ঢাকা

কুমিল্লায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে হোস্টেলের কক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে সহপাঠীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নওশিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট।

সহপাঠীদের অভিযোগ, নওশিন মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষকের রোষানলে ছিলেন। তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপে রাখা হতো। একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। এতে মানসিক চাপে ১০৯টি ট্যাবলেট সেবন করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

আজ শনিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। নওশিনের সহপাঠীদের অভিযোগ, কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের একজন শিক্ষকের রোষানলে বারবার ফেল করতে হয়েছে নওশিনকে। এটি তাঁর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে। ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে ঘটনার পর বিষয়টি আলোচনায় আসার পর অ্যানাটমি বিভাগের ওই শিক্ষক গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। তিনি কারও কল ধরছেন না। এ জন্য তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

খুলনার সরকারি করনেশন গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন অর্পিতা নওশিন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নওশিনের সহপাঠীরা বলেন, প্রথম বর্ষ থেকেই কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের ওই শিক্ষকের রোষানলে পড়েন নওশিন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্যান্য সব বিষয়ে পাস করলেও অ্যানাটমিতে ফেল করেন তিনি। এরপর গত তিন বছরে আরও চারবার একই বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও প্রতিবারই অকৃতকার্য হন। প্রথম বর্ষে থাকতেই প্রকাশ্যে তাঁকে ফেল করানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে ওই শিক্ষক এমন আচরণ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তাঁদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। একই সেশনের অন্য শিক্ষার্থীরা এখন পঞ্চম বর্ষে পড়লেও নওশিন প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন।

নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বোনের আত্মহত্যা করার মতো মানসিকতা ছিল না। কলেজের মানসিক চাপই তাকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে। প্রথম বর্ষ থেকেই তাকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে। সবাই পাস করলেও আমার বোনকে একটি বিষয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তার সমস্যা কী, সেটাও কেউ বলেনি।’ তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ফরম পূরণের জন্য টাকা চেয়েছিল। আমি আশ্বস্ত করেছিলাম টাকা পাঠাব। এমন খবর পাব, কখনো ভাবিনি।’

আজ বিকেলে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে ওই শিক্ষার্থীর অসুস্থতার খবর পাই। খবর পাওয়ার পরপর জরুরি বিভাগে থাকা সব চিকিৎসককে প্রপার ট্রিটমেন্টের অনুরোধ জানাই। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায় ওই ছাত্রী মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ও পরিচালক হাসপাতালে ছুটে যাই। কিন্তু আমাদের ছাত্রীকে আর বাঁচাতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা থেকেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শিক্ষার্থীর ভাই বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আমরাও চরমভাবে শোকাহত।’

অ্যানাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। এ জন্যই আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। যদি এ ঘটনায় কেউ যুক্ত থাকে, তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। এরপরও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তার সরকারের সকল উপদেষ্টাকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কারকে কেন্দ্র করে যা হচ্ছে, তা অপ্রত্যাশিত নয়। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে, ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়।

বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর আর কিছুকে তোয়াক্কা করছে না। তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনছে না। তারা সেগুলোকে আইনে পরিণত করবে না। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বাতিল করে তারা আসলে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে চাচ্ছে।

তারা সংসদে সমাধান চেয়েছিলেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংসদে যেহেতু উপযুক্ত সমাধান আমরা পাচ্ছি না, তাই রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হোক, অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা হোক। বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না যে সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। এ অবস্থায় সরকারের ওপর যদি জনগণের আস্থা না থাকে, বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না। যুদ্ধের কারণে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে, তাতে দলগুলোর ঐক্য দরকার ছিল।

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সবাইকে অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি এ-ও বলেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, তারা কোনো কথা বলবেন না, তারা যার যার ক্যারিয়ারে ফিরে যাবেন— এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে। মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদেরকে ক্ষমতা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে হতাশ করেছে। তারপরও যতটুকু হয়েছে, তা ধরে রাখার জন্য তাদেরকেও রাজপথে নামতে হবে।

রাজধানীর কদমতলীর একটি গ্যাসলাইট কারখানায় আগুন লেগেছে। দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

আজ শনিবার দুপুরে কদমতলী চৌরাস্তার আল বারাকা হাসপাতালের পাশে ওই কারখানায় আগুন লাগে।

কদমতলীতে গ্যাসলাইট কারখানায় লাগা আগুন দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। আজ শনিবার দুপুরে
কদমতলীতে গ্যাসলাইট কারখানায় লাগা আগুন দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। আজ শনিবার দুপুরে
 

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, বেলা ১টা ১১ মিনিটে তাঁরা আগুন লাগার খবর পান। সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করে। বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

কীভাবে আগুন লেগেছে এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ ও গ্রামবাসীসহ অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন।

আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. মশিউর রহমান। তিনি ভাঙ্গা থানার কনস্টেবল পদে কর্মরত বলে নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দিপু। তবে আহত অন্য ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আজ শনিবার সকাল সোয়া সাতটায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, সংঘর্ষে দুপুর একটা পর্যন্ত ২৮ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবারের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ সকালে সেখানে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এর আগে গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর আবার সংঘর্ষে জড়ায় দুটি পক্ষ।

আজ সকালে শুরুতে হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামের বাজার এলাকায় দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এক পক্ষে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্য পক্ষে একই ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন।

সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
 

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য নিয়ে হামিরদী ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া নামের তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ আছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ বলছেন, ফুটবল খেলা উপলক্ষে মাইকিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়; আবার কেউ বলছেন, ঈদের চাঁদরাতে মনসুরাবাদ বাজারে একটি দোকানের সামনে পটকা ফাটানো নিয়ে বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

এ বিরোধের জেরে গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে খাপুরা গ্রামের এক ব্যক্তিকে মনসুরাবাদ বাজারে মারধর করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় এদিন বিকেল ও সন্ধ্যায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও আজ আবারও সংঘর্ষ হলো। প্রথমে সংঘর্ষ মনসুরাবাদ বাজার এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলো দেশি অস্ত্র ও ঢাল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন অবস্থান নেন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। অন্যদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা পলাশ সাহা জানান, সংঘর্ষের প্রায় ৫ ঘন্টা পর দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ডিবি ও পলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা এসে উভয়পক্ষকে হটিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া বলেন, অন্য তিনটি গ্রামের তুলনায় মনসুরাবাদ গ্রামটি বড় ও জনসংখ্যাও বেশি। বাজারটি তিন গ্রামের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাসস্ট্যান্ডটি মনসুরাবাদ গ্রামের দখলে রয়েছে। ছোটখাটো ঘটনা থেকে শুরু হয়ে এসব সংঘর্ষ পরে বড় আকার ধারণ করে। স্থানীয় আধিপত্যের কারণে তিনটি গ্রাম এক হয়ে মনসুরাবাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, তরুণদের মধ্যে নানা ছোট বিষয় নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত হয়—কখনো ইভটিজিং, কখনো খেলাধুলা, আবার কখনো মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে। এসব ঘটনাই পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের পর মনসুরাবাদ বাজার এলাকার চিত্র। আজ দুপুরে তোলা
সংঘর্ষের পর মনসুরাবাদ বাজার এলাকার চিত্র। আজ দুপুরে তোলা

এ সংঘর্ষে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম বলেন, ‘সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ডিবি ও থানা–পুলিশের দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।’

জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন। আর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়াও বন্ধ থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে আজ শুক্রবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্যের আলোকে গতকালের মন্ত্রিসভায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া, সারের উৎপাদন, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা, শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

অফিস সময় ও বিপণিবিতান

সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জরুরি সেবা ব্যতীত সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে বলে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বরাত দিয়ে তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশদূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বসাকল্যে ২০ (বিশ) শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী, মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনগুলো ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিপণিবিতানগুলো সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বাস্তবায়ন করবে।

আরও যত সিদ্ধান্ত

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

এ ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার কেনা শতভাগ বন্ধ এবং সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ করা জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

এ ছাড়া আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ, অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমানোর বিষয়েও মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‍সিদ্ধান্ত হয় বলে তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে না পেরে টানা ৩৩ দিন ধরে একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেইসঙ্গে ধ্বংসের চেষ্টা চালানো হচ্ছে ইরানের জ্বালানি ও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনাও।  

এরই ধারাবাহিকতায় এবার ইরানের সবচেয়ে উঁচু বি-১ সেতুতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যৌথ এ হামলায় ভেঙে গেছে সেতুটির মধ্যভাগ। অন্তত ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এ ঘটনায়। সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৯৫ জন। 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের কারাজের কাছে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু বি-১ সেতুতে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই সেতুতে দুইবার হামলা চালায়, যার ফলে সেতুর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে মাটিতে পড়ে গেছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ১ কিলোমিটার লম্বা সেতুটির বড় বড় অংশ হামলার পর ধসে পড়েছে। বিশেষ করে সেতুটির মাঝামাঝি অংশ বিধ্বস্ত হয়েছে। 

আলব্রোজ প্রদেশের কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেতুর মধ্যভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের কর্তৃপক্ষ বি-১ সেতুকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু বলে উল্লেখ করেছেন।  

হামলার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা একটি অগোছালো শত্রুর পরাজয় এবং নৈতিক পতন। তিনি আরও লিখেছেন, অসমাপ্ত সেতুসহ নাগরিক স্থাপনার ওপর হামলা ইরানিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে না।

ইরানি মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, সেতুটি তেহরান ও কারাজ-এর মধ্যে যানজট নিরসন করতে এবং দেশের উত্তর দিকে যাতায়াত সহজ করতে নির্মাণ করা হচ্ছিল। 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দুজন এবং একজন সচিব ও আরেকজন গ্রেড-২ পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া দুজনের মধ্যে সাবেক আমলা বিজন কান্তি সরকারকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক এবং তানভীর গনিকে বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী এই দুজনকে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ ও দায়িত্ব দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এ ছাড়া মো. শাকিরুল ইসলাম খানকে সচিব পদমর্যাদা দিয়ে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক এবং মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে গ্রেড-২ পদমর্যাদা দিয়ে যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এরপর একাধিকবার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়।

সবমিলিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ৪৯। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন।

এর বাইরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা ছিলেন। এখন আরও দুজনকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী করা হলো। আর দুজন সচিব ও গ্রেড-পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী হলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৬৮৫ জন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬৮৫ জন।

সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৯ জনে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২৬ জন। তাদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ জনে।

ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগটি ছড়িয়েছে।

যশোরে বিপুল পরিমাণ হীরা (ডায়মন্ড) ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ সুজা উদ্দিন (৫২) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিন সকালে যশোর সদর উপজেলার নতুনহাট বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সুজাউদ্দিন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের আবু বক্করের ছেলে।
উদ্ধারকৃত মালামালের বাজারমূল্য আনুমানিক ৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার ১৬১ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সংবাদ সম্মেলনে যশোর ৪৯ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে তারা যশোর সদর উপজেলার যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট বাজার এলাকায় তল্লাশি চালান। এসময় বেনাপোলগামী একটি বাস থেকে সুজাউদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ১৫৫.৭৬ গ্রাম ওজনের হীরা ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত হীরাগুলো বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা করে সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজাউদ্দিন জানান, তিনি এই হীরা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের কলকাতায় পাচারের উদ্দেশে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গত এক মাসে তিনি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ ও ভারতে একাধিকবার যাতায়াত করেছেন।

বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, জব্দকৃত হীরার মূল্য ৬ কোটি ৬১ লাখ ৩৯ হাজার ৫১০ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য ৫ হাজার ৫৩০ টাকা। আটক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, জব্দকৃত হীরা ও মুদ্রা যশোরের ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সহযোগিতায় ভারতের হাত প্রসারিত আছে। নিজেদের প্রয়োজন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভারত প্রতিবেশীদেরও সাহায্য করে চলেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেই সহযোগিতার ওপর আলোকপাত করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জ্বালানিসংকটে প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশকে ভারত জ্বালানি দিচ্ছে ২০০৭ সাল থেকেই। এ বিষয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক বোঝাপড়া রয়েছে। এই সহযোগিতা আজও অব্যাহত। জ্বালানির প্রয়োজন মেটাতে শ্রীলঙ্কার দিকেও ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কাকে ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোপণ্য দেওয়া হয়েছে, যা তারা চেয়েছিল। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

জয়সোয়াল বলেন, সম্প্রতি মালদ্বীপ সরকারের কাছ থেকেও একটি অনুরোধ এসেছে। সে দেশের সরকার ভারত থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে পেট্রোপণ্য সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে। নিজেদের প্রয়োজন ও মজুতের কথা মাথায় রেখে মালদ্বীপের অনুরোধ বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মরিশাস ও সেশেলশের সঙ্গেও ভারত যোগাযোগ রেখেছে বলে তিনি জানান। জয়সোয়াল বলেন, তবে ওই দুই দেশ জ্বালানি সরবরাহ করা নিয়ে কোনো অনুরোধ ভারতকে করেনি।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এই সফর ঘিরে ভারতের প্রত্যাশার কথা জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র বলেন, সফর চূড়ান্ত হলে ঠিক সময়ে সব জানানো হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (আইসিটি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে ভারতের অভিমত জানতে চাওয়া হয়েছিল। জয়সোয়াল বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, গণভোট অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে অনুমোদন করা হচ্ছে না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশসহ চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। অন্য ১৬টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে করা জুলাই গণ–অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশসহ ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ম অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে (১২ মার্চ) উপস্থাপন করা হয়। পরে এগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ সংসদে হুবহু বিল আকারে তোলা এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল তোলার জন্য সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। অন্য ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আনয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদিত হচ্ছে না। এর ফলে নির্দিষ্ট সময় শেষে এগুলোর কার্যকারিতা লোপ পাবে। সংবিধানে বলা আছে, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করা না হলে তার কার্যকারিতা লোপ পাবে।

এর মধ্যে মোট ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে বিশেষ কমিটিতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য।

যে চারটি রহিত করার সুপারিশ

চারটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।

সংবিধানে বিচারক নিয়োগে আইন করার কথা থাকলেও এত দিন এটা হয়নি। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ করেছিল। এতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে।

অন্যদিকে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হলে অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ–সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে এই সচিবালয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।

এ দুটি অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট আছে জামায়াতে ইসলামীর। বিশেষ কমিটিতে দলটির তিন সদস্য নোট অব ডিসেন্ট দেন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল, ফাইল ছবি: বাসস

যে ১৬টি পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই

১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। সেগুলোর মধ্যে আছে ২০২৪ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ সালের রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ ও তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ। এগুলো নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত আছে।

পরবর্তী সময়ে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা অন্য অধ্যাদেশগুলো হলো মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ। এগুলো নিয়ে জামায়াতের ভিন্নমত নেই।

এর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট করার লক্ষ্যে গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আর দুদকের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধান ক্ষমতা বাড়িয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করা হয় ২০২৫ সালে। এতে সরাসরি এজাহার দায়েরের বিধান, বিদেশে সংঘটিত অপরাধসহ গুরুতর আর্থিক অপরাধকে আইনের আওতায় আনা, কমিশনের সদস্য বাড়ানোর বিধান করা হয়।

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বিদ্যমান কাঠামো পুনর্গঠন করে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম পৃথক করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়। এটি নিয়ে কর্মকর্তারা আন্দোলনে নেমেছিলেন।

২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে এটি করা। এটি এখনো কার্যকর হয়নি।

৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু পাসের সুপারিশ

যে অধ্যাদেশগুলো পাস করানোর জন্য হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে আছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কিছু অধ্যাদেশ আছে। বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে প্রশাসক নিয়োগের বিধান করা হয়। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের আপত্তি আছে।

এ তালিকায় আছে বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স ২০২৪, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার–সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, বিশ্ববিদ্যালয়–সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ (বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে উল্লিখিত বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ হাসিনা ইত্যাদি নামের পরিবর্তন)। গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ। এ ছাড়া বেশ কিছু অধ্যাদেশ আছে, যেগুলো নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত।

সংশোধিত আকারে উত্থাপনের সুপারিশ

১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কোথায় কী সংশোধনী আনা হবে, তা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এগুলো হলো ২০২৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ সালের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ।

এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধন করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশে কোনো নিদিষ্ট সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয় এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল–মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাস করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কী সংশোধন করা হবে, তার উল্লেখ করা হয়নি।

বাছাই কমিটির মাধ্যমে একটি পুলিশ কমিশন গঠন এবং কমিশন পুলিশের মহাপরিদর্শক নিয়োগের সুপারিশ করবে, নাগরিকদের অভিযোগ ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিয়ে কাজ করবে—এই লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাস করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর নোট অব ডিসেন্ট আছে।