি শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাদ্রাসা ও কলেজে ছুটি কার্যকর হয়েছে গতকাল থেকে। 

    বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। এই ছুটি চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার হওয়ায় পরের ২ দিন (শুক্র-শনি) ছুটি কাটাতে পারবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
    বিজ্ঞাপন

    এদিকে গত ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকছে মাদরাসা। এসব প্রতিষ্ঠানেও ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৯ মার্চ।

     

  • আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে, ফেসবুকে কেন বললেন মেহজাবীন

    আবার আলোচনায় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। গত বছরের একটি ঘটনাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে ফেরার সময় মেহজাবীনের লাগেজে মদের বোতল পাওয়ার অভিযোগে বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন এই অভিনেত্রী।

    মেহজাবীন চৌধুরী
    মেহজাবীন চৌধুরী ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে

    প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে ফেরার সময় মেহজাবীন চৌধুরীকে আটক করা হয়। অভিযোগ করা হয়, এ সময় তাঁর লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নির্মাতা ও প্রযোজক স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত।

     মেহজাবীন চৌধুরী
    মেহজাবীন চৌধুরীছবি: ফেসবুক থেকে

    কয়েক মাস পর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মেহজাবীন দাবি করেছেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

    মেহজাবীন চৌধুরী
    মেহজাবীন চৌধুরী শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন চৌধুরী লিখেছেন, ‘কিছুদিন ধরে আমি লক্ষ করছি, আমাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে। আপনারা অনেকেই জানেন, কিছুদিন আগেও একটি মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। বিজ্ঞ আদালত সেই মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

    মেহজাবীন চৌধুরী
    মেহজাবীন চৌধুরী ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে

    একই পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে এআই ব্যবহার করে নারী শিল্পীদের সম্মানহানির প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর ভাষায়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওর কারণেও আমার মতো অনেক আর্টিস্টকে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা একেবারেই কাম্য নয়। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে। এর পেছনে কে বা কারা আছে, তা আমার জানা নেই। আমি শুধু আমার কাজেই ফোকাস করতে চাই, আমি চাই আমার কাজ নিয়েই আলোচনা হোক। আশা করি আপনারা সবাই পাশে থাকবেন।’

  • আমার নামটাই ক্লিকবেইট, বিতর্ক নিয়ে শিল্পা শেঠি

    গত ছয় মাস ধরে শিল্পা শেঠি ও তাঁর স্বামী রাজ কুন্দ্রা বারবার শিরোনামে এসেছেন। প্রতারণার অভিযোগ, জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট বাতিস্তা বন্ধ হওয়ার গুজব—সব মিলিয়ে তাঁদের জীবনে এসেছে নানা বিতর্ক। তবে সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, এত বিতর্কও তাঁকে থামাতে পারেনি। ‘আমার কাজের সততা ও নৈতিকতা আমাদের ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং সেই জন্যই আমি এখনো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি,’ বলেন শিল্পা।

    শিল্পা বলেন, তারকা হিসেবে নিজেকে আড়ালে রাখা সহজ নয়। মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই তারকাদের গালাগাল করে, সংবাদমাধ্যমও এসব লুফে নেয়। তবে তিনি সব পরিস্থিতিতেই চেষ্টা করেছেন ইতিবাচক থাকার। ‘হতাশাজনক হলেও, আমরা আমাদের অবস্থান অটুট রেখেছি। মানুষ আমাদের সততার জন্য চেনে। কখনো কখনো ভাবি, কেন আমরা ভালো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি না? কিন্তু সেলিব্রিটি হওয়ায় আমার নাম যেন ক্লিকবেইট হয়ে গেছে। তাই আমি এটাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছি,’ বলেন তিনি।

    শিল্পা শেঠি। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    শিল্পা শেঠি। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    শিল্পা বলেন, সাধারণত গুজব নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে চান না। কারণ, প্রতিদিন নানা বিষয়ে খবর হয়, সবকিছু বারবার তাঁর পক্ষে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তবে বাতিস্তার মতো একটি ব্র্যান্ড নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ব্র্যান্ডের জন্য আমাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলতে হয়েছে। আমরা অনেক পরিশ্রম, ভালোবাসা ও আবেগ দিয়েছি এই ব্র্যান্ডে। কিছুটা নেতিবাচক প্রচারণা হয়েছে, কিন্তু আশা করি মানুষ কোনটা সঠিক সেটা বুঝতে পারবে।’

    শিল্পা যোগ করেন, ‘নেতিবাচক প্রচারণাতেও সব সময় ইতিবাচক দিক থাকে, কারণ আমাদের মনোভাব ইতিবাচক।’ গত কয়েক মাসে শিল্পার নাম জড়িয়েছে তাঁর স্বামী রাজ কুন্দ্রার সূত্র ধরেও। নানা ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে সাক্ষাৎকারে রাজ কুন্দ্রার অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি শিল্পা।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • আমি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখছি: আজমেরী হক বাঁধন

    দেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি ছিল অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের। সেই অবস্থান থেকেই তিনি সব সময় কথা বলেছেন নাগরিক অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে। এবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশ নিয়ে নতুন আশার কথাই জানালেন এই অভিনেত্রী।

    বাঁধন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঢাকা-১৬ আসনের ভোটার। মা–বাবাকে নিয়ে ভোট দিয়েছি। আমি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখছি। এভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়ে দেশ গঠনে কাজ করবে। সব ধর্ম-বর্ণের জন্য একটি নিরাপদ দেশ হবে, সেটাই প্রত্যাশা। আগামীর বাংলাদেশ একটি সাম্যের দেশ হবে। এখানে সবাই সবার অধিকার বুঝে পাবে।’

    এবার জাতীয় নির্বাচনের দিনও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছেন বাঁধন। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর তিনি দেশ নিয়ে আশার কথাই জানান। তাঁর মতে, পরিবর্তনের পথ তৈরি হয় মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে, আর সেই অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমই ভোট।

    অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: ফেসবুক থেকে
    অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: ফেসবুক থেকে
     

    বাঁধন বলেন, ‘কোনো রকম ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এভাবে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। যারা দেশের জনগণের জন্য কাজ করবে। সাম্য বজায় রাখবে। সবাই তাদের অধিকার বুঝে পাবে বলে আশা করি।’

    অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
    অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, ফেসবুক থেকে
     

    দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দিকে নির্বাচিত সরকারের নজর থাকবে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। এ সময় বাঁধন আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরে প্রত্যাশা, তথ্য ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে এমন কেউ পাবেন যাঁরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে চিন্তা করবেন। এ ছাড়া বড় চাওয়া পেশাগত স্বীকৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে যেন দেওয়া হয়। এটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। কারণ, সামাজিকভাবে আমাদের পেশাকে খুব একটা ভালোভাবে দেখা হয় না। পেশার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকলে ভালো হবে।’

  • আলোচিত এই মিসরীয় অভিনেত্রীকে কতটা চেনেন

    ‘মিডটার্ম’-এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী টিয়ার চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছেন ইয়াসমিনা এল-আব্দ। মিসরীয় টিভি সিরিজটি অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পীকে জেন–জি দর্শকের মধ্যে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

    কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিজটির প্রচার শেষ হয়েছে। তবে চরিত্রের ঘোর থেকে এখনো বের হতে পারেননি তিনি। টিএন ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘টিয়াকে কিছুতেই ভুলতে পারছি না। আগে কখনো এমনটা ঘটেনি। অন্য কোনো চরিত্র নিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।’

    ইয়াসমিনা এল-আব্দ
    ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    একদল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সিরিজটি মিসরের তরুণদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তোলে। আগে পার্শ্বচরিত্রে কাজ করলেও সিরিজটিতে প্রথমবারের মতো মূল চরিত্র করেছেন ইয়াসমিনা। ১৯ বছর বয়সেই এটা তাঁকে এনে দিয়েছে তারকাখ্যাতি।

    ইয়াসমিনার ভাষ্য, ‘মিডটার্ম–এর শুটিংয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। এত বড় প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার বিশাল ঝুঁকি ছিল।’ ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন, ফলও পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বয়সের উপযোগী চরিত্র খুঁজে পেতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। হয় অনেক বড় বয়সের চরিত্র যা করা কঠিন, নয়তো অনেক ছোট। আমি তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না।’

    ইয়াসমিনা এল-আব্দ
    ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    শেষ পর্যন্ত মিডটার্ম দিয়ে অভিনেত্রী ইয়াসমিনার পুনর্জন্ম ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। এটা হালকাভাবে নেওয়ার নয়। আমি এটা অর্জন করেছি, এখন ধরে রাখতে হবে।’

    ইয়াসমিনা এল-আব্দ
    ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতও নতুনভাবে জীবনে ফিরে এসেছে। গত ডিসেম্বরে তিনি ‘ডাম্মা’ প্রকাশ করেন। গানটি বিলবোর্ডের তালিকায় উঠেছিল।

    মাত্র ৯ বছর বয়সে ইয়াসমিনার অভিনয়ে অভিষেক। ১২ বছর বয়সে গান শুরু করেন। সুক্কার, ইন ব্লুম, শ্যাডো অব কায়রোসহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশনেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে।

  • আলোচিত যৌন হয়রানির মামলা, সমাঝোতা হলো না দুই তারকার

    হলিউড অভিনেত্রী ব্লেইক লাইভলি ও অভিনেতা-পরিচালক জাস্টিন বালডোনির মধ্যে চলমান যৌন হয়রানির মামলায় আদালত-নির্দেশিত মধ্যস্থতায় কোনো সমঝোতা হয়নি। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে সারা দিনের মধ্যস্থতা বৈঠক শেষে দুই পক্ষ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

    রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’–এর সহ-অভিনেতা লাইভলি ও বালডোনি গত বুধবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হন। আদালতের ১৪ তলায় পৃথক কক্ষে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটান তাঁরা। দিনের শেষে ভবন ছাড়ার সময় সংবাদমাধ্যমের সামনে দুজনই কোনো মন্তব্য না করে চলে যান।

    বালডোনির আইনজীবী ব্রায়ান ফ্রিডম্যান সাংবাদিকদের জানান, কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও তা খুব একটা সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে না। মামলাটি বিচারে গড়াবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি মামলাটি বিচারে গড়াবে। আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’

    ফেডারেল আদালতের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট জজ সারাহ এল. কেইভের তত্ত্বাবধানে এই মধ্যস্থতা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগেও উভয় পক্ষ কেইভের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেছিল। তবে শুরু থেকেই আলোচনায় অগ্রগতির স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে জাস্টিন বালডোনি ও ব্লেইক লাইভলি। আইএমডিবি
    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে জাস্টিন বালডোনি ও ব্লেইক লাইভলি। আইএমডিবি

    লাইভলির অভিযোগ, ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ ছবির শুটিং সেটে জাস্টিন বালডোনি তাঁকে যৌন হয়রানি করেছেন। পাশাপাশি, অভিযোগ জানানোর পর বালডোনি তাঁর জনসংযোগ টিমের মাধ্যমে লাইভলির বিরুদ্ধে বদনাম ছড়ানোর প্রচারণা চালান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত আছে ১৮ মে।

    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে ব্লেইক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি। আইএমডিবি
    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে ব্লেইক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি। আইএমডিবি

    এদিকে বিচারক লুইস লিম্যান বিবেচনা করছেন—বিচারের আগেই লাইভলির অভিযোগ পুরোপুরি বাতিল করা হবে কি না, অথবা অভিযোগের বড় অংশ খারিজ করা হবে কি না। বালডোনির পক্ষ থেকে করা সামারি জাজমেন্ট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, লাইভলির অভিযোগগুলো মূলত তুচ্ছ বিরোধ ও অসন্তোষের বিষয়, যা আইনি দৃষ্টিতে যৌন হয়রানির মানদণ্ড পূরণ করে না।

    অন্যদিকে লাইভলির পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সেটে বালডোনির আচরণ নিয়ে অন্যান্য অভিনেতাও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের মতে, এসব অভিযোগ যথেষ্ট গুরুতর এবং বিষয়টি জুরির মাধ্যমে বিচার হওয়াই সঠিক হবে।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে সুইফট

    টপ চার্টের শীর্ষে ওঠাটাকে একরকম অভ্যাসে পরিণত করেছেন টেইলর সুইফট। তাঁর গান ‘ওপালাইট’ মুক্তির ২০তম সপ্তাহ পর বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে উঠেছে। এটি এ তালিকার শীর্ষে জায়গা পাওয়া সুইফটের ১৪তম সিঙ্গেল। হট ১০০-এর শীর্ষে যেসব শিল্পীর গান সবচেয়ে বেশি জায়গা পেয়েছে, তাতে রিয়ানার সঙ্গে এখন যৌথভাবে তৃতীয় সুইফট। তাঁর সামনে আছে কেবল দ্য বিটলস (২০টি) ও মারায়া ক্যারি (১৯টি)।

    সুইফটের ধারাবাহিক সাফল্য দেখে অনেকেই বলছেন, শীর্ষে পৌঁছানো তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। বিশেষ করে এখন তিনি প্রায় প্রতিবছরই নতুন অ্যালবাম মুক্তি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরই বিটলসকে সরিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে যাবেন তিনি।

    টেইলর সুইফট
    টেইলর সুইফট, রয়টার্স

    ‘ওপালাইট’ সুইফটের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’-এর গান। এর আগে একই অ্যালবামের ‘দ্য ফেইট অব ওফেলিয়া’ টানা ১০ সপ্তাহ হট ১০০-এর ১ নম্বরে ছিল। গত বছর অ্যালবামটি মুক্তির সময় ‘ওপালাইট’ দুইয়ে থাকলেও পরে ১০ নম্বরে নেমে যায়। দীর্ঘদিন টপ টেনের বিভিন্ন অবস্থানে থেকে এবার শীর্ষ স্থান দখল করেছে।

    ৬ ফেব্রুয়ারি গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশের পর এটি নতুন গতি পায়। তখনই হয়তো এটি শীর্ষে পৌঁছাত, কিন্তু সুপার বোল-পরবর্তী সময়ে ব্যাড বানি নতুন করে আলোচনায় আসায় হট ১০০-এর টপ চার্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়।
    চলতি সপ্তাহে ‘ওপালাইট’ গানটির ১ লাখ ৬৮ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় যা ২ হাজার ২৯০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ছিল ভিনাইল ও সিডি সংস্করণ। স্ট্রিমিং হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • ইরানে ভয়ংকর যুদ্ধের আশঙ্কা, মেট্রো স্টেশন ও মাটির নিচে লুকানোর ব্যবস্থা

    পারমাণবিক চুক্তি ইস্যুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় ভয়ংকর এক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইরানে। সম্ভাব্য এই যুদ্ধকে ঘিরে দেশটির রাজধানী তেহরানে এখন নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

    যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এসব স্থানে খাদ্য মজুতসহ অন্যান্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে এবং ২৫ লাখ মানুষের আশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের জল্পনা জোরালো হওয়ায় কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। শনিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি।

    তিনি বলেন, তেহরান সিটি করপোরেশনের প্যাসিভ ডিফেন্স কমিটি রাজধানীর বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর একটি বিস্তৃত জরিপ চালিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, তেহরানের বিভিন্ন স্কুলে থাকা প্রায় ৫১৮টি পুরোনো আশ্রয়কেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে। তবে, এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ বর্তমানে সংস্কার ও ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

    নাসিরি জানান, তেহরানের ৮২টি মেট্রো স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টেশনে টয়লেট, পানি ও খাদ্য মজুতসহ প্রয়োজনীয় বসবাসযোগ্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব মেট্রো স্টেশনে আশ্রয়কেন্দ্র নির্দেশক সাইনবোর্ড ও লেবেল বসানোর কাজও শিগগিরই শেষ হবে।

    এছাড়া মেট্রোর বাইরে শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা পার্কিং এলাকাসহ ৩০০টির বেশি ভূগর্ভস্থ স্থানকেও জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নাসিরি।

    উল্লেখ্য, তেহরানের জনসংখ্যা ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে। তবে, বৃহত্তর মহানগর এলাকা যুক্ত করলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি থেকে ১ কোটি ৬০ লাখে। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাতের সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে গিয়েছিলেন।

    প্রাণঘাতী সেই সংঘাতের পর থেকেই তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা ও অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নেয় ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

    মূলত, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।

    অন্যদিকে ইরান সরকারও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করেছে, তাদের ওপর কোনও ধরনের হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তভাবে।

  • ইরানের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেবে।

    গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রশাসনের কঠোর দমন–পীড়নের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী একটি রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থান’চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘যক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’ তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান।

    খামেনি বলেন, তাঁরা (বিক্ষোভকারী) পুলিশ, সরকারি কেন্দ্র, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা করেছে। তারা পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে। এটি একটি অভ্যুত্থানের মতো, যা শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়েছে।

    খামেনির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি তো এমন কথা বলবেনই। দেখা যাক কী হয়। আশা করছি, আমাদের একটি চুক্তি হবে। আর যদি না হয়, তবে তিনি (খামেনি) ঠিক না ভুল, তা সময়ই বলে দেবে।’

    বিক্ষোভকে ইরান সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি হিসেবে দেখছে। সরকার স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ৮৪২–এর বেশি, যাঁদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।

    এত উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার ক্ষীণ আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যদি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিতে পারেন, তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি ‘সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ’ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, অঞ্চলের কিছু দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারি জানিও বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রচারণার আড়ালে আলোচনার পরিকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ট্রাম্পও আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

    এএফপি

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শেষ, ইতিবাচক বলছেন আরাগচি

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সপ্তাহজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পর আজ শুক্রবার ওমানে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আলোচনার জন্য ওমানের রাজধানী মাসকটে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এই ইতিবাচক পথে এগিয়ে যেতে পারলে আমি বলতে পারি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা সংক্রান্ত ইতিবাচক এক কাঠামোতে পৌঁছাতে পারব।’

    ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, মাসকটে পরোক্ষভাবে ‘একাধিক বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আরাগচি বলেন, আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে বিস্তারিত বিষয়গুলো দুই দেশের রাজধানীতে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হবে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগগুলো যেমন জানানো হয়েছে, তেমনি আমাদের স্বার্থ এবং ইরানের জনগণের অধিকারের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে। অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশে আলোচনা শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য পক্ষের মতামতও শোনা হয়েছে।’

    আল–জাজিরা

  • এক ফোনেই সব বদলে যায় সানি লিওনির

    ওটিটিতে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অনুরাগ কশ্যপের সিনেমা ‘কেনেডি’। এর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানি লিওনি। সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, এই সিনেমায় সুযোগ পাওয়াসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সানি লিওনি।

    কেনেডি ছবিতে  ‘চার্লি’ চরিত্র যেন এক অন্য সানি লিওনিকে সামনে এনেছে। তিন বছর পর ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্রমহলে আলোচিত।
    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সানি লিওনি জানিয়েছেন, তিনি অনুরাগ কশ্যপকে খুবই বড় মানের নির্মাতা মনে করেন।  তাঁর ভাষায়, ‘অনেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তিনি সেটে পাগলাটে কোনো কঠোর পরিচালক নন। তাঁর প্রত্যাশা থাকে—আপনি প্রস্তুত হয়ে আসবেন, জানবেন কী করতে হবে। তবে তিনি সময় দেন, যা সবাই দেন না।’

    ‘কেনেডি’—এক ফোনকল থেকে কান উৎসবে
    সানি লিওনির কাছে এই ছবির প্রস্তাবটিই ছিল অবাক করা। মূলধারার বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও অনুরাগ কশ্যপের মতো নির্মাতার কাছ থেকে এমন প্রস্তাব পাওয়া তাঁর কাছে ছিল স্বপ্নের মতো।

    সানি লিওনি আরও বলেন, ‘শিল্পে নানা রাজনীতি থাকে। অনেক সময় শেষ মুহূর্তে বদল ঘটে। তাই প্রথম দৃশ্যের শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার মনে হচ্ছিল—যেকোনো কিছু হতে পারে। কিন্তু যখন প্রথম শটটা হলো, তখন মনে হলো—হ্যাঁ, চার্লি সত্যিই এখানে আছে।’

    ছবিটি ২০২৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মিডনাইট স্ক্রিনিং বিভাগে প্রিমিয়ার হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছবির প্রশংসা নির্মাতা ও শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পরে এটি জিও মামি মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসব, সিডনি চলচ্চিত্র উৎসব, মেলবোর্নের ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব, লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়।

    ‘কেনেডি’ সিনেমায় সানি লিওনি। আইএমডিবি
    ‘কেনেডি’ সিনেমায় সানি লিওনি। আইএমডিবি

    ‘চার্লি’র রহস্যময় হাসি
    ছবিতে সানি লিওনের চরিত্র চার্লির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য—অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে তাঁর রহস্যময় হাসি। এই হাসিকে নিখুঁত করতে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছেন অভিনেত্রী। ‘আমি সপ্তাহের পর সপ্তাহ সেই অদ্ভুত হাসিটা অনুশীলন করেছি। লিফটে, সেটে, বিমানবন্দরে—যেখানে সুযোগ পেয়েছি, হাসতাম। আশপাশের মানুষ ভাবত আমি পাগল হয়ে গেছি! কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল চরিত্রটাকে নিজের মধ্যে ঢুকিয়ে নেওয়ার উপায়,’ বলেন তিনি।

    সানি স্বীকার করেন, তিনি সহজে বিব্রত হন না। ‘আমি হাঁটতে গিয়েও হোঁচট খাই। অন্যরা লজ্জা পায়, আমি না। তাই এই হাসি নিয়েও কখনো অস্বস্তি হয়নি,’—যোগ করেন তিনি।

    ওটিটিতে মুক্তি ও অপেক্ষার গল্প
    দীর্ঘ উৎসবযাত্রার পর ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ‘কেনেডি’ ওটিটিতে মুক্তি পায়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও ভারতে মুক্তির বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
    এ প্রসঙ্গে সানি বলেন, ‘আমার স্বামী সব সময় বলেন, প্রতিটি ছবিরই নিজস্ব সময় থাকে, সময় হলে সে তার জায়গা খুঁজে পায়। আমরা এই ছবিকে নিয়ে বিশ্বভ্রমণ করেছি। মুম্বাইয়েও দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। ছবিটিকে একটি নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন ছিল এবং এখন তা হচ্ছে—এটাই বড় কথা।’

    প্রশংসা, পর্যালোচনা ও সামনে পথচলা
    চার্লি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সহকর্মীদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত প্রশংসা পেয়েছেন সানি। নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে বলেছেন, তাঁরা কাজটা পছন্দ করেছেন। সেটা সত্যিই আনন্দ দিয়েছে, বলেন তিনি।

    ‘কেনেডি’ সিনেমার পোস্টার। আইএমডিবি
    ‘কেনেডি’ সিনেমার পোস্টার। আইএমডিবি

    ওটিটিতে মুক্তির পর ইতিবাচক পর্যালোচনাও তাঁকে বিস্মিত করেছে। ‘অনেক দিন পর মনে পড়ল—রিভিউ বলে একটা ব্যাপার আছে! এত সুন্দর প্রতিক্রিয়া পাব, ভাবিনি,’—হাসতে হাসতে বলেন সানি।

    নিজের দীর্ঘ যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়ে তরুণ বয়সের নিজেকে কী বলতেন? সানির জবাব, ‘বলতাম—সিটবেল্ট বাঁধো। পথ সহজ হবে না। জীবনে কিছুই সহজে পাইনি। লড়তে হয়েছে, আঁকড়ে ধরতে হয়েছে। একটা দরজা বন্ধ হলে আরেকটা খোলার চেষ্টা করেছি। আর সেই চেষ্টাই আমাকে এখানে এনেছে।’

    এনডিটিভি অবলম্বনে

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব