• Colors: Yellow Color

চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী মা হয়েছেন। গত শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্টে তিনি জানান, গত ১১ মে তাঁর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। মেয়ের নাম রাখা হয়েছে শারলিন খান। খবরটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান বুবলীর ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা। অভিনন্দনের পাশাপাশি নতুন করে সামনে আসে আরেকটি প্রশ্ন, কয়েক মাস ধরে আলোচনার বাইরে থাকা বুবলী এত দিন কোথায় ছিলেন? প্রথম সন্তান শেহজাদ খানের মতো এবারের সন্তানের জন্মও কি যুক্তরাষ্ট্রে, নাকি বাংলাদেশে?

শবনম বুবলী
শবনম বুবলী, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
 

বিনোদন অঙ্গনে কয়েক মাস ধরে বুবলীকে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। কয়েক মাস ধরে তাঁকে আগের মতো জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না। সিনেমা মুক্তি পেলেও প্রিমিয়ার, এমনকি সংবাদ সম্মেলন কিংবা প্রচারণা অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ছিল সীমিত। বছরের শুরুতে তিনি একেবারে আড়ালে চলে যান। ফলে ভক্তদের কৌতূহল বাড়তে থাকে।
প্রথম আলো গত বছরের অক্টোবরে জানতে পারে, বুবলী মা হতে যাচ্ছেন। তখন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে তখন কোনো মন্তব্য করেননি। পরবর্তী সময়েও মাতৃত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি; বরং বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বলে এড়িয়ে গেছেন।

এরই মধ্যে সামাজিকমাধ্যমে শবনম বুবলীর কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকের নজরে আসে তাঁর শারীরিক পরিবর্তন। ভক্তদের একটা অংশ তখন কানাঘুষা করতে শুরু করে, বুবলী হয়তো আবার মা হতে চলেছেন। তবে এসব জল্পনা-কল্পনার কোনোটির উত্তর দেননি তিনি।

শবনম বুবলী
শবনম বুবলী, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
 

বছরের শুরুতে হঠাৎই শবনম বুবলীকে প্রকাশ্যে কম দেখা যেতে থাকে। যাঁদের সঙ্গে কাজ চলছিল, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। তখন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের আলোচনা, সন্তান জন্ম দিতে বুবলী হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। কারণ, এর আগেও বুবলী সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। বুবলীর ঘনিষ্ঠজনদের কয়েকজন জানিয়েছেন, এবারও যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

শবনম বুবলী
শবনম বুবলী, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
 

পরিচিতজনদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে শেষ মুহূর্তে বুবলীর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও এ বিষয়ে বুবলী নিজে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে পুরো সময়টাতে ঢাকায় ছিলেন তিনি।

শবনম বুবলী
শবনম বুবলী, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাতৃত্বকালীন পুরো সময়ে ঢাকাতেই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন বুবলী। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় খুব সীমিত পরিসরে চলাফেরা করেছেন। এমনকি হাসপাতালেও যাতায়াত করতেন আড়াল বজায় রেখে।

শবনম বুবলী
শবনম বুবলী,ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
 

মা হওয়ার কয়েক মাস আগপর্যন্তও শুটিং এবং বিভিন্ন পণ্য প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন শবনম বুবলী। একাধিক সিনেমার শুটিং করেছেন। পরিচালক রায়হান রাফির ‘প্রেশার কুকার’ ছবির শুটিংও করেছেন ওই সময়। গত পবিত্র ঈদুল ফিতরে ছবিটি মুক্তি পায়। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পেলেও প্রচারণায় দেখা যায়নি তাঁকে। বিষয়টি তখন অনেকের নজরে আসে। কারণ, নিজের সিনেমা মুক্তি পেলে সাধারণত হলভিজিট, মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলা কিংবা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ায় বেশ সরব থাকেন বুবলী। এবার তাঁর অনুপস্থিতি রহস্য বাড়িয়ে দেয়।

শবনম বুবলী
শবনম বুবলীছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই তখন ধারণা করেছিলেন, শবনম বুবলী হয়তো দেশের বাইরে আছেন। পরিচালকও বলেছিলেন, বুবলী অসুস্থ তাই এখন তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না। আবার কেউ কেউ মাতৃত্বের বিষয়টিকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তবে বুবলী কিংবা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

কন্যাসন্তান জন্মের খবরটি ফেসবুক পোস্টে জানানোর পর সন্তানের জন্ম কোথায় হয়েছে, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা ছিল। বুবলীর কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন প্রথমে ঢাকার গুলশান ও পান্থপথ এলাকার দুটি হাসপাতালের নাম জানান। পরে একাধিক ঘনিষ্ঠজন নিশ্চিত করেছেন, ওই দুটি হাসপাতালের কোনোটিতে নয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালেই বুবলীর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। যদিও হাসপাতালের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা। এদিকে হাসপাতালের একাধিক সূত্রও খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

শবনম বুবলী
শবনম বুবলী, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
 

গতকাল শুক্রবার কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবর জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে বুবলী লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’

পোস্টের সঙ্গে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করেন শবনম বুবলী। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে জন্ম হয়েছে তাঁর কন্যাসন্তানের। নাম রাখা হয়েছে শারলিন খান। পোস্টে অভিনেতা শাকিব খানকেও ট্যাগ করেন বুবলী। খবরটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাজার হাজার প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য জমা হয় পোস্টটিতে। সহশিল্পী, পরিচালক, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নবজাতকের জন্য শুভকামনা জানান।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ফটোকার্ডটি পোস্ট করে কন্যা সন্তানের খবরটি জানান শবনম বুবলী
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ফটোকার্ডটি পোস্ট করে কন্যা সন্তানের খবরটি জানান শবনম বুবলী

এদিকে মাতৃত্বের কারণে পিছিয়ে যাওয়া কাজগুলোও ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিচ্ছেন বুবলী। তাঁর সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন পরিচালক জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন। শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে দুই-এক মাসের মধ্যেই আবারও শুটিংয়ে ফিরতে পারেন।

২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে শাকিব খান-শবনম বুবলীর সন্তান শেহজাদ খান বীরের জন্ম হয়। দুই বছর পর ২০২২ সালে সন্তান জন্মের খবরটি একসঙ্গে প্রকাশ্যে আনেন এই দুই তারকা। তবে এবার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই কন্যাসন্তান জন্মের খবরটি প্রকাশ্যে আনলেন বুবলী।

শবনম বুবলী
শবনম বুবলী, ছবি : বুবলীর ফেসবুক পেজ
 

দীর্ঘ কয়েক মাসের নীরবতা, আড়ালে থাকা এবং নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ের খবর নিজেই জানালেন শবনম বুবলী। মাতৃত্বের এই ব্যক্তিগত সময়টুকু যে তিনি আলোচনার বাইরে, নিজের মতো করেই কাটাতে চেয়েছিলেন, সেটিও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে তাঁর এই সময়ের কর্মকাণ্ডে।

 
 
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করলেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি ৯টি ছবি পোস্ট করে নিজের একটি বিশেষ লুকের গল্প শেয়ার করেছেন তিনি। ফারিয়ার ভাষ্য, মিউজিক ভিডিওর বিভিন্ন লুকের মধ্যে এই একটি লুকই সবচেয়ে বেশি দর্শকের মন জয় করেছে। এটি তাঁর নিজেরও সবচেয়ে প্রিয় লুক।

নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া দীর্ঘ ক্যাপশনে এই নায়িকা জানান, এই পোশাকের সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো এর ডিজাইনার তাঁর মা। তিনি লেখেন, ‘আমি শুধু একটা আইডিয়া দিয়েছিলাম, আর মা সেটাকে এমন একটা রঙিন স্বপ্নে পরিণত করলেন, যা দেখে আমিও অবাক।’

নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

ফারিয়া আরও লিখেছেন, ‘মিউজিক ভিডিওর এতগুলো লুকের মধ্যে এই একটা লুকই আপনাদের হৃদয় চুরি করে নিয়েছে, আর সত্যি বলতে আমারও খুব প্রিয়।’

নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

তিনি জানান, পুরো পোশাকটি তৈরি করা হয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী কাঞ্জিভরম শাড়ি থেকে। সবুজ ও গোলাপি রঙের সমন্বয়ে তৈরি এই পোশাককে তিনি ‘উৎসবের মতো চঞ্চল, মিষ্টি এবং একেবারে মেইন ক্যারেক্টার এনার্জিতে ভরপুর’ বলে বর্ণনা করেছেন।

নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

শুধু পোশাক নয়, গয়নাও ছিল ফারিয়ার এই লুকের অন্যতম আকর্ষণ। অল্প সময়ের মধ্যে সবাই মিলে যেভাবে এই লুকটি তৈরি করেছেন, তা ভাবলে এখনো তাঁর বিস্ময় লাগে। ফারিয়ার মতে, ‘পুরো লুকের ওপর যেন চেরি অন টপ! এত অল্প সময়ে সবাইমিলে যেভাবে এই লুকটা তৈরি করেছে, সেটা ভাবলেই এখনো অবাক লাগে।

নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

গয়নাগুলো পুরো লুকটিকে আরও পরিপূর্ণ করেছে।’ বিশেষভাবে তৈরি করা এই গয়নার জন্য তিনি ‘সিক্স ইয়ার্ড স্টোরি বাই লোরা খান’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

পোস্টটি প্রকাশের পর ভক্তদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। অনেকে মন্তব্যে ফারিয়ার লুক, পোশাকের নকশা এবং রঙের ব্যবহারের প্রশংসা করেছেন।

গত মাসের শেষের দিকে ‘লোকে বলে’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিও মডেলে হয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। গানটি গেয়েছেন ফারিয়া নিজেই। এটি লিখেছেন তাহজীব এম বাঁধন। কম্পোজার ফুয়াদ আল মুক্তাদির। ভিডিওটি বানিয়েছেন বাবা যাদব।

নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

একসময় বাবার শিঙাড়া বিক্রির টাকায় চলত সংসার। মন্দিরে ভজন গেয়ে ৫০ টাকা আয় করতেন তিন ভাইবোন। সেই মেয়েটিই আজ ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের একজন। কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসা, বিলাসবহুল জীবন আর অসংখ্য সুপারহিট গানের মালিক নেহা কক্করের জন্মদিন ছিল গতকাল ৬ জুন। এই শিল্পীর সংগ্রাম, সাফল্য আর অনুপ্রেরণার গল্প জেনে নেওয়া যাক ছবিতে ছবিতে। ছবিগুলো নেহা কক্করের ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া।
১৯৮৮ সালের ৬ জুন উত্তর প্রদেশের ঋষিকেশে জন্ম নেন নেহা কক্কর। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর শৈশব কেটেছে নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে।
১৯৮৮ সালের ৬ জুন উত্তর প্রদেশের ঋষিকেশে জন্ম নেন নেহা কক্কর। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর শৈশব কেটেছে নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে।
নেহার বাবা ছিলেন শিঙাড়া বিক্রেতা। বড় বোন সনু কক্কর যে কলেজে পড়তেন, সেই কলেজের সামনেই শিঙাড়া বিক্রি করতেন তিনি। এ কারণে অনেক সময় বন্ধুদের কটূক্তিও শুনতে হয়েছে নেহাকে।
নেহার বাবা ছিলেন শিঙাড়া বিক্রেতা। বড় বোন সনু কক্কর যে কলেজে পড়তেন, সেই কলেজের সামনেই শিঙাড়া বিক্রি করতেন তিনি। এ কারণে অনেক সময় বন্ধুদের কটূক্তিও শুনতে হয়েছে নেহাকে।
 মা-বাবা ও দুই ভাইবোনকে নিয়ে এক কামরার ছোট্ট ভাড়া বাসায় থাকতেন নেহা। সেই একটি ঘরই ছিল তাঁদের শোবার ঘর, বসার ঘর ও রান্নাঘর।
মা-বাবা ও দুই ভাইবোনকে নিয়ে এক কামরার ছোট্ট ভাড়া বাসায় থাকতেন নেহা। সেই একটি ঘরই ছিল তাঁদের শোবার ঘর, বসার ঘর ও রান্নাঘর।
মাত্র চার বছর বয়স থেকে গান গাওয়া শুরু করেন নেহা। বড় বোন সনু কক্কর ও ভাই টনি কক্করের সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভজন গেয়ে পারিশ্রমিক পেতেন।
মাত্র চার বছর বয়স থেকে গান গাওয়া শুরু করেন নেহা। বড় বোন সনু কক্কর ও ভাই টনি কক্করের সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভজন গেয়ে পারিশ্রমিক পেতেন।
উৎসবের সময় মন্দিরে গান গেয়ে তিন ভাইবোন ৫০ টাকা করে আয় করতেন। বাড়ি ফিরে সেই টাকাগুলো তুলে দিতেন মায়ের হাতে।
উৎসবের সময় মন্দিরে গান গেয়ে তিন ভাইবোন ৫০ টাকা করে আয় করতেন। বাড়ি ফিরে সেই টাকাগুলো তুলে দিতেন মায়ের হাতে।
শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নেহা কক্কর।
শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নেহা কক্কর।
দুই ছবিতে জীবনের দুই অধ্যায়।
দুই ছবিতে জীবনের দুই অধ্যায়।
 ২০২০ সালের অক্টোবরে গায়ক রোহানপ্রীত সিংকে বিয়ে করেন নেহা। দিল্লিতে বিয়ে এবং চণ্ডীগড়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁদের বিয়ে সে সময় ছিল ভারতের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
২০২০ সালের অক্টোবরে গায়ক রোহানপ্রীত সিংকে বিয়ে করেন নেহা। দিল্লিতে বিয়ে এবং চণ্ডীগড়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁদের বিয়ে সে সময় ছিল ভারতের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’–এর দ্বিতীয় সিজনে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন নেহা। শিরোপা জিততে না পারলেও সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বড় স্বপ্নের যাত্রা।
উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’–এর দ্বিতীয় সিজনে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন নেহা। শিরোপা জিততে না পারলেও সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বড় স্বপ্নের যাত্রা।
প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়লেও থেমে যাননি নেহা। ২০০৮ সালে প্রকাশ করেন নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘নেহা দ্য রকস্টার’।
প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়লেও থেমে যাননি নেহা। ২০০৮ সালে প্রকাশ করেন নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘নেহা দ্য রকস্টার’।
 একসময় যে মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ই পরে বিচারকের আসনে বসেন নেহা। এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি।
একসময় যে মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ই পরে বিচারকের আসনে বসেন নেহা। এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি।
২০০৮ সালে ভাই টনি কক্করকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান নেহা। সংগ্রামের সেই শহরই পরে তাঁকে এনে দেয় তারকাখ্যাতি।
২০০৮ সালে ভাই টনি কক্করকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান নেহা। সংগ্রামের সেই শহরই পরে তাঁকে এনে দেয় তারকাখ্যাতি।
সেকেন্ড হ্যান্ড জওয়ানি’, ‘ধাতিং নাচ’, ‘সানি সানি’, ‘কালা চশমা’, ‘দিলবার’, ‘আঁখ মারে’, ‘কোকাকোলা’ ও ‘সাকি সাকি’—একের পর এক হিট গান তাঁকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
সেকেন্ড হ্যান্ড জওয়ানি’, ‘ধাতিং নাচ’, ‘সানি সানি’, ‘কালা চশমা’, ‘দিলবার’, ‘আঁখ মারে’, ‘কোকাকোলা’ ও ‘সাকি সাকি’—একের পর এক হিট গান তাঁকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
একসময় ৫০ টাকার জন্য গান গাওয়া সেই মেয়েটিই আজ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটির বেশি। সংগ্রাম, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নেহা কক্কর হয়ে উঠেছেন লাখো তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণা।
একসময় ৫০ টাকার জন্য গান গাওয়া সেই মেয়েটিই আজ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটির বেশি। সংগ্রাম, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নেহা কক্কর হয়ে উঠেছেন লাখো তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণা।
দিলবার’, ‘কালা চশমা’, ‘আঁখ মারে’ ও ‘কোকাকোলা’—এই গানগুলো শুধু হিটই হয়নি, ইউটিউব ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কোটি কোটিবার শোনা হয়েছে।
দিলবার’, ‘কালা চশমা’, ‘আঁখ মারে’ ও ‘কোকাকোলা’—এই গানগুলো শুধু হিটই হয়নি, ইউটিউব ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কোটি কোটিবার শোনা হয়েছে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে সুপারহিট তেলেগু সিনেমা উপ্পেনা দিয়ে অভিনয় জগতে যাত্রা শুরু কৃতি শেঠির। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নাগা চৈতন্য ও নানির মতো বিখ্যাত অভিনেতার বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি তামিল-তেলেগু সিনেমায়। প্রতি বছরই হিট দিয়ে চলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে নানা আকর্ষণীয় লুকে দেখা যায় তাঁকে। চলুন এই নতুন দক্ষিণি অভিনেত্রীর এমন কিছু লুক দেখে আসি ইন্সটাগ্রাম থেকে।

হলটারনেক ক্ল্যাসিক লাল ড্রেসের সঙ্গে কৃতি পরেছেন কালো হিলস
 
হলটারনেক ক্ল্যাসিক লাল ড্রেসের সঙ্গে কৃতি পরেছেন কালো হিলস
এথনিক ফিউশন লুকে স্ট্র্যাপলেস মিনিড্রেস আর জমকালো গয়না দেখা যাচ্ছে
 
এথনিক ফিউশন লুকে স্ট্র্যাপলেস মিনিড্রেস আর জমকালো গয়না দেখা যাচ্ছে
স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপের স্মকিং করা বডিকন শর্ষে হলুদ ড্রেসে কৃতি
 
স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপের স্মকিং করা বডিকন শর্ষে হলুদ ড্রেসে কৃতি
এখানে তিনি পরেছেন স্ট্র্যাপলেস সিকুইনের পার্পল-পিংক ড্রেস
 
এখানে তিনি পরেছেন স্ট্র্যাপলেস সিকুইনের পার্পল-পিংক ড্রেস
কালো স্লিট গাউনের বডিসে এক্সট্রিম কাট আউট। সঙ্গে ব্যাকলেস ডিজাইন
 
কালো স্লিট গাউনের বডিসে এক্সট্রিম কাট আউট। সঙ্গে ব্যাকলেস ডিজাইন
স্টেটমেন্ট স্লিভলেস ব্লাউজ দিয়ে পিচরঙা টিস্যু শাড়ির লুক
 
স্টেটমেন্ট স্লিভলেস ব্লাউজ দিয়ে পিচরঙা টিস্যু শাড়ির লুক
স্ট্র্যাপলেস লাল টপ আর জিন্সে দেখা যাচ্ছে কৃতিকে
 
স্ট্র্যাপলেস লাল টপ আর জিন্সে দেখা যাচ্ছে কৃতিকে
সিকুইনের কাজ করা কালো ক্রপড টপ আর থাই স্লিট লং স্কার্টের সঙ্গে আছে হিলস
 
সিকুইনের কাজ করা কালো ক্রপড টপ আর থাই স্লিট লং স্কার্টের সঙ্গে আছে হিলস
ন্যুড শাড়ি ও ব্লাউজে আকর্ষণ ছড়াচ্ছেন কৃতি
 
ন্যুড শাড়ি ও ব্লাউজে আকর্ষণ ছড়াচ্ছেন কৃতি
এখানে তিনি পরেছেন কালো স্ট্র্যাপলেস বডিকন জাম্পস্যুট
 
এখানে তিনি পরেছেন কালো স্ট্র্যাপলেস বডিকন জাম্পস্যুট
 

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ঝড় তুলছে দক্ষিণি সুপারস্টার রাম চরণ অভিনীত প্যান-ইন্ডিয়া ছবি ‘পেড্ডি’। তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি এখন আলোচনায় রয়েছে অন্য কারণে। জাহ্নবী কাপুর অভিনীত চরিত্রকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেকের অভিযোগ, ছবিতে জাহ্নবীকে কেবল ‘আই ক্যান্ডি’ বা দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন ছবির পরিচালক বুচি বাবু সানা এবং বিতর্কিত দৃশ্যগুলোতে পরিবর্তন আনার ঘোষণাও দিয়েছেন।

৪ জুন মুক্তি পাওয়া ‘পেড্ডি’ ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন রাম চরণ ও জাহ্নবী কাপুর। মুক্তির আগে থেকেই ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। তবে ট্রেলার, গান ও প্রচারণামূলক বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই জাহ্নবীর চরিত্র ‘অচিয়াম্মা’কে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

সমালোচকদের অভিযোগ, ছবির বিভিন্ন দৃশ্যে নারীচরিত্রকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে যৌন আবেদনময় করে দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে কিছু ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, পোশাক নির্বাচন, সংলাপ এবং উপস্থাপনার ধরন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন দর্শকদের একটি অংশ। তাঁদের মতে, ছবিতে নারীর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও সম্মতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে যথেষ্ট সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখানো হয়নি।

‘পেড্ডি’ সিনেমায় জাহ্নবী ও রামচরণ। আইএমডিবি
‘পেড্ডি’ সিনেমায় জাহ্নবী ও রামচরণ। আইএমডিবি
 

বিতর্কে যোগ দিলেন অভিনেত্রী গায়ত্রী
বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় দক্ষিণি অভিনেত্রী গায়ত্রী চাগান্তির মন্তব্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জাহ্নবী কাপুর নিজেও এই উপস্থাপনার শিকার। গায়ত্রীর ভাষায়, ‘সত্যি বলতে, জাহ্নবীকে খুব কম ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয়ের জন্য নেওয়া হয়। বরং তাঁর শারীরিক আবেদনই অনেক সময় চরিত্রের প্রধান পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘চরিত্রের প্রয়োজন হলে গ্ল্যামার দেখানোতে আপত্তি নেই। কিন্তু প্রায় প্রতিটি চরিত্রেই তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন তাঁর শরীরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমনকি যেসব চরিত্রে সরল বা পেশাদার উপস্থাপনা প্রয়োজন, সেখানেও একই প্রবণতা দেখা যায়।’ গায়ত্রী আরও লিখেছেন, ‘কেরালার গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত দৃশ্যের মধ্যেও হঠাৎ করে বাগ্‌দান অনুষ্ঠানের গানে জাহ্নবীকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় সাজে দেখানো হয়েছে। আবার “সানি সংস্কারি কি তুলসি কুমারী” ছবির কথাও মনে করুন। এমনকি যেসব দৃশ্যে তিনি একজন শিক্ষক, বিশেষ করে প্রি-স্কুল শিক্ষিকার চরিত্রে অভিনয় করছেন, সেখানেও তাঁর পোশাক ও উপস্থাপনা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে দর্শকের নজর চরিত্রের চেয়ে তাঁর শারীরিক আবেদনের দিকে বেশি যায়। প্রয়োজন ছাড়াই ক্লিভেজ দেখানো হচ্ছে। আমি এমন আরও অনেক উদাহরণ দিতে পারি, তবে আশা করি আপনারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন।’

গায়ত্রীর এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে মূলধারার সিনেমায় নায়িকাদের উপস্থাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আবার অনেকে মনে করেন, এ ক্ষেত্রে দায় মূলত নির্মাতাদের, অভিনেত্রীর নয়।

‘পেড্ডি’র গানের দৃশ্যে শ্রুতি হাসান, রামচরণ ও জাহ্নবী কাপুর। এক্স থেকে
‘পেড্ডি’র গানের দৃশ্যে শ্রুতি হাসান, রামচরণ ও জাহ্নবী কাপুর। এক্স থেকে

ক্ষমা চাইলেন পরিচালক
বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দীর্ঘ বিবৃতি দেন পরিচালক বুচি বাবু সানা। তিনি লেখেন, ‘একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, সিনেমার কাজ হলো মানুষকে বিনোদন দেওয়া, অনুপ্রাণিত করা এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা। কোনোভাবেই এমন কিছু করা উচিত নয়, যা কাউকে অস্বস্তিতে ফেলে বা অসম্মানিত বোধ করায়।’ দর্শকদের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পর্দায় ও পর্দার বাইরে সব সময়ই নারীদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। কোনো নারীচরিত্রকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা বা অসম্মান করা কখনোই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। যদি ছবির কোনো অংশ সে রকম অনুভূতি তৈরি করে থাকে, তাহলে আমরা সেই উদ্বেগকে সম্মান করি এবং আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

পরিবর্তন আসছে ছবিতে

পরিচালক জানান, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করার পর সংশ্লিষ্ট দৃশ্যগুলোতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘দর্শকের সঙ্গে সংযোগের মধ্য দিয়েই সিনেমার বিকাশ ঘটে। গল্পকার হিসেবে পরিবর্তিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংবেদনশীলতার প্রতি সচেতন থাকা আমাদের দায়িত্ব। সেই কারণেই আমরা সংশ্লিষ্ট অংশগুলো নতুন করে সম্পাদনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক নারীই সম্মান, মূল্যায়ন ও মর্যাদাপূর্ণ উপস্থাপনার দাবিদার। আমরা এমন গল্প বলতে চাই, যেখানে নারীচরিত্রগুলো শক্তিশালী ও অর্থবহভাবে তুলে ধরা হবে।’

জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

জাহ্নবীর নীরবতা
যাঁকে ঘিরে এত আলোচনা, সেই জাহ্নবী কাপুর এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে বিতর্কের মধ্যে তাঁর অবস্থান কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনা আবারও ভারতীয় মূলধারার সিনেমায় নারীচরিত্রের উপস্থাপনাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধু জাহ্নবী নয়, দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যিক সিনেমায় নায়িকাদের অনেক সময় গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের বদলে ‘গ্ল্যামার উপাদান’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পেড্ডিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই পুরোনো প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

‘পেড্ডি’ ছবিতে রাম চরণ ও জাহ্নবী কাপুর ছাড়াও অভিনয় করেছেন জগপতি বাবু, শিব রাজকুমার, শ্রুতি হাসান ও দিব্যেন্দু শর্মা। নির্মাতাদের দাবি, মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটির বেশি রুপি আয় করেছে ছবিটি। তবে বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি নারীচরিত্রের উপস্থাপনাকে ঘিরে চলমান বিতর্কও এখন ছবিটির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

বলিউডে নায়িকাদের শারীরিক রূপান্তর নতুন কিছু নয়। কিন্তু ‘ককটেল ২’-এর ‘অ্যালি’ চরিত্রের জন্য কৃতির প্রস্তুতি ছিল একটু আলাদা। পরিচালক চেয়েছিলেন এমন এক তরুণীকে, যিনি একই সঙ্গে ফিট, আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত। ফলে ওজন কমানোর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় শরীরের গঠন, শক্তি ও পর্দায় উপস্থিতি। এবার মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটির ট্রেলার। যেখানে বিকিনিতে কৃতিকে দেখে চমকে গেছেন ভক্তরা। অনেকেই তাঁর পর্দায় উপস্থিতির প্রশংসা করছেন।

কৃতির দীর্ঘদিনের ফিটনেস কোচ ও ভারতীয় ফুটবলার করণ সাওহনি জানিয়েছেন, এই ছবির জন্য অভিনেত্রীকে সপ্তাহে ছয় দিন প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। লক্ষ্য ছিল শরীরকে এমনভাবে টোনড করা, যাতে অ্যাবস স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে না যায়। কৃতির রুটিনে ছিল ভারী স্ট্রেংথ ট্রেনিং, ইনক্লাইন ওয়াক এবং জোন-২ কার্ডিও। সাধারণত দ্রুত ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেকেই অতিরিক্ত কার্ডিওর ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু কৃতির ক্ষেত্রে কোচ সেই পথ বেছে নেননি।

‘ককটেল ২’–এ কৃতি শ্যানন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
‘ককটেল ২’–এ কৃতি শ্যানন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বরং পেশি ধরে রেখে ধীরে ধীরে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর পরিকল্পনা করা হয়। ইনক্লাইন ওয়াক ছিল সেই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ট্রেডমিলের উঁচু ঢালে হাঁটা শরীরকে বেশি ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে, আবার পেশিও রক্ষা করে।
কোচের ভাষায়, কৃতি ছিলেন ‘ক্যালোরি ডেফিসিট’-এ, অর্থাৎ তিনি যত ক্যালোরি খরচ করতেন তার চেয়ে কম ক্যালোরি গ্রহণ করতেন। তবে ডায়েট ছিল উচ্চ প্রোটিননির্ভর। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরের পেশি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে ওজন কমলেও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে না। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও সারা দিন সক্রিয় থাকার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

একসময় বলিউডে ‘সাইজ জিরো’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হতো। কিন্তু কৃতির কোচ স্পষ্টভাবে বলেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল না অতিরিক্ত রোগা হওয়া। তাঁর কথায়, ‘খুব বেশি ওজন কমে গেলে মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে পারে। আবার শরীর যদি যথেষ্ট টোনড না হয়, তবে চরিত্রের প্রয়োজনও পূরণ হয় না। আমরা এই দুইয়ের মাঝখানে ভারসাম্য খুঁজেছি।’

এ কারণেই কৃতির ডায়েট ও ব্যায়াম পরিকল্পনা প্রতি সপ্তাহে নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়েছে। পরিচালকের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে শরীরের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

‘ককটেল ২’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ককটেল ২’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

কোচ করণ সাওহনির মতে, পুরো যাত্রার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল কৃতির শৃঙ্খলা। প্রতিদিন নিয়ম মেনে অনুশীলন, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম—সবকিছুই তিনি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করেছেন।

২০১২ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ককটেল’। যে সিনেমায় সাইফ আলী খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়ানা পেন্টির প্রেম-বন্ধুত্বের আখ্যান ধরা পড়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আসছে সেই সিনেমার সিক্যুয়েল। ছবিতে কৃতি ছাড়াও আছেন রাশমিকা মান্দানা ও শহীদ কাপুর।

হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পাবে ১৯ জুন।

এনডিটিভি অবলম্বনে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব