• Colors: Yellow Color

পর্দায় নানা সময় নানাজনের ‘মা’ হয়েছেন অভিনেত্রী দিলারা জামান। বাস্তবে মা হিসেবে তিনি কেমন? পড়ুন তাঁর সন্তান জুবায়রা জামান চৌধুরীর লেখা।

২৬ বছর হলো দেশের বাইরে আছি। এর মধ্যেই ২০১৪ সালে আব্বা মারা গেলেন। শেষ সময়ে আব্বা আমার এখানেই ছিলেন। তিনি বারবার বলতেন, ‘তোর মায়ের দায়িত্ব আমি তোকে দিয়ে যেতে চাই।’ আব্বা মারা যাওয়ার পর আম্মা সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি আমেরিকা থাকবেন না। গ্রিন কার্ড ছেড়ে দিলেন। তাঁকে রাজি করাতে পারলাম না। তখন নিজেকে খুব ব্যর্থ মনে হচ্ছিল। ভাবছিলাম আব্বাকে দেওয়া কথা রাখতে পারলাম না।

আম্মাকে আমার মনে হয় ভীষণ একগুঁয়ে। কথা শুনতে চান না। সবার কাছে তিনি অভিনেত্রী দিলারা জামান, একজন সেলিব্রিটি; কিন্তু আমার কাছে তো তিনি মা। সম্পর্কটা রক্তের, এখানে কোনো স্বার্থ নেই। মেয়ে হিসেবে মন খুলে সব বলতে পারি। ফলে রাগ-অভিমানটাও বেশিই হয়। 

আম্মার সঙ্গে একটা বড় অভিমানের জায়গা তাঁর পর্দার ছেলেমেয়েরা। নাটকে দেখি তিনি ছেলেমেয়েদের জড়িয়ে ধরছেন, চুমু খাচ্ছেন। এ রকম অনেক ভিডিও ভাইরালও হয়। দেখলে আমার মন খারাপ হয়। আম্মার একটা জড়তা আছে। এই জিনিসগুলো তিনি আমাদের সঙ্গে করেননি। অনেকে বোঝানোর চেষ্টা করে, পর্দায় যেটা দেখা যায়, সেটা অভিনয়। তারপরও মনে হয়, তিনি তো আমাদের সঙ্গেও ওই ঘনিষ্ঠতাটুকু দেখাতে পারেন। এখন আমি নিজেও মা। মেয়েদের কাছে আমি ভালোবাসা প্রকাশ করি। আম্মার কথা যখন ভাবি, মনে হয়, তাঁদের প্রজন্ম হয়তো ভালোবাসার প্রকাশটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি। তাঁরা এটার সঙ্গে অভ্যস্ত নয়।

সম্পর্কটা রক্তের, এখানে কোনো স্বার্থ নেই
সম্পর্কটা রক্তের, এখানে কোনো স্বার্থ নেইছবি: কবির হোসেন

ছিলেন খুব ‘স্ট্রিক্ট’

আম্মা খুব ‘স্ট্রিক্ট’ ছিলেন। আমরা দুই বোন, আমি আর বড় আপা তানিরা, আমাদের দুজনকেই অনেক শাসনের মধ্যে বড় করেছেন। সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হতো। বন্ধুরা একসঙ্গে মিলে দুপুর বা রাতের খাবার খাওয়া, আড্ডা দেওয়া—এটা পারতাম না। বাসায় ছেলে বন্ধু আনা নিষেধ ছিল, এলেও ড্রয়িংরুমে বসা পর্যন্তই অনুমতি ছিল। এ ক্ষেত্রে আব্বাও ছিলেন সমান কঠোর।

আম্মা শিক্ষকতা করতেন। তিনি যে স্কুলে যেতেন, আমাদেরও একই স্কুলে ভর্তি করাতেন। সব সময় চোখে চোখে রাখতেন। আমরা কখনোই ক্লাস ফাঁকি দিতে পারিনি। তবে এই কঠোরতার মধ্য দিয়ে একটি জিনিস তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—সততা। আব্বা বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) ছিলেন। তাঁদের দুজনই কোনো কিছুতে লোভ লালসা করেননি। ফলে আমরা খুব প্রাচুর্যের মধ্যে বড় হইনি। এ বিষয়টা আমাদের মধ্যেও এসেছে। চেষ্টা করি সব পরিস্থিতিতে সৎ থাকার। সব সময় মনে রাখি ওপরে একজন আছেন, যিনি দেখছেন।

শিক্ষক দিলারা জামান ছেলেমেয়েদের কড়া শাসনে বড় করেছেন
শিক্ষক দিলারা জামান ছেলেমেয়েদের কড়া শাসনে বড় করেছেনছবি: কবির হোসেন

আম্মার ‘স্যাক্রিফাইস’

চট্টগ্রামে আম্মা থিয়েটার করতেন, অরিন্দমে ছিলেন। তারপর যখন ঢাকায় এলেন, থিয়েটার পুরোপুরি ছেড়ে দিলেন। আম্মা জানতেন থিয়েটারে অনেক সময় দিতে হবে। তখন স্কুল আর বাসা—এই দুইয়ের মধ্যে বন্দী হয়ে যান। আমাদের স্কুলে আনা–নেওয়া করতেন। রিকশায় আমাকে কোলে নিতেন, বড় আপা পাশে বসত। আম্মা সব সময় নিজ হাতে রান্না করতেন। আমরা কখনো গৃহপরিচারিকার রান্না খাইনি। বাজারটাও নিজে করতেন। এই সময়টায় অভিনয় থেকে তিনি লম্বা বিরতিতে চলে যান।

এরপর হুমায়ূন আহমেদের এইসব দিনরাত্রি নাটক দিয়ে তাঁর অভিনয়ে ফেরা। তখন তাঁর মধ্য বয়স, মা চরিত্রে তখনই হয়তো অভিনয় করার কথা না। কিন্তু আম্মা সেই চরিত্র করলেন। তার পর থেকে একই ধরনের রাগী, খিটখিটে মায়ের চরিত্র আসতে থাকল। তখন তিনি কেবল ওই ধরনের চরিত্রের জন্যই বিবেচিত হতেন। এই ‘স্যাক্রিফাইস’ তিনি আমাদের জন্য করেছেন।

মায়েদের প্রতি আলাদা দরদ

মা হতে আম্মার অনেক সময় লেগেছিল। বিয়ের ১০ বছর পর তিনি মা হন। আমার মনে হয় এ জন্য মায়েদের প্রতি তাঁর আলাদা দরদ আছে। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম, কারও মা হওয়ার খবর শুনলে তিনি ব্যস্ত হয়ে যেতেন। হয়তো হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে আসতেন। টিফিন বক্স ভরে খাবার রান্না করে নিয়ে যেতেন।

আম্মার মাতৃত্বের অনুভূতি অনেক গভীর। আমাদের একটা ছোট ভাই আছে। ওর নাম আশিক। আশিক ওর আড়াই বছর থেকে আমাদের পরিবারের সঙ্গে আছে। আমরা একসঙ্গেই বড় হয়েছি। আম্মা ওকে নিজের ছেলের মতো আদর করেন। ২০১৪ সাল থেকে আশিক আম্মার সঙ্গেই থাকে।

আম্মাকে দেখেছি প্রচণ্ড উদার। তাঁর কাছে ১০ টাকা থাকলে পাঁচ টাকা তিনি অন্যদের জন্য রেখে দেন। কারও হয়তো চোখের অপারেশন, কারও ছেলের পড়ালেখার খরচ—যেটুকু পারেন সাহায্য করেন। অনেক সময় জমানো টাকাও এসব কাজে খরচ করে ফেলেন। অনেকে তাঁর এই উদারতার সুযোগ নেয়। তিনি সেটা বুঝতে চান না। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আবার আমার কথা-কাটাকাটি হয়। তবে তিনি সন্তুষ্টি নিয়ে ঘুমাতে যান, এটা আমি অনুভব করতে পারি।

মা ও মেয়ে
মা ও মেয়ে
 
তিনি একা নন

আমার বিদেশে আসার একটা কারণ ছিল, আমি আম্মা-আব্বাকে বিদেশে নিতে চাইতাম। কিন্তু সেটা পারিনি। আমরা দুই বোনই দেশের বাইরে থাকি। দেশে আম্মার সঙ্গে আশিক থাকে। আর তাঁর একজন সহকারী আছে। তবে আম্মার সবচেয়ে বড় সঙ্গী কাজ। এই বয়সেও তিনি তাঁর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এটা একদিকে আমাকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। তাঁর ডায়াবেটিস আছে, কিডনির সমস্যা আছে, কানে শুনতেও সমস্যা হয়। আমার মনে হয় কাজ তাঁকে একাকিত্ব থেকে দূরে রাখে।

আম্মার পুরো জীবনটা ত্যাগের মধ্য দিয়ে গেছে। আমি চেষ্টা করি প্রতিবছর ১০-১৫ দিনের জন্য হলেও ঘুরে আসার। আমার দুই মেয়ে আমাইরা আর আরিসা জানে, ওদের নানি বাংলাদেশের একজন সেলিব্রিটি। মুঠোফোনে নানির সঙ্গে ওদের কথা হয়।

দূর থেকে আম্মার কথা সব সময় মনে পড়ে। আর মাঝে মাঝে মিস করি তাঁর হাতের রান্না। আম্মা মাছ খুব ভালো রাঁধেন। মসলা বেশি দেন না, হালকা ঝোল ঝোল রাখেন। আম্মার হাতের মাছ খুব মিস করি।

অনুলিখিত

একসময় বলিউডের অন্যতম আলোচিত মুখ ছিলেন সেলিনা জেটলি। মিস ইন্ডিয়া খেতাব জয়, গ্ল্যামার জগতে দ্রুত উত্থান, বলিউডে একের পর এক জনপ্রিয় ছবি—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন যেন ছিল নিখুঁত রূপকথা। কিন্তু সেই ঝলমলে জীবনের আড়ালে যে দীর্ঘদিন ধরে জমছিল ব্যক্তিগত অস্থিরতা, মানসিক যন্ত্রণা আর সম্পর্কের টানাপোড়েন, তা এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগে অভিনেত্রীর স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে মুম্বাই পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, তদন্ত চলাকালে ভারত ছাড়ার আশঙ্কায় তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আর এ ঘটনার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক রহস্যময় পোস্ট করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সেলিনা।

‘নার্সিসিস্টের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙা মানে নিজের হারানো সত্তাকে ফিরে পাওয়া’
ঘটনার পর গভীর রাতে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ছবি পোস্ট করেন সেলিনা। সেখানে দেখা যায়, তিনি একটি বই পড়ছেন। বইয়ের পাতার শিরোনাম— ‘ব্রেকিং আপ উইথ আ নার্সিসিস্ট’।

পাতার বেশ কয়েকটি অংশ তিনি হাইলাইট করেছিলেন। একটি লাইনে লেখা ছিল—‘একজন নার্সিসিস্টের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙা মানে সেই মানুষটির তৈরি করা আপনার আরেকটি সংস্করণের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটানো।’

আরেকটি অংশে ছিল—‘যখন আপনি সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন শুধু একটি সম্পর্কই শেষ করেন না; আপনি নিজের পরিচয়, নিজের কণ্ঠস্বর এবং নিজের জীবনও ফিরে পান।’

সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে আরেকটি অংশ—‘আপনি নিজের গল্প নতুন করে লেখার যোগ্য। আপনি সুস্থ হয়ে ওঠার যোগ্য। আপনি সেই মানুষ নন, যেভাবে আপনাকে বিশ্বাস করানো হয়েছিল।’

এই পোস্টের পর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, নিজের দাম্পত্য জীবনের সংকট নিয়েই কি পরোক্ষ বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী?

মুম্বাই পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, পিটার হাগের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অভিযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি।

মামলাটি প্রটেকশন অব উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ২০০৫-এর সঙ্গেও যুক্ত। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ দায়েরের পর পিটারের বিরুদ্ধে লুক-আউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সাধারণত যখন আশঙ্কা থাকে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্ত এড়িয়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন, তখনই লুক–আউট সার্কুলেশন জারি করা হয়।

সূত্রের দাবি, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এখন পর্যন্ত পিটার হাগ কিংবা তাঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
 

সন্তানের কবরের সামনে এক মায়ের কান্না
এই আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই কয়েক দিন আগে একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও পোস্ট করেছিলেন সেলিনা। সেখানে তাঁকে দেখা যায় প্রয়াত ছেলে শমশেরের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। ভিডিওতে তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমানে তিনি নিজের সন্তানদের সঙ্গেও স্বাভাবিকভাবে দেখা করতে পারছেন না। তাঁর কথায়, শুধু শমশেরই যেন এখন তাঁর নীরব সঙ্গী। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনুরাগীরা। অনেকেই অভিনেত্রীর পাশে থাকার বার্তা দেন।

পিটার হাগ মূলত অস্ট্রিয়ার নাগরিক। আন্তর্জাতিক হোটেল ও আতিথেয়তাশিল্পে বহু বছর ধরে কাজ করেছেন তিনি। দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেল চেইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং ও হোটেল ম্যানেজমেন্টে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে সেলিনা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে সেলিনা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

রূপকথার প্রেম, তারপর ভাঙনের গল্প
২০১১ সালে বিয়ে করেন সেলিনা ও পিটার। সে সময় বলিউডে তাঁদের বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। বিয়ের পর অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান সেলিনা। বিদেশেই সংসার গড়েন তাঁরা। ২০১২ সালে জন্ম নেয় তাঁদের যমজ সন্তান উইনস্টন ও বিরাজ। পরে ২০১৭ সালে আবারও যমজ সন্তানের মা–বাবা হন তাঁরা—শমশের ও আর্থার। কিন্তু জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় শমশের। সেই ট্র্যাজেডি সেলিনার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
অভিনেত্রী একাধিকবার বলেছেন, সন্তান হারানোর যন্ত্রণা তাঁকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল।

২০২৫ সালেই শুরু হয়েছিল আইনি লড়াই

জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরেই প্রথম গার্হস্থ্য হিংসার মামলা করেন সেলিনা। তখন ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার প্রথম দায়িত্ব আমার সেনা অফিসার ভাইয়ের জন্য লড়াই করা, আমার সন্তানদের ভালোবাসা ফিরে পাওয়া এবং নিজের মর্যাদা রক্ষা করা।’

সেলিনা অভিযোগ করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন, অবহেলা ও সম্পর্কের ভাঙনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।
শুধু তা-ই নয়, তিনি ৫০ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণও দাবি করেন বলে জানা গেছে। সম্পত্তি ও আয়ের ক্ষতির কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বলিউডের গ্ল্যামারের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা
২০০১ সালে ‘মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স’ খেতাব জয়ের পর বলিউডে পা রাখেন সেলিনা। ‘নো এন্ট্রি’, ‘গোলমাল রিটার্নস’, ‘আপনা সাপনা মানি মানি’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করে দ্রুত জনপ্রিয়তা পান তিনি।

তবে বিয়ের পর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। পরিবার, সন্তান ও ব্যক্তিজীবন নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এখন সেই ব্যক্তিজীবনই আদালত, পুলিশি তদন্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে।

মিড ডে ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

যৌথভাবে এবার ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ফিফা এবার আয়োজক তিন দেশেই আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৪ জুলাই হিউস্টন ও ফিলাডেলফিয়ায় বিশেষ আয়োজনও থাকবে। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর আগে পারফর্ম করার জন্য বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ফিফা।

বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়
বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়, ছবি: ফেসবুক
 

১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের পার্শ্ববর্তী সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি, ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসা। তাঁদের সঙ্গে এদিন পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়।

খবরটি নিশ্চিত করে সঞ্জয় বলেন, ‘জীবনে এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখা থেকে আজ সেই মঞ্চের অংশ হওয়া—অবিশ্বাস্য অনুভূতি। একজন অভিবাসী সন্তান হিসেবে নিজের ঘরের স্টুডিও থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছানো সত্যিই বিশেষ কিছু।’
সঞ্জয় আরও বলেন, ‘এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি সেই সব তরুণের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা দুই ভিন্ন সংস্কৃতির ভেতর বড় হয়েছে এবং বিশ্বাস করেছে যে তাদের কণ্ঠস্বর অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’

সঞ্জয় ইতিমধ্যে তাঁর কাজ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস তাঁকে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত দক্ষিণ এশীয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কেটি পেরি
কেটি পেরি, রয়টার্স
 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই দিনে মাঠে নামছে কানাডা। টরন্টোয় প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে তাদের ম্যাচে পারফর্ম করবেন কানাডীয় শিল্পী মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট ও আলেসিয়া কারা।

১১ জুন অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের মূল পর্ব। ওই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবে মেক্সিকান রক ব্যান্ড মানা, পপ তারকা আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ ও গায়িকা বেলিন্দা। দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা-গীতিকার টাইলাও থাকবেন এই আয়োজনে।

বিভিন্ন উদ্বোধনী আয়োজনে ভাগ হয়ে পারফর্ম করবেন আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক শিল্পী। তাঁদের মধ্যে আছেন কলম্বিয়ার জে বালভিন, ব্রাজিলের আনিত্তা, ভেনেজুয়েলার ড্যানি ওশান, ফিলিস্তিনি-চিলিয়ান শিল্পী এলিয়ান্না এবং ফ্রান্সের ভেজেড্রিম।

দর্শকদের আগেভাগে স্টেডিয়ামে আনতে ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু করার পরিকল্পনা করেছে ফিফা। মেক্সিকোর অনুষ্ঠান চলবে ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড, আর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনুষ্ঠান হবে ১৩ মিনিট করে।

বলিউডের ঝলমলে পর্দার আড়ালে যে বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে, সেটাই খোলাখুলি তুলে ধরলেন অভিনেত্রী নওহিদ সাইরুসি। দীর্ঘদিন বড় পর্দায় অনুপস্থিত থাকার পর অবশেষে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন তিনি।

অনুপস্থিতির আড়ালের গল্প
‘আনওয়ার’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীকে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পর্দায় খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। ভক্তদের কাছ থেকে বারবার একই প্রশ্ন—নতুন কোনো সিনেমা বা শো কবে আসছে? সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই নিজের অভিজ্ঞতার কথা খুলে বললেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে নওহিদ সাইরুসি জানান, অভিনয়জীবনের নানা অঘোষিত শর্তই তাঁকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি থেকে।

‘অপ্রয়োজনীয়’ অন্তরঙ্গ দৃশ্যের চাপ
নওহিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এখন অনেক ক্ষেত্রেই অভিনয়ের চুক্তি মানেই ধরে নেওয়া হয়—অভিনেত্রীকে চুম্বন বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে স্বচ্ছন্দ থাকতে হবে। তাঁর মতে, এই দৃশ্যগুলো অনেক সময় গল্পের প্রয়োজন ছাড়াই জোর করে ঢোকানো হয়।
নওহিদের কথায়, ‘এখন তো প্রায় অকারণেই চুম্বনের দৃশ্য ঢোকানো হয়। আমি এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। এমনকি না বলার আগেই অনেক কাজ থেকে বাদ পড়তে হয়েছে।’
এ অবস্থান তাঁর ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছে বলেও জানান নওহিদ।

নওহিদ সাইরুসি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
নওহিদ সাইরুসি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

পারিশ্রমিক নিয়েও অভিযোগ
শুধু অভিনয়ের শর্তই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, অনেক প্রযোজক চুক্তি অনুযায়ী পুরো পারিশ্রমিক পরিশোধ করেন না।

নওহিদের ভাষায়, ‘শুটিং শেষ হওয়ার পর প্রায় ২৫ শতাংশ টাকা আটকে রাখা হয়, যা অনেক সময় আর পাওয়া যায় না। নানা অজুহাতে সেই অর্থ আটকে রাখা হয়, যেমন সিনেমা ভালো ব্যবসা করেনি ইত্যাদি।’
নওহিদ সাইরুসি বলেন, ‘আমি আমার কাজ করেছি, কিন্তু টাকা না পেলে কার কাছে বিচার চাইব?’

‘ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের দুনিয়া’ থেকে দূরে
নওহিদ আরও জানান, তিনি কখনোই ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত ‘ইনার সার্কেল’-এর অংশ ছিলেন না। প্রযোজক-অভিনেতাদের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে মেলামেশা না করায় অনেক সময় ভালো সুযোগ পাননি। ফলে তাঁকে প্রায়ই ছোটখাটো চরিত্র—কারও বোন, কারও ভাবি—এই ধরনের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখা হতো, যা করতে তিনি আগ্রহী ছিলেন না।

ইনস্টাগ্রামেই নতুন ঠিকানা
অভিনয়ের বাইরে এসে নওহিদ খুঁজে পেয়েছেন নতুন এক পরিচয়—সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ইনস্টাগ্রামে তাঁর জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেড়েছে, আর সেটাকেই তিনি নিজের ‘আসল জায়গা’ বলে মনে করছেন।

নওহিদের কথায়, ‘আমি বুঝেছি, ইনস্টাগ্রামই আমার জন্য ঠিক জায়গা। এখানে আমি নিজেকে নিজের মতো করে প্রকাশ করতে পারি।’

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

মাদকাসক্তি নিয়ে নিজের মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিষয়টি পরিষ্কার করলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। তাঁর সঙ্গে যুক্ত অ্যালকোহল-আসক্তি সচেতনতা উদ্যোগ ‘অব দ্য রকস অ্যান্ড আমাহা’ এক বিবৃতিতে জানায়, গণমাধ্যমের একটি অংশ তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

‘ভুল ব্যাখ্যা উদ্বেগজনক’
গতকাল রাতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এই উদ্যোগের সঙ্গে জাহ্নবীর সম্পৃক্ততা ও তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’। বিবৃতিটি জাহ্নবী নিজেও তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘জাহ্নবী কাপুর এই আলোচনায় যুক্ত একজন সহমর্মী ও সহযোগী হিসেবে; তিনি নিজে কখনো আসক্তি বা অ্যালকোহল–নির্ভরতার অভিজ্ঞতার মধ্যে ছিলেন না।’ এ ধরনের ভুল ব্যাখ্যা তাঁর ভূমিকাকে খাটো করে এবং আসক্তির সঙ্গে লড়াই করা মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে অসম্মান করে বলেও উল্লেখ করা হয়।

জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ক্লিকবেটের বিরুদ্ধে সতর্কতা
বিবৃতিতে গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তিদের প্রতি দায়িত্বশীলভাবে খবর প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়, আসক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো শুধু ক্ষতিকরই নয়, এটি সংশ্লিষ্ট মানুষদের প্রতি অসম্মানজনকও।

কী বলেছিলেন জাহ্নবী
এই বিতর্কের সূত্রপাত রাজ সামানির পডকাস্টে দেওয়া জাহ্নবীর এক মন্তব্য থেকে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, জীবনের এক কঠিন অভিজ্ঞতার পর তিনি কিছু সময় নিয়মিত মদ্যপান করতেন।

জাহ্নবী কাপুর
জাহ্নবী কাপুর, জাহ্নবী কাপুরের ইনস্টাগ্রাম থেকে

তবে জাহ্নবী পরিষ্কার করেন, ‘আমি বলব না যে আমি আসক্ত ছিলাম বা অ্যালকোহলের অপব্যবহার করতাম, কিন্তু তখন আমি প্রায়ই মদ্যপান করতাম।’
বিষয়টি বুঝে উঠতে সময় লেগেছিল অভিনেত্রীর। ক্রমে বুঝতে পারছিলেন, মদ্যপান তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। সকালবেলায়ও অস্বস্তি হতো তাঁর।

জাহ্নবীর কথায়, ‘আমার স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছিল, সেটা আমার ভালো লাগছিল না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে অনুভূতি হতো, তা মোটেই সুখকর ছিল না। নিজের শরীর থেকেই এক অদ্ভুত গন্ধ বেরোত। এই গন্ধ আমার খুব পরিচিত ছিল। আমারই এক চেনা ব্যক্তি, যিনি নেশাগ্রস্ত থাকতেন, তাঁর শরীর থেকে এমন গন্ধ বেরোত।’ এভাবেই ক্রমে বুঝলেন, মদ্যপান মোটেই ঠিক নয় স্বাস্থ্যের জন্য। ক্রমে সেই অভ্যাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী।

সামনে কী কাজ
কাজের দিক থেকে জাহ্নবী কাপুরকে পরবর্তী সময়ে দেখা যাবে ‘পেড্ডি’ ছবিতে, যেখানে তাঁর সহ-অভিনেতা রামচরণ। ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ৬ জুন।

কিয়ারাকে দেখা যাবে গীতু মোহনদাসের আলোচিত কন্নড় সিনেমা ‘টক্সিক’–এ। তবে সিনেমাটি থেকে নিজের অভিনীত ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বাদ দিতে চান, এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। গতকাল প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এমন কিছু খবরের লিংক শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘একেবারেই বাজে কথা।’

টাইমস অব ইন্ডিয়া, মিড ডেসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ছবির ফাইনাল কাট দেখে কিয়ারা নাকি অস্বস্তি বোধ করেন এবং কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। এমনও বলা হয়, শুরুতে একটি ‘বোল্ড’ রোমান্টিক দৃশ্যে রাজি হলেও, পরে নাকি মত বদলান। এসব দাবি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান কিয়ারা। এর মধ্য দিয়েই তিনি পরিষ্কার করে দেন—এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই।

‘টক্সিক’ সিনেমাটি মুক্তির আগেই একাধিকবার বিলম্বিত হয়েছে। প্রথমে ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘টক্সিক’-এর। দিনক্ষণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন মুক্তির দিন নির্ধারিত হয়েছে ৪ জুন। শোনা যাচ্ছে, আবার ছবি মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে গত বছর ‘ওয়ার ২’ ছবিতে কিয়ারার বিকিনির দৃশ্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। প্রথম সন্তানের মা হওয়ার পর কিয়ারা এখন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব