নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যখন নির্দেশনা দেবে তখনই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে বলে গণমাধ্যকে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের চমৎকার দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান।

জানা গেছে, সেনাপ্রধান বলেছেন, দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে এবং সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। দেশের জনগণের স্বার্থে যা করণীয় ছিল, তা সম্পন্ন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এখন নতুন সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই তারা ব্যারাকে ফিরে যাবে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত যে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তা এরইমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে।

আরও জানা গেছে, ভাষণে সেনাপ্রধান ইউনিটপ্রধানদের চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সেনাসদস্যদের মনোবল দৃঢ় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন।

এছাড়া মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন বিষয়ে সতর্ক এবং সচেতন থাকার জন্য সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান সেনাপ্রধান।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন—এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আজ রোববার রাতে বাহারুল আলমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, পদত্যাগ করেননি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামী মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকার শপথ নেবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র বলছে, আজ পুলিশ সদর দপ্তরে নির্বাচন-পরবর্তী একটি সভা হয়েছে। সেখানে আইজিপি পদত্যাগ করবেন বলে উপস্থিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। তখন কর্মকর্তারা বলেছেন, দু-এক দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হবে। এরপর তাঁকে পদত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়েছে, আইজিপির পদত্যাগ–সংক্রান্ত সংবাদটি সঠিক নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বাহারুল আলম ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তাঁকে আইজিপি পদে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বাহারুল আলমকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছর মেয়াদে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। সে হিসাবে আইজিপি হিসেবে বাহারুল আলমের মেয়াদ আরও ৯ মাসের বেশি রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা আগামী মঙ্গলবার জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন। তাঁরা ফিরবেন ওই গাড়িতেই। তবে তখন আর গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টাদের নিয়ে কথা বলেন প্রেস সচিব।

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গ তুলে একজন সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘উপদেষ্টা যাঁরা তাঁরা শপথের (নতুন মন্ত্রিসভার) দিন থাকবেন, তাঁরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং শপথের দিন তাঁরা পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন। যখন শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে, আসার সময় ওই গাড়ি তাঁদের বাসায় পৌঁছে দেবে, কিন্তু পতাকা থাকবে না।’

উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘তাঁরা সবাই দেশেই আছেন, তাঁরা দেশের গর্বিত সন্তান। ভবিষ্যতে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ অ্যাফোর্ট দেবেন।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল। আগামী মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক বিদায় হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাত ৮টায় বসুন্ধরা থেকে নাহিদ ইসলামের বেইলি রোডের বাসার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডে নাহিদের বাসায় পৌঁছান তিনি৷ এ সময় বাসার সামনে এগিয়ে এসে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান নাহিদ ইসলাম।

এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

এর আগে ,সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে তিনি জামায়াত আমিরের বাসায় প্রবেশ করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটের শরিকদের আরও ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি জোটের বর্তমান আসনসংখ্যা ২১২। দীর্ঘ দেড় দশক পর এমন ‘ভূমিধস’ বিজয় দলটির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক বিজয়ে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

 

আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় গেজেট প্রকাশে কমিশন কোনো তরিঘড়ি করেনি জানিয়ে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আইনের মধ্যে থেকেই কাজ করা হয়েছে। সঠিক সময়ে গেটেজ প্রকাশ হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের ফলাফল ঘোষণার পুনর্বিবেচনার বিষয়টি অপ্রসঙ্গিক। তবে, আইনের দ্বারস্থ হতে কোনো বাধা নেই কোনো অভিযোগকারীর। আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সফল হয়েছে কমিশন। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পূরণ হয়েছে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

এদিকে শেরপুর-৩ আসনের ব্যাপারে এখনও ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও জানিয়েছেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

 

দেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও সহিংসতাহীন একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, এবারের নির্বাচনে কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়নি এবং পুলিশ বাহিনী তাদের হারানো মর্যাদা ফিরে পেয়েছে। প্রযুক্তি ও সুরক্ষা অ্যাপের ব্যবহারের ফলে নির্বাচন স্বচ্ছ হয়েছে।

তিনি জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের এবং বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

শফিকুল আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনআকাঙ্ক্ষার সরকার ছিল এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তারা সফল। ভোটারদের ৬০ শতাংশ উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, তারা পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে নাটক করে গুম করা হতো। এ সরকারের আমলে এমন কোনো ঘটনা হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭, জামায়াত ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইসির জনসংযোগ শাখা এ তথ্য জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে বিএনপি জোট ২১২ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আর ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।

১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ী ব্যক্তিদের গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি।

 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন তিনি। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় পৌঁছান। এছাড়া রাত ৮টায় নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটের শরিকদের আরও ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি জোটের বর্তমান আসনসংখ্যা ২১২। দীর্ঘ দেড় দশক পর এমন ‘ভূমিধস’ বিজয় দলটির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিতরা। একইসাথে সংসদ ও রাজপথে থাকবে তারা, জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। 

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশনে, ভোট গ্রণন, গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানায় ১১ দলীয় জোট। এ সময় ৩২টি আসনে পুনরায় ফল গননার জন্য আবেদন করা হয়। 

কমিশনের সাথে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে হামিদুর রহমান জানান, ইসি কোনও পদক্ষেপ না নিলে আইনী পদক্ষেপে যাবে জোট। বড় ধরনের ঘটনা না ঘটলেও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মত অনুষঙ্গ ছিলো। তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশের পেছনে অন্য কারন আছে কী না খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। 

তিনি বলেন, ভোট কাস্টিং কম হয়েছে। ভীতি কর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আমরা যারা এগারো দল একসাথে ইলেকশন করেছি, তাদের পক্ষ থেকে বারবার কমিশনকেও বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবেও বলা হয়েছে। কিন্তু এটার কোনো পদক্ষেপ আমরা সন্তোষজনভাবে পাইনি। নির্বাচন শেষ হয়েছে সাড়ে চারটায়। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী সাড়ে সাতটায় শুরু হয়েছে। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পার হওয়ার পরও দেখা গেছে ভোট কাস্টিং আশানুরূপ ছিল না। 

জামায়াতের এই নেতা শেষদিকে কিছু কিছু কেন্দ্রে যে ভোট কাস্ট হয়েছে, সাড়ে চারটার মধ্যে যে রেজাল্ট রেকর্ড আমরা পেয়েছি, পূর্ণাঙ্গ রেজাল্ট হওয়ার পর একই কেন্দ্রে অস্বাভাবিকভাবে ভোট কাস্টিং দেখানো হয়েছে। তাহলে অতিরিক্ত ব্যালট ব্যবহার হয়েছে কী না এটাও প্রশ্ন থেকে যায়। সব মিলিয়ে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যে এই ত্রুটিগুলো লক্ষ্য করা গেছে। 

ভোট গণনায় অসঙ্গতি হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ভোট গণনার ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও এজেন্টকে ফোর্স করে বের করে দেয়া হয়েছে। আবার যারা ছিলেন তাদের নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অভিযোগ দিলে হুমকি ধামকি দেয়া হয়েছে এ ধরণের অভিযোগও আছে। অর্থাৎ সুষ্ঠু গণনার যে পরিবেশ দরকার সেটা কোথাও কোথাও ব্যাহত হয়েছে।

আরও বলেন, ভোট গণনার মধ্যে যদি ত্রুটি থেকে যায় ফলাফলে তার প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। এমনটা রেজাল্ট শিটেও দেখা গেছে ঘষামাজা কাটাকাটি ওভার রাইটিং এবং অনেক জায়গায় যে অরিজিনাল এজেন্ট ছিলেন রেজাল্ট শিটে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। যেমন ঢাকা ছয় আসনে রেজাল্ট শিট পেন্সিলে লিখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল রাজপথে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করবে ১১ দলীয় জোট

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। সরকার গঠনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কারা কোন দফতর পাচ্ছেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা। এই যখন অবস্থা, তখন ভোটে পরাজিত জামায়াত জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বললেন, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।

মূলত, ছায়া মন্ত্রিসভা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে বিরোধী দল থেকে একদল জ্যৈষ্ঠ সদস্য একটা মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এটি সরকারের মন্ত্রিসভার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এখানে, সরকারী মন্ত্রিসভার প্রতি সদস্যের বিপরীতে একজন ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য থাকেন যিনি সরকারে থাকা মন্ত্রীর কাজকে বিশ্লেষণ করেন এবং প্রয়োজনে বিকল্প পথ তুলে ধরেন।

উন্নত বিশ্বের কিছু দেশে এর অস্তিত্ব রয়েছে যারা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কেবল বিরোধী দল হয়েই সংসদে কথা বলেন না, সরকারের মন্ত্রিসভার আদলে কিছুটা ছোট পরিসরে বিরোধী দলের একটা 'কেবিনেট প্ল্যাটফর্ম' রূপে কাজ করেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ ও জামায়াত জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। বাকিগুলোতে জিতেছে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য কিছু দলের প্রার্থীরা।

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের মাধ্যমে আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকার।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন ও পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তবে, এরই মধ্যে এ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ভারতের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তারেক রহমানের দল বিএনপির নেতারা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

কিন্তু, ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি থাকায় নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নিতে ভারতে সফরে আসছেন ম্যাক্রোঁ এবং তার সফর শুরু হবে মুম্বাই থেকেই।

অবশ্য, মোদি না এলেও তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে একজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। খুব সম্ভবত উপ-রাষ্ট্রপতি বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় যেতে পারেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ভারতীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে চায় না, যদিও সম্পর্ক তলানিতে নেমে যাওয়ায় তা পুনরায় পুনর্গঠন করা এখনও দিল্লির কাছে অগ্রাধিকার।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এর আগে, গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই ফোনালাপে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার আগামী মঙ্গলবার শপথ নিতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।

প্রসঙ্গত, আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পায় বিএনপি জোট।

১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা। ওই দিন সকালে তাঁদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।