৭ দিন বন্ধের পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন)...
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন)...
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে...
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ কিউচি। এপ্রিল মাসে আসা এটি অকটেনের তৃতীয় চালান। বুধবার...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩...
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা কিংবা শক্তিশালী ঝড়ের খবরই শিরোনামে থাকে। কিন্তু বিশ্বের অনেক মেগাসিটি বা জনবহুল শহরের জন্য সমস্যাটি কেবল পানির স্তর বেড়ে যাওয়া নয়; পায়ের নিচের মাটিই ধীরে ধীরে নিচে দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই নীরব ধস কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সম্প্রতি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে ৪০টি প্রধান নদী বদ্বীপ বা ডেল্টার মানচিত্র তৈরি করেছেন, যেখানে দেখা গেছে, সমুদ্রের পানি যে গতিতে বাড়ছে, মাটি দেবে যাওয়ার গতি তার চেয়েও বেশি। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রেও এমন প্রবণতা খেয়াল করেছেন বিজ্ঞানীরা।
নদী বদ্বীপ পৃথিবীর মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১ শতাংশ হলেও এখানে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ বাস করে। বিশ্বের বড় ৩৪টি শহরের ১০টিই এই নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। এর মধ্যে গঙ্গা বদ্বীপে কলকাতা ও ঢাকা, নীল নদে আলেকজান্দ্রিয়া, ইয়াংজিতে সাংহাই এবং মেকং বদ্বীপে হো চি মিন সিটি অন্যতম। এই অঞ্চলগুলো মূলত অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র, যেখানে বড় বড় বন্দর, বিমানবন্দর এবং শিল্পাঞ্চল অবস্থিত। অধিকাংশ বদ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ থেকে ২ মিটার (৩ থেকে ৬ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। ফলে মাটির সামান্যতম অবনমনও এই শহরগুলোর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের ১০ বছরের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অর্ধেকের বেশি বদ্বীপ বছরে ৩ মিলিমিটারের চেয়ে দ্রুত নিচে নামছে। থাইল্যান্ডের চাও ফ্রায়া, ভিয়েতনামের মেকং এবং চীনের ইয়েলো নদী বদ্বীপে এখন সমুদ্রের পানি বাড়ার চেয়ে মাটি দেবে যাওয়াই প্রধান আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটি মাত্র কয়েক ইঞ্চি দেবে গেলেই বন্যা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
বদ্বীপের মাটি প্রাকৃতিক নিয়মেই কিছুটা পরিবর্তনশীল। কিন্তু মানুষের কিছু কর্মকাণ্ড এই ধসকে ত্বরান্বিত করছে। বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে মাটির নিচের স্তরগুলো সংকুচিত হয়ে যায় এবং ভূমি দেবে যায়। তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে মাটির ভেতরে শূন্যতা তৈরি হয়। মেগাসিটিগুলোর বিশাল সব দালান ও স্থাপনার ভার নরম মাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বদ্বীপে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, সেখানেই ভূমি দেবে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। ঢাকা, কলকাতা, ব্যাংকক, সাংহাই ও ইয়াঙ্গুন এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ মিটারেরও কম উচ্চতায় বসবাসকারী ৭ কোটি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮৪ শতাংশই (প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ) এমন এলাকায় বাস করছেন, যেখানে ভূমি দ্রুত দেবে যাচ্ছে। এর মধ্যে এশিয়ায় ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তবে আমেরিকা মহাদেশের মিসিসিপি এবং আমাজন বদ্বীপও এই ৫টি এশীয় বদ্বীপের মতোই সংকটাপন্ন।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী অধ্যাপক লিওনার্ড ওহেনহেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, ৪০টির মধ্যে ১৮টি বদ্বীপে ভূমিধসের হার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার পাশাপাশি ভূমি দেবে যাওয়া রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মহাকাশ থেকে নিখুঁতভাবে সেন্টিমিটারের ভগ্নাংশ পরিমাণ পরিবর্তনও পরিমাপ করতে সক্ষম, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এখন কেবল সমুদ্রের পানিকে আটকে রাখাই চ্যালেঞ্জ নয়। পায়ের নিচের মাটিকে স্থিতিশীল রাখাই হবে আগামী কয়েক দশকের প্রধান লড়াই।
সূত্র: আর্থ
জাহিদ হোসাইন খান
আগামী ৩ মার্চ আকাশে এক মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে। ওই দিন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদ অদ্ভুত লালচে রং ধারণ করবে। এই ঘটনা ব্লাড মুন বা রক্তাভ চাঁদ হিসেবেও পরিচিত। ২০২৬ সালে এটিই হবে একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। পরবর্তী সময় এমন দৃশ্য দেখার জন্য ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে বাধা পায়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বেশি বিচ্ছুরিত করে দেয় ও লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ যেমন লাল দেখায়, এটিও ঠিক একই বৈজ্ঞানিক কারণে ঘটে থাকে।
২০২৬ সালের এই চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের একটি বড় অংশ থেকে দেখা যাবে। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে ১২ থেকে ১৩ মিনিট স্থায়ী হবে এই চন্দ্রগ্রহণ। সর্বোচ্চ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ভোরবেলা সবচেয়ে ভালো দৃশ্যমান থাকবে। আর পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সন্ধ্যায় লালচে চাঁদ দেখা যাবে।
সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না। এটি খালি চোখেই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে দেখা যায়। তবে একটি সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ থাকলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। শহর থেকে দূরে যেখানে আলোক দূষণ কম, সেখান থেকে ব্লাড মুনের লাল আভা সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ মূলত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। পেনামব্রাল পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়ার ভেতর প্রবেশ করে, এতে চাঁদের উজ্জ্বলতা কিছুটা কমে যায়। এরপরে আংশিক গ্রহণ শুরু হয়। চাঁদ যখন পৃথিবীর মূল অন্ধকার ছায়ার ভেতর প্রবেশ করতে শুরু করে। এরপরেই ঘটবে পূর্ণগ্রাস (টোটালিটি)। এই পর্যায়ে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় এবং লালচে রং ধারণ করে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
হোয়াটসঅ্যাপে জন্মদিন বা বিশেষ দিবস উপলক্ষে বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিদের বার্তা পাঠান অনেকেই। কিন্তু মাঝেমধ্যে ব্যস্ততার কারণে সময়মতো বার্তা পাঠানো আর হয়ে ওঠে না। ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে আগে থেকে লেখা বার্তা নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানোর সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।
শিডিউলড মেসেজেস সুবিধা চালু হলে ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা আগে থেকে বার্তা লিখে নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠাতে পারবেন। ফলে জন্মদিনের শুভেচ্ছাসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বার্তা সঠিক সময়ে প্রাপকের কাছে পৌঁছানো যাবে। প্রাপকের কাছে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত যেকোনো সময় বার্তা সম্পাদনা বা মুছেও ফেলা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বা গ্রুপ চ্যাট উভয় ক্ষেত্রেই এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ এ বেটা ইনফো জানিয়েছে, আইওএস ২৬.৭.১০.৭২ সংস্করণের জন্য তৈরি হোয়াটসঅ্যাপের বেটা আপডেটে শিডিউলিং টুল দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই নির্বাচিত আইফোন ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা পরীক্ষামূলকভাবে সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে সব ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাটি উন্মুক্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে শিডিউল কলস সুবিধার মাধ্যমে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে কল করার আগাম তারিখ, সময় ও বিষয় জানিয়ে দেওয়া যায়। নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপে প্রবেশ করলেই শিডিউল কলসের বার্তা দেখতে পান। ফলে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়ে কথা বলতে পারেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া দেশে মুক্ত গণমাধ্যম বিকাশে জনপ্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আজ শনিবার টিআইবি এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে।
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের। যার প্রতিফলন ছিল গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও। কিন্তু প্রতিবেদন হস্তান্তরের দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় ধরে এর সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকা অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে কমিশনের নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের যে দুটি খসড়া প্রকাশ করেছে, তাতে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিআইবি।
টিআইবি বলেছে, জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ খাতকে অধিকতর নিয়ন্ত্রণের জন্য খসড়া দুটি প্রণয়ন করা এবং মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে মতামত চাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস। একই সঙ্গে শুরু থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গোপনীয়তার চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নামে সরকারের একাংশের সংস্কার পরিপন্থী অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতার উদাহরণ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করছে সংস্থাটি।
প্রসঙ্গত, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাসেও কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এখন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করেছে। মতামত নিতে খসড়াটি গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাত্র তিন দিন অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে হবে। তার আগে মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ আলাদা দুটি কমিশন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়।
যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার জন্য বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল এবং সম্প্রচারমাধ্যম ও অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য পূর্বের প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করেছিল; যা হবে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি স্বাধীন সংস্থা। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু তথ্য মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ এবং ‘সম্প্রচার কমিশন’ নামে আলাদা কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। এরপর গঠিত হবে নতুন সরকার। বর্তমান সরকারের মেয়াদও শেষ পর্যায়ে। এ পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে আলাদা দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আজ বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উভয় ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিশনের গঠন ও স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি হতাশাজনক হলেও আমরা মোটেও অবাক হচ্ছি না; কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রত্যাশার প্রতি সরকারের একই রকম প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটল।’
বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও সম্প্রচার মাধ্যমসংক্রান্ত অনুরূপ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের যে সুপারিশ করেছিল, সরকার সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেখায়নি বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান।
উল্লিখিত খসড়া দুটি তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে প্রণীত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের আহ্বান ও প্রত্যাশা করেন, নতুন সংসদ গঠনের পর একটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে, যা সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিওয়াইডি সিল বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়। আর তাই বাংলাদেশেও সিল মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়ি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিওয়াইডি। গাড়িগুলোর দাম কোটি টাকার কাছাকাছি হওয়ায় এবার কম দামে ‘বিওয়াইডি সিল ৬’ মডেলের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি আনতে যাচ্ছে বিওয়াইডি বাংলাদেশ। নতুন মডেলের গাড়িটি একবার চার্জে ৪১০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। শুধু তাই নয়, ৩০ মিনিটেই পুরো চার্জ হয়। আর তাই বাজারে আসার আগে হাতে–কলমে চালিয়ে দেখার পাশাপাশি পুরো গাড়ি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিওয়াইডি প্রদর্শনী কেন্দ্রে আমরা গিয়েছিলাম। এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ৩০০ ফুট রাস্তায় পূর্বাচল ক্লাব পর্যন্ত আমরা গাড়িটি চালিয়েছি। গাড়িটি চালিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকেই আজকের এই টেস্ট ড্রাইভ প্রতিবেদন।

প্রদর্শনী কেন্দ্রে ঢুকেই দেখা মিলল সাদা রঙের বিওয়াইডি সিল ৬ গাড়ির। গাড়ির বনেটের নকশার কারণে প্রথম দর্শনেই মনে হলো চালকের আসন থেকে সহজে গাড়ির সামনের মাপ নেওয়া যাবে। দুই পাশে এলইডি হেডলাইট ও বাম্পারের ভেতরে বাতাস চলাচলের সরু দুটি ফাঁকা স্থান রাখা হয়েছে। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে ফগলাইট হাউজিং। নম্বর প্লেটের নিচে বড় আকারে এয়ার ইনটেক্ট সিস্টেম বা বাতাস যাওয়া–আসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঝখানে বিওয়াইডির লোগো। এটি যেহেতু সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেহেতু এটার বনেটের নিচেও মালামাল রাখার জন্য ৬৫ লিটার স্পেস রয়েছে। এর ফলে সামনে ও পেছনে দুটি মালামাল রাখার জায়গা রয়েছে গাড়িটিতে।
চালকের আসনে বসে এক্সপ্রেসওয়ে অভিমুখে যাত্রা শুরু করি আমরা। প্রায় নিঃশব্দে চলা গাড়িটির ভেতরের নয়েস ক্যানসেলেশন সিস্টেম সত্যিই প্রশংসনীয়। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের সঙ্গে রয়েছে ২.৫ পিএম বাতাস বিশুদ্ধকরণের সুবিধা। গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে মাল্টিমিডিয়া নিয়ন্ত্রণসহ ক্রুজ কন্ট্রোল রয়েছে। স্টিয়ারিংয়ের পেছনে ডান পাশে রয়েছে গিয়ার হাতল। গাড়ির স্টার্ট বাটনটা চালকের বাঁ পাশে রয়েছে। এখানে দুটি মুঠোফোন রাখার অপশন আছে। এর নিচে রয়েছে কিছু বাটন। তারপর আছে দুটি গ্লাস হোল্ডার। কফি খেতে খেতে গাড়িটি আরামসে চালানো যাবে। স্টিয়ারিংটিকে সামনে–পেছনে ও ওপর–নিচ করে সেট করার অপশন রয়েছে। চালকের প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্যের জন্য ৮.৮ ইঞ্চি ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য ১২.৮ ইঞ্চির প্রশস্ত পর্দা (ডিসপ্লে) রয়েছে। চালকের সামনের ডিসপ্লেতে গাড়ির গতি, ব্যাটারি কতটুকু খরচ হচ্ছে, কতটুকু চার্জ রয়েছে এবং এই চার্জে কত কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যাবে, তা দেখা যায়। অ্যাপল কার প্লে বা অ্যান্ড্রয়েডের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লেটি ব্যবহার করা যাবে। ডিসপ্লের পেছনে পুরো গাড়ির সামনের অংশে একটি উজ্জ্বল কালো রঙের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রথম দেখাতে ডিসপ্লে মনে হতে পারে। মুঠোফোন চার্জ দেওয়ার জন্য গাড়িটির সামনে দ্রুতগতির চার্জ ক্ষমতাসম্পন্ন ইউএসবি ও টাইপ সি পোর্ট রয়েছে।

গাড়ির আসনগুলো চামড়ায় মোড়ানো হওয়ায় বেশ আরামদায়ক। চালক ও প্রথম সারির যাত্রীর জন্য স্বয়ংক্রিয় আসন ব্যবস্থাপনা রয়েছে। পেছনের সারিতেও যথেষ্ট হেড ও লেগ রুম রয়েছে। সামনের যাত্রীর পাশাপাশি পেছনের যাত্রীর জন্য এসি ভেন্ট ও মুঠোফোন চার্জ দেওয়ার জন্য ফাস্ট চার্জিং অপশনসহ ইউএসবি ও টাইপ সি পোর্ট রয়েছে। পেছনের আসনগুলো নির্দিষ্ট। ড্রাইভ ট্রেইন না থাকার কারণে মাঝখানের যাত্রীও স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারবেন।
এক্সপ্রেসওয়ে অতিক্রম করে পূর্বাচল সড়কে যাওয়ার পর আমরা গাড়িটির গতি পরীক্ষা শুরু করি। যাত্রা শুরুর সময় গাড়িটির চার্জিং লেভেল ছিল ৬৭। সাধারণ গতিতে চালিয়ে পূর্বাচল আসার পর চার্জিং লেভেল কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। ৫ জন যাত্রীসহ গাড়িটিতে সর্বোচ্চ ১৩৪ কিলোমিটার গতিবেগে চালিয়েছি আমরা। গাড়িটির শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলতে সময় লাগে মাত্র ১২.৭ সেকেন্ড। নরমাল মোড ছাড়াও গাড়িটিতে আরও তিনটি মোড রয়েছে। ইকো, স্পোর্টস ও স্নো। ইকো মোডে গাড়িটিকে চালানো হলে সর্বোচ্চ মাইলেজ পাওয়া যাবে। আমরা স্পোর্টস মোডে দিয়েও গাড়িটির গতি পরীক্ষা করেছি। নিঃশব্দে গতি তোলার এই মেশিন আমাদের হতাশ করেনি। আশপাশের চালকেরা বেশ অবাক দৃষ্টিতেই গাড়িটির দিকে তাকাচ্ছিলেন। বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়ার কারণে এতে তাৎক্ষণিক টর্ক উৎপন্ন হয়। গাড়িটির সর্বোচ্চ শক্তি ৯৫ কিলোওয়াট, যা জ্বালানিনির্ভর গাড়ির ১২৮ অর্শ্ব শক্তির সমান। গাড়িটি ২২০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। শুনতে কম মনে হলেও বৈদ্যুতিক গাড়িতে টর্ক লস না থাকার কারণে এই শক্তিতেই গাড়িটি দুরন্ত গতিতে ছুটে চলতে পারে।

বিওয়াইডি সিল ৬ পেছনের চাকার শক্তিতে চলে থাকে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৪ হাজার ৭২০, ১ হাজার ৮৬০ ও ১ হাজার ৪৯৫ মিলিমিটার। ভূমি থেকে উচ্চতা ১ হাজার ৬১০ মিলিমিটার। চাকার পরিধি ২ হাজার ৮২০ মিলিমিটার। ওজন ১ হাজার ৬৭০ কেজি। এতে বিওয়াইডি ব্লেড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ক্ষমতা ৪৬ দশমিক ০৮ কিলোওয়াট/ঘণ্টা। দুই ধরনের চার্জিং পোর্ট রয়েছে। ফাস্ট চার্জিং সুবিধায় (সিসিএস ২, ৮০ কিলোওয়াট/ঘণ্টা) মাত্র ৩০ মিনিটে গাড়িটি পূর্ণ চার্জ করা যায়, যেখানে সাধারণ চার্জারে (৭ কিলোওয়াট/ঘণ্টা) ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। রিজেনারেটিভ ব্রেকিং অপশন থাকার কারণে গাড়িটি চাকার ঘূর্ণনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটারি চার্জ করতে পারে।
৫ আসনের গাড়িটিতে ২২৫/৫৫ আর ১৭ চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। সামনে ম্যাকপার্সন স্টার্ট ও পেছনে মাল্টি লিংক সাসপেনশন রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য গাড়িটির চার চাকায় ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। ছয়টি এয়ারব্যাগ ও গান শোনার জন্য ছয়টি স্পিকার রয়েছে। মালামাল বহন করার জন্য গাড়ির পেছনে রয়েছে ৪৬০ লিটারের বুট স্পেস। অন্যান্য বিওয়াইডি গাড়ির মতো এই গাড়ির পেছনে দেখার ক্যামেরা বেশ স্বচ্ছ ও চালকের সহায়ক। গাড়িটির পেছনের দিকেও নান্দনিক উপস্থাপনা রয়েছে। পেছনের অংশজুড়ে রয়েছে এলইডি ব্যাকলাইট। তার নিচে বিওয়াইডির লোগো। ডান পাশে গাড়ির মডেলের নাম ও বাঁ পাশে ইভির লোগো। একদম নিচের অংশে দুই পাশে রয়েছে রিফ্লেক্টর। মাঝখানে গাড়ির নম্বর প্লেট।
এবার ফেরার পালা। ৩০০ ফিট রাস্তার প্রশস্ত লেনে আমরা ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলেছি। থ্রটলে আলতো চাপেই গাড়ি দ্রুততার সঙ্গে ছুটে চলেছে। গাড়িটির সাসপেনশন বেশ উন্নত হওয়ায় রাস্তার ছোটখাটো খানাখন্দ কেবিনের ভেতরে টেরই পাওয়া যায়নি। সাউন্ড কোয়ালিটি মুগ্ধ করার মতো। দূরের যাত্রায় বৃষ্টির সঙ্গে হালকা গানের শব্দ রোমাঞ্চকর অনুভূতি দিবে। সড়কের মধ্যে হঠাৎ নেমে যাওয়া রাস্তায় আমরা গতির সঙ্গে গাড়ির সমন্বয়ের ক্ষমতা পরীক্ষা করলাম। উচ্চগতিতেও গাড়ির ব্যালেন্স ছিল চমৎকার। বিশেষ করে কর্নারিংয়ের সময় এর গ্রিপ আত্মবিশ্বাস জোগায়। আমরা যেহেতু হুটহাট থ্রটল আর ব্রেকের ব্যবহার করছিলাম, সেহেতু গাড়ির চার্জও কমেছে বেশ। ৬৭ শতাংশ থেকে ফেরার পথে গাড়ির চার্জ দেখাচ্ছিল ৩২ শতাংশ। তবে সাধারণভাবে থ্রটল চাপলে আমরা এর দ্বিগুণ মাইলেজ পেতাম।
বিওয়াইডি সিল ৬ সেডান বিভাগে অন্যতম সাশ্রয়ী গাড়ি হলেও একটি সানরুফ থাকলে গাড়িটিকে আরও সুন্দর লাগত। এ ছাড়া এতে নেই কোনো তারবিহীন চার্জ দেওয়ার সুবিধা। গিয়ারের হাতলটি অন্যান্য গাড়ির সংকেত প্রদানের হাতলের জায়গায় থাকার কারণে মনের ভুলে সংকেতবাতি জ্বালাতে গিয়ে গিয়ার হাতলে চাপ পড়ে। এতে কোনো ক্ষতি নেই, তবে চালকের কিছু সময়ের জন্য অস্বস্তি লাগতে পারে। লুকিং গ্লাসে রিয়ার ব্লাইন্ড মনিটরিং সিস্টেম ও ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা নেই। এলইডি লাইটে যদিও রাতের সড়ক বেশ স্বচ্ছ দেখা যায়, তবে শীতকালে বা ঘন কুয়াশায় ফগলাইটের অভাব অনুভূত হতে পারে।
গাড়িতে আমাদের যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন বিওয়াইডির পণ্য উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী নাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, শহরে নিত্যনৈমিত্তিক চলাচলের জন্য গাড়িটিতে সপ্তাহে একবার চার্জ দেওয়াই যথেষ্ট। আরামদায়ক যাত্রা ও চলাচলের খরচকে কমিয়ে দিতে সেডান ক্যাটাগরিতে বিওয়াইডি সিল ৬ তুলনাহীন। গাড়িটিতে ৬ বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার (যেটা আগে আসে) পর্যন্ত বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, গাড়িটি চার্জ দেওয়ার জন্য ক্রেতাদের বাসায় বিনা মূল্যে একটি চার্জার স্থাপন করে দেবে বিওয়াইডি বাংলাদেশ। এ ছাড়া গাড়িকে যেকোনো স্থানে চার্জ দেওয়ার জন্য আরেকটি চার্জার দেওয়া হবে। গাড়িটির দাম ৫০ লাখ টাকার বেশি হবে না।
এস এম আলাউদ্দিন আল আজাদ
রাজধানীর কোলাহল ছাপিয়ে রাত দুইটার নিস্তব্ধতায় যাঁদের বঁটির ধারালো শব্দে বেঁচে থাকার ছন্দ তৈরি হয়, সেই অদম্য নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্টজনেরা। অনলাইনে মাছ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘রিভার ফিশ’-এ কর্মরত ফারজানা রহমান, রেনু বেগম এবং আশি ছুঁই ছুঁই রোকেয়া বেগমের হাতে আজ মঙ্গলবার তুলে দেওয়া হয়েছে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার। এই তিনজনসহ মাছ কাটেন রিভার ফিশের আরও চার নারী—হাসনা বেগম, পারভিন আকতার, সকিনা বেগম ও রহিমা আকতারকে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার দেওয়া হয়।
১০ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে ‘মাছ কাটার বঁটিতেই অভাব কেটেছে ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আজ রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় রিভার ফিশের কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই নারীদের অদম্য জীবনযুদ্ধের প্রতি সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি ও বেসিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আবদুল্লাহ এইচ কাফি। বর্তমানে তিনি এশীয়-ওশেনীয় অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন অ্যাসোসিওর আজীবন সভাপতি এবং জেএএন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
অদম্য এই নারীদের সংগ্রামের গল্প শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে আবদুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। ফারজানা, রেনু আর রোকেয়ারা প্রমাণ করেছেন যে কোনো কাজই ছোট নয়। তাঁদের এই আত্মসম্মানবোধ আমাদের সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অনলাইনভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্কিলআপারের প্রতিষ্ঠাতা শামীম হুসাইন। তিনি এই নারীদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
রিভার ফিশের প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা আক্তার এবং তাঁর স্বামী সফটওয়্যার প্রকৌশলী তানভীর আজাদ জানান, এই নারীরা কেবল শ্রমিক নন, তাঁরা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তাঁদের সততা ও পরিশ্রমই রিভার ফিশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। উপহার হাতে তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও লেখক রাহিতুল ইসলাম।
উপহার পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে রেনু বেগম বলেন, ‘আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাজকে আপনারা যে সম্মান দিলেন, এটাই আমাদের বড় পাওয়া। এই উপহার আমাদের জন্য আনন্দের।’
ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের মতো নারীরা সমাজের তথাকথিত ‘ছোট কাজ’কে জীবনের ঢাল বানিয়ে যে নতুন পৃথিবী গড়েছেন, সে লড়াইয়ে শামিল হতে পেরে অতিথিরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।