ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ৩৬ জনের তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি। সেই তালিকায় রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির নেতাদের স্ত্রী-কন্যা, ছাত্রদলের নেত্রী, পেশাজীবী এবং সামাজিক প্রতিনিধিরা।

সাবেক ১০ সংসদ সদস্য এবারও

ছবিতে বাঁ থেকে সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম (হীরা), রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী (মনি), সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তার
ছবিতে বাঁ থেকে সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম (হীরা), রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী (মনি), সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তার
 

তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে একাধিক সাবেক সংসদ সদস্য স্থান পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম (হীরা), রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী (মনি), সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তার।

সেলিমা রহমানসহ প্রত্যেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদে আছেন।

বিএনপির নেতাদের স্ত্রী ও কন্যারা

ছবিতে বাঁ থেকে শিরীন সুলতানা, শাকিলা ফারজানা, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানসিলা জেবরিন ও জহরত আদিব চৌধুরী
ছবিতে বাঁ থেকে শিরীন সুলতানা, শাকিলা ফারজানা, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানসিলা জেবরিন ও জহরত আদিব চৌধুরী
 

দলীয় নেতাদের স্ত্রী-কন্যাসহ পরিবারের সদস্যরাও মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী।

এ ছাড়া ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী (সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে), আইনজীবী শাকিলা ফারজানা (সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে), ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি)। তিনি প্রয়াত বিএনপির নেতা নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর বোন। বীথিকা বিনতে হোসাইন (শফিউল বারীর স্ত্রী), সানসিলা জেবরিন (তরুণ চিকিৎসক ও শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. হযরত আলীর মেয়ে)। আরও রয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরীর মেয়ে জহরত আদিব চৌধুরী। তিনি মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের সাবেক ডেপুটি সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা)। তাঁর বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজারে।

সংখ্যালঘু ও আদিবাসি প্রতিনিধি

বাঁ থেকে আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর, নিপুণ রায় চৌধুরী ও মাধবী মারমা
বাঁ থেকে আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর, নিপুণ রায় চৌধুরী ও মাধবী মারমা

তালিকায় ব্যতিক্রমধর্মী ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বও গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি আন্না মিনজ উল্লেখযোগ্য। তিনি উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। আন্না মিনজ ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম)। নাটোরের বাসিন্দা আন্না মিনজ সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর স্বামী জন গোমেজ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক।

সংরক্ষিত আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর ও মাধবী মারমাও মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে সুবর্ণা সিকদার গোপালগঞ্জ ও মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে। সুবর্ণা সিকদার মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি একজন শিক্ষক। সুবর্ণা সিকদার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নানা রকম তথ্য আসছে। এর মধ্যে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন বলে আলোচনা চলছে। তবে সুবর্ণা সিকদার বলেন, ‘আমি বিএনপির একজন সমর্থক। কোনো কমিটিতে নেই।’ তাঁর স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

এ ছাড়া মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা

সানজিদা ইসলাম (তুলি) ও সাবিরা সুলতানা (মুন্নী)
সানজিদা ইসলাম (তুলি) ও সাবিরা সুলতানা (মুন্নী)
 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন, এমন তিনজনকে বিএনপি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। তাঁরা হলেন সানজিদা ইসলাম (তুলি), সাবিরা সুলতানা (মুন্নী) ও সানসিলা জেবরিন (প্রিয়াঙ্কা)।

বাংলাদেশের গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি) ঢাকা-১৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। সাবিরা সুলতানা (যশোর–২) নির্বাচন করেন, আর সানসিলা জেবরিন (শেরপুর-১) আসনে।

ছাত্রদলের নেত্রীরা

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা কয়েকজন নেত্রীও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ও আইনজীবী আরিফা সুলতানা (রুমা), ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক মানসুরা আক্তার, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানজিদা ইয়াসমীন (তুলি), মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য নাদিয়া পাঠান (পাপন), ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আরা আক্তার (উর্মি), ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিনা সুলতানা (নিশিতা) উল্লেখযোগ্য।

বিগত সময়ে বিএনপির আন্দোলনে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই তরুণ নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাম

এ ছাড়া বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী শামীম আরা বেগম (স্বপ্না), বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের সহসভাপতি জীবা আমিনা খান, আইনজীবী ফাহিমা নাসরিন, মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ আলো, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি রেজেকা সুলতানা, জনপ্রিয় টক শো 'তৃতীয় মাত্রা'র উপস্থাপক ও পরিচালক জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ফাহমিদা হক রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীতদের তালিকায়।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর দলের ভেতরে–বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংগীতশিল্পী কনক চাঁপা, বেবী নাজনীন, আসমা আজিজসহ আলোচিতদের অনেকে মনোনয়ন পাননি। আবার অনেকের মতে, সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা, পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা/পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি, তরুণ নেতৃত্ব এবং সামাজিক বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা

দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতীক্ষার পর অবশেষে সিটি করপোরেশন হলো বগুড়া। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের সিটি কর্পোরেশনের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শহর।

সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকালে বগুড়ায় পৌঁছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এসময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেককে। দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসা নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহল এ ঘোষণাকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

বগুড়া উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ শহর উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। কৃষিপণ্য সরবরাহ, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বগুড়ার ওপর নির্ভরশীল আশপাশের একাধিক জেলা। সেই তুলনায় নগর সেবার পরিধি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত ছিল বলে অভিযোগ ছিল নাগরিকদের।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌর প্রতিষ্ঠান। পরে ধাপে ধাপে এর আয়তন বাড়ানো হয়। ২০০৬ সালে আশপাশের ৪৮টি মৌজা যুক্ত করে পৌর এলাকার আয়তন প্রায় ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করা হয়। এরপর থেকেই এটিকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের দাবি জোরালো হতে থাকে।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি করপোরেশন হওয়ায় এখন বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রিট লাইটিং ও ডিজিটাল নাগরিক সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাড়বে সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনাও।

তবে শুধু ঘোষণায় উন্নয়ন হবে না বলেও মত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, বগুড়ার যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা, বাস টার্মিনাল সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিটি করপোরেশন মর্যাদা পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ, আবাসন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়তে পারে।

বগুড়াবাসীর কাছে সোমবারের দিনটি তাই শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, একটি নতুন নগর ভবিষ্যতের সূচনা হিসেবেই ধরা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সিটি করপোরেশনের নতুন পরিচয়ে কত দ্রুত বদলে যায় উত্তরাঞ্চলের এই ব্যস্ত শহর।

এর আগে সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে বগুড়ার সার্কিট হাউজে পৌঁছান। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন এবং আদালতের ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। তালিকায় আছেন সেলিমা রহমান, নিপুন রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলিসহ মোট ৩৬ জন।  বিএনপির প্রেস উইং সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নামের তালিকা দেখুন নিচে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নামের তালিকা

গত ১৭ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু করে বিএনপি। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। মনোনয়ন পেতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত শতাধিক আবেদন জমা পড়ে।

আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে।

বগুড়াসহ ৭ জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ভিন্ন দল-মতের মানুষদের বিনাবিচারে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আইনের শাসনের অপব্যবহার করে মানুষদের নির্যাতন করা হতো। দেশে শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব আদালতে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু করা হবে। এই সিস্টেমে দ্রুত বিচারকাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়াও অহেতুক হয়রানি ও দুর্ভোগ থেকে বিচারপ্রার্থীরা রক্ষা পাবেন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি এমন বিচারব্যবস্থা চালু করবে, যা প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ—সবার জন্য সমান হবে। আইনের দৃষ্টিতে সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি

এর আগে, সকাল ১১টার পর বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম

বগুড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় সফরে গেলেন তিনি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বগুড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

এদিন, ভোর ৬টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে তিনি বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর ফলক উন্মোচন করবেন। এছাড়া জেলাজুড়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সফরসূচি থেকে জানা যায়, বেলা ১১টায় জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের ফলক উন্মোচন, বেলা সোয়া ১১টায় জজ আদালতের ই-বেইলবন্ড উদ্বোধন, বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া পৌরসভাকে নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন, দুপুর পৌনে ১২টায় বগুড়া শহর থেকে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে যাত্রা, বেলা পৌনে ১টায় বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হামের টিকা ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করবেন।

বিকেল ৪টায় শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন ও বায়তুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।

দিনভর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে যাত্রাবিরতি করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বগুড়া শহর তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে অভ্যন্তরীণ নৌপথে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা। তারা যাত্রীদের ভাড়া ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে আজ রোববার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে (বিআইডব্লিওটিএ) চিঠি পাঠিয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বদিউজ্জামান স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে লঞ্চ পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে প্লেট, এল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ফুয়েলিং রড, গ্যাস, রং ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে পরিচালন ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

খরচ বেড়েছে ১ লাখ ৫ হাজার

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে যাত্রাপথে অতিরিক্ত এক লাখ ৫ হাজার টাকার মতো খরচ বেড়েছে, বলছেন মালিকেরা। মালিকদের সংস্থাটির মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে ৬ থেকে ৭ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা করে বাড়তি ধরলে ব্যয় বেড়েছে এক লাখ ৫ হাজার টাকা। তাই যাত্রীদের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআইডব্লিওটিএ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

লঞ্চমালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, যাত্রীভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে বর্তমান ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ২৯ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে অনেক যাত্রী এখন সড়কপথে যাতায়াত পছন্দ করেন। এতে নৌপথে যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে। ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় লঞ্চমালিকেরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয় না করা হলে লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন লঞ্চমালিকেরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নৌপথে ভাড়া নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাদের অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সব নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে দৃশ্যমান রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

যাত্রী পরিবহন সংস্থার চিঠির বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মাত্রই জ্বালানির মূল্য বেড়েছে। এটা নিয়ে বসে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই ভাড়া বৃদ্ধি করা না–করা বিষয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না।

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বিডা, বেপজা ও বেজাসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সরকারি সংস্থাকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থাকে একীভূত করে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি নতুন দপ্তর গঠন করা হবে।

বিলুপ্ত হতে যাওয়া সংস্থাগুলো হলো— বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।

রোববার (১৯ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৬ সংস্থা বিলুপ্ত করে গঠন করা হচ্ছে বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা নামের নতুন দপ্তর; যেখানে থাকবে না কাগুজে নথির চল। চালু করা হবে ডি নথি।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব সংস্থা একীভূত করে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি নতুন দপ্তর গঠন করা হবে। নতুন এই কাঠামোয় বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব সেবা এক ছাতার নিচে আনা হবে এবং কাগজভিত্তিক ফাইলিংয়ের পরিবর্তে চালু করা হবে ডিজিটাল নথি (ডি-নথি) ব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক দপ্তরের সম্পৃক্ততার কারণে সময়ক্ষেপণ ও জটিলতা তৈরি হয় বলে মনে করছে সরকার।

নতুন কাঠামোতে প্রতিটি ধাপ ডিজিটালাইজড করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে না হয়। পাশাপাশি ফাইল প্রসেসিংয়ের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে।

এরই মধ্যে সংস্থাগুলো বিলুপ্তি, জনবল পুনর্বিন্যাস, নতুন অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন এবং আইনি কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। একাধিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য।

সব খসড়া ও চূড়ান্ত পরিকল্পনা আগামী ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

 

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন? দামই বাড়াতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন?

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য, চলতি সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিনের বক্তব্যের সময় সরকারি দল বিএনপির সদস্যরা আপত্তি জানান। সরকারি দলের এ আচরণের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটা তার বিবেকে আঘাত লেগেছে। তিনি এর নিন্দা জানান।

নিজের বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে কাদম্বিনী মরে নাই। আমাদের তেলের দাম শেষমেষ বৃদ্ধিই হইল। কিন্তু তার আগে আমরা দেখলাম কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লম্বা লাইন। মাঝরাত পর্যন্ত ড্রাইভাররা দাঁড়িয়ে আছেন, তারা তেল পাচ্ছেন না। কিন্তু সরকারের সে ব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই।

রুমিন ফারহানা বলেন, মন্ত্রীরা যখন সংসদে বক্তব্য দেন, তখন তারা অবলীলায় বলেন বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু যখন তেল নিতে যায়, তখন দেখা যায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন।

সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে মার্কেট বন্ধ করা, অফিসের কর্মঘণ্টা কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রশ্ন হচ্ছে, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইনই–বা কেন? দামই–বা বাড়াইতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন? এই প্রশ্নগুলো তো ওঠে!

স্পিকারের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, আপনার মাধ্যমে এই সংসদের কাছে আমি জানতে চাই, জ্বালানিমন্ত্রীরা যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে কোনো সংকট নেই। ওনারা যদি পরিষ্কার করে বলেন বাংলাদেশে বর্তমানে কত দিনের অকটেন ও ডিজেলের মজুত আছে, কত দিন চলতে পারবে, পাম্পগুলো কেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পায় না?’ রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে হাত নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়। রুমিনের বক্তব্যের পর সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন স্পিকার সংসদ সদস্যদের সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের জায়গা। যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, দেশের জনগণের সমর্থন, ভোট, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে এসেছেন। আমরা সব সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলব, কোনো সংসদ সদস্য যখন দাঁড়িয়ে কোনো কথা বলবেন, তা নিয়ন্ত্রণ অথবা তাকে এলাও করার একক এখতিয়ার হচ্ছে স্পিকারের।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আজ লক্ষ করলাম যে একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তিনি যখন কথা বলছিলেন, দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। আমি এটা আশা করি না।

চার–পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন, এমন সংসদ সদস্যদের কেউ কেউও এ কাজ করেছেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আমি এখানে তাদের নাম বলে আমি নিজে লজ্জা পেতে চাই না।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে নিন্দা জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এর আগে নোটিশের আলোচনায় গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দীন বলেন, এখন তার নির্বাচনী এলাকা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। সেখানে চিকিৎসাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সেচব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে। তিনি বলেন, সংসদের বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে নজরে এসেছে। অতীতেও এমন দুর্নীতি হয়েছে। এটা যেন বন্ধ হয়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা করেন।

ঢাকা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের সকল পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী ফারাহা এমদাদ। কেন্দ্রীয় কমিটিতে তার সম্মতি ছাড়াই পদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিনি এই ঘোষণা দেন।

শনিবার দুপুরে 'জাতীয় নারী শক্তি'র ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে ফারাহা এমদাদকে ‘সংগঠক’ পদে রাখা হয়। কিন্তু ফারাহার অভিযোগ, তাকে এই পদে অন্তর্ভুক্ত করার আগে কোনো ধরনের ‘সম্মতি’ নেওয়া হয়নি বা বিষয়টি ‘অবহিত’ করা হয়নি। অনুমতি ছাড়া কমিটিতে নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পদত্যাগপত্র শেয়ার করে ফারাহা এমদাদ লেখেন, এনসিপির সঙ্গে আমার পথচলা এখানেই শেষ। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালে যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, তার জন্য দুঃখিত। সবাই ভালো থাকবেন।

সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ফারাহা এমদাদ তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের আর কোনো সাংগঠনিক দায়িত্বে তিনি থাকছেন না। এই পদত্যাগের ফলে জাতীয় নাগরিক পার্টির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সমন্বয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ফারাহা এমদাদ জানান, তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই তাকে নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা অনৈতিক। তাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মাসুমুল বারী কাউছার বলেন, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অভিমান করে ফারাহা এমদাদ পদত্যাগ করেছেন। তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার নিজের।