৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দেশে এল আরেক জাহাজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩...
ইন্টারনেটে মানুষের তুলনায় বটের (একধরনের সফটওয়্যার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম) সক্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেভাবে বিস্তার ছড়াচ্ছে, তা...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা...
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির ভেতরে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। তবে বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতির পর আটকে থাকা জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য নোঙর তুলেছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজটিতে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক রয়েছেন।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দুপুর ১২টায় দেখা যায়, জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে রওনা হয়েছে। দুপুর ১২টায় দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল জাহাজটি। জাহাজটির গতিবেগ দেখাচ্ছে ঘণ্টায় ৮ দশমিক ৩০ নটিক্যাল মাইল। জাহাজটির ড্রাফট (জাহাজের পানির নিচের অংশের দৈর্ঘ্য) ১০ দশমিক ৮০ মিটার।
জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বুধবার দুপুর ১২টায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে আমরা দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে ছিলাম। যুদ্ধবিরতির পর এখন নোঙর তোলা হয়েছে। হরমুজের দিকে যাচ্ছি। হরমুজ পার হওয়ার পর জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, হরমুজ থেকে ৪২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছেন তাঁরা। হরমুজ পার হতে আরও অন্তত দুই দিন (৪০ ঘণ্টা) সময় লাগতে পারে।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার সূচি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। সে অনুযায়ী জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করলেও নিরাপত্তার কারণে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হয় জাহাজটিকে। যুদ্ধবিরতির পর এখন আবার যাত্রা শুরু করল জাহাজটি।
মাসুদ মিলাদ
চট্টগ্রাম
দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এত দিন মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা অপরিশোধিত তেলই পরিশোধন করা হতো। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের জাহাজ না আসায় শোধনাগারটির উৎপাদন এখন সংকটের মুখে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎসের তেল শোধন করার সম্ভাব্যতা নিয়ে যাচাই-বাছাই শুরু করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অপরিশোধিত তেলের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে চারটি দেশের তেলকে বাংলাদেশে ‘পরিশোধনযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি। দেশগুলো হলো নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়া। এসব দেশের ‘বনি ক্রুড’, ‘মালয়েশিয়ান ব্লেন্ড’, ‘আলবেইন ব্লেন্ড’ ও ‘আলজেরি ক্রুড’-এর বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এগুলো বিদ্যমান শোধনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে (বিপিসি) পাঠানো হয়েছে। এরপর মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন তেল কেনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে, যা চলতি মাসেই দেশে আসার কথা।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সৌদি আরবের ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড’ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ‘মারবান ক্রুড’ পরিশোধন করা হয়। এই দুটি উৎসের তেল থেকেই দেশে পেট্রল, অকটেন, ডিজেলসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদিত হয়। বছরে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধন করতে পারে সরকারি সংস্থাটি।
জানতে চাইলে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শরীফ হাসনাত বলেন, নতুন এই উৎসগুলোর তেলের বৈশিষ্ট্য বর্তমানে ব্যবহৃত তেলের কাছাকাছি। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়েই সেগুলো পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এ কারণেই চারটি দেশের তেল নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন বেড়ে যায়, তখন ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ রাশিয়া থেকে কম দামে জ্বালানি তেল কেনা শুরু করে। বাংলাদেশকেও ওই সময় রাশিয়া তাদের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার প্রস্তাব দেয়। এরপর রাশিয়া থেকে আনা অপরিশোধিত তেলের নমুনা পরীক্ষা করে রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ জানায়, তেলের ঘনত্ব বেশি এবং দেশীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তা পরিশোধন করা যাবে না। তাই আর আমদানি করা হয়নি।
আমদানিতে যুদ্ধের ধাক্কা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা করার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এরপরই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল আনার একটি জাহাজ আটকে যায়। আবার ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল আনতে গেলে প্রতি ব্যারেলে অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার খরচ হয়। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) থেকেও একটি জাহাজ আসার কথা ছিল। জেবেল ধানা বন্দর থেকে ওই তেল আনার জন্য বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিপিসি) ‘এমটি ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের একটি জাহাজ ভাড়া করেছিল, কিন্তু জাহাজটি চুক্তি বাতিল করেছে। এখন বিকল্প হিসেবে ফুজাইরা বন্দর ব্যবহার করা যায়, তবে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে জানান বিপিসির কর্মকর্তারা।
এ বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে অপরিশোধিত তেল আনার একটি বড় সুবিধা হলো, এতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমবে।
মজুত কমে বাড়ছে চাপ
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই পরিশোধিত, যা সরাসরি আমদানি করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকার ৪৭ লাখ টন পরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে। একই সময়ে অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ১০ হাজার টন, যার ব্যয় ছিল ১০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এসব তেলের বড় অংশই এসেছে সৌদি আরব ও ইউএই থেকে।
অন্যদিকে স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে গত অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টন জ্বালানি উৎপাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন ছিল ডিজেল।
তবে চলতি বছরে উৎপাদনে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারি শোধনাগারটির মোট সংরক্ষণসক্ষমতা প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টন হলেও এপ্রিলের শুরুতে ব্যবহারযোগ্য মজুত নেমে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার টনে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ হাজার টন তেল শোধনের সক্ষমতা থাকলেও সংকটের কারণে উৎপাদনের গতি কমাতে হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান মজুত দিয়ে আরও চার–পাঁচ দিন উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব।
যদিও বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, চলতি মাসে মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি মাসের শেষ দিকে সৌদি আরব থেকেও একটি জাহাজ রওনা দেবে। ফলে আপাতত বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে না বলেই তাঁরা আশা করছেন।
সুজয় চৌধুরী
চট্টগ্রাম
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলোকে এখন কিছু নির্দিষ্ট গ্রেডের তেলের জন্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার প্রাইস গত মাসে ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০০৮ সালের রেকর্ড ১৪৭.৫০ ডলারের নিচেই রয়েছে এই মূল্য।
তবে কাগজে-কলমে বা ফিউচার মার্কেটে এর মূল্য ১২০ ডলারের নিচে থাকলেও বর্তমানে তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য (ফিজিক্যাল মার্কেট) তেলের দাম অনেক চড়া।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
প্রয়োজন হলে সরকার আগামী মাস থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটা আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের দামের ওপর আমরা কাজ করছি। যদি সমন্বয় করে দেখা যায় যে দাম বাড়ানো দরকার, তাহলে আমরা মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সেই চিন্তা করব।’
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মৌলভীবাজার–২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম জানতে চান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না? জবাবে মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে চিন্তা করা হবে।
জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেলের দামের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সব উৎস খুঁজে, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।
জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন ডিজেল মজুত আছে। আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। অকটেন মজুত আছে ১০ হাজার ৫০০ টন। ৭১ হাজার ৫৪৩ টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। পেট্রল ১৬ হাজার টন মজুত আছে। আরও ৩৬ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ দাম বাড়ায়নি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও দেশে শিল্প কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।
সেচ মৌসুমে কৃষকদের ডিজেল পাওয়া নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য সব জেলা প্রশাসনকে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, জ্বলানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার অর্থদণ্ড এবং ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।
খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ। কেনা হচ্ছে খোলাবাজার থেকে। বাড়ছে ডলারের চাহিদা। কমছে না লোডশেডিং।
বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে দেশেও জ্বালানি সরবরাহ ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখতে দ্বিগুণ দামে আনা হচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। এরপরও গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনসক্ষমতার অর্ধেকের বেশি অলস বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমায় বাড়ছে লোডশেডিং।
দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি আমদানির বড় উৎস কাতার ও ওমান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এ দুটি দেশ থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহে এ দুটি দেশের সঙ্গে চারটি চুক্তি আছে বাংলাদেশের। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে তারা। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ বন্ধের এ মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।
দেশে কয়েক বছর ধরে গ্যাস সরবরাহের সংকট চলছে। দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এখন দিনে উৎপাদিত হচ্ছে ১৭০ কোটি ঘনফুট। আর এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৯৫ কোটি ঘনফুট। সব মিলে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি পূরণে দীর্ঘদিন ধরেই এক খাতে কমিয়ে আরেক খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ আছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এলএনজি থেকে দিনে সর্বোচ্চ ১১০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের অবকাঠামো আছে। এর জন্য মাসে ১১টি এলএনজি কার্গো (জাহাজ) আনতে হয়। এ মাসে আনা হচ্ছে ৯টি কার্গো। এর মধ্যে খোলাবাজার থেকে ৮ কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। আর কাতারের সঙ্গে দ্বিতীয় চুক্তির অধীন অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। এতে দিনে এলএনজি থেকে গড়ে ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।
শিল্প ও কৃষি উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় আছে। তাই সেভাবেই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শিল্প ও কৃষি উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় আছে। তাই সেভাবেই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে বাড়াতে গিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কমানো যাবে না। চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখতে এলএনজি আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন করা গেলে এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী নির্দেশনা ঠিকঠাক মানা হলে লোডশেডিং থাকবে না।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, এপ্রিলের দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছানোর পর এলএনজি খালাস শুরু করেছে। এর মধ্যে একটি এসেছে ৪ এপ্রিল, অপরটি ৫ এপ্রিল। ১০, ১১, ১৫, ১৮, ২১, ২৪ ও ২৭ এপ্রিল একটি করে বাকি সাতটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী মাসে সরবরাহ ঠিক রাখতে ১১টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে দুটি কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আরও তিনটি কার্গো কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ৮ এপ্রিল দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে।
পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ১০ ডলার। এপ্রিলে প্রতিটি কেনা হয়েছে গড়ে ২০ ডলারের বেশি দামে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮ দশমিক ২৮ ডলারে কেনা হয়েছে একটি কার্গো। এতে পেট্রোবাংলার লোকসান বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে গ্যাস খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা আছে। প্রথম ৯ মাসে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে পেট্রোবাংলা। আর শুধু এপ্রিলেই সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দাবি করছে তারা। তার মানে ইতিমধ্যেই ভর্তুকির চেয়ে তিন হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ হয়ে গেছে। আগামী দুই মাসে আরও ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগতে পারে। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এলএনজি আমদানি করতে ১৪০ কোটি ডলার চাহিদা ছিল পেট্রোবাংলার। এটি এখন বাড়ছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক গত শনিবার বলেন, দাম বেশি হলেও এলএনজি কেনার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা আছে। তাই বাড়তি দামে কিনে গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী মাসে সরবরাহ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এলএনজি কেনা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বলছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে (এপ্রিল-মে) লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে দিনে ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। গতকাল সরবরাহ করা হয়েছে প্রায় ৯১ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাস থেকে সক্ষমতা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসক্ষমতা আছে এখন ১২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। তার মানে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনসক্ষমতা অলস বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। এর জন্য এসব কেন্দ্রকে নিয়মিত ভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ) দিতে হচ্ছে সরকারের। গ্যাস সরবরাহের উৎস নিশ্চিত না করেই এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছিল গত আওয়ামী লীগ সরকার।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, কয়লার অভাবে দুটি কেন্দ্র থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কারিগরি কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে অর্ধেক সরবরাহ করা হচ্ছে। তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বেশি হারে উৎপাদন করা হলে ভর্তুকি বাড়তে থাকবে। এসব কেন্দ্রও বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের জন্য চাপ দিচ্ছে। তাই ঘাটতি পূরণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এতেই প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। এটি আরও বাড়তে পারে। এবার সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে। তাই লোডশেডিং সহনীয় রাখতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর দোকান, বিপণিবিতান বন্ধ হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমতে পারে।
ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম বলেন, জ্বালানি ছাড়া দেশ চলবে না। তাই স্বল্প মেয়াদে এলএনজি কেনার পাশাপাশি সাশ্রয় হতে পারে কার্যকর উপায়। তবে আমদানিনির্ভরতার মধ্যে থাকলে এ রকম ঝুঁকি বারবার আসতে পারে। তাই দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এখন সরকার সক্রিয় হতে পারে। নিজস্ব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোয় জোর দেওয়া দরকার।
মহিউদ্দিন
ঢাকা
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ টন ডিজেল এবং দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শনিবার (৪ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই তেল ও এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এক লাখ টন ডিজেল কিনতে ৬৮৯ কোটি টাকার বেশি এবং দুই কার্গো এলএনজি কিনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কাজাখস্তানভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ১ লাখ টন ৫০ পিপিএম সালফারমানের ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।
এদিকে বৈঠকে উপস্থাপন করা আরেকটি প্রস্তাবে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই এলএনজি আমদানিতে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য পড়বে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে দুই কার্গো এলএনজি আনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে সূত্রটি জানিয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিতি এক সদস্য জানান, সরকরি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ডিজেল কেনার একটি এবং এলএনজি কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ টন ডিজেল কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ধরা হয়েছে ৭৫ দশমিক শূন্য ৬ ডলার।
তিনি জানান, দুই কার্গো এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য ধরা হয়েছে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে ২ কার্গো এলএনজি কিনত ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। তবে এই মূল্য চূড়ান্ত নয়, ২ কার্গো এলএনজি’র মূল্য এর থেকে কিছু কম বা বেশি হতে পারে।