ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে প্রায় দুই বছর ধরে লড়াইরত মেইতেই এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। ২০২৩ সালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরুর পরে এই প্রথম সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি দুই পক্ষকে নিয়ে একসঙ্গে বৈঠক করলেন, তাদের দুরবস্থার কথা শুনলেন।

কুকি-জো অধ্যুষিত পার্বত্য অঞ্চল এবং মেইতেইদের উপত্যকার মধ্যে মানসিক দূরত্ব দূর করতে গতকাল বৃহস্পতিবারের বৈঠকে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়, যাতে মুখ্যমন্ত্রী একই সঙ্গে দুই পক্ষের কথা শুনতে পারেন। এই প্রচেষ্টা আপাতত সফল হয়েছে বলে মনে করছে তাঁর দপ্তর।

ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে বৈঠক

মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ইম্ফল পশ্চিমের লাঙ্গোল অল্টারনেট হাউজিং কমপ্লেক্সে বসে উদ্বাস্তু মেইতেই পরিবারের সঙ্গে অনলাইনে কথা বলেন। একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি চুড়াচাঁদপুর এবং কাংপোকপিতে আশ্রিত কুকি-জো বাস্তুচ্যুত মানুষের সঙ্গেও যুক্ত হন।

বৈঠকের পরিবেশ ছিল আবেগপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী যখন মেইতেই ও কুকি-জো জনগণের ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনছিলেন, তখন অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। মনিপুর ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী মোরে সীমান্ত শহরে নিজের বাসস্থানে ফিরে যাওয়ার আকুতি শোনা যায় এক মেইতেই নারীর কণ্ঠে।

পাশাপাশি, শিক্ষার সহায়তা চাওয়া এক কুকি কিশোরী বলেন, সে অবিলম্বে তার পড়াশোনা শুরু করতে চায়, যা দুই বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে।

মুখ্যমন্ত্রী বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি আপনাদের চোখের জল বৃথা যেতে দেব না।’ তিনি গত দুই বছরের সহিংসতাকে একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে বর্ণনা করে আবার ‘মণিপুরি হওয়ার চেতনা’ সবার মধ্যে নতুন করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। সেই পদক্ষেপগুলো এই বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সরাসরি ৩৩ কোটি টাকা আর্থিক অনুদান উদ্বাস্তুদের দেওয়া হয়েছে বলে জানানোর পাশাপাশি, বলা হয় বিছানা ও তোশক কেনার জন্য মাথাপিছু ২ হাজার ৪২০ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, যাঁদের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে, সেই সব পরিবারকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। গৃহহীনদের জন্য আবাসন প্রকল্প ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে।

চিকিৎসার নিরাপত্তা

কুকি-জো সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজনে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে যেতে পারেন, বৈঠকে সেই লক্ষ্যে ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রায় ৮ হাজার কুকি-জো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে। তাদের সহায়তায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। বিশেষ করে যে ৬ হাজার শিক্ষার্থী অন্য রাজ্যে পড়াশোনা চালাতে পারছে না, তাদের জন্য একটি ‘বিশেষ পরিকল্পনা’র প্রস্তাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

কুকি-জো ও মেইতেই গোষ্ঠীর মধ্যে দুই বছরের টানা সংঘর্ষে প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, ঘরবাড়ি হারিয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। সংঘাত যে একেবারে মিটে গিয়েছে, তা এখনো বলা যাবে না।

ইতিমধ্যে কুকি ও নাগাদের উপগোষ্ঠীর মধ্যেও নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তবে সপ্তাহখানেক আগে নতুন মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিং দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুটা আশা সঞ্চারিত হয়েছে বলে মনিপুরের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশে নবগঠিত সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বেগবান করতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া ১০ জন উপদেষ্টার মধ্যে ৮ জনের দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে বিএনপির তিন সিনিয়র নেতাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই তিন নেতা এখন থেকে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতির সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় সাধনে সরাসরি ভূমিকা রাখবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, মন্ত্রী পদমর্যাদার অন্য দুই উপদেষ্টার মধ্যে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দক্ষ অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যেও দফতর বণ্টন করা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তরুণ ব্যক্তিত্ব মাহদী আমিনকে একসাথে চারটি বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

এছাড়া রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় চার জেলায় প্রাণ গেছে ৬ জনের। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জামালপুর, নোয়াখালী, দিনাজপুর এবং কিশোরগঞ্জে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

জামালপুরে পুলিশের চেকপোস্টে গাড়ি থামানোর সময় ট্রাকচাপায় মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলের। দুপুরে শেরপুর ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, চেকপোস্টে শেরপুরগামী একটি ট্রাককে দাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেয় পুলিশ। এসময় পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেল পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে ইশতিয়াকের। 

এ ছাড়াও, নোয়াখালীতে তেলবাহী লরি চাপায় প্রাণ গেছে একজনের। আহত হয়েছেন তিনজন। সকালে কবিরহাট-সোনাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, দোকানের মালামাল আনতে দুই ছেলেকে মোটরসাইকেলে করে কবিরহাট যেতে বলছিলেন শফিকুর রহমান। এসময় একটি তেলবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দিয়ে পাশের দোকানে ঢুকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রান হারান শফিকুর। আহত হয় তার দুই ছেলেসহ তিনজন। 

এদিকে, দিনাজপুরের বিরামপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুজন নিহত হয়েছেন। দুপুরে কলেজ বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ সদরে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

দায়িত্ব নিয়েই স্থানীর সরকার নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এই পরিপ্রেক্ষিতে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে ইসি। আগামী সপ্তাহে কমিশনের সভায় ঠিক হবে নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনাও।

‎জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ‎‎অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি তোলে জামায়াতসহ তাদের মিত্ররা। ‎পরে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখে আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন থেকে সরে আসে ড. ইউনূস সরকার।

গেল ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে নিরঙ্কুশ জয় লাভের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠন করে বিএনপি। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠন হয় নতুন মন্ত্রিসভা। ওইদিন বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর মধ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদায় ঘটে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের।

এদিকে সরকার গঠনের তিন দিনের মাথায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ইসি।

আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যেই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর প্রথম সভা হয় ২০২০ সালের দোসরা জুন। সে হিসেবে দক্ষিণ সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ১ জুন। আর ঢাকা উত্তর সিটির প্রথম সভা একই বছরের ৩ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ২ জুন। আর চট্টগ্রাম সিটির ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের বিষয়ে চিঠি পেয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রস্তুতিও এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমরা হয়তোবা আাগমী সপ্তাহের মধ্যে কমিশনে বৈঠক করে বিস্তারিত পরিকল্পনা নেবো।

তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং দক্ষদেরই এই নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেমন আমরা প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করতে পেরেছি, ভবিষ্যতেও আরও নিরপেক্ষতার প্রমাণ আমরা রাখবো।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকারের মেয়র, কাউন্সিল, চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের ফলে অন্তবর্তী সরকার ১২ সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৩৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে কোনো নিরাপত্তাশঙ্কা নেই।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ডিএমপির কমিশনার। দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিষয়ে এই প্রেস ব্রিফিং করা হয়।

আগামীকাল শনিবার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হবে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নগরবাসীকে নির্ধারিত রাস্তা অনুসরণ করে প্রবেশ ও বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।

ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নগরবাসীকে পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যেতে হবে। এর বাইরে অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে না। আর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রমনা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর বা চানখারপুল দিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই রুট সবাইকে অনুসরণ করতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ বিদেশি কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অমর একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান ঘিরে কোনো নিরাপত্তাশঙ্কা নেই। তবুও পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিসহ সাইবার মনিটরিংও থাকবে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কোনো ধরনের ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরকদ্রব্য না আনার অনুরোধ জানায় ডিএমপি।

শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে সাতটি রাস্তায় ‘ডাইভারশন’ থাকবে বলে জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, তাঁরা সাতটি জায়গায় ডাইভারশন দেবেন। এগুলো হলো শাহবাগ ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, চানখারপুল ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং ও বকশীবাজার ক্রসিং।

কয়েক স্তরে নিরাপত্তা

আজ দুপুরের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করে র‍্যাব। র‍্যাবের মহাপরিচালক কে এম শহিদুর রহমান বলেন, কয়েকটি স্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। পুরো শহীদ মিনার এলাকা ৬৪টি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় রাখা হবে।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, দাবি আদায়ের নামে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম বা তাদের জিম্মি করে কোনো ধরনের কার্যক্রম তাঁরা হতে দেবেন না। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা যাতে না আসে সে জন্য তাঁরা সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও দেশব্যাপী র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, শহীদ মিনার এলাকায় সব ধরণের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পুরো এলাকা ৬৪টি ক্যামেরার মাধ্যমে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।

এছাড়াও সারাদেশের সব জায়গায় শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান র‍্যাব মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, এখন থেকে বিভিন্ন দাবি আদায়ের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোন কার্যক্রম করতে দেয়া হবে না।

চলমান রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত পণ্য মজুত আছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে, ইতিবাচক দিক হচ্ছে— আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।

এ সময় সিলেট নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা আমি দীর্ঘ নির্বাচনি প্রচারণা ও ইশতেহারে উল্লেখ করেছি। যেসব বিষয় সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে বড় বড় ডিজিটাল স্কিম গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে বর্তমান বিশ্বে অন্যরা আমাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবে। আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।

সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।

এ সময় সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

 

রাজধানী ঢাকায় রমজানের বাজার মনিটরিংয়ে গিয়ে মবের শিকার হয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বার মণ্ডল। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

জানা যায়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাজারের দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি তদারকি করতে চকবাজার থানাধীন মৌলভীবাজার এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের দায়িত্বে ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বার মন্ডল। অভিযানকালে একাধিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায় একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ কারণে ওই প্রাতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বার মণ্ডল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ী সমিতির পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাকে হুমকি দেন।

অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায় যে, গত ১০ দিনের ব্যবধানে ছোলার দাম কেজি প্রতি ৫ (পাঁচ) টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোলার দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্রয়মূল্য বেশি বলে জানান সংস্লিষ্ট ব্যবসায়ী। কিন্তু, পণ্য ক্রয় সংক্রান্ত ক্যাশ মেমো দেখতে চাইলে তিনি জানান, তার কাছে মেমো নেই।

এই পরিপ্রেক্ষিতে মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্সকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হলে, মোহাম্মদ আলী ভূট্টো নিজেকে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পরিচয় দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বারকে আঙুল উঁচিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন। এক পর্যায়ে অন্যান্য দোকানদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ডেকে তিনি মব সৃষ্টির চেষ্টাও করেন।

এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বার জানান, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি জরিমানা পরিশোধ করবেন না জানিয়ে ব্যবসায়ীদের জড়ো করতে থাকেন এবং দোকানপাট বন্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি হইচই শুরু করেন এবং বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ীদের উত্তেজিত করে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। মন পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তিকে (মোহাম্মদ আলী ভুট্ট) ইস্যুটি সমাধানে তাদের সমিতির অফিসে গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলে, তিনি প্রত্যাখ্যান করেন এবং দাঁড়িয়ে থেকেই অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জড়ো করতে থাকেন। এর ফলে বাধ্য হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।

 

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আগামীকাল শনিবার। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হবে কাল। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে।

একুশের ভোরে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরিসহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানাবে সর্বস্তরের জনতা।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (ইউনেসকো) কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিবস অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

বাঙালি জাতির কাছে এটি একদিকে যেমন গভীর শোক ও বেদনার, অন্যদিকে মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এক ঐতিহাসিক দিন।

১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত, রফিকসহ নাম না–জানা আরও অনেকে শহীদ হন। তাঁদের সেই আত্মত্যাগই আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতে রাখা হবে।

ভাষাশহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব স্যাটেলাইট চ্যানেলে অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। সংবাদপত্রে থাকবে বিশেষ আয়োজন।

ফুটবলে ‘ইনভিন্সিবল’ বা ‘অপরাজেয়’ তকমাটা আর্সেনালের সেই বিখ্যাত মৌসুমের জন্য বরাদ্দ। কিন্তু তুর্কমেনিস্তানের এক অখ্যাত ক্লাবের কীর্তি শুনলে আর্সেন ওয়েঙ্গারও হয়তো চশমাটা ঠিক করে নিয়ে একবার হিসাব মিলিয়ে দেখতেন। ক্লাবটির নাম এফকে আরকাদাগ। ২০২৩ সালের এপ্রিলে জন্ম, আর এর মধ্যেই তারা ফুটবল ইতিহাসের সব গাণিতিক হিসাব উল্টে দিয়েছে।

রেকর্ড বই বলছে, জন্মের পর থেকে লিগে আজ পর্যন্ত একটি পয়েন্টও হারায়নি তারা। ৮২ ম্যাচের সব কটিতে জয়! টানা তিনবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে তাদের এই জয়যাত্রা যতটা না ফুটবলীয়, তার চেয়েও বেশি বোধ হয় রাজনৈতিক ক্ষমতার এক প্রদর্শন।

এই দাপটের উৎস খুঁজতে গেলে ফুটবল মাঠ ছাড়িয়ে আপনাকে তাকাতে হবে তুর্কমেনিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট গুরবানগুলি বেরদিমুহামেদভের দিকে। তাঁর উপাধি ‘আরকাদাগ’—যার অর্থ ‘রক্ষাকর্তা’। ৩৩০ কোটি ডলার খরচ করে তিনি যে ‘স্মার্ট সিটি’ বানিয়েছেন, সেই শহরের নামেই এই ক্লাব। আর সেই নামের মহিমা রাখতেই কি না, পুরো দেশের সেরা সব ফুটবলারকে এক ছাদের নিচে জড়ো করে বানানো হয়েছে এক ‘ড্রিম টিম’। যে লিগে কোনো বিদেশি খেলোয়াড় নেই, সেখানে ঘরের সব সেরা প্রতিভা এক দলে থাকলে যা হয়—পুরো তুর্কমেন ফুটবলই এখন আরকাদাগের পকেটে।

 

লিগের পাশাপাশি ঘরোয়া কাপেও তারা রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। ১৪টি কাপ ম্যাচের সব কটিতে জিতে তারা ঘরে তুলেছে তিনটি তুর্কমেনিস্তান কাপ আর দুটি সুপার কাপ। তবে আরকাদাগের এই অজেয় রথ থেমেছে শেষ পর্যন্ত মহাদেশীয় মঞ্চে গিয়ে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে কুয়েতের আল আরাবির কাছে হেরে তাদের ৬১ ম্যাচের টানা জয়ের রেকর্ড থামে। যদিও শেষ হাসিটা তারাই হেসেছে—প্রথমবার অংশ নিয়েই টুর্নামেন্টের ট্রফিটা জিতে নিয়েছে তুর্কমেনরা।

গল্পের মোড় এরপর ঘোরে এবারের এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-তে। গ্রুপ পর্বের বৈতরণি পার হয়ে নকআউট পর্বে তাদের সামনে এসে দাঁড়াল সৌদি আরবের মহা তারকাখচিত ক্লাব আল নাসর। ফুটবল রোমান্টিকরা চাতক পাখির মতো চেয়ে ছিলেন এক দ্বৈরথের দিকে—আরকাদাগ বনাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

কিন্তু ১১ ফেব্রুয়ারি তুর্কমেনিস্তানের মাটিতে প্রথম লেগের ম্যাচে সিআরসেভেনকে দেখা গেল না। গুঞ্জন উঠল, পিআইএফ-এর ওপর অভিমানে তিনি ম্যাচ বয়কট করেছেন। রোনালদোবিহীন আল নাসর ১-০ গোলে জিতল। মাঝে লিগে একটি ম্যাচ খেললেও ১৮ ফেব্রুয়ারি ফিরতি লেগে রিয়াদেও আরকাদাগের বিপক্ষে রোনালদোকে নামানো হলো না। সেখানেও স্কোরলাইন সেই একই, ১-০।

পাঁচটা ব্যালন ডি’অর কিংবা হাজার ছোঁয়া গোলের মালিক রোনালদো কি তবে তুর্কমেনিস্তানের এই ‘অজেয়’ দুর্গের সামনে দাঁড়াতে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন?

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) যুগ্ম মহাসচিব ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক হিসেবে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন দায়িত্বে যোগদানের পর থেকে তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

 

 

 

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশের যেসব নদী খনন প্রয়োজন এবং যেসব জলাশয় দখল রয়েছে, সেগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করা হবে। একইসাথে, সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনসহ কিছু মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে পঞ্চগড় সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই হাজারের বেশি মাইল খাল খনন করেছিলেন। সেই খাল খনন কর্মসূচিকে আবারও আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সামনে আনা হবে। একইসাথে আবহাওয়া ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও করা হবে বলে জানান তিনি।

আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।