• Colors: Yellow Color

চিত্রনায়িকা তানহা তাসনিয়া ইসলামের ব্যবহৃত আইফোন চুরির ঘটনা ঘিরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ডাবিং চলাকালে চিত্রনায়ক জয় চৌধুরীর গাড়িচালক পরিচয় দিয়ে আসা এক ব্যক্তি কৌশলে তাঁর ফোন নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি ছিলেন ভুয়া পরিচয়ধারী।

আজ শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তানহা তাসনিয়া। তিনি জানান, পরিচালক গাজী মাহবুব পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘অস্তিত্বের লড়াই’–এর ডাবিং চলছিল এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে। একই ডাবিং সেশনে ছিলেন জয় চৌধুরীও। কাজ শেষ করে জয় বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি এসে নিজেকে তাঁর চালক বলে পরিচয় দেন।

তানহা তাসনিয়া ইসলাম
তানহা তাসনিয়া ইসলাম, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
 

তানহা তাসনিয়ার ভাষ্য, ‘লোকটা এসে বলল, জয় স্যার শিল্পী সমিতিতে আছেন। যেহেতু সে নিজেকে জয়ের চালক বলেছে, তাই সন্দেহ করিনি। সে ডাবিং রুমেই ছিল। পরে চা আনা হলে ওই লোকটাই আমার হাতে চায়ের কাপ এগিয়ে দেয়। আমি আবার ডাবিংয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই। ফোনটা তখন চায়ের কাপের পাশেই রাখা ছিল। ডাবিংরুম তো অন্ধকার থাকে। কিছুক্ষণ পর এসে দেখি ফোন নেই, লোকটাও নেই।’

এরপর জয় চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, ওই ব্যক্তি তাঁর প্রকৃত চালক নন। তখনই বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে পরিচয় ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবেই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

তানহা তাসনিয়া ইসলাম
তানহা তাসনিয়া ইসলামছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পোস্টে তানহা তাসনিয়া জানান, তাঁর কমলা রঙের আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ফোনটি সন্ধ্যা সাতটা থেকে সোয়া সাতটার মধ্যে চুরি হয়। ফোনটি টেবিলে রাখা ছিল। পরে খুঁজতে গিয়ে আর সেটি পাওয়া যায়নি। সঙ্গে সঙ্গে এফডিসির বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি। পরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এই অভিনেত্রী। জিডি নম্বর ১০৭৭ বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তও শুরু করেছে।

তানহা তাসনিয়া ইসলাম
তানহা তাসনিয়া ইসলামছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

তবে তদন্তে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এফডিসির সিসিটিভি ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার পর থেকে সার্ভারে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত হয়নি। ফলে সন্ধ্যার পর ডাবিংরুমে অপরিচিত কে ঢুকেছেন বা বের হয়েছেন, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তানহা তাসনিয়া ইসলাম
তানহা তাসনিয়া ইসলামছবি: সংগৃহীত

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক গাজী মাহবুবও। তিনি বলেন, ‘চুরির ঘটনা জানার পর আমরা এফডিসি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন তারা কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।’ চুরির এ ঘটনা এফডিসির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে একজন অচেনা ব্যক্তি কীভাবে সহজেই শিল্পীদের ডাবিংরুমে ঢুকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেন এবং পরে চুরি করে বেরিয়ে গেলেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রাত ১টা ৩০ মিনিট। গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদের একটি স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে শোবিজ অঙ্গনে। বাবা–মেয়ের একটি হাসিখুশি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় কায়সার হামিদ। প্রায়ই পরিবারের নানা মুহূর্ত, বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছবি ও স্মৃতিময় পোস্ট শেয়ার করতেন তিনি। বাবা–মেয়ের হাসিমাখা ছবিগুলো পরিচিত ছিল অনেকের কাছেই। কখনো জন্মদিন, কখনো পারিবারিক আড্ডা, আবার কখনো সাধারণ কোনো মুহূর্ত—মেয়েকে নিয়ে তাঁর আবেগমাখা পোস্ট নজর কাড়ত অনুসারীদের। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে সেই হাসিখুশি পরিবারেই নেমে এল শোকের ছায়া।

স্ট্যাটাসে কায়সার হামিদ আরও লেখেন, ‘আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।’

কারিনা কায়সার
কারিনা কায়সার
 

লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর আজ শুক্রবার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তিনি মা–বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি।

কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। পরে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

আজ শুক্রবার প্রথম আলোকে কায়সার হামিদ জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।

এর আগে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ ও ৩৬-২৪-৩৬।

কারিনা কায়সার
কারিনা কায়সার, চরকির সৌজন্যে
 

কারিনার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা তাঁর স্মৃতিচারণা করে শোক প্রকাশ করছেন। অনেকেই তাঁর হাসিখুশি স্বভাব, প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও সংগ্রামী মানসিকতার কথা তুলে ধরছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, কয়েক দিন আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন কারিনা। হঠাৎ এমন বিদায়ে তাঁরা এখনো বিশ্বাসই করতে পারছেন না।

সংগীতশিল্পী হেরিনের জন্মদিন ১৫ মে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে নিউজিনসের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যাডর। অ্যাডর লিখেছে, ‘হ্যাপি হেরিন ডে।’ সঙ্গে হেরিনের ছবি জুড়ে দেওয়া হয়।

সমুদ্রসৈকতে হাতে ফুল নিয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় হেরিনকে। লম্বা চুলে স্নিগ্ধ সাজে দেখা গেছে তাঁকে। ইউরোপীয় ধাঁচের বিভিন্ন লোকেশনে ক্রপটপ ও অফ–শোল্ডার পোশাকে তোলা ছবিগুলো হেরিনকে আরও পরিণত করে তুলেছে।

পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি লাইক পায়। ভক্তদের মন্তব্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। কেউ লিখেছেন, ‘তারা কি ফিরছে?’ আবার কেউ বলেছেন, ‘হেরিনকে আরও পরিণত লাগছে।’

হেরিন
হেরিন, ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

অনুরাগীদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে তোলা হতে পারে। অ্যাডর জানিয়েছে, সদস্য হেইন, হেরিন ও হানি সংগীত প্রযোজনার কাজে কোপেনহেগেনে গিয়েছিলেন।

পাঁচ সদস্যের নিউজিনস দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ক্রিয়। এর পেছনে রয়েছে এজেন্সির সঙ্গে দীর্ঘ আইনি বিরোধ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সদস্যরা অ্যাডরকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেন এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন।

পরে চুক্তির বৈধতা নিশ্চিত করতে অ্যাডর মামলা করলে প্রথম ধাপের রায় সদস্যদের বিপক্ষে যায়। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

গত বছরের নভেম্বরে অ্যাডর হেইন, হেরিন ও হানির ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে ড্যানিয়েলের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের কথাও জানায়। মিনজির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

‘না এ কোন যন্তরমন্তর ঘর নয়। যে ঘরের চাবি আছে, তবুও তালা খোলার কোন পথ নেই! কে থাকে সেই ঘরে?’ ‘বনলতা সেন’ আসছে এই ঈদে, আপনারই নিকটস্থ প্রেক্ষাগৃহে—এভাবেই পোস্টার প্রকাশ ও ছবি মুক্তির খবরটি একযোগে জানিয়েছেন ছবিটির পরিচালক থেকে অভিনয়শিল্পীরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মুক্তিপ্রতীক্ষিত ‘বনলতা সেন’ ছবির পোস্টার প্রকাশ করা হয়। এটি পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র।

নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে হাত পাকানো উজ্জ্বলের প্রথম চলচ্চিত্র ‘উনপঞ্চাশ বাতাস’। ছবিটি ২০২০ সালের শেষ দিকে মুক্তি পায়। ‘বনলতা সেন’ প্রসঙ্গে পরিচালক বললেন, ‘শুটিংয়ে যা প্রয়োজন, তা-ই করেছি। গল্পে কোনো আপস করিনি। তাই শুটিং শেষ করতে আট মাসের মতো সময় লেগেছে।’

‘বনলতা সেন’ ছবির পোস্টার
‘বনলতা সেন’ ছবির পোস্টার

‘বনলতা সেন’ ছবির অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। তবে শুরুতে তাঁকে অন্য একটি চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। উপস্থাপিকা নাবিলার এটি চতুর্থ চলচ্চিত্র। শাকিব খানের বিপরীতে ‘তুফান’ ছবিতে অভিনয় করেছেন সর্বশেষ।

নাবিলা বললেন, ‘শুরুতে আমাকে শুধুই চরিত্রের সারসংক্ষেপ দেওয়া হয়। বলেছিলাম, পুরো স্ক্রিপ্ট দেওয়া যায় কি না। তাহলে বুঝতাম, আমার চরিত্রের উপস্থাপনটা কী রকম বা কী। পুরো চিত্রনাট্য পড়ে তো আমি মুগ্ধ। পুরো গল্পটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। যা-ই হোক, আমাকে যে চরিত্রের কথা বলেছে, ওই ধরনের চরিত্র চাইছিলাম না। ওনাকে সুন্দর করে বললাম, এই চরিত্রটা আমি এখন করতে চাইছি না। তবে আপনি যদি আমাকে বনলতা সেন বলতেন, তাহলে এককথায় রাজি হয়ে যেতাম (হাসি)। অনেক দিন পর তিনি আমাকে ডাকলেন। অডিশন নিলেন তিনবার। শুটিং হলো। এখন মুক্তি পাচ্ছে। অভিনয়শিল্পী হিসেবে আনন্দের সংবাদ।’

মাসুমা রহমান নাবিলা
মাসুমা রহমান নাবিলা
 

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা দারুণ জানিয়ে নাবিলা বলেন, ‘উজ্জ্বল ভাই তো অনেক বড় ক্যানভাসে কাজ করেন। তাঁর সিনেমা হচ্ছে কবিতার মতো। এত সুন্দর করে বানিয়েছেন, দেখার পর মানুষ বুঝতে পারবে।’

২০২১-২২ সালের সরকারি অনুদানের এই ছবি গত ১২ এপ্রিল সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে মুক্তির অনুমতিপত্র পেয়েছে। জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি বানিয়েছেন পরিচালক।

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল
মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, ছবি : সংগৃহীত
 

উজ্জ্বল বলেন, ‘দুই বাংলার কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশ সমাদৃত। আমার মতে, উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ, এডগার অ্যালান পো কিংবা টি এস এলিয়টের থেকে জীবনানন্দ দাশ কোনো অংশে কম নন। এত দিনে গোটা বিশ্বের তাঁকে জানা উচিত ছিল। আমি এই জীবনে প্রথম এমন বিস্ময়কর এক কবিকে ‘বনলতা সেন’ ছবির মাধ্যমে ট্রিবিউট করার সুযোগ পেয়েছি।’

নাবিলা ছাড়া ‘বনলতা সেন’ ছবির প্রধান চরিত্রের অন্য অভিনয়শিল্পীরা হলেন খায়রুল বাসার, সোহেল মণ্ডল, প্রিয়ন্তি ঊর্বী, রূপন্তি আকিদ, ময়মুনা মম, শরিফ সিরাজ প্রমুখ।

কান চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল ১০ মে। তার ৫ দিন আগের কথা। প্রিয়তির ১৯ মাসের ছোট্ট মেয়ে লাভিশার যিনি দেখাশোনা করেন, তিনি এক সপ্তাহের ছুটিতে। সেখান থেকেই ফোনে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠিয়ে জানালেন, যে সময়ে প্রিয়তি কান চলচ্চিত্র উৎসবে থাকবেন, সে সময় লাভিশার দেখাশোনা করতে পারবেন না তিনি। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল প্রিয়তির।

[caption id="attachment_273966" align="alignnone" width="783"] কানের লালগালিচায় প্রিয়তি দেখা দেন জেরালডিন ও’মিয়ারার নকশা করা হলুদ পেপলাম গাউনেপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু[/caption]

বলছি মাকসুদা আখতার প্রিয়তির কথা। যিনি একাধারে মিজ আয়ারল্যান্ড খেতাবজয়ী মডেল, পাইলট ও তিন সন্তানের মা। ছোট মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মানুষটি ছুটিতে গেছেন। ফলে শেষ মুহূর্তে পোশাকগুলোর ফাইনাল ফিটিং, ট্রায়াল থেকে শুরু করে গয়না, ব্যাগ, জুতা, সানগ্লাস, মেকআপ বা অন্যান্য এক্সেসরিজ, ফটোশুট আর মিটিং—কোনো কিছুর জন্যই আলাদা করে সময় পাচ্ছিলেন না।

প্রিয়তির সন্তানকে দেখাশোনার জন্য আর কেউ ছিল না। টিকিট, হোটেল বুকিং; প্রায় ১০ দিন ফ্রান্সে থাকা, খাওয়া, বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়া, মিটিং, ডিনার, ফটোশুট—সব প্রি-অ্যারেঞ্জমেন্ট তত দিনে শেষ।

গাউনের নাটকীয় স্লিভের একটি ছোট হাতা। সেটি বাটারফ্লাই মোটিফে তৈরি। অন্যটি পাফড, স্ট্র্যাকচার্ডড ফুল স্লিভ, হাতার শেষ অংশে নজর কাড়ে পালকের নকশা
গাউনের নাটকীয় স্লিভের একটি ছোট হাতা। সেটি বাটারফ্লাই মোটিফে তৈরি। অন্যটি পাফড, স্ট্র্যাকচার্ডড ফুল স্লিভ, হাতার শেষ অংশে নজর কাড়ে পালকের নকশাপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

মুশকিল আসান

এদিকে প্রিয়তির কানে যাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা। শেষমেশ বছরখানেক আগে ছোট্ট লাভিশার যিনি দেখাশোনা করতেন, তাঁকে ফোন করলেন প্রিয়তি। তিনি তখন আরেক জায়গায় চাকরি করেন। প্রিয়তির এমন অবস্থা শুনে তিনি সেখান থেকে এক দিনের নোটিশে চাকরি ছেড়ে প্রিয়তির বাসায় এসে হাজির।

আইরিশ জুয়েলারি ও অ্যাকসেসরি ডিজাইনার ফিওনা র‍্যাফটারের তৈরি গয়না ও ব্যাগের সঙ্গে পরিমিত মেকআপ আর আশির দশকের হলিউড গ্ল্যাম থেকে অনুপ্রাণিত সাইড-পার্টেড শর্ট বব হেয়ারস্টাইল নজর কেড়েছে
আইরিশ জুয়েলারি ও অ্যাকসেসরি ডিজাইনার ফিওনা র‍্যাফটারের তৈরি গয়না ও ব্যাগের সঙ্গে পরিমিত মেকআপ আর আশির দশকের হলিউড গ্ল্যাম থেকে অনুপ্রাণিত সাইড-পার্টেড শর্ট বব হেয়ারস্টাইল নজর কেড়েছেপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু
 

কানের লালগালিচায় চতুর্থ লুকে হাজির হওয়ার আগে মেকআপ নিতে নিতে প্রিয়তি বললেন, ‘৮ বছর বয়সে আমার বাবা মারা যান। ১৬ বছর বয়সে মা। আজ যত দূর এসেছি, এই দুজন মানুষের জন্য। দে হ্যাভ মাই ব্যাক। শেষ মুহূর্তে কোন পোশাকের সঙ্গে কী পরব, কীভাবে পরব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার জন্য সেগুলো গুছিয়েছে আইরিশ গয়নার ডিজাইনার ফিওনা র‍্যাফটার। এই মানুষগুলোর জন্যই আমি জীবনে বহুবার পড়তে পড়তেও পড়িনি। যখনই আমি এমন সব পরিস্থিতিতে পড়েছি, কারও না কারও সাহায্যে ঠিকই উতরে গেছি।’

সঙ্গী যখন মাদার্স গিল্ট

লালগালিচায় চতুর্থ লুকের আগে কানের হোটেলরুমে মেকআপ নিতে নিতেই ফোনে চলল প্রথম আলোর সঙ্গে কথোপকথন
লালগালিচায় চতুর্থ লুকের আগে কানের হোটেলরুমে মেকআপ নিতে নিতেই ফোনে চলল প্রথম আলোর সঙ্গে কথোপকথনছবি: প্রিয়তির সৌজন্যে

১৪ মে ছিল প্রিয়তির বড় ছেলের জন্মদিন। ছেলের জন্মদিনে উপস্থিত থাকতে না পারলেও উপহার হিসেবে ছেলেকে পাঠিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে, প্রিয়তির কাজিনের কাছে। বললেন, ‘যত গ্ল্যামারাস আর রাজকীয়ভাবেই লালগালিচায় হাঁটি না কেন, তিন সন্তানের মা হিসেবে সব সময় মাদার্স গিল্ট আমার সঙ্গী।’

২০১৪ সালে মিজ আয়ারল্যান্ডের খেতাব জয় করেন প্রিয়তি। ২০১৫ সাল থেকে ১১ বার অংশ নিলেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে। আর কানের লালগালিচায় হাঁটলেন এবার দশম বারের মতো।

কান থেকে কেউ খালি হাতে ফেরে না

সোনালি রঙের একটি স্ট্র্যাপলেস ব্যান্ডেজ ড্রেসেও লালগালিচায় দেখা দেন প্রিয়তি
সোনালি রঙের একটি স্ট্র্যাপলেস ব্যান্ডেজ ড্রেসেও লালগালিচায় দেখা দেন প্রিয়তিপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

প্রিয়তি বললেন, ‘লালগালিচায় অংশ নেওয়া কান চলচ্চিত্র উৎসবের খুবই ছোট্ট একটা অংশ। এই তো গতকালই ভিন ডিজেল তাঁর “ফার্স্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস” সিনেমার ২৫তম বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সিনেমার বিশেষ প্রিমিয়ারে অংশ নিলেন। (ভিন ডিজেল) বললেন, ৩৫ বছর আগে তিনি যখন প্রথম কানে আসেন, তখন একটা ছোট লন্ড্রি ব্যাগে কিছু কাপড় নিয়ে এসেছিলেন। বললেন, তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা যেখানেই হোক না কেন; তারকা হিসেবে, পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার শুরু এই কান থেকেই। এ কথা বলে তিনি আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। আসলে কান চলচ্চিত্র উৎসবে যে কেউ যদি একটু রিসার্চ করেন, আগে থেকে মেইল পাঠিয়ে কিছু মিটিং ফিক্স করে আসেন, তিনি কখনো খালি হাতে ফিরবেন না। কান থেকে কেউ খালি হাতে ফেরে না। এখান থেকে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত যেকোনো ধরনের কোলাবরেশন সম্ভব।’

এআই নিয়ে ভাবনা

বডিকন ফিটের মিদি ড্রেসটির হেমলাইন সমৃদ্ধ নিচের অংশটি মারমেইড ভাইভ দেয়। হ্যাট আকৃতির হেডপিসটি প্রিয়তির লুকে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা
বডিকন ফিটের মিদি ড্রেসটির হেমলাইন সমৃদ্ধ নিচের অংশটি মারমেইড ভাইভ দেয়। হ্যাট আকৃতির হেডপিসটি প্রিয়তির লুকে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রাপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

প্রিয়তি আরও বলেন, ‘গত বছর আমি যখন এখানে আসি, তখন এআই দিয়ে তৈরি সিনেমাকে গ্রহণ করা না–করা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ বছর সেই আলোচনা আরও ডালপালা মেলছে। কীভাবে, কেন এআই সিনেমা তৈরি হবে, কত শতাংশ তৈরি হবে, তার নীতিমালা নিয়ে যুক্তি-তর্ক, আলাপ চলছে। এখানে আসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো বিভিন্ন দেশের, সংস্কৃতির, সৃষ্টিশীল সেরাদের আইডিয়া জানা, তাঁদের সঙ্গে আইডিয়া বিনিময়ের সুযোগ পাওয়া।’

আরও পড়ুন

কানের দ্বিতীয় দিনে আলিয়া ভাটের তিন লুক

লুকটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল তাঁর হাতে ধরা আইভরি লেসের ছাতা বা প্যারাসল। ছাতাটি যোগ করেছে ‘ওল্ড ওয়ার্ল্ড রোমান্স’ বা ‘সফট রয়্যাল’ আবহ। অনেকেই এই লুককে ‘ব্রিজারটন কোর’ বা ‘মহারানি-অ্যাসথেটিক’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশি ডিজাইনারদের পোশাক নয় কেন?

ওয়ান শোল্ডার চকচকে গোলাপি গাউনটিও দারুণ মানিয়েছে প্রিয়তিকে
ওয়ান শোল্ডার চকচকে গোলাপি গাউনটিও দারুণ মানিয়েছে প্রিয়তিকেপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

এ বছর রিচার্ড হ্যারিস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পক্ষ থেকে ১০ দিনের আমন্ত্রণপত্র পেয়ে কানে গেছেন প্রিয়তি। জানতে চাইলাম, আপনি কেন কেবল আইরিশ ডিজাইনারদেরই প্রমোট করছেন? বাংলাদেশের ডিজাইনারদের একটা পোশাকও কেন স্থান পায়নি আপনার কানের লাগেজে?

কানের রাস্তায় স্কার্ট আর হলুদ হ্যাটে প্রিয়তি। উৎসব শুরুর আগে এভাবেই ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন
কানের রাস্তায় স্কার্ট আর হলুদ হ্যাটে প্রিয়তি। উৎসব শুরুর আগে এভাবেই ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেনপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

উত্তরে প্রিয়তি বলেন, ‘আমি গত বছর ফেসবুকে লিখেছিলাম, বাংলাদেশি কোনো ফ্যাশন ডিজাইনার যদি আমার কান লুকের জন্য পোশাক দেন, মোস্ট ওয়ালকাম। আমি সম্মানের সঙ্গে সেটি গ্রহণ করব; কিন্তু কেউ সেই ডাকে সাড়া দেননি। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ডেই আমার পেশাজীবন। নিরাপত্তা, আশ্রয়, জীবনসঙ্গী, ভালো কাজ, ভালো জীবন—সবকিছুই সেখানে পেয়েছি। সেখানকার ফ্যাশন ডিজাইনারদের ওপর ভর করেই আমি ক্যারিয়ার গড়েছি। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি কেবল আয়ারল্যান্ডের বড় বড় ডিজাইনারের পোশাকই আনিনি; বরং ছোট ছোট টেকসই ফ্যাশন নিয়ে কাজ করা বুটিক ও কুটিরশিল্পের নানা কিছু সঙ্গে এনেছি। এটা তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার প্রকাশ।’

জিনাত শারমিন

কানাডার এক কিশোরীর মৃত্যু কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে। স্কুলের বন্ধুদের হাতে নির্মম নির্যাতন, তারপর হত্যা—সেই বাস্তব ঘটনাই নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে হুলুর ক্রাইম ড্রামা ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর মাধ্যমে। সিরিজটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়, এটি কিশোর বয়সের নিঃসঙ্গতা, বুলিং, পরিচয়ের সংকট এবং সমাজের অন্ধকার এক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।

১৯৯৭ সালের ১৪ নভেম্বর। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়ার উপকণ্ঠ সানিচ এলাকার ১৪ বছর বয়সী কিশোরী রিনা ভির্ককে ডাকা হয়েছিল একটি পার্টিতে। সেদিন রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য—নিজেরই সমবয়সী কয়েকজন কিশোর-কিশোরীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে খুন হয়েছিল রিনা।

এই সত্য ঘটনা নিয়েই ২০০৫ সালে বই লিখেছিলেন সাংবাদিক ও লেখক রেবেকা গডফ্রে। সেই বই অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’। সিরিজে রেবেকা গডফ্রের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেইলি কিও, পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাম বেন্টল্যান্ড চরিত্রে আছেন লিলি গ্লাডস্টোন।

যে মেয়েটি নিজেকে ‘বহিরাগত’ মনে করত
রিনার পরিবার ছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান। ছোটবেলা থেকেই তাকে নানা ধরনের বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। নিজের চেহারা, ওজন, পারিবারিক রক্ষণশীলতা—সবকিছু মিলিয়ে সে প্রায়ই নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা ভাবত। পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসনও ছিল কঠোর। ফলে কৈশোরে এসে পরিবার থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে সে।

‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েকবার বাড়ি থেকেও পালিয়েছিল রিনা। এমনকি স্বাধীনভাবে থাকার আশায় নিজের বাবার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছিল, যদিও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

এই মানসিক অস্থিরতার সময়েই সে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয় এক কিশোরী গ্যাংয়ের সঙ্গে। সেই দলের নেত্রী ছিল নিকোল কুক নামের এক কিশোরী, যাকে বই ও সিরিজে ‘জোসেফিন বেল’ নামে দেখানো হয়েছে।

‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

সেতুর নিচে সেই রাত
ঘটনার রাতে প্রথমে একটি স্কুলের পেছনে কিশোর-কিশোরীদের বড় জমায়েত হয়েছিল। পুলিশ সেটি ভেঙে দিলে কয়েকজন চলে যায় ক্রেগফ্লাওয়ার ব্রিজ এলাকায়। সেখানেই শুরু হয় রিনার ওপর ভয়াবহ হামলা।

তদন্তে উঠে আসে, গুজব ছড়ানোর অভিযোগে রিনাকে ‘শাস্তি’ দিতে চেয়েছিল দলটি। প্রথমে কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে। পরে অধিকাংশ চলে গেলেও দুই কিশোর—কেলি এলার্ড ও ওয়ারেন গ্লোওয়টসকি রিনার পিছু নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।
এক সপ্তাহ পর উদ্ধার করা হয় রিনার মরদেহ।

 

পুরো কানাডাকে নাড়িয়ে দেওয়া মামলা
এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ ছিল না। এটি কানাডাজুড়ে বুলিং, কিশোর সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল। সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় ঘটনাটি।

হামলায় অংশ নেওয়া ছয় কিশোরী পরে হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। তবে মূল হত্যার অভিযোগে বিচার হয় কেলি এলার্ড ও ওয়ারেন গ্লোওয়াটস্কির।
ওয়ারেন পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং রিনার পরিবারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিল। অন্যদিকে কেলি এলার্ডের বিচার ছিল দীর্ঘ ও জটিল। একাধিকবার মামলা, আপিল ও পুনর্বিচারের পর শেষ পর্যন্ত তাকে দ্বিতীয় ডিগ্রি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে সে নিজের নাম পরিবর্তন করে কেরি সিম রাখে।

‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

কেন আবার আলোচনায়
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাস্তব অপরাধভিত্তিক সিরিজের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। কিন্তু ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’ আলাদা হয়ে উঠেছে এর আবেগগত নির্মাণ ও চরিত্রের গভীরতার কারণে। সিরিজটি শুধু হত্যাকাণ্ড দেখায় না; বরং প্রশ্ন তোলে, কীভাবে কিশোর বয়সের একাকিত্ব, গ্রহণযোগ্যতার আকাঙ্ক্ষা এবং দলগত মানসিকতা ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে?

বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে রিনার পরিচয়ের সংকট ও মানসিক চাপ অনেক দর্শকের কাছেই গভীরভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
ঘটনার দুই দশক পরও লেখক রেবেকা গডফ্রে লিখেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ড এখনো মানুষকে ‘অস্বস্তিতে ফেলে এবং নাড়িয়ে দেয়’।

টাইম অবলম্বনে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব