মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। এই বিলের বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানিয়ে দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই বিলের ওপর কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে জানিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিরোধীদলীয় নেতা বিলের ওপর আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য দেন। কিন্তু ‘বিরোধী দলের নেতা কোনো আপত্তি করেননি’ উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আপত্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে ভোট দেননি এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীও কোনো জবাব দেননি।

এর আগে সংসদের বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে এ বিলের ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত)‌ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা বলেছিলেন, ‘অধ্যাদেশটি বর্তমান অবস্থায়, কোনো পরিবর্তন ছাড়া পাস হলে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামের মতো দলগুলো পাকিস্তানের হিসেবে বিদ্যমান থেকে যাবে, যা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। এই অধ্যাদেশের “বীর মুক্তিযোদ্ধা” এবং মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা পরিবর্তনের দাবি রাখে।’

কমিটির প্রতিবেদনে জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ২০০২ সালে খালেদা জিয়ার সরকার আমলে আইনে দলগুলোকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী বলা হয়নি। রাজনৈতিক দলকে সশস্ত্র বাহিনী চিহ্নিত করা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির সমর্থন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এই অধ্যাদেশে ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযোদ্ধা সহযোগী’, ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবার’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যের সংজ্ঞা’ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অধ্যাদেশে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং যেসব ব্যক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং যাঁরা স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, এমন বেসামরিক নাগরিকেরা (ওই সময়ে যাঁদের বয়স সরকার–নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সের মধ্যে ছিল) মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন। এর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, বিএলএফ ও অন্যান্য স্বীকৃত বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স ও আনসার সদস্যরাও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।’

জারি করা অধ্যাদেশে ‘মুক্তিযুদ্ধ’র সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় হানাদার ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।

‘আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তরের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল’

বিলটির ওপর আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা চেয়েছিলেন দেশটা মানবিক হবে এবং সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পরে তার পুরাটাই উল্টোটা হয়েছিল। জনগণের রায়কে সম্মান দেখাতে ব্যর্থ ও অস্বীকার করার কারণে যে যুদ্ধটি (মুক্তিযুদ্ধ) অনিবার্য হয়ে উঠেছিল, কিন্তু বেদনার সঙ্গে লক্ষ করা গেল, দেশের (স্বাধীনতার পর) শাসকেরা সেটা ভুলে গেলেন। একপর্যায়ে তাঁরা বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করলেন। ১৯৭৫ সালে এই সংসদে মাত্র সাত মিনিট আলোচনা করে দেশের সব কটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এমনকি আওয়ামী লীগ এতটাই বেপরোয়া ছিল যে ১৯৭০ ও ’৭৩ সালে আওয়ামী লীগ নামে নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে এবং এই সংসদ সে ধারাবাহিকতার অংশ।

জামুকা আইনের সংজ্ঞার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, এ জিনিসটা স্বাধীনতার পরে তখনকার সরকার আনেনি। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সরকার আনেনি। এ জিনিসটা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন ফ্যাসিস্টের বিকৃত প্রতীক শেখ হাসিনা। পরবর্তী পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকার ধারাবাহিকতা রেখেছে সামান্য পরিবর্তন করে। সেখানে তৎকালীন তিনটি সংগঠনের নাম নেওয়া হয়েছে—তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টি। পাকিস্তানি বাহিনী ও তার সহায়ক শক্তির সঙ্গে তিনটি রাজনৈতিক দলের নাম এসেছে। বর্তমান উপস্থাপনায় তৎকালীন সংগঠনের কথা বলা হয়েছে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তর সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। বাকি আমরা যারা আছি, তারা আংশিক সাক্ষী। আমরা চাই, বাংলাদেশ রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক জনগণের প্রতি দায়-দরদ নিয়ে, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

১৯৭৯ সালে জারি করা রাজনৈতিক দল অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম হয় উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সে সময় থাকা সব রাজনৈতিক দল তাদের অধিকার ফিরে পায়। আমরাও (জামায়াতে ইসলামী) সে সময় ফিরে পেয়েছি। সেই দায়-দরদ নিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছি।’

বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামীর দিনগুলোতেও আর জাতিতে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো, সম্মানের জাতি গঠন করতে পারি। সব দলের এটাই অঙ্গীকার। আমরা জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাচ্ছি না।’

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল সম্পর্কে এনসিপির কোনো আপত্তি নেই বলে সংসদের নজরে আনার জন্য সংসদকে অনুরোধ করেছেন। এরপর তিনি বিলটি ভোটে দেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বক্তব্য দিতে চাইলে স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের নেতা তো কোনো আপত্তি করেননি। তবু আপনি কিছু বলতে চান? তখন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, উত্থাপিত আকারে বিলটি তোলার জন্য অনুরোধ করছি।’ পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। এগুলো বাতিল করার বিরুদ্ধে ছিল বিরোধী দল।

আজ বৃহস্পতিবার বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।

এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ–সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে। এর ফলে বিচার বিভাগ আবার আগের অবস্থায় ফিরছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের আর কোনো আইন থাকছে না। তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে ২৫ জন বিচারকের নিয়োগসহ যেসব ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বৈধ বলে গণ্য হবে।

আর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও এর সংশোধনী অধ্যাদেশ) বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই অধ্যাদেশের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত হবে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলো বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরি আগে যে আইনে পরিচালিত হতো, আবার সে আইনের অধীনে ন্যস্ত ও পরিচালিত হবে।

সংসদে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতি সই করলে তা আইনে পরিণত হয়। এরপর সরকার গেজেট জারি করে।

আজ অধ্যাদেশ দুটি বাতিল করতে আনা বিল পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের এই উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। আবারও আগের মতো ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অধিকতর যাচাই–বাছাই করে পরে এ–সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে।

বিচার বিভাগে যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল

বিদ্যমান সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারক নিয়োগ দেবেন। কিন্তু ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য কাজ করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী।

সংবিধানে বিচারক হওয়ার অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা আছে। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে সুপ্রিম কোর্টে অন্তত ১০ বছর আইনজীবী হিসেবে বা অন্তত ১০ বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে না থাকলে অথবা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে তিনি বিচারক পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন না।

অতীতে কোনো সরকার বিচারক নিয়োগের আইন করেনি। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিচার বিভাগে রাজনীতিকীকরণের অভিযোগও ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ করে। তাতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে।

আজ জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ পাস হওয়ায় এই বিধান আর থাকছে না। আগের মতো সংবিধানে থাকা বিধান অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছিল, অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।

আজ সংসদে অধ্যাদেশগুলো রহিত করে বিল পাস হওয়ায় এসব বিধান আর কার্যকর থাকছে না।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিলে বিতর্ক

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আজ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল সংসদে বিবেচনার জন্য উত্থাপন করলে তাতে আপত্তি জানান বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান।

সংসদ অধিবেশনে কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান
সংসদ অধিবেশনে কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, ছবি: টিভি থেকে নেওয়া

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, এই বিলটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ, স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন। ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।

আগে মন্ত্রণালয়ের কথা না শুনলে বিচারকদের খাগড়াছড়ি বদলি করা হতো, সেটা আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।

উচ্চ আদালতের রায়ের কথা উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন অসাংবিধানিক বলা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অধ্যাদেশ জারি ও কার্যকর করা হয়েছিল। সেখানে বর্তমান আইনমন্ত্রীও ছিলেন।

এখন আইনমন্ত্রী কীভাবে এটা রহিত করার বিল আনেন—এমন প্রশ্ন রেখে নাজিবুর রহমান বলেন, রহিতকরণ বিলটি অসাংবিধানিক। এটা কোনোভাবেই পাস করা যাবে না। তিনি এটা জনমত যাচাইয়ের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

নাজিবুর রহমান আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপি সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দেয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এখন কেন রহিতকরণ বিল আনা হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে?

সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ছবি: বিটিভির ফেসবুক লাইভ থেকে
 

জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন অসাংবিধানিক কি না, সেটা বলতে পারে। কিন্তু সংসদকে কোনো আইন করার জন্য ‘ডিক্টেট’ করতে পারে না।

১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে আওয়ামী লীগের আমলে আদালতের রায়ে ফাঁসি হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর। তাঁর ছেলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্যের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিচারকেরা বিচারের নামে ট্রাইব্যুনালে বসে ওনার পূর্বপুরুষ, ওনার পিতাদেরকে ফাঁসি দিয়েছিলেন। সে সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী, গণতন্ত্রের অতন্দ্রপ্রহরী, বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ থেকে ১০ বছর জেল দিয়েছিলেন। সে সুপ্রিম কোর্ট এতটাই স্বাধীন যে সে সুপ্রিম কোর্টের জাজদের বিচার আমরা করি নাই।’

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বিশ্বের অন্যতম সেরা কোর্ট, যেখানে বিচারকদের চাকরি, বদলি, পদায়ন সব সাংবিধানিকভাবে সংরক্ষিত। কিন্তু সে স্বাধীনতার অপব্যবহার হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদের জন্ম দিয়েছে।

বিরোধী দলের নেতাদের সাজা দেওয়ার জন্য রাতে মোমবাতি জ্বালিয়েও বিচারকাজ করা হয়েছে—এমনটা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও একজনকেও সুপ্রিম কোর্ট ডিসিপ্লিনি প্রসিডিউরের আওতায় আনেনি। সুপ্রিম কোর্ট এতটাই স্বাধীন যে এখানে সরকারের হাত দেওয়ার সুযোগ নেই।

আইনমন্ত্রী বলেন, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ আইন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ করা প্রয়োজন। আরও যাচাই–বাছাই করে পরে এ আইন পাস করা হবে।

পরে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ বিল) পাস

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল পাস হওয়ার পর আইনমন্ত্রী ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ বিবেচনার জন্য তোলেন। এতে আপত্তি জানান বিরোধী দলের সদস্য এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

আগের বিলে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, এখানে মূল সংকট বিচারপতি নিয়োগপ্রক্রিয়ায়। ঘুড়ির নাটাই হাতে রেখে আকাশে ওড়ার যতই স্বাধীনতা দেওয়া হোক না কেন, টান দিলে ঘুড়ি হাতে চলে আসবে। এই অধ্যাদেশ জারির আগে বিচারক নিয়োগের বিধানে এ রকম একটা পরিস্থিতি ছিল।

বিদ্যমান সংবিধানের বিধান উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সেটা করতে হয়। তখনই শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদের মতো, ‘মানিক চোরার মতো’ ব্যক্তিরা ‘হাসিনার দ্বারা’ বিচারপতি নিয়োগ হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সেই ধরনের একটা পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনের দিনে চলুক, এটা তো আমরা কেউই চাই না।’

সংসদ অধিবেশনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন
সংসদ অধিবেশনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, ছবি: ভিডিও থেকে
 

আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানে বিচারক নিয়োগে আইন করার কথা বলা আছে। কিন্তু এত বছরে সেটা করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কথামতো বিচারপতি নিয়োগের বিধান ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সেখানে পরিবর্তন এনেছিল। একটা অধ্যাদেশ তারা করেছে। সেখানে অসাংবিধানিক কিছু নেই।

এটাকে অসাংবিধানিক ঘোষণার জন্য একটা রিট হয়েছিল উল্লেখ করে আখতার বলেন, তখন বর্তমান আইনমন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তাঁর দপ্তর তখন এই আইনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, এ আইনে কোনো অসাংবিধানিকতা (সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক) নেই।

অধ্যাদেশে বিচারক নিয়োগে ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের কথা আছে উল্লেখ করে আখতার বলেন, এখানে কিছু শর্তের কথা বলা হয়েছে, কিছু যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। যে যোগ্যতাগুলো অতীতে কখনোই পরিপালন করা হয়নি। সে কারণে শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদের মতো, মানিকের মতো বিচারক তৈরি হয়েছিল।

অধ্যাদেশটিকে সুন্দর আইন অভিহিত করে আখতার হোসেন বলেন, সে আইনটাকে কেন, কোন যুক্তিতে বাতিল করে দেওয়া হবে? তিনি বলেন, জুলাই সনদে বিচারক নিয়োগে আলাদা কাউন্সিল করার কথা বলা আছে। সেখানে বিএনপি এটা সংবিধানে যুক্ত না করে আলাদা আইন করার কথা বলেছিল। এখন কেন তারা সেটা মানে না?

আইনমন্ত্রীর জবাব

আখতার হোসেনের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, থিওরিটিক্যালি (তাত্ত্বিকভাবে) তিনি বিরোধী দলের সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে একমত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতে বিশেষ করে গত ১৭ বছরে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দিয়ে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। তাঁরা চান, এই নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হোক।

আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল তথা রাষ্ট্রের আইনজীবী হিসেবে ওই সময় ডিফেন্ড করেছিলেন। রাষ্ট্রের আইনজীবী সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে যখন তিনি কথা বলেন তখন তাঁর মক্কেল সরকারের কথা বলেন।

এখন তিনি এই সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য—উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সরকারের পাবলিক পলিসি হলো—বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, যোগ্যতার মানদণ্ড নিরূপণের জন্য আমরা নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

জুলাই সনদে বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, তাঁরা বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত আইন করার কথা বলেছেন। তাঁরা সংবিধান সংশোধনে যে বিশেষ কমিটি করতে চাইছেন সেখানে এ–সংক্রান্ত আলোচনার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

আখতার হোসেনের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি বিচারক নিয়োগের যে স্বচ্ছতার কথা বলছেন, আপনি যে মানদণ্ডের বিচারক চান, আপনি যে সুপ্রিম কোর্ট চান, আপনি যে বিচার বিভাগের মানদণ্ড চান, আপনি যে বিচারালয় চান, আমরাও সেই বিচারালয় চাই। আমরাও চাই না বাংলাদেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক।’

পরে কণ্ঠভোটে আখতার হোসেনের আপত্তি নাকচ হয়ে যায় এবং বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, একজন বিচারপতির নামের সঙ্গে একটা বিশেষণ যুক্ত করা হয়েছে। সেটা এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে অংশ নেওয়া ছাত্র জনতার বিরুদ্ধে হওয়া সব ধরনের মামলা প্রত্যাহার ও তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘দায়মুক্তি বিল’ পাস হয়েছে। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ ২০২৬’ বিলটি উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এই বিলটি পাসের ফলে চব্বিশের জুলাই আগস্টের অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা বাতিল হয়ে গেল। এর মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধারা এখন থেকে সব ধরনের আইনি হয়রানি ও বিচার বিভাগীয় জটিলতা থেকে পূর্ণ মুক্তি পেলেন।
পাস হওয়া নতুন এই আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে অভ্যুত্থান কেন্দ্রিক আগের সব অভিযোগ ও মামলা সরকারি আদেশের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া এই আইনের একটি বিশেষ ধারা অনুযায়ী এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। আইনের ভাষায় এটি চিরস্থায়ীভাবে ‘বারিত’ বা আইনত নিষিদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে।

বক্তব্যের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের রাজপথ কাঁপানো সেই বীরদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা এই সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। যারা নিজের জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচার হটিয়েছেন তাদের যেন কোনোভাবেই আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে হেনস্তা করা না হয় সেই লক্ষ্যেই এই রক্ষাকবচ তৈরি করা হয়েছে।

একই দিনে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে। এই বিলটি পাসের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি একটি স্থায়ী আইনি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলো।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা সত্তার পাশাপাশি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকেও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার দায়ে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ আইনি ক্ষমতা পাবে সরকার। এর ফলে ফ্যাসিবাদী শাসনের হোতা হিসেবে পরিচিত সংগঠনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আনুষ্ঠানিকভাবে রুদ্ধ হওয়ার পথ চূড়ান্ত হলো।

 

তিন মাসের মধ্যে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শিগগিরই আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, আপিলের পর বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

তবে, এদিন এই মামলার এমিকাস কিউরি শরীফ ভূইয়া বলেন, আপিল বিভাগই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে একটি স্পষ্ট নির্দেশনাও আসতে পারে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। যেখানে ৩ মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সাথে নিম্ন আদালতের বিচারকদের পদন্নোতি, শৃঙ্খলা, নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের হাতে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিল্লি সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করলেন খলিলুর রহমান।

আজ বুধবার দুপুরে দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত আলোচনাও করেন খলিলুর রহমান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দিল্লি সফরে গেছেন।

২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর সম্পর্কের সেই বরফ গলার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে ভারত সফরে গেলেন খলিলুর রহমান। এই ‘শুভেচ্ছা’ সফরে গতকালই দিল্লি পৌঁছান তিনি।

আজ দুপুরে হায়দরাবাদ হাউসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন নিজেদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে। তার আগে সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।

পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারতে যাওয়ার প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে খলিলুর রহমানও বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।

মরিশাসে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে ভারত গেলেন খলিলুর রহমান। তাঁরা আগামীকাল সকালে মরিশাসের উদ্দেশে দিল্লি ছাড়বেন। ১১ ও ১২ এপ্রিল মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তা এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ।

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদে এ–সংক্রান্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস হয়। পাস হওয়া বিলে অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না। তখন বলা ছিল, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ওই ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। তবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধনী এনে সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করা হয়। এটিকে আইনে রূপ দিতে আজ জাতীয় সংসদে বিল পাস হলো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এ সময় আপত্তি জানিয়ে বলেন, এ–সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক শিট তাঁরা ৩–৪ মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন। এটা পুরো পড়তে পারেননি। এটি অবশ্যই একটি স্পর্শকাতর আইন। আইনটি পাসের জন্য তাঁদের আরেকটু সময় দেওয়া হোক।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময় আপত্তি হলে গ্রাহ্য করতে পারতেন। বিলের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তির সুযোগ নেই।

জবাবে বিরোধীদলের নেতা বলেন, দুঃখজনকভাবে শিটটা তো পেয়েছেন এই মাত্র।

তখন স্পিকার বলেন, এ বিষয়টি হয়তো পরে দেখবেন, বিলের এই পর্যায়ে আপত্তির কোনো সুযোগ নেই।

পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলে যা আছে

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করিতে পারবে বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে।

বিলে বলা হয়েছে, উক্ত সত্তা কর্তৃক বা উহার পক্ষে বা সমর্থনে যেকোনো প্রেসবিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদান নিষিদ্ধ করিবে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা এবং ১৬টি পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।

যে ১৫টি বিল সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছিল, তার একটি সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যদেশ। তবে আজ এ–সংক্রান্ত যে বিল পাস হয়েছে, সেখানে কোনো সংশোধনী আনা হয়নি।

মাত্র চার বছর বয়স থেকেই গান গাওয়ার প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চর্চা তিনি করতে পারেননি। তাঁর বাবাও ছিলেন চায়ের দোকানি। স্বল্প আয়ের এ সংসারে কোনো রকমে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়েছেন তিনি।

রাত তখন ১১টা। ছোট্ট চায়ের দোকানে নিরাপত্তা প্রহরীর পোশাকে এক যুবক। তিনিই এই দোকানের মালিক। অর্ডার পেলে চা বানিয়ে গ্রাহকদের হাতে দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে সুরেলা গলায় গাইছেন গান। গানের রুচিও আছে তাঁর। রাহাত ফতেহ আলী খান, নুসরাত ফতেহ আলী খান, সুবীর নন্দী ও সঞ্জীব চৌধুরীর গান টানা গেয়ে যান তিনি।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের রেল ক্রসিং এলাকায় দেখা যায় এ দৃশ্য। গান গাওয়া যুবকের নাম মোহাম্মদ জোবায়ের (৩১। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী (অস্থায়ী) পদে কর্মরত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল ক্রসিং এলাকার মো. ইয়াসিনের ছেলে।

বৃদ্ধ বাবা, অসুস্থ মা, স্ত্রী ও এক বছর বয়সী এক শিশু নিয়ে জোবায়েরের সংসার। চায়ের দোকানের আয় ও স্বল্প বেতনের প্রহরীর চাকরিতে সংসারের সব সময়ই অনটন লেগে থাকে। এ কারণে হতাশও হন বারবার। সেই হতাশা ভুলতেই তিনি গান করেন।

গত শনিবার রাতে দোকানে গিয়ে কথা হয় জোবায়েরের সঙ্গে। চা বিক্রির এক ফাঁকে তিনি জানান, মাত্র চার বছর বয়স থেকেই গান গাওয়ার প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চর্চা তিনি করতে পারেননি। তাঁর বাবাও ছিলেন চায়ের দোকানি। স্বল্প আয়ের এ সংসারে কোনো রকমে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়েছেন তিনি। এরপর সংসারের দায়িত্ব আসে তাঁর কাছে। কোনো চাকরি না পেয়ে ২০১৬ সালেই নিজেই চায়ের দোকান দেন। সেই থেকে তিনি এভাবেই চলছেন।

এ চায়ের দোকানে কাজ করতে করতেই মোহাম্মদ জোবায়ের ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি নেন। চাকরির এক মাসের মাথায় তিনি বিয়ে করেন। তবে এর মধ্যেই তাঁর মায়ের প্যারালাইসিস ধরে পড়ে। এরপর পরিবারের খরচও বেড়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে দিনের বেলায় প্রহরীর দায়িত্ব পালন শেষে রাতে আবার চায়ের দোকানে বসেন।

জোবায়ের বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু চাকরির কারণে চায়ের দোকানটি আর আগের মতো চালানো সম্ভব হয় না। আগে দোকানে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গান গাইতেন। তাঁদের উৎসাহই তাঁর ভরসা ছিল।

নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে জোবায়ের বলেন, ‘বর্তমানে সংসারের চাপ আরও বেড়েছে। অসুস্থ মা, ছোট সন্তান—সব মিলিয়ে দিন পার করা কঠিন হয়ে উঠেছে। বাইরে থেকে তাঁকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরের সংগ্রামটা কেউ দেখে না। একদিন কাজ করতে না পারলে সেই দিনের আয়ের সুযোগও হারাতে হয়। তাই একসময় শখের বশে গান গাইলেও এখন কষ্ট ভুলতে গান গাই।’

অবশ্য সারা জীবনই গান চালিয়ে যেতে চান জোবায়ের। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরিটা স্থায়ী হলে সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। তখন গান নিয়ে আলাদা করে ভাববেন। একদিন ভরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি গান গাইবেন। এমন সুযোগ পেলে তিনি নিজেকে প্রমাণ করে দেবেন।

হাসান আবরার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৪টি অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি অধ্যাদেশকে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা মোট ১৬টি বিল উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ১৪টি বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এদিন সংসদ অধিবেশনের দুই দফায় (সকাল ও বিকাল) এই বিলগুলো উত্থাপন ও পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া বিভিন্ন আইনি সংস্কার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো সংসদীয় অনুমোদনের মাধ্যমে স্থায়ী রূপ পেল।

সকালের অধিবেশনে পাস হওয়া বিলগুলো হলো—‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’, ‘কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’, ‘সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’, ‘রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল’, ‘শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল’ এবং ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’।

বিকেলের অধিবেশনে পাস হওয়া বিলগুলো হলো—‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল, ২০২৬’, ‘নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬’, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’, ‘বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘বাণিজ্যিক আদালত বিল, ২০২৬’।

উত্থাপিত হওয়া বিলগুলো হলো—‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল’ উত্থাপন করা হলেও এটি অধিকতর সংশোধনীসহ পরবর্তী সময়ে পাসের জন্য রাখা হয়েছে।

 

রাজশাহী

জ্বালানি তেল কেনার জন্য একটি অ্যাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সমসাময়িক নানা ইস্যুতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

জ্বালানি খাত নিয়ে বৈশ্বিক চ‍্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন দেশে জ্বালানির মূল্য বাড়ালেও বাংলাদেশ সরকার এখনো বাড়ায়নি। তবে আগামী মাসে জ্বালানি মূল্য সমন্বয় করা হবে কি-না, সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
 
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা সংকট আছে। তবে এতটা সংকট নেই, যার কারণে লম্বা লাইন হচ্ছে। মূলত তেলের অবৈধ মজুত হচ্ছে এবং পাচারের চেষ্টা চলছে। এজন্য কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে।
 
তবে জ্বালানি তেল কেনার জন্য একটি অ্যাপ তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাপের মাধ্যমেই কিনতে হবে। এর ফলে কে কতটা তেল কিনবেন, কখন কতটা কিনলেন, সেই তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলেও শহরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অটোরিকশা চলতে পারে না জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিপদজনক এ যানবাহনটির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, অপরদিকে চালকরাও প্রশিক্ষিত নয়। অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে অটোরিকশার কারণে। বিপদজনক এ যানবাহনের বিকল্প নিয়ে ভাবছে সরকার।

স্বল্পোন্নত দেশের (স্বল্পোন্নত দেশ) তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ এখনো প্রস্তুত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এলডিসি থেকে উত্তরণে সরকারের পরিকল্পনা নেই।
 
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করার পরেই এ কার্যক্রম গতিশীল করা হবে।
 
হামের টিকা সংকট বর্তমান সরকারের নয় জানিয়ে তিনি বলেন, আগের সরকারের গাফিলতির কারণেই এ সংকট তৈরি হয়েছে। হামে শিশুরা মৃত্যুবরণ করছে। এটি দুঃখজনক। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে সরকার। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ এলাকায় টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ৩ মে থেকে সারা দেশেই টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। 

 

জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) সংশোধন আইন-২০২৬ বিল পাস হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে পাস হওয়া এই বিলে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এ সময় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যারা বলে সরকার গুমের বিচার চায় না তাদের উদ্দেশ্য বলি, আইনটা পড়ে দেখেন।

গুমের অপরাধ বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এখন থেকে গুমের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। 

এর আগে, সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ভোটার তালিকা সংশোধন বিল ২০২৬ পাস হয়।