৭ দিন বন্ধের পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন)...
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন)...
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে...
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ কিউচি। এপ্রিল মাসে আসা এটি অকটেনের তৃতীয় চালান। বুধবার...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩...
দেশে জ্বালানি ও সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ৭০ হাজার মেট্রিক টন সার ক্রয়ের পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ২৩তম বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে তিনটি ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়।
কমিটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করে, যার মাধ্যমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে তিনটি এলএনজি কার্গো কেনা হবে।
এলএনজি কার্গোগুলো ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৬ জুন, ২১ থেকে ২২ জুন এবং ২৫ থেকে ২৬ জুন সরবরাহ করা হবে, যা যথাক্রমে ২৩তম, ২৪তম ও ২৫তম কার্গো চালান হিসেবে গণ্য হবে।
অগ্রিম আয়করসহ (এআইটি) মোট ক্রয় ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৩০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল অ্যানার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে।
কমিটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করে, যার আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ১৫তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।
এজন্য মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৮৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) মূল্য ৬৮৩ দশমিক ৩৭৫ ডলার এবং ব্যাগজাতকরণ খরচ ৫ ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃষি খাতে সারের স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে কাফকো, বাংলাদেশ থেকে এই সার সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে, কমিটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করে। এর আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির অধীনে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ১২তম (ঐচ্ছিক চতুর্থ) লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার আমদানি করা হবে।
ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।
সূত্র: বাসস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক উত্থানের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় এই করপোরেশন চলতি বছরে এক ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে সিউলের শেয়ারবাজারও বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম বাজার হয়ে উঠেছে।
তবে দেশটির একটি অংশ এই পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নন। তাঁরা আর কেউ নন, তাঁরা হলেন স্যামসাংয়ের শ্রমিকেরা। কয়েক হাজার কর্মী ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। নজিরবিহীন এই কর্মবিরতি হলে এমন এক সময়ে মেমোরি চিপ উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারত, যখন এআই শিল্পে এসব চিপের চাহিদা তুঙ্গে।
বৃহস্পতিবার ধর্মঘট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো জানায়, তারা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। যদিও এই চুক্তি এখনো ইউনিয়নের সদস্যদের ভোটে অনুমোদন পেতে হবে, বিষয়টিকে স্যামসাং কর্মীদের জন্য প্রাথমিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোম্পানির রেকর্ড মুনাফার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই বেতন ও বোনাস বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।
এ সমঝোতার ফলে আপাতত কোম্পানির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধর্মঘট এড়ানো গেছে। ১৮ দিনব্যাপী সম্ভাব্য এই কর্মসূচিতে ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী অংশ নিতেন—দক্ষিণ কোরিয়ায় স্যামসাংয়ের মোট কর্মীর প্রায় ৪০ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী কর্মীদের অধিকাংশ মেমোরি চিপ বিভাগে কাজ করেন। এনভিডিয়া ও এএমডির মতো প্রযুক্তি জায়ান্টের এআই হার্ডওয়্যারে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে এসব চিপ।
উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্প—উভয়ের জন্যই উদ্বেগজনক ছিল। গত বছর স্যামসাংয়ের আয় ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের তিনটি প্রধান মেমোরি চিপ নির্মাণকারী কোম্পানির একটি। এমন সময় এই শিল্পে সরবরাহসংকট চলছে, যখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ কার্যক্রম চলছে বিশ্বজুড়ে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক রোববার বলেন, ‘স্যামসাংয়ের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে যেকোনো বিঘ্ন শুধু একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।’
এদিকে এআই প্রযুক্তির উত্থান বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের চাকরি কাঠামো পাল্টে দেবে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার মেটা প্রায় ১৫ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই ও পুনর্বিন্যাস করেছে। লক্ষ্য—এআই খাতে আরও বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করা। এ বছর লিংকডইন, অ্যামাজন ও স্ন্যাপের মতো প্রতিষ্ঠানও এআইকেন্দ্রিক পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

এআই মুনাফার বড় অংশ চাইছেন কর্মীরা
গত মাসে স্যামসাং ঘোষণা দেয়, তাদের রেকর্ড পরিমাণ ত্রৈমাসিক মুনাফা হয়েছে। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা ৮ দশমিক ৫ গুণের বেশি বেড়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের পুরো বছরের পরিচালন মুনাফাও ছাড়িয়ে গেছে এই আয়।
এখন সেই মুনাফার বড় অংশ নিজেদের জন্য চাইছেন কর্মীরা।
ইউনিয়নের দাবি, বার্ষিক বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত যে বোনাস সীমা, সেটা তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি বার্ষিক পরিচালন মুনাফার ১৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দ করতে হবে এবং এই সুবিধা শুধু চলতি বছর নয়, ভবিষ্যতেও বহাল রাখতে হবে।
স্যামসাংয়ের চিপ বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিযোগিতামূলক বেতন পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের সঙ্গে বোনাস বৈষম্য তাঁদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সও চলতি বছর রেকর্ড মুনাফা করেছে। তবে গত সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি নতুন বোনাস কাঠামো চালু করে, যেখানে মূল বেতনের এক হাজার শতাংশ পর্যন্ত বোনাস সীমা তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা বার্ষিক পরিচালন মুনাফার ১০ শতাংশ কর্মীদের বোনাস তহবিলে বরাদ্দ করছে।
নতুন কাঠামোর অধীন এসকে হাইনিক্সের কিছু কর্মী ২০২৫ সালে নিজেদের মূল বেতনের প্রায় ৩ হাজার শতাংশ সমপরিমাণ বোনাস পাবেন। কর্মীপ্রতি গড় বার্ষিক বোনাস দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ওন বা প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ডলার।
স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন গত মাসে বিবৃতিতে বলেছিল, ‘সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখন মেধা ধরে রাখার যুদ্ধে নেমেছে। এসকে হাইনিক্স ইতিমধ্যে দক্ষ জনবল ধরে রাখতে পারিশ্রমিক কাঠামো পরিবর্তন করেছে। অন্যদিকে বিদেশি কোম্পানিগুলোও আমাদের প্রকৌশলীদের আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিচ্ছে।’
বুধবারের প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে স্যামসাং বিদ্যমান বোনাসসীমা তুলে দিতে এবং সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের জন্য ব্যবসায়িক মুনাফার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দ করতে সম্মত হয়েছে।
বুধবার বিবৃতিতে স্যামসাং বলেছে, ‘সমঝোতা হয়েছে প্রত্যাশিত সময়ের পরে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি না হয়, সে জন্য আমরা আরও পরিণত ও গঠনমূলক শ্রম-ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করব।’ এই বিরোধ দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে সম্পদ বণ্টন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবিষয়ক গবেষণা ও অধিকার সংগঠন ‘এনিওনইউনিয়ন’–এর প্রধান জো গিউন-জুন বলেন, এআইের উত্থান মাজে চরম বৈষম্যমূলক মেরুকরণ তৈরি করেছে।
জো গিউন আরও বলেন, সমাজের একদিকে চাকরির নিরাপত্তা ও শ্রম সুরক্ষা ছাড়া কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মীরা কোম্পানির বিপুল মুনাফার কারণে নজিরবিহীন বোনাস পাচ্ছেন।
সিএনএন
আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই ঈদে মাংসের নানা পদের রান্নার কারণে প্রতি বছর ঈদের ঠিক আগে মসলার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। খুচরা বাজারে আদার দাম চড়া থাকলেও এলাচ, দারচিনি, জিরা বা রসুনের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় মসলা বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।
শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর কয়েকটা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
যদিও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ভেতরের দোকানগুলোতে কিছুটা ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু কিছু দোকানি মূল বাজারের তুলনায় ক্রেতাদের থেকে বাড়তি দাম আদায় করছেন।
বিশেষ করে আবাসিক এলাকার ভেতরের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এমনটা। সেখানে বড় বাজারের চেয়ে প্রতি কেজি মসলায় ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আদা জাতভেদে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। আদার বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজ ও রসুন।
প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মানভেদে আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বাজারে দেশি রসুনের দাম আরও কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
চাহিদার শীর্ষে থাকা গরম মসলার বাজারও এবার বেশ স্থিতিশীল। খুচরা বাজারে প্রতি একশোগ্রাম জিরা ৬০-৭০ টাকা, এলাচ ৪৫০-৫০০ টাকা, কালো এলাচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, দারচিনি ৪৫-৫০ টাকা, লবঙ্গ ১৩০-১৫০ টাকা, গোল মরিচ ১৪০-১৫০ টাকা ও তেজপাতা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রামপুরার মসলা ব্যবসায়ী আবু হোসেন বলেন, মসলার দাম যা বাড়ার সেটা ডলার সংকটের সময় গত দুই বছর আগে বেড়েছিল। এবার ঈদের নতুন করে গরম মসলার দাম বাড়েনি।
এদিকে গত সপ্তাহে সব সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে থাকলেও সেই তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ৮০ টাকায় নেমেছে। শুধু গোল বেগুন প্রতিকেজি ১০০ টাকা থাকলেও বাকি সবজিগুলো ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৬০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী শিহাবুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের তো সব সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার উপরে ছিল, সেই তুলনায় আজকের বাজার কিছুটা কম। কম বললেও ভুল হবে সব সবজি তাই ৮০ টাকা কেজি।
‘দোকানদাররা যে যার মত করে সবজির দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করছে, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ দেখি না। সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করা গেলে সবজির দাম হয়তো বা আরো কম থাকতো।’
রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমে এসেছে। সামনে ঈদে পরিবহন সমস্যা, যানজট হওয়ার কারণে সবজি সরবরাহ কিছুটা কমে ঈদের সময় দাম বাড়তে পারে। মূলত নতুন সবজি উৎপাদন হয়ে বাজারে সরবরাহ শুরু হলে বাজারে সবজির দাম কমে আসবে।
এদিকে তবে বেড়ে যাওয়া ডিমের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অবশ্য শুধু ডিম বিক্রি করে এমন কিছু দোকানে ১৪৫ টাকায়ও কেনা যাচ্ছে ডিম। আবার পাড়া মহল্লার কোনো কোনো দোকানিকে ১৫৫ টাকাও দাম চাইতে দেখা গেছে।
তবে ব্রয়লার মুরগির দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকার মধ্যে।
দেশে বর্তমানে আবাসিক ফ্ল্যাট, রেস্তোরাঁ ও হোটেলে প্রায় ৫ কোটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারের ঝামেলাকে সহজ করেছে এলপিজি সিলিন্ডার। রান্নার এই জ্বালানি সচেতনভাবে ব্যবহারে যেমন জীবনে এসেছে স্বস্তি, তেমনি অসচেতনতা ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহারে তা ঘটাতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। গ্যাস মজুত, পরিবহন ও ব্যবহারে সামান্য ভুলে হতে পারে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি।
● ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম না জানা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই বেশির ভাগ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। সিলিন্ডার লিক হয়ে বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে যায়। এরপর বৈদ্যুতিক সুইচের স্ফুলিঙ্গ বা ম্যাচের কাঠি জ্বালালেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
● নিরাপদ এলপিজি ব্যবহারের প্রথম শর্ত হলো সিলিন্ডার কেনার সময় অনুমোদিত ডিলার থেকে সেফটি ক্যাপ ও থার্মোসিল দেখে নেওয়া।
● সিলিন্ডার সব সময় খাড়া অবস্থায়, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন সমতল স্থানে রাখতে হবে। কোনোভাবেই এটিকে শোবার ঘর, রান্নাঘরের বন্ধ কেবিনেট, আন্ডারগ্রাউন্ড বেসমেন্ট কিংবা সিঁড়িঘরের নিচে রাখা যাবে না; কারণ, এলপিজি গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় নিচু ও আবদ্ধ স্থানে জমে মারাত্মক বিস্ফোরক পকেট তৈরি করে।
● রান্নার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে জানালা-দরজা খুলে দেওয়া এবং রান্না শেষে রেগুলেটরের চাবি বন্ধ করার অভ্যাস করা জরুরি।
● রান্নাঘরে গ্যাসের গন্ধ পেলে কখনো দেশলাই জ্বালানো বা বৈদ্যুতিক সুইচ স্পর্শ করা যাবে না; কারণ, সুইচের সামান্য স্পার্ক থেকেও বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
● লিক পরীক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো সাবান-পানির পরীক্ষা। পানিতে সাবান বা ডিশ ওয়াশার গুলিয়ে ফেনা তৈরি করে হোস পাইপ ও রেগুলেটরের সংযোগস্থলে লাগালে যদি বুদ্বুদ উঠতে দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সেখানে গ্যাস লিক হচ্ছে।
●সিলিন্ডার দুর্ঘটনা রুখতে বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও বিইআরসির সমন্বিত তদারকি আরও জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন । অবৈধ উপায়ে এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর (ক্রস-ফিলিং) বন্ধ করা এবং বাজারজাতকৃত প্রতিটি সিলিন্ডারের সংবিধিবদ্ধ পুনঃপরীক্ষার মেয়াদ বা টেস্ট ডিউ ডেট নিয়মিত যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা উচিত। একটু সতর্কতা ও সঠিক নিয়ম অনুসরণই পারে এলপিজি সিলিন্ডারজনিত প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি রোধ করতে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাতেই বিষয়টি বোঝা যায়। সেটা হলো, শেয়ারবাজার বা পণ্যের বাজারে মাঝেমধ্যে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা সহজেই উপেক্ষা করা যায়। কিন্তু বন্ড বাজার যখন অস্থির হয়ে ওঠে, তখন গুরুত্ব দিতেই হয়।
২০২৫ সালের এপ্রিলে বন্ড বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে পারস্পরিক শুল্কনীতির গতি কমাতে বাধ্য করেছিল। এখন আবারও বন্ড ব্যবসায়ীরা সতর্কসংকেত দিচ্ছেন। তবে এবার পরিস্থিতি শান্ত করার মতো খুব বেশি কিছু ট্রাম্পের হাতে আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টউড ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ড্যানিয়েল অ্যালপার্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তেলের দাম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, বন্ড বাজারে তার প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আর (ট্রাম্প) নিজেই যে সমস্যার মধ্যে আমাদের ফেলেছেন, সেখান থেকে কীভাবে বের হতে হবে, তা যেন তিনি বুঝতে পারছেন না।’
সহজ করে বললে, বন্ড ব্যবসায়ীরা এখন মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়েছে, তা ট্রাম্প যেভাবে ‘স্বল্পমেয়াদি’ বলে দাবি করছেন, বাস্তবে বিষয়টি হয়তো তেমন নয়। এ ধারণা শক্তিশালী হলে বন্ডের দাম আরও কমতে পারে।
এটি শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। সিএনএনের সাংবাদিক ডেভিড গোল্ডম্যান বন্ড বাজারকে পুরোনো দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাল্লার এক পাশে থাকে বন্ডের দাম, অন্য পাশে থাকে সুদের হার।
এখন নানাবিধ অর্থনৈতিক শঙ্কার কারণে সেকেন্ডারি বাজারে বন্ডের দাম কমছে। এর মধ্যে আছে—
বন্ডের দাম যত কমে, সুদের হার তত বাড়ে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা সরকারকে মূলত বলছেন, ‘আমাদের অর্থ ধরে রাখতে চাইলে আরও বেশি সুদ দিতে হবে।’
এর অর্থ হলো, জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বাড়বে। যে কারণে শেষমেশ করদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সেবা খাতে ব্যয়ের সুযোগও কমে যাবে। আবার যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ঋণের ব্যয়ও বাড়বে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাবে। এমনকি মন্দার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে, যদিও সেই পরিস্থিতি এখনো খুব কাছাকাছি নয়।
গতকাল মঙ্গলবার বন্ড বাজারের উদ্বেগ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও তা দূর হয়নি। ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার উঠে যায় ৫ দশমিক ২ শতাংশে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। একই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে।
শেয়ার ও পণ্যের বাজারে সাধারণত ট্রাম্প বা অন্য বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া হয়, কিন্তু বন্ড বাজার ভিন্ন ধরনের।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত প্রায় তিন মাসে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, যুদ্ধ ‘শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি’। তাঁর এমন মন্তব্যে প্রায় প্রতিবারই শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে এবং তেলের দাম কমেছে।
গত সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’র স্বার্থে তিনি ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করছেন। এতে শেয়ারবাজার ক্ষতি অনেকটা কাটিয়ে ওঠে এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়। কিন্তু বন্ড বাজারে তার প্রভাব পড়েনি; বরং বিশ্বজুড়ে বন্ড বিক্রি চলতেই থাকে।
বিষয়টি হলো, বিনিয়োগকারীরা শুধু যুদ্ধ বা তেলজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তাঁদের দৃষ্টিতে এখন একসঙ্গে একাধিক সংকট।
বার্কলেজের গবেষণা বিভাগের বৈশ্বিক চেয়ারম্যান অজয় রাজাধ্যক্ষ সোমবার এক নোটে লেখেন, ‘গল্পটি খুবই সহজ, কিন্তু অস্বস্তিকর—উন্নত বিশ্বে ঋণ অনেক বেশি, আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গুর। এ দুটি সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও নেই...জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি যেন বোঝার ওপর শাকের আঁটি’।
সিএনএন
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মরক্কো।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতার বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। গতকাল দেশটির রাজধানী রাবাতে এ বৈঠক হয়।
বুধবার (২০ মে) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও গভীর এবং মরক্কোর সঙ্গে অংশীদারিত্বকে সহযোগিতা, অভিন্ন সমৃদ্ধি ও কৌশলগত সুযোগের নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে আগ্রহী।
দুই নেতা রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরের ঐতিহাসিক স্মৃতি তুলে ধরেন। রাবাতে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ করায় মরক্কো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বস্ত্র, ওষুধ, সিরামিক, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কৃষি, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, জাহাজ নির্মাণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
চলমান সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং সম্ভাবনার নতুন খাত চিহ্নিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনেও সম্মত হয় তারা।
শামা ওবায়েদ সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতাকে আমন্ত্রণ জানান।
পরে মরক্কোর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ মেজ্জুরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। জবাবে মরক্কোর মন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিদ্যমান কৃষি সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফসফেটের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সরকারি পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি মরক্কোর বাজারে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রসারে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও পুনরায় তুলে ধরেন তিনি।
দুই দেশ উদ্ভাবন, শিল্প প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শক্তিশালী করতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
একই দিনে মরক্কোর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতাবিষয়ক মন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরির সঙ্গেও বৈঠক করেন শামা ওবায়েদ।
বৈঠকে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড কর্মসূচি এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্পসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন|
দুই নেতা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকগুলোতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মরক্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ মণ্ডল।
উল্লেখ্য, ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে মরক্কো সফরে রয়েছেন শামা ওবায়েদ। আজ রাবাতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।