আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে এই তালিকায় থাকবে সাংবাদিকরাও। 

ইসির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের বিধি পরিবর্তন না করলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাওয়ের ‍হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১১ দলের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যকালে এই হুঁশিয়ারি দেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের আওতায় নাকি মোবাইল নিয়ে ঢুকা যাবে না। ইসি কোন জায়গা থেকে এই বিধি-বিধান বের করছে, আমরা জানি না। কার পরিকল্পনার আদলে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে, এটা জনগণের সামনে স্পষ্ট হচ্ছে। আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, আজ সন্ধ্যার মধ্যে এই বিধি-বিধান পরিবর্তন করুন, না হলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ঘেরাও হবে।

নাহিদ বলেন, আমরা এতদিন কিছু বলিনি। সব সহ্য করে গেছি। নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে এই ধরনের ভোট কারচুপি, মিডিয়াকে ব্ল্যাকআউট করে দেয়া হবে, মানুষের তথ্য অধিকারকে রোধ করে দেয়া হবে এই ধরনের কোনো আইন করা হলে সেই আইন মেনে নেওয়া হবে না।

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে ঢাকা-১১ আসনের এই প্রার্থী আরও বলেন, এতদিন যা করেছেন করেছেন, কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি যদি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করার পরিকল্পনা থাকে, ফ্যাস্টিস্ট আমলের নির্বাচন কমিশনের যে পরিণতি হয়েছিল তার চেয়েও এই নির্বাচন কমিশনের ভয়াবহ পরিণতি হবে।

 

অতীতের নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা থেকে বেরিয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে উদাহরণ সৃষ্টি করা হবে বলে জনিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে আমরা তো বসে থাকতে পারি না। গেল শুক্রবার লাঠি হাতে আন্দোলনকারীদের পেটানোর অভিযোগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

১০- ২০ জন লোক যারা রাস্তা বন্ধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে তাদেরকে প্রতিহত করার আহ্বান জানান ডিএনপি কমিশনার। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় যেকোনো আন্দোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এমন আন্দোলন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, রাজধানীতে ২ হাজার ১৩১টি কেন্দ্র রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ১ হাজার ১৪টি। এখানে ৪ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ৩৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে ৭ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনে কোনো থ্রেট নেই জানিয়ে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, সাধারণ সময়ের চেয়ে পরিবেশ ভালো। চমৎকার পরিবেশ রয়েছে।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিল বিভিন্ন মহল। তবে প্রায় দেড় বছর হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলছেন, একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সুফল দেশবাসী দেখেনি, যা হতাশাজনক।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। সংযোজন-বিয়োজনের পর বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানও দায়িত্ব পালন করছেন।

অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলছেন, একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সুফল দেশবাসী দেখেনি, যা হতাশাজনক।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে প্রতিশ্রুত ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন।

ওই বছরের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, যাঁরা সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তাঁরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে। এই বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা স্বীয় (নিজ) বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সবার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁরা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সম্পদের বিবরণী জমা পড়েছে, প্রকাশ হয়নি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান আছে। আগের আয়কর বছরে সবাই রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সবার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁরা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমি বেশ আগেই জমা দিয়েছি।’ আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, তিনি গত বছর এবং এ বছরও বিবরণী জমা দিয়েছেন। খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার একই কথা বলেছেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও জমা দিয়েছেন। এটি তিনি ফেসবুকেও জানিয়েছেন। গত ২৬ জানুয়ারি তিনি ফেসবুকে জানান, নীতিমালা অনুসারে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয় ও সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কার্যবিবরণীও দাখিল করা হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয় ও সম্পদের বিবরণী। ২০২৫-২৬ অর্থবছর সমাপ্তির পর আবার আয় ও সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিল করবেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

একাধিকবার সময় বৃদ্ধির পর এখন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি। আইনগতভাবে চলতি আয়কর বছরের সময় এখনো থাকলেও এর আগে একটি আয়কর বছর ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আর বাস্তবতা হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদও একেবারে শেষ প্রান্তে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরপর দায়িত্ব নেবে নতুন সরকার।

উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে এই সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি চর্চা প্রতিষ্ঠা করবে। এতে একটি নতুন চর্চার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, দুই অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা প্রায় শেষ হলেও কেন এখনো উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি সরকার? গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক এ প্রশ্ন করেন। জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এটা অচিরেই দেখতে পাবেন। আমাদের সময় যখন শেষ হয়ে আসবে, তখন দেখতে পাবেন।’

নেতিবাচক দৃষ্টান্ত

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে এই সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি চর্চা প্রতিষ্ঠা করবে। এতে একটি নতুন চর্চার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত তার সুফল দেশবাসী দেখেনি, যা সরকারের জন্য যেমন বিব্রতকর, তেমনি দেশবাসীর জন্য হতাশাজনক। এটি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রদত্ত অঙ্গীকারের বরখেলাপ; যা নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

গতকাল জাপানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাধারণ নির্বাচন। যেখানে ভূমিধস জয় পেয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দল লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এলডিপি।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের সংগৃহীত ফলাফল অনুযায়ী, ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে তাকাইচির এলডিপি এরই মধ্যে ৩৫২টি আসনে জয়ী হয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি। যদিও এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়নি।

জয়ের আভাস পাওয়ার পর সাংবাদিকদের তাকাইচি বলেন, আমরা ক্রমাগত একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছি। আমরা আর্থিক নীতির স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেব এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করব।

সানায়ে তাকাইচি ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও, গত সাত দশকের অধিকাংশ সময় জাপানের ক্ষমতায় থাকা এলডিপি সাম্প্রতিক সময়ে তহবিল জালিয়াতি ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে বেশ চাপে ছিল। দলের রাজনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার মাত্র তিন মাস পরেই তিনি আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচি দলীয় নেতা হওয়ার মাত্র চার মাস পরই জনগণের কাছ থেকে স্পষ্ট ম্যান্ডেট চাইতেই এই নির্বাচন ডাকেন।

তার সম্ভাব্য সাফল্য তার দুই পূর্বসূরির সঙ্গে স্পষ্টভাবে বিপরীত, যাদের আমলে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এলডিপি সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরে জাপানে এলডিপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, যার অন্যতম কারণ শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব।

অনেকে এই নির্বাচনকে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন, কারণ এলডিপি সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল এবং কুমেইতো দলের সঙ্গে তাদের কয়েক দশকের পুরনো জোটও ভেঙে পড়ে।

তবে তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলকে সুবিধা এনে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার সরকারের অনুমোদনের হার বেশিরভাগ সময়ই ৭০ শতাংশের ওপরে ছিল।

সূত্র : বিবিসি

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আজ সোমবার রাতে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি সই হলে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিদ্যমান পাল্টা শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে আরও কমতে পারে বলে আশাবাদী বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সচিবালয়ে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশি পণ্যে ট্রাম্প প্রশাসন যে বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তা কমবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।’

চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকবে না জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি সাপেক্ষে এটি প্রকাশও করা হবে।

শুরুতে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন না বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্রগুলো জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কাছাকাছি হওয়ায় তাঁরা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরাসরি যাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। তবে উপদেষ্টা ও সচিব চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকবেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি দল গতকাল ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিতে স্বাক্ষর থাকবে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিয়েসন গ্রিয়ারের। ঢাকায় এ চুক্তির এক পাশে বাণিজ্য উপদেষ্টা সই করেছেন। তাঁর সই করা কপিটি বাংলাদেশের দলটি ওয়াশিংটনে নিয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। শুরুতে বাংলাদেশের জন্য হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আরও দর-কষাকষির পর গত বছরের ২ আগস্ট এ হার ২০ শতাংশে নেমে আসে। এ হার কার্যকর হয় গত বছরের ৭ আগস্ট। আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক। সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে ৬০০ কোটি ডলারের রপ্তানি করে বাংলাদেশ। দেশটি থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের অনুকূলে। এ ঘাটতি কমাতে এরই মধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য; উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ইত্যাদি আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটগ্রহণ পরবর্তী সময়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি— পাঁচ দিনের জন্য ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে সরকার।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এই মনোনয়ন প্রদান করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে পাঠিয়েছে।

মনোনয়ন সংক্রান্ত ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় ভোট গ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোট গ্রহণের পরের দুই দিনসহ মোট পাঁচ দিনের জন্য এই জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা নির্বাচনি অপরাধের বিচারিক দায়িত্বে থাকবেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।

মনোনীত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের আওতায় সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

এর আগে, নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

 

ঢাকা-১৮ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে  তিনি  এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। নির্বাচনের তিন দিন আগে তিনি এ ঘোষণা দিলেন।

ওই পোস্টে মান্না লিখেছেন, তিনি বগুড়ায় অবস্থান করছেন। ঢাকা–১৮ আসনে নির্বাচন করা ব্যয়বহুল। এই ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয় বলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মাহমুদুর রহমান মান্নার ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট
মাহমুদুর রহমান মান্নার ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

মান্না বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখান থেকেই তিনি এই পোস্ট দেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এখন আমি বগুড়ায়। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৮ এবং বগুড়া–২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

মান্না আরও লেখেন, ‘ঢাকা–১৮ একটি বিশাল নির্বাচনী এলাকা। এর অন্তর্গত সাড়ে সাতটি থানা এবং সাড়ে ছয় লক্ষের মতো ভোটার এখানে। নির্বাচন এতই ব্যয়বহুল যে তা নির্বাহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষিতে আমি ঢাকা–১৮–এর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্তে হয়তো অনেকে মনে কষ্ট পাবেন। তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

এর আগে বগুড়া-২ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে মান্নার প্রার্থিতা বাতিল হয়।  পরে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে তিনি তা ফিরে পান। অন্যদিকে ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র শুরু থেকেই বৈধ ছিল। রাজধানীর খিলক্ষেত, কুড়িল, উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও তুরাগ এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৮ আসন।

ঢাকা–১৮ আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী রয়েছে। তিনি হলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আরিফুল ইসলাম প্রার্থী।

বগুড়া–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান। প্রথমে এই আসনটি মান্নাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি। তবে পরে সেখানে বিএনপি নিজেদের দলের প্রার্থী দেয়।

ডাকসুর দুবারের ভিপি, আওয়ামী লীগের একসময়ের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এর আগে একাধিকবার প্রার্থী হলেও কখনো তাঁর সংসদে যাওয়া হয়নি।

৪৪তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৪৪ জন নতুন কর্মকর্তাকে সহকারী কমিশনার পদে পদায়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। 

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাদের দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারদের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) গত ৩০ নভেম্বরের সুপারিশ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৫ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত নিয়োগের প্রেক্ষিতে এই ২৪৪ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ প্রদান করা হলো। বর্তমানে তাদের পদবি হবে শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার। মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কাজ শেখার পাশাপাশি তাদের ওপর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও অর্পণ করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখা থেকে জানানো হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাদের আগামীকাল ৯ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনাররা পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাদের পদায়ন নিশ্চিত করবেন। এর মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের জনবল সংকট নিরসন এবং প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

দেশ ও জনগণকে নিয়ে বিএনপির নানা পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বললেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্ব দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, বিএনপির লক্ষ্য দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া, দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা।

তাই ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক দলকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘চোখটা বন্ধ করে এক মিনিটের জন্য চিন্তা করে দেখুন, এই মুহূর্তে যতগুলো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে আছে, বিএনপি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল শিক্ষাসংক্রান্ত, যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে, কৃষক ভাইদের সহযোগিতার ব্যাপারে, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার ব্যাপারে, কোনো ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা দিতে তারা সক্ষম হয়েছে কি না?’

বিএনপি ছাড়া সঠিক পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা আর কোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি দাবি করে তারেক রহমান বলেন, ‘কারণ একটাই, এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র দল, একমাত্র রাজনৈতিক দল, যাদের অভিজ্ঞতা আছে দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করার। যাদের অভিজ্ঞতা আছে দেশকে কীভাবে সঠিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। যাদের অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয়।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠে আয়োজিত সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তারেক রহমান। ওই এলাকায় (ঢাকা-১৩ আসন) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে চান বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এমন একটি পরিস্থিতি, এমন একটি দেশ তৈরি করতে চান, যেখানে মা-বোনেরা সকাল, সন্ধ্যা কিংবা রাতে, যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। তরুণ যুবকেরা, বয়স্করা ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি যাই করুক নিরাপদে, নিশ্চিন্তে করতে পারবেন। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে মানুষ রাতে নিজ নিজ ঘরে নিরাপদে ঘুমাতে পারবেন। আর সেই লক্ষ্যে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে সবচেয়ে বেশি জোর দেবেন।’

ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ কাজে যে যত বড় শক্তিশালী হোক, ওই ব্যক্তি কোনো খাল বন্ধ করে মানুষের সমস্যা করলে, খাল বন্ধের কারণে জলাবদ্ধতা হলে ওই ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে খালটি পুনরুদ্ধার করা হবে।

ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপিই একমাত্র দল, যাদের দেশ পরিচালনা ও রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ জন্যই বিএনপি বিভিন্ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য হাতে নিয়েছে।

এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে, কর্মসূচি সফল করতে ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করার আহ্বানও জানান তিনি।

মালয়েশিয়া থেকে কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পথে থাইল্যান্ড উপকূলে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ ডুবে গেছে। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি মাছ ধরার নৌযান ও থাই নেভির একটি দল নাবিকদের উদ্ধার করে। থাইল্যান্ডের অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য ফুকেট নিউজ আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি ও থাইল্যান্ডের অনলাইন নিউজ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম ‘এমভি সিলয়েড আর্ক’। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১১৫ মিটার। এতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ২৯৭ একক কনটেইনার পণ্য ছিল। এর মধ্যে ১৪টি কনটেইনারে বিপজ্জনক পণ্য রয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দর থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। রওনা দেওয়ার দুই দিনের মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে।

কনটেইনারসহ ডুবে যাচ্ছে জাহাজটি
কনটেইনারসহ ডুবে যাচ্ছে জাহাজটি, ছবি: ফুকেট নিউজ
 

জাহাজটির বাংলাদেশের স্থানীয় এজেন্ট আলভি লাইন্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক মো. মুকুল হোসেন বলেন, ফুকেট উপকূল থেকে চার নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে যায়। এ সময় ক্যাপ্টেন জাহাজটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। নাবিকদের উদ্ধার করে ফুকেটের একটি হোটেলে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই সুস্থ আছেন।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক। কিন্ত দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার জন্য দেশের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো বিফল হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সব জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিত রয়েছেন।

কেবল আলোচনা নয় নারীদের জন্য প্রকৃত সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে উইমেন ইন ডেমোক্রেসির উদ্যোগে ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী : অবদান, দায় ও দায়িত্ব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

জাইমা রহমান বলেন, আমরা অন্য রকম একটা দেশ গড়তে চাই। এ জন্য মানুষের চিন্তা জগতে পরিবর্তন আনতে হবে। 

পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই নারী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে। আর নারীদের প্রতি অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে আরও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তাদের সেই সুবিধা দিলে নারীরা যে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারছে না; এটা কমে আসবে।

তিনি বলেন, কারও যদি রাজআবার বড় হবে? আমরা দেখি পুরুষদের জন্য অনেক রকম সুযোগ-সুবিধা নীতি আর নাগরিক দায়িত্ব না থাকে, তাহলে সে কীভাবে বুঝবে যে- এইভাবে বা এই পথে যাওয়া উচিত। তাল গাছের ছায়ার মতো যদি কেউ একজন না থাকে, তাহলে কীভাবে ছোট গাছটা থাকে, কিন্তু নারীদের ওইভাবে দেওয়া হয় না। সবকিছু ছেলেরা করবে এমন নয়, নারীদের জন্যও সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে।