পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (নুর) গুলিবিদ্ধ হওয়ার যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রার্থী নিজেই জানিয়েছেন। নুরুল হক জানান, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত আছেন এবং বর্তমানে নিজ নির্বাচনী এলাকাতেই অবস্থান করছেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

বিষয়টি নজরে আনা হলে নুরুল হক জানান, তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেখেছেন। তবে বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব দাবি করে তিনি বলেন, তাঁকে জড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং তৃণমূল ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা।

তবে নুরুল হকের অভিযোগ, তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও মারধর করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের লোকজন। এতে তিনি ও তাঁর সমর্থকেরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। নুরুল হক দাবি করেন, হাসান মামুনের স্ত্রী প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করছেন। এর ফলে অভিযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এসব বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েও ফল পাচ্ছেন না বলে জানান নুরুল হক। তিনি বলেন, প্রশাসনের লোকজন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও গতকাল রাতে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বোনের বাসার সামনে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এসব ঘটনার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মন্তব্য করে নুরুল হক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আজ বুধবার পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান নূর।

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছে ৭৪ লাখ টাকা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভোটের আগের দিন আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে টাকাসহ তাঁকে আটক করা হয়।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বিকেলে বলেন, সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৭৪ লাখ টাকা। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী তাঁকে বিমানবন্দরে আটক রেখে থানায় খবর দেয়।

এর আগে বেলা পৌনে একটার দিকে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি বলেছেন যে তাঁর কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ অর্ধ কোটি টাকার বেশি। পুলিশ এখনও গুনে দেখেনি। সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো গোনা হবে।

পুলিশ জানায়, পরে টাকা গুনে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান। তাঁর ব্যাগে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা আছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যে তাঁকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান। তবে তাঁকে আটক করা হয়নি।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেলাল উদ্দিন প্রধানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের হাজীপাড়ায়। তিনি শিক্ষকতা করেন।

ব্যাগে কত টাকা আছে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এখানে ৫০-৬০ লাখ, ৫০ লাখ প্লাস টাকা আছে।’ কিসের টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসার, গার্মেন্টসের।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন প্রধান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, তাঁর (বেলাল উদ্দিন) বুকে ব্যথা হচ্ছিল। তখন তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃত অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী এলাকায় বাসের চাপায় এক অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালক নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার বেলা একটার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালীর গ্রামীণ ব্যাংক রাস্তার মাথা নামের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইজিবাইকের চালকের নাম মো. তারেক (২১)। তিনি ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বেলা একটার দিকে ইজিবাইক নিয়ে চালক মো. তারেক গ্রামীণ রাস্তা থেকে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারমুখী দ্রুতগামী পূরবী পরিবহনের একটি বাস তাঁকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ইজিবাইকের চালকের মৃত্যু হয় এবং ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

মালুমাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকচালক তারেক নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ইজিবাইক পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে বাসটির চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়।

আজ বুধবার বেলা দুইটায় বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় বলেছে, নির্বাচনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার। এর মধ্যে সব নারী বা মেয়ের অধিকার, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষসহ সমাজে যাঁরা বেশি বাধা–বৈষম্য–লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন, তাঁদের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন নারী সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ নারী প্রার্থী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা–হয়রানি, বিশেষ করে অনলাইন সহিংসতা নিয়ে যে উদ্বেগ জানিয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্বসংস্থাটি সচেতন বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়।

বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় বলেছে, রাজনৈতিক নেতা–কর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকার রক্ষাকারীসহ জনজীবন–সংশ্লিষ্ট কাজে কর্মরত নারীরা জানাচ্ছেন, সাইবার বুলিং, ডিপফেক, পরিকল্পিত হয়রানি ও ছবি বিকৃত করে অপব্যবহারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিবর্তিত বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্টের ঘটনা বাড়ছে।

জাতিসংঘ সব অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নারীদের অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করে আসছে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে বিশ্ব সংস্থাটির কার্যালয়। তারা আরও বলে, নারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা প্রদান করছে জাতিসংঘ। নারীসহ সব ভোটার যেন ভয়ভীতি–বৈষম্য–অনলাইন নির্যাতন বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘ সব অংশীদার, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা, তাঁদের দল ও সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছে, যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো না হয়। এটি নারী প্রার্থী ও ভোটারদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য, যাদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।

বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকারসহ সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলে জাতিসংঘ বিশ্বাস করে। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সব সময় সরকারের পাশে থেকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করে এই বিশ্ব সংস্থাটি।

রাজধানীর ১৩টি আসনে ১৪শ' ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র আছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রিটার্নিং অফিসার বলেন, এসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। এছাড়া, অন্য কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই সিসিটিভির আওতায় থাকবে। ঝুঁকিপূর্ন কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি আছে সরকারের।

এদিকে, ভোট গণনার সব কেন্দ্রেও থাকবে সিসিটিভি সুবিধা। কোনো কারণে বিদুৎ বিভ্রাট হলে আলোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলেও জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি ভোটকেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলাদেশে সুযোগ অন্বেষণ, নাগরিক পরিষেবা গ্রহণ এবং টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টিতে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো ও পারস্পরিক নেটওয়ার্ক জোরদারের লক্ষ্যে মোবাইল অ্যাপ ‘শুভেচ্ছা’ এবং যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘দ্রুত টিকেট’ চালু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তাইয়্যেব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই দুই ডিজিটাল পরিষেবার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সংক্ষেপে প্ল্যাটফর্ম দুটির কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।

‘শুভেচ্ছা’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সহজেই একশটিরও বেশি নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, উৎসব-উদযাপনের দিনসহ অন্যান্য সময়েও বাস, রেল ও বিমানযাত্রায় অনিয়ম রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘দ্রুত টিকেট’ চালু করা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম দুটি সফলভাবে চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সরকারের সব সেবা যেন ভোগান্তি ছাড়াই নাগরিকদের কাছে পৌঁছে যায় এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আজ এই দুটি প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হলো। এটি কেবল একটি সূচনা। প্ল্যাটফর্ম দুটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যেতে হবে এবং আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। আশা করছি, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এই দুটি উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেবে।

দেশব্যাপী বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি)। এ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও যেকোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে মাঠে থাকছে পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

তিনি বলেন, ঢাকায় ডিএমপির ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও রিজার্ভ ফোর্সের পাশাপাশি বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকায় চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই, তবুও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। আশা করছি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটারদের আশ্বস্ত করার কথা জানিয়ে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে এবং নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। পুলিশ আপনাদের পাশে রয়েছে।

কোনো হুমকি বা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো হুমকি বা ঝুঁকির আশঙ্কা করছি না। সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে, পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ বা লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা পড়ে।

জানা গেছে, ব্যক্তির নামে ৪৮ হাজার ২৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র এখনও জমা পড়েনি।

আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

এর আগে, গত ১৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন

জমা না হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে আওয়ামী লীগের মেয়াদে লাইসেন্স পাওয়া অস্ত্রই বেশি বলে জানা গেছে। এসব অস্ত্রের মালিকদের অনেকেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। দেশের ভেতরে অনেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে থানা থেকে লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, যে কোনো অস্ত্র থ্রেট। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। সেজন্য মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রুহুল কবির রিজভীর ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আরিফুর রহমান বলেন, রুহুল কবির রিজভী জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। এ কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সুস্থতার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর। তবে যেসব আসনে অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোয় বেশির ভাগ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, সেসব আসনে ভোটের সমীকরণ নতুনভাবে গড়ে উঠছে। সারা দেশে এমন ৩০টির মতো আসন রয়েছে। এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, দলটি নির্বাচনে নেই। ফলে বিএনপি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারদের সমর্থন। ফলে এই আসনগুলোর আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পেতে নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

প্রথম আলোর বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর ও ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। কোথাও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, কোথাও কবর জিয়ারত, আবার কোথাও নিরাপত্তা ও মামলা থেকে বাঁচানোর আশ্বাস—এসব কৌশল এখন নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন, অনেকে কারাগারেও আছেন। অনেক এলাকায় আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিরা যেন নিরাপদে এলাকায় ফিরতে পারেন, সে ধরনের আশ্বাসও শোনা যাচ্ছে।

কোথাও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, কোথাও কবর জিয়ারত, আবার কোথাও নিরাপত্তা ও মামলা থেকে বাঁচানোর আশ্বাস—এসব কৌশল এখন নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে।

মাদারীপুর: ভোটের নতুন হিসাব

মাদারীপুরের তিনটি আসনই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। শাজাহান খান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয় নূর-ই-আলম চৌধুরীর (লিটন চৌধুরী) মতো প্রভাবশালী নেতারা এই জেলার রাজনীতিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। এবার এই জেলার আসনগুলোয় আওয়ামী লীগের ভোট পেতে বিএনপি ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নানা তৎপরতা চালিয়েছেন।

মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন। ইলিয়াস আহমেদ হলেন লিটন চৌধুরীর বাবা। কবর জিয়ারতের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ জন নেতা প্রকাশ্যে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানান।

নাদিরা আক্তার বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না। যারা অপরাধ করেনি, তারা কেন পালিয়ে থাকবে?’

এই আসনে বিএনপির দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

নাদিরা আক্তার বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না। যারা অপরাধ করেনি, তারা কেন পালিয়ে থাকবে?’

মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খানের মা–বাবার কবর জিয়ারত করেন সেখানকার বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য। শাজাহান খান কারাগারে। তাঁর আত্মীয় ও অনুসারীরা গোপনে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে আলোচনা আছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের পরিবার এই আসনের প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যকে গোপনে সমর্থন করছেন বলেও আলোচনা আছে। নাছিম এখন আত্মগোপনে আছেন।

এ ছাড়া মাদারীপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীকে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।

শরীয়তপুর: অবস্থান বদল

১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সব নির্বাচনে শরীয়তপুরের তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে গত দেড় মাসে এই জেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

গত ৭ ডিসেম্বর সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও উত্তর তারাবনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ আলী মোল্যা সখিপুরের বিভিন্ন নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথা বলেন। আওয়ামী লীগের নেতা ফজলুর রহমান বলেন, দল থেকেও নির্বাচন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা নেই। এলাকার শান্তি ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

ইউনূছ আলী মোল্যা বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিএনপিতে যোগদান ও প্রচারে অংশ নিয়েছি।’

গত ২৭ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে গোসাইরহাট উপজেলার পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সঙ্গে সভা করেন। আওয়ামী লীগ নেতারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথা বলেন। আওয়ামী লীগের নেতা ফজলুর রহমান বলেন, দল থেকেও নির্বাচন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা নেই। এলাকার শান্তি ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জ: প্রচেষ্টা থেমে নেই

গোপালগঞ্জকে দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের দুর্গ বিবেচনা করা হয়। ১৯৯১ সাল থেকে জেলার তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি। এই জেলায় এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে প্রকাশ্যে অন্য দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি।

তবে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে বিএনপি, খেলাফত মজলিস ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নানান চেষ্টা ও কৌশল অবলম্বন করছেন। কয়েকজন প্রার্থী টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি যাঁরা নিরীহ নিরপরাধ বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক মামলায় আসামি হয়েছেন, তাঁদের মুক্ত করতে আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন।

ফরিদপুর-৪ আসনে অনেক আওয়ামী লীগের নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এই আসনের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যারা অন্যায় করেছে, তারা পালিয়েছে। কিন্তু অন্যদের আমি ফেলব কীভাবে?’

ফরিদপুর: পুরোনো ঘাঁটিতে নতুন বার্তা

ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান ছিল। সম্প্রতি কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপির প্রার্থীর হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগ দেন। বিএনপির প্রার্থী আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের আশ্বস্ত করছেন, যাঁরা মামলার আশঙ্কায় এলাকা ছেড়েছেন, তাঁরা ফিরে এলে সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

ফরিদপুর-৪ আসনে অনেক আওয়ামী লীগের নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এই আসনের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যারা অন্যায় করেছে, তারা পালিয়েছে। কিন্তু অন্যদের আমি ফেলব কীভাবে?’

বাগেরহাট ও ঠাকুরগাঁও: আশ্বাসের রাজনীতি

বাগেরহাটে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা সভা-সমাবেশে বলেছেন, ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে হয়রানি করা হবে না। ঠাকুরগাঁওয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তায় আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলের প্রার্থীরাই সংখ্যালঘুদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে সংখ্যালঘু ভোটারের আধিক্য রয়েছে। তাঁদের ভোট পেতে বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই চেষ্টা করছে।

৪ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাশভাংগা কালীমন্দির চত্বরে বিএনপির মহাসচিব ও এই আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি সবাইকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘যত দিন বেঁচে আছি, আপনাদের পাশে থাকব।’

এদিন কালীমন্দির চত্বরে হাজির হন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনিও বিপদে-আপদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ময়মনসিংহের ১১টি আসনের অনেকগুলোতেই বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বলছেন, হয়রানি এড়াতে তাঁরা বাস্তবতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

জামালপুর ও ময়মনসিংহ

জামালপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। কেউ হয়রানির শিকার হবে না বলে আশ্বাস দেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক পদধারী নেতা প্রকাশ্যে বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন।

অন্যদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আফসার আলীকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চাইতে দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-অধ্যুষিত আসনগুলোতে দলটির ভোট কীভাবে, কার দিকে এবং কতটা সরে যায়—তার ওপর ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করছে।

ময়মনসিংহের ১১টি আসনের অনেকগুলোতেই বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বলছেন, হয়রানি এড়াতে তাঁরা বাস্তবতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ময়মনসিংহ-১ আসনে দলটির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রথম আলোকে বলেন, দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ সমাজ গড়াই তাঁর লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-অধ্যুষিত আসনগুলোতে দলটির ভোট কীভাবে, কার দিকে এবং কতটা সরে যায়—তার ওপর ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। নির্বাচন সামনে রেখে ভোট উৎসবে মেতেছে সারা দেশ। এর সঙ্গে ভোটের আগে ও পরে মিলিয়ে চার দিনের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। ট্রেন ও বাসে ঈদের ছুটির মতো মানুষের চাপ। অনেকেই আসন না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েন। মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে যানজটও তৈরি হয়েছে।

বিকেলে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিরাজগঞ্জে যাওয়ার জন্য ট্রেনে ওঠেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ এলাকায় ভোট দিতে যাচ্ছেন। আমি অনেক কষ্ট করে ট্রেনে উঠতে পেরেছি, কিন্তু এখনো অনেকে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁরা উঠতে পারছেন না। অনেকে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠে গেছেন। ঈদের ছুটিতে যে রকম বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়, এবার কিন্তু সে রকম করা হয়নি। সরকারের উচিত ছিল বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা।’

রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। গাবতলী এলাকা। ১০ ফেব্রুয়ারি
রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। গাবতলী এলাকা। ১০ ফেব্রুয়ারি
 

জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে যাচ্ছেন রুমান হাসান। তিনি বলেন, সরকারের এই দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া উচিত ছিল। প্রতিটি দিনের জন্য আলাদা আলাদা বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করলে মানুষকে এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। এখনো এক দিন রয়েছে, সরকারের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।

কোনো আসন না পেয়ে ট্রেনের বগির দরজার পাশে কোনোমতে বাবার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবিহা সুলতানা। ওই অবস্থাতেই তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছি (কিশোরগঞ্জ)। কোনোমতে উঠে দাঁড়ালাম। এখন ঠিকমতো বাড়িতে পৌঁছাতে পারলেই স্বস্তি।’

আজ গাজীপুরের টঙ্গী রেলস্টেশনে যাত্রীর চাপ ছিল সাধারণ দিনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। প্রায় প্রতিটি ট্রেনে ছিল যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ। যাঁরা ট্রেনের ভেতরে জায়গা পাননি, তাঁরা ছাদে চড়েই রওনা দেন গ্রামের বাড়িতে। তাঁরা প্রায় সবাই শ্রমজীবী মানুষ।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সাজেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত সোমবার থেকে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে। মঙ্গলবার সকালেও যাত্রীদের ভিড় ছিল অনেক। সব ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেলেও বুড়িমারী এক্সপ্রেস দেরিতে আসে এবং দেরিতে ছেড়ে যায়। রেলওয়ের পক্ষ থেকে ট্রেনের ছাদে ওঠার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে অনেক যাত্রী বিভিন্নভাবে ছাদে ওঠার চেষ্টা করছেন।

বাস, ট্রাক, পিকআপ যেটা পাওয়া গেছে, সেটাতে চড়েই মানুষ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। গাবতলী এলাকা। ১০ ফেব্রুয়ারি
বাস, ট্রাক, পিকআপ যেটা পাওয়া গেছে, সেটাতে চড়েই মানুষ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। গাবতলী এলাকা। ১০ ফেব্রুয়ারি
 

নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত বিশেষ ছুটিতে অন্যান্য শ্রেণি–পেশার মানুষের পাশাপাশি বাড়িতে যাচ্ছেন কারখানার শ্রমিকেরাও। আজ সকালে তাঁরা একযোগে রওনা দেওয়ায় গাজীপুরের ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

সকাল থেকেই কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত একই রকম ভিড় দেখা যায়। চন্দ্রা থেকে উভয় দিকে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে থাকে এবং যানবাহন থেমে থেমে চলতে দেখা যায়।

দুপুরে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কথা হয় মিরপুর এলাকার পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। যানজটের কারণে বাসের জানালার পাশে বসা রফিকুলের মুখে ছিল বিরক্তি ভাব। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কারখানা থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ছুটি পেয়েই সকালে রওনা দিয়েছেন, কিন্তু এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। কখন বাড়িতে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।

চন্দ্রা মোড়ে কথা হয় গৃহকর্মী হাসিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার জন্যই এত কষ্ট করে বাড়িতে যাচ্ছেন। কিন্তু রাস্তার এই দীর্ঘ যানজটে ছোট সন্তান নিয়ে ভোগান্তি বেড়ে গেছে।

বাসের অপেক্ষায় কাউন্টারে যাত্রীরা। কল্যাণপুর এলাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি
বাসের অপেক্ষায় কাউন্টারে যাত্রীরা। কল্যাণপুর এলাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি
 

গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশনে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল সকাল থেকে। পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

ঢাকার সড়কপথেও আজ একই ধরনের চাপ ছিল। যাত্রীর তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীরা গাড়ির সংকটে পড়েন। বাস, ট্রাক, পিকআপ—যা সামনে পাওয়া গেছে, তাতে করেই যাত্রা করেন তাঁরা। পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় টিকিট না পাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেন যাত্রীদের অনেকে।

ভিড় ছিল ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও। দিনভর বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছেড়ে যায়। সাধারণ দিনের চেয়ে সেখানেও ভিড় ছিল কয়েক গুণ বেশি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলবে।

সচিবালয় ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ উপদেষ্টা নির্বাচনের দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন এবং নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসভুক্ত উদয়ন হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। একই এলাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার।

এছাড়া রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার ই ব্লকের একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শ্যামলী শিশু মেলার কাছের একটি কেন্দ্রে এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মহাখালী ডিওএসএইচ এলাকার একটি স্কুল কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ঢাকার অন্যান্য এলাকার মধ্যে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গুলশান-২ এর গুলশান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ধানমন্ডির একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। তবে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকায় ভোট দেবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।

ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, জরুরি দাপ্তরিক কাজের কারণে তিনি সম্ভবত এবার চট্টগ্রামে নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না। মঙ্গলবার তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন বলেও জানান।

উল্লেখ্য, একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।