ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানকে ঘিরে দুই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর নানা বক্তব্যে প্রায়ই সরগরম হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। যদিও এগুলো নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেন না শাকিব খান। দুই সন্তানকে সময় দেওয়া এবং বাবার দায়িত্ব বেশ ভালোভাবেই পালন করতে দেখা যায় ‘তুফান’ নায়ককে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে সন্তান বীরকে নিয়ে ঘুরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সেখান থেকেই নিজেদের আনন্দের মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বুবলী। সেসব ছবি নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলে অপু-বুবলীর ভক্তদের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর বেশ প্রাণবন্ত শবনম বুবলী। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রাজধানীর এক হোটেলে নববধূর সাজে হাজির হন নায়িকা। সেখানেই নিজের গোপন বিয়ে আর সংসারের গল্প বলেন একেবারে সহজভাবে। আগে কখনো এতটা স্বাভাবিকভাবে শাকিব খান ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে বলতে দেখা যায়নি এই নায়িকাকে।

শবনম বুবলী। ফেসবুক থেকে
শবনম বুবলী। ফেসবুক থেকে
 

শ্বশুরবাড়ি আর শাশুড়ি প্রসঙ্গে বুবলী জানান, তিনি রান্না করতে ভালোবাসেন। নিজ বাড়ির মতো শ্বশুরবাড়িতেও শাশুড়ি তাঁকে বাচ্চার মতোই দেখেন। নায়িকা বলেন, ‘রান্নাঘরে গেলেই মা (শাশুড়ি) বলেন, থাক, যত দিন আমি আছি আমিই দেখি। তিনি আমাকে মেয়ের মতোই ভালোবাসেন।’ এদিক থেকে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন শবনম বুবলী।

বিয়ে প্রসঙ্গে বুবলী বলেছেন, যেহেতু তারকা, তাই তাঁদের বিয়েতেও গোপনীয়তা বজায় ছিল। হয়েছে ঘরোয়া আয়োজনে। তবে সবকিছুই মনের মতো হয়েছে। বিয়ের সাজও ছিমছাম ছিল। বুবলীর সাজ দেখে তাঁকে নাকি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন শাকিব খান। বিয়েতে শাকিব–বুবলীর পছন্দের খাবার মাছ-সবজি ছিল। পাশাপাশি পাতে উঠেছে বিয়েবাড়ির খাবারও।

নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ে ফ্যাসিবাদী শাসন, শোষণ শুধু দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারী কেড়ে নেয়নি বরং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতন শিক্ষা ব্যবস্থাকেও প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত করে দিয়েছিল। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। আমরা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব, ইনশাআল্লাহ।

রোববার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি মাঠে যেসব সাহসী মানুষ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে হবে। আর সেজন্য আমাদের একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষায়-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে না পারলে আগামী দিনে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, দেশের আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ, সারাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি। এইসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কম-বেশি ৪০ লাখের মতন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ইতোমধ্যে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন পর্যায়ক্রমিকভাবে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা সংকট এবং প্রতিবন্ধকতা নিরশন এবং শহর কিংবা গ্রামের যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী, তাদের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অবাধ প্রসার ও ব্যবহার বর্তমানে মানুষের জন্য নানামুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অটোমেশন এবং এআই চালিত প্রযুক্তির কারণে হয়ত অনেক পুরোনো পেশায় কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে কিংবা অবলুপ্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ নতুন নতুন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়ত সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় সার্টিফিকেশন সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমানে দক্ষতা ভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

তারেক রহমান বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন্সিক সায়েন্স প্রোগ্রামিং ডিজিটাল এন্টারপ্রেনরশিপ ডিজিটাল কমিউনিকেশন কগনিটিভ এম্পাওয়ারমেন্ট প্রেজেন্টেশন স্কিল লিডারশিপ এবং ফাইনান্সিয়াল লিটারেসির মতন সফট স্কিলের বিষয়গুলো ছাড়া শিক্ষা কারিকুলাম মনে হয় পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠতে পারে না। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, মেটেরিয়াল সায়েন্স ন্যানোটেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং কিংবা জেনারেশনস টেকনোলজি আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে উদাসীন থাকলে কর্মে সাফল্য অর্জন অসম্ভব হতে পারে। এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চস্তর পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে বাস্তব ভিত্তিক বহুমুখী কর্মমুখী এবং প্রযুক্তি নির্ভর করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, গবেষণা উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই সময়ে শিক্ষা কারিকুলামের পরিমার্জন এবং সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি উপলব্ধি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে শ্রম উপযোগী আধুনিক এবং বাস্তমুখী করার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আজকের এই অনুষ্ঠান তারই বাস্তব প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়; বরং বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভরশীল রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিমূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তি নির্ভর এবং কর্মমুখী করতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই চলমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি। তবে, আমাদের সামনে যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বসে আছে, তাদেরকে যখন পাই এ বিষয়টি আমি চেষ্টা করি উল্লেখ করতে যে, একজন মানবিক মানুষ হয়ে উঠার জন্য নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি নির্ভরতা দক্ষতা এবং মডেনাইজেশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা এবং মানবিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ— এই বিষয়গুলোর প্রতি আরও অধিক গুরুত্ব দিবেন; যত্নশীল থাকবেন।

তারেক রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অনেককে বেকার থাকতে হয় দুঃখজনকভাবে। এর কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করেন সর্বোচ্চ অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট অর্জন করলেও ব্যবহারিক, প্রায়োগিক কিংবা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ। সুতরাং পরিস্থিতি বিবেচনা করে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে এপ্রেন্টিসশিপ ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিয়া বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চায় বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থী অবস্থাতে কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে, শিক্ষাজীবন শেষে তাকে হয়ত বেকার থাকতে হবে না, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এছাড়া, সরকার ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করারও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া মালিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে, অনেক আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে একজন শিক্ষার্থী চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে বরং নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে এন্টারপ্রেনার হিসেবে আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

 

চট্টগ্রামের রাউজানের হলদিয়া রাবারবাগানে হরিণকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলিতে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। দুর্ঘটনাবশত গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম জমির উদ্দিন (৪৫)। তিনি তাঁর বন্ধু জামাল উদ্দিনের সঙ্গে ওই রাবারবাগান এলাকায় হরিণ শিকারে গিয়েছিলেন। জামাল তাঁর লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়লে জমির মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর জামাল উদ্দিন পালিয়ে গেছেন।

ফটিকছড়ি থানা পুলিশ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। নিহত জমির উদ্দিন ফটিকছড়ির খিরাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ খিরাম এলাকার বাসিন্দা তোফায়েল আহমদের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সর্তা বন বিটের আওতাধীন বনাঞ্চলে আজ বিকেলে জামাল উদ্দিন ও তাঁর বন্ধু জমির উদ্দিন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে হরিণ আসার খবর পেয়ে শিকার করতে যান। বনের ভেতরে হরিণকে লক্ষ্য করে জামাল উদ্দিন গুলি ছুড়লে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জমিরের গায়ে লাগে। গুলিবিদ্ধ জমির উদ্দিনকে তাঁরা দ্রুত খিরাম চৌমুহনী বাজারের এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জমির মারা যাওয়ায় লাশ ফেলে জামাল উদ্দিনসহ তাঁর সঙ্গীরা পালিয়ে যান।

গুলিতে নিহত জমির উদ্দিন
গুলিতে নিহত জমির উদ্দিন, ছবি: সংগৃহীত
 

সর্তা বন বিট কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সর্তা বিটের কিছু এলাকায় মাঝেমধ্যে হরিণ আসে। ঘটনাস্থলে থাকা মহসিন নামের এক গ্রামবাসীর কাছে তিনি শুনেছেন যে জামাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি হরিণকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে জমির মারা যান। নিহত জমিরও এলাকাবাসী বলে তিনি শুনেছেন।’

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, জামাল উদ্দিন ও জমির উদ্দিন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁরা একসঙ্গে হরিণ শিকার করতে গিয়েছিলেন। শিকারে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জামাল উদ্দিন তাঁর লাইসেন্স করা বন্দুক নিয়ে বনে গিয়েছিলেন।

জানতে চাইলে ওসি বলেন, হরিণকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলেও গুলি হরিণের লাগেনি। এ ঘটনায় শিকারি জামাল উদ্দিন পালিয়ে গেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে রাউজান থানার এলাকায়। তারাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়‌কে ১৭ কিলোমিটার এলাকায় যানজ‌টের সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে পৌলি পর্যন্ত এই যানজটের সৃষ্টি হ‌য়। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের খুব কষ্ট হচ্ছে।

পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার বিকেল থেকেই যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ রয়েছে। ফলে সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে ঝাঐল ওভারব্রিজ পার হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ওপরে ৭ নম্বর পিলারের কাছে ঢাকামুখী লেনে বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে একজন নিহত হন। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে সেতু কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনাকবলিত বাস রেকার দিয়ে সরিয়ে নিলেও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আরও যানজট ও ধীরগতির সৃষ্টি হয়। এ যানজট ছড়িয়ে পড়ে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় টাঙ্গাইলে। এতে করে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের পৌলি পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুর থেকে নাটোরগামী এক বাসের চালক রুপচান শেখ বলেন, টাঙ্গাইল থেকে যানজট। মহাসড়কের এলেঙ্গাতে এসে আটকে আছি। গরমে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ বলেন, শনিবার প্রায় সব গার্মেন্টসই খোলা হবে। এর ফলে গতকাল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।

এ ব্যাপারে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, যমুনা সেতুর ওপর প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি গাড়ি বিকল ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সেতুর ওপর গাড়ি আটকা থাকায় লোকজন নেমে যাচ্ছে। যার ফলে সেতুর দুই পাশেই যানজট রয়েছে। তবে আশা করা যাচ্ছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের চুরি ও পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে চাপে জনগণ বলে অভিযোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। 

শনিবার (৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত থেকে আগের সরকারের চুরি এবং পাচারের বোঝা বহন করতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকেও। পাশাপাশি, মূল্য বৃদ্ধির চাপ থেকে ৬৫ শতাংশ মানুষকে বের করে এনেছে সরকার বলেও দাবি করেন তিনি। 

তবে, দুর্নীতির চক্র থেকে বের হয়ে আসা সময় সাপেক্ষ বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পক্ষ থেকে বাড়ানো হলেও নিম্ন বা অল্প আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকারের আবেদনের কারণে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পাশাপাশি, একই কারণে অকটেন এবং পেট্রোলের দাম বাড়ানো হলেও দ্বিতীয় দফায় ডিজেলের দাম বাড়ায়নি সরকার বলে জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া, কিছু অলিগার্ককে সুবিধা দিতে বিদ্যুৎ খাতকে আমদানি নির্ভর করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তথ্য উপদেষ্টা। 

 

'আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, একজন খণ্ডিত লাশের বাবা। কিন্তু আমি তো এভাবে পরিচিত হতে চাইনি। আমি গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছিলাম।' কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার আট বছর বয়সী শিশুর বাবা।

আজ শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে 'বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির উদ্যোগে গঠিত 'নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল' এ বৈঠকের আয়োজন করে।

পল্লবীর শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমি জানতে চাই—এই দায়িত্ব কে নেবে? এই দায়িত্ব কি আমার অবহেলা, সমাজের অবহেলা, না রাষ্ট্রের অবহেলা? আমি আজকে খণ্ডবিখণ্ড আমার খুকুর সোনার টুকরা সন্তান—তার দায়িত্ব কে নেবে? আমি কি তার জন্য দায়ী? না কে দায়ী?’

বৈঠকে হাত জোড় করে সবার কাছে আবেদন জানান পল্লবীর শিশুটির বাবা। তিনি বলেন, ‘আমি তো একজন ধর্ষিতার বাবা হয়ে থাকতে চাই না। আমি তো গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছি। আপনারা আমাকে সেই নাম ফিরিয়ে দেন। আমাকে সেই সম্মান ফিরিয়ে দেন।’

এই বাবা আরও বলেন, ‘যদি তা না পারেন, তাহলে আপনারা কী দিতে পারবেন? এমন একটা অন্তত সমাজব্যবস্থা দেন, যেই ব্যবস্থায় আর কোনো দিন বাবা-মায়ের বুক খালি হবে না। আর কোনো বাবা-মায়ের সারা জীবনের জন্য কান্নার পথ খোলা থাকবে না। সারা জীবন তারা জিন্দা লাশ হয়ে থাকবে না।’

ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা আরও জানান, ঘটনার ১৩ দিন পরও তাঁর স্ত্রী মানসিক ট্রমায় ভুগছেন। তিনি বলেন, 'আমার স্ত্রী কোথায় যায়, কী বলে, নিজেই জানে না। তাকে প্রতিনিয়ত দেখভাল করতে হচ্ছে। সে সুস্থ হবে কি না, আল্লাহই ভালো জানেন।' পাশাপাশি বড় মেয়েকে নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শুধু নিজের মেয়েরাই নয়, সব শিশুকে নিয়েই উদ্বেগ জানান এই বাবা।  একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।  বলেন, গতকাল তাঁর বাড়িতে পাঁচ বছরের একটি মেয়ে এসেছিল। সে 'ধর্ষণ' শব্দটি শিখে গেছে, অথচ এই বয়সে তার তা জানার কথা নয়। সেই শিশুটি এখন একা টয়লেটেও যেতে পারছে না, মায়ের আঁচল ছাড়া এক পা নড়ছে না। , তিনি বলেন 'এটাই আজকে বাংলাদেশের শিশুদের মনের অবস্থা।'
মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এই বাবা।

গোলটেবিল বৈঠকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান, আইনজীবী রাশনা ইমাম প্রমুখ। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ধর্ষণের শিকার শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল ঘটনার পর বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর সেদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।

ঘোষণা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রথম আলোর নীতিমালা অনুসারে এই প্রতিবেদনে শিশুটি ও তার বাবার নাম, পরিচয় দেওয়া হলো না।

বিশ্বকাপে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিয়ে দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ফিফা। তবে সমর্থক গোষ্ঠী ও শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক এ সংস্থা।

গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফিফা নতুন এই নীতিমালার ঘোষণা দিয়েছে। পোস্টে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের যেকোনো ম্যাচে সব সমর্থক একটি করে নরম প্লাস্টিকের, ৫৯০ মিলি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন, ফ্যাক্টরি-সিলড ওয়ানটাইম পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে ঢোকার অনুমতি পাবেন।’

বিবৃতিতে যোগ করা হয়, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কারণে সমর্থকেরা শক্ত প্লাস্টিক বা ধাতব তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না।’

ফিফার মূল স্টেডিয়াম বিধিমালায় প্রথমে বলা হয়েছিল, ‘কোনো দ্বিধা ছাড়াই দর্শকেরা স্টেডিয়ামের ভেতরে সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার খালি, স্বচ্ছ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।’ কিন্তু গত মঙ্গলবার নথির একটি হালনাগাদ সংস্করণে বলা হয়, ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামের ভেতরে আনা যাবে না।’

সেই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খেলোয়াড়, রেফারি, দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় ফিফা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলোয়াড় ও দর্শকদের যেকোনো ধরনের ঝুঁকি ও চোট থেকে রক্ষা করতেই বোতল নিষিদ্ধ করার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার অনেক শহরেই তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এমন প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পানির বোতল নিষিদ্ধ করার এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি চারদিক থেকে চরমভাবে সমালোচিত হয়।
ইংলিশ সমর্থক গোষ্ঠী ‘দ্য ফ্রি লায়ন্স’ এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ‘স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের প্রথম প্রতিক্রিয়া হচ্ছে—এটি আসলে টাকা হাতানোর আরেকটি নতুন ফন্দি।’

আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোতে বিক্রি হওয়া পানি, সোডা ও জুস একচেটিয়াভাবে সরবরাহ করবে ফিফার দীর্ঘদিনের স্পনসর কোকা-কোলা।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, রয়টার্স
 

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে বলেন, ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ, আমরা যে প্রচণ্ড গরমের কথা বলছি, তা শুধু খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, দর্শকেরাও কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রচণ্ড গরমের মুখোমুখি হবেন।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ফিফার এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলেছিলেন। তিনি এটিকে ‘টাকা কামানোর একটি কৌশলও’ বলেছেন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা, দুই ছেলে ও মেয়েসহ একই পরিবারের চারজন এবং প্রাইভেটকারের চালক নিহত হয়েছেন। একটি প্রাইভেট কার দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম ফ্লাইওভার পার হওয়ার আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বেগম (৫০), মেয়ে আয়শা খাতুন (২৮), দুই ছেলে মো. আরিফ ইসলাম (২৫) ও রাকিবুল ইসলাম (১৮) । নিহত প্রাইভেটকারের চালক জাহিদ হোসেনের (৩২) বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে।

দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলামের দুই নাতি গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাঁদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, ঢাকা থেকে যশোরগামী একটি প্রাইভেটকার মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছে একই লেনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই নারী ও দুই পুরুষ নিহত হন। আহত হন এক শিশুসহ দুই আরোহী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।

শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কম দৃশ্যমানতা কিংবা দ্রুতগতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিতে পারেন।

রাতের আকাশ মানেই যেন চমক। আজ রোববার বাংলাদেশের আকাশে এক বিরল পূর্ণিমা বা ব্লু মুন প্রত্যক্ষ করতে পারবেন আকাশপ্রেমীরা। ১ মে পূর্ণিমা ছিল। আর তাই একই মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় পূর্ণিমা হওয়ায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় একে ব্লু মুন বলা হচ্ছে। এই বিরল ঘটনার কারণে এ বছর ১২টি পূর্ণিমার পরিবর্তে ১৩টি পূর্ণিমা দেখা যাবে।

ব্লু মুন বা নীল চাঁদ নামের সঙ্গে রঙের কোনো সম্পর্ক নেই, এটি মূলত একটি সময়ের হিসাব। চাঁদের নিজস্ব কক্ষপথের চক্র বা লুনার সাইকেলের সঙ্গে আমাদের প্রচলিত ক্যালেন্ডার বছরের দিন ও মাসের হিসাব পুরোপুরি না মেলার কারণেই এ ঘটনা ঘটে। সাধারণত পৃথিবীর নিজ অক্ষের ওপর একবার ঘূর্ণনের ওপর ভিত্তি করে একটি দিন এবং সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর একবার প্রদক্ষিণের ওপর ভিত্তি করে একটি বছর গণণা করা হয়। অন্যদিকে, পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের ঘূর্ণনের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি মাসের হিসাব। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে একটি পূর্ণিমা হয়ে থাকে।

ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন মাসের পূর্ণিমার ঐতিহ্যগত নামকরণ করা হয়। ফেব্রুয়ারির পূর্ণিমাকে বলা হয় স্নো মুন, জুনের পূর্ণিমাকে স্ট্রবেরি মুন এবং ডিসেম্বরের পূর্ণিমাকে কোল্ড মুন। তবে চাঁদের ১২টি পূর্ণাঙ্গ চক্র বা লুনার সাইকেল আমাদের সাধারণ ক্যালেন্ডার বছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম হয়। এ সময়ের পার্থক্যের কারণে কয়েক বছর পরপর ক্যালেন্ডারে একটি অতিরিক্ত পূর্ণিমা যুক্ত হয়ে যায়, যার ফলে একই মাসের মধ্যে দুবার পূর্ণিমার দেখা মেলে।

আজ রাতের আকাশে এই ব্লু মুন পূর্ব আকাশে উদিত হবে। তবে সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় এটিকে আকাশের কিছুটা নিচের দিকে বা দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, রাতের আকাশে চাঁদটি মূলত কনস্টেলেশন ভার্গোর ঠিক ডান পাশে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

অটোমোবাইল শিল্পের গত ১০০ বছরের ইতিহাসে এমন তোলপাড় আগে কখনো দেখেনি বিশ্ব। জার্মানি, জাপান ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য এখন চীনা জায়ান্ট ‘বিওয়াইডি’র দাপটে ম্লান হয়ে পড়েছে। ইলন মাস্কের টেসলার রাজত্ব কেড়ে নেওয়া বিওয়াইডি শুধু যে গাড়ি নির্মাণ করেই ক্ষান্ত দিচ্ছে, তা নয়। তারা চিপ আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতেও এক নতুন বিশ্বশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছে।

সাশ্রয়ী প্রযুক্তি আর তাৎক্ষণিক ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিওয়াইডি আজ বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। মজার বিষয় হলো, টেসলাকে পেছনে ফেললেও প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিচিত ব্র্যান্ড’ পরিচয় দেয়। চীনা এই প্রতিষ্ঠানের অকল্পনীয় উত্থান এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের নেপথ্য কাহিনি নিয়েই এই বিশেষ আয়োজন।

[caption id="attachment_275261" align="alignnone" width="971"] বেইজিং অটো শোতে বিওয়াইডির নতুন ‘ডেনজা জেড৯ জিটি’ মডেলের ভিডিও করছেন আগত এক দর্শনার্থী, ছবি: রয়টার্স[/caption]

সিংহাসন হারাল টেসলা

বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য হারিয়েছে ইলন মাস্কের টেসলা। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালের বার্ষিক বিক্রির হিসাবে এই প্রথম মার্কিন এই প্রতিদ্বন্দ্বীকে টপকে বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনের বিওয়াইডি। গত এক বছরে টেসলার বিক্রি ৯ শতাংশ কমে গেছে। গত বছরের শেষ তিন মাসে যা ১৬ শতাংশে পৌঁছে যায়।

বিপরীতে বিওয়াইডি এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত বছর তাদের ব্যাটারিচালিত গাড়ির বিক্রি গত বছরে ২৮ শতাংশ বেড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। মূলত এই উল্লম্ফনই বিশ্ববাজারে টেসলার দীর্ঘদিনের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ফেলে দিয়েছে।

টেসলার এই পতনের পেছনে মার্কিন সরকারের সাড়ে ৭ হাজার ডলারের ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং মাস্কের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পুরো লড়াইটি আসলে ‘সাশ্রয়ী মূল্য’ বনাম ‘আভিজাত্য’র মধ্যে। টেসলার একটি গাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য যেখানে প্রায় ৪৫ হাজার ডলার, বিওয়াইডির সেখানে মাত্র ২২ হাজার ৪০০ ডলার।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিওয়াইডির মাত্র ১০ হাজার ডলারের (প্রায় ১২ লাখ টাকা) ‘সিগাল’ মডেলটি এখন বৈশ্বিক গাড়িশিল্পে বড় এক আতঙ্কের নাম। টেসলা বা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বিওয়াইডির এই দামের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিওয়াইডি এখন শুধু চীনের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই। লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপেও তারা বাজার দখলে নেমেছে। যুক্তরাজ্যে গত এক বছরে তাদের বিক্রি ৮৮০ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের বাজারে বিওয়াইডির ‘সিল ইউ’ মডেলের এসইউভি গাড়িটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ধনকুবের ইলন মাস্ক টেসলার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ এবং ‘স্পেসএক্স’ নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী এখন টেসলার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের চোখে টেসলার ভবিষ্যৎ এখন বেশ ধূসর। মার্কিন আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েলস ফার্গোর বিশ্লেষক কলিন ল্যাঙ্গান টেসলাকে বলছেন ‘প্রবৃদ্ধিহীন এক কোম্পানি’। তাঁর মতে, বারবার দাম কমিয়েও টেসলা এখন আর বিক্রি বৃদ্ধি করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা বার্নস্টাইনের বিশ্লেষক টনি সাকোনাঘি মনে করেন, বিওয়াইডির মতো সস্তা চীনা ব্র্যান্ডের কাছে টেসলা ক্রমশ আকর্ষণ হারাচ্ছে। তাঁর মতে, টেসলা এখন স্রেফ একটি সাধারণ গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান। রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের তথ্য বলছে, গত চার বছরে এই প্রথম টেসলার বিক্রি কমেছে।

একটি বিষয় বলে রাখা ভালো, বিক্রি ও বাজার সম্প্রসারণে বিওয়াইডি এগিয়ে গেলেও প্রতি গাড়ি থেকে আয়ের দিক দিয়ে টেসলা এখনো শক্ত অবস্থানে আছে। নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার চাপে ইলন মাস্ক এখন রোবোট্যাক্সি ও হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তির ওপর বড় বাজি ধরছেন। তবে মাস্কের মনোযোগের অভাব আর বাজারের মন্দায় অনেক বিশ্লেষকের চোখে টেসলার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

চলতি বছরের শুরুতে আর্জেন্টিনার একটি বন্দরে বিওয়াইডির নিজস্ব কার্গো জাহাজ ‘বিওয়াইডি চাংঝু’ থেকে খালাস করা হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি। নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বাজার সম্প্রসারণ করছে চীনা এই প্রতিষ্ঠান
চলতি বছরের শুরুতে আর্জেন্টিনার একটি বন্দরে বিওয়াইডির নিজস্ব কার্গো জাহাজ ‘বিওয়াইডি চাংঝু’ থেকে খালাস করা হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি। নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বাজার সম্প্রসারণ করছে চীনা এই প্রতিষ্ঠানছবি: এএফপি

বিওয়াইডির মূল শক্তি কী

বিওয়াইডির অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে তাদের বিশেষ উৎপাদন কৌশল ‘ভার্টিক্যাল ইন্টিগ্রেশন’ বা স্বনির্ভরতা। ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জনপ্রিয় ‘সিল’ মডেলের যন্ত্রাংশের ৭৫ শতাংশই বিওয়াইডি নিজেদের কারখানায় তৈরি করে। অন্যদিকে টেসলার স্বনির্ভরতা ৬৮ শতাংশ।

বিওয়াইডি শুধু গাড়ির ব্যাটারি বা মোটর নয়, চিপসেট থেকে শুরু করে গাড়ির সিট পর্যন্ত সব নিজেরা বানায়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলছে, এই সক্ষমতার কারণেই করোনা মহামারির বিপর্যয়েও বিওয়াইডির উৎপাদন থমকে যায়নি। মূলত এই নিজস্ব ব্যবস্থাপনা বিওয়াইডিকে বিশ্বের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার এখন মূলত উন্নত সফটওয়্যার ও সেমিকন্ডাক্টরের লড়াই। বিওয়াইডির দাবি, এটি তাদের সবচেয়ে উন্নত স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং চিপ ‘জুয়ানজি এ-থ্রি’।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, এটি অন্য যেকোনো চিপের চেয়ে ২০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ করে গাড়ির মাইলেজ বৃদ্ধি করতে সক্ষম। আগে ইলেকট্রিক গাড়ির ড্যাশবোর্ড নিয়ন্ত্রণ, চালক সহায়তা প্রযুক্তি (এডিএএস) এবং ইঞ্জিন চালনা ব্যবস্থা আলাদা আলাদা পদ্ধতিতে চলত।

তবে জুয়ানজি এ-থ্রি চিপের মাধ্যমে ল্যাপটপ আকারের একটি কেন্দ্রীয় কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মে এই সবকিছুকে একটি মাত্র সমন্বিত সফটওয়্যারের অধীনে নিয়ে এসেছে বিওয়াইডি।

গাড়ির বাজারে আসার আগে বিওয়াইডি ছিল ব্যাটারি নির্মাণের দিকপাল। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতি পাঁচটি স্মার্টফোনের একটিতে বিওয়াইডির ব্যাটারি থাকে। অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও ব্যাটারির জন্য তাদের ওপর নির্ভর করে থাকে।

ব্যাটারি তৈরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিওয়াইডি ব্লেড ব্যাটারি নামের একটি প্রযুক্তি বাজারে এনেছে। লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (এলএফপি) সমৃদ্ধ এই ব্যাটারি এতটাই নিরাপদ যে এটি গাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করে।

এ ছাড়া অভিনব ‘ফ্ল্যাশ চার্জিং’ সিস্টেম এনেছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু গাড়ির মডেলে মাত্র ৫ মিনিট চার্জেই ব্যাটারির ৭০ শতাংশ পূর্ণ হয়। এই চার্জে অনায়াসে ৪০০ কিলোমিটার পথ চলা সম্ভব।

রপ্তানি বাজারে আধিপত্য বৃদ্ধি করতে এবং বিশ্বজুড়ে গাড়ি পৌঁছে দিতে বিওয়াইডি নিজস্ব কার্গো জাহাজ তৈরি করছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, ‘বিওয়াইডি এক্সপ্লোরার ১’ জাহাজটি এরই মধ্যে কয়েক হাজার গাড়ি নিয়ে ইউরোপের বন্দরে পৌঁছেছে। অর্থাৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে ক্রেতার হাতে গাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এখন বিওয়াইডির একক নিয়ন্ত্রণে। ফলে পরিবহন খরচ কমিয়ে টেসলার চেয়ে অনেক কম দামে উন্নত মানের গাড়ি বাজারে ছাড়তে পারছে এই চীনা প্রতিষ্ঠান।

গত বছর জার্মানির মিউনিখে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মোটর শোতে বিওয়াইডির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেলা লি
গত বছর জার্মানির মিউনিখে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মোটর শোতে বিওয়াইডির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেলা লিছবি: এএফপি

মাস্ক বনাম চুয়ানফু, দুই ভিন্ন দর্শনের লড়াই

টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক পছন্দ করেন জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন। তিনি সারাক্ষণ প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু বিওয়াইডির প্রতিষ্ঠাতা ওয়াং চুয়ানফু ঠিক তার উল্টো।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে তাঁকে সরাসরি ‘অ্যান্টি-ইলন মাস্ক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। চুয়ানফু মূলত একজন নিভৃতচারী প্রকৌশলী। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে নিজের কাজিনের কাছ থেকে মাত্র ৩ লাখ ডলার ঋণ নিয়ে ২০ জন কর্মী নিয়ে তিনি বিওয়াইডি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর মিতব্যয়িতা নিয়ে অটোমোবাইল বিশ্বে একটি গল্প বেশ প্রচলিত।

একবার বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ একটি সভার আগে নিজের কাছে ভালো শার্ট ছিল না বলে তিনি রাস্তার পাশের সাধারণ দোকান থেকে একটি সস্তা শার্ট কিনে পরে সভায় যোগ দিয়েছিলেন। চুয়ানফু মনে করেন, গ্ল্যামার নয় বরং প্রকৌশলগত উৎকর্ষই তাঁর প্রতিষ্ঠানের আসল শক্তি।

ফরচুন সাময়িকীর এক প্রতিবেদন বলছে, চুয়ানফু আজও শেনজেনে তাঁর কারখানার সাধারণ ক্যানটিনে কর্মীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার খান এবং আজও ল্যাবরেটরিতে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।

ইলন মাস্ক বর্তমানে নানারকম রাজনৈতিক বিতর্ক আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অন্যদিকে চুয়ানফু এখন যাতায়াতব্যবস্থার নতুন ভবিষ্যতের খোঁজ করছেন।

মজার বিষয় হলো, ২০১১ সালে ব্লুমবার্গের এক সাক্ষাৎকারে বিওয়াইডির গাড়ির কথা শুনে মাস্ক তাচ্ছিল্যের হাসি হেসেছিলেন। কিন্তু আজ সেই মাস্কের বাজার কেড়ে নিয়েছেন এই মিতব্যয়ী প্রকৌশলী।

লন্ডন থেকে নয়াদিল্লি, বিওয়াইডি পৌঁছাচ্ছে সবখানে

বিওয়াইডি এখন আর কেবল চীনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। পুরো বিশ্বজুড়ে তাদের জয়জয়কার। লন্ডনের আইকনিক লাল ডাবল-ডেকার বাস থেকে শুরু করে মেক্সিকো সিটি, হংকং, নয়াদিল্লি কিংবা লস অ্যাঞ্জেলেসের ট্যাক্সি সবখানেই এখন বিওয়াইডির শক্তিশালী উপস্থিতি। তাদের এই অগ্রযাত্রা রুখতে মরিয়া পশ্চিমা বিশ্ব।

তবে বিওয়াইডির এই জয়জয়কার রুখতে পশ্চিমা বিশ্ব এখন মরিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তবে শুল্কের এই বিশাল প্রাচীর বিওয়াইডিকে খুব একটা দমাতে পারছে না।

বিওয়াইডির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেলা লি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মার্কিন বাজার এখনই তাঁদের মূল লক্ষ্য নয়। এর চেয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতেই তাঁরা বেশি মনোযোগী।

 চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শেনঝেনে একটি চার্জিং স্টেশনে নিজেদের বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার অপেক্ষায় চালকেরা। ২০২৩ সালে তোলা এই ছবি চীনের শক্তিশালী চার্জিং অবকাঠামো ও ক্রমবর্ধমান ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদাকেই ফুটিয়ে তোলে
চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শেনঝেনে একটি চার্জিং স্টেশনে নিজেদের বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার অপেক্ষায় চালকেরা। ২০২৩ সালে তোলা এই ছবি চীনের শক্তিশালী চার্জিং অবকাঠামো ও ক্রমবর্ধমান ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদাকেই ফুটিয়ে তোলেছবি: এএফপি

তবে এই লড়াই কেবল শুল্ক বা বাণিজ্যের নয়। এর গভীরে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, আধুনিক ইলেকট্রিক গাড়িগুলো আসলে ‘চাকার ওপর একেকটি স্মার্টফোন’।

আধুনিক ইলেকট্রিক গাড়িতে ডজনখানেক ক্যামেরা, রাডার এবং সেন্সর থাকে। এগুলো সারাক্ষণ রাস্তার নিখুঁত মানচিত্র ও আশপাশের সবকিছুর ডেটা সংগ্রহ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ভয়, এসব গাড়ি যদি মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশ দিয়ে চলে, তবে সেই ভিডিও বা ম্যাপ সরাসরি চীনের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে পৌঁছে যেতে পারে।

এ ছাড়া গাড়ির ভেতরে থাকা মাইক্রোফোন ও ফেসিয়াল রিকগনিশন সেন্সর চালকের কথোপকথন ও পরিচয় রেকর্ড করে। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, বেইজিং এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি করতে পারে।

হোয়াইট হাউসের এক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব গাড়ি যেহেতু ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত, তাই বেইজিং চাইলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দূর থেকে হাজার হাজার গাড়ি অকেজো করে দিতে পারে। বিষয়টি কোনো দেশের যোগাযোগব্যবস্থাকে স্থবির করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

বাণিজ্য যুদ্ধেও পশ্চিমা বিশ্ব এখন বিওয়াইডির কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। বিওয়াইডি ব্যাটারি ও চিপ তৈরিতে স্বনির্ভর হওয়ায় ফোর্ড বা জেনারেল মোটরসের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠান খরচের লড়াইয়ে পেরে উঠছে না। এতে শত বছরের পুরোনো ব্র্যান্ডগুলো দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে কয়েক লাখ শ্রমিকের চাকরি।

চীন এখন শুধু গাড়ি বিক্রি করছে না; তারা বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিয়ে নিচ্ছে।

[caption id="attachment_275262" align="alignnone" width="972"] বেইজিংয়ে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত অটো শোতে বিওয়াইডির সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ি ‘সিগাল’ দেখছেন দর্শনার্থীরা। বৈশ্বিক বাজারে এই মডেলটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছেছবি: রয়টার্স[/caption]
 

২০২৭ সালে চালকহীন গাড়ি

বিওয়াইডির উদ্ভাবনী ক্ষমতা এখন কল্পবিজ্ঞানকেও হার মানাচ্ছে। সিএনএন ও ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিওয়াইডির প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘ইয়াংওয়াং ইউ-এইট’ মডেলের গাড়িটি জরুরি অবস্থায় পানির ওপর নৌকার মতো ভাসতে পারে এবং অনায়াসে পাড়ি দিতে পারে জলাশয়।

শুধু তা-ই নয়, এই গাড়িটি কোনো বাড়তি জায়গা না নিয়ে স্রেফ এক জায়গায় দাঁড়িয়েই ট্যাংকের মতো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে সক্ষম। এটিকে বলা হয় ‘ট্যাংক টার্ন’ প্রযুক্তি।

এমনকি জেমস বন্ডের সিনেমার মতো এই গাড়ির ছাদে রয়েছে ড্রোন স্টেশন। গাড়ি চলাকালে ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়ে গিয়ে সামনের রাস্তার জ্যাম বা পরিবেশের ভিডিও সরাসরি চালকের ড্যাশবোর্ডে পৌঁছে দেয়।

বিওয়াইডির ‘ইউ-নাইন’ মডেলের সুপারকার আরও একধাপ এগিয়ে। এটি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে লাফ দিতে পারে এবং এমনকি একটি চাকা না থাকলেও ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে পারে।

চীনের এই গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনের এই দৌড় সড়ক ছাড়িয়ে আকাশেও বিস্তৃত। রয়টার্স জানায়, হেলিকপ্টারের মতো সরাসরি উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম ‘ফ্লাইং ট্যাক্সি’ বা উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে কাজ করছে বিওয়াইডির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো।

তবে বিওয়াইডির আসল লক্ষ্য আরও অনেক দূরে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যেই পুরোপুরি চালকবিহীন গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়তে কারিগরিভাবে প্রস্তুত তারা। এখন কেবল চীন সরকারের আইনি অনুমোদনের অপেক্ষা।

বিওয়াইডির নতুন ‘জুয়ানজি’ স্মার্ট আর্কিটেকচার প্রতিটি গাড়িকে মূলত একেকটি শক্তিশালী রোবটে পরিণত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ সালের বৈশ্বিক পরিবহন বিপ্লবের মূল কারিগর হবে চীনের এই সাশ্রয়ী উচ্চপ্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আভিজাত্যের গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসতে পারা বিওয়াইডির সবচেয়ে বড় শক্তি।

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন, ব্লুমবার্গ

এস এম জারিফ

প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে আবারও একটি নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রাণ গেছে অন্তত ৩ জনের। মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা বলে দাবি মার্কিন সেনাবাহিনীর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্য এক্সে এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানিয়েছে, শুক্রবার বেআইনি তৎপরতার খবর পেয়ে একটি নৌযানকে তাড়া করে তারা। মাদক পাচারে জড়িত ছিল সেটি।

সাউথকম কমান্ডারের নেতৃত্বে যৌথ টাস্কফোর্স পরিচালনা করা হয় এই অভিযান। হামলার একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে মার্কিন বাহিনী।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। যার প্রধান টার্গেট ভেনেজুয়েলার নৌযান।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এর মাধ্যমে এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল-বোঝাবুঝি থাকবে না বলে মনে করছেন তিনি। আজ শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের একটি বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করার কথা জানান।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে “SameerScane” নামের একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার কিছু মন্তব্য নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, আমার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করছি।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রথমত, এগুলো সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত; এগুলো কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি মূলত বলতে চেয়েছেন যে সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার। তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা ছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজমের (চৌর্যবৃত্তি) মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। আমি এসব প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করি এবং বিশ্বাস করি যে এগুলোর কোনো স্থান একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা উচিত নয়।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, পডকাস্টের আলোচনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত আলোচনা ছিল না। যদি এটি একটি আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা নীতিগত আলোচনার পরিসর হতো, তাহলে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনাও অবশ্যই আরও কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট হতো।

তবে একটি বিষয়ে তিনি স্পষ্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতি গঠনে তার অবদানের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি চান, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার একটি স্বীকৃত কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করুক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরাও এই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও সমৃদ্ধ, আরও গবেষণানির্ভর এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে—এটাই আমার প্রত্যাশা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা এমন একটি একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সততা, মেধা, গবেষণার মান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সর্বোচ্চ মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে; যেখানে প্লেজারিজম বা অন্য কোনো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার কোনো স্থান থাকবে না। সেটিই হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রতি প্রকৃত সম্মান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব। তারপরও আমার আংশিক বক্তব্যটি যেহেতু কিছুটা ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে, অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আমার অনেক প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মর্মাহত হয়েছেন, সে জন্য আমার এই বক্তব্য আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং আশা করি এরপর এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল-বোঝাবুঝি থাকবে না।’