৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দেশে এল আরেক জাহাজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩...
ইন্টারনেটে মানুষের তুলনায় বটের (একধরনের সফটওয়্যার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম) সক্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেভাবে বিস্তার ছড়াচ্ছে, তা...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা...
ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে কমে গেছে জ্বালানি তেলের দাম।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত আড়াইটায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৩ দশমিক ০৭ ডলারে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ১০৬ দশমিক ১২ ডলার।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। শুক্রবার দাম কিছুটা কমলেও তা আগের দিনের সেই বড় উল্লম্ফনকে পুরোপুরি কমিয়ে আনতে পারেনি। ইরান যুদ্ধ ধারণার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে- এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই শুক্রবার (২৭ মার্চ) তেলের বাজারে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। আর এ সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
এদিকে যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ (১৩৯ মিলিয়ন) ডলার আয় করছে ইরান। এই বিপুল অর্থের প্রায় পুরোটাই আসছে তেল রপ্তানি থেকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’তে অবরোধ জারি করেছে ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুটটি ব্যবহার করে। বর্তমানে এই রুটের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকায় সংকটের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছে তারা।
হরমুজ প্রণালিকে বলা হয় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’। অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে এবং তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইরানের ফ্ল্যাগশিপ জ্বালানি তেল ‘ইরানিয়ান লাইট’ এই রুট দিয়ে অবাধে বহির্বিশ্বে যাচ্ছে।
বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে ইরান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে।
জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত)। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় যশোরে দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার কাজ করছে। বহির্বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করেনি সরকার। জনগণের দুর্ভোগ কোনো কারণে যাতে না বাড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সরকার ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে।’
আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত জনগণের জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি তেল নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ৮০টা দেশ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেনি। সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে। কিন্তু আমাদের চাহিদা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতিদিন গড়ে ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন। পেট্রল–অকটেনের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন। ঈদের আগে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। বতর্মান সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত জনগণের জ্বালানির চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম। আগামী দিনগুলোতেও যাতে সরকার ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে পারে, সেটির কাজও শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১৫৩ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রধান অতিথি অনিন্দ্য ইসলাম। এ সময় তিনি জানান, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরে বিভিন্ন সরকার উপকারভোগী ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে জয় পাওয়া অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়েছি। বঞ্চিত মানুষের আকুতি শুনেছি। আমরা চাই, যাঁদের ভাতা প্রাপ্তির হক আছে, তাঁরাই যেন পান। উপকারভোগী বাছাইয়ে যেন রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য না পায়। সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে। ধর্মগুরুদের সম্মানী চালু হয়েছে। পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড চালু হবে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণ প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের হক আদায় করলে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে আসবে।’
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ। উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (খোকন), পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান (টুকুন) প্রমুখ।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম এখনো কম থাকায় দেশে সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সোনার ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমেছে। গত বুধবার ভরিতে কমেছিল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আজ সকাল ১০টায় সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। সব মিলিয়ে ১২ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত ১৬ দিনে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা কমেছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। আর ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা কমে হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৩৬৬ টাকা কমে নতুন দাম হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে দাম কমে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া এক ভরি ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।
বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ—সব মিলিয়ে সোনার দামে অনেক দিন ধরেই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত বছর ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত জানুয়ারিতে স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তার প্রভাবে দেশের বাজারে গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময়েও সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে ছিল। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে সোনার দাম পড়তে শুরু করে।
সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের ওপর প্রভাব—এই পরস্পরবিরোধী সংকেত মূল্যায়ন করছেন।
আজ দুপুর সোয়া ১২টায় বিশ্ববাজারের স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৪৬৭ ডলার। এই দাম গতকালের তুলনায় ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। গত সোমবার স্পটমার্কেটে সোনার দাম একপর্যায়ে কমে ৪ হাজার ১০০ ডলারের ঘরে নেমে যায়, যা কিনা গত ১১ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। তারপর ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পাঁচ দিন স্থগিত করার ঘোষণা দিলে সোনার দাম বাড়তে থাকে।
দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভা৵র্চুয়াল সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
[caption id="attachment_270397" align="alignnone" width="835"]
অর্থ মন্ত্রণালয়[/caption]সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিজেল কেনা হবে। এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনা হবে। পাশাপাশি সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেডের কাছ থেকে আরও দুই লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
দেশের বাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি সহজ করতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একক গ্রাহকের ঋণসীমার ২৫ শতাংশ শর্ত এলপিজি আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এই সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে যে ২৫ শতাংশ ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে, তা আপাতত বহাল থাকবে না। এর বদলে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা কত হবে, তা বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে নির্ধারণ করবে।
একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এই সুবিধা শুধু এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে একক ঋণগ্রহীতা সীমা অতিক্রমের সুযোগ থাকছে না।
জানা যায়, এই সুবিধার দাবিতে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি আবেদন করেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। পরে নতুন সরকার গঠিত হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একই দাবি উত্থাপন করেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক শর্ত শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলপিজি বাজারে যাদের বাজার হিস্যা সবচেয়ে বেশি, তারা ১৩টি ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি করে। একক গ্রাহকের ঋণসীমা নিয়ে তাদের সমস্যা হচ্ছে না। যেসব ব্যবসায়ী প্রভাবশালী ও এক ব্যাংকনির্ভর, তারাই এ সুবিধার জন্য তোড়জোড় করেন। তাদের ঋণ পরিশোধের অতীত রেকর্ডও ভালো নয়। এরপরও গভর্নর তাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন।
এর আগে, গত জানুয়ারিতে সরবরাহ সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে বাকিতে এলপিজি আমদানির সুযোগ দেয়। তখন বলা হয়েছিল, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এলপিজি আমদানি করা যাবে। সে জন্য এলপিজিকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন।
সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পরে শুল্ক-ভ্যাটেও ছাড় দেয় সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসে এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে মার্চ মাস। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩০৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। চলতি মাসে ছিল পবিত্র ঈদুল ফিতর। সাধারণত ঈদের মাসে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়ে যায়। পরিবারের ঈদের খরচ মেটাতে প্রবাসীরা এ সময় বেশি অর্থ পাঠান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। সে সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন মোট ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। ওই মাসে দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত জানুয়ারিতে। এর পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার।
এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময় প্রবাসী আয় এসেছিল ২ হাজার ১২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বেড়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে অর্থনীতির আসন্ন ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় আট অর্থনীতিবিদ।
অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, সংকট কতটা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বৈশ্বিক সংকট হলে রিজার্ভ ও ডলারের ওপর চাপ আসবে। তাই রিজার্ভ ধরে রাখতে হবে। এ ছাড়া সুদহার কমাতে এখনই নীতি সুদহারে হাত দেওয়া ঠিক হবে না। আসন্ন চাপ কেটে গেলে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এক সভায় অর্থনীতিবিদেরা এসব পরামর্শ দেন। তাঁরা বলেছেন, জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও এখনই তা গ্রাহক পর্যায়ে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।