৭ দিন বন্ধের পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন)...
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন)...
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে...
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ কিউচি। এপ্রিল মাসে আসা এটি অকটেনের তৃতীয় চালান। বুধবার...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩...
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চালু হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন বন্দর পরিচালক পরিচালক শামীম রেজা।
তিনি জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ৭দিন বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধসহ বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সরকারি ছুটি শেষে আজ সোমবার সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই কাজে যোগ দিয়েছে বন্দরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা। চলছে লোড আনলোসহ সব ধরনের কার্যক্রম। পাশাপাশি কর্মচঞ্চলতা ফিরে এসেছে বন্দর এলাকায়।
ঈদের তৃতীয় দিনেও রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে চামড়া আসছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাভারের ট্যানারিগুলোতে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫টি কাঁচা চামড়া এসেছে।
বিসিক চামড়াশিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চামড়া আসার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে বিসিকের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
বিসিকের তথ্য অনুসারে, ঈদের দিন বিকেল থেকে শুরু করে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১ হাজার ৭১৩টি চামড়াবাহী ট্রাক চামড়াশিল্প নগরীতে ঢুকেছে। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা ছাড়াও কিছুটা দূর থেকেও অনেক ট্রাক আসার খবর পাওয়া গেছে।
শিল্পনগরীতে আসা চামড়ার মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়ার সংখ্যা বেশি। বিসিকের হিসাবে, আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে গরু ও মহিষের চামড়া এসেছে ৫ লাখ ১১ হাজার ৭০০টি। অন্যদিকে ১৬ হাজার ১৭৫টি ছাগল ও ভেড়ার চামড়া এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর থেকেই মৌসুমি ব্যবসায়ী, মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধি, আড়তদার ও ট্যানারিপ্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। এসব চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। পরে এগুলো কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে চামড়া ও চামড়াজাত বিভিন্ন পণ্য হিসেবে বিক্রি ও রপ্তানি করা হয়।
কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের চেয়ে এবার ২ টাকা বাড়িয়েছিল সরকার। তবে রাজধানীতে ঈদের দিনে সেই দরে চামড়া বিক্রি হয়নি। গত বছরের চেয়েও প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দাম কমে চামড়া বেচাকেনা হয়। অবশ্য গতকাল কাঁচা চামড়ার দাম ঈদের দিনের চেয়ে ১০০ টাকা বেড়েছিল।
চীনের বৈদ্যুতিক যান (ইভি) রপ্তানি গত এপ্রিল মাসে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের শীর্ষ অবস্থান আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
এপ্রিল মাসে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮১টি ইভি রপ্তানি করেছে চীন। ফলে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫২টিতে। ব্লুমবার্গের সংগৃহীত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আল–জাজিরার সংবাদে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
মহাদেশভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ইভি আমদানি করেছে এশিয়া—১ লাখ ১০ হাজার ৬১৩টি। এরপর রয়েছে ইউরোপ (৮৩ হাজার ৮১৩টি) ও লাতিন আমেরিকা (৫২ হাজার ৮৯৭টি)। ওশেনিয়া আমদানি করেছে ২২ হাজার ৬৯৫টি চীনা ইভি, উত্তর আমেরিকায় গেছে ৪ হাজার ৪২২টি যান।
শীর্ষ ১০ রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বেড়েছে ব্রাজিলে—গত মাসে দেশটির ইভি আমদানি ২২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে তারা ৩৮ হাজার ১৪৪টি ইভি আমদানি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়াতেও চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; এসব দেশে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ থেকে ১৯০ শতাংশের মধ্যে।
এ পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের জেরে বিশ্ব বাজারে যে জ্বালানির দাম বেড়েছে, তাতে বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। মানুষ এখন জীবাশ্ম জ্বালানির অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষিত থাকতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে। এসব গাড়ি যেমন ব্যয় সাশ্রয়ী, তেমনি পরিবেশবান্ধব। সে বিবেচনা থেকেও মানুষ ইভির দিকে ঝুঁকছে।
এ পরিসংখ্যানের সঙ্গে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। সেটা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর বাজারে চীনা যানবাহন সীমিত করার নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও এ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে।
যুক্তরাষ্ট্র চীনের ইভিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে এবং যানবাহনে ব্যবহৃত চীনা সফটওয়্যার নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনা ইভির ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে ইভি উৎপাদনে চীন এখন সবচেয়ে বড় দেশ। ২০২৫ সালে বিশ্বে উৎপাদিত ২ কোটি ২০ লাখ ইভির প্রায় ৭৫ শতাংশই চীনে তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে চীনের ইভি রপ্তানি রেকর্ড ২৫ লাখে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গত বছর বিশ্ব বাজারে যত ইভি বিক্রি হয়েছে, তার ৫৫ শতাংশই ছিল চীনা গাড়ি।
আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ইভি বিক্রি ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা মোট গাড়ি বিক্রির প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী ইভি বিক্রি হয়েছে ২ কোটির বেশি, মোটরগাড়ি বাজারের যা প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
অন্যরা মার খেয়ে যাচ্ছে
বাস্তবতা হলো, চীনের বিওয়াইডিসহ অন্য ইভি কোম্পানিগুলোর দাপটে টেসলাসহ পশ্চিমা গাড়ি কোম্পানিগুলো ইভির বাজারে সুবিধা করতে পারছে না। ইতিমধ্যে বিওয়াইডির কাছে শীর্ষ স্থান হারিয়েছে টেসলা।
সিএনএনের এক সংবাদে বলা হয়েছে, বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো চীনের উৎপাদনসক্ষমতা। শক্তিশালী সরবরাহশৃঙ্খল ও স্বয়ংক্রিয় কারখানার বদৌলতে তারা বড় পরিসরে উৎপাদন করতে পারে।
এর পেছনে আবার রয়েছে চীন সরকারের দীর্ঘদিনের সহায়তা—ভর্তুকি, করছাড়সহ নানা সুবিধা। সমালোচকদের মতে, এতে চীনের ইভি বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার সুবিধা পাচ্ছে।
চীনা কোম্পানিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্য ভিন্ন। বিওয়াইডির স্টেলা লি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির উৎস হলো—সারা বিশ্ব থেকে মেধাবী প্রতিষ্ঠান ও মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা। বাজার সুরক্ষিত করে ফেললে সেই সুবিধা হারিয়ে যাবে, দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র উভয় দিক থেকেই ক্ষতির শিকার হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতায় পৌঁছেছে—এমন খবরে আজ শুক্রবার প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলার আরও দুর্বল হয়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়েই মার্কিন মুদ্রার মান নিম্নমুখী থাকবে, এমন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে চারটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। তবে এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এ খবরে তেলের দাম কমেছে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে ডলারের চাহিদাও কিছুটা কমেছে। তবে সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো স্থায়ী সমাধান কী হবে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে আছেন।
আজ শুক্রবার এশিয়ার লেনদেনে ইউরোর দর হয়েছে ১ দশমিক ১৬৫৩ ডলার, অর্থাৎ সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে পাউন্ডের দর ১ দশমিক ৩৪৪৫ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত আছে।
অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ছিল শূন্য দশমিক ৭১৬৪ ডলার। নিউজিল্যান্ড ডলার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৫৯৪৬ ডলারে ওঠে, অর্থাৎ দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।
বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান নিরূপণে ডলার ইনডেক্স প্রণয়ন করা হয়। আজ তার মান ৯৮ দশমিক ৯৯৭ পয়েন্ট, অর্থাৎ প্রায় অপরিবর্তিত। এর আগের দিন সূচকটি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। ফলে টানা দুই সপ্তাহের উত্থান থেমে চলতি সপ্তাহে এই সূচকের মান প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমতে যাচ্ছে।
ইউবিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বৈশ্বিক বাজার কৌশল বিভাগের প্রধান মাসিমিলিয়ানো কাস্তেল্লি বলেন, ‘ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট পেছনে পড়ে গেলে আমরা ধারণা করছি, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।’
কাস্তেল্লি আরও বলেন, নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদার কারণে সংঘাতের সময় ডলারের মান হারানোর প্রবণতা সাময়িকভাবে থমকে ছিল। অনেক বিনিয়োগকারী এখনো মার্কিন ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে সরে এসে বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ করতে আগ্রহী। এর অর্থ হলো, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে।
এদিকে ডলারের দুর্বলতার কারণে জাপানি ইয়েন শক্তিশালী হয়েছে। ডলারের বিপরীতে এখন ১৫৯ দশমিক ২৭ ইয়েন পাওয়া যাচ্ছে। ইয়েনের মানের মনস্তাত্ত্বিক সীমা হচ্ছে ১৬০, অর্থাৎ বাজার সেই সীমা থেকে কিছুটা দূরে সরে এসেছে। অতীতে এই সীমা অতিক্রম করলে জাপানি কর্তৃপক্ষ বাজারে হস্তক্ষেপ করত।
অন্যদিকে এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ছিল বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতিতে এই চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদ হার অপরিবর্তিত রাখবে, অর্থনীতিবিদবিদের এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।
রয়টার্স
ঈদের বাকি আর দুই দিন। অথচ আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ শিল্পকারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি। এমনকি দেড় শতাংশ শিল্পকারখানা গত এপ্রিলের বেতনও দেয়নি। প্রায় ১০ হাজার শিল্পকারখানা তদারক করে এমন তথ্য জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট—এই আট শিল্পাঞ্চলের ১০ হাজার ২৩৮টি শিল্পকারখানা পর্যবেক্ষণ করছে শিল্প পুলিশ। সংস্থাটি আজ সন্ধ্যায় জানায়, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৩৮টি শিল্পকারখানা ঈদ বোনাস দিয়েছে। তবে ১ হাজার ৫০০টি বা ১৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিল্পকারখানার বোনাস বাকি রয়েছে। এ ছাড়া ১৬২টি বা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ শিল্পকারখানার গত এপ্রিল মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।
দেশের সব কারখানায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ২১ মের মধ্যে এবং মাসিক বেতন নির্ধারিত তারিখে আবশ্যিকভাবে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ১৪ মে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) এবং আরএমজি–বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
শিল্প পুলিশের তদারকিতে থাকা শিল্পকারখানার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের রয়েছে ৩ হাজার ২৭০টি। এর মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ কারখানা ঈদ বোনাস দেয়নি। ২ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানায় গত এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতা বাকি রয়েছে।
তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য ১ হাজার ৭৯০টি পোশাক কারখানা তদারক করে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭০টি কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দিয়েছে। তবে ২২০টি বা ১২ শতাংশ কারখানার বোনাস বাকি রয়েছে। ৪৭টি কারখানা এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেনি।
তবে শিল্প পুলিশের তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, বর্তমানে তাঁদের সংগঠনের সদস্য মাত্র তিনটি কারখানায় বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। বাকি কারখানাগুলো কাল মঙ্গলবারের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে ছুটি দেবে।
নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য ৭৮০টি কারখানা তদারক করে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৫৮২টি কারখানা ঈদ বোনাস দিয়েছে। তবে ১২৬টি বা ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ কারখানার বোনাস বাকি রয়েছে। ২৮টি কারখানা এখনো গত মাসের বেতন দেয়নি।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, তাঁদের সদস্য শতভাগ কারখানা গত মাসের বেতন দিয়েছে। ৮৩ শতাংশ কারখানা চলতি মাসের আংশিক অগ্রিম বেতনও দিয়েছে। অল্প কিছু কারখানায় বোনাস বাকি থাকলেও সেগুলো মঙ্গলবারের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন, অধিকাংশ কারখানা ১০ থেকে ১১ দিন ছুটি দিচ্ছে।
ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের সুবিধার্থে সরকার রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ ছাড় করেছে। শুধু তৈরি পোশাক খাতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা দিয়েছে। পাট খাত পেয়েছে ২০০ কোটি টাকা। শেষ দিকে আরও কয়েকটি খাত রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ পেয়েছে।
শ্রমিকনেতা বাবুল আখতার বলেন, প্রতি ঈদেই তৈরি পোশাকশিল্পের একাংশ শ্রমিক বেতন-ভাতা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন। শ্রম আইনে দুটি উৎসব ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বোনাস না দেওয়া আইন লঙ্ঘনের শামিল। তিনি বলেন, যেসব কারখানা ঈদের আগে বোনাস দেবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিআইএফইকে সরকারের নির্দেশ দেওয়া উচিত।
আজ সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশ কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে—এমন আশাবাদে বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ হয়েছে এবং শিগগিরই এর বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। তবে পরদিন তিনি আবার বলেন, তাড়াহুড়া করা যাবে না।
আজ সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৭ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিও ক্রুডের দাম কমে দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯৯ ডলার, আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কম। আজ সরকারি ছুটির কারণে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও আর্থিক বাজার বন্ধ রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালি।
প্রণালি খুলে যেতে পারে—এমন আশায় জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসে এই প্রথম ৬৫ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেননা, এই দেশগুলো জ্বালানির জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে। বিষয় ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের মধ্যে চুক্তি প্রায় হয়ে গেছে। এখন শুধু চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি বাকি।’ তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তির শেষ দিকের কিছু বিষয় ও বিস্তারিত নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। খুব শিগগির তা ঘোষণা করা হবে।’
শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তাঁর ফোনে কথা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে।
যদিও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেছেন, যে চুক্তিই হোক না কেন, সেখানে এটা নিশ্চিত করা হবে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে পারবে না।
তবে রোববার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘উভয় পক্ষকেই সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে ভুলের সুযোগ নেই।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান কিছুটা কাছাকাছি এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘পরস্পরবিরোধী বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
মার্চের শুরু থেকে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেয় ইরান।
আজ তেলের দাম বেশ খানিকটা কমলেও যুদ্ধের আগের তুলনায় দাম এখনো অনেক বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭০ ডলার। এখন তা ১০০ ডলারের কাছাকাছি।
তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশ, যেমন সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলা চালায়। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এমএসটি ফিন্যান্সিয়ালের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল ক্যাভোনিক বলেন, এখন সুড়ঙ্গের শেষে কিছুটা আলোর দেখা পাওয়া যাচ্ছে—স্বল্প মেয়াদে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।
তবে ক্যাভোনিক সতর্ক করে বলেন, সবচেয়ে আশাবাদী যে চিত্র, তাতেও দেখা যাচ্ছে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক তেলের বাজার চাপে থাকবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন পুনরায় চালু করা, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত ও যুদ্ধের কারণে তেলের মজুত যে কমে গেছে, তা পুনর্ভরণে সময় লাগবে।
বিবিসি