আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) জানিয়েছে, এখন থেকে শুধু জন্মগতভাবে নারী ক্রীড়াবিদেরাই অলিম্পিক গেমসের মেয়েদের ইভেন্টগুলোতে অংশ নিতে পারবেন। জন্মগতভাবে নারী কি না, তা পরীক্ষা করা হবে জিন-স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে।
আইওসির এই নিয়মের ফলে এখন থেকে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের তাঁদের পরিবর্তিত পরিচয়ে বিবেচনা করা হবে না। সবাইকে জন্মগত লিঙ্গ অনুসারে দেখা হবে। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিযোগিতায় এ নিয়ম কার্যকর থাকবে।
আইওসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আইওসি বিবেচনা করে যে এসআরওয়াই জিনের উপস্থিতি সারা জীবনের জন্য অপরিবর্তিত থাকে এবং এটি একজন ক্রীড়াবিদের পুরুষ যৌন বিকাশ অনুভব করার একটি অত্যন্ত নির্ভুল প্রমাণ।’ আইওসি দীর্ঘদিন ধরে অলিম্পিকে ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো সর্বজনীন নিয়ম প্রয়োগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। ২০২১ সালে সংস্থাটি বিভিন্ন খেলার আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোকে তাদের নিজস্ব নির্দেশিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী চলার নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আইওসির নতুন প্রেসিডেন্ট কির্স্টি কভেন্ট্রি ভিন্ন অবস্থান নেন। তিনি জানান, একটি অভিন্ন পদ্ধতিই সব খেলায় প্রয়োগ করা হবে। আজ আইওসির বিবৃতিতে কভেন্ট্রি বলেন, ‘অলিম্পিক গেমসে সামান্যতম ব্যবধানও জয় এবং পরাজয়ের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তাই এটি একেবারে পরিষ্কার যে জন্মগত পুরুষদের নারী ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ন্যায্য হবে না। এ ছাড়া কিছু খেলাধুলার ক্ষেত্রে এটি মোটেও নিরাপদ হবে না।’
অবশ্য আগের কোনো ঘটনা এবং তৃণমূল বা অপেশাদার খেলাধুলার ওপর আইওসির নতুন নীতিমালার কোনো প্রভাব থাকবে না। আইওসি জানিয়েছে, লিঙ্গ বিকাশের বিরল ক্ষেত্রগুলোর জন্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে নারী ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুজন বক্সারকে নিয়ে লিঙ্গ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দুজনই নিজ নিজ ওজন শ্রেণিতে সোনা জিতেছিলেন। তার এক বছর আগে লিঙ্গযোগ্যতা পরীক্ষার জেরে তাঁদের আন্তর্জাতিক ফেডারেশন কর্তৃক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
ফেডারেশনগুলোতে কী নিয়ম
আজকের আগপর্যন্ত ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের নিজ নিজ ফেডারেশন থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর অলিম্পিকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হতো। অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, রাগবি ইউনিয়নসহ কিছু ফেডারেশন এরই মধ্যে নিজস্ব নিয়ম তৈরি করেছে, যেখানে পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া অ্যাথলেটদের নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিষিদ্ধ।
এখন পর্যন্ত মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন প্রকাশ্যে আসা ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদ অলিম্পিক গেমসে অংশ নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের লরেল হাবার্ড ২০২১ সালে টোকিও অলিম্পিকে ভারোত্তোলক হিসেবে অংশ নিয়ে প্রথম প্রকাশ্যে আসা ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেট হিসেবে জন্মগতভাবে নির্ধারিত লিঙ্গের বাইরে অন্য লিঙ্গ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
রয়টার্স