নৌবাহিনীর জন্য যুক্তরাজ্য থেকে একটি জরিপ জাহাজ কিনতে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার যুক্তরাজ্য হাইকমিশন আজ রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জরিপ জাহাজ বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব জোরদার করছে।

যুক্তরাজ্য হাইকমিশন জানিয়েছে, ইকো-ক্লাস হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’-এর জন্য জিটুজি বিক্রয় চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও যুক্তরাজ্য। চুক্তি সই অনুষ্ঠানটি ঢাকায় নৌ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও দেশটির রাজকীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জরিপ কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সেবার জন্য পরিচিত এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ জাহাজটি এখন বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। জাহাজটি হাইড্রোগ্রাফিক, ওশানোগ্রাফিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অবদান রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য গবেষণার সুযোগ দেবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের পক্ষে ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে কমান্ডার লি নর্টন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ন্যানিস কালোবুলাওয়াসাইকাবারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং সহকারী নৌবাহিনীপ্রধান (লজিস্টিকস) রিয়ার অ্যাডমিরাল জাহাঙ্গীর আদিল সামদানী উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাজ্য থেকে নৌবাহিনীর জন্য জরিপ জাহাজ কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই দেশের কর্মকর্তারা
যুক্তরাজ্য থেকে নৌবাহিনীর জন্য জরিপ জাহাজ কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই দেশের কর্মকর্তারা, ছবি: ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনের ফেসবুক পেজ
 

যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ রাজকীয় নৌবাহিনীকে সম্মানের সঙ্গে সেবা প্রদান করেছে। এই জরিপ জাহাজের বিক্রয় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর আস্থা ও দৃঢ় সহযোগিতার প্রতিফলন। এতে বাংলাদেশের সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরের প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতির একটি নতুন সূচনা হয়েছে। এইচএমএস এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় সমুদ্র নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল, মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত প্রশান্ত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে অবদান রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অব্যাহত অংশীদারত্বের প্রতিফলন।

সামাজিক বৈষম্য দূর করে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের শাপলা প্রতীকের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ তিনি এ অঙ্গীকার করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছরে দেশে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্ত গড়ে উঠেছে, তার ভিত্তি ছিল বৈষম্য। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক গণবিদ্রোহ। যার লক্ষ্য ছিল পুরোনো বন্দোবস্ত ভেঙে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু পুরোনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা আবারও পূর্বেকার দুর্নীতিগ্রস্ত বেইনসাফের বৈষম্যমূলক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে পূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছে।

এনসিপি নেতা বলেন, আমাদের লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট— ঘুষ, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিলোপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

এনসিপির আহ্বায়ক পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নতজানু অবস্থান পরিহার করে স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতি গ্রহণের কথা বলেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ সবার সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিচার বিভাগ সংস্কার, শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা, নারীর সমঅধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে দুর্নীতি বন্ধ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও নাহিদ ইসলাম তার ভাষণে বলেন।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেট ভাঙা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ছিল তার ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়া, পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে জননিরাপত্তার গণসংস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর মধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

আজ রোববার আইন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী রাজনৈতিক দলগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির ৩৯টি সভার মাধ্যমে আবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসব মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। এ কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য সরকার ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছিল।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হত্যার সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

ব্যাখায় বলা হয়, টিআইবি তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, নির্বাচনসূচি ঘোষণা হওয়ার ৩৬ দিনের মধ্যে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছেন। তবে, এই সংখ্যাটি সত্যতা যাচাই ছাড়াই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়কালে মাত্র পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক প্রোফাইল বা কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক আছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ড, যাকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

সরকারের বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয়। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ছিল বিশেষভাবে নির্মম, যেন একটি তরুণ রাজনৈতিক নেতাকে চুপ করানো এবং সংবেদনশীল রাজনৈতিক মুহূর্তে ভয় সৃষ্টি করা যায়। তবে, সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। দেশের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হিংসার দিকে গড়ায়নি এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়নি।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, টিআইবির প্রতিবেদনে প্রেক্ষাপটের অভাব লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের ‘নকল’ নির্বাচনে ছয়জন নিহত হয়েছেন। ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচনে ২২ জন প্রাণ হারান। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অন্তত ১১৫ জনের মৃত্যু ঘটে। এই ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান প্রাক-নির্বাচনি সময়ে নিরাপত্তার চরম অবনতি হয়েছে— এমনটা বলা কঠিন।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, টিআইবির সংখ্যা ও সরকারি তথ্যের মধ্যে পার্থক্য কোনো তথ্য গোপন করার কারণে নয়। পার্থক্যটি হত্যাকাণ্ডকে গণনার ভিন্ন পদ্ধতির কারণে। টিআইবি যেকোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নিহত ব্যক্তিকে ভোটকালীন হত্যার অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যদিও প্রমাণ নেই যে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক উদ্দেশে সংঘটিত। সরকারের হিসাব শুধু সেই মৃত্যুকে গণ্য করছে যার সঙ্গে সরাসরি নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে।

সরকারি দপ্তর স্বীকার করছে, সাধারণ নিরাপত্তা পুরোপুরি সুনিশ্চিত নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবিত পুলিশিং ও নানা শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে জনগণের বিশ্বাস ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তবে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সরানো বা বরখাস্ত, বিশেষ ইউনিটের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা, জোরপূর্বক নিখোঁজ ও নির্যাতনের মামলায় আইনগত পদক্ষেপ, এবং সমাবেশ ও নির্বাচনি সময়কালের জন্য নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। ওসমান হাদির এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালিদা জিয়ার শেষকৃত্য, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন- এগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে, এখন পুলিশি সংযম ও পেশাদারত্ব সম্ভব।

অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করছে, কেউ চেষ্টা করলেও সম্পূর্ণ হিংসা রোধ করা সম্ভব নয়। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের সঙ্গে তুলনীয় নয়। নিরাপত্তা বাহিনী নজরদারিতে রয়েছে, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ সহযোগিতা করছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রয়েছেন। এই শর্তগুলোকে বিবেচনা করলে বিশ্বাসযোগ্য কারণ আছে যে, এই নির্বাচনে পূর্ববর্তী ভয় ও হিংসার চক্র শেষ করতে সক্ষম হবে সরকার।

 

নতুন করে এমপিওভুক্ত করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে প্রথম পর্যায়ে বিবেচনাযোগ্য এসব প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সংখ্যা ঠিক করা হলেও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম এখনো চলছে। প্রয়োজনে সরজমিন যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা বলেন, এখন যাচাই–বাছাইয়ের কাজটি এগিয়ে রাখা হবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই, সেটা হচ্ছেও না।

এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে বেতনের মূল অংশ ও বেশ কিছু ভাতা সরকারের কাছ থেকে পেয়ে থাকেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালার আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল। নির্ধারিত সময়ে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন পাওয়া যায়। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) পর্যায়ের ৮৫৯টি, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১ হাজার ১৭০টি, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৮৭টি, স্নাতক (পাস) পর্যায়ের ৪৪০টি, স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের ৪১৪টি এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

নীতিমালায় নির্ধারিত মাপকাঠির ভিত্তিতে আবেদনগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তির যোগ্যতা, আঞ্চলিক সাম্যসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত শর্তে পাওয়া গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রথম ধাপে বিভিন্ন পর্যায়ের ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনাযোগ্য হয়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য আর্থিক সংশ্লেষ নিরূপণ করা হয়েছে। এরপর এমপিওভুক্তির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, প্রথম পর্যায়ে বিবেচনাযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সংখ্যা নিরূপণ করা হলেও সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম বর্তমানে চলমান। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া প্রমাণপত্রগুলো ভূমি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত তথ্য ও অনলাইন তথ্যভান্ডারের ভিত্তিতে বিস্তারিত যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সরজমিন যাচাই করা হবে।

নীতিমালায় নির্ধারিত মাপকাঠির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির আবেদনগুলো মূল্যায়ন এবং সংস্থাগুলোর অনলাইন তথ্য ও সরজমিন যাচাইয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর আর অসত্য তথ্য বা সংবাদ প্রচার না করে এ কাজে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে সহায়তা করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে কোনো এমপিওভুক্তির অনুমোদনের বিষয়ে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেষ্টা না করার জন্য অনুরোধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এমন যোগাযোগের চেষ্টা করলে কিংবা এমপিও–সংক্রান্ত অভিযোগ বা অন্য কোনো তথ্য জানা থাকলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে খুদে বার্তায় (হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: +8৮৮০১ ৩৩৯-৭৭৪৫২৮) জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

ঢাকা

ঢাকা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই আসনের অন্যতম প্রধান সমস্যা রাজনৈতিক। এই এলাকার উন্নয়ন না হওয়ার পেছনের মূল কারণও রাজনৈতিক। আর সেই রাজনৈতিক কারণ হচ্ছে ভূমিদস্যুতা। আগস্টের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) আগে যারা প্রধান দুই দল হিসেবে পরিচিত ছিল, তাদের এখানকার স্থানীয় নেতারাই গত ৩০ বছর ধরে ভাগ–বাটোয়ারা করে ভূমি দখল করেছেন। নির্বাচিত হলে ঢাকা-১১ আসনে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে।

আজ রোববার ঢাকার মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে এনসিপি মনোনীত এবং ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য–সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

জনসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, এই এলাকার শত শত মানুষের জমি, শত শত খাস জমি, সাধারণ জলাশয় দখল করে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এতে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। যাঁরা রাজনীতির ময়দানে ছিল, তাঁরাই ভূমিদস্যু হিসেবে এসব কাজ করেছেন অথবা ভূমিদস্যুদের সহায়তা করেছেন। গত ৩০ বছরের ইতিহাস হলো, ভূমিদস্যুদের ভূমি দখলের ইতিহাস, জমি দখলের ইতিহাস, নদী দখলের ইতিহাস। আগস্টের আগে যারা প্রধান দুই দল হিসেবে পরিচিত ছিল, তাদের এখানকার স্থানীয় নেতারাই গত ৩০ বছর ধরে ভাগ-বাটোয়ারা করে ভূমি দখল করেছেন। ৫ আগস্টের পরে একজন চলে এসেছেন। আর এখানে যিনি দখলদারি ও চাঁদাবাজি করতেন, তিনি তাঁর স্থানে চলে গেছেন। এই এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তাঁরা জনগণের বিরুদ্ধে সবসময় কাজ করে গেছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের সামনে ভূমিদস্যু, দখলদার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও ঋণখেলাপিদের পরাজিত করার সুযোগ এসেছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে এই এলাকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা হবে। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা-১১ আসন থেকে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে।

জনসভায় বক্তব্যের শুরুতে নাহিদ ইসলাম উপস্থিত জনতাকে তাঁর শুভেচ্ছা জানান, সালাম জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি এই এলাকার সন্তান। তিনি কোনো জাতীয় বক্তব্য দিতে আসেননি। বরং তিনি এই এলাকার সন্তান হিসেবে এলাকার মানুষের জন্য কিছু কথা বলতে চান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁর জন্ম ঢাকার বেরাইদে। বাড্ডা-রামপুরায় তাঁর শৈশব কেটেছে। ঢাকার এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও বাড্ডা-ভাটারা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, বঞ্চনার শিকার। ভেতরের দিকে গেলে কখনো মনে হয়, এটি ঢাকা নয়, যেন মফস্বলের কোনো এলাকা। এখানকার মানুষ নানা অসুবিধার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। তবে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বাড্ডা-রামপুরা আন্দোলন–প্রতিরোধের অন্যতম ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছিল।

‘ঢাকা-১১–এর মানুষ বৈষম্যের শিকার’

