বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের উপস্থিতি জোরালো করেছে। সম্প্রতি চালু হওয়া ফেসবুক পেজ ও ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো জনগণের সামনে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় উপস্থিতি

১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ পিএমও বাংলাদেশ। মাত্র কয়েক দিনেই অর্থাৎ আজ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পেজের অনুসারীর সংখ্যা ৫ লাখ ৬২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পেজটিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সৌজন্য সাক্ষাৎ, মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক ও গুরুত্বপূর্ণ সভার উচ্চমানের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে।

ফেসবুকের পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামেও পিএমও ডট বিডি ইউজারনেমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন তথ্য জানা যাচ্ছে। সেখানে বর্তমানে ১৯টি পোস্টের বিপরীতে সাত হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছেন। যদিও ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের সংযোগ তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।

জনসম্পৃক্ততা যেমন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। প্রতিটি পোস্টে গড়ে ১০ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন আসছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সভার ছোট ক্লিপ বা ভিডিওতে কয়েক লাখ ভিউ বা দর্শক দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কাজগুলো জনগণের কাছে আরও দৃশ্যমান ও সহজবোধ্য হয়ে উঠছে।

আগে যেমন ছিল

২০২৪ সালের আগস্টের আগে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কোনো আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজ ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কার্যক্রম আওয়ামী লীগের দলীয় ফেসবুক পেজ, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনসহ (সিআরআই) বিভিন্ন ফেসবুক থেকে প্রকাশ করা হতো।

দক্ষিণ এশীয় পটভূমি ও তুলনা

প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক উপস্থিতি অনেক বেশি। পিএমও ইন্ডিয়া পেজের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ এবং নরেন্দ্র মোদির নিজস্ব ফেসবুক পেজের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ। অন্যদিকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৭৩ হাজার। এই দেশগুলোও তাদের দাপ্তরিক পেজের মাধ্যমেই মূল হালনাগাদ প্রকাশ করে থাকে। শ্রীলঙ্কায় আবার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কোনো আলাদা অফিশিয়াল পেজ নেই। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকেই কার্যক্রম জানানো হয়, যার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার।

জাহিদ হোসাইন খান

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম ভোক্তাপর্যায়ে লিটারে প্রায় ১৬ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানিয়েছে, প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা ১০ পয়সা, যা আগে ৮৬ টাকা ছিল।

এই হিসাবে প্রতি লিটারে দাম কমেছে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে বিইআরসি জানিয়েছে।

এর আগে, ফার্নেস তেলের দাম বিপিসিই নির্ধারণ করত, তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সংস্থাটি ফার্নেস তেলের দাম ঘোষণা করল।

বিপিসির অধীন থাকা তেল বিপণন করা সরকারি চার কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল নতুন দামে ফার্নেস তেল বিক্রি করবে। এ তেলের প্রধান ক্রেতা সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

সবশেষ ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ২ আগস্ট। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির কাছে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করে বিপিসি। এরপর চারটি তেল বিপণন কোম্পানিও প্রস্তাব পাঠায় বিইআরসিতে। এক বছর পর গত ২৯ জানুয়ারি এ প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।

বিপিসি ও চার বিপণন কোম্পানি প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম ৮১ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিল। এটি পর্যালোচনা করে বিইআরসি গঠিত কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ৭৪ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। তবে এতে আপত্তি জানিয়েছিল ফার্নেস তেলের প্রধান ক্রেতা পিডিবি। শুনানিতে তারা বলেছিল, প্রতি লিটার ফার্নেসের দাম ৫০ টাকা ৮৩ পয়সা হতে পারে।

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত করবে না বিসিবি। আজ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। বিসিবির অন্য একটি সূত্র অবশ্য বলেছে, এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী নারী দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম এক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করলে জাহানারা তাদের কাছেও লিখিতভাবে একই অভিযোগ করেন।

জাহানারা আলম
জাহানারা আলম
 

তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, স্বাধীন তদন্ত কমিটি মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। কমিটি জাহানারার করা চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পর্যালোচনা করে দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পেলেও বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে অসদাচরণের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানায় বিসিবি। তাঁর কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার আওতায় অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে বলেও জানানো হয়েছিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

মঞ্জুরুল ইসলাম
মঞ্জুরুল ইসলাম
 

তদন্ত কমিটির করা সুপারিশের ভিত্তিতেই আজ ভার্চ্যুয়াল বোর্ড সভায় মঞ্জুরুলকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে (এসিসি) চাকরি করা মঞ্জুরুল অবশ্য গত বছরের ৩০ জুনের পর থেকেই বিসিবির কোনো দায়িত্বে নেই। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে মঞ্জুরুলের সঙ্গে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

জাহানারার অভিযোগ ছিল বিসিবির নারী উইংয়ের প্রয়াত ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধেও। কিন্তু বিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি তৌহিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি।

দেড় বছর আগে দেশের এক বিশেষ মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালের জন্য সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, নির্বাচনে নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে তাঁর সেই কর্তব্য পালন শেষ হয়েছে। এখন নিজের পুরোনো অঙ্গনে ফিরে গেলেন তিনি।

সরকারপ্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তরের চার দিন পর আজ রোববার ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে ইউনূস সেন্টারের কাজে ফেরেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পুরোনো সহকর্মীরা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৮ আগস্ট, ২০২৪ফাইল ছবি

নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার দর্শন প্রচার ও প্রসারে আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক ও রিসোর্স সেন্টার হিসেবে কাজ করছে ইউনূস সেন্টার।

ইউনূস সেন্টারের ফেসবুক পেজে অধ্যাপক ইউনূসের সেখানে পৌঁছানো ও ঊষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর খবর দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি ছবিও দেওয়া হয় সেই পোস্টে। এই পোস্ট অধ্যাপক ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ১৮ মাস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারে নেতৃত্ব দিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আগের জায়গায় ফিরেছেন। তিনি আজ সকালে মিরপুরের টেলিকম ভবনে ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাঁকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। পরে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি এবং ইউনূস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ইউনূস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পদকে ভূষিত হন। দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই পদক দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে যৌথভাবে পদকটি পায় গ্রামীণ ব্যাংক।

প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়া পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রোববার সকালে ঢাকার মিরপুরের টেলিকম ভবনে ইউনূস সেন্টারে যান, ছবি: ইউনূস সেন্টারের সৌজন্যে

বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ফ্রান্স থেকে এসে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন তিনি। সে সময় তিনি বলেছিলেন, তাঁর ইচ্ছা না থাকলেও অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের চাপে তাঁকে এই দায়িত্ব নিতে হয়েছে।

এরপর ওই বছরের ২৪ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বলেছিলেন, ‘আমরা কেউ দেশ শাসনের মানুষ নই। আমাদের নিজ নিজ পেশায় আমরা আনন্দ পাই। দেশের সংকটকালে ছাত্রদের আহ্বানে আমরা এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রোববার সকালে ঢাকার মিরপুরের টেলিকম ভবনে ইউনূস সেন্টারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, ছবি: ইউনূস সেন্টারের সৌজন্যে

দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করেন অধ্যাপক ইউনূস। সেই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিতে থাকে অন্তর্বর্তী সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বচনে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বের অবসান ঘটে।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠেছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। এখনো সেখানেই রয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, চলতি মাসের শেষ দিকে যমুনা ছেড়ে ঢাকার গুলশানে নিজের বাসভবনে ফিরবেন অধ্যাপক ইউনূস।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করা হবে। শোক প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে।

এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ–সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতি সে মতে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে। সেটা নির্ধারণ হয়েছে ১২ মার্চ।

ঢাকা

অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন ও একুশে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে অনুষ্ঠিত হবে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান আর বিকেলে উদ্বোধন হবে বইমেলা।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি মন্ত্রী  নিতাই রায় চৌধুরী এ তথ্য জানান।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। একই দিন সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন তিনি।

অনুষ্ঠান দুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে সরকার। এ সিদ্ধান্তকে প্রকাশকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বলেছেন, ‘আজ বাংলা ভাষা সম্পর্কে আমরা নিজেরা যদি একটু চিন্তা করতাম, তাহলে আজকের জেন-জি ইনকিলাব বলত না। তারা ইনকিলাব বললে আমার রক্তক্ষরণ হয়। এটার জন্যই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম? অথচ না গেলেও চলত। সমাজ পরিবর্তনের জন্য জীবন দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সমাজ যে উল্টো দিকে হাঁটে, এখন সেটা দেখছি।’

আজ শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পৌর শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় ইকবাল হাসান মাহমুদ এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” চলবে না। ইনকিলাব, ইনকিলাব মঞ্চ ও আজাদির মতো এখন নতুন নতুন শব্দ শুনছি। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ—এগুলোর বাংলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। যারা আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, এগুলো তাদের ভাষা। সুতরাং দেশকে ভালোবেসে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। এসব কথা বলায় অনেকেই আমাকে ভারতের দালাল ও “র”-এর এজেন্ট বানিয়ে ফেলবে। তারপরও আমি বলব; কারণ, এটা বলার জন্যই আমি জীবন দিতে গিয়েছিলাম, মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম।’

মাতৃভাষার ইতিহাসের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও তার ইতিহাস নিয়ে আমরা যত্নবান না। যে জাতি তার নিজের ইতিহাস জানে না, সে জাতি কোনো দিনও উন্নতি করতে পারে না। আমরা নিজের ভাষাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মাঝে ন্যাশনালিজম গ্রো করে না।’

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান প্রমুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন মার্চের ১২ তারিখ বা এর দুই—একদিন আগে বসবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি এ কথা জানান। 

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী মাসের ১২ মার্চ অথবা এর দুই  একদিন আগে। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে। এই অধিবেশনে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ের অধ্যাদেশসমূহ উপস্থাপন করা হবে এবং শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। 

উল্লেখ্য, এয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছে।

দিনাজপুর পৌরসভার টানা তিনবারের মেয়র থাকার পর নানা ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর ভাষ্য, ‘মাত্র দেড় কেজি চাল চুরিসহ নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিল। আজকে আমাকে মেয়র থেকে এমপি বানিয়েছেন। আমার অনেক দায়িত্ব। জেলার রাস্তাঘাট সংস্কারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কর্তব্যকাজ শুরু করব।’

আজ শনিবার দুপুরে দিনাজপুর শহরের ঘাষিপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহাঙ্গীর আলম।

লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটটি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। দিনাজপুরের উন্নয়নেও বাস্তবসম্মত ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে। তাঁর দাবি, শিক্ষা বোর্ড, মেডিক্যাল কলেজ, জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো বিএনপি সরকারের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জেলায় ভারী শিল্পকারখানার অভাব দূর করা, একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, মাদক প্রতিরোধ জোরদার, হাসকিং মিল আধুনিকায়ন এবং গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, টেন্ডার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি দমনের অঙ্গীকারও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, খালেকুজ্জামান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল মিলন, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আবু বক্বর সিদ্দিক, ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল ইসলাম প্রমুখ।

ময়মনসিংহ নগরের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে ছিনতাইকারী ‘কিশোর গ্যাং’–এর কবলে পড়েছিলেন। ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে একজন বেঁচে ফিরলেও গতকাল শুক্রবার রাতে অন্যজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনার পর নতুন করে ময়মনসিংহে ‘কিশোর গ্যাং’–এর অপতৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অপতৎপরতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি নাগরিক সমাজের।

মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম নুরুল্লাহ শাওন (২৬)। তিনি আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামে।

গত বুধবার বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁদের দুজনকে ঘিরে ধরে ‘যা আছে বের করতে বলে’ সাতজনের একটি কিশোর দল। নৌকাভাড়া ছাড়া কোনো টাকা নেই জানালে দুজনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নুরুল্লাহ প্রতিবাদ করলে বেদম মারতে শুরু করে। তখন দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন পিছু নেয় শাওনের এবং তিনজন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গতকাল রাতে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত নুরুল্লাহর মা সাহিদা বেগম কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোরদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তারা নগরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সবাই নগরের চর জেলখানা বিন পাড়া এলাকার বাসিন্দা। সাত কিশোরই বিন সম্প্রদায়ের। তাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

ছিনতাইকারী কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়ায় নিখোঁজের পর কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল রাত থেকেই অনেকে ফেসবুকে সমালোচনা শুরু করেন। লাশ উদ্ধারের পর গতকাল রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নগরের টাউন হল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অভিযুক্ত কিশোরদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দেন।

আনন্দ মোহন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল আহমেদ বলেন, শহরকে ছিনতাই ও মাদকমুক্ত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। হত্যায় জড়িত প্রত্যেককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

গত ৩ জানুয়ারি নগরের জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত নিলয় তালুকদারকে (১৫) ছুরিকাঘাত করে তারই সহপাঠীরা। ‘কিশোর গ্যাং’–এ যোগ না দেওয়ায় স্কুল বন্ধের দিন সহপাঠীরা বাসা থেকে স্কুলে ডেকে নিয়ে পিঠে, হাতে, কোমর ও পায়ে অন্তত সাতটি ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় ১০ জানুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন মিফতাহুল জান্নাতের বাবা। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। আসামিরা জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির ডে শিফটের শিক্ষার্থী। আর মিফতাহুল মর্নিং শিফটের শিক্ষার্থী ছিল।

মিফতাহুলের বাবা সাদেকুল ইসলাম তখন বলেছিলেন, ‘ঘটনার দিন বিকেলে আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার সহপাঠীরা। স্কুলের ভেতরে কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে। যারা ছুরিকাঘাত করে, তারা সবাই মাদকাসক্ত। আমার ছেলেকে তাদের দলে নিতে চেয়েছিল। সে যেতে রাজি না হওয়ায় ছুরিকাঘাত করা হয়। আমি এর বিচার চাই।’

স্থানীয় লোকজন জানান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে গ্যাং কালচারে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের সঙ্গেও জড়াচ্ছে। এক দল আরেক দলের সঙ্গে মারধর, ছিনতাই—এসব ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। কিন্তু এসব রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কিশোর দলটি নিজেদের এলাকায় সন্ধ্যার দিকে যারা ঘুরতে যায়, তাদের “ঠেক” দিত। তারা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে দলটিকে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা মুঠোফোনও ব্যবহার করে না। পরিবারগুলোও খুবই দরিদ্র। একজনকে ধরে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড হলে বিস্তারিত জানতে পারতাম। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সেই সুযোগ নেই। অন্যদের ধরতে পারলে হয়তো বিস্তারিত জানা যাবে, আসলে কী ঘটেছিল।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সুরতহালে নিহত শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাইনি। পানিতে পড়ে গেলে যেসব চিহ্ন থাকে, সেগুলো ছিল। আমাদের ধারণা, পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে। কিশোর দলটির প্ররোচনা রয়েছে। ছিনতাইয়ের জন্য তারা ধাওয়া না করলে এমন হতো না।’ কিশোর গ্যাং নিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা একজনের কমান্ডে চলে। যখনই এক দিকে যায়, দল বেঁধে যায়। কেউ কেউ মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। সবাই কারও শেল্টারে চলে, এমন নয়। বেশির ভাগ অপ্রাপ্তবয়স্ক। এদের খুব সফটলি হ্যান্ডল করতে হয়। আমরা এসব নিয়ে কাজ করছি।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগরের সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারী দলের দৌরাত্ম্য ও মাদক নিয়ে নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবজ্ঞা দায়ী। কঠোরভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি এ কথা বলেন।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমকে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। বিগত সরকারের সময় মোংলা বন্দর নিয়ে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি বাতিল হবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “চুক্তিগুলো আমরা স্টাডি করব। যদি দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং আমাদের জন্য সহায়ক হয়, তাহলে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে কার্যকর রাখা হবে।”

জাতীয় অর্থনীতিতে মোংলা বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সফল সামুদ্রিক বন্দরে পরিণত করা সম্ভব। বর্তমানে রেল ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলেও তা আরও আধুনিক ও গতিশীল করা প্রয়োজন। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কিছু অবকাঠামোগত সুবিধা বাস্তবায়ন করা গেলে মোংলা বন্দরকে সক্ষম ও সফল বন্দরে রূপান্তর করা সম্ভব।

আগামী ছয় মাসের মধ্যেই বন্দরের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানান তিনি।