• ১১ রানে হারাল পাকিস্তান , সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। বাংলাদেশের বোলার ছিলেন রিশাদ হোসেন।

    নিজের প্রথম ৬ ওভারে ৫৪ রান দেওয়া এই স্পিনার শেষ ওভারে করলেন সেরা বোলিংটা। কোনো বাউন্ডারি তো হজম করেনইনি, দিয়েছেন মাত্র ২ রান। এমনকি শেষ বলে স্টাম্পড আউট করেছেন শাহিন আফ্রিদিকেও, যিনি আগের ওভারেই মোস্তাফিজকে দুটি ছক্কা মেরেছেন।

    শেষের এমন দুর্দান্ত সমাপ্তিতে পাকিস্তানকে ২৭৯ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে ১১ রানে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের জয় থাকায় বাংলাদেশ তিন ম্যাচের সিরিজটা জিতেছে ২–১ ব্যবধানে।

    বাংলাদেশের জয়ের আনন্দ
    বাংলাদেশের জয়ের আনন্দ
     

    বাংলাদেশের আজকের জয়ের নায়ক দুজন। ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান, বল হাতে তাসকিন আহমেদ। তানজিদের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে চড়ে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রানের পুঁজি গড়ে।

    এরপর বল হাতে পাওয়ারপ্লেতেই পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দেন তাসকিন। নিজের প্রথম দুই ওভারে তুলে নেন দুই উইকেট। ইনিংসের প্রথম তিন ওভারে তিন উইকেট হারানো পাকিস্তান সালমান আগার ব্যাটে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে। ৪৮তম ওভারে এই সালমানকে ফিরিয়েই (১০৬ রান) বাংলাদেশের জয়ের পথ পরিষ্কার করেন তাসকিন। এর আগে ফাহিম আশরাফকে ফিরিয়ে ভাঙেন একটি বড় জুটিও। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ৪৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। তবে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি উঠেছে স্কোরবোর্ডে ভালো পুঁজি এনে দিতে মূল ভূমিকা রাখা তানজিদই।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (তানজিদ ১০৭, হৃদয় ৪৮*, লিটন ৪১, সাইফ ৩৬, নাজমুল ২৭; রউফ ৩/৫২)।
    পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯ (সালমান ১০৬, মাসুদ ৩৮, আফ্রিদি ৩৭, সামাদ ৩৪; তাসকিন ৪/৪৯, মোস্তাফিজ ৩/৫৪, নাহিদ ২/৬২)।
    ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।
    ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তানজিদ হাসান।
    সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জয়ী।
    ম্যান অব দ্য সিরিজ: তানজিদ হাসান ও নাহিদ রানা।
     
     
  • 'ছায়া মন্ত্রিসভা' গঠনের প্রক্রিয়া চলছে— বললেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

    সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। সরকার গঠনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কারা কোন দফতর পাচ্ছেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা। এই যখন অবস্থা, তখন ভোটে পরাজিত জামায়াত জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বললেন, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা।

    রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

    পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।

    মূলত, ছায়া মন্ত্রিসভা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে বিরোধী দল থেকে একদল জ্যৈষ্ঠ সদস্য একটা মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এটি সরকারের মন্ত্রিসভার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এখানে, সরকারী মন্ত্রিসভার প্রতি সদস্যের বিপরীতে একজন ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য থাকেন যিনি সরকারে থাকা মন্ত্রীর কাজকে বিশ্লেষণ করেন এবং প্রয়োজনে বিকল্প পথ তুলে ধরেন।

    উন্নত বিশ্বের কিছু দেশে এর অস্তিত্ব রয়েছে যারা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কেবল বিরোধী দল হয়েই সংসদে কথা বলেন না, সরকারের মন্ত্রিসভার আদলে কিছুটা ছোট পরিসরে বিরোধী দলের একটা 'কেবিনেট প্ল্যাটফর্ম' রূপে কাজ করেন।

    উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ ও জামায়াত জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। বাকিগুলোতে জিতেছে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য কিছু দলের প্রার্থীরা।

  • Hillo Milebo Jumot Jaide (হিল্লো মিলেবো জুমত যাইদে)

    চাকমা রাজার সৌজন্যে চাকমা রাজবাড়িতে বিভিন্ন দেশের রাস্ট্রদূত, মং রাজা ও পার্বত্যমন্ত্রীকে নৈশভোজ অনুষ্ঠানে চাকমা মারমা তঞ্চঙ্গ্যা জাতির ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উপকৃরণ পরিবেশন করা হয়।

  • অক্সফোর্ড ইকোনমিকস রাজনীতিতে স্বস্তি ফিরলেও অর্থনীতিতে ঝুঁকি বেড়েছে

    বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে ১৬৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪১তম।

    — চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৫% এবং আগামী বছর ৫.৭% হতে পারে।

    — সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ও ঝুঁকি এখন বাণিজ্যঋণ নিয়ে।

    — মূল্যস্ফীতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এরপর বিএনপি সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরেছে। তবে গত আগস্টের পর থেকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেড়েছে। এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি দশমিক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭ দশমিক ১–এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের গড় ঝুঁকি স্কোর ৫ দশমিক ১। বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে ১৬৪টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪১তম।

    বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ‘রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরলেও রূপান্তরের ঝুঁকি এখনো আছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমালেও আস্থা পুরোপুরি ফিরতে সময় লাগবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

    অক্সফোর্ড ইকোনমিকস পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকি পরিমাপ করে। সেগুলো হচ্ছে—বাজার চাহিদা, বাজার ব্যয়, বিনিময় হার, রাষ্ট্রের ঋণমান ও বাণিজ্যঋণ। ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয় ১ থেকে ১০ স্কেলে; ১০ মানে সর্বোচ্চ ঝুঁকি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বাণিজ্যঋণ–সংক্রান্ত। এ ক্ষেত্রে স্কোর সর্বোচ্চ ১০। বিপুল খেলাপি ঋণ, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে; দুর্বল তদারকি এবং সীমিত ঋণতথ্য পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ব্যাংকগুলো বড় ঋণগ্রহীতা ও সেবা খাতকে বেশি ঋণ দিলেও ঝুঁকি কম থাকা সত্ত্বেও গৃহস্থালি ও আবাসন খাত তুলনামূলক কম ঋণ পায়।

    উচ্চ সুদের হার ও খেলাপি ঋণের চাপে বাজারের ব্যয়ও বেশি—এই সূচকে স্কোর ৮। বাজার চাহিদায় স্কোর ৭, যেখানে আঞ্চলিক গড় ৫ দশমিক ১। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিয়মকানুন–সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিশ্চয়তা এবং প্রবাসী আয়ের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা বাজার চাহিদায় ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

    মুদ্রা বিনিময় হার মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে—স্কোর ৫। ভাসমান বিনিময় হার চালু হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করছে। গত বছরের শুরুতে বড় অবমূল্যায়নের পর টাকা কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। রিজার্ভ ঘুরে দাঁড়ালেও মহামারিপূর্ব অবস্থার নিচে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্মসূচির আওতায় সংস্কার অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে।

    রাষ্ট্রের ঋণমান এখনো উচ্চ ঝুঁকিতে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, কম মাথাপিছু আয়, প্রতিষ্ঠানগত উদ্বেগ ও প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ স্কোরকে নিচের দিকে টানছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের ঋণমানকে প্রভাবিত করতে পারে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলেও কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংস্কার–সংক্রান্ত ঝুঁকি রয়ে গেছে।

    প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস

    ব্যবসা–বাণিজ্যের শ্লথগতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

    ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশ—করোনা মহামারি ছাড়া গত কয়েক দশকের মধ্যে দুর্বলতম। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণ–অভ্যুত্থানে পটপরিবর্তন, বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যা এবং বৈদেশিক চাহিদার মন্দা এতে ভূমিকা রেখেছে।

    মূল্যস্ফীতি এখনো বড় বাধা। সাময়িকভাবে কমার পর আবার বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে (বার্ষিক) উঠেছে, যা অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রিজার্ভ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে মজুরি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ হওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং ভোক্তা চাহিদা সীমিত রয়েছে।

    বাহ্যিক চাপ বাড়ছে

    রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক নতুন চাপের মুখে। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়ালেও চতুর্থ প্রান্তিকে রপ্তানি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ক্রয়াদেশ কমে আসা এবং জার্মানিসহ ইউরোপে চাহিদা হ্রাসের কারণ। মোট পণ্য রপ্তানির এক–পঞ্চমাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। সেবা রপ্তানি কমায় প্রভাব আরও বেড়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলনামূলক কম শুল্ক ও নতুন বাণিজ্যচুক্তি স্বল্প মেয়াদে স্বস্তি দিলেও আগামী নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ মধ্যমেয়াদে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। উত্তরণের পর পণ্য রপ্তানিতে ৯–১২ শতাংশ শুল্ক বসতে পারে, যা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমাবে।

    তবে চলতি বছর দেশে রপ্তানি বাড়তে পারে বলে মনে করছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস। নতুন বাণিজ্যচুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার ফলে ক্রয়াদেশ বাড়তে পারে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নত হওয়া এবং এলডিসি উত্তরণের আগে বাণিজ্য–সুবিধা বহাল থাকাও সহায়ক হতে পারে।

    বৈদেশিক লেনদেন ও বিনিয়োগ

    কঠোর মুদ্রানীতি ও আইএমএফ সহায়তায় রিজার্ভ গত বছরের মাঝামাঝি ২২ বিলিয়ন ডলারে ওঠে, যা ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। তবু বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে মাত্র চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

    সরকারি ব্যয় সংকোচন ও ঋণের উচ্চ খরচে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রাখতে চায়। জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ থাকায় শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা কম।

    অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বলেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর আস্থা পুনর্গঠনে সময় লাগবে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি অনিশ্চয়তার উৎস দূর করলেও সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্যসহায়তা মুদ্রানীতির কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছে।

  • অনলাইনে ক্লাসের কথাও ভাবা হচ্ছে, সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়: শিক্ষামন্ত্রী

    জ্বালানি সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মহানগরীর এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) অনলাইন ও সশরীরে (ব্লেনডিং) ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে বলে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে তারা এটা ভাবছেন। তবে এটা মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হবে এবং সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি।

    ইরানে আমেরিকা–ইসরায়ের হামলার কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে পড়েছে প্রায় পুরো বিশ্ব। সংকটে আছে বাংলাদেশও। জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস এড়িয়ে অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়ে আলোচনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী।

    রোজা-ঈদ মিলিয়ে ৪০ দিনের ছুুটির পর গত রোববার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে।

  • অনুমতি ছাড়া শিক্ষকরা অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

    অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষক অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর-১ আসনের কচুয়া উপজেলায় নিজ নির্বাচনি এলাকায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পেয়েছেন। এহছানুল হক বলেন, শিক্ষকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের পুরো সময় ও মনোযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে দিতে হবে।

    সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে কেউ যদি অন্য পেশায় সম্পৃক্ত হন, তবে তা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে গণমাধ্যম তা প্রকাশ করতে পারে।

    গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে কচুয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নেন এবং স্থানীয় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

     

  • অনূর্ধ্ব–২০ নারী এশিয়ান কাপ ‘আসল পরীক্ষার’ শুরুতেই সামনে থাইল্যান্ড

    ২০ বছর আগে শিলিগুড়িতে ভারতের বিপক্ষে যে দলটার আন্তর্জাতিক ম্যাচে পদার্পণ হয়েছিল, তাদের ‘আসল’ পরীক্ষাটা শুরু হচ্ছে আজ অনূর্ধ্ব–২০ নারী এশিয়ান কাপ দিয়ে। টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম খেলছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। নতুন যাত্রায় বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায়।

    বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী দল এত দিন দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডিতেই বন্দী ছিল, আরেকটু স্পষ্ট করে বললে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। সেখানে অনূর্ধ্ব–১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে রীতিমতো দাপটই দেখিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ছয়বার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিরোপা জিতেছে পাঁচবার। কিন্তু এশিয়ান পর্যায়ের লড়াইটা কতখানি কঠিন, সেটা এত দিনেও টের পায়নি তারা। আজ থেকে এশিয়ান চ্যালেঞ্জটাও নেওয়া শুরু।

    মূল চ্যালেঞ্জের আগে বাছাইয়ে কঠিন পরীক্ষা দিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী দল। গত আগস্টে লাওসে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তিন ম্যাচে দুই জয়ে প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আফঈদা–সাগরিকারা।

    কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ
    কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ, বাফুফে
     

    বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ। কাল থাইল্যান্ডে সংবাদ সম্মেলনে এই ইংলিশ কোচ বলেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে যাদের জন্য এটি প্রথম অভিজ্ঞতা। এখানে আসতে পারাটা তাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। আশা করি, এটি মেয়েদের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামূলক টুর্নামেন্টও হবে। যা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে তারা।’

    প্রতিপক্ষ হিসেবে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে বড় কোনো সাফল্য না থাকলেও ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে দেশটি। এশিয়ান কাপে খেলাটাও প্রায় নিয়মিত। এ নিয়ে অষ্টমবার এ প্রতিযোগিতায় খেলবে থাইল্যান্ড।

