• Colors: Yellow Color

নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (আইএফএফআর) থেকে পুরস্কার পেল বাংলাদেশের সিনেমা ‘মাস্টার’। সিনেমাটি উৎসবের ‘বিগ স্ক্রিন কমপিটিশন’ বিভাগের শীর্ষ পুরস্কার জিতেছে। শুক্রবার রাতে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। ‘মাস্টার’ এ বিভাগের ১২টি সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পুরস্কার পেয়েছে।

পুরস্কার হাতে তিন অভিনয়শিল্পী জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন ও নাসিরউদ্দিন খান
পুরস্কার হাতে তিন অভিনয়শিল্পী জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন ও নাসিরউদ্দিন খানছবি: ফেসবুক
 

পুরস্কার জয়ের খবরে উচ্ছ্বসিত সিনেমার টিম। রাতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমরা বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জিতেছি। অভিনন্দন আমাদের পরিচালক ও পুরো টিমকে। বাংলাদেশের জন্য দারুণ একটি দিন।’ এই পুরস্কার পরিচালকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অনুভূতি জানাতে গিয়ে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা অনেক বড় সম্মানের। এ অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। আপনি আমাদের এ ক্যাটাগরির ছবিগুলোর তালিকা দেখলে দেখবেন, সেখানে অনেক ভালো ভালো সিনেমা ছিল। এ তালিকায় জায়গা পাওয়াতেই আমরা আনন্দিত ছিলাম। সেখানে পুরস্কার জয়, স্বপ্নের মতোই লাগছে।’

কী আছে এই ‘মাস্টার’ সিনেমায়? সময়ের প্রয়োজনে একজন শিক্ষকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তৈরি হয় নানা সংকট। নির্বাচনে তাঁর পেছনে যাঁরা সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেন, পরবর্তী সময়ে তাঁদের প্রায় সবাই শিক্ষকের কাছে অন্যায্য সাহায্য প্রত্যাশা করেন। সেই সাহায্যপ্রত্যাশীদের এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব হয় না, আবার নিজের ব্যক্তিত্ব ও বিবেক তাঁকে বাধাগ্রস্তও করে। এই দ্বন্দ্ব তাঁকে পরিণত করে ভিন্ন এক মানুষে—এমন গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি।
সিনেমাটিকে পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে জুরি সদস্যরা বলেন, ‘“মাস্টার” মূলত একজন মানুষের নিজের নৈতিকতা ধরে রাখার লড়াইয়ের গল্প। ক্ষমতা ও পুঁজিবাদের প্রলোভন কীভাবে ধীরে ধীরে একজন আদর্শবাদী মানুষকে বদলে দেয়—ছবিতে তা সূক্ষ্মভাবে দেখানো হয়েছে। অসাধারণ ভিজ্যুয়াল, প্রাণবন্ত লোকেশন ও বাস্তবসম্মত পার্শ্বচরিত্রের ভিড়ে প্রধান অভিনেতা দক্ষ অভিনয়ে তুলে ধরেছেন চরিত্রটির ভেতরের দ্বন্দ্ব। শেষ পর্যন্ত ছবিটি ক্ষমতার সর্বগ্রাসী প্রভাবকেই উন্মোচিত করে।’

‘মাস্টার’ সিনেমার দৃশ্যে নাসির উদ্দিন খান ও শরীফ সিরাজ
‘মাস্টার’ সিনেমার দৃশ্যে নাসির উদ্দিন খান ও শরীফ সিরাজ, ছবি: নির্মাতার সৌজন্যে
 

গত ২ ফেব্রুয়ারি রটারড্যামে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়ায়। নির্মাতা সুমিতের সঙ্গে উৎসবে অংশ নেন তিন অভিনয়শিল্পী অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন ও নাসিরউদ্দিন খান।
প্রিমিয়ারের আগেই যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কাওয়ানন ফিল্মস’ নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়ায় ছবিটি বাড়তি আলোচনায় আসে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন চার্লি চ্যাপলিনের নাতনি কারমেন চ্যাপলিন ও প্রযোজক আশিম ভাল্লা।
ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, লুৎফর রহমান জর্জ ও শরীফ সিরাজ। গল্প, চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনায় ছিলেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নিজেই। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব আগামীকাল শেষ হবে। রটারড্যাম উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার হিসেবে ধরা হয় ‘টাইগার অ্যাওয়ার্ড’। এ পুরস্কার জিতেছে সাউথ আফ্রিকার সিনেমা ‘ভ্যারিয়েশনস অন আ থিম’। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ডেভন ডেলমার ও জেসন জেকবস।

‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ সিরিজের তৃতীয় মৌসুমে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসা। গত বছর এইচবিওর সিরিজটি দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে এই তারকা সংগীতশিল্পীর।

এবার নেটফ্লিক্সের রোমান্টিক কমেডি সিনেমায় দেখা যাবে লিসাকে। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বেও থাকবেন তিনি। মিডল চাইল্ড প্রোডাকশনের ব্যানারে সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন ডেভিড বার্নাড। তিনি ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ সিরিজের প্রযোজনায়ও যুক্ত ছিলেন।

লিসা
লিসাইনস্টাগ্রাম থেকে
 

নতুন সিনেমাটির নাম ও গল্পের সারসংক্ষেপ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সিনেমার সঙ্গে যুক্ত একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, জুলিয়া রবার্টস ও হিউ গ্রান্টের ক্ল্যাসিক রোমান্টিক কমেডি ‘নটিং হিল’ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি করছেন তাঁরা।

‘দ্য হোয়াইট লোটাস’–এর শুটিংয়ের ফাঁকে সিনেমার গল্প নিয়ে ভেবেছেন ডেভিড বার্নাড ও লিসা। চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘সেট ইট আপ’–এর লেখক কেটি সিলভারম্যান।

এর মধ্যে নেটফ্লিক্সের ‘এক্সট্র্যাকশন’ ইউনিভার্সের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন লিসা।

১৩ বছর বয়সে দক্ষিণ কোরিয়ায় এসেছেন থাইল্যান্ডের মেয়ে লিসা। ২০১৬ সালে কোরীয় ব্যান্ড ব্ল্যাকপিঙ্কে যোগ দেন। ব্ল্যাকপিঙ্কের গায়িকা হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। তিনি কোরিয়ায় থিতু হয়েছেন।

এক দশকের ক্যারিয়ারে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন লিসা। এশিয়া থেকে ইউরোপ—সবখানেই লিসার অনুরাগী ছড়িয়ে আছেন। ব্যান্ডের পাশাপাশি একক ক্যারিয়ারেও চমক দেখিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই তারকা।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত লিসার প্রথম একক পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘অলটার ইগো’ বিলবোর্ডের ২০০ তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠেছিল। বিলবোর্ড টপ অ্যালবাম সেলস চার্টের শীর্ষে উঠেছিল।

বর্ণিল বিয়ে ২০২৬–এর প্রচ্ছদে বউ সেজেছেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। চারটি ভিন্ন লুকে মিরপুরের বেনারসি শাড়ি পরে কনে সেজেছেন তিনি। সেই ছবি তোলার আয়োজনেই জানার আগ্রহ হলো, নিজের বিয়েতে ঠিক কীভাবে সাজবেন এই অভিনেত্রী।

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের ‘মেহরিন’ চরিত্রের জন্য বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। সম্প্রতি প্রথম আলো থেকে প্রকাশিত ‘বর্ণিল বিয়ে ২০২৬’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে বউ সেজেছেন এই অভিনেত্রী।

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের ‘মেহরিন’ চরিত্রের জন্য বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল।
‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের ‘মেহরিন’ চরিত্রের জন্য বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল।
 

নিজের বিয়েতে কেমন সাজে নিজেকে দেখতে চান? জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘শুটিংয়ের জন্য বিয়ের সাজ তো অনেক সেজেছি, নিজের বিয়ে তো অবশ্যই স্পেশাল। বিয়ে নিয়ে যদিও এখন পর্যন্ত কোনো ভাবনা নেই। তবে নিজের বিয়েতে আমার খুব ইচ্ছা, আমি যেমন, আমাকে যেন তেমনটাই লাগে।’

বর্ণিল বিয়ে ২০২৬–এর প্রচ্ছদের জন্য বউ সেজেছেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল
বর্ণিল বিয়ে ২০২৬–এর প্রচ্ছদের জন্য বউ সেজেছেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল
 

‘হালকা মেকআপ আমার ভালো লাগে। বিয়েতে এমনভাবে সাজতে চাই না, যাতে আমাকে চেনা না যায়।’
শাড়ি না লেহেঙ্গা, বিয়ের দিন কেয়া পায়েলকে কোন পোশাকে দেখা যাবে? কেয়া পায়েল বললেন, ‘ভাবিনি, তবে প্রত্যেক মেয়ের যেমন ইচ্ছা থাকে, বিয়েতে লাল টুকটুকে বউ সাজার, আমার অবশ্য কখনোই লাল টুকটুকে বউ সাজতে ইচ্ছা হয়নি। বিয়েতে সোনার গয়না পরার ইচ্ছা আছে।’

হালকা মেকআপ ভালো লাগে কেয়া পায়েলের
হালকা মেকআপ ভালো লাগে কেয়া পায়েলের
 

জানালেন, বিয়ের দিন কেয়া পায়েল নিজের পারলার পার্ল বাই পায়েলেই বউ সাজবেন।
শুটিংয়ের জন্য এ পর্যন্ত ১০০ বারের বেশি বউ সেজেছেন কেয়া পায়েল।

মিরপুরের বেনারসি শাড়িতে কেয়া পায়েল
মিরপুরের বেনারসি শাড়িতে কেয়া পায়েল
 

শুটিংয়ের জন্য নিজের কোন বউ সাজটা এখন পর্যন্ত ভালো লেগেছে? এ প্রশ্নের উত্তরে কেয়া পায়েল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ঠিক কোনো সাজই আমার মনে দাগ কাটেনি। শুটিংয়ের সময় বউ সাজলে খুব ভারী মেকআপ ও অলংকার পরতে হয়।’

এই শুটিংয়ের লুকগুলো কেয়া পায়েলের বিশেষভাবে পছন্দ হয়েছে
এই শুটিংয়ের লুকগুলো কেয়া পায়েলের বিশেষভাবে পছন্দ হয়েছে
 

‘কেন জানি না, মনে হয় খুব বেশি সাজলে আমাকে দেখতে ভালো লাগে না। তবে মজার ব্যাপার হলো, বর্ণিল বিয়ের টিম আমাকে সেভাবেই আজ উপস্থাপন করেছে, যেভাবে বউ সাজে নিজেকে দেখতে চাই। আজকের শুটিংয়ের লুকগুলো আমার খুব ভালো লেগেছে।’

বিপাশা রায়

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ব্রিজারটন’ আবার ফিরেছে নতুন মৌসুম নিয়ে। চতুর্থ মৌসুমে শুধু রোমান্স বা রাজকীয় সাজসজ্জাই নয়, উঠে এসেছে একটি সংবেদনশীল ও দীর্ঘদিনের সামাজিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়—নারীদের যৌন অভিজ্ঞতা ও সে বিষয়ে অজ্ঞতার বাস্তবতা। এ মৌসুমে প্রেম, সম্পর্ক আর সামাজিক কাঠামোর ভেতরে নারীর অবস্থানকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অজানা জীবন তৃতীয় মৌসুমের শেষে ফ্রান্সেসকা ব্রিজারটন ও জন স্টার্লিংয়ের বিয়ে হয়। নতুন মৌসুমে দেখা যায়, তারা হাইল্যান্ডস থেকে লন্ডনে ফিরে এসেছে দাম্পত্য জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে। কিন্তু তাদের রাজকীয় পোশাক আর সামাজিক আয়োজনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর সংকট—ফ্রান্সেসকার যৌনতা সম্পর্কে প্রায় সম্পূর্ণ অজ্ঞতা।

রিজেন্সি যুগে অবিবাহিত অভিজাত নারীদের যৌনতা সম্পর্কে কিছুই জানানো হতো না। বিপরীতে, পুরুষেরা ইউরোপ ভ্রমণের সুযোগ পেত এবং সেখানে অভিজ্ঞতা অর্জন করাকে প্রায় স্বাভাবিক হিসেবেই দেখা হতো। এই বৈষম্য নতুন দম্পতির সম্পর্কের ভেতর অস্বস্তি তৈরি করে। ফ্রান্সেসকা বুঝতে পারে যে দাম্পত্য জীবনে তার হয়তো এমন কিছু অনুভব করার কথা, যা সে জানেই না।

 ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স
‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

নারীর সঙ্গে নারীর কথা
নিজের অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে ফ্রান্সেসকা আশ্রয় নেয় পরিবারের নারীদের কাছে। মা লেডি ব্রিজারটন ও ভাবি পেনেলোপের সঙ্গে সে খোলামেলা আলোচনা শুরু করে। এই অংশ সিরিজে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে দেখানো হয়েছে, পুরুষদের জন্য যা স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা, নারীদের জন্য তা কীভাবে নিষিদ্ধ ও গোপন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

ফ্রান্সেসকার চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী হান্না ডডের ভাষায়, নারীরা যদি একে অন্যের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পায়, তাহলে তারা নিজের শরীর বা অনুভূতি সম্পর্কে জানবে কীভাবে? এই প্রশ্নই সিরিজের কেন্দ্রে এসে দাঁড়ায়।
সম্পর্কের ভেতরের নীরবতার কারণ, ফ্রান্সেসকা ও জন দুজনই স্বভাবে অন্তর্মুখী। তাদের বিয়ে নতুন, একে অপরকে জানার পথ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ফলে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলাটাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সিরিজে দেখানো হয়েছে নীরবতা ভাঙার চেষ্টা। সম্পর্কের ভেতরে সততা আর খোলামেলা আলোচনার গুরুত্ব এখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভিন্নতা ও আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান
এই মৌসুমে ফ্রান্সেসকার চরিত্র ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। সেটা হলো, সমাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার অনুভূতি। সে প্রায়ই ভিড় থেকে সরে নিরিবিলি থাকতে চায়, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। অনেক দর্শক এই চরিত্রের ভেতর নিজেদের আলাদা অনুভব করার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছেন। সিরিজের নির্মাতারা সরাসরি কিছু না বললেও, এই ভিন্নতাকে সম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স
‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

বেনেডিক্টের প্রেম আর নতুন জগৎ
চতুর্থ মৌসুমের মূল গল্প এগিয়ে গেছে বেনেডিক্ট ব্রিজারটনের প্রেমকে কেন্দ্র করে। এক মুখোশ বলের রাতে সে পরিচিত হয় রহস্যময় তরুণী সোফির সঙ্গে। এই গল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ব্রিজারটনের ‘নিচের তলা’ বা গৃহপরিচারকদের জগৎও সামনে এসেছে। অভিজাত সমাজের ঝলমলের আড়ালে যাদের জীবন সংগ্রামে ভরা, সেই বাস্তবতা নতুন করে দেখা যায়।

 

রানি ও লেডি ড্যানবেরির টানাপোড়েনে পুরোনো চরিত্রদের মধ্যেও সম্পর্কের নতুন রূপ দেখা যায়। রানি শার্লট ও লেডি ড্যানবেরির বন্ধুত্বে তৈরি হয় টানাপোড়েন। রানি চান না যে লেডি ড্যানবেরি ছুটিতে যান, কারণ, তিনি তাকে ছাড়া নিজেকে অসহায় মনে করেন। এখানে ক্ষমতা ও বন্ধুত্বের সীমারেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেডি ড্যানবেরির আত্মসম্মান ও নিজের জন্য সময় চাওয়ার বিষয়টি নারীর আত্মপরিচয় ও সীমা নির্ধারণের বার্তা দেয়।

‘ব্রিজারটন ৪’–এ ইয়ারিন হা ও লুক থম্পসন। নেটফ্লিক্স
‘ব্রিজারটন ৪’–এ ইয়ারিন হা ও লুক থম্পসন। নেটফ্লিক্স

নারীর অভিজ্ঞতা কেন নিষিদ্ধ? এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নারীরা কেন অভিজ্ঞতা পেতে পারবে না? কেন তাদের শরীর ও অনুভূতি সম্পর্কে জানাটাও সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ? ব্রিজারটন এই প্রশ্নগুলোকে রোমান্টিক নাটকের কাঠামোর ভেতর রেখেই সাহসের সঙ্গে সামনে এনেছে।

‘ব্রিজারটন’-এর চতুর্থ মৌসুমের প্রথম কিস্তি মুক্তি পেয়েছে। বাকি চার পর্ব মুক্তি পাবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি।

বিবিসি অবলম্বনে

ঢাকা

আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো অ্যারিয়ানে বসেছিল ৬৮তম গ্র্যামি পুরস্কারের আসর। বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে বড় আসর গ্র্যামিতে এবার সর্বোচ্চ ৯টি মনোনয়ন পেয়েছেন র‍্যাপার কেনড্রিক লামার। সাতটি মনোনয়ন নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে লেডি গাগা। শেষ পর্যন্ত পুরস্কারে বাজিমাত করলেন কারা?

কেনড্রিক লামারের দাপট
বছরের সেরা গান ও শিল্পীদের পুরস্কৃত করতে এ বছর রেকর্ডিং অ্যাকাডেমি মোট ৯৫টি বিভাগে পুরস্কার দিচ্ছে। এর মধ্যে বিকেলে (বাংলাদেশ সময় ভোরে) অনুষ্ঠিত প্রাক্‌-সম্প্রচার পর্বেই ৮৬টি বিভাগে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। মূল টেলিভিশন সম্প্রচারে রাখা হয়েছে বাকি ৯টি বড় ও পারফরম্যান্সনির্ভর বিভাগ।

পুরস্কার হাতে কেনড্রিক লামার। এএফপি
পুরস্কার হাতে কেনড্রিক লামার। এএফপি

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে নতুন ইতিহাস লিখলেন মার্কিন র‍্যাপ তারকা কেনড্রিক লামার। এবারের গ্র্যামির আসরে পাঁচটি পুরস্কার জিতে তিনি ভেঙে দিয়েছেন র‍্যাপারদের মধ্যে সর্বাধিক গ্র্যামি জয়ের রেকর্ড। এত দিন এই রেকর্ড ছিল র‍্যাপার জে-জি’র দখলে। জে-জি’র মোট গ্র্যামি ছিল ২৫টি, আর কেনড্রিক লামার তা ছাড়িয়ে এখন পৌঁছালেন ২৭টিতে।

ব্রিটিশ গায়িকা লোলা ইয়াং সেরা পপ সলো পারফরম্যান্স বিভাগে ‘মেসি’ গানের জন্য জয় পেয়েছেন, হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকে। গুরুত্বপূর্ণ ‘সং অব দ্য ইয়ার পুরস্কার’ পেয়েছেন বিলি আইলিশ।

মঞ্চে সাবরিনা কার্পেন্টার। এএফপি
মঞ্চে সাবরিনা কার্পেন্টার। এএফপি

পুরস্কার ছাড়াও গ্র্যামিতে ছিল পারফরম্যান্স। গানে গানে মঞ্চ মাতান রোজে, ব্রুনো মার্স, লেডি গাগা, জাস্টিন বিবার, টেইলর, দ্য ক্রিয়েটর ও রেজিনা কিং। গ্র্যামির সঞ্চালনায় এবার শেষবারের মতো ফিরেছেন ট্রেভর নোয়া। টানা ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন তিনি।

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ শাখায় গ্র্যামি পুরস্কার
রেকর্ড অব দ্য ইয়ার: ‘লুথার’, কেনড্রিক লামার ও সিজা
অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার: ‘ডেবি তিয়ার মাস ফোতোস’, ব্যাড বানি
সং অব দ্য ইয়ার : ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ার’, বিলি আইলিশ
বেস্ট নিউ আর্টিস্ট: ওলিভিয়া ডিন
বেস্ট পপ সলো পারফরম্যান্স: ‘মেসি’, লোলা ইয়ং
বেস্ট পপ ডুয়ো অথবা গ্রুপ পারফরম্যান্স: ‘ডাই উইথ আ স্মাইল’, লেডি গাগা ও ব্রুনো মার্স
বেস্ট পপ ভোকাল অ্যালবাম: ‘মেহ্যাম’, লেডি গাগা
রেস্ট র‍্যাপ অ্যালবাম: ‘জিএনএক্স’, কেনড্রিক লামার

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব