• Colors: Yellow Color

ভারতের বৈশ্বিক উপস্থিতি আজ শুধু কূটনীতি বা অর্থনীতির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়; সিনেমা ও সংস্কৃতিও সমানভাবে সেই পরিচয় নির্মাণ করছে। ফলে চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা এখন কেবল অভিনয় বা বক্স অফিস ঘিরে নয়; বরং ছবির ভাবনা, বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গিকেও কেন্দ্র করে। এ পটভূমিতেই নিউজ১৮ রাইজিং ভারত সামিট ২০২৬-এর মঞ্চে উঠে খোলামেলা কথা বললেন ইয়ামি গৌতম। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্ট্রেংথ উইদিন’। সেখানে তিনি এমন এক প্রশ্নের জবাব দিলেন, যা অনেক অভিনেতাই এড়িয়ে যান।

আলোচনায় ইয়ামিকে জিজ্ঞেস করা হয়, এমন কি কখনো হয়েছে যে কোনো নির্মাতা বলেছেন, ‘তোমাকে নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি ওই ছবি করার পর আর নিতে চাই না?’ প্রশ্নটি ছিল স্পর্শকাতর। তবে ইয়ামি জবাব দিলেন ভাবনাচিন্তা করে, কোনো রক্ষণাত্মক ভঙ্গি ছাড়াই। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি। হয়তো তিন-চার বছর আগে এমন আশঙ্কা বা দ্বিধা কারও মনে থাকতে পারে। কিন্তু এখন তিনি যে ধরনের ছবি করছেন এবং পরিচালকরা তাঁকে যে ধরনের চরিত্রে ভাবছেন, সেখানে এমন মানসিকতা আর দেখছেন না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সময় বদলেছে, বদলেছে শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গিও।

‘হক’ সিনেমায় ইয়ামি গৌতম। আইএমডিবি
‘হক’ সিনেমায় ইয়ামি গৌতম। আইএমডিবি

ইয়ামি গৌতম এমন কয়েকটি ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যেগুলো রাজনৈতিক পটভূমিতে নির্মিত। এর মধ্যে রয়েছে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ও ‘হক’। এই ছবিগুলো ঘিরে নানা বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে। তবে ইয়ামির মতে, শেষ পর্যন্ত একটি ছবির মান নির্ধারিত হয় তার নির্মাণশৈলী দিয়ে, কেবল রাজনৈতিক অবস্থান দিয়ে নয়।
ইয়ামি বলেন, অনেকেই তাঁকে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছেন, রাজনৈতিক মত যা–ই হোক, ছবিটি যে ভালোভাবে নির্মিত, তা অস্বীকার করা যায় না। বরং এমন ছবি দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে—আমরা যা বিশ্বাস করি, তা কি একমাত্র সত্য? নাকি বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায়?

ইয়ামির মতে, সিনেমার শক্তি এখানেই। এটি কোনো এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যম নয়; বরং প্রশ্ন তোলার এবং আলোচনার দুয়ার খুলে দেওয়ার শিল্পমাধ্যম।
আলোচনায় ইয়ামি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন, সত্য লুকিয়ে রাখা যায় না। কারণ, ক্যামেরা অত্যন্ত স্বচ্ছ। তাঁর ভাষায়, ক্যামেরা শুধু একজন অভিনয়শিল্পীর অভিব্যক্তি নয়, লেখকের মনোভাব ও পরিচালকের অভিপ্রায়ও ধরতে পারে।

অর্থাৎ অভিনয় কৃত্রিম হলে বা উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হলে তা পর্দায় ধরা পড়বেই। তাই ইয়ামি বিশ্বাস করেন, সততা নিয়েই কাজ করতে হয়। কারণ, দর্শক শেষ পর্যন্ত আন্তরিকতাই অনুভব করেন।

ভারতের পরিবর্তিত বাস্তবতা নিয়েও কথা বলেন ইয়ামি। তাঁর মতে, এটি এক নতুন ভারত, যেখানে আধুনিক সিনেমাও নতুন ভাষা খুঁজে নিচ্ছে। পরিবর্তন শুধু সমাজে নয়, চলচ্চিত্রেও জরুরি। আর সেই পরিবর্তন দৃশ্যমানও হচ্ছে।

ইয়ামি গৌতম
ইয়ামি গৌতম, এএফপি

এ পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই ইয়ামি দেখছেন নিজের যাত্রাকে। একসময় যেখানে শিল্পীরা ‘তকমা’ নিয়ে সতর্ক থাকতেন, এখন দর্শক ছবিকে তার গুণমান দিয়ে বিচার করছেন। বিষয়বস্তুর গভীরতা, নির্মাণশৈলী ও অভিনয়ের সততা—এসবই হয়ে উঠছে আসল মানদণ্ড।

ইয়ামি গৌতমের বক্তব্য থেকে যে বিষয় স্পষ্ট হয়, তা হলো আত্মবিশ্বাস। তিনি মনে করেন, শিল্পী হিসেবে নিজের সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হোক বা না হোক, যদি গল্পে বিশ্বাস থাকে, চরিত্রে সত্যতা থাকে, তবে কাজের মূল্যায়ন হবেই।

নিউজ ১৮ অবলম্বনে

ওটিটিতে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অনুরাগ কশ্যপের সিনেমা ‘কেনেডি’। এর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানি লিওনি। সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, এই সিনেমায় সুযোগ পাওয়াসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সানি লিওনি।

কেনেডি ছবিতে  ‘চার্লি’ চরিত্র যেন এক অন্য সানি লিওনিকে সামনে এনেছে। তিন বছর পর ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্রমহলে আলোচিত।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সানি লিওনি জানিয়েছেন, তিনি অনুরাগ কশ্যপকে খুবই বড় মানের নির্মাতা মনে করেন।  তাঁর ভাষায়, ‘অনেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তিনি সেটে পাগলাটে কোনো কঠোর পরিচালক নন। তাঁর প্রত্যাশা থাকে—আপনি প্রস্তুত হয়ে আসবেন, জানবেন কী করতে হবে। তবে তিনি সময় দেন, যা সবাই দেন না।’

‘কেনেডি’—এক ফোনকল থেকে কান উৎসবে
সানি লিওনির কাছে এই ছবির প্রস্তাবটিই ছিল অবাক করা। মূলধারার বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও অনুরাগ কশ্যপের মতো নির্মাতার কাছ থেকে এমন প্রস্তাব পাওয়া তাঁর কাছে ছিল স্বপ্নের মতো।

সানি লিওনি আরও বলেন, ‘শিল্পে নানা রাজনীতি থাকে। অনেক সময় শেষ মুহূর্তে বদল ঘটে। তাই প্রথম দৃশ্যের শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার মনে হচ্ছিল—যেকোনো কিছু হতে পারে। কিন্তু যখন প্রথম শটটা হলো, তখন মনে হলো—হ্যাঁ, চার্লি সত্যিই এখানে আছে।’

ছবিটি ২০২৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মিডনাইট স্ক্রিনিং বিভাগে প্রিমিয়ার হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছবির প্রশংসা নির্মাতা ও শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পরে এটি জিও মামি মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসব, সিডনি চলচ্চিত্র উৎসব, মেলবোর্নের ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব, লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়।

‘কেনেডি’ সিনেমায় সানি লিওনি। আইএমডিবি
‘কেনেডি’ সিনেমায় সানি লিওনি। আইএমডিবি

‘চার্লি’র রহস্যময় হাসি
ছবিতে সানি লিওনের চরিত্র চার্লির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য—অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে তাঁর রহস্যময় হাসি। এই হাসিকে নিখুঁত করতে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছেন অভিনেত্রী। ‘আমি সপ্তাহের পর সপ্তাহ সেই অদ্ভুত হাসিটা অনুশীলন করেছি। লিফটে, সেটে, বিমানবন্দরে—যেখানে সুযোগ পেয়েছি, হাসতাম। আশপাশের মানুষ ভাবত আমি পাগল হয়ে গেছি! কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল চরিত্রটাকে নিজের মধ্যে ঢুকিয়ে নেওয়ার উপায়,’ বলেন তিনি।

সানি স্বীকার করেন, তিনি সহজে বিব্রত হন না। ‘আমি হাঁটতে গিয়েও হোঁচট খাই। অন্যরা লজ্জা পায়, আমি না। তাই এই হাসি নিয়েও কখনো অস্বস্তি হয়নি,’—যোগ করেন তিনি।

ওটিটিতে মুক্তি ও অপেক্ষার গল্প
দীর্ঘ উৎসবযাত্রার পর ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ‘কেনেডি’ ওটিটিতে মুক্তি পায়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও ভারতে মুক্তির বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
এ প্রসঙ্গে সানি বলেন, ‘আমার স্বামী সব সময় বলেন, প্রতিটি ছবিরই নিজস্ব সময় থাকে, সময় হলে সে তার জায়গা খুঁজে পায়। আমরা এই ছবিকে নিয়ে বিশ্বভ্রমণ করেছি। মুম্বাইয়েও দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। ছবিটিকে একটি নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন ছিল এবং এখন তা হচ্ছে—এটাই বড় কথা।’

প্রশংসা, পর্যালোচনা ও সামনে পথচলা
চার্লি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সহকর্মীদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত প্রশংসা পেয়েছেন সানি। নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে বলেছেন, তাঁরা কাজটা পছন্দ করেছেন। সেটা সত্যিই আনন্দ দিয়েছে, বলেন তিনি।

‘কেনেডি’ সিনেমার পোস্টার। আইএমডিবি
‘কেনেডি’ সিনেমার পোস্টার। আইএমডিবি

ওটিটিতে মুক্তির পর ইতিবাচক পর্যালোচনাও তাঁকে বিস্মিত করেছে। ‘অনেক দিন পর মনে পড়ল—রিভিউ বলে একটা ব্যাপার আছে! এত সুন্দর প্রতিক্রিয়া পাব, ভাবিনি,’—হাসতে হাসতে বলেন সানি।

নিজের দীর্ঘ যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়ে তরুণ বয়সের নিজেকে কী বলতেন? সানির জবাব, ‘বলতাম—সিটবেল্ট বাঁধো। পথ সহজ হবে না। জীবনে কিছুই সহজে পাইনি। লড়তে হয়েছে, আঁকড়ে ধরতে হয়েছে। একটা দরজা বন্ধ হলে আরেকটা খোলার চেষ্টা করেছি। আর সেই চেষ্টাই আমাকে এখানে এনেছে।’

এনডিটিভি অবলম্বনে

গত ছয় মাস ধরে শিল্পা শেঠি ও তাঁর স্বামী রাজ কুন্দ্রা বারবার শিরোনামে এসেছেন। প্রতারণার অভিযোগ, জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট বাতিস্তা বন্ধ হওয়ার গুজব—সব মিলিয়ে তাঁদের জীবনে এসেছে নানা বিতর্ক। তবে সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, এত বিতর্কও তাঁকে থামাতে পারেনি। ‘আমার কাজের সততা ও নৈতিকতা আমাদের ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং সেই জন্যই আমি এখনো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি,’ বলেন শিল্পা।

শিল্পা বলেন, তারকা হিসেবে নিজেকে আড়ালে রাখা সহজ নয়। মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই তারকাদের গালাগাল করে, সংবাদমাধ্যমও এসব লুফে নেয়। তবে তিনি সব পরিস্থিতিতেই চেষ্টা করেছেন ইতিবাচক থাকার। ‘হতাশাজনক হলেও, আমরা আমাদের অবস্থান অটুট রেখেছি। মানুষ আমাদের সততার জন্য চেনে। কখনো কখনো ভাবি, কেন আমরা ভালো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি না? কিন্তু সেলিব্রিটি হওয়ায় আমার নাম যেন ক্লিকবেইট হয়ে গেছে। তাই আমি এটাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছি,’ বলেন তিনি।

শিল্পা শেঠি। ইনস্টাগ্রাম থেকে
শিল্পা শেঠি। ইনস্টাগ্রাম থেকে

শিল্পা বলেন, সাধারণত গুজব নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে চান না। কারণ, প্রতিদিন নানা বিষয়ে খবর হয়, সবকিছু বারবার তাঁর পক্ষে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তবে বাতিস্তার মতো একটি ব্র্যান্ড নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ব্র্যান্ডের জন্য আমাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলতে হয়েছে। আমরা অনেক পরিশ্রম, ভালোবাসা ও আবেগ দিয়েছি এই ব্র্যান্ডে। কিছুটা নেতিবাচক প্রচারণা হয়েছে, কিন্তু আশা করি মানুষ কোনটা সঠিক সেটা বুঝতে পারবে।’

শিল্পা যোগ করেন, ‘নেতিবাচক প্রচারণাতেও সব সময় ইতিবাচক দিক থাকে, কারণ আমাদের মনোভাব ইতিবাচক।’ গত কয়েক মাসে শিল্পার নাম জড়িয়েছে তাঁর স্বামী রাজ কুন্দ্রার সূত্র ধরেও। নানা ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে সাক্ষাৎকারে রাজ কুন্দ্রার অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি শিল্পা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

নব্বইয়ের দশকের শুরু। বলিউডে তখন তারকা–সন্তানদের নতুন ঢেউ—কারিশমা কাপুর, রাভিনা ট্যান্ডন, পূজা ভাটরা নিজেদের জায়গা পাকা করছেন। ঠিক সেই সময়ই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন আরেক তারকাকন্যা, অভিনেত্রী মালা সিনহার মেয়ে প্রতিভা সিনহা। ১৯৯৬ সালের ব্লকবাস্টার ‘রাজা হিন্দুস্তানি’র জনপ্রিয় গান ‘পরদেশি’তে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিই তাঁকে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের এক সম্পর্ক, আরেকটি বহুল আলোচিত খুনের মামলার ছায়া—সব মিলিয়ে থমকে যায় তাঁর সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার।

শুরুটা আশাজাগানিয়া
১৯৯২ সালে ‘মেহবুব মেরে মেহবুব’ দিয়ে অভিষেক হয় প্রতিভার। ছবি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হলেও চলচ্চিত্র পরিবারে বেড়ে ওঠার সুবাদে তিনি দ্রুত আরও কাজের সুযোগ পান। দ্বিতীয় ছবি ‘কাল কি আওয়াজ’-এর মাধ্যমে তাঁর পরিচয় ঘটে তৎকালীন সুপারহিট সুরকার জুটি নাদিম-শ্রবণ-এর সঙ্গে। ‘আশিকি’র বিপুল সাফল্যের পর তখন তাঁদের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।

সেই ছবির সংগীত বৈঠকেই নাকি ঘনিষ্ঠতা বাড়ে প্রতিভা ও নাদিম সাইফির। ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক বলিউডের গসিপ কলামে জায়গা করে নেয়। অনেকের মতে, এই সময় থেকেই প্রতিভার মনোযোগ অভিনয়ের চেয়ে ব্যক্তিজীবনের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। পরপর কয়েকটি ছবি ব্যর্থ হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন তাঁর মা মালা সিনহা।

মায়ের আপত্তি, সম্পর্কের টানাপোড়েন
প্রবীণ অভিনেত্রী মালা সিনহা প্রকাশ্যেই মেয়ের এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। আপত্তির কারণও ছিল স্পষ্ট—নাদিম তখন বিবাহিত, দুই সন্তানের পিতা; ধর্মীয় ভিন্নতাও ছিল বড় বিষয়। সবচেয়ে বড় কথা, এই সম্পর্ক মেয়ের ক্যারিয়ারকে বিপথে নিচ্ছে—এমন আশঙ্কাই করেছিলেন তিনি।

‘পরদেশী’ গানে প্রতিভা সিনহা। আইএমডিবি
‘পরদেশী’ গানে প্রতিভা সিনহা। আইএমডিবি

‘পরদেশি’: যে গান হয়ে রইল পরিচয়
১৯৯৬ সালে আমির খান অভিনীত ‘রাজা হিন্দুস্তানি’তে ‘পরদেশি’ গানে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ছিল প্রতিভার। ছবির পরিচালক ধর্মেশ দর্শন এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রতিভা এই গানের জন্য পারিশ্রমিক নেননি; বন্ধুত্বের খাতিরে ১৫ দিন শুটিং করেছিলেন। তিনি নাকি বলেছিলেন, ‘একদিন মানুষ তোমার সব ছবি ভুলে এই এক গানেই তোমাকে মনে রাখবে।’ ভবিষ্যদ্বাণীটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্যি হয়।
শোনা যায়, আদিত্য চোপড়া তাঁকে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’-র একটি চরিত্রের জন্য ভাবছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে প্রতিভা সেই প্রস্তাব নাকচ করেন।

পালিয়ে যাওয়া, অভিযোগ আর ঝড়
সম্পর্ক ঘিরে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছালে মালা সিনহা মেয়েকে দূরে সরিয়ে নিতে চেন্নাইয়ে নিয়ে যান। তবু যোগাযোগ নাকি বন্ধ হয়নি। ইন্ডাস্ট্রিতে গুঞ্জন ছড়ায়, প্রতিভা নাদিমের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। পরে তাঁকে মুম্বাইয়ে ফিরিয়ে এনে মালা সিনহা সংবাদ সম্মেলনে নাদিমের বিরুদ্ধে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

খুনের মামলার ছায়া
১৯৯৭ সালে সংগীত ব্যবসায়ী গুলশান কুমারের হত্যাকাণ্ড ভারতজুড়ে আলোড়ন তোলে। তদন্ত চলাকালে সংবাদমাধ্যমে নাদিম সাইফির নাম উঠে আসে। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি লন্ডনে ছিলেন এবং পরে আদালত তাঁকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেন। তবে এই বিতর্কের জেরে তিনি আর ভারতে ফেরেননি।

এই ঘটনার পর প্রতিভাও ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগৎ থেকে সরে যান। কয়েকটি ব্যর্থ ছবির পর তিনি নিভৃত জীবন বেছে নেন। আজও তিনি অবিবাহিত এবং আলোচনার আড়ালেই থাকেন।

সম্ভাবনা থেকে নিঃশব্দ প্রস্থান
প্রতিভা সিনহার গল্প যেন বলিউডের এক অপূর্ণ অধ্যায়। প্রতিভা, সৌন্দর্য আর তারকাখ্যাতির সম্ভাবনা—সবই ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক বিরোধ আর একটি আলোচিত খুনের মামলার অভিঘাত মিলিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার থেমে যায় মাঝপথেই।
‘পরদেশি’ গানের সেই হাসিমাখা মুখ আজ আর পর্দায় নেই। রয়ে গেছে কেবল একটি সময়ের স্মৃতি—আর এক প্রশ্ন: অন্য সিদ্ধান্ত নিলে কি তাঁর পরিণতি ভিন্ন হতে পারত?

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি সম্প্রতি নির্বাক চলচ্চিত্র ‘গান্ধী টকস’-এ অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায়। ছবিতে তাঁর বিপরীতে রয়েছেন বিজয় সেতুপতি। ভারতীয় দৈনিক অমর উজালাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অদিতি জানিয়েছেন, কেন এই নির্বাক ছবি তাঁর কাছে এতটা বিশেষ। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে হিন্দি ছবিতে তুলনামূলক কম কাজ করার কারণ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

নির্বাক ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অদিতি বলেন, ‘আমার সব সময়ই ইচ্ছা ছিল কোনো নির্বাক ছবিতে কাজ করার। যখন এই সিনেমার প্রস্তাব আসে, সত্যিই খুব খুশি হয়েছিলাম। পরিচালক কিশোর পাণ্ডুরং বেলেকর যেভাবে ছবির কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন, এ আর রাহমান যেভাবে সংগীত দিয়েছেন, সেটা দারুণ। তা ছাড়া বিজয় সেতুপতি, অরবিন্দ স্বামী ও সিদ্ধার্থ যাদবের মতো শিল্পীরা যুক্ত হয়েছেন—সব মিলিয়ে ছবিটা আমার কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমার চরিত্রটি শুধু প্রেমের আকর্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; গল্পের আবেগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

নির্বাক ছবির চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন অদিতি। তাঁর ভাষায়, ‘একজন অভিনেতার কাছে প্রতিটি ছবিই চ্যালেঞ্জিং। তবে নির্বাক ছবির চ্যালেঞ্জ আলাদা। এখানে সংলাপ নেই, তাই শরীরী ভাষা, চোখের অভিব্যক্তি আর ভেতরের অনুভূতির প্রকাশই হয়ে ওঠে প্রধান মাধ্যম। কিছু না বলেও অনুভূতি প্রকাশ করার প্রক্রিয়াটা আমি ভীষণ উপভোগ করেছি।’

‘গান্ধী টকস’–এ বিজয় ও অদিতি। এক্স থেকে
‘গান্ধী টকস’–এ বিজয় ও অদিতি। এক্স থেকে

নিরীক্ষাধর্মী ছবি নিয়ে দর্শকের মনোভাব প্রসঙ্গে অদিতি বলেন, ‘নির্বাক ছবি অনেক দর্শকের কাছেই নতুন অভিজ্ঞতা, তাই এর গতি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা প্রায়ই শুক্রবার মুক্তির পরই একটি ছবির ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলি। সত্যিটা হলো, এ ধরনের ছবির জন্য সময় দরকার। মন দিয়ে অনুভব করে দেখতে হয়।’
গত চার বছরে হিন্দি ছবিতে তাঁকে তুলনামূলক কম দেখা যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অদিতি বলেন, ‘বিষয়টা খুব সহজ। ভালো কাজ পেলে তবেই আমি হিন্দি ছবি করি। যারা বাইরে থেকে বলিউডে আসে, তাদের প্রতিটি ছবিতে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করতে হয়। এটা কোনো অভিযোগ নয়, বাস্তবতা। আমাদের একসঙ্গে পাঁচটি ছবির চুক্তি হয় না। প্রতিটি নতুন কাজেই নিজেকে আবার প্রতিষ্ঠা করতে হয়। ২০১১ সাল থেকে কাজ করছি। আমার বিশ্বাস, প্রতিভা শেষ পর্যন্ত নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নেয়।’

ভারতে বিনোদন–দুনিয়ায় কাজের সময়সীমা ও দীর্ঘ শিফট নিয়ে চলমান বিতর্কেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অদিতি। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই যন্ত্র নই। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় কাজ করা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করা স্বাভাবিক, কিন্তু তারপর কাজের মানও প্রভাবিত হয়। শিল্পীরা মন আর শরীর—দুটো দিয়েই কাজ করেন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া টানা কাজ করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।’

অদিতির মতে, সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে সময়ের ভারসাম্য অত্যন্ত জরুরি। ‘কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। ইন্ডাস্ট্রিতে এ বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া দরকার,’ বলেন তিনি।

অদিতি রাও হায়দারি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
অদিতি রাও হায়দারি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

নির্বাক ছবির মতো ভিন্ন ঘরানায় কাজের মাধ্যমে অদিতি আবারও জানিয়ে দিলেন, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই তিনি স্বচ্ছন্দ। এখন দেখার, দর্শক ‘গান্ধী টকস’কে কতটা সময় ও মনোযোগ দেন।

আবার আলোচনায় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। গত বছরের একটি ঘটনাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে ফেরার সময় মেহজাবীনের লাগেজে মদের বোতল পাওয়ার অভিযোগে বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন এই অভিনেত্রী।

মেহজাবীন চৌধুরী
মেহজাবীন চৌধুরী ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে ফেরার সময় মেহজাবীন চৌধুরীকে আটক করা হয়। অভিযোগ করা হয়, এ সময় তাঁর লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নির্মাতা ও প্রযোজক স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত।

 মেহজাবীন চৌধুরী
মেহজাবীন চৌধুরীছবি: ফেসবুক থেকে

কয়েক মাস পর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মেহজাবীন দাবি করেছেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

মেহজাবীন চৌধুরী
মেহজাবীন চৌধুরী শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন চৌধুরী লিখেছেন, ‘কিছুদিন ধরে আমি লক্ষ করছি, আমাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে। আপনারা অনেকেই জানেন, কিছুদিন আগেও একটি মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। বিজ্ঞ আদালত সেই মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

মেহজাবীন চৌধুরী
মেহজাবীন চৌধুরী ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে

একই পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে এআই ব্যবহার করে নারী শিল্পীদের সম্মানহানির প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর ভাষায়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওর কারণেও আমার মতো অনেক আর্টিস্টকে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা একেবারেই কাম্য নয়। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে। এর পেছনে কে বা কারা আছে, তা আমার জানা নেই। আমি শুধু আমার কাজেই ফোকাস করতে চাই, আমি চাই আমার কাজ নিয়েই আলোচনা হোক। আশা করি আপনারা সবাই পাশে থাকবেন।’

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব