সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

সোমবার (২৫) বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

 

ফরিদপুরে আজ শনিবার মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়া বিআরটিসির বাস ও অ্যাম্বুলেন্স দুটির কোনোটিরও ফিটনেস সনদ হালনাগাদ ছিল না। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া আছে সরকারি করও।

আজ রোববার ফরিদপুরের নগরকান্দায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাসের সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। নিহত হন এতে থাকা একই পরিবারের চারজন এবং চালক।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে ঘটনার বিবরণ, হতাহতের তথ্য এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের হালনাগাদ তথ্য থাকে। এই প্রতিবেদনেই দুটি যানের হালনাগাদ ফিটনেস সনদ এবং কর পরিশোধ না করার তথ্য পাওয়া গেছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি পরিবহনের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করার লক্ষ্যেই সরকারের পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির জন্ম। এ জন্য সরকার নানা সময় ভর্তুকি দেয়। কিন্তু সরকারি সংস্থারই বাসের ফিটনেস সনদ হালনাগাদ না থাকা দৃষ্টিকটু।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ বিআরটিসির বাসটি ফরিদপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্সটি মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরে আসছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে চালকসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনায় বাসের কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন। তবে বাসটির বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, বিআরটিসির বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৬৪৩৬। বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ২০২৪ সালের অক্টোবরেই শেষ হয়েছে। এরপর আর ফিটনেস নবায়ন করা হয়নি। ২০২৩ সালের পর ট্যাক্স-টোকেনের সরকারি ফিও পরিশোধ করা হয়নি। ফলে বাসটি চলাচলের উপযোগী আছে কি না, সেটা নিশ্চিত নয় বিআরটিএ।

অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-১২২৯। ২০০৯ সালের পর আর কোনো দিন ফিটনেস সনদের জন্য বিআরটিএতে যায়নি।

প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেট্রোরেল ও ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক মন্ত্রণালয়। আগামীকাল সোমবার থেকে এ সুবিধা কার্যকর হবে।

আজ রোববার রেলপথ মন্ত্রণালয় ও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আগামীকাল দুপুরে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে বিশেষ এই সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত চলমান মেট্রোরেলে ৬৫ বছর বা এর বেশি বয়সী যাত্রী এবং প্রতিবন্ধী/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় পাবেন। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী যাত্রীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখতে হবে। স্টেশনের কাউন্টারে এনআইডি দেখালে বয়স যাচাই করে ছাড়ে টিকিট বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে প্রতিবন্ধী/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এই সুবিধা পেতে হলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্র থাকতে হবে এবং তা কাউন্টারে প্রদর্শন করতে হবে।

রেলে ছাড়ে টিকিট

রেলের পক্ষ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রবীণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যাত্রীর বয়স অবশ্যই ৬৫ বছর বা এর বেশি হতে হবে। অনলাইনে টিকিট কেনার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বয়স স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। শুধু ভাড়ার ভিত্তিমূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় প্রযোজ্য হবে। তবে সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ বিদ্যমান হারে পরিশোধ করতে হবে।

প্রতিবন্ধী/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এই সুবিধা পেতে হলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্র থাকতে হবে এবং তা কাউন্টারে প্রদর্শন করতে হবে।
 

এই সুবিধা অনলাইন ও কাউন্টার উভয় মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। এ জন্য যাত্রীকে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘রেলসেবা’ অ্যাপে নিবন্ধিত হতে হবে ।

একজন সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুবার এ ছাড়ের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সপ্তাহ গণনা করা হবে যাত্রার তারিখ অনুযায়ী। ছাড় করা টিকিট ফেরত দিলে সেই সাপ্তাহিক হিসাব থেকে তা বাদ যাবে এবং যাত্রী একই সপ্তাহে আবার ছাড় পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন।

কোনো সিনিয়র সিটিজেন সহযাত্রী নিয়ে ভ্রমণ করলে সহযাত্রীর ক্ষেত্রে নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে। তবে সহযাত্রীও প্রবীণ হলে প্রতি বুকিংয়ে সর্বোচ্চ একজন অতিরিক্ত প্রবীণ সহযাত্রী ছাড়-সুবিধা পাবেন। এ জন্য তাঁকে নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে আলাদাভাবে ভেরিফায়েড হতে হবে।

রেলে প্রতিবন্ধীরা পাচ্ছেন যে সুবিধা

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্রধারীরা এ সুবিধার আওতায় থাকবেন। আন্তনগর ট্রেনের সুলভ বা শোভন শ্রেণিতে এবং যেসব ট্রেনে এ শ্রেণি নেই, সেসব ট্রেনে শোভন চেয়ার শ্রেণির মোট ভাড়ার ওপর বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী ৫০ শতাংশ ছাড় বহাল থাকবে। পাশাপাশি নতুন করে সব শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শ্রেণিতে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রেও সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ বিদ্যমান হারে প্রযোজ্য হবে।

৬৫ বছরের বেশি বয়সী যাত্রীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখতে হবে। স্টেশনের কাউন্টারে এনআইডি দেখালে বয়স যাচাই করে ছাড়ে টিকিট বিক্রি করা হবে।

তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আপাতত শুধু স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট ইস্যুর ক্ষেত্রে এ সুবিধা কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অনলাইন টিকিটিং সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিচয়পত্রধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহযাত্রীর ক্ষেত্রে নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে।

এদিকে স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে শিক্ষার্থীদের ইউনিফায়েড পরিচয়পত্র চালুর পর টিকিটের মূল্যে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, রেল পরিবহনব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সরকার গঠনের পর নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত রেলপথসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিবন্ধী, শিক্ষার্থী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ট্রেনে ২৫ শতাংশ ছাড়ে ভ্রমণের সুযোগ চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ঝিনাইদহে ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শহরের কবি সুকান্ত সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ।

জেলা এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল নেতার মামলায় জাতীয় যুবশক্তির নেতা অয়ন রহমানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শহরের ফ্যামিলি জোন কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল এনসিপি। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন তারেক রেজা। সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শকব (এসআই) খাইরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপকে কেন্দ্র ছাত্রদল ও এনসিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ২২ মে রাতেই এনসিপি নেতা তারেক রেজা বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সভাপতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়কসহ আটজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১২৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় ২৩ মে সকালে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এনামুল কবির বাদী হয়ে এনসিপি নেতা তারেক রেজাসহ ২২ এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬০ জনের নামে পালটা মামলা করেন। এই মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অয়ন রহমান খানকে গ্রেপ্তারের পর তারেক রেজাকেও গ্রেপ্তার করল।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে এক এলাকায় তিনটি স্থল মাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছেন। সীমান্ত এলাকায় বাগানের কাজ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক জাফর ইকবাল জানিয়েছেন।

মাইন বিস্ফোরণে মারা যাওয়া তিনজন হলেন অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) ও চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)। তাঁদের সবার বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ায়। বিস্ফোরণে মৃতদের কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ উড়ে গেছে।

ঘুমধুমের স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফলের বাগানে কাজ করার সময় তিনটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিস্ফোরণে শুরুতে এক বাগানচাষি গুরুতর আহত হন। সঙ্গীরা দৌড়ে তাঁকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে আরেকজন গুরুতর আহত হন। আহত ওই দুজনকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনায় আরেকজন আহত হন। উপর্যুপরি তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় কাজ করতে যাওয়া লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পাড়ায় এসে সংবাদ দেয়। পাড়াবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বাবুল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, ভালুকিয়াপাড়াসহ সীমান্তের কাছাকাছি মানুষ সবাই শূন্যরেখা বজায় রেখে ফলের বাগানসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করেন। এটি তাঁদের জীবন-জীবিকা একমাত্র উপায়। গত বছরও বাগানের কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছেন। এখনো তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বনে সবজি খুঁজতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে একজন নারী দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আগের দুজনের নিখোঁজ, পা হারানো ঘটনাসহ আজকের তিনজনের মৃত্যুতে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে বলে বাবুল কান্তি জানিয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ির দফাদার সৈয়দ আলম ও ঘুমধুমের গ্রাম পুলিশ রূপম বড়ুয়া জানিয়েছেন, ঘটনা ৪১ সীমান্ত পিলার এলাকায় হলেও যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটি শূন্যরেখার ভেতরে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে এত শক্তিশালী স্থলমাইল কারা স্থাপন করেছে, তা তদন্ত হওয়া দরকার মনে করেন দফাদার সৈয়দ আলম। মৃতরা সবাই বাগানচাষি।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুম পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল মাইন বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, লাশ তিনটি উদ্ধার করে রেজুপাড়া বিজিবির সীমান্তচৌকিতে আনা হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে থানায় হস্তান্তর করা হবে।

মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় শাকিল হোসেন (২৪) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। জরিমানার অর্থ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নেওয়া হয়।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনীতে ৯ বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণ করেন শাকিল। পরে শিশুটি তার বাবাকে গিয়ে ঘটনাটি জানায়। তিনি বিষয়টি গ্রামে জানালে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিলকে আটকে মারধর করেন। খবর পেয়ে গাংনী থানার পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং চিকিৎসার জন্য গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

ভুক্তভোগী শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আতাউর রহমান গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় অভিযোগপত্র দেন। ওই বছরের ১৩ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল অভিযোগ গঠন করলে বিচারকাজ শুরু হয়। সশরীর ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সশরীর ও ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমের সমন্বয়ে সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত। ভুক্তভোগীর পরিবার এতে ন্যায়বিচার পেয়েছে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মারুফ আহমেদ বলেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরা দিতে আসা বিএনপির এক নেতাকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। এ সময় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। হামলায় বিএনপি নেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর সহযোগী মাইনুদ্দীন (৩৭) নামের একজন গুলিবিদ্ধ হন। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে গুলি করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। তিনি একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। এ ঘটনায় জিয়াউল হক জিয়া (৩৪) নামের একজনকে আটক করে লিয়াকতে সঙ্গে থাকা লোকজন। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলীর ওপর হামলা চালিয়েছে তাঁর প্রতিপক্ষরা। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ার (বিসিক এলাকা) নিজ বাড়িতে গিয়ে লিয়াকত আলীকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করেছিল দুর্বৃত্তরা। আজ সকালে লিয়াকত আলীসহ কয়েকজন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এসেছিলেন একটি মামলার হাজিরা দিতে। হাজিরা শেষে বেলা ১১টার দিকে লিয়াকত বাড়িতে ফেরার গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

কক্সবাজার আদালতে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক এক ব্যক্তি
কক্সবাজার আদালতে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক এক ব্যক্তি, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জানান, লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে লিয়াকত আলী আদালত থেকে বেরিয়ে ফটকে এসে দাঁড়ালে খালেদ নামের একজন প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। লিয়াকত আলী দ্রুত সরে যাওয়ায় গুলি লাগে তাঁর চাচাতো ভাই মইনুদ্দীনের পায়ে। এ সময় লিয়াকত আলীর লোকজন গুলি করতে আসা জিয়াউল হককে ধরে ফেললে অস্ত্রধারীদের আরেকজন গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা আদালতের ভেতরের রাস্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দিকে পালিয়ে যান। আটক জিয়াউল হকের বাড়ি ঈদগাঁওয়ে।

বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী
বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী, ছবি সংগৃহীত
 

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে গুলি করে পালানোর সময় জিয়াউল হককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অপর অস্ত্রধারীদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার পর লিয়াকত আলীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। লিয়াকত আলী বলেন, ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ায় গুলি করে ও কুপিয়ে তাঁকে হত্যাচেষ্টা করেছিল স্থানীয় একটি বাহিনী। আজ আদালত প্রাঙ্গণে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসী খালেদ, শাহাবুদ্দীন, কুতুবউদ্দিনসহ কয়েকজন তাঁকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল।

রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। এর আগে শিশু রামিসা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। 

রোববার (২৪ মে) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেন

এর আগে, সকালে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তাদের ২ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। শনিবার (২৩ মে) মামলাটি পরিচালনার জন্য বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে আজিজুর রহমান দুলুকে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে তিনি লড়বেন মামলাটি। 

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরদিন প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট।

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে এক জেলের বড়শিতে ধরা পড়েছে ২৪ কেজি ওজনের একটি কোরাল মাছ। পরে মাছটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে ৩১ হাজার ২০০ টাকায়।

আজ রোববার সকালে টেকনাফ পৌরসভার নাফ নদীর তীরে নির্মিত ট্রানজিট জেটিঘাট এলাকায় মাছটি ধরেন স্থানীয় চৌধুরীপাড়ার জেলে মোহাম্মদ হাসান (৩৪)।

মোহাম্মদ হাসান বলেন, সকাল সাতটার দিকে তিনি জেটিঘাট–সংলগ্ন নাফ নদীতে বড়শি ফেলেন। কিছুক্ষণ পর বড়শিতে শক্ত টান অনুভব করেন। পরে রশি টেনে দেখতে পান, বড় একটি মাছ ধরা পড়েছে। প্রায় ১৫ মিনিট চেষ্টার পর তিনি মাছটি ওপরে তুলতে সক্ষম হন। পরে ওজন করে দেখা যায়, মাছটির ওজন ২৪ কেজি।

মোহাম্মদ হাসান আরও বলেন, দুপুরে মাছটি টেকনাফ বাজারে নিয়ে গেলে ক্রেতাদের ভিড় জমে যায়। সাধারণ সময়ে কোরাল মাছের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হলেও বড় হওয়ায় তিনি মাছটির দাম হাঁকেন প্রতি কেজি ১ হাজার ৩০০ টাকা। পরে মাছটি কেটে বিক্রি করেন।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী জাফর আলম বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় বাজারে মাছের সংকট চলছে। তবে কিছু জেলে নাফ নদীতে বড়শি ফেলে কোরাল, দাঁতিলা ও পোপা মাছ ধরছেন। এর আগেও কয়েকজন জেলের বড়শিতে ১০ থেকে ১৫ কেজি ওজনের কোরাল মাছ ধরা পড়েছিল। নাফ নদীর কোরাল ও ইলিশের স্বাদও বেশ জনপ্রিয়।

ঈদ উদ্‌যাপনে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার। তবে এখনো মূল চাপ বাকি আছে। রেল ও পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘরমুখী মানুষের মূল ভিড় হবে

আগামী সোম থেকে বুধবার—এই তিন দিন। একদিকে ঢাকা থেকে মানুষ ছুটবে বাড়ির পথে আর ঢাকার পথে আসতে থাকবে কোরবানির পশু।

এবার দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর অবস্থা মোটামুটি ভালো বলা যায়। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-উত্তরবঙ্গের পথে জটের আশঙ্কা আছে। ইতিমধ্যে হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কের ৯৪টি স্থান চিহ্নিত করেছে, যেসব স্থানে যানজট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর মধ্যে বড় সেতুর বেশ কিছু টোল প্লাজা, মোড় এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাজার এলাকা রয়েছে। ফলে শেষ তিন দিনের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি হবে কি না, তা ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আগামী সোম থেকে বুধবার—এই তিন দিন। একদিকে ঢাকা থেকে মানুষ ছুটবে বাড়ির পথে আর ঢাকার পথে আসতে থাকবে কোরবানির পশু।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে ঈদের আগের তিন-চার দিনে ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়েন। বিশেষ করে ঈদুল আজহায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়েন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩৫ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। কিন্তু বাস, ট্রেন, লঞ্চ, মোটরসাইকেলসহ সব মিলিয়ে ২২ লাখ মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে। অন্যদের চাহিদা মেটাতে চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন নেমে যায়।

এবার পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি সাত দিন। ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি থাকবে। গত কয়েকটি ঈদে লম্বা ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এতে কিছুটা সফলতাও পাওয়া গেছে। তবে শেষ দু-তিন দিনের চাপ রয়েই গেছে।

হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কের ৯৪টি স্থান চিহ্নিত করেছে, যেসব স্থানে যানজট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিন মহাসড়ক নিয়ে উদ্বেগ বেশি

প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে হাইওয়ে পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গাজীপুর অঞ্চলের পক্ষ থেকে এবার যানজটপ্রবণ হিসেবে ৯৪টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থান দেশের মূল সাতটি মহাসড়কের ওপর পড়েছে। এই সাত মহাসড়ক দেশের প্রায় সব বিভাগ ও জেলাকে সংযুক্ত করেছে।

৫ মে সচিবালয়ে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে ঈদ প্রস্তুতিমূলক সভা হয়। সেখানে ৯৪টি যানজটপ্রবণ স্থানের বিস্তারিত তুলে ধরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্য দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

হাইওয়ে পুলিশের তালিকায় সবচেয়ে বেশি যানজটপ্রবণ মহাসড়ক হচ্ছে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এই তিন মহাসড়কের মধ্যে উত্তরের পথে ২৫টি, চট্টগ্রামের পথে ২৫টি ও সিলেটের পথে ২১টি যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে।

ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল হয়ে উত্তরের পথে যাতায়াতের মহাসড়কে গাজীপুরের চন্দ্রা উড়ালসড়কের পশ্চিম প্রান্ত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই পথে চার লেনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু কিছু পাতাল ও উড়ালসড়কের কাজ এখনো কিছুটা বাকি আছে। এসব স্থানে যানজটের আশঙ্কা করছে হাইওয়ে পুলিশ।

এ ছাড়া ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের মধ্যে প্রচুর পোশাক কারখানা রয়েছে। অনেক কারখানার পাশে মহাসড়কের বিভাজক কেটে পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেগুলোতেও যানজটের শঙ্কা করা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশের বাসস্ট্যান্ড এবং বাজারগুলোকেও নজরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের তালিকায় সবচেয়ে বেশি যানজটপ্রবণ মহাসড়ক হচ্ছে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এই তিন মহাসড়কের মধ্যে উত্তরের পথে ২৫টি, চট্টগ্রামের পথে ২৫টি ও সিলেটের পথে ২১টি যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প চলছে। এর মধ্যে আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড় গত দুই ঈদে যাত্রীদের ভুগিয়েছে। এবারও এই দুটি স্থানে খানাখন্দ রয়েছে। আছে অব্যবস্থাপনাও। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্প এলাকার অনেক স্থানে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধ্যে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজায় প্রায়ই যানজট হয়। এবার ঈদেও সেতুর টোল প্লাজা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লার মাধাইয়া, চান্দিনা ও নিমসার বাজারগুলো মহাসড়কের পাশেই। এই এলাকাতেও যানজট হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে হাইওয়ে পুলিশ। ঢাকা-বরিশাল পথে মহাসড়কের অবস্থা ভালোই। তবে মাদারীপুরের মোস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা থেকে বের হওয়া নিয়ে ভয়

ঢাকা থেকে বের হওয়ার সবচেয়ে বড় তিনটি পথ হলো গাবতলী-সাভার, উত্তরা-আবদুল্লাহপুর ও মেয়র হানিফ উড়ালসড়ক। ঈদুল আজহায় এই তিন পথেই কোনো না কোনো বাধা রয়েছে। মেয়র হানিফ উড়ালসড়কের টোল প্লাজা হয়ে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-মাওয়া—এই তিন পথের যানবাহন চলাচল করে। গত কয়েকটি ঈদে এ উড়ালসড়কের টোল পরিশোধ করতে গিয়ে দীর্ঘ জট হয়েছে। এবারও সেই শঙ্কা কাজ করছে।

উত্তরা হয়ে ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গের পথে যান চলাচল করে। বিমানবন্দর-গাজীপুরের মধ্যে বিআরটি প্রকল্পের কারণে এই পথে দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া ঢাকা-আশুলিয়া উড়ালসড়ক নির্মাণকাজের জন্যও ভোগান্তি হচ্ছে এখনই। তুলনামূলকভাবে গাবতলী হয়ে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাতায়াতের পথ অনেকটাই মসৃণ। কিন্তু গাবতলী পশুর হাট, সাভারের হেমায়েতপুরে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে জট বাড়তে পারে।

হাইওয়ে পুলিশের তালিকায় সবচেয়ে বেশি যানজটপ্রবণ মহাসড়ক হচ্ছে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এই তিন মহাসড়কের মধ্যে উত্তরের পথে ২৫টি, চট্টগ্রামের পথে ২৫টি ও সিলেটের পথে ২১টি যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে।

গত শুক্রবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর থেকে চন্দ্রা মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, সাভারের পাকিজা পয়েন্ট, থানা স্ট্যান্ড, সাভার বাজার, নবীনগর এবং নবীনগর থেকে চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল, পল্লী বিদ্যুৎ ও বলিভদ্র এলাকায় বেপরোয়াভাবে মহাসড়কে নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। সাভার, নবীনগর, রেডিও কলোনি ও বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীপরিবহন বাসগুলোকে মহাসড়কের নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচলের লেনে আড়াআড়ি করে পেছনের বাসকে আটকে দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাতে দেখা যায়। বাসস্ট্যান্ডের নির্দিষ্ট স্থান ছাড়াও এলোমেলোভাবে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাতে দেখা যায়।

রংপুর থেকে ঢাকাগামী আসাদ পরিবহনের চালক শামীম বলেন, এখন সড়কে সমস্যা তেমন নেই। ঈদের আগে সমস্যা হবে। সড়কে পুলিশ ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করলে সমস্যা কম হবে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা জেলা (উত্তর) ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল বলেন, মহাসড়কে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগামীকাল (রোববার) সকাল আটটা থেকে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত আরও ৬৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড মোড় গোল চত্বরকেন্দ্রিক যানজট নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান উন্নয়নকাজের জন্য গোলচত্বর এলাকা একদিকে সংকীর্ণ আর মহাসড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড, অন্যদিকে খানাখন্দের কারণে এ অবস্থা চলছে। মহাসড়কের ৩৪ কিলোমিটার অংশে ঈদ উপলক্ষে যানবাহনের চাপ বেড়ে যানজট হচ্ছে।

গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হাইওয়ে পুলিশের সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রেজাউল করীমকে বিশ্ব রোড মোড় গোলচত্বরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তিনি মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছেন। তবে মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য অবৈধ যানবাহনকে অনিয়ন্ত্রিত থাকতে দেখা গেছে।

উদ্যোগ আছে, এরপরও শঙ্কা

অবশ্য সরকার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিজিবি বলেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের সাত দিন আগে থেকে শুরু করে ঈদ–পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত বিজিবির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা, মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে তাঁরা সহায়তা করবেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। এ ছাড়া রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে তাঁদের তদারকি দল কাজ করছে।

চার লেনের চওড়া সড়ক হয়েছে। তবে সক্ষমতা বাড়েনি। আছে অব্যবস্থাপনাও। ঈদে সরকারের সংস্থাগুলো গায়ে-গতরে খেটে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। তবে কোনো দুর্ঘটনা, বৃষ্টি কিংবা অন্য কোনো সমস্যা হলে সেই চেষ্টা কাজে দেয় না। ফলে ভোগান্তি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।বুয়েট পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহনবিশেষজ্ঞ মো. হাদীউজ্জামান

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর এবং সেতু বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ১২টি সেতুতে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে টোল আদায় ব্যবস্থা চালু করেছে। টোল প্লাজায় যন্ত্র থাকবে, সেখানে কার্ড স্পর্শ করে দ্রুত পারাপার হওয়া যাবে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিবহন ব্যবসায় যুক্ত সূত্রগুলো বলছে, ঈদের আগে বৃষ্টি হলে জট বেড়ে যেতে পারে। কারণ, অনেক মহাসড়কে উন্নয়নকাজ শেষ হয়নি। আর বৃষ্টিতে যানবাহনের গতি কমে যায়। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, ঈদে চলাচলের অনুপযোগী বাস নামে। ঈদুল আজহায় এর সঙ্গে চলাচল অনুপযোগী ট্রাকও নামে। এসব ট্রাক ফিরতি পথে আবার যাত্রী নিয়ে যায়। এসব বিষয়ে ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি হলে যানজটের ঝুঁকি বাড়বে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহনবিশেষজ্ঞ মো. হাদীউজ্জামান বলেন, চার লেনের চওড়া সড়ক হয়েছে। তবে সক্ষমতা বাড়েনি। আছে অব্যবস্থাপনাও। ঈদে সরকারের সংস্থাগুলো গায়ে-গতরে খেটে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। তবে কোনো দুর্ঘটনা, বৃষ্টি কিংবা অন্য কোনো সমস্যা হলে সেই চেষ্টা কাজে দেয় না। ফলে ভোগান্তি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।

ইবোলা–আশঙ্কায় ডিআর কঙ্গো ফুটবল দলকে তিন সপ্তাহের আইসোলেশনে থাকতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। নইলে বিশ্বকাপের জন্য দলটির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আটকে দেওয়া হতে পারে সতর্ক করা হয়েছে। তবে ডিআর কঙ্গো দলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই।

বিশ্বকাপের হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি শুক্রবার জানান, ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর কঙ্গোর ফুটবল দলকে বেলজিয়ামে তাদের অনুশীলনের জায়গায় একটি ‘বাবল’ (সুরক্ষা বলয়) বজায় রাখতে হবে এবং ২১ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে, অন্যথায় তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার ঝুঁকিতে পড়বে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে, একটি কলম্বিয়ায়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রথম ম্যাচ ১৭ জুন পর্তুগালের বিপক্ষে। এই ম্যাচের জন্য ডিআর কঙ্গো দলের মূল ঘাঁটি থাকবে হিউস্টন। জুলিয়ানি ইএসপিএনকে বলেন, ‘আমরা কঙ্গোকে খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি আগামী ১১ জুন হিউস্টনে আসার আগে তাদের অবশ্যই ২১ দিন সুরক্ষাবলয়ে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।’ কঙ্গো সরকারকেও বিষয়টি বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে ডিআর কঙ্গো দলটি বেলজিয়ামে আছে। সেখানে আগামী ৩ জুন ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং ৯ জুন স্পেনের মাটিতে চিলির বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে তাদের। আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিআর কঙ্গোর এক মুখপাত্র বেলজিয়াম ও স্পেন সফরের পরিকল্পনা অপরিবর্তিত রাখার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আমাদের অনুশীলন কর্মসূচি অপরিবর্তিত রেখেছি। স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড় ডিআর কঙ্গো থেকে আসেননি।’

কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রেসহ দলের সব খেলোয়াড়ই ডিআর কঙ্গোর বাইরে থাকেন, অনেকেই খেলেন ইউরোপের ক্লাবে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ডিআর কঙ্গো থেকে কয়েকজন দলীয় কর্মকর্তা বেলজিয়ামের অনুশীলন ক্যাম্পে এসে পৌঁছেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডিআর কঙ্গোয় ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ নামের একটি বিরল ধরন জাতীয় প্রাদুর্ভাবে রূপ নেওয়ার ‘অত্যন্ত উচ্চ’ ঝুঁকি আছে বলে জানিয়েছে। সেখানে ও প্রতিবেশী উগান্ডায় এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জরুরি অবস্থা হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ১১ বছর এবং ৭ বছর বয়সী দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২২ মে) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোনে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের খুলশীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আমবাগান নালাপাড়া থেকে একজন কলার ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে জানান, সেখানের মসজিদের ইমাম মক্তবের ১১ বছর এবং ৭ বছর বয়সী দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন এবং শ্লীলতাহানি করেছেন। শিশু ছাত্রী দুজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী মসজিদের ভেতর ইমামকে আটকে রাখে।

৯৯৯ থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য খুলশী থানায় জানানো হয়। ৯৯৯ নম্বরে কলটি গ্রহণ করেছিলেন কলটেকার কনস্টেবল সমীর এবং বিষয়টি উদ্ধার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তদারক এবং সমন্বয় করছিলেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এএসআই সিরাজুল ইসলাম।

সংবাদ পেয়ে খুলশী থানার একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিপীড়িত শিশু দুজনের বক্তব্য গ্রহণের পর অভিযুক্ত ইমাম ও মক্তব শিক্ষক আব্দুল বাতেনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে। এ সংক্রান্তে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বিচারার্থে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।