    বাংলাদেশ কোচও স্বাগতিকদের নিয়ে সতর্ক। তাদের ফুটবল–দর্শনটাও বোধ হয় পড়ে রেখেছেন বাটলার। ম্যাচের আগে সেটাই মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘থাইল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস সমৃদ্ধ। তারা নারী দলের প্রতি খুবই মনোযোগী। আমাদের সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। আশা করি, ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখতে পাব।’

    বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবল দল
    বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবল দল, বাফুফে
     

    সাম্প্রতিক ফলাফলে চোখ রেখে ইতিবাচক পারফরম্যান্সের আশা করতেই পারেন কোচ। অনূর্ধ্ব–২০ দল নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচে হেরেছে মোটে একটিতে, গত আগস্টে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। অন্যদিকে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে থাইল্যান্ডের হার দুটি।

    এটাও ঠিক, ফুটবলকে সব সময় রেকর্ডসের ছকেও বেঁধে রাখা যায় না। ধারেভারে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও দিন শেষে বাংলাদেশের জেতার সম্ভাবনা থাকবেই। বাটলারও লড়াকু ম্যাচেরই আভাস দিলেন, ‘মেয়েরা বাছাইপর্বে যেমন লড়াই করেছে, আমার বিশ্বাস, এখানেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে।’

    চীন ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচে কাজটা আরও দুরূহ হওয়ার কথা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য যোজন যোজন। চীন অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে দুবারের রানার্সআপ। এশিয়ান কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০০৬ সালে। তাদের সঙ্গে ননতাবুড়ি স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে শনিবার।

    ভিয়েতনাম আসিয়ান অনূর্ধ্ব–১৯ পর্যায়ে চারবার ফাইনাল খেলেছে। এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত ছয়বার অংশ নিয়ে ২০০৪ সালে খেলেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তাদের বিপক্ষে ৭ এপ্রিল গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শেষ হওয়া বড়দের এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপটা হতাশাজনকই কেটেছে তহুরা–ঋতুপর্ণাদের। প্রথমবার অংশ নিয়ে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে মেয়েদের জাতীয় দল। বড়দের সেই হতাশা কি কমাতে পারবেন ছোটরা?

  • অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে জেনে কেঁদে ফেলেন অভিনেত্রী

    নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ ‘ব্রিজারটন’। গত মাসেও সিরিজটির চতুর্থ মৌসুম মুক্তির পর ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। জনপ্রিয়তা পেলেও মাত্রাতিরিক্ত অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্য সমালোচিতও হয়েছে ‘ব্রিজারটন’। এবার সিরিজের এক অভিনেত্রী রুথ গিমেল অন্তরঙ্গ দৃশ্যে নিয়ে তাঁর অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন, যা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক।

    সিরিজটিতে ভায়োলেট ব্রিজারটনের চরিত্রে অভিনয় করা রুথ গিমেল জানিয়েছেন, আসন্ন মৌসুমে একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে—এ তথ্য তিনি জানতে পারেন অপ্রত্যাশিতভাবে, পোশাকের মাপ নেওয়ার সময়। গিমেলের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি তিনি চিত্রনাট্যকার বা প্রযোজকদের কাছ থেকে আগেভাগে জানেননি। বরং কস্টিউম ফিটিংয়ের সময় বুঝতে পারেন, এমন একটি দৃশ্যের জন্য তাঁকে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যার বিষয়ে আগে কোনো ধারণাই ছিল না।

    এ অভিজ্ঞতা গিমেলকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বেশ অবাক হন এবং বাড়ি ফিরে কেঁদেও ফেলেন।
    আসন্ন মৌসুমে ভায়োলেট ব্রিজারটনের জীবনে নতুন এক প্রেমের গল্প দেখা যাবে। তাঁর বিপরীতে থাকবেন লর্ড মার্কাস অ্যান্ডারসন চরিত্রে অভিনয় করা ড্যানিয়েল ফ্রান্সিস। গল্প অনুযায়ী, স্বামী এডমন্ডের মৃত্যুর পর এই প্রথম নতুন সম্পর্কে জড়াচ্ছেন ভায়োলেট, যেখানে একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যও রয়েছে।

    ‘ব্রিজারটন’–এ সহশিল্পীর সঙ্গে রুথ গিমেল। আইএমডিবি
    ‘ব্রিজারটন’–এ সহশিল্পীর সঙ্গে রুথ গিমেল। আইএমডিবি

    এর আগেও গিমেল স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, তিনি এমন দৃশ্যে অভিনয়ে খুব আগ্রহী নন। তাই হঠাৎ এভাবে জানতে পারায় তিনি মানসিকভাবে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন।
    এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বলছেন, অন্তরঙ্গ দৃশ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয় আগে থেকেই অভিনেতাদের জানানো উচিত। সমালোচকদের মতে, এমন দৃশ্যের জন্য শুধু শারীরিক নয়, মানসিক প্রস্তুতিও জরুরি। তাই প্রযোজনা দলের উচিত ছিল বিষয়টি আরও সংবেদনশীলভাবে সামলানো।

    ‘ব্রিজারটরন’ বরাবরই সাহসী অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্য পরিচিত। কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের দৃশ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে শিল্পীদের প্রতি যথেষ্ট সম্মান ও স্বচ্ছতা দেখানো হচ্ছে কি না। সব মিলিয়ে, নতুন মৌসুম শুরুর আগেই সিরিজটি আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার গল্পের জন্য নয়; বরং পর্দার পেছনের এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কারণে। তবে এ বিষয়ে নেটফ্লিক্স বা নির্মাতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ই! নিউজ অবলম্বনে

    ‘ব্রিজারটন’–এ রুথ গিমেল। আইএমডিবি
    ‘ব্রিজারটন’–এ রুথ গিমেল। আইএমডিবি
  • অন্তরঙ্গ দৃশ্যে নিয়ন্ত্রণ হারান নায়ক! দুই দিন ঘর থেকে বের হননি নায়িকা

    পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে সব সময়ই আলোচনা থাকে। অনেক অভিনয়শিল্পী এ ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না, কেউ আবার চরিত্রের প্রয়োজনে আপত্তি করেন না। ইদানীং ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটরের মাধ্যমে করা হলেও একসময় এসবের চল ছিল না। তখন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে ঘটত নানা ঘটনা। সম্প্রতি তেমনই একটি ঘটনার কথা ফাঁস করেছেন অভিনেতা আন্নু কাপুর।

    ঘটনা বহু বছর আগের। অভিনেতার দাবি, অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন নায়ক। ইউটিউবের একটি শোয়ে এসে অতীতের এক অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, ‘আমি দেখেছি, অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করার সময় নায়ক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। এতটাই যে পরিচালক কাট বলার পরও থামছিলেন না।

    কোনো উপায় না দেখে নায়িকা নিজেই কোনোক্রমে সেই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে মুক্ত করেন। সেই ঘটনায় নায়িকা বেশ ভয় পেয়ে যান। মন একদম চুরমার হয়ে গিয়েছিল, দুই দিন ঘর থেকে বের হননি।’

    তবে কোন সিনেমার শুটিংয়ে এ ঘটনা ঘটেছিল বা অভিনয়শিল্পী কারা ছিলেন, সেটা জানাননি অভিনেতা।

    ‘সাত খুন মাফ’ সিনেমায় অভিনয় করেন আন্নু কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কোলাজ
    ‘সাত খুন মাফ’ সিনেমায় অভিনয় করেন আন্নু কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কোলাজ

    সে ঘটনা প্রসঙ্গে আন্নু কাপুর আরও বলেন, ‘আমি প্রকাশ্যে নাম বলতে পারব না। তবে ওই অভিনেত্রী এই সাক্ষাৎকার দেখলে আমার বক্তব্যকে সমর্থন করবেন।’
    ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতা আছে আন্নু কাপুরেরও। সেটা ২০১১ সালে, ‘সাত খুন মাফ’ সিনেমার। চিত্রনাট্য অনুযায়ী একটি চুম্বনদৃশ্যে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও আন্নু কাপুরের অভিনয়ের কথা ছিল। কিন্তু ‘দেশি গার্ল’-এর সম্মতি ছিল না।

    সে প্রসঙ্গে আন্নু বলেন, ‘বিশাল (সিনেমার পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ) বলেছিলেন, দৃশ্যটি গল্পের জন্য জরুরি, তাই বাদ দেওয়া যাবে না। পরে টিমের তরফে জানানো হয়, তিনি (প্রিয়াঙ্কা) স্বচ্ছন্দ নন। আমার কোনো সমস্যা ছিল না কিন্তু কীভাবে যে খবরটা ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটা আজও জানি না। পেশাদার অভিনেতা হিসেবে আমি সব সময় এ ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করি। যদি কোনো অভিনেত্রী নার্ভাস থাকেন, আমি শুধু জিজ্ঞেস করি তিনি ঠিক আছেন কি না। এর বেশি কিছু জিজ্ঞেস করি না। কারণ, তাতে তিনি আরও অস্বস্তিতে পড়তে পারেন।’

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • অন্তরঙ্গ দৃশ্যে যেভাবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এই অভিনেত্রী

    হলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটর’, যাঁরা অভিনয়শিল্পীদের নিরাপত্তা, সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করেন। কিন্তু এই নতুন ব্যবস্থার মধ্যেও সবাই যে সমানভাবে স্বচ্ছন্দ, তা নয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ তারকা রেবেকা ফার্গুসন জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এমন কো–অর্ডিনেটর ছাড়াই কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

    ‘সহায়ক’ না ‘বাধা’—দ্বিধায় অভিনেতারা
    ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটররা এখন প্রায় সব বড় প্রযোজনাতেই নিয়মিত উপস্থিত। অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন স্ক্রিন অ্যাক্টারস গিল্ডের মতে, তাঁদের কাজ হলো—অভিনেতা ও প্রযোজনা দলের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংবেদনশীল দৃশ্যগুলো পেশাদারভাবে পরিচালনা করা। তবে বিষয়টি নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। কেউ এটিকে নিরাপত্তার জন্য জরুরি মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি অভিনয়ের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।

    রেবেকা ফার্গুসনের আপত্তি কোথায়?
    রেবেকা ফার্গুসন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটরের উপস্থিতি তাঁর কাছে ‘খুবই অস্বস্তিকর’ মনে হয়। তাঁর মতে, তিনি নিজের সীমারেখা স্পষ্টভাবে জানাতে সক্ষম—তাই আলাদা কাউকে দরকার পড়ে না।
    তিনি বলেন, শুটিংয়ের আগে সহ-অভিনেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়গুলো ঠিক করে নেওয়া সম্ভব। তাঁর ভাষায়, ‘আমি নিজেই বলতে পারি আমার কী দরকার, অন্য কেউ সেটা বলে দেবে, এটা সব সময় স্বাভাবিক লাগে না।’

    রেবেকা ফার্গুসন। রয়টার্স
    রেবেকা ফার্গুসন। রয়টার্স

    ‘সবাই একরকম নয়’
    তবে ফার্গুসন এটাও স্বীকার করেছেন—এই ব্যবস্থা অনেকের জন্য দরকারি এবং উপকারী। বিশেষ করে নতুন অভিনেতা বা জটিল দৃশ্যের ক্ষেত্রে এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। অন্য অনেক তারকাও এই বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন। কিছুদিন আগে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স বলেছেন, নির্ভরযোগ্য সহ-অভিনেতা থাকলে কো–অর্ডিনেটর ছাড়াও কাজ করা যায়। অন্যদিকে ব্রিটিশ তারকা ফ্লোরেন্স পিউ জানিয়েছেন, তিনি ভালো ও খারাপ—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই পেয়েছেন। এ ছাড়া গিনেথ প্যালট্রো মন্তব্য করেছেন, একবার শুটিংয়ের সময় কো–অর্ডিনেটরকে ‘একটু দূরে থাকতে’ বলেছিলেন। অর্থাৎ এটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়।

    ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এর অভিজ্ঞতা
    সম্প্রতি আলোচিত সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এর চলচ্চিত্র সংস্করণ ‘দ্য ইমমোরটাল ম্যান’-এ কাজ করতে গিয়ে রেবেকা ফার্গুসনকে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছে কিলিয়ান মার্ফির সঙ্গে। মজার বিষয় হলো, শুটিংয়ের আগে তিনি নিজেই সহ-অভিনেতার সঙ্গে আলোচনা করে নেন কীভাবে দৃশ্যটি করা হবে। এমনকি তিনি মজা করে জানান, তিনি আগে থেকেই মারফির পুরোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো ‘স্টাডি’ করেছিলেন!

    ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটর: কেন গুরুত্বপূর্ণ
    বিতর্ক থাকলেও, ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটরদের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মিটু আন্দোলনের পর এই পেশার গুরুত্ব বেড়েছে। তাঁদের কাজ—অভিনেতাদের সম্মতি নিশ্চিত করা, দৃশ্যের আগে পরিষ্কার সীমারেখা নির্ধারণ, শুটিং চলাকালে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি, প্রয়োজনে দৃশ্যের কোরিওগ্রাফি করা।
    এই বিতর্ক আসলে বড় একটি প্রশ্ন সামনে আনে—অভিনয়ের স্বাভাবিকতা নাকি

    ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এ রেবেকা। আইএমডিবি
    ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এ রেবেকা। আইএমডিবি

    নিরাপত্তা, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
    রেবেকার মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রীরা মনে করেন, অতিরিক্ত উপস্থিতি কখনো কখনো অভিনয়ের আবেগ নষ্ট করে। অন্যদিকে অনেকেই মনে করেন, এই উপস্থিতিই শিল্পীদের নিরাপদ রাখে।

    পেজ সিক্স অবলম্বনে

  • অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে বিব্রত নন, শুনতে হয় উচ্চতা নিয়ে কথা

    আজ জন্মদিন উদ্‌যাপন করছেন হলিউডের প্রতিভাবান অভিনেত্রী ম্যাকেঞ্জি ডেভিস। স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী আর শক্তিশালী চরিত্র নির্বাচনের মাধ্যমে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা—সবখানেই তিনি নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। জন্মদিনে ছবিতে দেখে নিতে পারেন জানা–অজানা কথাগুলো।
    হঠাৎ করেই তিনি অভিনয়ে নাম লিখিয়েছিলেন। পরে অভিনয় ভালো লাগলে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১১ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হয়।
    হঠাৎ করেই তিনি অভিনয়ে নাম লিখিয়েছিলেন। পরে অভিনয় ভালো লাগলে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১১ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হয়।ছবি: আইএমডিবি
    তাঁর পছন্দ অ্যাকশন সিনেমায় অভিনয় করা। তবে ট্রাইবেকা চলচ্চিত্র উৎসব থেকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে জুরি পুরস্কার পেয়ে আর্ট ফিল্মের প্রতি আলাদা নজর দেন। অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের।
    তাঁর পছন্দ অ্যাকশন সিনেমায় অভিনয় করা। তবে ট্রাইবেকা চলচ্চিত্র উৎসব থেকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে জুরি পুরস্কার পেয়ে আর্ট ফিল্মের প্রতি আলাদা নজর দেন। অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের।ছবি: আইএমডিবি
    শৈশবে বেশির ভাগ সময় গেমস আসক্তিতে কাটত। সেই স্মৃতিস্মরণা করে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি ডস গেমস আর সুপার নিনটেন্ডো গেম খুবই পছন্দ করতাম। কিন্তু আমার স্বভাবটা বেশ আসক্তিপ্রবণ—এখন বুঝি, ওই ধরনের জিনিসে একবার জড়িয়ে পড়লে আমি আর থামতে পারব না। তাই এখন আর আমি কোনো গেমই খেলি না।’
    শৈশবে বেশির ভাগ সময় গেমস আসক্তিতে কাটত। সেই স্মৃতিস্মরণা করে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি ডস গেমস আর সুপার নিনটেন্ডো গেম খুবই পছন্দ করতাম। কিন্তু আমার স্বভাবটা বেশ আসক্তিপ্রবণ—এখন বুঝি, ওই ধরনের জিনিসে একবার জড়িয়ে পড়লে আমি আর থামতে পারব না। তাই এখন আর আমি কোনো গেমই খেলি না।’ছবি: আইএমডিবি
    ১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া এ অভিনেত্রীকে সবচেয়ে বেশি শুনতে হয় উচ্চতা নিয়ে কথা। তাঁর উচ্চতা ৫ ফুট সাড়ে ১০ ইঞ্চি।
    ১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া এ অভিনেত্রীকে সবচেয়ে বেশি শুনতে হয় উচ্চতা নিয়ে কথা। তাঁর উচ্চতা ৫ ফুট সাড়ে ১০ ইঞ্চি।ছবি: আইএমডিবি
    যৌন বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে কখনোই তিনি বিব্রত হন না। এই নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময়ই অবাক হই, যখন অভিনেতারা বলেন, তাঁরা যৌন দৃশ্য পছন্দ করেন না। আমার কাছে এটা যেন একধরনের বাড়তি সুবিধা—কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার দৃশ্য করা তো মজারই। তাই হ্যাঁ, এ বিষয়ে আমি পুরোপুরি ইতিবাচক।’
    যৌন বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে কখনোই তিনি বিব্রত হন না। এই নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময়ই অবাক হই, যখন অভিনেতারা বলেন, তাঁরা যৌন দৃশ্য পছন্দ করেন না। আমার কাছে এটা যেন একধরনের বাড়তি সুবিধা—কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার দৃশ্য করা তো মজারই। তাই হ্যাঁ, এ বিষয়ে আমি পুরোপুরি ইতিবাচক।’ছবি: আইএমডিবি
  • অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

    বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

    আজ রোববার রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আশিক চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানান, আজ রোববার ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ওই চিঠি এসেছে। চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইজারা চুক্তি নিয়ে চলমান দর–কষাকষির (নেগোসিয়েশন) অগ্রগতির প্রশংসা করেছে এবং এটা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এই নেগোসিয়েশন ভবিষ্যতে আরও এগোবে এবং সঠিক দিকেই যাবে। নেগোসিয়েশনের অগ্রগতি প্রশংসার পাশাপাশি ডিপি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শেয়ার করা খসড়া কনসেশন চুক্তি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তবে তারা এটি আরও পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে।

    আশিক চৌধুরী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ রয়েছে আর দুই কার্যদিবস। যেহেতু তারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) সময় চেয়েছে, সে কারণে বিষয়টি বর্তমান সরকারের আমল পেরিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গিয়ে নেগোসিয়েশনটি আবারও কন্টিনিউ হতে পারে।’

    এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকারের সময়ে চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না, আমার মনে হয়, এটা নিশ্চয়তার মাত্রা বিবেচনায় বলা যায়। কারণ আর দুই কার্যদিবস আছে। এর মধ্যে ওনারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) ফেরত আসবে, তারপর আমরা আমাদের ক্যাবিনেটে নিয়ে এটাকে অনুমোদন করিয়ে স্বাক্ষর করব, সময়ের বিবেচনায় এই প্রক্রিয়াটা খুব কঠিন হবে।’

    আশিক চৌধুরী জানান, নিউমুরিং টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া নিয়ে ২০১৯ সালে কাজ শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে প্রকল্পটির চূড়ান্ত ধাপের দর–কষাকষি শুরু হয়েছিল।

    আশিক চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে এবং এ আলোচনা ও দর–কষাকষি প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। তবে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে।’

  • অপরাজিত থেকেই সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা

    চ্যাম্পিয়ন হলে অপরাজিতই হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বের পর সুপার এইটেও তাদের হারাতে পারেনি কোনো দল।

    এই পর্বের শেষ ম্যাচে আজ দিল্লিতে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে তাদের সামনে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই রান ১৩ বল হাতে রেখে ছুঁয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

    সিকান্দার রাজা ছাড়া আর কারও ব্যাটই সেভাবে ভরসা জোগাতে পারেনি। রাজা আউট হয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল দেড় শও হয়তো করতে পারবে না জিম্বাবুয়ে। তবে ক্লাইভ মাদান্দের ২০ বলে করা ২৬ রানের ইনিংসে তা করেছে জিম্বাবুয়ে।

    পরে আর কাজটা কঠিন হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। ২৪ বলে ক্রিস্টিয়ান স্টাবস ২১ ও জর্জ লিন্ডা ২১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

    এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হয়েছে জিম্বাবুয়ের এবারের বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলে সুপার এইটে এলেও কোনো ম্যাচ না জিতেই তারা বিদায় নিচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল আগেই, শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।

  • অপ্রাপ্তাবয়স্ক নায়িকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য, বিতর্কে টিভি সিরিয়াল

    ভারতের টেলিভিশন দুনিয়ায় আবার বিতর্ক। দঙ্গল টিভির জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘রিমঝিম-ছোটি উমর বড়া সফর’ এখন নেটিজেনদের কাঠগড়ায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী অভিনেত্রীকে দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতার সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’ দৃশ্য শুট করানোর অভিযোগে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

    টিভি শো ‘রিমঝিম’–এর একটি পর্ব নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। দঙ্গল টেলিভিশনের এই মেগা সিরিয়াল বেশ চর্চিত। নায়ক-নায়িকার রসায়ন বরাবরই পছন্দ করেন দর্শক। সিরিয়ালটির মূল বিষয়বস্তু এক কিশোরী ও এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রেম। এতে ১৬ বছর বয়সী যশিকা শর্মা কিশোরী ‘রিমঝিম’-এর চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং তাঁর বিপরীতে রয়েছেন ২৪ বছর বয়সী অভিনেতা হিমাংশু অবস্থি।

    টিভিতে দেখানো হয়েছে, দুজনের একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য। অনেক দর্শকের প্রধান আপত্তির জায়গাগুলো হলো, কীভাবে ১৫-১৬ বছরের একটি মেয়েকে এ ধরনের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করানো হচ্ছে এবং কেন এটি আইনিভাবে বৈধ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। দর্শকদের দাবি, যদি চরিত্রের প্রয়োজনে এ ধরনের দৃশ্যের দরকার হয়, তবে কেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী কোনো অভিনেত্রীকে নেওয়া হলো না?

    ‘রিমঝিম-ছোটি উমর বড়া সফর’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘রিমঝিম-ছোটি উমর বড়া সফর’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই যশিকার মা-বাবা ও অভিভাবকদের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। কেন তাঁরা ১৬ বছরের মেয়েকে এমন দৃশ্যে অভিনয়ের অনুমতি দিলেন, তা নিয়েও ক্ষুব্ধ অনেকে। অনেকে রিম শেখ এবং সেহবান আজিমের উদাহরণ টেনে এনে বলেছেন যে ভারতীয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে নাবালিকা নায়িকাদের এভাবে ব্যবহার করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    অনেকে ইয়াশিকার বাবা-মা বা অভিভাবকদের পদক্ষেপ নিতে এবং এই সিরিয়াল বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিনেতা, প্রযোজনা সংস্থা বা চ্যানেলটি এখন পর্যন্ত পর্বটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • অবশেষ গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন জভেরেভ

    অবশেষে এল প্রতীক্ষিত সেই মহেন্দ্রক্ষণ। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন আলেকসান্দার জভেরেভ। আজ ফ্রেঞ্চ ওপেনের পুরুষ এককের ফাইনালে ইতালির ফ্লাভিও কোবোল্লিকে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এই জার্মান তারকা। ৪১ বারের চেষ্টায় ২৯ বছর বয়সে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেন জভেরেভ।

    কোর্ট ফিলিপ শাতরিঁয়েতে ৪ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের এক ম্যারাথন লড়াই দেখল টেনিস বিশ্ব। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই জভেরেভ শেষ পর্যন্ত ৬-১, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৭ (৫/৭), ৬-১ গেমে জিতেছেন। ।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ  জার্মানদের ৩০ বছরের খরা কাটালেন জভেরেভ। ১৯৯৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে কিংবদন্তি বরিস বেকারের পর প্রথম জার্মান পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে কোনো গ্র্যান্ড স্লাম জেতার কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে তিনবার গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠে রানারআপের ট্রফি নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছিল জভেরেভকে।

    অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের ১০ম বাছাই কোবোল্লির সামনে সুযোগ ছিল দীর্ঘ ৫০ বছর পর প্রথম ইতালীয় পুরুষ হিসেবে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের ইতিহাস গড়ার। ২৪ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান এর আগে কখনো কোনো গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালেই খেলেননি, ফাইনাল তো বহুদূরের কথা! সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ মাত্তেও আরনাল্দির অসুস্থতার কারণে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সরাসরি ফাইনালে পা রাখেন তিনি।

    প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন আলেকসান্দার জভেরেভ
    প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন আলেকসান্দার জভেরেভ, এএফপি
     

    ম্যাচের দুই খেলোয়াড়কেই স্নায়ুচাপে ভুগতে দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রথম সেটে একের পর এক ভুল করে বসেন কোবোলি। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী সেটে শেষ পর্যন্ত জভেরেভের অভিজ্ঞতাই ব্যবধান গড়ে দেয়।

    বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজের চোটজনিত অনুপস্থিতি এবং ইয়ানিক সিনার ও নোভাক জোকোভিচের বিদায়ের পর ২৯ বছর বয়সী জভেরেভের সামনে গ্র্যান্ড স্লামের খরা কাটানোর এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হহয়। সেই সুযোগ শেষ পর্যন্ত লুফে নিলেন জভেরেভ। আজ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অবশ্য সব সময় বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের তিনে থাকা এই জার্মান তারকার হাতে ছিল না। পুরো ম্যাচে ৫৪টি 'আনফোর্সড এরর' করেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতে ঘুচিয়েছেন 'গ্র্যান্ড স্লাম না জেতা অন্যতম সেরা খেলোয়াড়'-এর অপবাদ।

    জভেরেভকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন কোবোল্লি
    জভেরেভকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন কোবোল্লি, এএফপি

    এর আগে তিনটি ফাইনাল হারের পাশাপাশি ছয়টি কোয়ার্টার ফাইনাল ও সাতটি সেমিফাইনাল থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল জভেরেভকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ছিল ২০২০ সালের ইউএস ওপেনের সেই ফাইনাল। সেবার ডমিনিক থিমের বিপক্ষে প্রথম দুই সেটে এগিয়ে থেকেও এবং চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য সার্ভিস করার সুযোগ পেয়েও শিরোপা হাতছাড়া করেছিলেন জভেরেভ।

  • অবশেষে মেয়েদের বিপিএলের ঘোষণা বিসিবির

    নারী ক্রিকেটারদের দাবিটা ছিল অনেক দিনের। বিসিবিও বেশ কয়েকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মেয়েদের বিপিএল আয়োজনের, কিন্তু পরে সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। অবশেষে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউবিপিএল) আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি।

    এটিই হবে বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটারদের জন্য প্রথম কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট। বিস্তারিত সূচি না দিলেও বিসিবি জানিয়েছে, তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে আগামী ৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত হবে ডব্লিউবিপিএলের ম্যাচগুলো। প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে স্থানীয় ক্রিকেটারদের নেবে দলগুলো।

    মেয়েদের বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান করা হয়েছে নারী উইংয়ের প্রধান রুবাবা দৌলাকে। বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে এই টুর্নামেন্ট সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। আজ প্রথম আলোকে রুবাবা দৌলা বলেছেন, ‘আমরা তিনটি দল নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট করব। মেয়েদের ক্রিকেটে এটা খুব ভালো সুযোগ হবে। দলগুলো চাইলে বিদেশি ক্রিকেটারদেরও আনতে পারবে।’

    বিদেশি ক্রিকেটার কতজন নেওয়া যাবে, ফ্র্যাঞ্চাইজি কীভাবে বাছাই করা হবে—এসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নারী ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে এ নিয়ে সমস্যা হবে না বলে বিশ্বাস রুবাবার, ‘বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা খুব ভালো খেলছে। আশা করছি স্পনসরস ও দলের মালিক পেতে অসুবিধা হবে না। আমি সেটা নিশ্চিত করব। আমরা ওই ধরনের মালিকদের চাইব, যাঁরা অন্তত কয়েক বছর দলের সঙ্গে থেকে নারী ক্রিকেট উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।’

    দেরিতে হলেও মেয়েদের বিপিএল আয়োজনের দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে কথা হচ্ছিল মেয়েদের বিপিএল হবে। গত বছর তো হতে হতে হয়নি। এবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে শুনে অনেক বেশি ভালো লাগছে।’

    নারী ক্রিকেটের প্রধান রুবাবা দৌলার সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ নারী ক্রিকেট দল
    নারী ক্রিকেটের প্রধান রুবাবা দৌলার সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ নারী ক্রিকেট দল

    আগামী জুনে ইংল্যান্ডে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টে যাওয়ার ঠিক আগে নারী বিপিএল ক্রিকেটারদের সাহায্য করবে বলেই বিশ্বাস তাঁর, ‘বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আপনি যখন একটা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট খেলবেন, প্রস্তুতির দিকে থেকে সেটা অনেক সাহায্য করবে। বিভিন্ন দেশের তিন-চারজন করে খেলোয়াড় বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলবে। ওদের স্কিল অনেক ভালো থাকে, টুর্নামেন্টটা তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। আমাদের মেয়েদের জন্য খুব ভালো একটা সুযোগ হবে এই টুর্নামেন্ট খেলা।’

  • অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল থেকে শামস সুমনের মৃত্যুর খবরটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে অভিনেতা সুজাত শিমুল। শামস সুমন রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান এবং চ্যানেল আই এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক ছিলেন।

    হাসপাতাল থেকে অভিনেতা সুজাত শিমুল জানান, আজ বিকেল পাঁচটা পর এই অভিনেতা হঠাৎই অসুস্থতাবোধ করেন। তিনি পরে অসুস্থতার কথা জানান আরেক অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে। শাহাদৎ দ্রত তাঁকে ঢাকার গ্রিন রোড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি মারা যান।

    নাটকের দৃশ্যে শামস সুমন
    নাটকের দৃশ্যে শামস সুমন, ফেসবুক থেকে
     

    সুজাত শিমুল বলেন, ‘আমরা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, মূলত কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে শামস সুমনের মৃত্যু হয়েছে।’

    অভিনেতা শামস সুমন
    অভিনেতা শামস সুমন, ফাইল ছবি
     

    শামস সুমন অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হলো ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, (২০১৬) ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’, ‘চোখের দেখা’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘জয়যাত্রা’, ‘নমুনা’, ‘হ্যালো অমিত’।

    ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

  • অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত, অস্ত্রোপচার চলছে

    ‘আমাদের সবার প্রিয় তানিয়া বৃষ্টি বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। এ মুহূর্তে তাঁর সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও চিকিৎসা প্রয়োজন। অনুরোধ করছি শুটিং বা কাজ–সংক্রান্ত বিষয়ে আপাতত ফোনকল/খুদে বার্তা দিয়ে বিরক্ত না করার জন্য। সুস্থ হয়ে উঠলে ইনশা আল্লাহ নিজে থেকেই সবাইকে জানানো হবে।’

    তানিয়া বৃষ্টি
    তানিয়া বৃষ্টি, ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
     

    মডেল ও অভিনয়শিল্পী তানিয়া বৃষ্টির ফেসবুক থেকে এভাবেই তাঁর অসুস্থতার খবর জানিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। এরপর গতকাল শনিবার আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল। ভালোবাসি। কাল আমার মাথায় অস্ত্রোপচার, দোয়া করবেন সবাই। ব্রেন টিউমার।’

    তানিয়া বৃষ্টির ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার খবরে তাঁর সহকর্মীরা দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। আজ রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে কথা হয় পরিচালক সকাল আহমেদের সঙ্গে।

    তানিয়া বৃষ্টি
    তানিয়া বৃষ্টিছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

    প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে সকাল আহমেদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করছিলেন তানিয়া। কখনো তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করতেন, কখনোবা জ্বর-ঠান্ডা লেগে থাকত তাঁর। কিন্তু খুব একটা পাত্তা দেননি। কয়েক দিন আগে পরিস্থিতি একটু খারাপ হলে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, তানিয়া ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত।

    তানিয়া বৃষ্টি
    তানিয়া বৃষ্টি, ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
     

    ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতাল থেকে পরে তানিয়া বৃষ্টিকে আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় বলে জানান সকাল আহমেদ। আজ বিকেল চারটায় তাঁর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়। সন্ধ্যা সাতটায় কথা হলে সকাল আহমেদ বলেন, ‘খবর নিয়ে জেনেছি, অস্ত্রোপচার চলছে। মস্তিষ্কের বিষয় তো, তাই কিছুটা চিন্তার বিষয়। অস্ত্রোপচার ঠিকঠাক হলে আজ রাতটা পোস্ট অপারেটিভে রাখা হবে। আগামীকাল সোমবার যেকোনো সময় তাঁকে কেবিনে নেওয়া হতে পারে।’

  • অভিনেত্রী নিশিকে কতটা চেনেন

    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রুবেল আনুশের ‘রূপ’ নাটক দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন ইন্দ্রাণী নিশি। এরপর সাত মাসের ক্যারিয়ারে সাতটির মতো নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। তিনটি মুক্তি পেয়েছে, মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে চারটি।

    [caption id="attachment_269342" align="alignnone" width="836"] ইন্দ্রাণী নিশি[/caption]

    রোমান্টিক নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পেলেও ঈদে নিশিকে রাজনৈতিক গল্পের একটি নাটকে দেখা যাবে। প্রতিবাদ নামে নাটকটি নির্মাণ করেছেন নির্মাতা জারসন বম। নাটকে তাঁকে রাজনীতি–সচেতন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর চরিত্রে দেখা যাবে।

    ‘রূপ’ নাটক দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন ইন্দ্রাণী নিশি
    ‘রূপ’ নাটক দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন ইন্দ্রাণী নিশিশিল্পীর সৌজন্যে

    তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন প্রান্তর দস্তিদার। প্রতিবাদ ছাড়াও রহিম সুমনের এলোমেলো বাতাস ও পাভেল ইসলামের হারিয়ে পাওয়া নাটকে কাজ করেছেন নিশি। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এলোমেলো বাতাস–এ নিশির বিপরীতে আছেন প্রথম নাটকের সহশিল্পী সাদ সালমি নাওভী। আজ এনটিভিতে প্রচারিত হতে যাওয়া হারিয়ে পাওয়াতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন প্রান্তর দস্তিদার।

    ইন্দ্রাণী নিশি
    ইন্দ্রাণী নিশিশিল্পীর সৌজন্যে

    নাম চূড়ান্ত না হওয়া আরেকটি নাটকের শুটিংও শেষ করেছেন নিশি। এতে শরাফ আহমেদ জীবনসহ অনেকে অভিনয় করেছেন।

    সাত নাটকের মধ্যে নাওভী ও প্রান্তর দস্তিদারের সঙ্গে জুটি গড়েছেন নিশি। ‘ওদের সঙ্গেই বেশি কাজ হয়েছে। দুজনে দারুণ মানুষ পরিচালকরাও আমাদের নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে,’ বলেন নিশি।

    ইন্দ্রাণী নিশি
    ইন্দ্রাণী নিশিশিল্পীর সৌজন্যে
    মডেলিং থেকে অভিনয়ে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে পড়াশোনা করেছেন নিশি। ২০১৯ সালে স্নাতকে তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিং দিয়ে অভিষেক। বিজ্ঞাপনচিত্রটি নির্মাণ করেন আশফাকুজ্জামান বিপুল।

    জীবনের প্রথম শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নিশি বলেন, ‘সেবারই প্রথম এফডিসিতে গিয়েছিলাম।’ পরে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে তাঁকে দেখা গেছে। ২০২০ সালে আরটিভির রিয়েলিটি শো ‘ক্যাম্পাস স্টার’–এ চ্যাম্পিয়ন হন নিশি। এরপর আরটিভিতে ‘তারকালাপ’ দিয়ে উপস্থাপনায় অভিষেক।

    ২০২০ সালে আরটিভির রিয়েলিটি শো ‘ক্যাম্পাস স্টার’–এ চ্যাম্পিয়ন হন নিশি
    ২০২০ সালে আরটিভির রিয়েলিটি শো ‘ক্যাম্পাস স্টার’–এ চ্যাম্পিয়ন হন নিশি, শিল্পীর সৌজন্যে

    বছর দুয়েক পর মাছরাঙা টেলিভিশনে উপস্থাপনা শুরু করেন। ‘বিনোদন সারাদিন’ ও ‘রূপকথা’ নামে দুটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন।  ‘বিনোদন সারাদিন’–এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন নির্মাতা রুবেল আনুশ। সেই পরিচয়ের সূত্রেই পরে রুবেল আনুশের রূপ নাটক দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক।

    প্রথমবার অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইন্দ্রাণী নিশি বলেন, ‘পর্দায় অভিনয় পুরোটাই আলাদা। খুব নার্ভাস ছিলাম; কীভাবে কী করব, বুঝতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত কাজটা করেছি।’

     ইন্দ্রাণী নিশি
    ইন্দ্রাণী নিশিশিল্পীর সৌজন্যে
     

    রূপ নাটকটি পুরো পরিবার নিয়ে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে নিশি বলেন, ‘এক্সপ্রেশন (অভিব্যক্তি) ঠিকমতো হলো কি না, দর্শক কীভাবে নিচ্ছেন—সবকিছু মিলিয়ে বেশ নার্ভাস ছিলাম। আমার শেখার ঘাটতি ছিল। তবে ভালো সাড়া পেয়েছি। এখনো শিখছি। ভালো ভালো কাজ করতে চাই।’

    নিশির জন্ম নড়াইলে
    নিশির জন্ম নড়াইলেশিল্পীর সৌজন্যে

    আগে থেকেই নিশির অভিনয়ে আসার স্বপ্ন, সে কারণেই থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হন। থিয়েটারও করেছেন। সিনেমা নিয়েও আগ্রহী নিশি, ‘বেশ কিছু কাজের জন্য অডিশন দিয়েছি। স্বাধীন চলচ্চিত্র ও কমার্শিয়াল সিনেমা নিয়ে আগ্রহী।’

    নিশির জন্ম নড়াইলে হলেও বাবার চাকরি সূত্রে রংপুর ও যশোরে বেড়ে ওঠা।

  • অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি উদ্ধার, মামলা ১২৪৪

    জ্বালানির কোনো সংকট নেই দাবি করে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, আজ পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন ডিজেল, ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন এবং ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রোল মজুদ আছে। এছাড়াও জেট ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। বিভিন্ন অভিযানে এখন পর্যন্ত জ্বালানি উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন। পাশাপাশি ১২শ' ৪৪টি  মামলা হয়েছে এবং কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে ৪৪ জনকে।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ দুপুরে সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    গত বছর ডিপোগুলোতে যে পরিমাণ জ্বালানি দেয়া হয়েছিল, এ বছরও সেই পরিমাণ দেয়া হচ্ছে বলে এ সময় উল্লেখ করেন মনির হোসেন চৌধুরী। তার মতে, মজুদ করে রাখার জন্যই কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। ডিপো থেকে জ্বালানি না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে নির্দিষ্ট যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের। তবে, এ কার্ড বিতরণ জটিল হওয়ায় অল্প সময়ে সব গাড়িকে দেয়া সম্ভব নয়।

     

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব