নরসিংদীতে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেফতার ৭ আসামির ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (১ মার্চ) সকালে নরসিংদীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) মো. মেহেদী হাসানের আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে গত শুক্র ও শনিবার দুইদিনে ৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর কাইয়ুম। এ ঘটনায় বাদী পক্ষে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালেও আসামি পক্ষের কোন আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি।

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে  নূরা এবং একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হযরত আলীকে গ্রেফতার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিশোরী আমিনাকে বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে ৯ আসামীর মধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাজধানীতে ইফতারে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার পিরোজপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাহ আলমকে আজ রোববার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন শাহ আলমকে চিনতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে পড়লে রমনা থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাঁকে সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. নবী হোসেন আজ রোববার ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় শাহ আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, শাহ আলম আওয়ামী শাসনামলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে কাজ করেছেন এবং তাঁর নামে একাধিক মামলা রয়েছে মর্মে স্থানীয় জনসাধারণ তাঁকে আটক করে এবং পুলিশে হস্তান্তর করেন। আসামি জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। আসামি কোনো আমলযোগ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত আছেন, মর্মে যুক্তিসংগতভাবে সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে ৫৪ ধারা গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আরও বলা হয়, আসামির বিষয়ে থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং বিদেশে গমনাগমনের বিষয়ে যাচাই–বাছাই চলছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।

আদালত শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করেন।

দেশের ৫ জেলার ডিসি (জেলা প্রশাসক) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে প্রত্যাহারপূর্বক পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হলো।

তারা হলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ।

তাদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে জানিয়ে জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

 

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ জন মানব পাচারকারীকে আটক করেছে। একই সময়ে পাচারের উদ্দেশ্যে বন্দি করে রাখা নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক নারী, পুরুষ ও শিশু সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাত ৩টার দিকে ‘অপারেশন সমুদ্র প্রহরা’য় নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘কামরুজ্জামান’ ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহজনক বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে বোটটি আটক করতে সক্ষম হন। তল্লাশি চালিয়ে বোট থেকে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ১৫ জন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপন, উচ্চ বেতনের চাকরি ও স্বল্প খরচে বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল।

কোস্ট গার্ড জানায়, মানবপাচার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো, আরও উন্নতির চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

এর আগে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে সচিবালয়ে আসেন।

ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের হাইকমিশনারকে সীমান্ত নিয়ে কথা বলেছি। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা যেন আর শুনতে না হয়, সেজন্য বিজিবি ও বিএসফকে সব সময় এ বিষয়ে বৈঠক করতে থাকে। যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলার জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভারত বলেছে, তারাও আন্তরিক এবং তাদের সব সংস্থাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিগত এক দেড় বছরে ভারতের কনসুলেট ও ভিসা অফিসগুলো আক্রমণের শিকার হয়েছে। যার জন্য তারা পুরোদমে সেই ভিসা কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে ধারাবাহিকভাবে চালু করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। নতুন একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকে এটি তারই অংশ। এছাড়া প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে আমাদের লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। এছাড়া সিকিউরিটি অ্যাস্পেক্ট নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার কথা বলতে এসেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ভারতের কাছে আমরা একটি সহযোগিতা চেয়েছি, অন দ্যা বেসিস অফ মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট অ্যান্ড ডিগনিটি অ্যান্ড মিউচুয়াল বেনিফিট। উভয় দেশ আমাদের সম্পর্ক বজায় রাখবো। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কূটনীতিক সব ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে। আমরা আশা করি ভারত সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্কটা বহাল রাখবে।

সদ্য বিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে হেফাজতে থাকা অবস্থায় মোট ১৩ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪ জন কয়েদি ও ৯ জন হাজতি। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ হাজতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ছিলেন। মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) দেওয়া ফেব্রুয়ারি মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার ফেব্রুয়ারি মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদন দেয় এমএসএফ। প্রতিষ্ঠানটি কয়েকটি সংবাদপত্র এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩ জন কয়েদি ও বগুড়া জেলা কারাগারে ১ জন কয়েদি মারা যান। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪ জন, এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে, কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে, ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার, গাইবান্ধা জেলা কারাগারে ও পটুয়াখালী জেলা কারাগারে ১ জন করে হাজতি বন্দী মারা যান। হাজতি মৃত্যুর ঘটনায় কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ও কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে ১ জন করে মোট ২ জন হাজতি কারা অভ্যন্তরে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যাকারী বন্দী ছাড়া সব বন্দীর মৃত্যু হয় কারাগারের বাইরের হাসপাতালে।

এমএসএফ বলেছে, কারা অভ্যন্তরে চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি, বন্দীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হেফাজতে মৃত্যুর কারণ যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন বড় কোনো সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও নির্বাচনের ও গণভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতা, প্রাণহানি, রাজনৈতিক ও পূর্বশত্রুতাজনিত হামলা, সংঘর্ষ, নারী নির্যাতন এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এমএসএফ বলেছে, নির্বাচনী সহিংসতার ১৩৬টি ঘটনায় সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৭৯৯ জন। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে শিশুসহ ৫ জন নিহত এবং ৭৯৪ জন আহত হয়েছেন।

সংগঠনটি বলেছে, সহিংসতার ১৩৬টি ঘটনার মধ্যে নির্বাচনের আগে সংঘটিত ৬৫টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৮৫ জন, নির্বাচনের দিন সহিংসতার ১৪টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯৮ জন ও নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার ৫৭টি ঘটনায় শিশুসহ ৫ জন নিহত ও ৩১১ জন আহত হয়েছেন।

গণপিটুনি

এমএসএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তত ৩১টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৮ জন নিহত ও ৩৩ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। গণপিটুনির শিকার ১৫ জনকে আহত অবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ জন ছিনতাইয়ের অভিযোগে, ৭ জন চুরির অভিযোগে, ৫ জন বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে, ১ জনকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে হত্যা করা হয়। অপর দিকে ১১ জন চুরির অভিযোগে, ৯ জন ছিনতাইয়ের অভিযোগে, ৪ জনকে টাকা লেনদেনের জেরে এবং কটূক্তি, প্রতারণা, এ ধরনের অপরাধের কারণে ৯ জনকে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

এমএসএফ মনে করে, আইন অবজ্ঞা করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা অবশ্যই ফৌজদারি অপরাধ, যা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে গণপিটুনির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।

অজ্ঞাতনামা লাশ

ফেব্রুয়ারি মাসে আগের মাসগুলোর ধারাবাহিকতায় অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে চলে। অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা জনজীবনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জোরালোভাবে সবার সামনে উঠে আসছে বলে মনে করে এমএসএফ। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় উদ্ধারে অপারগতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। গত মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১ জন শিশু, ১১ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ মিলিয়ে মোট ৫৪টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে। অল্পসংখ্যক ঘটনা ছাড়া সব কটি লাশের পরিচয় অজ্ঞাতই থেকে যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসে এ সংখ্যা ছিল ৫৭। এসব অজ্ঞাতনামা লাশের বেশির ভাগই নদী বা ডোবায় ভাসমান, মহাসড়ক বা সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেললাইনের পাশে, ফসলি জমিতে ও পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া যায়।

এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের পতন–সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৪০ জন নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাঁদের মধ্যে কোটা–সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

রোববার (১ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে তিনি প্রবাসীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য বাংলাদেশি যাত্রী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের যথাযথ দেখভাল এবং তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিমান প্রতিমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বর্তমানে বিমানবন্দরে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের সহায়তা প্রদান করছেন।

 

দেশের চার বিভাগে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে আজ রোববার (১ মার্চ)। একইসঙ্গে আগামী কয়েকদিন সামান্য ওঠানামা করতে পারে তাপমাত্রা।

এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আগামীকাল সোমবার (২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

পরদিন মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এছাড়া, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

 

‘সাহ্‌রির খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ করে একের পর এক গুলির শব্দে ভয়ে ঘুম ভেঙে যায়। দুই-তিন মিনিট ধরে চলে একটানা গুলি। তারপর থামে। এরপর আর ঘুম হয়নি।’

মাদ্রাসার ছাত্র দারাজ হোসেনের চোখে-মুখে ভয়। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরার যে ভবন লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে, তার পাশেই দারাজদের বাসা। স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের প্রতিবেশী এই ছাত্র গতকাল বিকেলে তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সে বলে, এ ঘটনার পর থেকেই সবার মধ্যে আতঙ্ক আর ভয় কাজ করছে।

ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবনের কাছে একটি আবাসিক মাদ্রাসাও রয়েছে। ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র মোহাম্মদ রাফি। অন্য সবার মতো সে–ও সাহ্‌রির খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। এলাকার অন্য বাসিন্দার মতো তারও ঘুম ভাঙে গুলির শব্দে। গতকাল বিকেলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রথম আলোকে সে বলে, হঠাৎ করে গুলির শব্দ শুনতে পায় তারা। একটানা ৮ থেকে ১০টি গুলির শব্দ শোনা যায়। মাত্র দুই-থেকে তিন মিনিটের মধ্যে এসব গুলি করা হয়। এরপর আবার সব নীরব। কিন্তু তাদের মনে ভয় ঢুকে গেছে।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলি করেছিল সন্ত্রাসীরা। গুলিতে বাসার জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছিল। বাসার দরজায়ও গুলি লাগে। এর পর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল। পুলিশের পাহারার মধ্যেই ভবনটিতে আবারও গুলির ঘটনায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মোস্তাফিজুর রহমানের এক ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১০ তলা ভবনের পেছনে চাক্তাই খালের ওপর চলছে সেতুর নির্মাণকাজ। নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষী মোহাম্মদ জসিম বলেন, সন্ত্রাসীরা সকালে প্রাইভেট কার নিয়ে এখানে এসেছিল। তবে গাড়ি দূরে রেখে হেঁটে খালের ওপর বিকল্প সেতু পার হয়ে ভবনটির পেছনে আসে। এসেই গুলি করতে থাকে। এরপর যে পথ দিয়ে এসেছে সে পথ দিয়ে চলে গেছে।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, চাঁদার জন্য বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ তাঁর লোকজন দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা চারজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর বাসার কাছে আসেন। তাঁরা পেছনের রাস্তা দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের বাসার পেছনে আসেন। সীমানাপ্রাচীরের বাইরে অবস্থান নিয়ে ভবন লক্ষ্য করে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়তে থাকেন। সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, চার সন্ত্রাসীর মধ্যে একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল ছিল। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন সাব মেশিনগান (এসএমজি), একজন চায়নিজ রাইফেল এবং অন্যজন শটগান থেকে গুলি ছোড়েন।

এ ঘটনার পর নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের একটি দল। পরিদর্শন শেষে হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদার জন্য বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ তাঁর লোকজন দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। অস্ত্রধারীরা মুখোশ পরে আসায় তাদের সহজে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তবে সাজ্জাদের সহযোগী সন্ত্রাসী মো. রায়হান ও বোরহান এ ঘটনায় জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

সন্ত্রাসীদের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর বাড়ির জানালা। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায়
সন্ত্রাসীদের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর বাড়ির জানালা। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায়ছবি- সৌরভ দাশ

গুলিতে বিচূর্ণ জানালা

চট্টগ্রাম নগরের সিরাজদ্দৌলা সড়ক থেকে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মিটার ভেতরে ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের পারিবারিক বাসা। ১০ তলা ভবনে বসবাস করেন তাঁদের সাত ভাইয়ের পরিবার। ১০ তলা ভবনের সামনের গলির দুই পাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভবন রয়েছে। তবে পেছনে কোনো ভবন নেই। ১০ তলা ভবনের পেছনে নির্মাণাধীন সড়ক ও চাক্তাই খাল।

শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের সামনে মূল সড়ক থেকে গলিতে প্রবেশমুখে পুলিশের প্রহরা। দুজন সদস্য ছিলেন দায়িত্বে। ভবনের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় দোতলা ও তৃতীয় তলার পেছনের অংশে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। গুলিতে দোতলা ও তৃতীয় তলার জানালা ভেঙে গেছে। জানালার ভাঙা কাচের টুকরা ঘরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

দোতলার একটি কক্ষে ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গানম্যানরা থাকেন। গুলিবর্ষণের সময় চার গানম্যানের সবাই কক্ষে ছিলেন। তৃতীয় তলায় মোস্তাফিজুর রহমানের এক ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা থাকেন।

ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি করার পর অস্ত্র হাতে দুই সন্ত্রাসী। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায়
ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি করার পর অস্ত্র হাতে দুই সন্ত্রাসী। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায়ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

এই ভবনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আশেক বলেন, সন্ত্রাসীরা ২-৩ মিনিটের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গুলি করেছে। চারটি গুলির খোসা ভেতরে ঢুকেছে। এগুলো পুলিশ নিয়ে গেছে। বাকিগুলো বাইরের নালায় পড়েছে।

১০ তলা ভবনের পেছনে চাক্তাই খালের ওপর চলছে সেতুর নির্মাণকাজ। নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষী মোহাম্মদ জসিম বলেন, সন্ত্রাসীরা সকালে প্রাইভেট কার নিয়ে এখানে এসেছিল। তবে গাড়ি দূরে রেখে হেঁটে খালের ওপর বিকল্প সেতু পার হয়ে ভবনটির পেছনে আসে। এসেই গুলি করতে থাকে। এরপর যে পথ দিয়ে এসেছে, সে পথ দিয়ে চলে গেছে। সন্ত্রাসীরা যখন এসেছিল, তখন এলাকার প্রায় সবাই ঘুমে ছিলেন। কিন্তু গুলির শব্দে মানুষের ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু ভয়ে-আতঙ্কে কেউ ঘর থেকে বের হননি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কুয়েত, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাস আলাদা আলাদ সতর্কবার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি চালু করেছে হটলাইন নম্বার-ও।

কাতারের দোহারে বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দেশটিতে অবস্থানরত সব প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং নিজ নিজ বাসা বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবাসীদের সবসময় সঙ্গে নগদ টাকা, কাতার আইডি, হেলথ কার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার এবং শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার পরামর্শ-ও দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।

কাতারের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে দূতাবাস বলেছে, কাতার সরকারের বিবৃতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও আপলোড করা কাতারের আইনের পরিপন্থী বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

প্রায় কাছাকাছি সর্তকর্তাবার্তা জারি করেছে আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাস। এর মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান এবং বড় কোনো জামায়াতে যোগ না দিতেও বলছে দূতাবাস।

জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগে হটলাইন চালু:

কাতার:

হটলাইন নম্বর: +৯৭৪৩৩৬৬২০০০

ইমেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

বাহরাইন:

হটলাইন নম্বর: +৯৭৩৩৩৩৭৫১৫৫

ইমেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

আরব আমিরাত:

হটলাইন নম্বর: +৯৭১২৪৪৬৫১০০ 

ইমেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

ইরাক:

হটলাইন নম্বর: +৯৬৪৭৮২৭৮৮৩৬৮০

ইমেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জোয়াহেরুল ইসলামের মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পালিয়ে ভারতে চলে যান জোয়াহেরুল ইসলাম। পারিবারিক সূত্র জানায়, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন জোয়াহেরুল। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার দমদম এলাকার ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টারে তাঁকে ভর্তি করা হয়। এক সপ্তাহের বেশি সময় তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ ছয় দিন তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাল্টি অর্গান ফেইলিওরের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

জোয়াহেরুলের মৃত্যুর সময় হাসপাতালে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে। স্ত্রী মেডিক্যাল ভিসায় কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে সম্প্রতি কলকাতায় যান মেয়ে জাকিয়া ইসলাম।

প্রবীণ আইনজীবী জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়ে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি ‘ভিপি জোয়াহের’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

জোয়াহেরুলের ভাই আতোয়ার রহমান উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমার ভাইয়ের মরদেহ আমাদের গ্রামে আনা হোক। সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, গণমাধ্যম যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো বাঁধা ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করবে সরকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা রয়েছে গণমাধ্যম যেন অভাবে না থাকে এবং গণমাধ্যম যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বিঘ্নে কোনো বাঁধা ছাড়া পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাংবাদিকদের মেধাবী শিক্ষার্থী সন্তানদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আমরা একটি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার করতে পেরেছি এবং এখানে গণমাধ্যম যেভাবে সহযোগিতা করেছে, এই অবদান ভুলবার মতো নয়। যদি গণমাধ্যম সঠিক তথ্য জনগণের মাঝে তুলে না ধরতেন তাহলে এই গণতন্ত্র আমরা নাও পেতে পারতাম। আমরা চাই গণমাধ্যম বিকশিত হউক। তবে এটা করতে গেলে অবশ্যই সাংবাদিক ভাই বোনদের যে সমস্যাগুলো আছে এটা সমাধান করা প্রয়োজন। সাংবাদিক ভাই বোনদের সমস্যা সমাধান ছাড়া গণমাধ্যম বিকশিত হবে না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পরিধি বাড়ানো হবে। প্রকৃত সাংবাদিকরা যেন তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে পারে। সরকার গণমাধ্যমের উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চায় না। তারেক রহমানের সরকার গণমাধ্যম বান্ধব সরকার। আমরা জণগণের সরকার। জনগণের ভোটের মাধ্যমে আমরা এই সরকারের দায়িত্ব পেয়েছি। আপনাদের অবদান আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবো। কারন আপনারা যে বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রচার করে গেছেন তা গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখবার জন্য অব্যাহত রাখবেন।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ময়মনসিংহ জেলা সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলাম, র‌্যাব-১৪ অধিনায়ক নয়মুল হাসান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, সদস্য ম. হামিদুল হক মানিক, সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহ সভাপতি এম আইয়ুব আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।