সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা ‘সংশোধন’ হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। 

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

এ সময় তিনি সংবিধান সংশোধনের জন্য সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে আমরা সম্মান জানাতে চাই। ২৪-এর জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের নির্যাসকে আমরা সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করেছি। এটি চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ৭১-এর স্বাধীনতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেন। এটিই প্রকৃত ইতিহাস যা আমরা সংবিধানে ফিরিয়ে আনতে চাই।

আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি পুনর্বহাল করতে চাই। এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার নির্মূল করেছে। জুলাই সনদে এটি থাকার কথা থাকলেও কোনো কোনো দলের আপত্তির কারণে রাখা হয়নি। তবে আমরা এটি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হয় এই সংসদের মাধ্যমে। আমরা ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের ম্যান্ডেট পেয়েছি, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে।

বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসুন সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনা করি। সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে, তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে নয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

জ্বালানি সাশ্রয়ে দোকানপাট, শপিংমল ও বিপণি বিতান এর আগে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে এ কথা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আমিত।

তিনি বলেন, তিন মাসের চাহিদা মেটানোর জন্য জ্বালানি তেল সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ থেকে সন্ধ্যা ৬টা নয়, শপিং মল বন্ধ হবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে। দোকান মালিক সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মজুদ আছে।

প্রায় তিনমাসের পেট্রোল ও অকটেন সংরক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনমাসের পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ রয়েছে।

জ্বালানি তেল আমদানির ভালো কিছু উৎস পেয়েছেন বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আগামী তিনমাসের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাশিয়ার তেল আমদানির বিষয়ে স্যাংশন ওয়েভার দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সরকার আশাবাদী ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে বাংলাদেশকে তেল আমদানির সুযোগ দেবে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টা পর শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চেয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা।

 

‘র‍‍্যাব বিলুপ্তি বা র‍্যাব–সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ভার র‍‍্যাবের ওপর বর্তায় না। সরকার বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া।’

র‍‍্যাবের বিলুপ্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র‍‍্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ এ কথা বলেন। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় র‍্যাবের নতুন মহাপরিচালক এ কথা বলেন।

র‍‍্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘যেহেতু আমরা রাষ্ট্রের সুযোগ–সুবিধা নিয়ে বেড়ে উঠছি, সে ক্ষেত্রে আমাদের মূল কাজই হচ্ছে র‍‍্যাবকে জনগণের সামনে ভালোভাবে উপস্থাপন করা, কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। সুতরাং র‍্যাব সম্পর্কে যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।’

নাম পরিবর্তন, র‍‍্যাবের সংস্কার ও পুনর্গঠন সরকারের বিবেচনার বিষয় বলে মনে করেন র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমরা কাজটা করে যেতে চাই। আর অভ্যন্তরীণ কোনো ত্রুটি থাকলে সেগুলো আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করি। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ ছাড় পাচ্ছে না। আশা করি, বেলা শেষে ভালো অবস্থানে যেতে পারব এবং র‍্যাবের বিরুদ্ধে যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো আস্তে আস্তে সমাধান হয়ে যাবে।’

র‍‍্যাব গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন সময় কী কী অপরাধের কারণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচনায় এল, তা বিশ্লেষণ করা দরকার বলে জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন যে কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা বিচ্যুতি হয়তো ছিল, কিছুটা পদস্খলন হয়তো ছিল বলে এ রকম একটা বিষয় এসেছে। তো আমরা যদি সেই জায়গাটা মেরামত করতে পারি, তাহলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো থাকবে না।’

সম্প্রতি র‍‍্যাবের বিভিন্ন সাফল্য এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সম্প্রতি র‍‍্যাবের বিভিন্ন অভিযানের তথ্য এবং র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন র‍্যাব মহাপরিচালক।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে র‍্যাবের ক্রসফায়ারের মামলার নথি পর্যালোচনা করার কথা বলেছেন। তদন্ত শেষে প্রমাণ পেলে ট্রাইব্যুনালে বিচারের কথাও জানিয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে র‍‍্যাব সরকারকে সহায়তা করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের কাছে যা আছে, যেটুকু তথ্য থাকবে, তার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা হবে। যে তথ্য আমার কাছে নেই বা থাকবে না, আমার দেওয়ার সামর্থ্য বা সাধ্য নেই, সে ক্ষেত্রে হয়তো আমরা অপরাগতা প্রকাশ করতে পারব। কিন্তু যতটুকু সাধ্য বা সামর্থ্যের মধ্যে তথ্য আমাদের কাছে আছে, তা দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করব।’

সরকারের পক্ষ থেকে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে আহসান হাবীব বলেন, এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যোগাযোগ করেছে, এমন তথ্য আমার জানা নেই।

[caption id="attachment_271210" align="alignnone" width="848"] মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন র‍্যাবের নতুন মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍‍্যাব মিডিয়া সেন্টারেছবি: র‍‍্যাবের কাছ থেকে পাওয়া[/caption]

র‍‍্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গে আহসান হাবীব বলেন, বিগত দেড় বছরে, বিশেষ করে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে যদি র‍্যাবের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন, দেখবেন, র‍্যাবের অপকর্ম বা অপকীর্তির ইতিহাস কিন্তু খুব বেশি নেই। তার মানে এতে প্রমাণিত হয় যে র‍্যাবকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে র‍্যাব সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে। এ ব্যাপারে বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য। বিশ্বাস করি, র‍্যাব সঠিক পথে পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আমরা পেয়েছি।’

র‍‍্যাবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আহসান হাবীব বলেন, ‘আমি মনে করি, এ ধরনের একটা সংগঠন থাকার প্রয়োজন আছে। এটাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। র‍্যাবের থাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই। আমি চাই র‍্যাব পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর একটা সংগঠন গড়ে হিসেবে উঠুক। ভবিষ্যতে র‍্যাব অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।’

জঙ্গিবাদ দেশে আছে কি না, যদি থাকে সেটি নির্মূলে র‍্যাবের ভূমিকা কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবীব বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ—এ বিষয়গুলো আছে কি না, সেই জবাব আমি দিতে চাই না। আমরা কাজ করছি, যে বাদই থাকুক না কেন। উগ্রবাদ থাক, জঙ্গিবাদ থাক, যা–ই থাকুক না কেন বা আছে কি না, সেটায় না গিয়ে বরং যদি কিছু থেকে থাকে, এগুলোর ওপর আমরা কাজ করছি। কাজগুলো চলমান আছে। যে বাদই থাকুক, আমরা সব বাদকে নির্মূল করতে পারব, ইনশা আল্লাহ।’

সুন্দরবনের জলদস্যু এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান র‍‍্যাব মহাপরিচালক।

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ (বত্রিশ) বছর নির্ধারণ করতে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়। ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত এই বিলের মূল বিধানসমূহে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সব ক্যাডার এবং বিসিএস বহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর যেসব পদে নিয়োগের বয়সসীমা আগে ৩০ বা অনূর্ধ্ব ৩২ ছিল, সেখানেও এখন থেকে বয়সসীমা ৩২ বছর হবে।

অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা ইতোপূর্বে ৩২ বছরের বেশি (যেমন: ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না। এছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিদ্যমান বিধিমালা অপরিবর্তিত থাকবে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দেশ গঠনে আরও বেশি সুযোগ করে দিতে এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এই বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারিকৃত এ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি রূপ দিতেই এই নতুন বিলটি আনা হয়েছে।

বিলের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইতোপূর্বে অধ্যাদেশ জারির ফলে কিছু কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু বিশেষায়িত পদে উচ্চতর বয়সসীমা কমে গিয়েছিল। বর্তমান বিলের মাধ্যমে সেই অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে এবং ৩২ বছরের অধিক বয়সসীমা নির্ধারণ করা পদগুলোর বিদ্যমান নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ছবি দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম রিয়াদ বিন সেলিম (৪০)। গতকাল শনিবার রাতে পটিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভুয়া ছবি তৈরি করে প্রতারণা করে আসছিলেন ওই ব৵ক্তি।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) মো. নাজমুল হাসান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে ‘সিএসএফ চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্স’ লেখা একটি পরিচয়পত্র, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, ওয়াকিটকি সেট, সিগন্যাল লাইট, মনিটরিং সেল কার্ড ও একাধিক মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

নাজমুল হাসান জানান, মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানের নির্দেশনায় অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রিয়াদ তাঁর ফেসবুক আইডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এসব ছবি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।

পুলিশ জানায়, কুমিল্লার দেবীদ্বারের বাসিন্দা কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তি কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা নেন রিয়াদ। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া রিয়াদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ট্যাক্স ইন্সপেক্টর, কন্ট্রোল সার্ভার ইনচার্জসহ বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রিয়াদের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া অমুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান। তিনি জানান, এরই মধ্যে আগস্ট ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিলেন এবং অনেক অসাধু ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলতে আসলে কিছু নেই। তবে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এদের চিহ্নিত করার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপকমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত শুনানি ও যাচাই-বাছাই করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া মাত্রই তাদের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হবে।

সিলেট অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধান মাহবুব আলী খানের স্মৃতিবিজড়িত এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রবাসে অবস্থানরত যে সব মুক্তিযোদ্ধা এখনো ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি পাননি, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, দক্ষিণ সুরমা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত নেত্রীর আদর্শে বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী জানান, শিগগিরই তিনি সিলেটের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের স্থানগুলো পরিদর্শন করবেন এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)। আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সংক্রান্ত দাপ্তরিক তথ্য প্রেস, মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার ও দেওয়ার জন্য তাঁদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর মাহ্দী আমিনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে ১৯ ফেব্রুয়ারি আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক। সাউথ এশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটসের নির্বাচিত ব্যুরো মেম্বার ছিলেন। তিনি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশ নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত, সংবিধান সংস্কার পরিষদ, সংস্কার ইত্যাদি প্রসঙ্গে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল ইসলাম

প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত অধ্যাদেশগুলো সম্পর্কে সরকারি দলের সিদ্ধান্ত আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন। সরকারি দল অনেকগুলো অধ্যাদেশ গ্রহণ করলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা এখনই গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাবেক আইন উপদেষ্টা হিসেবে আপনি এসব আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

আসিফ নজরুল: বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই কিছু হতাশা বা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে; কিন্তু এটাকে একপক্ষীয়ভাবে দেখতে চাই না। এর ইতিবাচক দিকও আছে, সেটি আগে বলি।  সংসদের বিশেষ কমিটি যেসব আইন হুবহু গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি, আইনগত সহায়তা, সাইবার সুরক্ষা বা ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাস্তবিক অর্থে নাগরিকদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ বাড়াবে। এ ছাড়া জুলাই-সংক্রান্ত কয়েকটি আইন, যেমন জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, শহীদ ও যোদ্ধা পরিবারের কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং দায়মুক্তির বিধান—এসব রাখা হয়েছে। এগুলো শুধু আইন নয়, একটি ঐতিহাসিক অর্জন ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। পরিবেশ–সংক্রান্ত আইনগুলোও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা প্রশংসনীয়।

তবে সমস্যা হলো, এই ইতিবাচক আইনগুলোই যথেষ্ট নয়। যে ত্যাগ, যে প্রাণহানি, যে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আরও গভীর ও কাঠামোগত সংস্কার প্রত্যাশিত ছিল। সেগুলো আপাতত করা হচ্ছে না। সরকার বলছে, কিছু আইন সংশোধন করে আবার আনা হবে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, এগুলো শুধু আশ্বাস পর্যায়ে থেকে যায়। তাই পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই।

আসিফ নজরুল: বিচারক নিয়োগ–সংক্রান্ত আইনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল নিয়ে কিছু বিতর্ক ছিল, সেটি অস্বীকার করছি না। সংবিধানে যেখানে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শের কথা বলা হয়েছে, সেখানে কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে আইনগত প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু এর যৌক্তিকতা আইনটির প্রস্তাবনায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তারপরও এগুলো সংশোধনযোগ্য বিষয়, এ জন্য পুরো আইন বাতিল করা ঠিক হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হওয়াটা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে হতাশ করেছে। এটি দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, এমনকি ২০২৪ সালের আদালতের রায়েও এটার নির্দেশনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এই আইনের অধীনে কিছু কাঠামোগত অগ্রগতি হয়েছে। জনবল নিয়োগ, বাজেট প্রস্তুতি, আলাদা কার্যালয় তৈরি—এসব প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল।

কারও কারও আপত্তি ছিল অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবে সুপ্রিম কোর্টে হস্তান্তর নিয়ে। কিন্তু আমরা তো তাৎক্ষণিকভাবে তা দিইনি। বলেছিলাম, সচিবালয় পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে ধাপে ধাপে হবে। ফলে এ রকম কোনো অজুহাতে পুরো আইন বাতিল করা হলে তা হতাশাজনক। তবে আমি এখনো আশা ছাড়তে চাই না। এখনই গ্রহণ না করা হলেও, এই আইনগুলো অদূর ভবিষ্যতে প্রণয়ন করার সুযোগ থাকবে। সরকারের উচিত, বিরোধী দলের চাপে বা জনগণের সমালোচনার মুখে নয়, নিজের উপলব্ধি থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়া।

আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুল

 

প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধন ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। অন্যদিকে গুম কনভেনশনে পক্ষরাষ্ট্র হওয়ার কারণে গুম প্রতিরোধে আইন করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। মানবাধিকার আইন ও গুম প্রতিরোধ আইন এখনই গ্রহণ না করাকে আপনি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন?

আসিফ নজরুল: এ দুটি আইন প্রণয়নের জন্য আমরা অনেক কষ্ট করেছিলাম। অন্য সব বিষয়ে সমালোচনামুখর দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন ও অ্যাকটিভিস্টরা ও মানবাধিকারকর্মীরাও আইন দুটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিলেন। এ ছাড়া নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের অপশনাল প্রটোকল অনুযায়ী একটি জাতীয় প্রতিরোধব্যবস্থা গঠনের বিষয়টি মানবাধিকার আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা যায়। গুম আইনটিও এ–সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষরাষ্ট্র হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছিল। ফলে এসব আইন শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা নয়, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এগুলো উপেক্ষা করা হলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থেকে যাবে।

তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসব আইন পুরোপুরি বাতিল করা বর্তমান সরকারের পক্ষে হয়তো সহজ হবে না। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী অতীতে গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গুম প্রতিরোধ আইন না হলে মায়ের ডাকের সানজিদা কিংবা গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর পরিবারগুলোকে কী উত্তর দেবে বিএনপি। এসব স্মরণ রেখে বিএনপি বরং অচিরেই আমাদের আমলের চেয়ে শক্তিশালীভাবে এসব আইন প্রণয়ন করবে বলে আশা করি।

প্রশ্ন: এসব অধ্যাদেশ গ্রহণ না করা কি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী?

আসিফ নজরুল: আমরা যদি গুম প্রতিরোধ আইন না করি বা মানবাধিকার কমিশনকে দুর্বল রাখি, তবে তা অবশ্যই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রত্যাশার পরিপন্থী হবে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান শুধু বৈষম্যের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের গুম, খুন, নির্যাতন ও হয়রানির মতো অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই তা বিস্ফোরিত হয়েছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার–সংক্রান্ত আইনগুলো সেই আন্দোলনের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশও আপাতত গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে আইনটি যথেষ্ট কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে টিআইবিও (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) আপত্তি জানিয়েছিল। আইনটি কি আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে?

আসিফ নজরুল: কোনো আইনই নিখুঁত নয়, সব সময়ই উন্নয়নের জায়গা থাকে। দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ প্রণয়নের সময় টিআইবি যে সুপারিশগুলো দিয়েছিল, তার অনেকগুলোই গ্রহণ করা হয়েছে। ধরা যাক, ১০টির মধ্যে ৭টি রাখা হয়েছে। তবে সব সুপারিশ গ্রহণ সম্ভব হয়নি। কারণ, আমলাতান্ত্রিক চাপ, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মতামত এবং রাষ্ট্রের কার্যকারিতা নিয়ে আশঙ্কার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হয়েছে।

সমস্যা হচ্ছে, সমালোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকগুলো অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। গঠনমূলক সমালোচনা হলে; অর্থাৎ কোন অংশ ভালো এবং কোন অংশ উন্নত করা দরকার—দুটি দিকই তুলে ধরা হলে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে। ভবিষ্যতে যদি আইনটি পুনর্বিবেচনা করা হয়, তখন এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এখানে একটি বড় বিষয় হলো বাস্তবতা। শুধু সুন্দর আইন করলেই হবে না; রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ সেই আইন বাস্তবায়নের জন্য কতটা প্রস্তুত, তা বিবেচনায় নিতে হয়। অনেক দেশেই ভালো আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগের সক্ষমতা না থাকলে তা কার্যকর হয় না। তাই আইন হতে হবে শক্তিশালী এবং একই সঙ্গে বাস্তবসম্মত।

আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুল

প্রশ্ন: ১৬টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংশোধিত আকারে পরে বিল আনার সুপারিশ করা হচ্ছে। বিরোধী দল এ নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। এসব আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

আসিফ নজরুল: এখানে মূল বিষয় হচ্ছে নিয়ত। যদি আইন সংশোধনের লক্ষ্য হয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি বাড়ানো এবং মানুষের ভোগান্তি হ্রাস, তাহলে তা ইতিবাচক। কিন্তু যদি সংশোধনের মাধ্যমে আইনকে দুর্বল করা হয়, জবাবদিহি কমানো হয় বা সরকারের ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রশ্ন: সরকার আবার শতাধিক অধ্যাদেশ গ্রহণও করছে। এই ভিন্ন অবস্থানের কারণ কী? এটি কি এ জন্য যে যেসব অধ্যাদেশ গ্রহণ করা হচ্ছে, সেগুলো সরকারের জবাবদিহির জন্য অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ?

আসিফ নজরুল: কিছু অধ্যাদেশ সরাসরি সরকার বা রাষ্ট্রের জবাবদিহির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমূলক। যেমন আইনগত সহায়তা বৃদ্ধির উদ্যোগের ফলে বহু মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য বড় স্বস্তি। ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধন মানুষের হয়রানি কমাতে সহায়ক হবে, যদিও এসব পরিবর্তনের ফল এক দিনে দৃশ্যমান হয় না।

এ ছাড়া সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশটি ব্যাপক পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে, যেখানে সমালোচক ও ভুক্তভোগীদের মতামতও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার আইনও গুরুত্বপূর্ণ। এসব আইন সরকার গ্রহণ করছে, তা প্রশংসনীয়। তবে সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বা মানবাধিকার কমিশন বা গুম প্রতিরোধ–সংক্রান্ত আইনগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এসব আইন না হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন হবে।

প্রশ্ন: গণভোট অধ্যাদেশ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

আসিফ নজরুল: গণভোট অধ্যাদেশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ‘দায়মুক্তি’–সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে, যা আইন বাতিল হলে আর থাকবে না। এ ছাড়া এতে কিছু অপরাধ ও দণ্ড–সম্পর্কিত বিধানও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গণভোট অধ্যাদেশটি সংরক্ষণ ও গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন: জুলাই সনদে সাংবিধানিক বিষয়গুলো পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছিল। বিএনপি বলছে, তারা সংবিধান পরিবর্তন চায় এবং কিন্তু এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই। এ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে। সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিতর্কটি কি লক্ষ্যভিত্তিক, নাকি প্রক্রিয়াগত?

আসিফ নজরুল: আমার মতে, বিতর্কটি মূলত প্রক্রিয়াকে ঘিরে। বিএনপি বলছে, সংসদের মাধ্যমেই সংবিধান সংশোধন সম্ভব এবং অতীতেও তা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো মনে করে, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও গণ–অভ্যুত্থানের ভিত্তিতে একটি ‘কনস্টিটিউয়েন্ট অথরিটি’র মাধ্যমে মৌলিক সংস্কার হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা কম থাকে। তবে আমার দৃষ্টিতে প্রক্রিয়ার চেয়ে লক্ষ্য অর্জন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও বিরোধী দল যদি ঐকমত্যে পৌঁছায়, তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা সংসদ যেকোনো ফোরামের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। মূল বিষয় হলো, কাঙ্ক্ষিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা।

প্রশ্ন: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতির আদেশকে অনেকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি বলছেন। এটা নিয়ে আপনার মতামত কী?

আসিফ নজরুল: জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর পুরোপুরি সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা বাস্তবে সম্ভব ছিল না। তবে চেষ্টা ছিল যতটা সম্ভব সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকা। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির জুলাই-সংক্রান্ত আদেশকে মূল্যায়ন করতে হবে। আদেশের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এটি গণ–অভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গৃহীত।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে রাষ্ট্রপতির আদেশকে অসাংবিধানিক বলা কঠিন। এ ছাড়া বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে ‘পোস্টভ্যালিডিটি’ বা পরবর্তী বৈধতা দেওয়ার নজির রয়েছে—যেমন পঞ্চম, সপ্তম বা একাদশ সংশোধনী। প্রয়োজনে এমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ধরনের পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব। সুতরাং বিষয়টি কেবল আইনগত ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশাও। গণভোটে যে রায়, সেটিও আমাদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: সরকারে থাকা অবস্থায় আপনারা আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এখন সেই সব আইন বাতিল হচ্ছে। তাহলে আপনাদের সংস্কারের উদ্যোগ কতটা সফল হলো?

আসিফ নজরুল: সংস্কারকে দুভাবে দেখতে হবে। প্রথমত, ভালো আইন প্রণয়ন—যেখানে সমাজের চাহিদা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, দেশের আইনগত ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই অংশ তুলনামূলক সহজ। কিন্তু কঠিন অংশ হলো সেই আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং জনগণকে প্রস্তুত করা। ইতিহাস বলছে, কোনো সংস্কারের ফল তৎক্ষণাৎ পাওয়া যায় না। যেমন সিঙ্গাপুরে লি কুয়ান ইউয়ের সংস্কারের সুফল পেতে ৫–১০ বছর সময় লেগেছে। সেখানে আমরা পেয়েছি মাত্র দেড় বছর। সেই সীমিত সময়েও কিছু ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আইনগত সহায়তা–সংক্রান্ত সংস্কারের ফলে এখনই তিন থেকে চার গুণ বেশি মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হচ্ছে। দেওয়ানি কার্যবিধির সংশোধনে মামলা নিষ্পত্তির সময় কমেছে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন সহজ হওয়ায় প্রবাসীসহ বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। রেজিস্ট্রেশন আইন ও নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টে পরিবর্তনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি গুম প্রতিরোধ আইনের ফলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে উত্তরাধিকার দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আমরা ভিত্তি তৈরি করেছি—এখন তা দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের।

প্রশ্ন: বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে কেউ কেউ সরকারি দল; অর্থাৎ বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ এবং বিরোধী দলগুলোকে ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

আসিফ নজরুল: সংস্কার আলোচনার সময় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সংস্কারবিরোধী মনোভাব দেখিনি। তবে সংস্কারের ফলে রাষ্ট্রের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁদের মধ্যে সতর্কতা ছিল, সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়েও কিছু ভিন্নমত ছিল।

বিএনপি নিজেই স্বৈরাচারী শাসনামলের বড় ভুক্তভোগী। তাই তাদের পক্ষে সংস্কারের বিরুদ্ধে থাকা স্বাভাবিক নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কতটুকু সংস্কার চায় এবং সেটি জনগণের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে পারছে। বিএনপি বলছে, কিছু সংস্কার এখন নয়, পরে করা হবে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতার কারণে জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। এটাই সমস্যার একটা কারণ।

তবে বিএনপির সামনে এখন একটি বড় সুযোগ রয়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরের মধ্যে সংস্কারের এমন অনুকূল পরিবেশ খুব কমই এসেছে। সংস্কার নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি, প্রস্তুতিমূলক বহু কাজও করা হয়েছে—সব মিলিয়ে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

প্রশ্ন: সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, দেশ আবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। আপনি কী মনে করেন?

আসিফ নজরুল: আমি মনে করি, এটি অতিরঞ্জিত আশঙ্কা; বাস্তবে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, ইতিমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে সাইবার সুরক্ষা আইনকে ধরা যায়। আগে এ ধরনের আইনের অপব্যবহার করে বিরোধী মত দমন করা হতো, কিন্তু এখন সেই সুযোগ অনেক কমে গেছে। ফৌজদারি কার্যবিধিতেও আগের মতো হয়রানির সুযোগ নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—এখন দেশে কার্যকর বিরোধী দল রয়েছে, যা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সংসদের ভেতরে যেমন নতুন নেতৃত্ব আছে, তেমনি বাইরে তরুণ প্রজন্মও সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে।

এই বাস্তবতায় অতীতে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা জোরালো নয়। তবে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সামনে কত দূর অগ্রসর হওয়া যাবে, সেটি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ থাকতে পারে। এটি যৌক্তিক। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ভবিষ্যতে আর কখনো জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ না থাকে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর, বিশেষ করে বিএনপির দায়িত্ব অনেক বেশি। তাদের এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে জনগণের মনে অতীতের মতো অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে।

আসিফ নজরুল: আপনাকেও ধন্যবাদ।

‘আনন্দ শোভাযাত্রা’,  ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নয়। এবার থেকে পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

সচিবালয়ে  সভা শেষে বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী । আজ রোববার সকালে
সচিবালয়ে  সভা শেষে বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী । আজ রোববার সকালে
 

আজ রোববার সচিবালয়ে এক সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

আগামী ৩ মে থেকে সারাদেশে শুরু হবে হামের টিকাদান কর্মসূচি। এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। আর ৩ মে থেকে অবশিষ্ট সারা দেশে একযোগে টিকা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, অতীতের সরকার টিকা দেয়নি বলে হাম বজ্রপাতের মতো এসেছে। প্রথম পর্যায়ে টিকা দেয়া হচ্ছে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। হাম এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা করোনার মহামারীর চেয়েও কম উদ্বেগজনক নয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে এই টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার বেলা একটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার কারখানাটিতে আগুন লাগে। দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

প্রথমে উদ্ধার হওয়া দগ্ধ পাঁচজনের মরদেহের মধ্যে তিনজনই নারী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে শুধু একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অপারেশনস ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।