উত্তর কোরিয়া আবারও তার সামরিক শক্তির প্রদর্শন ঘটিয়ে পূর্ব উপকূলে একের পর এক ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। 

রোববার (১৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে দেশটি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান সরকারের পক্ষ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের। 

পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এটি চলতি বছরে চালানো সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। তবে শুধু এপ্রিল মাসেই এটি চতুর্থ বারের মতো এই ধরনের ঘটনা।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রোববার স্থানীয় সময় ভোর ছয়টা দশ মিনিটের দিকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। পিয়ংইয়ংয়ের সিনপো শহরের উপকূলীয় এলাকা থেকে এগুলো নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে জাপান সরকার তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়েছে। তবে জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে পিয়ংইয়ং বারবার জাতিসংঘের এই বিধিনিষেধগুলো প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা বরাবরই দাবি করে আসছে  এটি তাদের আত্মরক্ষার সার্বভৌম অধিকার এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য তারা এই সক্ষমতা ধরে রাখতে চায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল চুল এ বিষয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের ইরান পরিস্থিতি নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত এবং মনোনিবেশ করে আছে। এই সুযোগটিকে উত্তর কোরিয়া কাজে লাগাচ্ছে। তারা তাদের পারমাণবিক শক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য একে এক মোক্ষম সময় হিসেবে দেখছে। 

উল্লেখ্য, গত মার্চের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি বড় ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার বর্তমান অবস্থান এখন অপরিবর্তনীয়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই বলেও তিনি সেই সময় মন্তব্য করেছিলেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরান বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে আবারও লড়াই শুরু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

আজ রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে গালিবাফ এই সতর্কবার্তা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও এ যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেই তাঁর এ মন্তব্য সামনে এল।

এদিকে ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর প্রতিবেদনে সামরিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাব্য সমাপ্তির আশঙ্কায় ইসরায়েলি বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের এ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ এক বিবৃতিতে মার্কিন এ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ কারণেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরমুখী এবং ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে না দেবে, ততক্ষণ এ কড়াকড়ি বজায় থাকবে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরান—উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা বলেছিল। তবে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ‘পুরোদমে কার্যকর’ থাকবে।

ট্রাম্পের এমন অনড় অবস্থানের কারণেই তেহরান পাল্টা সিদ্ধান্ত নিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আল–জাজিরা

বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরব পৌঁছেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ৩০০১ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটে হজযাত্রী ছিল মোট ৪১৯ জন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদেরকে অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম।
এ সময় হজযাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে রিফ্রেশমেন্ট কিট তুলে দেওয়া হয়।
অভ্যর্থনাকালে অন্যান্যের মধ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইহাহিয়া রাদি এবং হাজিদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান নুসুক মারহাবার ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইট-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন। পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়।

 

ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময় হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ থাকবে। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেকটা কমে গেছে।

এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি নেমে আসে ৮৮ ডলারে, যদিও গতকাল শুক্রবার সকালেই এই তেলের দাম ছিল ৯৮ ডলারের ওপরে।

হরমুজ প্রণালি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরানের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামুদ্রিক পরিবহন খাতের সংস্থাগুলো বলছে, বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, তা এখনো যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট যে সময় আছে, সেই সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে। এই সময়ের জন্য হরমুজ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপে প্যারিসের ক্যাক ও ফ্রাঙ্কফুর্টের ড্যাক্স সূচক প্রায় ২ শতাংশ করে বৃদ্ধি পায়, লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ট্যাংকার চলাচল কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। ফলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

সংঘাত শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের নিচে। একপর্যায়ে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে ১১৯ ডলার পেরিয়ে যায়। এর পর থেকে অবশ্য তেলের দাম ওঠানামা করছে।

এদিকে হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করছে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা বিমকো। সংস্থাটির নিরাপত্তাপ্রধান জ্যাকব লারসেন বলেন, প্রণালির নির্ধারিত নৌপথে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি এখনো পরিষ্কার নয়। ফলে জাহাজ চলাচল নিরাপদ হয়েছে, এ কথা আপাতত বলা যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, প্রণালি আবার চালুর ঘোষণা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত হয়েছে কি না।

তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব ইতিমধ্যে জ্বালানি বাজারে পড়েছে। পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে, জেট জ্বালানির সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এতে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কেবল তেল, সার, গ্যাসসহ আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার তৈরির উপাদান এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে খাদ্যপণ্যের দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাজ্যের বাজারে এই প্রথম পেট্রল ও ডিজেলের দাম সামান্য কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির মোটরিং সংস্থা আরএসি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে, যদিও ফেব্রুয়ারির তুলনায় তা এখনো অনেক বেশি।

ইরানের ঘোষণার কারণ

এদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়েছে। মূলত এই যুদ্ধবিরতির পর ইরান এই ঘোষণা দেয়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং চলাচলের জন্য প্রস্তুত। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে এই প্রণালি আর ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। তবে স্থায়ী চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে শিপিং খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। কেউ কেউ বলছে, তাঁরা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নন এবং এখনই এই পথ ব্যবহার শুরু করা যাবে না।

তেলবাহী জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান স্টেনা বাল্ক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইসরায়েল-লেবাননের এই যুদ্ধবিরতির কারণে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের সুযোগ যে অনেক বেড়ে গেছে তা নয়, বরং এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। এই সময়ের মধ্যে কিছু জাহাজ প্রণালি পার হতে পারলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে না।

বেইস বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক মনমোহন সোধি বলেন, সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। ফলে ভোক্তাদের চাপ যে দ্রুত কমবে, তেমন সম্ভাবনা কম।

বিবিসি

ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নিতে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটন কাজ করবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থাতেই তা কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।

এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে বড় বড় খনন যন্ত্র ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার ডাস্ট তুলবো। হামলার গভীরতার কারণে বড় আকারের যন্ত্রের প্রয়োজন হবে। এরপর ওই পারমাণবিক অবশিষ্টাংশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি খুবই সোজা। 

বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ আবারও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের দুইজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা এই রণতরি সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে ‘ইউএসএস মাহান’ ও ‘ইউএসএস উইনস্টন এস চার্চিল’ নামে দুটি ডেস্ট্রয়ার (যুদ্ধজাহাজ) রয়েছে। সামরিক অভিযানের গোপনীয়তা রক্ষায় ওই কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জাহাজের লন্ড্রিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পর মেরামতের জন্য গত এক মাসের বেশি ভূমধ্যসাগরে ছিল ফোর্ড। ওই অগ্নিকাণ্ডের ফলে জাহাজটির ৬০০ নৌসেনার ঘুমানোর জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মেরামত শেষে এটি এখন লোহিত সাগরে ফিরেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর দীর্ঘতম সময় মোতায়েন থাকার রেকর্ডও ভেঙেছে এ রণতরি।

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পৌঁছানোর ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করছে। অন্যটি হলো আরব সাগরে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। এছাড়া ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ নামে আরও একটি রণতরি এ অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে এটি অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে তৃতীয় দফায় নোঙর তুলেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর শুক্রবার রাত নয়টার দিকে পারস্য উপসাগর থেকে রওনা হয় জাহাজটি। জাহাজে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক রয়েছেন।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক রাতে জানান, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।

ইরানের কর্তৃপক্ষ আজ শুক্রবার এই প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ অতিক্রম করতে পারবে বলে ঘোষণা দেয়। এরপরই নোঙর তুলতে শুরু করে একের পর এক জাহাজ। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হরমুজমুখী জাহাজের স্রোতের শুরুর দিকেই রয়েছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজটি। ঘণ্টায় নয় নটিক্যাল মাইল গতিতে হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে এটি।

জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার রাতে বলেন, ‘ইরানি বাহিনীর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় আমরা হরমুজের পথে আছি।’

বিএসসির এই জাহাজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে রয়েছে। সেখানে এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএসসি। তবে সেবার অনুমতি না পেয়ে হরমুজ পার হওয়া যায়নি।

অনুমতি না পেয়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয় জাহাজটিতে। এই সার নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি চেয়ে পায়নি জাহাজটি। এর পর থেকেই হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করেছিল জাহাজটি। এবার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটল।

জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান শুক্রবার রাতে বলেন, হরমুজ পার হওয়ার পর জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নেওয়া হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। আজ শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নয়াদিল্লি সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানোর কথা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চান।

জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাব।’ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সব ঘটনা খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে আর কথা না বলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ভারতের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন জয়সোয়াল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত হওয়ার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে ভারতের ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। প্রাসঙ্গিক দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর (মেকানিজম) মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। খুব শিগগির পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তা ছাড়া উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে মতবিনিময় করেছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত নিজেদের প্রয়োজনীয়তা ও মজুতের পরিমাণ বিবেচনায় রেখে প্রতিবেশী দেশগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ করছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, গত মার্চ মাসে ভারত বাংলাদেশে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছে এবং চলতি মাসেও এই সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

প্রায় ৪০টি দেশের নেতাদের নিয়ে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার চালুর উদ্যোগ নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে তেহরান নিজেদের ছাড়া অন্যান্য জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন গত সোমবার ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে।

যুক্তরাজ্য–ফ্রান্স আয়োজিত বৈঠকে প্রায় ৪০টি দেশের নেতারা ইরানের যুদ্ধবিরতি সমর্থনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বনেতারা প্রণালিটি আবার চালু করতে একটি আন্তর্জাতিক মিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন। সূত্র: সিএনএন

 

ইরান যুদ্ধে এশিয়ার অনেক দেশের অর্থনীতি যখন জ্বালানিসংকটে ধুঁকছে তখন চীনের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বা প্রথম প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। অথচ অর্থনীতিবিদেরা আগে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তার মানে, পূর্বাভাসের চেয়ে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। ইরানও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। ফলে এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানিসংকটে পড়েছে।

চীনের প্রথম প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানটি এমন সময়ে, যখন বেইজিং গত মাসেই তাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়ে সাড়ে চার থেকে পাঁচ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। যা কিনা ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে কম লক্ষ্যমাত্রা। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে সাড়ে চার শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর গত প্রান্তিকে উৎপাদন খাতের কল্যাণে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। তবে আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় চীনের অর্থনীতি এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কাইল চ্যান বলেছেন, গাড়ি ও অন্যান্য রপ্তানি এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেশি সহায়তা করেছে। তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের পূর্ণ প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। বাণিজ্য বিঘ্নের কারণে আগামী প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমতে পারে।

গত মার্চে চীনের নতুন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আওতায় জিডিপির লক্ষ্য ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য ঘোষণা করা হয়। বেইজিং উচ্চপ্রযুক্তি খাত, উদ্ভাবন ও অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়াতে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দেশটির শাসক দল চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তার কারণ দেশটি দুর্বল ভোগ, জনসংখ্যা হ্রাস ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসনসংকটসহ নানা সমস্যায় ভুগছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে চীনকে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট ও বাণিজ্যিক অস্থিরতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যার মধ্যে ট্রাম্পের পাল্টাশুল্কও রয়েছে।

বর্তমানে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা আছে। যদিও মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, জুলাইয়ের শুরুতে এই শুল্ক আবার আগের উচ্চ স্তরে ফিরে যেতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মে মাসে চীনে বৈঠক করবেন।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত মার্চ মাসের পণ্য রপ্তানি তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় পণ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেশ কমেছে। গত মাসে চীনের রপ্তানি আড়াই শতাংশ কমেছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দেশটির রপ্তানি ২০ শতাংশ বেড়েছিল। মূলত ইলেকট্রনিকস ও উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়।

লুনার নিউ ইয়ারের তারিখ পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর প্রথম দুই মাসের বাণিজ্য তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করে চীন।

অন্যদিকে গত মার্চে দেশটির পণ্য আমদানি প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। ফলে মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত (পণ্য রপ্তানি ও আমদানির মধ্যকার ব্যবধান) নেমে এসেছে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।

অর্থনীতিবিদ ই-শিয়াও ঝৌয়ের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক ব্যয় বেড়ে যাওয়াই আমদানির মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় অপরিশোধিত তেল ও প্লাস্টিকসহ তেলজাত পণ্যের দাম বেড়েছে। যদিও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর তুলনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ওপর চীনের নির্ভরতা কম, তবু দেশে জ্বালানির দাম বাড়ছে। কিছু চীনা এয়ারলাইন জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির কারণে ফ্লাইটও কমিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিকভাবে দাম বাড়ার কারণে ভোক্তারা যদি কম খরচ করে, তাহলে চীনের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ই-শিয়াও ঝৌ বলেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত আপনার বাণিজ্য অংশীদারদের অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে। খুব বেশি হারে এই প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে রাখা কঠিন।

বিবিসি

রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে নতুন করে ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের অস্থিরতার মাঝে এটি বাংলাদেশের ওপর থাকা জ্বালানি সরবরাহের চাপ সাময়িকভাবে লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ছাড়ের মেয়াদ আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

গত ১১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

এর আগে, গত ১২ মার্চ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ রুশ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য-সংক্রান্ত লেনদেনে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ১১ এপ্রিল।