• Colors: Yellow Color

স্ট্রিমিং দুনিয়ায় ২০২৬ চমক, প্রত্যাবর্তন আর নতুন গল্পের প্রতিযোগিতা নিয়ে এসেছে। বছরের প্রথম চার মাসেই দর্শকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একাধিক সিরিজের নাম। এই প্রথম চার মাসের সেরা ৫০টি সিরিজ নিয়ে গার্ডিয়ান প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।

এসব সিরিজ দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিছু সিরিজে রয়েছে গল্প বলার অভিনবত্ব, কিছু কিছু সিরিজ দর্শক মাতিয়েছে অভিনয় ও নির্মাণশৈলীতে। অপরাধ, রাজনীতি, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, পারিবারিক নাটক থেকে শুরু করে ব্যঙ্গাত্মক কমেডি—বিভিন্ন ঘরানার এসব সিরিজই প্রমাণ করেছে, ছোট পর্দার গল্প বলার শক্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তার প্রমাণ বছরের সবচেয়ে আলোচিত প্রথম চার মাসের সাত সিরিজ। কী আছে সিরিজগুলোতে?

১. ‘দ্য পিট’ (এইচবিও ম্যাক্স)
আলোচিত সিরিজ ‘দ্য পিট’–এর দ্বিতীয় মৌসুম নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। প্রথম মৌসুমেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে ২০২৫ সালের অন্যতম আলোচিত টিভি সিরিজে পরিণত হয়েছিল এটি। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের সেরা সিরিজগুলোর সম্ভাব্য তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছে এই হাসপাতালভিত্তিক সিরিজ। এটি জানুয়ারির ৮ তারিখে এইচবিও ম্যাক্সে প্রচারিত হয়। এর গল্প একটি ব্যস্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘিরে। প্রতিদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে তারা যেমন কঠিন চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয়, তেমনি ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক চাপের সঙ্গেও লড়াই করতে হয়। বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা, টানটান পরিস্থিতি এবং চরিত্রগুলোর মানবিক সম্পর্কই সিরিজটির মূল আকর্ষণ।

 ‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজের পোস্টার
‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজের পোস্টার

২. ‘ইন্ডাস্ট্রি’ (এইচবিও)
লন্ডনের একটি প্রভাবশালী বিনিয়োগ ব্যাংকে কর্মরত তরুণ ব্যাংকারদের ঘিরে সিরিজের গল্প এগিয়ে চলে। কর্মকর্তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রতিযোগিতা, অর্থ, ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে তাদের করপোরেট দুনিয়ায় টিকে থাকার লড়াই দেখানো হয়। সিরিজটি প্রথম প্রচার শুরু হয় ২০২০ সালে। এ বছর জানুয়ারির ১১ তারিখে চতুর্থ কিস্তি প্রচার শুরু হয়। নতুন এই মৌসুমে কর্মকর্তাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, নৈতিক সংকট ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করে, যা দর্শকেরা পছন্দ করেছেন।

৩. ‘হাউ টু গেট টু হ্যাভেন ফ্রম বেলফাস্ট’ (নেটফ্লিক্স)
এটি একটি ডার্ক কমেডি ও রহস্যধর্মী সিরিজ। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে এটি প্রচারের পর থেকে আলোচনায় আসে। একই ধারার গল্প থেকে সিরিজটি দর্শকদের ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যায়। কী আছে এই সিরিজে? এর গল্প তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। যারা তাদের শৈশবের এক বন্ধুর মৃত্যুর পর সন্দেহ করতে শুরু করে যে ঘটনাটি যতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, আসলে ততটা নয়। তদন্ত করতে গিয়ে তারা ধীরে ধীরে এমন এক রহস্যময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যেখানে বন্ধুত্ব, অতীত ও সত্যের সীমারেখা মিশে যায়। এটি এ বছরের নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজের একটি।

‘দ্য ট্রেইটরস ইউকে’ সিরিজের পোস্টার
‘দ্য ট্রেইটরস ইউকে’ সিরিজের পোস্টার

৪. ‘দ্য ট্রেইটরস ইউকে’ (পিকক)
আলোচিত সিরিজ ‘দ্য ট্রেইটরস’ ইউকে নতুন করে এ বছর আলোচনায় এসেছে। এর চতুর্থ কিস্তি ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখে মুক্তি পেয়েছে। দর্শকদের জন্য এবারের গল্প একেবারেই নতুন ও একাধিক টুইস্টে ঘেরা ছিল। মূলত এটি একটি গেমভিত্তিক সামাজিক প্রতিযোগিতা। একদল প্রতিযোগী একটি নির্জন প্রাসাদে একত্র হয়, যেখানে কিছু বিশ্বাসঘাতক গোপনে ওত পেতে থাকে। অন্যরা বিশ্বস্ত হিসেবে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে একে অপরকে সন্দেহের তালিকায় এনে বাদ দেওয়ার প্রতিযোগিতা। আগের কিস্তি গতি হারালেও এবার সিরিজটি নিয়ে বলা হচ্ছে, চতুর্থ মৌসুমে এই প্রতিযোগিতা আরও জটিল, কৌশলনির্ভর ও নাটকীয় হয়ে উঠেছে, যা দর্শকদের জন্য টানটান উত্তেজনার অভিজ্ঞতা দেবে।

৫. ‘আউটল্যান্ডার’ (স্টারজেড)
সিরিজটির অষ্টম ও শেষ মৌসুম ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল বেশি। বলা যায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। দর্শকদের জন্য এক আবেগঘন সমাপ্তি নিয়ে এসেছে সিরিজটি। স্টারজেডের টাইম-ট্রাভেল ও রোমান্সভিত্তিক সিরিজটি দীর্ঘ যাত্রার শেষে সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছে। গল্প শুরু হয় ক্লেয়ার র‍্যান্ডাল নামের এক নারীর জীবনকে কেন্দ্র করে, যিনি রহস্যজনকভাবে অতীতে ফিরে যান এবং জেমি ফ্রেজারের সঙ্গে তাঁর প্রেম ও সংগ্রামের গল্প শুরু হয়। ইতিহাস, যুদ্ধ, প্রেম ও সময় ভ্রমণের মিশেলে গড়া এই সিরিজে শেষ মৌসুমে তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ, উত্তরাধিকার ও সময়ের জটিলতা আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে। ৬ মার্চ এটি প্রচারিত হয়েছে।

 
‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’ সিরিজের পোস্টার
‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’ সিরিজের পোস্টার

৬. ‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’ (অ্যাপল টিভি)
পঞ্চম মৌসুম দিয়ে এ বছরের আলোচিত সিরিজ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাপল টিভি প্লাসের বিকল্প ইতিহাসভিত্তিক মহাকাশ দৌড়ের ভিন্ন এক বাস্তবতার গল্প। যেখানে মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ওপর। রাজনৈতিক এই সিরিজের গল্প, সোভিয়েত ইউনিয়ন চাঁদে প্রথম পৌঁছে যায় এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত মহাকাশ প্রতিযোগিতা থেমে না গিয়ে আরও বিস্তৃত হয়। পঞ্চম মৌসুমে এই প্রতিযোগিতা চাঁদ পেরিয়ে মঙ্গলগ্রহ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যেখানে সম্পদ, রাজনীতি ও মানবিক সম্পর্কের সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পায়। মহাকাশের এ লড়াই দর্শকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এটি মার্চের ২৭ তারিখে প্রচারিত হয়।

৭. ‘হ্যাকস’ (এইচবিও)
অবশেষে আলোচনা দিয়ে শেষ হলো সিরিজ ‘হ্যাকস’–এর পঞ্চম ও শেষ মৌসুম। গত এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে এর শেষ সিজন প্রচারিত হয়। সমালোচনাকারীদের মতে, সিরিজটির শেষ পর্ব দর্শকদের জন্য ছিল একই সঙ্গে চমকপ্রদ এবং গল্পের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই। শেষ মুহূর্তগুলো এমনভাবে নির্মিত হয়েছে, যা সিরিজের সামগ্রিক সফলতাকে পূর্ণতা দিয়েছে। কী আছে সিরিজের গল্পে? লাস ভেগাসের এক কিংবদন্তি কমেডিয়ান এবং এক তরুণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী লেখকের সম্পর্ক ঘিরেই এই সিরিজ শুরুতে জনপ্রিয়তা পায়। গল্পের নানা স্তরে রয়েছে রহস্য। বয়স, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সংঘর্ষ থেকে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে জটিল পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক। শেষ মৌসুমে এসে এই সম্পর্কের পরিণতি এবং শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের বাস্তবতা আরও গভীরভাবে উঠে এসেছে।
সূত্র: টিভিগাইড ডট কম

এইচবিওতে চলছে ‘ইউফোরিয়া’র তৃতীয় ও শেষ মৌসুম। সিরিজে সিডনি সুইনি অভিনীত ক্যাসি চরিত্রটিকে দেখানো হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে। মুক্তির পর থেকেই চরিত্রটির উপস্থাপন নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। এবার প্রতিবাদ জানালেন, প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফর্ম ‘অনলিফ্যানস’–এর নির্মাতা ও প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। তাঁদের অভিযোগ, সিরিজটি যৌনকর্মীদের জীবনকে বিদ্রূপাত্মক ও অবাস্তবভাবে দেখিয়েছে।

চলচ্চিত্রবিষয়ক মার্কিন গণমাধ্যম ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইউফোরিয়া’–এর তৃতীয় মৌসুমে কিশোর–তরুণদের জীবন আরও অন্ধকার দিকে মোড় নেয়। স্যাম লেভিনসনের সিরিজটিতে এবার দেখা যায়, জেনডায়া অভিনীত রু চরিত্রটি মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং ঋণ শোধ করতে একটি স্ট্রিপ ক্লাবে কাজ শুরু করে। অন্যদিকে হান্টার শেফার অভিনীত জুলস চরিত্রটি একজন ধনীর ‘সুগার বেবি’ হিসেবে আয় করতে থাকে। আর ক্যাসি চরিত্রে সিডনি সুইনি খুলে বসে ‘অনলিফ্যানস’ অ্যাকাউন্ট, যাতে সে তার প্রেমিক নেটকে বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ হাজার ডলারের ফুলের খরচ জোগাড় করতে পারে। অর্থাৎ, সিরিজটির প্রধান তিনটি চরিত্রের সঙ্গেই যৌনতার যোগ রয়েছে।

সিরিজে দেখা যায়, ক্যাসি উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করছে। আবার অন্য এক দৃশ্যে তাকে শিশুর মতো সাজিয়ে সোফায় শোয়ানো হয়। এসব ছবি তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয় তার বাসার গৃহপরিচারিকাকে।

এই উপস্থাপনাই ক্ষুব্ধ করেছে বাস্তব জীবনের অনলিফ্যানস নির্মাতাদের। ২০১৭ সাল থেকে অনলিফ্যানসে কাজ করা নির্মাতা সিডনি লিথারস ভ্যারাইটিকে বলেন, ‘পুরো ব্যাপারটাই অত্যন্ত হাস্যকর ও কার্টুনের মতো। সিরিজে যেসব কনটেন্ট ক্যাসিকে করতে দেখানো হয়েছে, তার অনেক কিছুই বাস্তবে অনলিফ্যানসে অনুমোদিত নয়। বিশেষ করে শিশুর মতো সাজা—এসব কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার পরিপন্থী।’

‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও
‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলিফ্যানসের ‘অ্যাকসেপ্টেবল ইউজ পলিসি’ অনুযায়ী কোনো ধরনের অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সেজে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট প্রকাশ নিষিদ্ধ। এমন কনটেন্ট পোস্ট করলে অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও জনপ্রিয় অনলিফ্যানস নির্মাতা মেইটল্যান্ড ওয়ার্ডও সিরিজটির সমালোচনা করেছেন। এই অভিনেত্রীর মতে, সিরিজটি এমন ধারণা দিচ্ছে যেন যৌনকর্মীরা টাকার জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত।

মেইটল্যান্ড বলেন, ‘এমন সময়ে ক্যাসিকে শিশুর পোশাক পরিয়ে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বানানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে আবারও সেই পুরোনো ধারণা জোরালো হয় যে যৌনকর্মীদের কোনো নৈতিকতা নেই। হলিউড যেন বিষয়টিকে মজা হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু এতে হাসির কিছু নেই।’

তবে নির্মাতা স্যাম লেভিনসন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, ক্যাসির ‘অনলিফ্যানস’ গল্পে একধরনের অদ্ভুত হাস্যরস তৈরি করতে চেয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ক্যাসির দৃশ্যগুলোর মধ্যে আলাদা ধরনের হাস্যরস আছে। কিন্তু দৃশ্যগুলোর আসল মজা এসেছে গৃহপরিচারিকার মাধ্যমে, যে এগুলো ধারণ করছে।
স্যাম আরও বলেন, তাঁরা চেয়েছেন, দর্শক যেন ক্যাসির তৈরি করা কৃত্রিম জগতের ভেতরে ঢুকে পড়েন, আবার হঠাৎ বাইরে এসে পুরো বিষয়টির বিষণ্ন বাস্তবতাও দেখতে পারেন।

‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

কিন্তু নির্মাতার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেকে। মেইটল্যান্ড ওয়ার্ডের ভাষায়, ‘এতে পরিষ্কার বোঝা যায় যে অনলিফ্যানসের গল্পটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি; বরং এটি পুরুষ লেখকদের কল্পনার মতো মনে হয়েছে।’

তবে সিরিজের কিছু অংশকে বাস্তবসম্মতও মনে হয়েছে কিছু নির্মাতার কাছে। জনপ্রিয় অনলিফ্যানস নির্মাতা অ্যালিক্স লাইনেক্স বলেন, ক্যাসি যেভাবে ভাইরাল হওয়ার জন্য জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের পার্টিতে যায়, সেটি বাস্তবতার কাছাকাছি। তাঁর ভাষায়, ‘মার্কেটিংয়ের দিক থেকে এটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত। কিন্তু সিরিজে দেখানো হয়েছে, শুধু সুন্দর চেহারা আর কিছু পাগলামি করলেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা আসবে। বাস্তবে তা নয়। এখানে দীর্ঘ সময় ধরে ভক্তগোষ্ঠী তৈরি করতে হয়।’

২০১৯ সালে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে দুবাইয়ে প্রথম দেখা। ধীরে ধীরে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে, পরস্পরের আরও কাছাকাছি আসেন। প্রায় তিন বছর সম্পর্কে থাকার পর ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বিয়ে সারেন মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ার। বাঙালি ও মালায়লি—দুই রীতি মেনেই বিয়ে হয় তাঁদের। কিন্তু মাত্র চার বছরের দাম্পত্য নাকি ভেঙে গেছে! তাঁদের বিচ্ছেদের গুঞ্জনে মন খারাপ ভক্তদের। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মৌনী বা সুরজ—কেউই কিছু জানাননি।

বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনার সূত্রপাত কীভাবে? ইনস্টাগ্রামে তাঁরা নাকি একে অপরকে আনফলো করেছেন। শুধু তা–ই নয় মৌনী রায়ের প্রোফাইল থেকে নিশ্চিহ্ন সুরজ! বিষয়টি নেট নাগরিকদের নজরে আসতেই দাম্পত্যে ভাঙন নিয়ে জোর চর্চা নেট–দুনিয়ায়। একসময় থাকত স্বামী সুরজের ছবি, আর এখন অভিনেত্রীর ইনস্টা হ্যান্ডলে একটি ছবিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরপরই মৌনী-সুরজের বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। সিংহভাগ নেট নাগরিকের অনুমান, দাম্পত্যে চিড় ধরেছে। সম্ভবত তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আলোঝলমলে দুনিয়ার বাইরের মানুষ
মৌনী রায়ের মতো তারকাজীবনের সঙ্গে সুরজ নাম্বিয়ারের জগৎ একেবারেই আলাদা। তিনি শোবিজ অঙ্গনের কেউ নন। ভারতের বেঙ্গালুরুতে জন্ম নেওয়া সুরজ পেশায় একজন ব্যবসায়ী ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। দীর্ঘদিন দুবাইয়ে কাজ করেছেন তিনি।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সে ফিন্যান্সিয়াল ও ম্যানেজেরিয়াল অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন সুরজ। পরে দুবাইয়ে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্বও সামলাতে শুরু করেন।
গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন সুরজ। ফলে মৌনীর সঙ্গে সম্পর্কের সময়ও খুব একটা আলোচনায় আসেননি তিনি।

মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ার। কোলাজ
মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ার। কোলাজ

দুবাইয়ে শুরু প্রেমের গল্প
একসময় নির্মাতা অয়ন মুখার্জির সঙ্গে মৌনীর সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও অভিনেত্রী নিজের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আড়ালে রাখতে চেয়েছেন।
জানা যায়, ২০১৯ সালের নববর্ষ উদ্‌যাপনের সময় দুবাইয়ে পারস্পরিক পরিচিতদের মাধ্যমে প্রথম দেখা হয় মৌনী ও সুরজের। এরপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। প্রায় দুই বছর সম্পর্কের পর পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে গোয়ায় বসেছিল তাঁদের বিয়ের আসর।

একসঙ্গে ব্যবসাও
শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, ব্যবসায়িক অংশীদারও ছিলেন মৌনী ও সুরজ। ২০২২ সালে তাঁরা চালু করেন একটি এডটেক প্ল্যাটফর্ম। এরপর ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ে শুরু করেন বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ বদমাশ।

মৌনি রায়
মৌনি রায়এএফপি

কাজে ব্যস্ত মৌনী
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেও ক্যারিয়ারে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌনী রায়। সামনে মুক্তি পাচ্ছে ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’। এ ছাড়া তাঁকে ‘ব্রহ্মাস্ত্র ২’ ও মধুর ভান্ডারকরের নতুন সিনেমাতেও দেখা যাবে।

দক্ষিণি সিনেমার দর্শকের কাছে ২০০০–এর শুরুর সময়টা আজও এক নস্টালজিয়ার নাম। সেই সময় পর্দাজুড়ে ছিলেন রীমা সেন। ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’র চরিত্রে তামিল ও তেলুগু সিনেমার দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী আজ অনেকটাই আড়ালে। খ্যাতির শিখর ছুঁয়েও কেন তিনি আলো–ঝলমলে দুনিয়া ছেড়ে গেলেন—সে গল্পই যেন এক অন্য রকম জীবনচিত্র।

কলকাতায় জন্ম নেওয়া রীমা সেন খুব অল্প বয়সেই মডেলিং শুরু করেন। নব্বইয়ের শেষ দিকে জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। বিশেষ করে সেই সময়ের হিট অ্যালবাম ভিডিওগুলোয় তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি নির্মাতাদের নজর কাড়ে, আর সেখান থেকেই খুলে যায় সিনেমার দরজা।

সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি
সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি

২০০০ সালে তেলুগু ছবি ‘চিত্রাম’ দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু। প্রথম ছবিই দর্শকের মন জয় করে নেয়। কিন্তু সত্যিকারের তারকা হয়ে ওঠা তাঁর জন্য সময় নেয়নি খুব বেশি। ২০০১ সালে ‘মিনালে’ মুক্তি পাওয়ার পর রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে উঠে যান তিনি। ছবিটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন আর মাধবন।

‘ভাসেগারা’ গানটি যেন তাঁর ক্যারিয়ারের পরিচয় হয়ে ওঠে। কলেজ রোমান্সের আবহ, সরল অভিব্যক্তি আর একধরনের নির্ভেজাল পর্দা উপস্থিতি—সব মিলিয়ে রীমা সেন হয়ে ওঠেন সেই সময়ের রোমান্টিক সিনেমার অন্যতম মুখ। আজও গানটি বাজলে বহু দর্শকের চোখে ভেসে ওঠে তাঁর হাসি, তাঁর সহজ অভিনয়।

সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি
সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি

এরপর তামিল ও তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্নধর্মী চরিত্রেও দেখা যায় তাঁকে। কখনো রোমান্টিক নায়িকা, কখনো সাহসী বা নেতিবাচক চরিত্র—সবখানেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয়যাত্রা দক্ষিণি সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে বলিউডেও পৌঁছায়। ২০১২ সালে ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’–এ তাঁর উপস্থিতি সমালোচকদের নজর কাড়ে। সেই ছবিই হয়ে যায় তাঁর শেষ চলচ্চিত্র।

ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়েই ব্যক্তিগত জীবনের দিকে ঝুঁকে পড়েন রীমা সেন। ২০১২ সালে তিনি ব্যবসায়ী শিব করণ সিংকে বিয়ে করেন। পরের বছর মা হওয়ার পর প্রায় নিঃশব্দেই তিনি সিনেমা থেকে সরে যান। কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় নয়, কোনো ঘোষণা নয়—শুধু আলো থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া।

অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো আবার ফিরে আসবেন। কিন্তু রীমা নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। পরিবার, সন্তান আর ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি মিডিয়া আর লাইমলাইট থেকে দূরে থাকাকে বেছে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি খুব কম সক্রিয়, জনসমক্ষে দেখা মেলে আরও কম।

তবে আড়ালে থাকলেও রীমার জনপ্রিয়তা ফিকে হয়নি। পুরোনো গান, পুরোনো সিনেমা কিংবা দক্ষিণি সিনেমার নস্টালজিয়া ঘিরে আলোচনা উঠলেই ফিরে আসে তাঁর নাম।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

জঙ্গলের ভেতর অভিনেত্রী হাঁটছেন, পাশে দাঁড়িয়ে সাফারি গাড়ি—সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনা। প্রশ্ন ওঠে, বন বিভাগের নিয়ম ভেঙে কি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী রাকুলপ্রীত সিং? ভারতের গুজরাটের বিখ্যাত গির ন্যাশনাল পার্কে তাঁর সফরের ভিডিও ঘিরে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলতে হয় বন কর্মকর্তাদেরও।

সম্প্রতি নিজের নতুন ছবি ‘পতি পত্মী অউর ওহ দো’র প্রচারণার অংশ হিসেবে গির অরণ্যে গিয়েছিলেন রাকুল। সঙ্গে ছিলেন ছবির অন্য সদস্যরাও। সেখানকার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের একাংশ অভিযোগ তোলেন, সাধারণ পর্যটকদের যেখানে সাফারি গাড়ি থেকে নামার অনুমতি নেই, সেখানে একজন তারকাকে কীভাবে জঙ্গলে হাঁটার সুযোগ দেওয়া হলো? অনেকেই একে ‘সেলিব্রিটি প্রিভিলেজ’ বলেও মন্তব্য করেন।

রাকুলপ্রীত সিং। এএফপি
রাকুলপ্রীত সিং। এএফপি

তবে বিতর্ক বাড়তেই বিষয়টি পরিষ্কার করে গির উদ্যান কর্তৃপক্ষ। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভাইরাল ভিডিওটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে ধারণ করা হয়নি। এটি মূল অভয়ারণ্যে প্রবেশের নির্ধারিত গেটের বাইরের অংশে তোলা হয়েছিল।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আমাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলের মাধ্যমে আগেই ব্যাখ্যা দিয়েছি। ভিডিওটি সাসান অভয়ারণ্যের প্রবেশপথের বাইরের অংশে ধারণ করা হয়েছে। সংরক্ষিত এলাকায় ঢোকার পর কেউ গাড়ি থেকে নামতে পারেন না। ভাইরাল ভিডিওটি সেই সীমার বাইরের।’

বন কর্মকর্তাদের দাবি, নিয়ম ভাঙার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং রাকুলের সফরটি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। কারণ, অভয়ারণ্যে ঢোকার আগেই তিনি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন। পরে তাঁর দল তাঁকে নিয়ে ফিরে যায়। ফলে তিনি জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশই করেননি।

এই ব্যাখ্যার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক থামেনি পুরোপুরি। কারণ, তারকাদের ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল যেমন প্রবল, তেমনি তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপও নজরে রাখেন অনেকে। বিশেষ করে পরিবেশ, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বা সরকারি নিয়মের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সেলিব্রিটিদের উপস্থিতি প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন রাকুল। তাঁর নতুন ছবি ‘পতি পত্মী অউর ওহ দো’ মুক্তি পাচ্ছে ১৫ মে। ছবিতে তাঁর সঙ্গে আছেন আয়ুষ্মান খুরানা, সারা আলী খান ও ওয়ামিকা গাব্বি। ছবিটি পরিচালনায় রয়েছেন মুদাসসর আজিজ।
২০১৯ সালের জনপ্রিয় ছবি ‘পতি পত্নী অউর ওহ’–এর সিক্যুয়েল হিসেবে নির্মিত এই চলচ্চিত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আর মুক্তির আগেই গির অরণ্যের এই ভাইরাল ভিডিও নতুন করে আলোচনায় এনে দিলেন রাকুলপ্রীত সিংকে।

বলিউড হাঙ্গামা অবলম্বনে

হলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতনতা তৈরি হয়েছে। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’রা—যাঁদের কাজ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও সম্মান নিশ্চিত করা। সম্প্রতি এমনই একজন পরিচিত ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর ম্যাম স্মিথ খোলামেলা কথা বলেছেন এই পেশা, ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজের কাজ, জেনডায়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্তরঙ্গ দৃশ্য শুটিংয়ের বাস্তবতা নিয়ে।

‘ইন দ্য এনভেলপ: দ্য অ্যাক্টর’স পডকাস্ট’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাম স্মিথ জানান, ২০১৯ সালে তিনি যখন স্টান্ট পারফরমার থেকে ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকায় আসেন, তখন এই পেশা নিয়ে মানুষের ধারণাই ছিল না। এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘ওয়েস্টওয়ার্ল্ড’-এর তৃতীয় সিজনে কাজ করার সময় অনেকেই তাঁকে ভুল বুঝতেন।
তাঁর ভাষায়, ‘তখন কেউই জানত না ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর আসলে কী করেন। অনেকে ভাবতেন আমি বুঝি এইচআর বিভাগের কেউ, সবাইকে শাস্তি দিতে এসেছি। কেউ কেউ ভাবতেন আমার কাজই খবরদারি করা। কিন্তু আমি তাঁদের বোঝাতাম, আমি এখানে সাহায্য করতে এসেছি। যোগাযোগ সহজ করতে এসেছি।’

জেনডায়াকে নিয়ে ম্যাম স্মিথ বলেন, ‘যেকোনো সম্পর্কের মতোই এখানে বিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে একটা শর্টহ্যান্ড তৈরি হয়ে যায়। জেনডায়া আমাকে দেখলেই বুঝে যায়, “ঠিক আছে, ম্যাম বিষয়টা সামলে নেবে।” সে জানে আমি তার পাশে আছি, তাকে রক্ষা করব।’

‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও
‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও

জেনডায়ার মতো তারকার জন্য এই সমর্থন আরও জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। ‘সে খুব শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এত পরিশ্রম করে এখানে এসেছে। তার ওপর অনেক প্রত্যাশা থাকে। তাই তাকে নিরাপদ ও সমর্থিত অনুভব করানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে শুধু বড় তারকা নন, সেটে থাকা প্রত্যেক অভিনেতার প্রতিই একই রকম দায়িত্ববোধ কাজ করে ম্যাম স্মিথের। বিশেষ করে নতুন অভিনেতারা যাতে অস্বস্তিতে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করতে তিনি আলাদা গুরুত্ব দেন।

তাঁর মতে, অনেকে ভাবেন ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেশন মানে অনেক বাধা বা নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি উল্টো। এতে অভিনেতারা আরও স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করি, যেটাকে বলি “বডি ম্যাপিং”। সেখানে অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয়—কোথায় স্পর্শ নিরাপদ, কোথায় নয়। কেউ বলতে পারেন, “আমি চাই না আমার কোমরে হাত দেওয়া হোক”, কেউ বলেন, “আমার কান খুব সংবেদনশীল।”’

এই সীমারেখাগুলো আগে থেকেই পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। এরপর অভিনেতারা জানেন কোন জায়গার ভেতরে তাঁরা কাজ করছেন। ফলে দৃশ্যের সময় আর ভয় বা অস্বস্তি কাজ করে না।

‘ইউফোরিয়া ৩’–তে সিডনি সুইনি। এইচবিও
‘ইউফোরিয়া ৩’–তে সিডনি সুইনি। এইচবিও
 

ম্যাম স্মিথের ভাষায়, ‘যখন সীমারেখা পরিষ্কার থাকে, তখন আপনি অনেক বেশি স্বাধীনভাবে অভিনয় করতে পারেন। তখন আর মনে হয় না—আমি কি কোনো সীমা অতিক্রম করে ফেললাম? বরং পুরো বিষয়টা নিরাপদ একটা জায়গার মধ্যে থাকে।’
‘ইউফোরিয়া’র মতো সিরিজে যৌনতা ও সম্পর্ককে যেভাবে দেখানো হয়, তা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। তবে ম্যাম স্মিথ মনে করেন, এই ধরনের দৃশ্যের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক সম্মান ও সম্মতি।

তিনি জানান, বর্তমানে হলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্য শুটিংয়ের সংস্কৃতি অনেক বদলেছে। আগে যেখানে অভিনেতারা অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেন, এখন সেখানে আলোচনা, প্রস্তুতি ও সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর মতে, ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের কাজ শুধু দৃশ্য পরিচালনা নয় বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে অভিনেতারা নিজেদের নিরাপদ বোধ করেন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।

রেডিও  টাইমস অবলম্বনে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব