• Colors: Yellow Color

দেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি ছিল অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের। সেই অবস্থান থেকেই তিনি সব সময় কথা বলেছেন নাগরিক অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে। এবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশ নিয়ে নতুন আশার কথাই জানালেন এই অভিনেত্রী।

বাঁধন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঢাকা-১৬ আসনের ভোটার। মা–বাবাকে নিয়ে ভোট দিয়েছি। আমি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখছি। এভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়ে দেশ গঠনে কাজ করবে। সব ধর্ম-বর্ণের জন্য একটি নিরাপদ দেশ হবে, সেটাই প্রত্যাশা। আগামীর বাংলাদেশ একটি সাম্যের দেশ হবে। এখানে সবাই সবার অধিকার বুঝে পাবে।’

এবার জাতীয় নির্বাচনের দিনও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছেন বাঁধন। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর তিনি দেশ নিয়ে আশার কথাই জানান। তাঁর মতে, পরিবর্তনের পথ তৈরি হয় মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে, আর সেই অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমই ভোট।

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: ফেসবুক থেকে
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: ফেসবুক থেকে
 

বাঁধন বলেন, ‘কোনো রকম ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এভাবে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। যারা দেশের জনগণের জন্য কাজ করবে। সাম্য বজায় রাখবে। সবাই তাদের অধিকার বুঝে পাবে বলে আশা করি।’

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, ফেসবুক থেকে
 

দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দিকে নির্বাচিত সরকারের নজর থাকবে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। এ সময় বাঁধন আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরে প্রত্যাশা, তথ্য ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে এমন কেউ পাবেন যাঁরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে চিন্তা করবেন। এ ছাড়া বড় চাওয়া পেশাগত স্বীকৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে যেন দেওয়া হয়। এটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। কারণ, সামাজিকভাবে আমাদের পেশাকে খুব একটা ভালোভাবে দেখা হয় না। পেশার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকলে ভালো হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর আলোচনায় এসেছে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তাঁর স্ত্রী অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশার নাম। এক বছরের ব্যবধানে যেখানে ফারুকীর মোট সম্পদ কমেছে, সেখানে তিশার সম্পদ বেড়েছে দেড় কোটি টাকার বেশি।

নুসরাত ইমরোজ তিশা ও  মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
নুসরাত ইমরোজ তিশা ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সম্পদ বিবরণী গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের স্ত্রী অথবা স্বামীর ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী প্রায় আট মাসের হিসাব এখানে দেওয়া হয়নি।

নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ
নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ, ছবি : তিশার সৌজন্যে
 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশার মোট সম্পদ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। প্রজ্ঞাপন মতে, এক বছরে তিশার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার
 

অন্যদিকে একই সময়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তাঁর মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে ফারুকীর সম্পদের পরিমাণ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

হলিউড ও আন্তর্জাতিক সংগীতজগতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে একটি নাম—জেফরি এপস্টিন। মৃত এই কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসতেই এবার বড় সংকটে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ট্যালেন্ট ও মিউজিক এজেন্সি ওয়াসারম্যান মিউজিক এজেন্সি। এজেন্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নিবার্হী কেসি ওয়াসারম্যানের সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক শিল্পী প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সপ্তাহেই ওয়াসারম্যান এজেন্সির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। শিল্পী, এজেন্ট ও নির্বাহীদের চাপের মুখে কেসি ওয়াসারম্যানের পদত্যাগ, কোম্পানি বিক্রি কিংবা বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শিল্পীদের বিদায় ও শর্ত
ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াসারম্যান এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত একাধিক শীর্ষ শিল্পী ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সূত্রের দাবি, শিল্পীদের প্রতিনিধিরা কেসি ওয়াসারম্যানকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন—তাঁকে হয় সরে দাঁড়াতে হবে, নয়তো কোম্পানির মালিকানা ছাড়তে হবে।

এ পরিস্থিতিতে কেসি ওয়াসারম্যান এজেন্সির শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন, যেখানে ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক হবে। শুধু সংগীত ব্যবসায় নয়, তিনি বর্তমানে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানেও তাঁর পদত্যাগের দাবিতে চাপ বাড়ছে।
একটি সূত্র ভ্যারাইটিকে বলেছে, এটা যেন আগুনে পুড়ে যাওয়া একটা বাড়ি। পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।

চ্যাপেল রোন। ছবি: রয়টার্স
চ্যাপেল রোন। ছবি: রয়টার্স

কারা কারা ছাড়ছেন
ওয়াসারম্যান এজেন্সি ছাড়ার তালিকায় প্রথম দিকেই ছিলেন বেস্ট কোস্ট ব্যান্ডের গায়িকা বেথানি কসেন্তিনো। এরপর যুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় পপশিল্পী চ্যাপেল রোন এবং ইন্ডি মিউজিকের পরিচিত নাম ওয়েনসডে, ওয়াটার ফ্রম ইয়োর আইজ, বিচ বানিসহ আরও অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে অনেক শিল্পী স্পষ্ট করেছেন, এপস্টিন ও ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার খবর তাঁদের গভীরভাবে বিচলিত করেছে। এর ফলেই তাঁরা ওয়াসারম্যানের সঙ্গে আর যুক্ত থাকতে চান না।

বড় ধাক্কা
ওয়াসারম্যান মিউজিক এজেন্সি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগীত এজেন্সিগুলোর একটি। তাদের শিল্পী তালিকায় ছিলেন বা আছেন এড শিরান, কোল্ডপ্লে, চাইল্ডিশ গ্যাম্বিনো, কেনড্রিক লামার, লর্ডে, ফিশ, রায়ে, সিজা, জনি মিচেল, টেইলার, দ্য ক্রিয়েটরসহ অনেকেই।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এজেন্সিটির ওয়েবসাইট থেকে এই শিল্পীদের তালিকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিল্পীদের অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শিল্পী বনাম এজেন্ট: জটিল সমীকরণ
এই সংকট শুধু শিল্পীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে এজেন্টদের ক্ষেত্রেও। কারণ, সাধারণত এজেন্টরা তিন থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে বাধা থাকেন। অন্যদিকে শিল্পীরা তুলনামূলকভাবে সহজেই এজেন্সি বদলাতে পারেন।
হলিউডে বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শিল্পীরা তাঁদের এজেন্সির চেয়ে ব্যক্তিগত এজেন্টের প্রতি বেশি অনুগত থাকেন। ফলে এক এজেন্ট যদি অন্য প্রতিষ্ঠানে যান, অনেক শিল্পীও তাঁর সঙ্গে চলে যান। ওয়াসারম্যান সংকটের ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সংকট এখন সর্বোচ্চ উত্তেজনার পর্যায়ে
সূত্রের দাবি, সংকট এখন সর্বোচ্চ উত্তেজনার পর্যায়ে। ওয়াসারম্যান এজেন্সির অভিজ্ঞ নির্বাহীরা, যেমন মার্টি ডায়মন্ড, ডাফি ম্যাকসুইগিনসহ আরও অনেকে একত্র হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কোনোভাবে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে কোম্পানিটি কেনার প্রস্তাবও এসেছে। এমনকি নির্বাহীরা নিজেরাই এজেন্সির কোনো অংশ কিনে নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব কতটা বাস্তবসম্মত, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জেফরি এপস্টিন
জেফরি এপস্টিনফাইল ছবি: রযটার্স

এপস্টিন সংযোগ: কী জানা গেছে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেসি ওয়াসারম্যান সরাসরি জেফরি এপস্টিনের কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০০২ সালে একটি মানবিক সফরে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে একবার ভ্রমণ করেছিলেন কেসি ওয়াসারম্যান।
এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তিনি আপত্তিকর ও ব্যক্তিগত ই–মেইল বিনিময় করেছিলেন, যা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনাগুলো ঘটেছিল এপস্টিনের অপরাধ প্রকাশ পাওয়ার বহু বছর আগে।
এই সংযোগের জন্য কেসি ওয়াসারম্যান প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, ‘আমি তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্কের জন্য ভীষণভাবে দুঃখিত।’
কেসি ওয়াসারম্যান আরও জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং সামাজিক কাজে সক্রিয়।

আগের কেলেঙ্কারি: দেড় বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ধাক্কা
এই সংকট কেসি ওয়াসারম্যানের জন্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, প্যারিস অলিম্পিক চলাকালীন, তার বিরুদ্ধে আরও একটি বড় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, তিনি বহু বছর ধরে জুনিয়র কর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
সেই সময় এই অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হলেও ধীরে ধীরে তা কিছুটা স্তিমিত হয়ে যায়। তবে এবার এপস্টিন সংযোগের খবর সামনে আসায় আগের অভিযোগগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এড শিরান। রয়টার্স
এড শিরান। রয়টার্স

বেথানি কসেন্তিনোর স্পষ্ট বার্তা
বেস্ট কোস্ট ব্যান্ডের গায়িকা বেথানি কসেন্তিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘শোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত কারও সঙ্গে আমার নাম বা ক্যারিয়ার যুক্ত থাকুক, এতে আমি সম্মতি দিইনি। চুপ করে থাকা আমার বিবেকের সঙ্গে যায় না।’
এই বক্তব্য অনেক শিল্পীর মনোভাবই প্রতিফলিত করছে।

অলিম্পিক দায়িত্বেও চাপ
ওয়াসারম্যান শুধু সংগীতজগতেই নন, ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চলমান এই কেলেঙ্কারির কারণে সেখানে থেকেও তার সরে দাঁড়ানোর দাবি উঠছে।
ভবিষ্যৎ কোন পথে?
সব মিলিয়ে ওয়াসারম্যান মিউজিক এজেন্সি এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে। শিল্পীদের বিদায়, এজেন্টদের অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাব এবং এপস্টিন-সংযোগের নেতিবাচক ভাবমূর্তি—সবকিছু মিলিয়ে কোম্পানির ভবিষ্যৎ এই সপ্তাহেই বড় মোড় নিতে পারে।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

‘প্রিন্স’ ছবির শুটিংয়ের পর দুই সপ্তাহের বিরতি, এরপরই শুরু হবে ‘রকস্টার’–এর কাজ। শাকিব খানের ঈদুল আজহার এই ছবিতে নায়িকা থাকছেন দুজন। প্রধান নায়িকা এখনো চূড়ান্ত না হলেও দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে খুব জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ তানজিয়া জামান মিথিলার নাম।

শাকিব খান
শাকিব খান, ফেসবুক থেকে

‘রকস্টার’ ছবির পরিচালক আজমান রুশোর কাছে গতকাল রোববার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে এখনই কোনো কথা বলতে পারছি না। দু–তিন দিনের মধ্যে আমরা দ্বিতীয় নায়িকার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব। চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ নিয়ে কিছুই বলতে পারছি না।’

তানজিয়া মিথিলাও এ বিষয়ে একেবারে চুপ। শুধু জানালেন, সবকিছু চূড়ান্ত হোক, তবেই সিনেমা নিয়ে কথা বলতে পারব।

তানজিয়া জামান মিথিলা
তানজিয়া জামান মিথিলাশিল্পীর সৌজন্যে

তবে সিনেমা–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার মিটিংয়ে বসেছেন মিথিলা। চরিত্রটাও তাঁর পছন্দ হয়েছে। তবে ছবির প্রধান নায়িকা হিসেবে থাকতে পারেন বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানের জনপ্রিয় কোনো তারকা। কিন্তু কারও সঙ্গে চূড়ান্ত কিছু না হওয়ায় এখনই কিছু বলতে চাইছেন না পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

‘রকস্টার’ সিনেমায় শাকিব খানের প্রধান নায়িকার নাম চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে। ছবিতে দ্বিতীয় নায়িকার চরিত্রটিও গুরুত্বপূর্ণ, তবে শাকিব খানের সঙ্গে কোনো গানে তাঁকে দেখা যাবে না।

তানজিয়া জামান  মিথিলা
তানজিয়া জামান মিথিলা, ছবি: মিস ইউনিভার্সের ফেসবুক থেকে
 

তানজিয়া জামান মিথিলা শুরুতে ছিলেন র‍্যাম্প মডেল। একটা সময় অভিনয়ে মনোযোগী হন। ছোট পর্দাতেও কাজ করেন। মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর ওটিটিতেও তাঁকে দেখা গেছে।

শাকিব খান
শাকিব খান, শিল্পীর ফেসবুক থেকে
 

২০২০ সালে ‘রোহিঙ্গা’ নামে একটি হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেন। কিছুদিন আগে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, তিনি এবার বাংলাদেশের সিনেমায় মনোযোগী হতে চান। শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করতে চান।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ‘রকস্টার’ দিয়েই হয়তো পূরণ হবে মিথিলার সেই ইচ্ছা।

শুরু থেকেই নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরার চেষ্টায় আছেন সাই মাঞ্জরেকার। ২০১৯ সালে জনপ্রিয় ‘দাবাং থ্রি’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। এরপর একাধিক বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা-পরিচালক মহেশ মাঞ্জরেকার-কন্যা। এবার পিরিয়ড ড্রামা দ্য ইন্ডিয়া হাউস-এ আসছেন সাই। প্রথম আলোসহ কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ছবি, নিজের অভিনয় অভিজ্ঞতা এবং সালমান খানকে ঘিরে কিছু স্মৃতির কথা বলেছেন তিনি।

সাই বলেন, ‘“দ্য ইন্ডিয়া হাউস” আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গভীর ছবি।’ দক্ষিণের তারকা রামচরণের প্রযোজনায় একই সঙ্গে হিন্দি ও তেলেগু ভাষায় ছবিটি তৈরি হচ্ছে। ‘মেজর’-এর পর এটি সাইয়ের দ্বিতীয় ছবি, যা একই সঙ্গে দুই ভাষায় শুট হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই ভাষায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা রোমাঞ্চকর, আবার চ্যালেঞ্জিংও। একই দিনে আবেগ, ভাষা আর সাংস্কৃতিক ভিন্নতা সামলাতে হয়েছে।’

হিন্দি ও তেলেগু—দুই ভাষার ছবিতেই অবশ্য আগে কাজ করেছেন তিনি, ‘“মেজর”-এ কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় বিষয়টি কিছুটা পরিচিত ছিল। তবে প্রতিটি ছবি নতুন কিছু শেখায়।’ ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিত ছবিটিতে তাঁর চরিত্রের নাম ‘সতী’। ‘চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে সেই সময়ের মানুষ, তাদের শক্তি, দুর্বলতা আর নীরব দৃঢ়তাকে বুঝতে হয়েছে।’

প্যান-ইন্ডিয়া সেটআপে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও উচ্ছ্বসিত সাই, ‘এ ধরনের প্রজেক্টে সিনেমাই একটা ভাষা হয়ে যায়। ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসা মানুষ একসঙ্গে কাজ করে শুধু গল্পের জন্য।’ সহশিল্পী নিখিল সিদ্ধার্থ, পরিচালক বামসিসহ পুরো টিমের প্রশংসা করেন তিনি।

সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গে সাই জানান, ‘মেজর’, ‘অরো মে কহাঁ দম থা’ ও ‘স্কন্দা’র মতো ছবিতে কাজ করে তিনি অনেকটা পথ এগিয়েছেন। প্রিয় তারকাদের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শাহরুখ স্যার আর সালমান স্যারকে খুব ভালোবাসতাম। অক্ষয় কুমারের কমেডি ছবি দেখেই বড় হয়েছি।’ শৈশবের নায়িকাদের কথাও স্মরণ করেন তিনি। বলেন, ‘সোনালি বেন্দ্রের সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ ছিলাম। রানী মুখার্জি আর কাজলকে নিয়ে তখন খুব আবেগপূর্ণ ছিলাম।’

সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

কথাপ্রসঙ্গে জানালেন, সালমান খানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতি আজও উজ্জ্বল, ‘আমার বয়স তখন তিন-চার। টিভিতে জুড়ওয়া খুব দেখতাম। দুবাইয়ে লিফটে হঠাৎ সালমান স্যারকে দেখে শুধু ভাবছিলাম—“ওহ মাই গড!”’ সালমান খানের আদর আর একবার ফ্লাইটে তিরামিসু খাওয়ানোর স্মৃতি আজও মনে আছে।

শৈশবের সেই বিস্ময় আর মুগ্ধতাই সময়ের সঙ্গে ঘুরে এসে বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। যে মানুষটিকে তিন-চার বছর বয়সে লিফটে দেখে বিস্মিত হয়েছিল ছোট্ট সাই, কয়েক বছর পর সেই সালমান খানেরই বিপরীতে দাঁড়িয়ে অভিনয় করেন ‘দাবাং থ্রি’-তে। পর্দায় দেখা নায়ক হয়ে ওঠেন তাঁরই সহশিল্পী। সেই স্মৃতির বৃত্ত পূর্ণ করেই আজ বলিউড ও দক্ষিণ—দুই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে চলেছেন সাই মাঞ্জরেকার।

সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

প্রেমিক সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই দুঃস্বপ্নের সময় কাটিয়েছেন অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। মাদক–কাণ্ডে জেল খেটেছেন, দিনের পর দিন খবরের শিরোনাম হয়েছেন। সম্প্রতি দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন রিয়া। এ উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

সুশান্তের মৃত্যু ঘিরে বিতর্কে রিয়ার নাম জড়িয়ে পড়েছিল। বিষয়টি তাঁর অভিনয়জীবনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি অভিনেত্রী দূরে সরে গিয়েছিলেন রোল-ক্যামেরা, অ্যাকশনের জগৎ থেকে। দীর্ঘ সাত বছর পর অভিনয়জীবনে ফিরছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আজকাল তিনি ‘ট্রোল্‌ড’ না হলে মনে হয় সব আদৌ ঠিক করছেন তো! সুশান্তের মৃত্যুর পরে তাঁর জেলে যাওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় বসে দেখেছিলেন কোটি কোটি মানুষ। রিয়ার আক্ষেপ, সেইসব মানুষের মধ্যে ১ কোটি মানুষও যদি তাঁর আদালত থেকে ক্লিনচিট পাওয়ার অর্থটা বুঝত।

রিয়া চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
রিয়া চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

যদিও জেলে যাওয়ার পর থেকে কিছু ভয় মনের মধ্যে বসে গিয়েছে রিয়ার। তিনি বলেন, ‘জেল থেকে ফেরার পর মনে হতো পৃথিবীটা বাসযোগ্য নয়, বাইরে বেরোতে ইচ্ছে করত না। দরজা খুলে কোনো পুরুষকে দেখলেই শরীর কাঁপে এখনো। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়।’

অভিনয়ে ফেরা
নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘ফ্যামিলি বিজনেস’–এর মাধ্যমে অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে রিয়ার; যা তাঁর ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিরে আসা প্রসঙ্গে রিয়া বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার কাছে একই সঙ্গে আবেগঘন ও অবাস্তব মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সাত বছর। ব্যাপারটা সত্যিই অদ্ভুত আর অবিশ্বাস্য লাগছে। আমি ভাবতেই পারিনি যে আবার কখনো অভিনয় করব। সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।’

নিজের অতীত ও বর্তমানের তুলনা টেনে রিয়া আরও বলেন, ‘১৭ বছর বয়সে অভিনয়ই ছিল আমার স্বপ্ন। তারপর অনেক কিছু ঘটে গেল, কাজ বন্ধ হয়ে গেল, আর আমাকে সেই স্বপ্ন থেকে সরে আসতে হয়েছিল। এখন আমি আবার ফিরেছি, কিন্তু আমি আগের মতো নেই। আমার ক্যারিয়ারও বদলেছে। অভিনয় এখন আগের মতো একই অর্থ বহন না করলেও, অনেক দিক থেকে এর গুরুত্ব আমার কাছে আগের চেয়েও বেশি।’
রিয়ার এই প্রত্যাবর্তনের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া বেশ ইতিবাচক। অনেকেই তাঁকে সাহস ও ভালোবাসার বার্তা দিয়ে লিখেছেন—‘তোমাকে নিয়ে গর্বিত’, ‘তুমি আরও শক্ত হয়ে ফিরেছ’, ‘নতুন শুরুতে শুভকামনা’।
নিউজ ১৮ অবলম্বনে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব