বানিজ্য

  • Colors: Orange Color

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা কিংবা শক্তিশালী ঝড়ের খবরই শিরোনামে থাকে। কিন্তু বিশ্বের অনেক মেগাসিটি বা জনবহুল শহরের জন্য সমস্যাটি কেবল পানির স্তর বেড়ে যাওয়া নয়; পায়ের নিচের মাটিই ধীরে ধীরে নিচে দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই নীরব ধস কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সম্প্রতি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে ৪০টি প্রধান নদী বদ্বীপ বা ডেল্টার মানচিত্র তৈরি করেছেন, যেখানে দেখা গেছে, সমুদ্রের পানি যে গতিতে বাড়ছে, মাটি দেবে যাওয়ার গতি তার চেয়েও বেশি। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রেও এমন প্রবণতা খেয়াল করেছেন বিজ্ঞানীরা।

নদী বদ্বীপ পৃথিবীর মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১ শতাংশ হলেও এখানে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ বাস করে। বিশ্বের বড় ৩৪টি শহরের ১০টিই এই নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। এর মধ্যে গঙ্গা বদ্বীপে কলকাতা ও ঢাকা, নীল নদে আলেকজান্দ্রিয়া, ইয়াংজিতে সাংহাই এবং মেকং বদ্বীপে হো চি মিন সিটি অন্যতম। এই অঞ্চলগুলো মূলত অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র, যেখানে বড় বড় বন্দর, বিমানবন্দর এবং শিল্পাঞ্চল অবস্থিত। অধিকাংশ বদ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ থেকে ২ মিটার (৩ থেকে ৬ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। ফলে মাটির সামান্যতম অবনমনও এই শহরগুলোর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের ১০ বছরের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অর্ধেকের বেশি বদ্বীপ বছরে ৩ মিলিমিটারের চেয়ে দ্রুত নিচে নামছে। থাইল্যান্ডের চাও ফ্রায়া, ভিয়েতনামের মেকং এবং চীনের ইয়েলো নদী বদ্বীপে এখন সমুদ্রের পানি বাড়ার চেয়ে মাটি দেবে যাওয়াই প্রধান আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটি মাত্র কয়েক ইঞ্চি দেবে গেলেই বন্যা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

বদ্বীপের মাটি প্রাকৃতিক নিয়মেই কিছুটা পরিবর্তনশীল। কিন্তু মানুষের কিছু কর্মকাণ্ড এই ধসকে ত্বরান্বিত করছে। বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে মাটির নিচের স্তরগুলো সংকুচিত হয়ে যায় এবং ভূমি দেবে যায়। তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে মাটির ভেতরে শূন্যতা তৈরি হয়। মেগাসিটিগুলোর বিশাল সব দালান ও স্থাপনার ভার নরম মাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বদ্বীপে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, সেখানেই ভূমি দেবে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। ঢাকা, কলকাতা, ব্যাংকক, সাংহাই ও ইয়াঙ্গুন এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ মিটারেরও কম উচ্চতায় বসবাসকারী ৭ কোটি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮৪ শতাংশই (প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ) এমন এলাকায় বাস করছেন, যেখানে ভূমি দ্রুত দেবে যাচ্ছে। এর মধ্যে এশিয়ায় ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তবে আমেরিকা মহাদেশের মিসিসিপি এবং আমাজন বদ্বীপও এই ৫টি এশীয় বদ্বীপের মতোই সংকটাপন্ন।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী অধ্যাপক লিওনার্ড ওহেনহেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, ৪০টির মধ্যে ১৮টি বদ্বীপে ভূমিধসের হার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার পাশাপাশি ভূমি দেবে যাওয়া রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

মহাকাশ থেকে নিখুঁতভাবে সেন্টিমিটারের ভগ্নাংশ পরিমাণ পরিবর্তনও পরিমাপ করতে সক্ষম, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এখন কেবল সমুদ্রের পানিকে আটকে রাখাই চ্যালেঞ্জ নয়। পায়ের নিচের মাটিকে স্থিতিশীল রাখাই হবে আগামী কয়েক দশকের প্রধান লড়াই।

সূত্র: আর্থ

জাহিদ হোসাইন খান

আগামী ৩ মার্চ আকাশে এক মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে। ওই দিন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদ অদ্ভুত লালচে রং ধারণ করবে। এই ঘটনা ব্লাড মুন বা রক্তাভ চাঁদ হিসেবেও পরিচিত। ২০২৬ সালে এটিই হবে একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। পরবর্তী সময় এমন দৃশ্য দেখার জন্য ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে বাধা পায়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বেশি বিচ্ছুরিত করে দেয় ও লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ যেমন লাল দেখায়, এটিও ঠিক একই বৈজ্ঞানিক কারণে ঘটে থাকে।

২০২৬ সালের এই চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের একটি বড় অংশ থেকে দেখা যাবে। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে ১২ থেকে ১৩ মিনিট স্থায়ী হবে এই চন্দ্রগ্রহণ। সর্বোচ্চ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ভোরবেলা সবচেয়ে ভালো দৃশ্যমান থাকবে। আর পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সন্ধ্যায় লালচে চাঁদ দেখা যাবে।

সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না। এটি খালি চোখেই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে দেখা যায়। তবে একটি সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ থাকলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। শহর থেকে দূরে যেখানে আলোক দূষণ কম, সেখান থেকে ব্লাড মুনের লাল আভা সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ মূলত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। পেনামব্রাল পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়ার ভেতর প্রবেশ করে, এতে চাঁদের উজ্জ্বলতা কিছুটা কমে যায়। এরপরে আংশিক গ্রহণ শুরু হয়। চাঁদ যখন পৃথিবীর মূল অন্ধকার ছায়ার ভেতর প্রবেশ করতে শুরু করে। এরপরেই ঘটবে পূর্ণগ্রাস (টোটালিটি)। এই পর্যায়ে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় এবং লালচে রং ধারণ করে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

হোয়াটসঅ্যাপে জন্মদিন বা বিশেষ দিবস উপলক্ষে বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিদের বার্তা পাঠান অনেকেই। কিন্তু মাঝেমধ্যে ব্যস্ততার কারণে সময়মতো বার্তা পাঠানো আর হয়ে ওঠে না। ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে আগে থেকে লেখা বার্তা নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানোর সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

শিডিউলড মেসেজেস সুবিধা চালু হলে ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা আগে থেকে বার্তা লিখে নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠাতে পারবেন। ফলে জন্মদিনের শুভেচ্ছাসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বার্তা সঠিক সময়ে প্রাপকের কাছে পৌঁছানো যাবে। প্রাপকের কাছে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত যেকোনো সময় বার্তা সম্পাদনা বা মুছেও ফেলা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বা গ্রুপ চ্যাট উভয় ক্ষেত্রেই এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ এ বেটা ইনফো জানিয়েছে, আইওএস ২৬.৭.১০.৭২ সংস্করণের জন্য তৈরি হোয়াটসঅ্যাপের বেটা আপডেটে শিডিউলিং টুল দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই নির্বাচিত আইফোন ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা পরীক্ষামূলকভাবে সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে সব ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাটি উন্মুক্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে শিডিউল কলস সুবিধার মাধ্যমে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে কল করার আগাম তারিখ, সময় ও বিষয় জানিয়ে দেওয়া যায়। নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপে প্রবেশ করলেই শিডিউল কলসের বার্তা দেখতে পান। ফলে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়ে কথা বলতে পারেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া দেশে মুক্ত গণমাধ্যম বিকাশে জনপ্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ শনিবার টিআইবি এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের। যার প্রতিফলন ছিল গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও। কিন্তু প্রতিবেদন হস্তান্তরের দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় ধরে এর সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকা অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে কমিশনের নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের যে দুটি খসড়া প্রকাশ করেছে, তাতে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

টিআইবি বলেছে, জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ খাতকে অধিকতর নিয়ন্ত্রণের জন্য খসড়া দুটি প্রণয়ন করা এবং মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে মতামত চাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস। একই সঙ্গে শুরু থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গোপনীয়তার চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নামে সরকারের একাংশের সংস্কার পরিপন্থী অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতার উদাহরণ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করছে সংস্থাটি।

প্রসঙ্গত, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাসেও কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এখন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করেছে। মতামত নিতে খসড়াটি গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাত্র তিন দিন অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে হবে। তার আগে মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ আলাদা দুটি কমিশন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়।

যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার জন্য বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল এবং সম্প্রচারমাধ্যম ও অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য পূর্বের প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করেছিল; যা হবে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি স্বাধীন সংস্থা। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু তথ্য মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ এবং ‘সম্প্রচার কমিশন’ নামে আলাদা কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। এরপর গঠিত হবে নতুন সরকার। বর্তমান সরকারের মেয়াদও শেষ পর্যায়ে। এ পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে আলাদা দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আজ বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উভয় ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিশনের গঠন ও স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি হতাশাজনক হলেও আমরা মোটেও অবাক হচ্ছি না; কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রত্যাশার প্রতি সরকারের একই রকম প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটল।’

বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও সম্প্রচার মাধ্যমসংক্রান্ত অনুরূপ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের যে সুপারিশ করেছিল, সরকার সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেখায়নি বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান।

উল্লিখিত খসড়া দুটি তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে প্রণীত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের আহ্বান ও প্রত্যাশা করেন, নতুন সংসদ গঠনের পর একটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে, যা সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

রাজধানীর কোলাহল ছাপিয়ে রাত দুইটার নিস্তব্ধতায় যাঁদের বঁটির ধারালো শব্দে বেঁচে থাকার ছন্দ তৈরি হয়, সেই অদম্য নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্টজনেরা। অনলাইনে মাছ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘রিভার ফিশ’-এ কর্মরত ফারজানা রহমান, রেনু বেগম এবং আশি ছুঁই ছুঁই রোকেয়া বেগমের হাতে আজ মঙ্গলবার তুলে দেওয়া হয়েছে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার। এই তিনজনসহ মাছ কাটেন রিভার ফিশের আরও চার নারী—হাসনা বেগম, পারভিন আকতার, সকিনা বেগম ও রহিমা আকতারকে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার দেওয়া হয়।

১০ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে ‘মাছ কাটার বঁটিতেই অভাব কেটেছে ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আজ রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় রিভার ফিশের কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই নারীদের অদম্য জীবনযুদ্ধের প্রতি সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি ও বেসিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আবদুল্লাহ এইচ কাফি। বর্তমানে তিনি এশীয়-ওশেনীয় অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন অ্যাসোসিওর আজীবন সভাপতি এবং জেএএন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

অদম্য এই নারীদের সংগ্রামের গল্প শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে আবদুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। ফারজানা, রেনু আর রোকেয়ারা প্রমাণ করেছেন যে কোনো কাজই ছোট নয়। তাঁদের এই আত্মসম্মানবোধ আমাদের সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অনলাইনভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্কিলআপারের প্রতিষ্ঠাতা শামীম হুসাইন। তিনি এই নারীদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

রিভার ফিশের প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা আক্তার এবং তাঁর স্বামী সফটওয়্যার প্রকৌশলী তানভীর আজাদ জানান, এই নারীরা কেবল শ্রমিক নন, তাঁরা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তাঁদের সততা ও পরিশ্রমই রিভার ফিশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। উপহার হাতে তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও লেখক রাহিতুল ইসলাম।

উপহার পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে রেনু বেগম বলেন, ‘আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাজকে আপনারা যে সম্মান দিলেন, এটাই আমাদের বড় পাওয়া। এই উপহার আমাদের জন্য আনন্দের।’

ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের মতো নারীরা সমাজের তথাকথিত ‘ছোট কাজ’কে জীবনের ঢাল বানিয়ে যে নতুন পৃথিবী গড়েছেন, সে লড়াইয়ে শামিল হতে পেরে অতিথিরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তুলনামূলক কম খরচে উন্নত ক্যামেরা, দ্রুতগতির প্রসেসর ও শক্তিশালী ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোন কিনতে চান অনেকেই। আর তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও মিড রেঞ্জের স্মার্টফোনের বাজার বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ। বিষয়টি মাথায় রেখে গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে তৈরি ‘এক্স৯ডি’ মডেলের স্মার্টফোন উন্মুক্ত করেছে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনার। প্রায় এক সপ্তাহ ব্যবহার করে স্মার্টফোনটির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরা হলো—

নকশা

হাতে নেওয়ার পর প্রথমেই মনে হলো, ফোনটি বেশ টেকসই। ম্যাট ফিনিশ ব্যাক প্যানেল থাকায় খুব বেশি হাতের ছাপ পড়ে না ফোনটিতে। আইপি৬৮ ও আইপি৬৯কে রেটিং থাকায় ধুলাবালি, পানি এমনকি উচ্চচাপের পানির স্প্রে থেকেও নিরাপদ থাকে ফোনটি। শুধু তা–ই নয়, ফোনটিতে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর সাইড-মাউন্টেড বেশ দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে।

পর্দা

৬ দশমিক ৭ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দার ফোনটি ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ফলে স্ক্রল ও অ্যানিমেশন স্বচ্ছন্দে করা যায়। বেজেল এতটাই কম যে স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ফোনটিকে একটি ফ্ল্যাগশিপ লুক দিয়েছে। পর্দার উজ্জ্বলতা বেশি হওয়ায় সরাসরি রোদেও ভিডিও কনটেন্ট দেখতে অসুবিধা হয় না ফোনটিতে।

সক্ষমতা

অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ম্যাজিক ওএসে চলা ফোনটিতে ৪ ন্যানোমিটারের স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৪ মডেলের প্রসেসর থাকায় একসঙ্গে একাধিক কাজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছন্দে গেম খেলা যায়। তবে দীর্ঘ সময় আকারে বড় গেম খেলার ক্ষেত্রে সামান্য ফ্রেম ড্রপ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে ফোনটিতে। অর্থাৎ ফোনটি সাধারণ ও মাঝারি পর্যায়ের গেম খেলার জন্য উপযোগী হলেও হার্ডকোর গেমের জন্য তেমন উপযুক্ত নয়।

ক্যামেরা

ফোনটির পেছনে থাকা ১০৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে স্বাভাবিক রঙে ভালো মানের ছবি তোলা যায়। রাতে বা কম আলোতে ছবি তোলার জন্য রয়েছে উন্নত ‘নাইট মোড’, যা ছবির নয়েজ কমিয়ে স্বচ্ছতা বাড়ায়। সেলফিপ্রেমীদের জন্য সামনে আছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যা ভালো মানের ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট। তবে অনেক মিড-রেঞ্জ ফোনে টেলিফটো লেন্স থাকলেও অনার এক্স৯ডি মডেলে লেন্সটি যুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া ভিডিও রেকর্ডিং স্থিতিশীল হলেও ফ্ল্যাগশিপ মানের মতো নয়।

ব্যাটারি

১২ গিগাবাইট র‍্যাম ও ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে ৮ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফলে একবার পুরো চার্জ করলে ফোনটি অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু তা–ই নয়, ৬৬ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি থাকায় দ্রুত চার্জও করা যায় ফোনটি।

পড়লেও ভাঙ্গে না

অনারের তথ্য মতে, ‘হাইয়েস্ট স্মার্টফোন ড্রপ’ বিভাগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো ফোনটি ৬.১৩৩ মিটার বা ২০ ফুটের বেশি উচ্চতা থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না। বিষয়টি পরখ করার জন্য ১৬ ফুট উচ্চতা থেকে ফোনটি ফেলে দেখা গেছে, পর্দায় ফাটল বা দাগ পড়েনি।

কানেকটিভিটি ও অডিও

ফোনটির ৫জি কানেকটিভিটি বেশ উন্নত। ওয়াই–ফাই ও ব্লুটুথ সংযোগেও তেমন সমস্যা দেখা যায়নি। স্পিকার আউটপুট ভালো, তবে বেজ ততটা শক্তিশালী নয়। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৯৯ টাকা।

সোহানুর রহমান

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব