• Colors: Yellow Color

‘কেডি: দ্য ডেভিল’ সিনেমার নতুন গান ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। গানটিতে পারফর্ম করেছেন অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ও নোরা ফাতেহি। তবে মুক্তির পরই অনেক দর্শক গানটির ভাষা ও উপস্থাপনাকে ‘অশালীন’ ও ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করছেন। বিতর্কের পরেই গানটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবার গানটি নিয়ে মুখ খুললেন নোরা ফাতেহি।

নোরা জানান, গানটির কথা ও উপস্থাপনা সম্পর্কে তাঁকে আগেভাগে সঠিকভাবে জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, তাঁকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগটি এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। নোরার দাবি, গানটির কিছু অংশে এআই ব্যবহার করা হয়েছে, যা তাঁর অনুমতি ছাড়া করা হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই নির্মাতাদের সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও গানটি সেভাবেই প্রকাশ করা হয়।

গানের দৃশ্যে সঞ্জয় দত্ত ও নোরা। কোলাজ
গানের দৃশ্যে সঞ্জয় দত্ত ও নোরা। কোলাজ

গানটি নিয়ে শুধু সামাজিক মাধ্যমেই নয়, বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও গড়ায়। আপত্তির জেরে গানটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ভারতের সংসদেও বিষয়টি ওঠে। এর আগে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকেও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

নোরা জানান, এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার পেছনে বড় কারণ ছিল সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ। তবে শেষ পর্যন্ত গানটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তা নিয়ে তিনি হতাশ।

এ ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—একজন শিল্পীকে কতটা স্বচ্ছভাবে কাজের বিবরণ জানানো হয়? এবং এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিল্পীর সম্মতি কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে? তবে নোরার অভিযোগ নিয়ে নির্মাতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

শাড়ি, বোল্ড স্টেটমেন্ট ব্লাউজ আর মিনিমাল গয়নার কম্বিনেশনে মৌনী রায়ের নতুন ফেস্টিভ লুক নজর কাড়ছে। উৎসবের সাজে অনুপ্রেরণার এক নিখুঁত উদাহরণ এই লুক।

মৌনী রায় নামটির সঙ্গে ফ্যাশনজগতের কমবেশি সবাই পরিচিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এই বাঙালি মেয়ের দাপট এখন বলিউড জুড়েও। অভিনয়ে তাঁর যতটা নামডাক, তার চেয়েও বেশি নজর কাড়েন ফ্যাশন সেন্সে। নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাকে তাঁর উপস্থিতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

এথনিক হোক বা ওয়েস্টার্ন—দুই ধরনের পোশাকেই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ ও আকর্ষণীয়। তবে বাঙালি বলেই হয়তো শাড়ির লুকে মৌনী যেন হয়ে ওঠেন অপ্সরীর মতো সুন্দর।

 
 

সম্প্রতি তেমনই এক লুকে ধরা দিয়েছেন তিনি। হালকা পেস্তা-সবুজ টোনের একটি শিয়ার শাড়িতে দেখা গেছে অভিনেত্রীকে, যার জমিনজুড়ে রয়েছে সূক্ষ্ম সিকুইন ডিটেইলিং।

 

শাড়িটির নরম, স্বচ্ছ টেক্সচার লুকে এনেছে এক ধরনের স্বপ্নিল আবহ। ঝিলমিল করা সোনালি বর্ডারটি মিনিমাল হলেও পুরো লুকে যোগ করেছে রাজকীয় ছোঁয়া।

এই লুকের অন্যতম আকর্ষণ তাঁর ব্লাউজ। ব্যাকলেস ডিজাইনে তৈরি এই ব্লাউজে রয়েছে স্টাইলিশ আবেদন। উজ্জ্বল ফুশিয়া গোলাপি রঙের ডিপ-নেক ব্লাউজটি ভারী গোল্ড সিকুইন ও সূক্ষ্ম এমবেলিশমেন্টে অলংকৃত, যা শাড়ির সফট টোনের সঙ্গে তৈরি করেছে দারুণ কনট্রাস্ট।

 

শাড়ির সঙ্গে মিনিমাল কিন্তু নজরকাড়া গয়না পরেছেন তিনি। ট্র্যাডিশনাল গোল্ড ঝুমকা এবং হাতে পরা আংটি ছাড়া অতিরিক্ত কিছু নেই সাজে । মেকআপে ফুটে উঠেছে সফট গ্ল্যাম আমেজ । স্মোকি আই লুকের সঙ্গে পিচি-ন্যুড লিপকালার আর কপালে সাদা পাথরের টিপে সেজেছেন।

 
 

কোমর ছুঁয়ে থাকা চুলগুলো  হালকা ওয়েভে স্টাইলে ছেড়ে রাখা। সব মিলিয়ে, শাড়ি, বোল্ড স্টেটমেন্ট ব্লাউজ এবং মিনিমাল গয়নার সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এক নিখুঁত ফেস্টিভ লুক—যা সহজেই অনুপ্রেরণা হতে পারে যেকোনো উৎসবের সাজে।

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল থেকে শামস সুমনের মৃত্যুর খবরটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে অভিনেতা সুজাত শিমুল। শামস সুমন রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান এবং চ্যানেল আই এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক ছিলেন।

হাসপাতাল থেকে অভিনেতা সুজাত শিমুল জানান, আজ বিকেল পাঁচটা পর এই অভিনেতা হঠাৎই অসুস্থতাবোধ করেন। তিনি পরে অসুস্থতার কথা জানান আরেক অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে। শাহাদৎ দ্রত তাঁকে ঢাকার গ্রিন রোড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি মারা যান।

নাটকের দৃশ্যে শামস সুমন
নাটকের দৃশ্যে শামস সুমন, ফেসবুক থেকে
 

সুজাত শিমুল বলেন, ‘আমরা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, মূলত কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে শামস সুমনের মৃত্যু হয়েছে।’

অভিনেতা শামস সুমন
অভিনেতা শামস সুমন, ফাইল ছবি
 

শামস সুমন অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হলো ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, (২০১৬) ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’, ‘চোখের দেখা’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘জয়যাত্রা’, ‘নমুনা’, ‘হ্যালো অমিত’।

২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

হলিউডের ডলবি থিয়েটারে বসেছিল ২০২৬ সালের অস্কার। বছরের সবচেয়ে বড় এই চলচ্চিত্র আসর মানেই ঝলমলে রেড কার্পেট। মনোনীত তারকা থেকে অতিথি, অনেকে বছরের সবচেয়ে চোখধাঁধানো পোশাকটি তুলে রাখেন এই রাতের জন্যই। এবারের আসরেও দেখা গেল রঙের বাহার, ক্ল্যাসিক কালো, রূপকথার মতো সাদা গাউন। রেড কার্পেটের সেরা ২১টি ফ্যাশন মুহূর্ত দেখে নেওয়া যাক।

এল ফ্যানিং, জিভঁশি

এল ফ্যানিং
এল ফ্যানিংছবি: এএফপি

রূপকথার রাজকন্যার মতো স্ট্র্যাপলেস সাদা বলগাউনে হাজির হন এল ফ্যানিং। সারা বার্টনের ডিজাইন করা এই জিভঁশি গাউনের সঙ্গে ছিল ১৯০৩ সালের একটি কার্তিয়ের নেকলেস।

কেট হাডসন, আরমানি প্রিভে

কেট হাডসন
কেট হাডসনছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

মিন্ট-সবুজ ক্রিস্টাল-সাজানো আরমানি প্রিভে গাউনে পুরোনো হলিউডের গ্ল্যামার ফিরিয়ে আনেন কেট হাডসন। তাঁর গলায় ছিল বিরল সবুজ হীরার গয়না।

জেসি বাকলি, শ্যানেল

জেসি বাকলি
জেসি বাকলি, ছবি: এএফপি

সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনীত জেসি বাকলি গোলাপি ও লালের মিশেলে অফ-শোল্ডার শ্যানেল গাউনে নজর কাড়েন। পোশাকটির অনুপ্রেরণা ১৯৫৬ সালের অস্কারে গ্রেস কেলির পরা ঐতিহাসিক গাউন।

রেনাতে রেইন্সভে, লুই ভুইতোঁ

রেনাতে রেইন্সভে
রেনাতে রেইন্সভে, ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

লাল রঙের অ্যাসিমেট্রিক লুই ভুইতোঁ গাউনে নজর কাড়েন রেনাতে রেইন্সভে। এক পাশে উঁচু স্লিট আর স্কারলেট লিপস্টিক ছিল তাঁর সাজের অংশ।

ফেলিসিটি জোনস, প্রাডা

ফেলিসিটি জোনস
ফেলিসিটি জোনসছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

হালকা হলুদ প্রাডা গাউনে দেখা যায় ফেলিসিটি জোনসকে। টিউল ও সূক্ষ্ম বিডিং পোশাকটিকে দিয়েছে নরম, মার্জিত সৌন্দর্য।

উনমি মোসাকু, লুই ভুইতোঁ

উনমি মোসাকু
উনমি মোসাকুছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

সবুজ সিকুইনের কাস্টম লুই ভুইতোঁ গাউনে ঝলমল করছিলেন উনমি মোসাকু। কাঁধের কাট–আউট ডিজাইন ছিল পোশাকটির বিশেষত্ব।

ইজে, ডিওর

ইজে
ইজেছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

সোনালি ঝলমলে ডিওর গাউনে রেড কার্পেটে নজর কাড়েন গায়িকা-গীতিকার ইজে। সঙ্গে ছিল সোয়ারোভস্কি গয়না।

বারবি ফেরেইরা, গ্যাপ স্টুডিও

বারবি ফেরেইরা
বারবি ফেরেইরাছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

ইন্ডিগো রঙের নাটকীয় গাউনে হাজির হন বারবি ফেরেইরা। করসেট টপ ও ভলিউমিনাস স্কার্টে ছিল আলাদা স্টাইল।

মাইকি ম্যাডিসন, ডিওর

মাইকি ম্যাডিসন
মাইকি ম্যাডিসন, ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

গাঢ় বারগান্ডি রঙের করসেটেড ডিওর গাউনে দেখা যায় মাইকি ম্যাডিসনকে। রুচড কাপড়ের নকশা পোশাকটিকে দিয়েছে রাজকীয় আভা।

চেজ ইনফিনিটি, লুই ভুইতোঁ

চেজ ইনফিনিটি
চেজ ইনফিনিটিছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

হালকা লাইলাক রঙের গাউনে রেড কার্পেটে হাঁটেন ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ছবির অভিনেত্রী চেজ ইনফিনিটি। এক পাশ থেকে নেমে আসা স্তরযুক্ত ফ্রিল গাউনটিকে করেছে আলাদা।

এমা স্টোন, লুই ভুইতোঁ

এমা স্টোন
এমা স্টোনছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

মুক্তার মতো ঝলমলে সিল্কের লুই ভুইতোঁ পোশাকে হাজির হন এমা স্টোন। গভীর কাটের ব্যাক ডিজাইন তাঁর সাজকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।

গিনেথ প্যালট্রো, আরমানি প্রিভে

গিনেথ প্যালট্রো
গিনেথ প্যালট্রোছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

আইভরি রঙের স্ট্র্যাপলেস আরমানি প্রিভে গাউনে হাজির হন গিনেথ প্যালট্রো। পাশে কাট-আউট ডিজাইন আর টিফানি অ্যান্ড কোং গয়না ছিল তাঁর সাজে।

নিকোল কিডম্যান, শ্যানেল

নিকোল কিডম্যান
নিকোল কিডম্যানছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

ব্লাশ-পিংক রঙের স্ট্র্যাপলেস শ্যানেল গাউনে হাজির হন নিকোল কিডম্যান। পালক-সাজানো বডিস ও স্কার্ট ছিল পোশাকটির বিশেষ আকর্ষণ।

ডেমি মুর, গুচি

ডেমি মুর
ডেমি মুরছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

পাখির পালকে সাজানো কাস্টম গুচি গাউনে ঝলমল করছিলেন ডেমি মুর। সঙ্গে ছিল বুশেরোঁ গয়না।

জোয়ি সালদানা, সাঁ লরাঁ

জোয়ি সালদানা
জোয়ি সালদানাছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

লেস বুস্তিয়েরসহ কালো কলাম গাউনে এলিগ্যান্ট লুক বেছে নেন জোয়ি সালদানা। সঙ্গে ছিল কার্তিয়েরের স্টেটমেন্ট নেকলেস।

রোজ বার্ন, ডিওর

রোজ বার্ন
রোজ বার্নছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

ফুলের অলংকরণসহ স্ট্র্যাপলেস কালো ডিওর গাউনে এলিগ্যান্ট লুক বেছে নেন রোজ বার্ন।

অ্যান হ্যাথাওয়ে, ভ্যালেন্টিনো

অ্যান হ্যাথাওয়ে
অ্যান হ্যাথাওয়েছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

ফুলের নকশার স্ট্র্যাপলেস ট্রাম্পেট গাউনে হাজির হন অ্যান হ্যাথাওয়ে। সঙ্গে ছিল কালো অপেরা গ্লাভস ও বুলগারি গয়না।

টেয়ানা টেলর, শ্যানেল

টেয়ানা টেলর
টেয়ানা টেলরছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

সাদা-কালো গাউনে নজর কাড়েন টেয়ানা টেলর। আধা স্বচ্ছ বডিস ও দীর্ঘ টেক্সচার্ড ট্রেন পোশাকটিকে করেছে নাটকীয়।

মিয়া গথ, ডিওর

মিয়া গথ
মিয়া গথছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

রোমান্টিক সাদা লেসের ডিওর গাউনে একেবারে ব্রাইডাল লুক নিয়েই হাজির হন মিয়া গথ।

ওডেসা এ’জায়ন, ভ্যালেন্টিনো

ওডেসা এ’জায়ন
ওডেসা এ’জায়নছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

দীর্ঘ হাতার স্বচ্ছ ভ্যালেন্টিনো পোশাকে হাজির হন ওডেসা এ’জায়ন। সূক্ষ্ম অলংকরণে সাজানো ছিল পুরো গাউন।

গ্রেসি অ্যাব্রামস, শ্যানেল

গ্রেসি অ্যাব্রামস
গ্রেসি অ্যাব্রামস, ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

কালো সিকুইন টপ ও লো-রাইজ স্কার্টে রেড কার্পেটে হাজির হন গায়িকা গ্রেসি অ্যাব্রামস। সঙ্গে ছিল লম্বা শিফন স্কার্ফ।

সূত্র: এল

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অস্কার বা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৮তম আসর জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডলবি থিয়েটারে। স্থানীয় সময় রোববার (১৫ মার্চ) রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের এই বিখ্যাত ভেন্যুতে বসে বিশ্ব তারকাদের বহুল প্রতীক্ষিত এই অনুষ্ঠান।

এ বছরের আসরে বিভিন্ন শাখায় সেরা শিল্পী, নির্মাতা ও চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণা করা শুরু হয়েছে। উপস্থাপক হিসেবে মঞ্চে রয়েছেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব কোনান ও’ব্রায়েন, যিনি একে একে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করছেন।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকা, নির্মাতা ও অতিথিদের উপস্থিতিতে জমকালো পরিবেশে শুরু হয় অস্কারের এই আয়োজন। লাল গালিচায় বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

৯৮তম অস্কারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীসহ অন্যান্য ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শক টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই আয়োজন সরাসরি উপভোগ করছেন।

এক নজরে জেনে নেয়া যাক, উল্লেখযোগ্য বিভাগে কাদের হাতে উঠলো এবারের পুরস্কারঃ

সেরা অভিনেতা: মাইকেল বি জর্ডান (সিনার্স)

সেরা অভিনেত্রী: জেসি বাকলি

সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: শন পেন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)

সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: অ্যামি ম্যাডিগান (ওয়েপনস)

সেরা পরিচালক: পল টমাস অ্যান্ডারসন

সেরা সিনেমা: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য: সিনার্স

সেরা চিত্রনাট্য (অ্যাডাপ্টেড): ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম: কেপপ ডেমন হান্টার্স

সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড: দ্য গার্ল হু ক্রাইড পার্লস

সেরা কস্টিউম ডিজাইন: ফ্রাঙ্কেনস্টাইন

সেরা মেকাপ ও হেয়ারস্টাইলিং: ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন

সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন: ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন

সেরা সম্পাদনা: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

সেরা ভিজুয়াল ইফেক্টস: অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ

সেরা মৌলিক গান: গোল্ডেন (কেপপ ডেমন হান্টার্স)

সেরা মৌলিক সংগীত: সিনার্স

সেরা সাউন্ড: এফ১

সেরা ডকুমেন্টারি ফিচার ফিল্ম: মিস্টার নোবডি এগেনস্ট পুতিন

সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম: সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু

সেরা সিনেমাটোগ্রাফি: সিনার্স।

 

বলিউডের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের ৩৩তম জন্মদিন আজ। তারকা পরিবারে জন্ম নিলেও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। আলিয়া মনে করেন, তাঁর সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।
সম্প্রতি এল ইউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলিয়া ভাট নিজের পরিবার ও বেড়ে ওঠা নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি তাঁর মা সোনি রাজদানের অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন। আলিয়ার কথায়, সোনি রাজদান একেবারে অচেনা একজন মানুষ হিসেবে অভিনয়ের জগতে পা রেখেছিলেন। চলচ্চিত্রে তাঁর কোনো পরিচিতি ছিল না, এমনকি হিন্দি ভাষাতেও তিনি খুব স্বচ্ছন্দ ছিলেন না।

তবু অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে তিনি থিয়েটার থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের স্টুডিও—সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে অডিশন দিয়েছেন। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা ও সুযোগের অভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি হাল ছাড়েননি। যদিও মূলধারার নায়িকা হিসেবে খুব বেশি সুযোগ পাননি, তবু অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।

আলিয়া তাঁর বাবা খ্যাতিমান পরিচালক মহেশ ভাটের জীবন নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, মহেশ ভাটের জীবনেও একসময় বড় ধরনের সংকট এসেছিল। সেই সময় তাঁর বেশ কয়েকটি সিনেমা পরপর বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। আর্থিক দিক থেকেও তিনি তখন সংকটের মধ্যে ছিলেন। পাশাপাশি তখন তিনি মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন।

আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে পরে মহেশ ভাট মদ্যপান ছেড়ে দেন এবং ধীরে ধীরে আবার কাজে মন দেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ার নানা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। আলিয়ার মতে, তাঁর মা–বাবা অনেক সংগ্রাম করে এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছেন, যার সুফল তিনি আজ পাচ্ছেন।

এ কারণেই নিজের অবস্থান সম্পর্কে তিনি সচেতন বলে জানান আলিয়া। তিনি বলেন, যদি কোনো দিন তাঁর অভিনয়জীবন ভালো না চলে বা তিনি আর চলচ্চিত্রে কাজ না পান, তবু তিনি কখনো অভিযোগ করবেন না। কারণ, তিনি জানেন, অনেক মানুষের সেই সুযোগটুকুও থাকে না।

আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

২০১২ সালে করণ জোহর পরিচালিত ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় আলিয়ার। এরপর ‘হাইওয়ে’, ‘রাজি’, ‘গাল্লি বয়’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াবাড়ি’সহ একাধিক আলোচিত ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভিনয়ের জন্য একাধিকবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন।

ব্যক্তিজীবনে ২০২২ সালে অভিনেতা রণবীর কাপুরকে বিয়ে করেন আলিয়া ভাট। একই বছর তাঁদের কন্যাসন্তান রাহা কাপুরের জন্ম হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি এখন পরিবার ও কাজ—দুটিই সমানভাবে সামলাচ্ছেন তিনি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব