কোরবানির ঈদের বর্জ্য এবং ময়লা সময়মতো অপসারণ না করে রাস্তায় ফেলে রাখার দায়ে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। 

শাস্তিপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) জোন-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জোন-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।

উল্লেখ্য, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিজেই পর্যবেক্ষণ করতে বের হন। সেসময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রীণরোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ও আগের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় পড়ে থাকায় তিনি তাৎক্ষনিক এই ব্যবস্থ্যা গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

ঢাকা

পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও পশু কোরবানি করছেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে কোরবানি দিতে দেখা যায়।

দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়া কয়েকজন বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই প্রধান লক্ষ্য।  গরিব-দুঃখীদের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে চান তারা। মূলত, ঈদুল আজহার প্রথমদিন সময় ও সুযোগের অভাবে যে-সব পশু কোরবানি করা যায়নি, আজ শুক্রবার সেসব কোরবানি করা হচ্ছে। অনেকেই সন্তানের আকিকার জন্য নির্ধারিত পশুটিও আজ কোরবানি করবেন। 

এদিকে, কোরবানির পর নিজ উদ্যোগেই বর্জ্য অপসারণ করছেন সবাই। ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জায়গার পাশাপাশি রাজধানীর অলিগলি-রাজপথ, বাড়ির গ্যারেজ কিংবা ফুটপাতেও পশু কোরবানি হয়েছে। 

 

ঈদের দিন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে পড়ে আছে চার চাকার লেগুনাটি। সামনের অংশ ভেঙে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কাচের টুকরা। আহতদের লেগুনার ভেতর থেকে বের করে আনছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় লোকজন জানান, পটিয়াগামী একটি লেগুনার সঙ্গে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী ঈগল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনাস্থলে থাকা কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পরিতোষ দাশ বলেন, দুর্ঘটনার পর বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। তবে দুই গাড়ির চালকই পালিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ঈদের দিন জাতীয় চিড়িয়াখানা অনেকটাই ফাঁকা। এরপরও যাঁরা চিড়িয়াখানায় এসেছেন, একবারের জন্য হলেও ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে ‘এল-০৭’ খাঁচার সামনে আসছেন। ফলে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যান্য খাঁচার সামনে দর্শনার্থী কম থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ভিড় লেগেই থাকছে।

খাঁচার সামনে এই মহিষের একটি পরিচয়ও ঝুলিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তাতে লেখা, ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’। সেখানে ইংরেজিতে ‘অ্যালবিনো বাফেলো’ও লেখা আছে।

বাবা, মা ও বোনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখছিলেন শিক্ষার্থী আজমিরা আক্তার। রূপনগর থেকে আসা আজমিরা বলেন, খবরে জেনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখার জন্যই তাঁরা এসেছেন। আজমিরা বলেন, ‘মোবাইলে যেমন দেখেছি, বাস্তবেও মহিষটি তেমন। ট্রাম্পের মতো লাগে তো।’

রাজধানীর মিরপুর ২ নম্বর এলাকা থেকে স্ত্রী, ছেলে ও ভাগনেকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষটি দেখছিলেন মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে তাঁরা চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন। তাঁরা আগে থেকেই জানেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করার পর মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করে করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বের করেছেন। তিনিও মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে অ্যালবিনো মহিষটির কিছুটা মিল আছে।

অ্যালবিনো মহিষটির খাঁচার সামনে একদল ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যকেও পাওয়া গেল। সেখানে ছিলেন ঢাকা অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু ব্রত মল্লিক। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষের খাঁচার সামনে দর্শনার্থী যেহেতু বেশি, তাঁদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গতকাল রাত ১১টার সময় আনা হয়েছে। আজ সকাল থেকে মহিষটির খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড়। এটা একটা নতুন প্রাণী, এ কারণে ভিড়।

যখন গাড়ি থেকে নামানো হয়, তখন দেখা যায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ গায়ে সম্ভবত আঁচড় লেগেছে উল্লেখ করে কিউরেটর বলেন, সেই আঁচড় খুব ছোট। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে।

অ্যালবিনো জাতের এ মহিষের চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। মহিষটি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় জিয়াউদ্দিন মৃধার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে লালন–পালন করা হচ্ছিল। জিয়া উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মহিষটির ‘অসাধারণ চুল’ দেখে তাঁর ভাই এর নাম রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামানুসারে।

চিড়িয়াখানায় যাওয়া দর্শনার্থীরা আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’–এর খাঁচার সামনে ঢুঁ মারছেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় চিড়িয়াখানা, মিরপুর, ঢাকা
চিড়িয়াখানায় যাওয়া দর্শনার্থীরা আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’–এর খাঁচার সামনে ঢুঁ মারছেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় চিড়িয়াখানা, মিরপুর, ঢাকা, ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
 

মে মাসজুড়ে ঢাকার কাছের মানুষ ট্রাম্পকে দেখতে দলে দলে ছুটে যান জিয়া উদ্দিনের খামারে। মহিষটি নিয়ে ১২ মে খবর প্রকাশ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর মাথায় ঢেউখেলানো গোলাপি রঙের চুলের মহিষটি নিয়ে দেশীয় সংবাদমাধ্যম ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা হয়। মহিষের ভিডিও প্রচার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম।

জিয়া উদ্দিন মহিষটি বিক্রি করেছিলেন কেরানীগঞ্জের জিনজিরার মনিরুজ্জামানের কাছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের খামার থেকে মহিষটি কেরানীগঞ্জে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন মনিরুজ্জামান। সে সময় খামারে লালগালিচা বিছিয়ে, রঙিন ধোঁয়া উড়িয়ে ও রাজকীয় সাজে মহিষটিকে বিদায় জানানো হয়।

ঈদের আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে মহিষটিকে মনিরুজ্জামানের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়।

মুষলধারে বৃষ্টি, কাদাপানি আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার মুসল্লি। রেওয়াজ অনুযায়ী, বন্দুকের ফাঁকা গুলির শব্দে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হয় জামাত।

এবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। নামাজে ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।

আজ ভোর থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। এর মধ্যেই দলে দলে মুসল্লি মাঠে আসতে থাকেন। কেউ ছাতা, কেউ পলিথিন, আবার কেউ জায়নামাজ মাথায় দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে অবস্থান নেন।

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা। কাদামাখা মাঠেও তাঁদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশপথে প্রত্যেক মুসল্লির দেহতল্লাশি করা হয়। নামাজ চলাকালে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে অনেকে পলিথিন বিছিয়ে, কেউ আবার কাদাপানিতেই সেজদা দিয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বৃষ্টিতে ভিজেই মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন।

ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় সাধারণত শোলাকিয়ায় মুসল্লির সংখ্যা কিছুটা কম হয়। কারণ, এ ঈদে পশু কোরবানির প্রস্তুতি ও ব্যস্ততা থাকে। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করে আসছেন এমন অনেক মুসল্লি এবারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা
বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা

করিমগঞ্জ উপজেলার সাঁতারপুর এলাকার রইছ উদ্দিন বলেন, তিনি টানা ৫৫ বছর শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করছেন। এবারের ঈদে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও নামাজ আদায় করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তবে ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় মুসল্লির সংখ্যা কম হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশপাশের এলাকার মানুষকে শোলাকিয়ায় নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করা গেলে মাঠ আরও বেশি মুসল্লিতে পূর্ণ হবে।

জামাতে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনেরা। পরে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ ময়দান।

ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল থেকেই মাঠে বিজিবি, র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ও বোমা ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পুরো মাঠ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধায় চালু করা হয় দুটি বিশেষ ট্রেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায় করেছেন। এ জন্য তিনি আগত মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান।

জনশ্রুতি আছে, ১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দ থেকেই পরবর্তী সময়ে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। তবে এ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। আরেকটি মতে, মোগল আমলে এ অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ‘শ লাখ’ বা এক কোটি টাকা। সেখান থেকেই কালের পরিক্রমায় ‘শোলাকিয়া’ নামের প্রচলন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বুধবার (২৭ মে) বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।   

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয় এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে কোরবানি করার এক মহিমান্বিত ও সর্বজনীন আহ্বান।

মহান আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, অবিচল আনুগত্য এবং সামাজিক সাম্যের অনুপম মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা আবারও আমাদের সামনে সমাগত বলে উল্লেখ করে তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হজরত ইবরাহিম (আ:) তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ:)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য, বিশ্বাস ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ হয়ে রয়েছে। এই মহান ঘটনা আমাদের আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়।’

কোরবানির হিস্যা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে অংশীদারিত্ব, বৈষম্য হ্রাস, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কোরবানির ঈদ গরিব মানুষের সারা বছরের আমিষ জোগানে সাহায্য করে। সার্বিক অর্থে দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করে। 

নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করা এবং কোরবানির বর্জ্য ফেলা, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। 

পবিত্র ঈদুল আজহার মহান শিক্ষাকে ধারণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভেদ নয়, সম্প্রীতি; হিংসা নয়, সৌহার্দ্য; স্বার্থপরতা নয়, উদারতা-এই চেতনা লালন করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাঁধে কাঁধ রেখে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন, দেশ ও জাতির ওপর তাঁর অশেষ রহমত বর্ষণ করুন। ঈদুল আজহা সমগ্র বিশ্বে বয়ে আনুক শান্তি, স্থিতি, সম্প্রীতি ও অশেষ কল্যাণ।’

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য বিক্রি হওয়া অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ আর কোরবানি হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ হস্তক্ষেপে এটিকে আবার খামারে নিয়ে লালন-পালন করা হবে বলে জানা গেছে।

আজ বুধবার কেরানীগঞ্জের জিনজিরার ইসলামপুর থেকে মহিষটি বিকেল সাড়ে ৫টার সময় কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে কেরানীগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সেখানে উপস্থিত হন। তিনি গরুটির মালিক মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে মহিষটি কোরবানি করা যাবে না। এটিকে আপাতত থানায় নিয়ে যেতে বলেছে।’

পরে মহিষটি সেখান থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ব্যাপারে মহিষটির মালিক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মহিষটি রোজার ঈদের ১০ দিন পরে কিনেছিলাম। তিন দিন আগে মহিষটিকে খামার থেকে বাড়িতে আনি। আজকে বিকেলে থানা থেকে লোক এসে বলেছে, এটা সরকারে নিয়ে যাবে গা। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। সরকার চেয়েছে, আমরা দিয়ে দিলাম।’

মহিষটি নেওয়ার পর কী দেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকার বলেছে, আমাদের যা দাম আছে, সে টাকা দিয়া দিবে, নইলে কুরবানীর জন্য গরু দিয়া দিবে।’

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুছ বলেন, মহিষটিকে মালিকের বাসা থেকে ফেরত আনা হয়েছে। এটি বিরল প্রজাতির প্রাণী বিধায় এটাকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় মনিরুজ্জামানের ছেলে মাহিরের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি জানান, মহিষটি নিয়ে থানায় আছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে থানায় পৌঁছে দিতে, তাঁরা সেটি করছেন।

সরকার মহিষটি দিয়ে কী করবে, জানতে পেরেছেন কি না, এমন প্রশ্নে মাহির বলেন, ‘সরকার কী করবে, এটি তাঁরা জানেন, আমাদের বলেছে থানায় পৌঁছে দিতে। আমরা থানা পর্যন্ত নিয়ে আসছি। বাকিটি তাদের (সরকারের) ব্যাপার।’

মহিষটিকে বাসায় নেওয়ার পর থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করতে থাকে বলে জানা যায়। আজ বেলা সাড়ে তিনটার সময় মনিরুজ্জামানের বাসায় গিয়ে দেখা যায় মহিষটি ঘরের ভেতরে বাঁধা। দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মহিষটিকে ঘরের ভেতরে রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন।

তবে মহিষটি থানায় নিয়ে যাওয়ার পরেও অনেক দর্শনার্থী দেখতে এসে ফিরে যেতে দেখা যায়। এমন একজন রিমা আক্তার। তিনি জানান, মোবাইলে মহিষটিকে দেখেছিলেন। আজ সরাসরি দেখার জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারেন মহিষটিকে একটু আগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অ্যালবিনো জাতের এ মহিষের চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে এর নাম রাখেন ট্রাম্প।

এরপর মহিষটি নিয়ে ১২ মে খবর প্রকাশ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর মহিষটি বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়। এরপর আন্তর্জাতিকভাবেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। এএফপি থেকে রয়টার্স প্রায় সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেই জায়গা পেয়েছে ভাইরাল এই মহিষ।

ঈদের এক দিন আগে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন পাঁচ শতাধিক যাত্রী। আজ বুধবার সকালে ভোলার মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক ‘সাঙ্গু’। প্রায় এক ঘণ্টা পর অবশেষে নিরাপদে ইলিশা ঘাটে পৌঁছায় নৌযানটি। জীবিত অবস্থায় তীরে ফিরেই অনেক যাত্রী মহান আল্লাহর দরবারে সিজদা দেন। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া ও ঝোড়োবৃষ্টি শুরু হয়। এতে উত্তাল হয়ে ওঠে মেঘনা নদী। এ সময় লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাট থেকে পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় সি-ট্রাক সাঙ্গু।

নৌযানটি ইলিশা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রবল ঝড় ও বড় বড় ঢেউয়ের কারণে পন্টুনে ভিড়তে পারেনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাঝনদীতে একটি ভার্জিং বয়ার সঙ্গে সি-ট্রাকটি নোঙর করা হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে থাকে নৌযানটি। এ সময় ঢেউয়ের পানিতে ভিজে যান যাত্রীরা। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। উৎকণ্ঠা নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন তাঁরা।

ঝড় কিছুটা কমে এলে সি-ট্রাকটি ইলিশা ঘাটে ভেড়ে। তীরে নেমেই অনেকে শুকরিয়া আদায় করেন। কেউ কেউ মাটিতে সিজদা দেন।

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝেরচরে ঝড়ে ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ বুধবার মাঝেরচর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তোলা
ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝেরচরে ঝড়ে ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ বুধবার মাঝেরচর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তোলা, ছবি: সংগৃহীত
 

ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, ‘সাঙ্গু সি-ট্রাকটি ইলিশা লঞ্চঘাটের কাছাকাছি এসে ঝড়ের কবলে পড়ে। যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আমরা ঘাট থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। সি-ট্রাকের মাস্টার ঘাটের সামনে ভার্জিং বয়ার সঙ্গে নোঙর করে নিরাপদ অবস্থানে ছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বয়ার সঙ্গে নোঙর করায় এবং ঝড়ের পরিস্থিতি দেখে যাত্রীরা আরও আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ফোন দেন। তবে ভার্জিং বয়াটি নিরাপদ ছিল। সব যাত্রী নিরাপদে তীরে ফিরেছেন।’

এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চরে অন্তত ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে জেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন বলেন, ঝড়ে ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। চাল-ডাল, বীজ ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল নষ্ট হয়েছে। ঘরের আসবাবও ভিজে গেছে। সামনে কোরবানির ঈদ, পরিবারগুলো এখন অসহায় অবস্থায় আছে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, সব ইউনিয়ন থেকে খবর আসছে। কোথাও ২০টি, কোথাও ৩০-৩৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আর মাত্র একদিন পরই মুসলিম উম্মার বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে দেশবাসী এবং বিশ্ববাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে এই শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি এই শুভক্ষণে দেশ এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।

ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমান ঈদুল আজহা উদ্ যাপনের জন্য প্রস্তুত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ-উৎসবই নয় বরং স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আল্লাহ যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন। একইসঙ্গে আমি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কোরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তাঁর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।

 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের কর্মজীবী মানুষেরা ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনাল থেকে স্বস্তিতে লঞ্চযোগে বাড়িতে ফিরছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত যাত্রীর চাপ কম থাকলেও বিকেলের দিকে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ আজ দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা নদীবন্দরের সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখে। পরে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার লঞ্চ চলাচল শুরু হয়।

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে ৫৬টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। একই সময়ে টার্মিনালে এসে পৌঁছেছে ৭৪টি লঞ্চ।

দুপুরে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, হুলারহাট, ভান্ডারিয়া, বরগুনা, ভোলা, ইলিশা, আমতলী, চাঁদপুর, হাতিয়া, লালমোহন ও মুলাদী রুটে যাত্রীদের চাপ তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে অন্যান্য রুটে যাত্রীসংখ্যা কম ছিল। বৃষ্টি উপেক্ষা করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ পরিবার-পরিজন ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে টার্মিনালে আসছেন। এরপর নিজ নিজ লঞ্চে উঠে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রার অপেক্ষা করছেন।

মুলাদীগামী এমভি অভিযান-৫ লঞ্চের যাত্রী সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সকালে পরিবার নিয়ে সদরঘাটে এসেছি। আগের বছরের তুলনায় এবার টার্মিনালে ভিড় কম মনে হচ্ছে। এতে কিছুটা স্বস্তিতে লঞ্চে উঠতে পেরেছি। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা কষ্ট হয়েছে। আশা করছি, নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারব।’

চরফ্যাশনগামী এমভি ফারহান-৮ লঞ্চের যাত্রী সুজন বেপারী বলেন, ‘ঈদের আগে সাধারণত সদরঘাটে অনেক বেশি ভিড় থাকে। কিন্তু এবার চাপ কম থাকায় ঝামেলা ছাড়াই টার্মিনালে প্রবেশ করতে পেরেছি। পরিবার নিয়ে এসেছি, তাই ভিড় কম থাকায় স্বস্তি লাগছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় কিছুটা শঙ্কাও কাজ করছে।’

হিজলাগামী এমভি রাজহংস লঞ্চের যাত্রী কুলসুম বেগম বলেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টি হলেও বাড়িতে যাওয়ার জন্য ছোট সন্তানদের নিয়ে চলে এসেছি। টার্মিনালের পরিবেশ ভালো আছে। আল্লাহ ভরসা করে লঞ্চে উঠেছি, যেন নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারি।’

অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সংস্থার সদস্য আবুল কালাম বলেন, ঈদের আর মাত্র এক দিন বাকি। পূর্বের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এবার যাত্রী কম মনে হচ্ছে। তবে আগামীকাল বুধবার চাপ বাড়তে পারে।

নৌ–পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা বলেন, লঞ্চযাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ–পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। যাত্রীসেবায় তাঁরা সার্বক্ষণিক তৎপর আছেন।

ঈদ উদ্‌যাপনে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে নৌপথে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। বৈরী আবহাওয়াতেও আজ মঙ্গলভার বিকেলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়
ঈদ উদ্‌যাপনে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে নৌপথে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। বৈরী আবহাওয়াতেও আজ মঙ্গলভার বিকেলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়
 

বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন বলেন, নদীপথে লঞ্চযাত্রীদের সেবায় বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীবন্দরের সতর্কতা সংকেত মেনে লঞ্চ চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করতে দেওয়া হবে না। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে আজ ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর। এ সময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় এমভি ময়ূরী-১০ লঞ্চকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশরাফুল রহমান। তিনি বলেন, যেসব লঞ্চ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈদুল আযহা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় বান্দরবানে পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক নির্দেশনা জারি করেছে প্রশাসন। জারিকৃত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যটন স্পট পরিদর্শন শেষে পর্যটকদের সন্ধ্যার পূর্বেই জেলা ও উপজেলা সদর বা শহর এলাকায় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (২৫ মে) বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনুমোদনবিহীন কোনো পর্যটন স্পট বা নির্ধারিত অনুমতি ব্যতীত কোনো রুটে পর্যটকরা যাতে ভ্রমণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে ট্যুর গাইড ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ‎পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় টুরিস্ট গাইড, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো সন্দেহজনক বিষয় নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। 

প্রশাসন জানায়, জারিকৃত নির্দেশনাসমূহ অবিলম্বে কার্যকর হবে।