দেশে সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া একটি রহস্যজনক রোগের পেছনে নিপাহ ভাইরাস নয়, বরং বাদুড়বাহিত নতুন একটি ভাইরাস দায়ী এমন তথ্য উঠে এসেছে সর্বশেষ গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, আক্রান্তরা প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি)-এ সংক্রমিত হয়েছিলেন, যা মানুষের জন্য মারাত্মক স্নায়ুবিক ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

গবেষণায় জানানো হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের উপসর্গের মধ্যে ছিল জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ এবং স্নায়ুবিক সমস্যা। আক্রান্ত পাঁচজনই খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন যা বাদুড়ও খেয়ে থাকে এবং আগে নিপাহ সংক্রমণের একটি পরিচিত মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।

প্রাথমিকভাবে রোগটি নিপাহ ভাইরাসজনিত বলে ধারণা করা হলেও পরীক্ষায় দেখা যায়, কারও শরীরেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নেই। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর সবাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তিনজন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট ও হাঁটাচলার জটিলতায় ভুগছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়, যার সুনির্দিষ্ট স্নায়বিক কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই রোগের প্রকৃত কারণ প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি) একটি বাদুড়বাহিত ভাইরাস। গবেষকদের মতে, ভাইরাসটি জিনগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা জনগণকে খেজুর গাছ থেকে নামানো কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকার, রোগতত্ত্বীয় নজরদারি জোরদার, এবং দ্রুত গবেষণা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: ব্যক্তিগত সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

 

লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রস্তুতকৃত ভোটের ৬টি সিলসহ আটক ব্যবসায়ী সোহেল রানা এবং আরও একজনের নামে মামলা করা হয়েছে। মামলায় সোহেলকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, পুলিশ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় দুইজনের নামে মামলা করে।

তিনি বলেন, দুইজনের নামে মামলা করা হয়েছে। আটক সোহেলকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। এসময় সে এই ঘটনার সাথে জড়িত পৌর ৪নং ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক শরিফ হোসেন সৌরভের নামও স্বীকার করেন।

এদিকে সিল জব্দের ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপি ও জামায়াত পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সিলকান্ডের সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতাসহ আটক সোহেলকে জামায়াতের কর্মী বলে দাবি করেন।

পরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে একই আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম আটক সোহেল জামায়াতের কেউ নয় বলে জানিয়েছেন।

গ্রেফতার সোহেল সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে ও জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কের মারইয়াম প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে তার দোকান থেকে ১৬ ঘর বিশিষ্ট ৬টি ভোটের সীল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল জব্দ করে পুলিশ। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ফরিদপুরকে বিভাগ করার যে দাবি রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেলে তা পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এজন্য ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরের ঐতিহাসিক সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতার তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

ফরিদপুরের অন্যতম সমস্যা নদী ভাঙন সমস্যা সমাধান করার প্রতিশ্রুতিও দেন। সেইসাথে পানি সংকট সমাধানে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কথা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। কৃষকদেরকে সহযোগিতা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথাও বলেন। এজন্য দলটির প্রতিশ্রুত 'কৃষক কার্ডের' সুবিধার কথা তুলে ধরেন তিনি।

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটের অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। জনগণ তাদের গুপ্ত নামে ডাকে। সময় হলে তাদের এক রুপ, আবার আরেক রুপ। এরা শুধু রুপের পরিবর্তন করে তা নয়, জনগণের ওপর তাদের আস্থা ও বিশ্বাস নেই। তার উদাহরণ— মেয়েদের নিয়ে গুপ্তদলের প্রধান অত্যন্ত নোংরা কথা বলেছেন। তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। একাত্তরে তাদের ভূমিকা দেখেছে মানুষ।

তিনি আরও বলেন, তারা মুখে বলবে একটা, কাজ করবে আরেকটা। যারা নিজের দেশের মা-বোনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, খারাপ কথা বলে, তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। যারা অনৈতিকভাবে কাজ শুরু করেছে, তারা কীভাবে সৎ লোকের শাসন দেবে, সেই প্রশ্ন-ও তুলেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, তার দল ক্ষমতায় গেলে জনগণের শাসন কায়েম করা হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহি সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশ গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায় বিএনপি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যে দলের নেতার মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান নেই, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ কখনও অগ্রগতি আশা করতে পারে না।

আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল বেলস পার্ক মাঠে বিএনপির বিভাগীয় নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন জালেমের আবির্ভাব ঘটেছে। গুপ্ত সংগঠনের লোকেরা নতুন জালেমে পরিণত হয়েছে। নতুন জালেমদের নেতা বাংলাদেশের নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছে। যে দলের নেতার মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা ও সম্মান নেই, তাদের কাছে থেকে বাংলাদেশ কখনও অগ্রগতি আশা করতে পারে না।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের পেছনে ফেলে, নারীদের ঘরে বন্ধ করে রেখে কোনোভাবে সামনে এগোনো যাবে না। দেশ গড়তে হলে নারী-পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, গুপ্ত সংগঠনের নেতারা ভুয়া সিল ছাপাচ্ছে, বিভিন্ন প্রেসে জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। নির্বাচনের আগেই যারা অনৈতিক কাজ করে ভোটকে প্রভাবিত করছে, তারা কী করে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে? আইডি হ্যাকের নামে মিথ্যা কথা বলে যারা, তারা সৎ মানুষ হতে পারে না।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অধিকার কেউ যেন হাইজ্যাক করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ভোলার গ্যাস কাজে লাগিয়ে দক্ষিনাঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। বরিশাল-ভোলা সেতু, ভোলায় মেডিকেল কলেজ, নদী ভাঙ্গন সমস্যার সমাধানের জন্য ধানের শীষে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীতে বিজয়ী করতে হবে।

নির্বাচিত হলে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ৫ বছর জনগণের পা ধরে থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নারীদের নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট ইস্যুতে মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম নামে বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তাকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক ওই কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি দপ্তরের এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত আছেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে তাকে আটক করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানিয়েছেন, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনিতে অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর এ অভিযান শুরু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, জামায়াত ইসলামির আমিরের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাককারীকে ধরতে মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে অভিযান চালাচ্ছে ডিবি পুলিশ।

এ বিষয়ে আগে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, একটি অভিযান চলছে। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যার একটি অংশ অনুবাদ করলে দাঁড়ায়— ‘আমরা বিশ্বাস করি যে যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়। এটি অন্য কোনো রূপে পতিতাবৃত্তির মতোই।’ 

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় দেশব্যাপী। তবে, ১ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল। জামায়াত আমির এরকম কোনও পোস্ট করেননি। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে এ নিয়ে জিডিও করা হয় থানায়।

পরে ওই রাতেই নিজের এক্স পোস্টে জামায়াত আমির দাবি করেন, আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই যে, আমার অ্যাকাউন্টটি সম্প্রতি হ্যাক করা হয়েছিল এবং সেখানে আমার নামে ভুয়া কিছু লেখা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে, অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর থানায় জিডি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। বিশেষ করে বিষয়টি নিয়ে বেশ সরব ভূমিকা পালন করছে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি।

এদিকে তুমুল বিতর্কের মধ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘটনাটি নিয়ে তদন্তে নেমেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাকের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও অগ্রগতি জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার পর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স আইডি হ্যাকারদের কবলে পড়ে। পরে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে ওই আইডি থেকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় আইটি টিম দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে আইডিটির পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আইডিটি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে একটি জরুরি ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ওই রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পরদিন সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সে সময় হ্যাকিংয়ের উৎস ও পদ্ধতি নিয়েও একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয় বলে জানায় জামায়াত।

দলটির দাবি, তদন্তে দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অফিসিয়াল ই-মেইলসহ একাধিক অফিসিয়াল ঠিকানায় একটি ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফিশিং মেইলটি বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় মঙ্গলবার সরাসরি বঙ্গভবনে গিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি করে জামায়াত। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

কালো পোশাকের র‍্যাবকে আর দেখা যাবে না। পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটকে ডাকাও হবে নতুন নামে। কারণ, র‍্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) নাম বদলে হচ্ছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। নাম ও পোশাকের পাশাপাশি এই বাহিনীর কার্যক্রমেও সংস্কার আনা হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, র‍্যাব পুনর্গঠনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজের সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ সুপারিশ করেছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, খুব শিগগির এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। প্রজ্ঞাপন জারি হলে এ বাহিনী ‘নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে’ কাজ শুরু করবে।

বিএনপি–জামায়াত জোট সরকার আমলে দুই দশক আগে সন্ত্রাস দমনে পুলিশের বিশেষ ইউনিট হিসেবে র‍্যাব গঠন করা হয়। এই ‘এলিট ফোর্সে’ পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি যুক্ত করা হয় সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, বিজিবিসহ অন্য বাহিনীগুলোর সদস্যদেরও।

র‍্যাবের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই ইউনিটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রথম অপারেশনাল দায়িত্ব পালন শুরু হয় ওই বছরের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ওই বছরের ২১ জুন থেকে র‍্যাব পূর্ণাঙ্গভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য সমালোচিত হতে থাকে র‍্যাব। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছিল। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার বিলুপ্তির পথে না গিয়ে এই বাহিনীর নাম ও পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল। অন্তর্বর্তী সরকার এর আগে পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনও করেছে।

৭ হাজার ৭৩১টি অস্ত্র উদ্ধার

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও জানানো হয়।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলী হায়দার সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সশস্ত্র বাহিনী ১৯৯টি অস্ত্র ও ১ হাজার ৯৭২টি গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৮০৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও র‍্যাবের খোয়া যাওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৪ হাজার ৪৩২টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কারা কর্তৃপক্ষের হারিয়ে যাওয়া ৬৫টি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলী হায়দার সিদ্দিকী জানান, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৬ হাজার ২২৩ জন সদস্য এখন মোতায়েন রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, আইজিপি বাহারুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সীমিত রেখে সব শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

  • আইন কার্যকর হওয়ার তিন বা পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার, সহায়ক পুস্তক, প্রাইভেট টিউশন স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া নেবে।

ঢাকা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১৫০ কিলোমিটার। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (ইএমএসসি) এবং ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-ও একই তথ্য প্রদান করেছে।

ভূমিকম্পটি মৃদু হওয়ায় এবং গভীরতা বেশি থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

গত কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হচ্ছে, যা নিয়ে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যশোরে একটি শিল্প আছে। সেটি হলো ফুল চাষ। গার্মেন্টেসের জামাকাপড় যেমন এক্সপোর্ট হয়, তেমনি আমরা ফুল বিদেশে এক্সপোর্ট (রফতানি) করতে চাই।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এরআগে তিনি খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি যশোরে এসে জনসভায় যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার বিএনপি প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দেন। তাদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান তারেক রহমান।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বলেছেন, ‘নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে একটি রাজনৈতিক দল উঠেপড়ে লেগেছে।

বক্তৃতায় নাম উল্লেখ না করে জামায়াত আমিরের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন। দেশের মানুষ যখন আন্দোলন শুরু করেছেন, তারা বাঁচার জন্য এখন বলছেন, তার অ্যাকাউন্ট নাকি হ্যাকড। প্রশাসনের লোকজন বলেছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। ওই রাজনৈতিক দল মিথ্যা কথা বলছে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান আরও বলেন, যারা দেশের মানুষের কাছে মিথ্যা কথা বলে, তারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। এটাই তাদের চরিত্র। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। 

তারেক রহমান বলেন, তাদের ভূমিকার কারণে একাত্তর সালে লাখ লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোমের মিয়া। এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জামিনের বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে বীভৎসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় গত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

মেয়াদের শেষ সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটার আলোচনা এবং কিছু ক্ষেত্রে চুক্তি করছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়টিকে চলমান প্রক্রিয়ার অংশ বলেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করতে যান। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো নিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকেরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটা চলমান প্রক্রিয়া।’

পরবর্তী সরকার এগুলো এগিয়ে না নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতির কী হবে, সে প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, এটি অনুমাননির্ভর প্রশ্ন।

সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে। কোনো দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন না—এমন সমালোচনার জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, দুনিয়ার সব দেশে বিমান নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলো ছিল, রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাই হত্যার বিচার ও জাতীয় নির্বাচন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ড্রোন কারখানা তৈরি নিয়ে চীনের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে চুক্তি, পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনা, চীন থেকে জে-১০ সি যুদ্ধবিমান কেনা, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরো ফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনা, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার, ৬৫০ কোটি টাকায় যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো কাজগুলো হাতে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

সরকার যদি মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইফতেখারুজ্জামান এ মন্তব্য করেন। ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মব সন্ত্রাস যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সেটি অন্য সবকিছুর মতো নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে সরকারেরও দায় আছে। সরকার শুরু থেকে মব সহিংসতা প্রতিরোধে তৎপরতা দেখাতে পারেনি।

মবের উৎপত্তি নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশে মব সহিংসতা শুরু হয়েছে সরকারের ভেতর থেকে। দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রথম মবের উৎপত্তি হয়েছিল। সরকারের বাইরের শক্তি যারা এখন মব করছে, তারা ক্ষমতায়িত হয়েছে সচিবালয়ে মব সৃষ্টির পরে। এর ফলে সরকারের নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর একটি হত্যাকাণ্ডও হবে না—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, আর যেন নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা না হয়। তবে সহিংসতার ঝুঁকি শুধু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত নয়, এর পরবর্তী কয়েক দিনও থাকতে পারে। সরকার এই ঝুঁকির বিষয়টি ভালোভাবেই জানে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ও সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

অবশ্য বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনী ইতিহাসের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান জুলাই-পরবর্তী জবাবদিহির প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢালাওভাবে মামলায় জড়িয়ে সাংবাদিকদের আটক রাখা হয়েছে। পেশাগত অবস্থান অপব্যবহারের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া কতটুকু বিচার আর কতটুকু প্রতিশোধ—সে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধী, কর্তৃত্ববাদের দোসরদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা কতটুকু সম্ভব ও গ্রহণযোগ্য হবে, সে প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।

প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির মতো অপরাধের প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ন্যায়সংগত ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনীতিবিদ ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। তারা তাদের স্বার্থ বজায় রাখতে চায়। এ কারণে ঐকমত্য কমিশনে জনগণের কাছে জবাবদিহি সরকারব্যবস্থার জন্য যে পদ্ধতিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি ছিল।

নোট অব ডিসেন্টের মৌলিক কনসেপ্ট ধারণ করলে আপত্তি থাকলেও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য বা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটিই বাস্তবায়িত হবে বলে মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার রীতি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত আছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটি হবে কি না, সেটি দেখার বিষয়। গণভোটের রায় ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গেলে সে ক্ষেত্রে যারা সরকারে যাবে, তাদের সদিচ্ছার ওপর সংস্কার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।

সরকারের সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ ও গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে সমালোচনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, মিডিয়া বিশেষভাবে সরকার কর্তৃক উপেক্ষিত হয়েছে এবং মিডিয়ার প্রতি নতুন করে ঝুঁকি সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভেতরের ও বাইরের শক্তি কাজ করেছে। বাইরের শক্তিকে সরকারই অতিক্ষমতায়িত করেছে।

গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরাপদে কাজ করুক—এ চিন্তাভাবনা অন্তর্বর্তী সরকার ধারণ করেছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, দুটি মিডিয়া কমিশন লোকদেখানো পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয়।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচারক নিয়োগ কমিটি, স্বাধীন বিচার বিভাগ সচিবালয়ের মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সচিবালয় কতটুকু কার্যকর হবে, তার জবাব পরবর্তী সরকারকে দিতে হবে। এ ছাড়া বিচারব্যবস্থার ভেতরে দলীয়করণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

গণতান্ত্রিক সংস্কার সফল করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান।