জ্বালানি তেল মজুত প্রতিরোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদরদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ২টি, রংপুর জেলায় ৩টি, রাজশাহী জেলায় ৩টি, সিলেট জেলায় ২টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩টি, কুমিল্লা জেলায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ১টি ডিপোতে মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মোতায়েনকৃত সদস্যরা অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রয় প্রতিরোধ এবং নাশকতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দায়িত্বাধীন ডিপো কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করছে। সংশ্লিষ্ট ডিপো এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বিজিবি।

এ ছাড়াও সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল পরিচালনা, নৌ টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিতভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ দিলারা হাফিজ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পরিবার জানিয়েছে, দিলারা হাফিজের মরদেহ রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলাদেশে আনা হবে।

৩০ মার্চ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সেন্ট্রাল জামে মসজিদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী সামরিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

দিলারা হাফিজ এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতিনাতনিসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

ঝিনাইদহের মহেশপুরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর উত্তম শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান বর্জন করে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মহেশপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে গতকাল রাতে ইউএনও খাদিজা আক্তারের বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বদলি আদেশের প্রজ্ঞাপনটি ঘটনার আগের দিন ২৫ মার্চ স্বাক্ষরিত।

বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ইউএনও খাদিজা আক্তার তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর উত্তম শহীদ জিয়াউর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম কখনো উল্লেখ করেননি। এর প্রতিবাদে তাঁরা অনুষ্ঠান বর্জন করে প্রতিবাদ করেন। গতকাল বিকেলে বিএনপি নেতারা এ ঘটনার প্রতিবাদে ঝাড়ুমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরে ইউএনওকে বদলির খবর পেয়ে ঝাড়ুমিছিল বাদ দেন। তবে প্রতিবাদ সমাবেশ করে উপজেলা ও পৌর বিএনপি।

ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক দবীর উদ্দিন বিশ্বাস, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরফদার মাহমুদ তৌফিক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ খান প্রমুখ।

ওই ঘটনার পর ইউএনও খাদিজা আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আমরা প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব পালন করি। সরকার ও আইন যেভাবে বলবে, সেভাবেই আমরা দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি।’ স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সংবিধানে অন্য একজনের নাম রয়েছে, সেটা আগে পরিবর্তন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি যখন প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে, তখন খবর আসে, ইউএনও খাদিজা আক্তারকে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আমিরুল আরাফাত স্বাক্ষরিত একই প্রজ্ঞাপনে চিতলমারীতে কর্মরত ইউএনওকে মহেশপুরে দায়িত্ব দিয়ে এ বদলি আদেশ দেওয়া হয়। আদেশটি ২৫ মার্চ স্বাক্ষরিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা উচিত। তবে, এ গবেষণা বা মন্তব্য এমন হওয়া উচিত নয়, যা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবমূল্যায়ন ঘটায়।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীতকে যদি আমরা ভুলে যাই তাহলে মনে হয় দুই চোখই অন্ধ। অতীতকে ভুলে থাকা চলবে না, তবে অতীত নিয়ে পড়ে থেকেও যেন ভবিষ্যতের দিকে এগোতে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সব জাতীয় নেতাকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। সব বীর মুক্তিযোদ্ধা, আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সাহসী জনগণের অবদান স্মরণ করছি। তাদের অনন্য অবদানে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিশেষভাবে শহীদ জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করতেন। তার দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ও ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধ তা প্রমাণ করে। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত ওই নিবন্ধে তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণার ঘটনা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেছেন, যা মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ কোনো এক দলের নয়, এটি ছিল 'জনযুদ্ধ'। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে সবার দায়িত্ব। আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করি, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক— ‘সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো’। আমরা সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করবো এবং ভালো থাকবো ইনশাল্লাহ।

এতে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার রাত আটটার দিকে উপজেলার ধলাটেংগর নামকস্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত পাঁচজন হলেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তাঁর ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) ও আবদুর রশিদের মেয়ে রিফা (২৩)।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটির যাত্রী মায়া (৩০) নামের এক নারীকে পাওয়া যায়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা গতকাল সকাল ১০টার দিকে সাদুল্যাপুর থেকে বাসটিতে করে রওনা দেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালিহাতীর ধলাটেংগরে এসে বাসের তেল শেষ হয়ে যায়। তখন বাসটি সেখানে থামিয়ে রেখে তেল আনতে যান বাসের কর্মীরা। এ সময় বাসের যাত্রীরা নেমে আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন। কেউ কেউ পাশের রেললাইনের ওপর চলে যান। হঠাৎ ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী ট্রেন চলে এলে পাঁচজনই ঘটনাস্থলে নিহত হন।

টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশন ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কালিহাতীর ধলাটেংগর নামকস্থানে রাত ৮টার দিকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস থেমেছিল। এ সময় ওই বাসের কয়েকজন যাত্রী সেখানে বাস থেকে নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশেই রেল লাইনে বসেছিলেন।

এ সময় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি আসলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে একজন শিশু, দুজন নারী ও দুজন পুরুষ ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে জানান এসআই মিজানুর রহমান।

৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশ সদস্য হত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। 

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশ হত্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, শুধু পুলিশ বলছেন কেন? পুলিশসহ অনেক মানুষই মারা গেছে। আইন অনুযায়ী এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কথায় কথায় তরুণরা রাস্তায় নেমে অবরোধ করে এটি ঠিক নয়। এতে সবারই ক্ষতি হয়। 

আইজিপি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অত্যন্ত জরুরি, আর এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার ইতিহাসে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হয়েছে।

মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে আইজিপি বলেন, দেশে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক এবং এর বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। তরুণ সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে শিক্ষানবীশ এএসপি কর্মকর্তাদের শিক্ষা সমাপনী পাসিং আউট অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন আইজিপি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

কক্সবাজার

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক) এক নেতা নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নেতার নাম নীতিদত্ত চাকমা (৪০)। তিনি সংগঠনটির পানছড়ি উপজেলার সমন্বয়ক ছিলেন।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, সকালে উল্টাছড়ি ইউনিয়নের সূতকর্মাপাড়া এলাকায় নীতিদত্ত চাকমাকে গুলি করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই গুলিবিদ্ধ নীতিদত্ত চাকমাকে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক। তবে সংগঠনের নেতা–কর্মীদের কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। অন্যদিকে ইউপিডিএফ (প্রসীত) এ ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জানতে চাইলে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের অন্যতম মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, ‘এটা তাদের (ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক) দলের অভ্যন্তরীণ কারণে হয়েছে। আমাদের সংগঠন কোনোভাবেই জড়িত নয়।’

    • ফেরিটি প্রস্তুত হওয়ার আগেই বাসটি পন্টুনে এসেছে: বিআইডব্লিউটিসি।

    • জেলা প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের দুটি তদন্ত কমিটি।

    • নিখোঁজের তথ্য পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান।

    রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ

১/১১–পরবর্তী সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিন হওয়ার বিষয়ে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদ। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মামুন খালেদকে আজ জুলাই অভ্যুত্থানের একটি হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই রিমান্ড শুনানিকালে এই দাবি করেন মামুন খালেদ। তিনি বলেন, ‘এক–এগারোর সময় তখন আমি কুমিল্লায় ছিলাম।... মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেবের জামিনের সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।’

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির মামলায় আটক হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন সে সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনে যান। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। প্রায় দেড় দশক পর জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তিনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসা মামুন খালেদকে গতকাল বুধবার রাতে ঢাকার বাসা থেকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ তাঁকে আদালতে হাজির করে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বেলা ২টা ৬ মিনিটে মামুন খালেদকে ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে হাজতখানায় রাখা হয়। এর ৫০ মিনিট পর তাঁকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় আসামি মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। সেখানে দেলোয়ার নামে একজন নিহত হন।

মামুন খালেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পিপি আরও বলেন, তিনি এক–এগারোর সময়ের কুশীলবদের একজন। তখন তিনি ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন। সে সময় এ আসামি ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের বন্দী করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এবং হেনস্তা করেন। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে যাঁরা সহযোগিতার করছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনি একজন। যার পুরস্কারস্বরূপ তিনি ডিজিএফআইয়ের প্রধান হন। তারপর আয়নাঘর (গোপন বন্দিশালা) তৈরি করেন। সেখানে অত্যাচার, গানপাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারাসহ নানা অপরাধ করেন। পাশাপাশি ডিজিএফআইকে রাজনৈতিকীকরণের কুশীলব তিনি।

এ ছাড়া মামুন খালেদ জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অভিযোগ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বলেন, সে কারণে ইতিমধ্যে আদালত তিনি ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পিপি আরও বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে এককাপড়ে বের করে দেন এই মামুন খালেদ। সে কারণে শেখ হাসিনা তাঁকে অনেক সুযোগ–সুবিধা দেন। এসব বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে মামুন খালেদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। বাদীপক্ষের আইনজীবীও আাদালতে শুনানিতে একই কথা বলেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম রিমান্ড আবেদন বাতিল করে মামুন খালেদের জামিন আবেদন করেন। আইনজীবী মোরশেদ হোসেন বলেন, এ মামলার এজাহারে মামুন খালেদের নাম নেই। বাদী সেখানে নির্দিষ্টভাবে আসামিদের নাম বলে দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের আদেশে বলা আছে, যেকোনো মামলা হতে হলে নির্ভরযোগ্য চারটি কারণ থাকতে হবে, তার একটিও রাষ্ট্রপক্ষ দেখাতে পারেনি। তিনি ওই সময় একজন চাকরিজীবী ছাড়া আর কিছু ছিলেন না।

আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী নজরুল ইসলাম আদালতে বলেন, আসামি মামুন খালেদ ২০১৬ সালে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষ করেছেন। তিন যুগের বেশি সময় তিনি পাঁচটি পদে চাকরি করেছেন। একটি পদেও আইনবহির্ভূতভাবে সুবিধা নেননি। আয়নাঘরের দায়িত্বে তিনি ছিলেন না। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের বহু আগে তিনি অবসরে গেছেন।

তা ছাড়া খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে উচ্ছেদের সময় মামুন খালেদ তাঁর নিজের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন বলে দাবি করেন তাঁর এই আইনজীবী। মামলায় মামুন খালেদের বয়স ৬৩ বছর দেখানো হলেও তাঁর বয়স আরও বেশি দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, সে কারণে তাঁকে রিমান্ডে দেওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজনে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হোক।

এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন আসামি মামুন খালেদ। সালাম দিয়ে তিনি বলেন, ‘এক–এগারোর সময় তখন আমি কুমিল্লায়। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেবের জামিনে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।’ অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি আদালতে আরও বলেন, ‘জলসিঁড়ি প্রকল্পের টাকার যে অভিযোগ, সেটি হচ্ছে—নজরুল সাহেব নামে একজনের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেন। আমি শুধু উদ্ধারের কাজে ছিলাম।’

আয়নাঘরের বিষয়ে ইতিমধ্যে দুই–তিনবার কথা বলেছেন উল্লেখ করে আদালতে মামুন খালেদ বলেন, ‘আমার সময়কালে (গুমের) কোনো অভিযোগ নেই।’ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিউইপি) প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ছিলেন উল্লেখ করে মামুন খালেদ আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় সেখানকার শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হয়। এমনকি এ মামলার অভিযোগে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে, ওখানে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। কারণ, ডিওএইচএসের বাইরে যাই নাই। ২৪ সালে আমার কথামতো কে গুলি করবে? তখন আমি সিভিলিয়ান।’

শুনানি শেষে আদালত মামুন খালেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলের ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। জবাবে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘ফ্যাসিস্টের সময় তারাই সব সুযোগ–সুবিধা পেয়েছে। সব করেছে তাঁরা।’

কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি প্রাইভেটকারে যাত্রীবাহী এক বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ ৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া, আরও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামী হোটেলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোমেন দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। অপরজন প্রাইভেটকারের চালক। নিহতরা হলেন নোয়াখালী সোনাইমুড়ি উপজেলার ছাতারপাইয়া এলাকার বাসিন্দা ও জামিয়া মোহাম্মদীয়া আরাবিয়ার শাইখুল হাদিস শিক্ষক মুফতি আব্দুল মোমিন (৫০), তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), মেয়ে লাবিবা (১৯) ও ছেলে সাঈদ আশ্রাফ (৭) এবং প্রাইভেটকারচালক জামাল হোসেন (৫২)। জামাল বরিশালের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল প্রাইভেটকারটি। এ সময় মহাসড়কের কালাকচুয়ায় এলে চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন বাস প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় মুমূর্ষু অবস্থায় প্রাইভেটকারের মধ্যে থাকা সবাইকে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মুফতি আব্দুল মোমিন, তার স্ত্রী ও মেয়ে এবং চালক জামাল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর আহত সাঈদ আশ্রাফ ও তার ভাই আবরারকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাইদের মৃত্যু হয়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোমেন বলেন, খবর পেয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকার ও বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে, বাসের চালক ও হেলপার কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।