• Colors: Yellow Color

যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প–সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী জেন ফন্ডা। গত শুক্রবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসের  সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান—‘নীরবতা ভাঙুন’ এবং ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান’।

শুক্রবার বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মধ্যেও শতাধিক সাংবাদিক, শিল্পী ও লেখক এই সমাবেশে অংশ নেন। জেন ফন্ডার নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উঠে আসে বই নিষিদ্ধ করা, রাজনৈতিক সেন্সরশিপ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নানা হুমকির অভিযোগ।

শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফন্ডা বলেন, দেশে বই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর স্মারক সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং শিল্প–সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ফন্ডা অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এসব প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘শিল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটি এখন এমন কিছুর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো দেশে ঘটছে।’

জেন ফন্ডা। রয়টার্স

কেন কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে প্রতিবাদ
এই সমাবেশের স্থান হিসেবে কেনেডি সেন্টার বেছে নেওয়া ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘অপছন্দনীয়’ বা তথাকথিত প্রগতিশীল কর্মসূচিগুলো সীমিত করার চেষ্টা করছে।

ফন্ডা বলেন, শিল্পীরা আদর্শিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এমনকি সংস্কারের অজুহাতে এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গণমাধ্যম ও করপোরেট প্রভাব
সমাবেশে উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক চাপ ও করপোরেট মালিকানার প্রভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, বড় বড় করপোরেশন গণমাধ্যম কিনে নিয়ে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চাইছে, যার ফলে ভিন্নমত বা সমালোচনার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

বই নিষিদ্ধ ও সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ
লেখক ও শিল্পীরা অভিযোগ করেন, শত শত বই স্কুল লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে তরুণ প্রজন্মের চিন্তার স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
একজন লেখক প্রশ্ন তোলেন, ‘যে বইগুলো সরানো হচ্ছে, সেগুলো কি সত্যিই বিপজ্জনক—নাকি আমরা ভিন্নমতের ভয় পাচ্ছি?’

ইতিহাসের প্রতিধ্বনি

সমাবেশে ইতিহাসের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫০-এর দশকের ম্যাককার্থিজমের সময় যেমন শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা টানেন বক্তারা।
তাঁদের মতে, শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতার অংশ।

শেষ বার্তা
সমাবেশের শেষে জেন ফন্ডা সতর্ক করে বলেন, যদি মানুষ এখনই প্রতিরোধ গড়ে না তোলে, তাহলে ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যম আরও নিয়ন্ত্রিত হবে, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সেন্সরশিপ বাড়বে এবং সমাজে মুক্তচিন্তার জায়গা সংকুচিত হবে।
তাঁর কথায়, ‘ভয় ছড়িয়ে পড়লে নীরবতা তৈরি হয়। আর সেই নীরবতাই সবচেয়ে বড় বিপদ। এখনই সময় কথা বলার।’

অভিনয় ক্যারিয়ার কিংবা ব্যক্তিজীবন—তিনি বরাবরই আলোচনায় যেমন ছিলেন, তেমনি তাঁকে ঘিরে নিয়মিত সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সেই অভিনেত্রী জুলিয়া স্টিলসের আজ জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তাঁকে নিয়ে জেনে নিতে পারেন জানা-অজানা কথাগুলো।
মাত্র ১১ বছর বয়সে থিয়েটারে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়। তবে সিনেমায় অভিনয় নিয়ে তাঁর তেমন আগ্রহ ছিল না।
মাত্র ১১ বছর বয়সে থিয়েটারে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়। তবে সিনেমায় অভিনয় নিয়ে তাঁর তেমন আগ্রহ ছিল না।ছবি: ইনস্টাগ্রাম
তাঁর চারপাশেই ছিলেন সিনেমার মানুষ। তাঁদের আগ্রহে জুলিয়া সিনেমার ছোট ছোট চরিত্র দিয়েই অভিনয়ে জায়গা করেন নেন। ‘টেন থিংস আই হেট অ্যাবাউট ইউ’ চলচ্চিত্র তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেয়। আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
তাঁর চারপাশেই ছিলেন সিনেমার মানুষ। তাঁদের আগ্রহে জুলিয়া সিনেমার ছোট ছোট চরিত্র দিয়েই অভিনয়ে জায়গা করেন নেন। ‘টেন থিংস আই হেট অ্যাবাউট ইউ’ চলচ্চিত্র তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেয়। আর পেছনে তাকাতে হয়নি।ছবি: ইনস্টাগ্রাম
দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে ব্যতিক্রম সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন, ‘আমি প্রিন্সের সঙ্গে একাধিকবার ডেট করেছি।’ মূলত ‘হ্যামলেট’ ও ‘দ্য প্রিন্স অ্যান্ড মি’ সিনেমায় ডেনমার্কের প্রিন্সের সঙ্গে প্রেম করেন।
দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে ব্যতিক্রম সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন, ‘আমি প্রিন্সের সঙ্গে একাধিকবার ডেট করেছি।’ মূলত ‘হ্যামলেট’ ও ‘দ্য প্রিন্স অ্যান্ড মি’ সিনেমায় ডেনমার্কের প্রিন্সের সঙ্গে প্রেম করেন।ছবি: ইনস্টাগ্রাম
বিভিন্ন সময় তিনি পছন্দের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু ২০০৫ সালে তাঁকে ছাড়তে হয় ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’। সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় আরও ঘুরিয়ে দিতে পারত। সিনেমাটি ছাড়ায় আফসোস এখনো রয়ে গেছে।
বিভিন্ন সময় তিনি পছন্দের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু ২০০৫ সালে তাঁকে ছাড়তে হয় ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’। সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় আরও ঘুরিয়ে দিতে পারত। সিনেমাটি ছাড়ায় আফসোস এখনো রয়ে গেছে।ছবি: ইনস্টাগ্রাম
প্রেম, বিয়ে নিয়ে তিনি অনেক আলোচিত। ক্যারিয়ারে একাধিকবার সুন্দরী ও যৌন আবেদনময়ীর তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।
প্রেম, বিয়ে নিয়ে তিনি অনেক আলোচিত। ক্যারিয়ারে একাধিকবার সুন্দরী ও যৌন আবেদনময়ীর তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।ছবি: ইনস্টাগ্রাম
এমি, গোল্ডেন গ্লোবে মনোনয়ন পাওয়া এই অভিনেত্রী ব্যক্তিজীবনে মনে করেন, ‘যত সময় দর্শকদের ক্রাশ থাকা যায়, তত সময়ই তারকাদের নিয়ে আলোচনা হয়। আমি সব সময় চেয়েছি, অভিনেত্রী হিসেবে দর্শক আমাকে মনে রাখুক।’
এমি, গোল্ডেন গ্লোবে মনোনয়ন পাওয়া এই অভিনেত্রী ব্যক্তিজীবনে মনে করেন, ‘যত সময় দর্শকদের ক্রাশ থাকা যায়, তত সময়ই তারকাদের নিয়ে আলোচনা হয়। আমি সব সময় চেয়েছি, অভিনেত্রী হিসেবে দর্শক আমাকে মনে রাখুক।’ছবি: ইনস্টাগ্রাম

টেলিভিশন আর ওটিটির চেনা মুখ পারসা ইভানা। আজ সকালে বেশ কয়েকটি নতুন ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক পারসা সম্পর্কে কিছু তথ্য—

 আজ একগুচ্ছ নতুন ছবি পোস্ট করে পারসা লিখেছেন, ‘তবু মনে রেখ’। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
আজ একগুচ্ছ নতুন ছবি পোস্ট করে পারসা লিখেছেন, ‘তবু মনে রেখ’। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
ছবিগুলোতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াতে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
ছবিগুলোতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াতে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
এসব ছবি তাঁর ভক্তরাও বেশ পছন্দ করেছেন, আট ঘণ্টায় ২২ হাজার প্রতিক্রিয়া এসেছে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
এসব ছবি তাঁর ভক্তরাও বেশ পছন্দ করেছেন, আট ঘণ্টায় ২২ হাজার প্রতিক্রিয়া এসেছে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
পারসাকে এবারের ঈদে দেখা গেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের ‘একসাথে আলাদা’ ওয়েব প্রকল্পে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
পারসাকে এবারের ঈদে দেখা গেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের ‘একসাথে আলাদা’ ওয়েব প্রকল্পে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
 
সব সম্পর্ক সুখের গল্পে গিয়ে শেষ হয় না। কখনো কখনো দুজন মানুষ একই ছাদের নিচে থেকেও দূরে সরে যায়, সম্পর্ক থেকে হারিয়ে যায় উষ্ণতা। এমনই এক সম্পর্কের গল্প নিয়েই ‘একসাথে আলাদা’। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
সব সম্পর্ক সুখের গল্পে গিয়ে শেষ হয় না। কখনো কখনো দুজন মানুষ একই ছাদের নিচে থেকেও দূরে সরে যায়, সম্পর্ক থেকে হারিয়ে যায় উষ্ণতা। এমনই এক সম্পর্কের গল্প নিয়েই ‘একসাথে আলাদা’। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
রেজাউর রহমানের ওয়েব ফিকশনটিতে পারসার জুটি ইয়াশ রোহান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
রেজাউর রহমানের ওয়েব ফিকশনটিতে পারসার জুটি ইয়াশ রোহান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
এর আগে গত বছর মুক্তি পাওয়া চরকির ওয়েব ফিল্ম ‘ডিমলাইট’–এ পারসার অভিনয় প্রশংসিত হয়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
এর আগে গত বছর মুক্তি পাওয়া চরকির ওয়েব ফিল্ম ‘ডিমলাইট’–এ পারসার অভিনয় প্রশংসিত হয়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
 
শরাফ আহমেদ জীবনের ওয়েব ফিল্মটিতে পারসার সঙ্গে ছিলেন মোশাররফ করিম। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
শরাফ আহমেদ জীবনের ওয়েব ফিল্মটিতে পারসার সঙ্গে ছিলেন মোশাররফ করিম। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

তেত্রিশ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। বুধবার ছিল এ সিনেমার মুক্তির দিন। সোহানুর রহমান সোহানের এ ছবির মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা পেয়েছিলেন দুটি নতুন মুখ—মৌসুমী ও সালমান শাহ। প্রথম ছবিতেই তাঁরা বাজিমাত করেন, অভিনয় দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেন। ৩০ বছর আগে সালমান শাহ মারা যান। মৃত্যুর আগে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। সব কটি ছিল জনপ্রিয় ও ব্যবসায়িকভাবে সফল। তবে এক ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে সালমান শাহ মানুষের মনে থাকবেন বহুকাল।

সালমান-মৌসুমীর জন্য নয়, নির্মাণের জাদুতেই ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। এতে শিল্পীদের কোনো হাত নেই। কারণ, কেন্দ্রীয় চরিত্র সালমান শাহ-মৌসুমী—দুজনই ছিলেন নবাগত।

কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির কাজ চলাকালীন স্টুডিওতে মৌসুমী ও সালমানের সঙ্গে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান
কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির কাজ চলাকালীন স্টুডিওতে মৌসুমী ও সালমানের সঙ্গে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান
 

ছবির গুণেই এটি আজও মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে। এমনটাই মনে করেন এ ছবির পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। ২০২২ সালের ২৪ মার্চে প্রথম আলোর কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘৩০ বছর পর এসে কেউ আয়োজন করে আমার সিনেমার কথা স্মরণ করছেন, এটা তো অবশ্যই ভালো লাগার। আমাদের চলচ্চিত্রের জন্যও খুব ভালো দিক। তবে খুব বেশি করে ৩০ বছর আগের দিনটা মনে পড়ছে। কীভাবে ছবিটা মুক্তি পেল, কীভাবে ব্যবসা করল, আমি কিংবা আমার ছবির শিল্পীরা এ ছবির বদৌলতে কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। এই দিনে এসব মনে পড়ছে।’

কীভাবে এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মৌসুমী? জানতে চাইলে এই চিত্রনায়িকা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছবির প্রস্তাবগুলো আসত গুলজার (পরিচালক মুশফিকুর রহমান) ভাইয়ের মাধ্যমে, তখন তিনি ছিলেন সাংবাদিক। আমার সাক্ষাৎকারের পরিকল্পনা করেন। সোহান ভাই বন্ধু হয়ে ঢাকায় আমাদের মোহাম্মদপুরে হ‌ুমায়ুন রোডের বাসায় এসেছিলেন। সেখানেই চলচ্চিত্রে আগ্রহী কি না, কৌশলে জানতে চান। তখন আমি স্থিরচিত্র আর বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়েই খুশি ছিলাম। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই নাটকে অভিনয়ের চেষ্টা করিনি। গুলজার ভাই বললেন, ‘ধরুন, হিন্দি ছবি “কেয়ামত সে কেয়ামত তক” যদি বাংলায় রিমেক হয়, আপনি জুহি চাওলার চরিত্রটা করবেন, আমির খানের চরিত্রে নোবেল, তৌকীর আহমেদ কিংবা জাহিদ হাসানও হতে পারেন।’

কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে সালমান শাহ ও মৌসুমী
কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে সালমান শাহ ও মৌসুমী

তাঁরা জানতেন, তৌকীর ভাই আর নোবেল ভাইয়ের ভক্ত আমি। তখন কিছুটা আগ্রহী হলাম। কারণ, সহশিল্পী হিসেবে পছন্দের শিল্পীরা থাকবেন। আমি তখন থেকে স্বপ্ন দেখা শুরু করি। কীভাবে বাসায় বলা যায়, উপায় খুঁজছি। এরপর আরও অনেক ছবির প্রস্তাব পেয়ে আমি দ্বিধায় পড়ে যাই। মনে মনে বাছাই করতে থাকি, কার ছবি করব? ঘুরেফিরে দেখি, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে প্রথম দিনের সংলাপ কী ছিল, জানতে চাইলে মৌসুমী বলেন, ‘প্রথম দিন ক্যামেরার সামনে ভয়ে কাঁপছিলাম। একটি দৃশ্য ছিল, ওই দিন একটা বাইকে সালমান আর আমি এফডিসি থেকে কাঁচপুরে গেছি। আবার ফিরে আসি। “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবিতে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ছিল ওটা।’
সালমান শাহর সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল মৌসুমীর। কথায় কথায় তেমনটাই জানালেন ঢালিউডের ‘প্রিয়দর্শিনী’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তখন খুলনায় থাকতাম। ছোটবেলায় ইমন (সালমান শাহর ডাকনাম) আর আমি প্লে গ্রুপ ও নার্সারিতে একসঙ্গে পড়েছি। ওই স্কুলে আমার ফুফু ছিলেন টিচার। ফুফুর ছুটি হওয়া পর্যন্ত ইমনদের বাসায় আড্ডা দিতাম। সেও আমাদের বাসায় যাওয়া-আসা করত। ভালো বন্ধুত্ব হয়। এরপর হঠাৎ ওরা ঢাকায় চলে আসে। বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর দেখা হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা থাকে, তা ছবিটি করতে গিয়ে নতুন করে টের পাই। ছবির কাজ করার সময় আমাদের দেখা হয়। আবেগাপ্লুত হলাম। অল্প কয়েক দিনেই আমাদের সম্পর্ক আবার আগের রূপ নেয়। নিজেদের সবকিছুই একজন আরেকজনের সঙ্গে শেয়ার করতাম। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে তো পরিচালক সোহান ভাই একপর্যায়ে ভুল বুঝতে শুরু করলেন। তিনি ভাবলেন, আমরা একজোট হয়ে গেছি।’

ছবিটি এতটা সাড়া ফেলবে, ভেবেছিলেন কি? ‘এটা যে প্রেমের আদর্শ গল্প হয়ে যাবে, এই জুটি যে প্রেমের আদর্শ জুটি হবে, প্রিয় জুটি হয়ে উঠবে—ভাবিনি। এত বড় স্বপ্ন মানুষ দেখতে পারে না। যখন পেছনে ফিরে তাকাই, দেখা যায়, এই স্বপ্ন যদি দেখতাম, তাহলে স্বপ্ন দেখেই মারা যেতাম। ২৫ বছর সমানতালে জনপ্রিয় থাকবে একটা ছবি, আমাকে “কেয়ামত-কন্যা” ডাকবে! এখনো সালমান মানে আমি, আমি মানে সালমান যে ভাববে, অথবা “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবির প্রতিটি গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে স্পর্শ করবে—এসব ভাবার মতো শক্তি আল্লাহ দেননি। এটা আল্লাহর দান। এটা মানুষ কখনো সৃষ্টি করতে পারে না’, বলেন মৌসুমী।

সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়
সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়
 

জানা গেছে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড হিন্দি ‘সনম বেওয়াফা’, ‘দিল’ ও ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’–এর কপিরাইট নিয়ে সোহানুর রহমান সোহানের কাছে আসে এর যেকোনো একটির রিমেক করার জন্য। উপযুক্ত নায়ক-নায়িকা খুঁজে না পেয়ে সম্পূর্ণ নতুন মুখ দিয়ে ছবি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। নায়িকা হিসেবে মৌসুমীকে নির্বাচন করে। নায়ক হিসেবে প্রথমে তৌকীর আহমেদ ও পরে আদিল হোসেন নোবেলকে প্রস্তাব দিলে তাঁরা ফিরিয়ে দেন। তখন নায়ক আলমগীরের সাবেক স্ত্রী খোশনুর আলমগীর ‘ইমন’ নামের এক ছেলের সন্ধান দেন। প্রথম দেখাতেই তাঁকে পছন্দ করেন পরিচালক এবং ‘সনম বেওয়াফা’ রিমেকের জন্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু ইমন ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর জন্য পীড়াপীড়ি করেন। এ ছবি তিনি ২৬ বার দেখেছেন। শেষ পর্যন্ত পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন এবং ইমনের নাম পরিবর্তন করে সালমান শাহ রাখা হয়।
আমির খান ও জুহি চাওলা অভিনীত ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ চলচ্চিত্রের কাহিনি লিখেছেন নাসির হোসেন আর পরিচালনা করেন মনসুর খান। এদিকে বাংলাদেশে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন সোহানুর রহমান সোহান এবং সংলাপ লিখেছেন আশীষ কুমার লোহ। প্রযোজক সুকুমার রঞ্জন ঘোষের আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেডের ব্যানারে নির্মিত হয় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। ছবিতে সালমান-মৌসুমী ছাড়াও অভিনয় করেন রাজীব, আহমেদ শরীফ, আবুল হায়াত, খালেদা আক্তার কল্পনা, মিঠু, ডন, জাহানারা আহমেদ, অমল বোসসহ অনেকে।

ভারতের টেলিভিশন দুনিয়ায় আবার বিতর্ক। দঙ্গল টিভির জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘রিমঝিম-ছোটি উমর বড়া সফর’ এখন নেটিজেনদের কাঠগড়ায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী অভিনেত্রীকে দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতার সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’ দৃশ্য শুট করানোর অভিযোগে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

টিভি শো ‘রিমঝিম’–এর একটি পর্ব নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। দঙ্গল টেলিভিশনের এই মেগা সিরিয়াল বেশ চর্চিত। নায়ক-নায়িকার রসায়ন বরাবরই পছন্দ করেন দর্শক। সিরিয়ালটির মূল বিষয়বস্তু এক কিশোরী ও এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রেম। এতে ১৬ বছর বয়সী যশিকা শর্মা কিশোরী ‘রিমঝিম’-এর চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং তাঁর বিপরীতে রয়েছেন ২৪ বছর বয়সী অভিনেতা হিমাংশু অবস্থি।

টিভিতে দেখানো হয়েছে, দুজনের একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য। অনেক দর্শকের প্রধান আপত্তির জায়গাগুলো হলো, কীভাবে ১৫-১৬ বছরের একটি মেয়েকে এ ধরনের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করানো হচ্ছে এবং কেন এটি আইনিভাবে বৈধ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। দর্শকদের দাবি, যদি চরিত্রের প্রয়োজনে এ ধরনের দৃশ্যের দরকার হয়, তবে কেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী কোনো অভিনেত্রীকে নেওয়া হলো না?

‘রিমঝিম-ছোটি উমর বড়া সফর’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘রিমঝিম-ছোটি উমর বড়া সফর’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই যশিকার মা-বাবা ও অভিভাবকদের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। কেন তাঁরা ১৬ বছরের মেয়েকে এমন দৃশ্যে অভিনয়ের অনুমতি দিলেন, তা নিয়েও ক্ষুব্ধ অনেকে। অনেকে রিম শেখ এবং সেহবান আজিমের উদাহরণ টেনে এনে বলেছেন যে ভারতীয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে নাবালিকা নায়িকাদের এভাবে ব্যবহার করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অনেকে ইয়াশিকার বাবা-মা বা অভিভাবকদের পদক্ষেপ নিতে এবং এই সিরিয়াল বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিনেতা, প্রযোজনা সংস্থা বা চ্যানেলটি এখন পর্যন্ত পর্বটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

মালয়ালম সিনেমার একসময়ের আলোচিত মুখ প্রজ্ঞা মার্টিন। অল্প বয়সেই বড় তারকার ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের মাঝপথে বিতর্ক, বিশেষ করে একটি মাদক মামলার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ায় তাঁর পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়। তবু শেষ পর্যন্ত সেই মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে আবার নতুনভাবে পথচলার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।

বড় তারকার ছবিতে অভিষেক
প্রজ্ঞা মার্টিন প্রথমবার সিনেমায় অভিনয় করেন কিশোরী বয়সে। তাঁর অভিষেক হয় মালয়ালম তারকা মোহনলালের অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘সাগর অ্যালিয়াস জ্যাকি রিলোডেড’ ছবিতে। এটি মূলত ১৯৮৭ সালের সিনেমা ‘ইরুপাথাম নোত্তানডু’র স্পিন-অফ। যদিও এটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি, তবু ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকের নজর কাড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। বিশেষ করে মোহনলালের সঙ্গে তাঁর কয়েকটি দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিল।

ধীরে ধীরে পরিচিতি
অভিষেকের পরপরই প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ার খুব দ্রুত এগোয়নি। কয়েক বছর পরে তিনি ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় মালয়ালম ছবি ‘উস্তাদ হোটেল’-এ। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন দুলকার সালমান, নিত্যা মেনন। সিনেমার পাশাপাশি প্রজ্ঞা তখন মডেলিংয়েও যুক্ত হন। ধীরে ধীরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি।

তামিল হরর ছবিতে জনপ্রিয়তা
প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে তামিল হরর সিনেমা ‘পিসাসু’র মাধ্যমে। ভৌতিক আবহে নির্মিত এই সিনেমা মুক্তির পর দ্রুতই দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পায়। ছবিতে প্রজ্ঞার উপস্থিতি তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি তখন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মালয়ালম সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
পরে প্রজ্ঞা মার্টিন আবার মালয়ালম সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। একপর্যায়ে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের সঙ্গে একটি ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। ধীরে ধীরে তাঁর ক্যারিয়ার এগোচ্ছিল এবং তিনি মালয়ালম ও তামিল—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করছিলেন।

প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বিতর্কে থমকে যাওয়া ক্যারিয়ার
ক্যারিয়ারের এই সময়েই হঠাৎ বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। কুখ্যাত এক গ্যাংস্টারের সঙ্গে যুক্ত মাদক মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। এই ঘটনায় দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয় এবং তাঁর ক্যারিয়ারও হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক প্রযোজক ও পরিচালক তখন তাঁকে নিয়ে কাজ করতে অনাগ্রহ দেখান।

প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মামলায় অবশেষে স্বস্তি
দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে ওই মাদক মামলায় প্রজ্ঞা মার্টিনকে ক্লিন চিট দেওয়া হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে আসে। কারণ, এই মামলার কারণে দীর্ঘদিন তিনি নেতিবাচক প্রচারের মধ্যে ছিলেন।

মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবার নতুনভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন প্রজ্ঞা মার্টিন। যদিও আগের মতো নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না তাঁকে, তবু অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব