৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দেশে এল আরেক জাহাজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩...
ইন্টারনেটে মানুষের তুলনায় বটের (একধরনের সফটওয়্যার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম) সক্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেভাবে বিস্তার ছড়াচ্ছে, তা...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা...
২০২৬ সালের সাবিন অ্যাওয়ার্ডসে তিন বিজ্ঞানীকে সম্মাননা জানানো হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা।
টিকার মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই বিজ্ঞানীরা। করোনা মহামারি মোকাবিলা থেকে শুরু করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ—সব ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁদের অসামান্য ভূমিকা।
কোভিড-১৯ মহামারির গতিপথ বদলে দেওয়া ও বিশ্বজুড়ে নতুন ধরনের ওষুধের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য ‘অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন অধ্যাপক উগুর শাহিন ও অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজি।
বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা পাচ্ছেন ‘২০২৬ রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’। জিনতত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচির বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন তিনি, যা লাখো শিশুকে সুরক্ষায় সহায়তা দিচ্ছে।
আগামী ১২ মে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই তিন বিজ্ঞানীর কাছে পদক তুলে দেওয়া হবে।
গত সোমবার সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল ১৯৯৩ সাল থেকে এবং রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২০ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। এবারের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি সরাসরি অনলাইনে সম্প্রচার করা হবে।
উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজির অবদান
ব্যবসায়িক ও জীবনসঙ্গী অধ্যাপক উগুর শাহিন এবং অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজিকে তাঁদের যুগান্তকারী কোভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবন এবং কয়েক দশকের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার জন্য এই গোল্ড মেডেল দেওয়া হচ্ছে।
কোভিড মহামারির শুরুতে এই দুই বিজ্ঞানী এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেন, যা মূলত ক্যানসার চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। রেকর্ড সময়ে তাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বদলে ফেলেন এবং একটি কার্যকর কোভিড-১৯ টিকা তৈরি করেন। এটি কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়তা করেছে।
বর্তমানে এই দুই বিজ্ঞানী ওই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে যক্ষ্মা, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের বিরুদ্ধে আরও নতুন টিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের এই নিষ্ঠা শুধু গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ নয়। আফ্রিকায় একটি টেকসই ও শক্তিশালী টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।
এক যৌথ বিবৃতিতে উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজি বলেন, ‘২০২৬ সালের সাবিন গোল্ড মেডেল পেয়ে আমরা গভীরভাবে সম্মানিত। বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট সাবিনের বিশ্বাস—‘‘বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার তখনই সার্থক হয়, যখন তা মানুষের কাজে আসে’’, আমাদের দীর্ঘদিনের অনুপ্রেরণা। আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আধুনিক ওষুধ তাঁদের কাছে পৌঁছানো উচিত, যাঁদের এটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’
বিবৃতিতে দুই বিজ্ঞানী আরও বলেন, ‘এ পুরস্কার একটি যৌথ প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। সারা বিশ্বে আমাদের দল ও অংশীদারদের নিষ্ঠাকে সম্মান জানাচ্ছে এটি। তারা আমাদের সঙ্গে এ পথচলায় আছে এবং স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অঙ্গীকার ভাগাভাগি করে নিচ্ছে।’
সাবিনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যামি ফিনান বলেন, ‘অধ্যাপক শাহিন ও ত্যুরেজি মিলে টিকার ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন, কীভাবে গবেষণাগারের নতুন আবিষ্কারকে সাহসের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়। জীবন রক্ষাকারী টিকা দ্রুত তৈরি করা ও তা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁদের যে লড়াই, সাবিন গোল্ড মেডেল তাঁদেরই সম্মান জানাচ্ছে।’
সেঁজুতি সাহার সাফল্য
এ বছর ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া সেঁজুতি সাহা জাতীয় পর্যায়ের বড় টিকাদান উদ্যোগগুলোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণ তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ২০২৫ সালের টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) কর্মসূচি। এটি ইতিমধ্যে ৪ কোটির বেশি শিশুর কাছে পৌঁছেছে।
চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উপনির্বাহী পরিচালক হিসেবে সেঁজুতি সাহা দেশে একটি উন্নত জিনোম গবেষণাগার গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। এ গবেষণাগারে হাজার হাজার রোগ-জীবাণুর জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে, যা দ্রুত রোগ শনাক্ত করতে এবং ক্লেবসিয়েলা ও আরএসভির মতো রোগের টিকা তৈরিতে সাহায্য করছে।
সেঁজুতি সাহার কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দেশে বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা ও নতুন প্রজন্মের গবেষকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া।
পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে সেঁজুতি সাহা বলেন, ‘এ পুরস্কার আমার কাছে অত্যন্ত অর্থবহ। এটি বাংলাদেশে একটি অসাধারণ কমিউনিটির বহু বছরের পরিশ্রমের প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে, মানুষ যখন একসঙ্গে সমস্যা সমাধানের প্রতিজ্ঞা করে, তখন যেকোনো জায়গাতেই উন্নত মানের বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব হয়।’
সাবিনের অ্যামি ফিনান বলেন, সেঁজুতি সাহা নতুন প্রজন্মের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি বোঝেন যে তাঁর কাজ শুধু গবেষণাগার বা গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তিনি শক্তিশালী টিকানীতি তৈরিতে কাজ করছেন।
ভিডিও কনটেন্টের বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে ইউটিউব শর্টস, ইনস্টাগ্রাম রিলস বা টিকটকের একচ্ছত্র আধিপত্য চলছে। জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্মগুলোর ভিড়ে আধেয় নির্মাতাদের (কনটেন্ট ক্রিয়েটর) আবার ফেসবুকমুখী করতে এবার বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে মেটা। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারলে একজন নির্মাতা প্রতি মাসে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত আয়ের সুযোগ পাবেন। মূলত ‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ নামক একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এই আর্থিক নিশ্চয়তা দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে আয়ের পরিমাণ সরাসরি নির্ভর করবে একজন নির্মাতার অনুসারী বা ফলোয়ার সংখ্যার ওপর। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যাঁদের অনুসারী সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে, তাঁরা প্রতি মাসে পাবেন প্রায় ১ হাজার ডলার। অন্যদিকে ১০ লাখ বা ১ মিলিয়নের বেশি অনুসারী থাকলে প্রতি মাসে আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ডলারে।
তবে এই নিশ্চিত আয়ের সুযোগটি কেবল প্রথম তিন মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নির্মাতাদের ফেসবুকে নিজেদের একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিন মাস পার হওয়ার পর এই নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেলেও ফেসবুকের সাধারণ মনিটাইজেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে আয় অব্যাহত রাখা যাবে।
এই বিশেষ আর্থিক সুবিধা পেতে হলে নির্মাতাদের কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো সক্রিয়তা ও ধারাবাহিকতা। একজন নির্মাতাকে প্রতি ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত ১৫টি রিলস বা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও পোস্ট করতে হবে। পাশাপাশি পুরো মাসের অন্তত ১০টি পৃথক দিনে ভিডিও আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ভিডিওগুলো অবশ্যই মৌলিক হতে হবে। তবে এই ভিডিওগুলো অন্য প্ল্যাটফর্মে যেমন ইউটিউব বা টিকটকে প্রকাশিত হলেও ফেসবুকের ক্ষেত্রে তা বাধা হিসেবে গণ্য হবে না।
মেটা বলছে, বর্তমান বিশ্বে শর্ট-ফর্ম ভিডিও বা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওর জয়জয়কার চলছে। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ফেসবুক এখন রিলস নির্মাতাদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্দিষ্ট এই আয়ের পাশাপাশি এই প্রকল্পের আওতায় থাকা নির্মাতারা ফেসবুকের নিয়মিত বিজ্ঞাপন বা ইন স্ট্রিম অ্যাডস, ব্র্যান্ড কোলাবরেশন, সাবস্ক্রিপশন এবং স্টারসের মাধ্যমেও উপার্জনের সুযোগ পাবেন। আয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মেটা নতুন কিছু অ্যানালিটিক্স টুলও ব্যবস্থা উন্মুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে কোন ভিডিও থেকে কেন এবং কত টাকা আয় হচ্ছে, তা নির্মাতারা নিজেরাই তদারকি করতে পারবেন।
শত কোটি ব্যবহারকারী থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে অনেক জনপ্রিয় নির্মাতা ফেসবুক ছেড়ে ইউটিউব বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে থিতু হয়েছেন। দর্শকপ্রিয়তা এবং আয়ের স্থিতিশীলতার দৌড়ে ফেসবুক কিছুটা পিছিয়ে পড়ায় নির্মাতাদের ফিরিয়ে আনতেই মেটা এখন এই ‘আর্থিক নিশ্চয়তা ও অ্যালগরিদম সাপোর্ট’ কৌশল গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে মেটা বিশ্বজুড়ে নির্মাতাদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। যার সিংহভাগই এসেছে রিলস থেকে। অর্থাৎ ফেসবুক এখন টেক্সট বা ছবির চেয়ে ভিডিও কনটেন্টকেই তাদের ব্যবসার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
সূত্র: টেকলুসিভ
আহসান হাবীব
ইন্টারনেটে মানুষের তুলনায় বটের (একধরনের সফটওয়্যার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম) সক্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেভাবে বিস্তার ছড়াচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে অনলাইনে মানুষের তুলনায় বটের তৎপরতা বেশি হতে পারে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন ইন্টারনেট নিরাপত্তা ও ওয়েব অবকাঠামো–সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ প্রিন্স।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনে প্রযুক্তিবিষয়ক সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট (এসএক্সএসডব্লিউ) সম্মেলনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ম্যাথিউ প্রিন্স। তিনি বলেন, জেনারেটিভ এআইয়ের প্রসারে ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরনে মৌলিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এআই–চালিত বটগুলো একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছে। এটি মানুষের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়।
ম্যাথিউ প্রিন্স বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি একটি ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার আগে তথ্য সংগ্রহ করেন, তাহলে সাধারণত চার থেকে পাঁচটি ওয়েবসাইট ঘুরে দেখেন। কিন্তু একই কাজ করতে একটি এআই বট কয়েক হাজার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারে। ফলে এ প্রক্রিয়া শুধু ভার্চ্যুয়াল সীমায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বাস্তব অর্থেই সার্ভার, নেটওয়ার্ক ও সামগ্রিক ইন্টারনেট অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
জেনারেটিভ এআইয়ের আগের সময়ে ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ২০ শতাংশ বটনির্ভর ছিল বলে জানান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, এর বড় অংশজুড়ে ছিল গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের ‘ওয়েব ক্রলার’। এর বাইরে সীমিত পরিসরে কিছু নির্ভরযোগ্য বট এবং প্রতারক বা দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত বটও সক্রিয় ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে উল্লেখ করে ম্যাথিউ প্রিন্স বলেন, জেনারেটিভ এআইয়ের তথ্যের চাহিদা কার্যত সীমাহীন। এই চাহিদা পূরণে বটের সংখ্যা ও তাদের কার্যক্রম ক্রমাগত বাড়ছে, যা কয়েক বছরের মধ্যেই মানুষের অনলাইন উপস্থিতিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ধরনের প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ম্যাথিউ প্রিন্স। এর মধ্যে রয়েছে ‘স্যান্ডবক্স’। এটি একটি আলাদা ভার্চ্যুয়াল পরিবেশ। যেখানে এআই এজেন্টগুলো সাময়িকভাবে কাজ করতে পারবে। কাজ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই পরিবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, কোনো ব্যবহারকারী যদি এআই এজেন্টকে ভ্রমণ পরিকল্পনার দায়িত্ব দেন, তাহলে এই স্যান্ডবক্স ব্যবস্থার মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ম্যাথিউ প্রিন্সের ধারণা, শিগগিরই প্রতি সেকেন্ডে বিপুলসংখ্যক এমন স্যান্ডবক্স তৈরি ও বিলুপ্ত হবে, যা ইন্টারনেট ব্যবহারের কাঠামোকে নতুনভাবে রূপ দেবে। তবে এই ক্রমবর্ধমান বট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হবে শক্তিশালী ভৌত অবকাঠামো। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও সার্ভার। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় ইউটিউব, ডিজনি ও নেটফ্লিক্সের মতো ভিডিও স্ট্রিমিং সেবার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট ট্রাফিক হঠাৎ বেড়ে অনেক ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছিল।
বর্তমান প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীরগতির হলেও তা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন ম্যাথিউ প্রিন্স। তাঁর মতে, এই প্রবণতা থামার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
ওয়েবসাইটের গতি, নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে ক্লাউডফ্লেয়ার। প্রতিষ্ঠানটির সেবার মধ্যে রয়েছে কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক, নিরাপত্তা ও ডিডস প্রতিরোধ ব্যবস্থা, এবং ‘অলওয়েজ অনলাইন’ প্রযুক্তি। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী অনাকাঙ্ক্ষিত এআই বট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করার সুবিধাও দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। ইন্টারনেটের এই পরিবর্তনকে একটি বড় প্রযুক্তিগত রূপান্তর হিসেবে দেখছেন প্রিন্স। তাঁর মতে, এআই শুধু যে একটি নতুন প্রযুক্তি তা নয়; এটি প্ল্যাটফর্মের একটি মৌলিক পরিবর্তন। যেমন একটা সময় ডেস্কটপ থেকে মুঠোফোন ব্যবহারে বড় রূপান্তর ঘটেছিল। এর ফলে মানুষ যেভাবে তথ্য গ্রহণ করে, সেই প্রক্রিয়াই মৌলিকভাবে বদলে যেতে পারে।
সূত্র: টেকক্র্যাঞ্চ
আহসান হাবীব
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা অজান্তেই বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে ফেলেন। ই–মেইল ঠিকানা, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত অভ্যাস এ ধরনের নানা তথ্য কথোপকথনের মধ্যেই চলে যেতে পারে। তবে প্রয়োজনে এসব তথ্য মুছে ফেলা, নিজের তথ্যের কপি ডাউনলোড করা কিংবা পুরো অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে অপসারণের সুযোগ রেখেছে ওপেনএআই। এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে একটি আলাদা প্রাইভেসি পোর্টাল।
প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণসুবিধা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য অপসারণের অনুরোধ না করা হলে ওপেনএআই ব্যবহারকারীর কিছু ব্যক্তিগত তথ্য ও কথোপকথনের ইতিহাস সংরক্ষণ করতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহারকারী আলাদাভাবে নিষ্ক্রিয় না করলে তাদের দেওয়া নির্দেশনা বা ‘প্রম্পট’ ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রশিক্ষণের কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে।
দেখে নেওয়া যাক চ্যাটজিপিটি থেকে কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা করা যায়।
ওপেনএআইয়ের প্রাইভেসি পোর্টাল (প্রাইভেসি.ওপেনএআই.কম) ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনার একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকে ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা, নিজস্ব জিপিটি (কাস্টম জিপিটি) অপসারণ করা কিংবা নিজের কনটেন্টকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানাতে পারেন। এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মটিতে নিজের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংরক্ষিত আছে, সেটিও জানা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগত তথ্যের একটি কপি ডাউনলোডের অনুরোধ করতে পারেন। সাধারণত এতে অ্যাকাউন্ট–সংক্রান্ত তথ্য, কথোপকথনের ইতিহাস এবং আপলোড করা ফাইলের তথ্য থাকে। প্রাইভেসি পোর্টাল ব্যবহারের জন্য প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘মেক আ প্রাইভেসি রিকোয়েস্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হয়। কম্পিউটার থেকে ব্যবহার করলে অপশনটি পেজের ডান পাশে ওপরে থাকে; আর মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত পেজের নিচের দিকে দেখা যায়। এরপর ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা হয়। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সরকারি পরিচয়পত্র অথবা বহুমাত্রিক যাচাইকরণ–পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। পরবর্তী ধাপে কয়েকটি বিকল্পের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি নির্বাচন করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে নিজের তথ্য ডাউনলোড করা, নিজের কনটেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার না করার অনুরোধ, চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা, নিজস্ব জিপিটি অপসারণ কিংবা চ্যাটজিপিটির উত্তরে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে নেওয়ার আবেদন। প্রয়োজনীয় অপশন নির্বাচন করার পর বসবাসের দেশ উল্লেখ করে ‘সাবমিট রিকোয়েস্ট’ বাটনে ক্লিক করলেই অনুরোধটি জমা দেওয়া যায়।
অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি মুছে না ফেলেও কিছু সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের গোপনীয়তা আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। চ্যাটজিপিটির সেটিংসে গিয়ে ডেটা কন্ট্রোল এ যেতে হবে। এরপর সেখানে থাকা ‘ইমপ্রুভ দ্য মডেল ফর এভরিওয়ান’ অপশনটি বন্ধ করলে ব্যবহারকারীর কথোপকথন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হবে না। একইভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ–সংক্রান্ত মেমোরি–সুবিধাটিও প্রয়োজনে বন্ধ রাখা যায়। মেমোরি অপশনটি সেটিংসের অ্যাপ অপশনে পাওয়া যাবে। সংবেদনশীল আলোচনার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা টেম্পোরারি চ্যাট–সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। টেম্পোরারি চ্যাট চালু করতে নতুন চ্যাটে গিয়ে ওপরে ডান দিকে থাকা টেম্পোরারি আইকনে ক্লিক করতে হবে। এই সুবিধায় করা কথোপকথন সাধারণত স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় না এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজেও ব্যবহার করা হয় না। তবে কিছু তথ্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে। এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে আগের চ্যাটগুলো আলাদাভাবে মুছে ফেলতে পারেন। এ জন্য চ্যাট তালিকায় গিয়ে কম্পিউটার থেকে চ্যাটটির ডান পাশে পাশে থাকা তিনটি আইকন এবং স্মার্টফোন থেকে চ্যাটটি প্রেস করে ধরে রেখে ট্র্যাশ আইকনে ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট চ্যাট মুছে যায়। সাধারণত এ ধরনের তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে সিস্টেম থেকে সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়।
সূত্র: বিজিআর ডটকম
সমুদ্র মানেই হাজার হাজার জাহাজ; কিন্তু তারা কেউই সঠিক জায়গায় নেই। মেরিটাইম এআই কোম্পানি উইন্ডওয়ার্ডের সিনিয়র মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিস্ট মিশেল উইজ বকম্যান ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের উপকূলীয় পানিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর অবস্থান পরীক্ষা করার সময় অবাক হন। তিনি বলেন, ‘ওহ ঈশ্বর, আমি অন্তত ৩৫টি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাস্টার দেখতে পাচ্ছি। মানচিত্রের ওপর অদ্ভুত বৃত্তাকার আইকন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি আইকন একটি বাস্তব জাহাজের প্রতিনিধিত্ব করে; কিন্তু বাস্তবে জাহাজগুলো কখনোই এমন নিখুঁত বৃত্তাকারে এক জায়গায় জড়ো হয় না। এমনকি কিছু আইকনকে স্থলের ওপর ভাসমান অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। মূলত জিপিএস সিগন্যাল বিঘ্নিত হওয়ায় জাহাজগুলোর প্রকৃত অবস্থান দেখা যাচ্ছে না, ঢাকা পড়ে গেছে।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখন আর কেবল বুলেট আর বোমায় সীমাবদ্ধ নেই; তড়িৎ–চুম্বকীয় তরঙ্গও এখন যুদ্ধের ময়দান। জিপিএস জ্যামিং খালি চোখে দেখা যায় না। এতে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং এর ফলে মারাত্মক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিপিএস জ্যামিং ইউরোপে বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলেছে, এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধের এটি একটি নিয়মিত অনুষঙ্গ। এখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় এই ইলেকট্রনিক যুদ্ধ আরও বড় এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির আশপাশে জিপিএস জ্যামিংয়ের এ ঘটনা এবারই প্রথম নয়, গত বছর ইসরায়েল ও ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও বকম্যান এটি লক্ষ্য করেছিলেন; কিন্তু এবারের মাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, নৌ চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি যে কি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পাকিস্তানের ন্যাশনাল হাইড্রোক্রাফিক অফিসও এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
জাহাজগুলো মূলত একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ব্যবহার করে। ৩০০ মিটার লম্বা একটি তেলের বিশাল ট্যাঙ্কার থামানো বা ঘোরানো অনেক সময়ের ব্যাপার। যদি আশপাশের জাহাজের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না যায়, তবে বিশেষ করে রাতে বা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
জ্যামিংয়ের পেছনে কারা রয়েছে সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকলেও সামরিক বিশ্লেষকদের জোরালো সন্দেহ ইরানের ওপর। ইরান ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের থমাস উইথিংটন জানান, ইরান সম্ভবত নিজেদের তৈরি অথবা রাশিয়া ও চীন থেকে আনা সরঞ্জাম দিয়ে এই জিপিএস জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। অন্যদিকে মার্কিন বাহিনীও তাদের ঘাঁটি ও ড্রোন রক্ষা করতে পাল্টা জ্যামিং–ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারে।
প্রযুক্তি কোম্পানি জেফায়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা শন গোরম্যান স্যাটেলাইটের রাডার ডেটা ব্যবহার করে এই জ্যামিংয়ের উৎস খুঁজে বের করার কাজ করছেন। তিনি জানান, জ্যামিং ডিভাইস রাডার সিগন্যালে একধরনের ছাপ রেখে যায়, যা দিয়ে এর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। জিপিএস জ্যামিং থেকে সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন কোম্পানি নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছে। যুক্তরাজ্যের অস্ত্র নির্মাতা রেইথন ইউকে তৈরি করেছে ল্যান্ডশিল্ড নামের একটি অ্যান্টি-জ্যাম অ্যান্টেনা সিস্টেম। এটি একাধিক চ্যানেল ব্যবহার করে জ্যামিং মোকাবিলা করতে পারে।
অন্য সংস্থাগুলো জিপিএসের বিকল্প খুঁজছে। অস্ট্রেলীয় কোম্পানি অ্যাডভান্সড নেভিগেশন এমন একটি সিস্টেম তৈরি করেছে, যা জাইরোস্কোপ এবং অ্যাক্সেলেরোমিটার ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয় করতে পারে। এ ছাড়া অপটিক্যাল ইমেজ বা মহাকাশের নক্ষত্রের অবস্থান বিশ্লেষণ করেও জাহাজগুলো তাদের অবস্থান বুঝতে পারে।
বর্তমান জিপিএস সিগন্যাল অত্যন্ত দুর্বল, তাই এগুলোকে জ্যাম করা সহজ। তবে সামরিক বাহিনী এমন কোড নামক একধরনের এনক্রিপ্ট করা জিপিএস ব্যবহার করে; যা জ্যামিং প্রতিরোধী। নেভিগেশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংকট জিপিএসের আরও নিরাপদ বিকল্প তৈরির পথ খুলে দেবে। বর্তমানে যেমন আমরা উন্মুক্ত ওয়াইফাইয়ের বদলে পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করি, ভবিষ্যতে জিপিএস সিগন্যালগুলোকেও তেমনি সুরক্ষিত হতে হবে।
সূত্র: বিবিসি
জাহিদ হোসাইন খান
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা কিংবা শক্তিশালী ঝড়ের খবরই শিরোনামে থাকে। কিন্তু বিশ্বের অনেক মেগাসিটি বা জনবহুল শহরের জন্য সমস্যাটি কেবল পানির স্তর বেড়ে যাওয়া নয়; পায়ের নিচের মাটিই ধীরে ধীরে নিচে দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই নীরব ধস কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সম্প্রতি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে ৪০টি প্রধান নদী বদ্বীপ বা ডেল্টার মানচিত্র তৈরি করেছেন, যেখানে দেখা গেছে, সমুদ্রের পানি যে গতিতে বাড়ছে, মাটি দেবে যাওয়ার গতি তার চেয়েও বেশি। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রেও এমন প্রবণতা খেয়াল করেছেন বিজ্ঞানীরা।
নদী বদ্বীপ পৃথিবীর মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১ শতাংশ হলেও এখানে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ বাস করে। বিশ্বের বড় ৩৪টি শহরের ১০টিই এই নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। এর মধ্যে গঙ্গা বদ্বীপে কলকাতা ও ঢাকা, নীল নদে আলেকজান্দ্রিয়া, ইয়াংজিতে সাংহাই এবং মেকং বদ্বীপে হো চি মিন সিটি অন্যতম। এই অঞ্চলগুলো মূলত অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র, যেখানে বড় বড় বন্দর, বিমানবন্দর এবং শিল্পাঞ্চল অবস্থিত। অধিকাংশ বদ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ থেকে ২ মিটার (৩ থেকে ৬ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। ফলে মাটির সামান্যতম অবনমনও এই শহরগুলোর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের ১০ বছরের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অর্ধেকের বেশি বদ্বীপ বছরে ৩ মিলিমিটারের চেয়ে দ্রুত নিচে নামছে। থাইল্যান্ডের চাও ফ্রায়া, ভিয়েতনামের মেকং এবং চীনের ইয়েলো নদী বদ্বীপে এখন সমুদ্রের পানি বাড়ার চেয়ে মাটি দেবে যাওয়াই প্রধান আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটি মাত্র কয়েক ইঞ্চি দেবে গেলেই বন্যা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
বদ্বীপের মাটি প্রাকৃতিক নিয়মেই কিছুটা পরিবর্তনশীল। কিন্তু মানুষের কিছু কর্মকাণ্ড এই ধসকে ত্বরান্বিত করছে। বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে মাটির নিচের স্তরগুলো সংকুচিত হয়ে যায় এবং ভূমি দেবে যায়। তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে মাটির ভেতরে শূন্যতা তৈরি হয়। মেগাসিটিগুলোর বিশাল সব দালান ও স্থাপনার ভার নরম মাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বদ্বীপে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, সেখানেই ভূমি দেবে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। ঢাকা, কলকাতা, ব্যাংকক, সাংহাই ও ইয়াঙ্গুন এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ মিটারেরও কম উচ্চতায় বসবাসকারী ৭ কোটি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮৪ শতাংশই (প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ) এমন এলাকায় বাস করছেন, যেখানে ভূমি দ্রুত দেবে যাচ্ছে। এর মধ্যে এশিয়ায় ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তবে আমেরিকা মহাদেশের মিসিসিপি এবং আমাজন বদ্বীপও এই ৫টি এশীয় বদ্বীপের মতোই সংকটাপন্ন।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী অধ্যাপক লিওনার্ড ওহেনহেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, ৪০টির মধ্যে ১৮টি বদ্বীপে ভূমিধসের হার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার পাশাপাশি ভূমি দেবে যাওয়া রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মহাকাশ থেকে নিখুঁতভাবে সেন্টিমিটারের ভগ্নাংশ পরিমাণ পরিবর্তনও পরিমাপ করতে সক্ষম, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এখন কেবল সমুদ্রের পানিকে আটকে রাখাই চ্যালেঞ্জ নয়। পায়ের নিচের মাটিকে স্থিতিশীল রাখাই হবে আগামী কয়েক দশকের প্রধান লড়াই।
সূত্র: আর্থ
জাহিদ হোসাইন খান