ঢাকা-১১ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালে সুযোগ এলে এই এলাকার মানুষ প্রতিরোধ করেছেন। বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন। আহত হয়েছেন। ১৯৭১ সালের ইতিহাসেও দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধারা বাড্ডা, বেরাইদ ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান করতেন। নৌকা দিয়ে এসে অপারেশন করে আবার ফিরে যেতেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় তিনি কয়েক দিন এই আসনের বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিলেন। ঢাকা-১১ তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে। তাঁর জীবনের ২৮টি বছরও এই এলাকা তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে। এখন তিনি চান, ঢাকা-১১ আসনের মানুষের প্রতি তাঁর ঋণ শোধ করতে।

‘১৫ লাখ মানুষের বসবাস, কিন্তু নাগরিক সুবিধা নেই’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা-১১ আসনে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। যদিও ভোটার ৪ দশমিক ৫ লাখ। এত ঘনবসতি হওয়া সত্ত্বেও এখানে পর্যাপ্ত নাগরিকসুবিধা নেই। পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। স্কুল নেই, হাসপাতালও নেই।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভাটারা-বাড্ডার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইনফরমাল ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ তাঁরা। এ এলাকায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এলাকার স্বাস্থ্য খাতের প্রায় ১০০ ভাগ প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভরশীল। কারণ এখানে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। পুরো ঢাকা-১১ আসনে একটি সরকারি হাইস্কুলও নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৫টি। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পুরোপুরি প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভরশীল।

জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সংকট

বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতে এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ তলিয়ে যায় বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাড্ডার মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকা পরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেমের আওতায়। বাকি ৭০ শতাংশ এলাকা অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও নর্দমার ওপর নির্ভরশীল। রামপুরা খাল, শাহজাদপুর খাল ও বালু নদী দখল করা হয়েছে। বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। ফলে খালগুলো আর সুবিধা দিতে পারছে না।

‘সারা দেশে ১১ দলীয় জোট জয়ী হবে’

সারা দেশে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শুধু ঢাকা-১১ নয়, সমগ্র বাংলাদেশে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সারা দেশে ১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করতে হবে।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে আরেকটি দল রয়েছে, যারা দেশকে বিপদগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে। সেই পরিকল্পনাকে পরাজিত করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে দখলদারমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে।

৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ এবং ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ জরুরি সভায় বসছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। পিএসসির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে আজকের মধ্যেই ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশের তালিকা প্রকাশিত হতে পারে।

একই সভায় ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের বিষয়েও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলাফল অনুমোদিত হলে আজ যেকোনো সময় পিএসসির ওয়েবসাইটে ফলাফল আপলোড করার প্রশাসনিক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

৪৬তম বিসিএসের ৩ হাজার ১৪০টি শূন্য পদের বিপরীতে চূড়ান্ত সুপারিশের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা শেষে ৪ হাজার ৫০ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। আজকের সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এই প্রার্থীদের মধ্য থেকেই উত্তীর্ণদের সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হবে। পদ অনুসারে স্বাস্থ্য ক্যাডারে ১ হাজার ৬৮২ জন সহকারী সার্জন ও ১৬ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন হিসেবে নিয়োগ পাবেন। এছাড়া শিক্ষা ক্যাডারে ৯২০ জন, প্রশাসন ক্যাডারে ২৭৪ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৮০ জন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১০ জনসহ অন্যান্য পেশাগত ক্যাডারের পদের জন্য যোগ্যদের নাম চূড়ান্ত করা হবে।

পাশাপাশি আজকের সভায় ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আলোচনা হবে। পিএসসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফলও আজ প্রকাশের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে আধুনিক ‘সার্কুলার ইভ্যালুয়েশন সিস্টেম’ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে লিখিত পরীক্ষার ফল তিন মাসের কম সময়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ৪৪তম বিসিএসের লিখিত ফল দিতে যেখানে ১৫ মাস সময় লেগেছিল, সেখানে ৪৬তম বিসিএসে সেই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। গত বছরের ২৭ নভেম্বর ৪৬তম বিসিএসের লিখিত ফল প্রকাশের পর দ্রুততম সময়ে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে এখন চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে।

জনগণ নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মামলাবাজ ও দখলদারদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেছি—আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। মজলুমের কষ্ট তো বোঝার কথা। কিন্তু দেখা গেল, বেপরোয়া গতিতে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজি শুরু হয়ে গেছে।’

আজ রোববার রাজধানী ঢাকার মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির এসব কথা বলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণেরা কখনো বেকার ভাতা চায়নি। তাদের দাবি ছিল, অধিকার ও ন্যায্য কাজের সুযোগ। তরুণেরা সেদিন রাস্তায় নেমে বলেছিল—আমাদের অধিকার দাও, আমাদের হাতে আমাদের ন্যায্য কাজ তুলে দাও।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাবে। চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। মামলাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। দখলদারদের লাল কার্ড দেখাবে।

জনগণ আধিপত্যবাদের দাসত্বকেও প্রত্যাখ্যান করবে—বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে যে অপকর্মের মাধ্যমে জনগণকে কষ্ট দিয়েছে, একই ধরনের কর্মকাণ্ড ৬ আগস্টের পর থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে।

জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
 

বড় বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দিয়ে কোটি কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, যারা গত দেড় দশক দেশের মাটিতে ছিলেন না, পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন, ফিরে এসে তারাই এখন মামলা বাণিজ্য করছেন। ৬ আগস্ট থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এসব অপকর্ম বন্ধ হয়নি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, এমনকি ফুটপাতে ভিক্ষা করা মানুষও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কি সন্তানদের বুকে নিয়ে জুলাই মাসে এ জন্য লড়াই করেছিলাম? পুরোনো চাঁদাবাজের বদলে নতুন চাঁদাবাজ তৈরি হবে—এ জন্য তো আন্দোলন হয়নি।” আন্দোলনের মূল দাবি ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই ছিল তরুণদের আকাঙ্ক্ষা।

‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য’ উল্লেখ করে জনসভায় জামায়াতের আমির আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে বিচার একেক জনের জন্য একেক রকম হবে না। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যেমন বিচার হবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী একই অপরাধ করলে, তাঁকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘৫৯ জন ভয়াবহ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কেন? এদের এমপি বানিয়ে দুর্নীতি দমন হবে—এটা শুনলে হাসি পায়।’ তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। সেই টুঁটি চেপে ধরা নিজেদের ঘর থেকে শুরু করা প্রয়োজন।

ক্ষমতায় গেলে বিদেশে পাচার হওয়া জনগণের অর্থ ফেরত আনার জন্য সর্বাত্মক লড়াই চালানো হবে বলেও জনসভায় প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান।

ঢাকা

ফরিদপুর সদর উপজেলায় একটি পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে লুকিয়ে রাখা চারটি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল অস্ত্র, গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক-সংলগ্ন কানাইপুর আখ সেন্টারের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি চারটি অত্যাধুনিক পিস্তল, দুটি ওয়ান সিঙ্গেল গান, ১৬টি গুলি, শতাধিক রামদা, বল্লম, সরকি ও চাকু। সেনাবাহিনীর ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে নাশকতা করার লক্ষ্যে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রগুলো মজুত করে রেখেছিল।

ফরিদপুর সেনাক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র মজুত করে রাখার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৯টা থেকে পুকুরটি ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও থানা-পুলিশ। পরে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচ শুরু করা হয়। পানি কমে এলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় পুকুরে জাল ফেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একে একে চারটি প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়।

উদ্ধার অভিযান শেষে ফরিদপুর সদর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সোহেল আহমেদ বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এবং আমাদের সততা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কিছু দুষ্কৃতকারী চক্র নির্বাচনের দিন এটা ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানতে পারি। যার ধারাবাহিকতায় অস্ত্রগুলো এখানে মজুত করে রাখা হয়। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, অস্ত্রগুলো থানায় জব্দ করা এবং ৫ আগস্টের পরে লুট হয়ে যায়। এগুলো থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং পুলিশ তদন্ত করে জানাতে পারবে তাদের জব্দকৃত অস্ত্র কি না। এ ঘটনায় এখনো জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।