যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দেয় ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। শুরুর ৪০তম দিনে এসে আজ বুধবার প্রাণঘাতী এ যুদ্ধের লাগাম টানতে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান।

এ যুদ্ধে কোন দেশে কতজন নিহত হয়েছেন, আসুন দেখে নেই—

ইরান: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে মোট ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক রেডক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৯০০ জন।

লেবানন: লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে দুটি পৃথক ঘটনায় জাতিসংঘের তিনজন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। তাঁরা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। লেবাননে নিহতের তালিকার আরও আছেন সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মী।

ইরাক: সংকট শুরুর পর থেকে ইরাকে অন্তত ১১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েল: ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দেশটিতে মোট ২৩ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের ১১ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র: যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ১৩ জন সেনা নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুজন সেনাসহ মোট ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কাতার: কাতারের জলসীমায় গত ২২ মার্চ ‘নিয়মিত দায়িত্ব পালনের’ সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হয়েছেন।

কুয়েত: সাতজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিম তীর (ফিলিস্তিন): ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে চারজন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।

সিরিয়া: দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর সুয়েইদায় একটি ভবনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।

বাহরাইন: ইরানের দুটি পৃথক হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।

ওমান: দেশটির সোহর প্রদেশের একটি শিল্পাঞ্চলে গত ১৩ মার্চ ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।

সৌদি আরব: রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আল-খারজ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় নিক্ষিপ্ত গোলার আঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন।

ফ্রান্স: উত্তর ইরাকে ড্রোন হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

** প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ৩ এপ্রিল জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা ছয় বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তার বিস্তারিত সামনে এসেছে। এই প্রস্তাবগুলোতে ইরান কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ: ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের’ প্রস্তাব দিয়েছে। এটি কার্যকর হলে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হবে। এ ছাড়া তারা একটি ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল’ তৈরির দাবি করেছে যা এই প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত করবে।

মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার: পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল যুদ্ধকালীন ঘাঁটি এবং সেনা মোতায়েন কেন্দ্র থেকে মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।

 

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ মুক্তি: ইরানের বিরুদ্ধে থাকা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সব নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের সব নেতিবাচক প্রস্তাবনা প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি: বিগত বছরগুলোতে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ‘পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ’ দাবি করা হয়েছে তেহরানের পক্ষ থেকে।

আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা: ইরান দাবি করেছে যে, ইসলামাবাদে সমঝোতা হওয়া প্রতিটি বিষয়কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি ‘বাধ্যতামূলক রেজুলেশন’ হিসেবে পাস করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এর থেকে সরে যেতে না পারে।

আল–জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরাকে অপহৃত মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে মুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

রুবিও বলেন, বাগদাদের কাছে কাতাইব হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর হাতে অপহৃত হওয়ার পর তাকে নিরাপদে মুক্ত করতে মার্কিন সংস্থা ও ইরাকি অংশীদারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

[caption id="attachment_260891" align="alignnone" width="1052"] মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও।[/caption]

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রুবিওর ভাষায়, 'এই মুক্তি প্রমাণ করে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন অটল।'

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা কিছুটা স্তিমিত হলো। ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের ‘বোমাবর্ষণ ও হামলা’ অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে এই ঘোষণা এল।

তবে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির পেছনে একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই স্থগিতাদেশ তখনই কার্যকর থাকবে যখন ইরান অবিলম্বে ‘সম্পূর্ণ এবং নিরাপদভাবে’ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেওয়া ১১ ঘণ্টার বিশেষ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য তিনি স্থগিতে রাজি হয়েছেন।

ট্রাম্প লিখেন, দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘উভয়মুখী যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে এই স্থগিতাদেশের প্রধান শর্ত হচ্ছে—ইরানকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

ট্রাম্পের এই নাটকীয় ঘোষণার পেছনে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যস্থতা বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।’

সূত্র: রয়টার্স

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মিলিত ও প্রতিরক্ষামূলক চেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে আনা একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। ফলে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে গেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবটি পেশ করা হয়েছিল।

নিরাপত্তা পরিষদের ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় এবং দুটি দেশ (পাকিস্তান ও কলম্বিয়া) ভোটদানে বিরত থাকে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া ভেটো দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাশ হয়নি। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া—যে কোনো এক সদস্য ভেটো দিলে পরিষদে যে কোনো প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

কয়েক সপ্তাহের দীর্ঘ আলোচনার পর মূল খসড়া প্রস্তাবটি বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়। শুরুতে এটি ‘চ্যাপ্টার সেভেন' (যা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়) এর অধীনে থাকলেও পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ‘প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি’ সংক্রান্ত অংশটিও বাদ দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টাকে ‘জোরালোভাবে উৎসাহিত’ করার কথা বলা হয়েছিল।

বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। ভোটের আগে তিনি কাউন্সিল সদস্যদের বলেন, এই প্রস্তাব নতুন কোনো বাস্তবতা তৈরি করছে না; বরং এটি ইরানের ক্রমাগত বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে একটি কঠোর পদক্ষেপ, যা বন্ধ হওয়া জরুরি।

সূত্র: বিবিসি।

ইরানকে একটি চুক্তিতে আসার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার সময়সীমার কথা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তারা জানিয়েছে, তেহরান নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যদি শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়, তবে প্রেসিডেন্ট কী পদক্ষেপ নেবেন তা একমাত্র তিনিই জানেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট আল–জাজিরাকে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরানি সরকারের হাতে আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) পর্যন্ত সময় আছে।’ তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি আসলে কোন পর্যায়ে আছে এবং তিনি (ট্রাম্প) শেষ পর্যন্ত কী করবেন, তা কেবল প্রেসিডেন্টই জানেন।’

সূত্র: আল–জাজিরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাম সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেও বরগুনা সদর হাসপাতালে শিশুদের নিয়ে মানুষজন গাদাগাদি করে লিফটে ওঠানামা করছেন।

বরগুনা থেকে

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের সবচেয়ে বড় পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, তাঁরা পরিকল্পিতভাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অর্থের উৎস ভেঙে দিচ্ছেন।

এক পৃথক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, তারা ইরানের দুটি বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে দেশটির ৮৫ শতাংশের বেশি পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

আইডিএফের দাবি, ইরানের আসালুয়ের একটি স্থাপনা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানের অংশ হিসেবে সফলভাবে চাঁদের পেছনের অংশ ঘুরে আসা চার নভোচারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওরিয়ন মহাকাশযানে অবস্থানকারী ওই নভোচারীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তিনি।

মানুষ হিসেবে এখন পর্যন্ত পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন মার্কিন আর্টেমিস-২–এর নভোচারীরা। তাঁদের বহনকারী ওরিয়ন মহাকাশযানটি যখন চাঁদের পেছন দিকে যায়, তখন পৃথিবীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরবর্তী সময়ে ওই অংশ ঘুরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে তাঁদের আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

পরে ট্রাম্প তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আর্টেমিস মিশনের নভোচারীদের প্রশ্ন করেন, ‘হঠাৎ করে যখন সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল, তখন আপনাদের কেমন অনুভূতি হয়েছিল?’

জবাবে নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তিনি প্রথমে ‘একটু প্রার্থনা’ করেছিলেন। তবে এরপরই চাঁদের পেছন অংশের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তাঁকে কাজে মন দিতে হয়েছে।

গ্লোভার আরও বলেন, ‘আমরা খুব ব্যস্ত ছিলাম এবং কঠোর পরিশ্রম করছিলাম। সত্যি বলতে, সময়টা বেশ ভালোই কেটেছে।’

ট্রাম্প প্রশ্ন করে যেতে থাকেন। তিনি নভোচারীদের জিজ্ঞেস করেন, ঐতিহাসিক দিনটির সবচেয়ে অবিস্মরণীয় অংশ কী ছিল?

এর জবাবে নভোচারী রিড উইজম্যান বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ফোনকলটি নিশ্চয়ই আমাদের সবার জন্য খুবই বিশেষ।’

এরপর উইজম্যান বলতে থাকেন, ‘আমরা এমন কিছু দৃশ্য দেখেছি, যা কোনো মানুষ আগে কখনো দেখেনি, এমনকি অ্যাপোলো মিশনও নয়। এটি আমাদের জন্য সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল।’

এরপর উইজম্যান ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে তাঁরা সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, চার নভোচারী এটা ভেবে উত্তেজনা বোধ করছেন যে ভবিষ্যতে মানুষ শুধু পৃথিবীতেই নয়; বরং দুটি গ্রহে বসবাস করবে। মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানের লক্ষ্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেছেন।

আলাপচারিতার শেষে ট্রাম্প বলেন, নভোচারীদের অভিযান শেষ হলে তিনি হোয়াইট হাউসে আর্টেমিস দলের সঙ্গে দেখা করবেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমিও খুব ব্যস্ত আছি। কিন্তু আমি অবশ্যই সময় বের করে নেব।’

আর্টেমিস-২ অভিযানের চার নভোচারী যখন চাঁদের পেছনের অংশে এখন পর্যন্ত মানুষের ভ্রমণ করা সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় পৌঁছান, তখন পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল। এর আগে পৃথিবী থেকে এত দূরে কোনো মানুষ ভ্রমণ করেননি।

এর মধ্য দিয়ে আগের একটি রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছে আর্টেমিস-২। আগের রেকর্ডটি প্রায় ৫৬ বছর আগের। আল-জাজিরার খবর বলছে, ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো-১৩ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণ করেছিলেন।

বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করতে পারে। গতকাল রোববার এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

যুদ্ধবিরতির শর্তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানাশোনা আছে—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এই খবর দিয়েছে।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

ইরানে নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পরিবহন বিমান বিকল হয়ে যায়। এগুলো যাতে ইরানের হাতে না পড়ে, সেজন্য বিমান দুটি ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানে গত শুক্রবার ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই-এর পাইলট ও ক্রুকে উদ্ধারে পরিচালিত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এ অভিযানের নতুন নতুন তথ্য এখন সামনে আসছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল কয়েক ধাপের একটি জটিল উদ্ধার অভিযান।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আমরা তাঁকে পেয়েছি! তিনি এখন নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’

ট্রাম্প আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া ওই কর্মকর্তা একজন ‘কর্নেল’। অভিযানে তিনি কিছুটা আহত হলেও এখন আশঙ্কামুক্ত। এই বিশাল অভিযানে কয়েক ডজন বিমান অংশ নিয়েছিল বলেও জানান ট্রাম্প।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ইরানে গত শুক্রবার ভূপাতিত করা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের একটির নিখোঁজ থাকা ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ রোববার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে এ খবর জানিয়েছেন।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা তাঁকে পেয়েছি! আমার প্রিয় আমেরিকানরা, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম দুঃসাহসিক একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।’

উদ্ধার হওয়া ওই ক্রু ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন বলেও পোস্টে জানান ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘তিনি আহত হয়েছেন, কিন্তু ঠিক হয়ে যাবে।’

ট্রাম্প আরও জানান, এ উদ্ধার অভিযানে ‘কয়েক ডজন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি।

শুক্রবার ইরান নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার খবর জানায়। এতে দুজন ক্রু ছিলেন। ওই দিনই তাঁদের একজনকে উদ্ধার করা হয়। অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন। একই দিনে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছিল তেহরান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েল যখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর ক্রমেই চাপ বাড়াচ্ছে, তখনই নিখোঁজ বৈমানিককে উদ্ধার করে আনার খবর পাওয়া গেল। নতুন চুক্তি করতে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় দেশটিকে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

বিবিসি