২০২০ সালে ইরাকে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। তাঁর দুই স্বজনকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাসেম সোলাইমানির দুই স্বজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তাদের গ্রিন কার্ড বাতিল করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, সোলাইমানির স্বজন ইরান সরকারের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বসে ইরানি শাসনের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের দেশকে এমন কোনো বিদেশি নাগরিকের নিরাপদ আশ্রয় হতে দেবে না, যারা আমেরিকাবিরোধী সন্ত্রাসী সরকারকে সমর্থন করে।’

সূত্র: বিবিসি

গণপরিবহনে বিনা মূল্যে চলাচল করতে পারবেন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব প্রদেশে মানুষেরা। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে মানুষকে আর্থিক স্বস্তি দিতে সাময়িকভাবে গতকাল শুক্রবার এই নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ঘোষণা দেন, পরবর্তী ৩০ দিনের জন্য কেন্দ্রীয় রাজধানী ইসলামাবাদে সব ধরনের গণপরিবহন বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নির্দেশনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চলমান জ্বালানিসংকটের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের জনবহুল পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর ‘জাতীয় মিতব্যয়িতা ও সঞ্চয় কর্মসূচির’ আওতায় বড়সড় সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।

এ প্যাকেজের অংশ হিসেবে পাঞ্জাব প্রদেশে অরেঞ্জ লাইন ট্রেন, মেট্রোবাস, স্পিডো বাস, গ্রিন ইলেকট্রিক বাসসহ সব গণপরিবহনে ব্যবহারকারীরা টিকিট ছাড়াই চলাচল করতে পারবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গতকাল মরিয়ম নওয়াজ বলেন, ‘আমি সবাইকে এই সুবিধাগুলোর পূর্ণ ব্যবহার করতে এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক, সাশ্রয়ী ও টেকসই উপায় হিসেবে গণপরিবহন বেছে নিতে উৎসাহিত করছি।’

জ্বালানিসাশ্রয়ের জন্য গত সপ্তাহের শুরুতে গণপরিবহনের ভাড়া মওকুফের ঘোষণা দেয় অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া আর তাসমানিয়া রাজ্যের প্রশাসন।

জিও নিউজ

আল–জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভয়াবহ সংঘাত এবার সম্পূর্ণ নতুন ও চরম বিপজ্জনক এক বাঁকে মোড় নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এ পর্যন্ত মূলত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু যুদ্ধের ৩৫তম দিন শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর সংঘাতের বারুদ প্রথমবার সরাসরি শত্রু ভূখণ্ডের স্থলভাগে আছড়ে পড়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানের নিখোঁজ পাইলটকে যেকোনো মূল্যে উদ্ধার করতে ইতোমধ্যে সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর (স্পেশাল ফোর্স) তুখোড় কমান্ডোরা।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার ভোরের দিকে। মার্কিন প্রশাসন পুরো আকাশ জুড়ে তাদের শতভাগ আধিপত্য রয়েছে বলে দাবি করে আসলেও ইরানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হঠাৎ বড় আঘাত হেনে একটি সচল মার্কিন যুদ্ধবিমানকে মাটিতে নামিয়ে আনে। এফ-১৫ মডেলের এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানে সাধারণত দুজন ক্রু থাকেন। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পরপরই পেন্টাগনের নির্দেশে অত্যন্ত গোপনীয় ও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এক ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অপারেশন শুরু হয়। বিমান থেকে প্যারাশুটে নেমে আসা প্রথম ক্রু বা পাইলটকে মার্কিন হেলিকপ্টার টিম নাটকীয়ভাবে অক্ষত অবস্থায় তুলে নিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বিমানের দ্বিতীয় ক্রু অর্থাৎ ‘উইপেন সিস্টেমস অফিসার’ বা অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা গভীর ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকা পড়েন।

পেন্টাগনের সূত্র এবং টেলিগ্রাফের খবর অনুযায়ী, মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের উদ্ধারকারী দল যখন রাতের আঁধারে ইরানে প্রবেশ করে নিখোঁজ সেনাকে খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছিল, তখন তারা ইরানের বর্ডার পুলিশ ও স্থানীয় সশস্ত্র মিলিশিয়াদের প্রবল বাধার মুখে পড়ে। চারপাশ থেকে হালকা অস্ত্র ও ভারী মেশিনগান দিয়ে হেলিকপ্টার এবং স্থল টিমকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিতে মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের লেজে আগুন লেগে যায় এবং ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সেটি কোনোমতে ইরাক সীমান্তে গিয়ে জরুরি অবতরণ করে।

আমেরিকা যেখানে নিজেদের সেনাকে যেকোনো মূল্যে শত্রুর সীমানা থেকে অক্ষত ফিরিয়ে আনতে মরিয়া, ইরান সেখানে এই ঘটনাকে দেখছে যুদ্ধজয়ের এক বিশাল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র হিসেবে। মার্কিন ওই পাইলটকে যুদ্ধবন্দি করতে পারলে ওয়াশিংটনের নৈতিক মনোবল ভেঙে দেওয়া সম্ভব— এই উদ্দেশ্যে তেহরান ওই সেনাকে জীবিত বা মৃত ধরে দিতে ৬০ হাজার ডলার নগদ পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

পুরস্কারের আশায় সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় মিলিশিয়ারাও এখন পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিটি ভাঁজে লাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা চলমান যুদ্ধকে এক অন্ধগলিতে ফেলে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বিগত প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ভূখণ্ডে একের পর এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালাচ্ছে। তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের নির্বিচার বোমাবর্ষণে ইতোমধ্যেই দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সহস্রাধিক ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন। খামেনির প্রয়াণের পর দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং তীব্র রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলেও ইরান থেমে থাকেনি। তারা মার্কিন-ইসরায়েলি এই সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই দাঁতভাঙা ও বিধ্বংসী জবাব দিয়ে আসছে।

 

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ গতকাল শুক্রবার এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

নাম প্রকাশ না করা সূত্রটি জানায়, গত বুধবার নাম প্রকাশ না করা একটি বন্ধু দেশের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

তবে সেই প্রস্তাব বা এর সত্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী যখন ক্রমাগত উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তখনই এ প্রস্তাব সামনে আসে। বিশেষ করে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে একটি মার্কিন সামরিক গুদামে হামলার পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের কোনো লিখিত জবাব দেয়নি, বরং হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে মাঠেই এর পাল্টা জবাব দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি ও দ্য হিন্দু

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আরও বড় ধরনের হামলার হুমকি দেওয়ার পরই এমনটি ঘটেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানে ‘অত্যন্ত কঠোরভাবে’ হামলা চালানো হবে। তবে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা দেননি। খবর বিবিসির।

ট্রাম্পের ওই ভাষণের পরপরই বিশ্ববাজারে আজ শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড জ্বালানি তেলের মূল্য সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের মূল্যও ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপর উঠে যায়, যদিও পরে কিছুটা কমে আসে।

ট্রাম্প তাঁর ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগির এই যুদ্ধের ‘কৌশলগত লক্ষ্য’ পূরণ করবে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলবে।

এর আগে গত বুধবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। বাজারে আশা ছিল, ট্রাম্প হয়তো যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সরে আসবে, সে বিষয়ে কিছু বলবেন। কিন্তু তাঁর ভাষণে আগের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে এ পথ দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান।

ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা নেই। তিনি অন্য দেশগুলোকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জ্বালানি খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইন্টারক্যাপিটাল এনার্জির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলবার্তো বেলোরিন বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধবিরতির আশাবাদে যে স্বস্তি তৈরি হয়েছিল, বাজার তা থেকে সরে এসেছে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখন সপ্তাহ নয়, মাসও লাগতে পারে।

ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মার্কিন বাহিনী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ওই ক্রুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে: হোয়াইট হাউস

ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র: বিবিসি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে স্বীকার করেছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা। সেই যুদ্ধবিমানে পাইলটদের খুঁজতে মার্কিন একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ওই এলাকায় গেলে সেটিকেও ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয় বলে উল্লেখ করেছে মেহর নিউজ এজেন্সি।

সূত্র: আল–জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বিবিসির সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, ৪১তম আর্মি চিফ অব স্টাফ হিসেবে র‍্যান্ডি জর্জ ‘অবিলম্বে অবসরে যাচ্ছেন’।

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে একজন সেনাপ্রধান চার বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন র‍্যান্ডি জর্জকে এই পদে মনোনীত করেছিলেন। পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা র‍্যান্ডি জর্জ ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি একাডেমি থেকে স্নাতক পাস করেছেন।

দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পেন্টাগনে এই রদবদল ঘটল। র‍্যান্ডি জর্জ প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ ছাড়াও ইরাক ও আফগানিস্তানে পদাতিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি বৈঠক চলাকালীন হেগসেথের ফোন পেয়ে জর্জ র‍্যান্ডি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কর্মীদের সঙ্গে এই ঘোষণার বিষয়ে কথা বলেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, খবরটি শোনার পর তাঁর কর্মীরা বেশ ‘ধৈর্যশীল ও অবিচলিত’ ছিলেন।

পেন্টাগনের দায়িত্ব নেওয়ার পর হেগসেথ ইতিমধ্যে এক ডজনের বেশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন। এই তালিকায় নৌবাহিনীর ‘চিফ অব নেভাল অপারেশনস’ এবং বিমানবাহিনীর ‘ভাইস চিফ অব স্টাফ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও রয়েছে।

সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে জর্জ র‍্যান্ডি আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। ড্রিসকল হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা। হেগসেথ ড্রিসকলকে নিজের জন্য হুমকি মনে করতেন এবং তাঁদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই বাদানুবাদ বা তিক্ত কথাবার্তা হতো।

মার্কিন এক কর্মকর্তার মতে, জর্জের এই আকস্মিক ও প্রকাশ্য অবসরের বিষয়টি কর্মকর্তাদের কোনো যুক্তি দেখানোর সুযোগ রাখেনি। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে একজন ‘জয়েন্ট চিফ’–কে সরিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে কথা বলার অবকাশ ছিল না। অথচ জর্জের অধীনে সেনাবাহিনী বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন রয়েছে এবং তারাই মূলত যৌথ বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা’ গড়ে তোলার দায়িত্বে রয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ সামরিক সহকারীর পদটি সাধারণত অরাজনৈতিক এবং সামরিক বাহিনীর সেরা কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত বলে বিবেচিত হয়। তবে জর্জের সঙ্গে বিদায়ী প্রতিরক্ষামন্ত্রী অস্টিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক একটি নেতিবাচক দিক বা অযোগ্যতা হিসেবে হেগসেথ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের কাছে বিবেচিত হয়েছে।

‘আমরা তাঁর সেবার জন্য কৃতজ্ঞ, তবে সেনাবাহিনীতে এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় এসেছে।’নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা

হেগসেথ যখন তাঁর নিজের জ্যেষ্ঠ সামরিক সহকারী জেনারেল ক্রিস ল্যানিভকে সেনাবাহিনীর ‘ভাইস চিফ অব স্টাফ’ হিসেবে মনোনীত করেন, তখন থেকেই সামরিক বাহিনী ও পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মধ্যে জল্পনা চলছিল, ল্যানিভ শেষ পর্যন্ত জর্জ র‍্যান্ডির স্থলাভিষিক্ত হবেন। বর্তমানে ভাইস চিফ হিসেবে জর্জের অনুপস্থিতিতে ল্যানিভকে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, যাঁকে যুদ্ধমন্ত্রীও বলা হয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, যাঁকে যুদ্ধমন্ত্রীও বলা হয়, ফাইল ছবি: এএফপি
 

হেগসেথের সঙ্গে কাজ করার আগে ল্যানিভ দক্ষিণ কোরিয়ায় অষ্টম সেনাবাহিনীর কমান্ডিং জেনারেল ছিলেন। তার আগে তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯০ সালে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমিশন পাওয়ার পর থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন।

সিবিএস নিউজকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জর্জের সেবার জন্য কৃতজ্ঞ, তবে সেনাবাহিনীতে এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় এসেছে।’

পেন্টাগনের মুখপাত্র পার্নেল বলেন, ‘জাতির প্রতি জেনারেল জর্জের কয়েক দশকের সেবার জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তর কৃতজ্ঞ। আমরা তাঁর অবসর জীবনের শুভকামনা জানাই।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আর্মি ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল ক্রিস্টোফার ল্যানিভ অন্তর্বর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পার্নেলের মতে, ল্যানিভ ‘রণক্ষেত্রে পরীক্ষিত একজন নেতা’ এবং বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন।

পেন্টাগনের দায়িত্ব নেওয়ার পর হেগসেথ ইতিমধ্যে এক ডজনের বেশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন। এই তালিকায় নৌবাহিনীর ‘চিফ অব নেভাল অপারেশনস’ এবং বিমানবাহিনীর ‘ভাইস চিফ অব স্টাফ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও রয়েছে।

বিবিসি

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।

গতকাল জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস বলেন, ‘আমরা এমন একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে আছি, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে এবং বিশ্বব্যাপী নাটকীয় প্রভাব ফেলবে।’ তিনি বাড়তি খরচের কথা উল্লেখ করে বলেন, মানুষ ইতিমধ্যে জ্বালানি ও খাদ্যের বাড়তি দামের জন্য কষ্ট পাচ্ছে। যখন হরমুজ প্রণালি সংকুচিত হয়, তখন বিশ্বের দরিদ্র এবং সবচেয়ে দুর্বল মানুষ শ্বাস নিতে পারে না।

জাতিসংঘের মহাসচিব ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ বিরোধ মীমাংসার আহ্বান জানিয়ে বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষিত রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আমার বার্তা পরিষ্কার, যুদ্ধ বন্ধ করার সময় এসেছে। এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে ব্যাপক মানবিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে এবং অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

সূত্র: বিবিসি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করার বিষয়ে আলোচনা করছেন। বিচার বিভাগে বন্ডির নেতৃত্ব ও এপস্টিন ফাইলস সামলানোর ধরন নিয়ে ট্রাম্প দিন দিন বিরক্ত হয়ে উঠছেন বলে এই আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোচনাকারী ব্যক্তিরা বলছেন, ট্রাম্প পাম বন্ডির জায়গায় এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির (ইপিএ) প্রশাসক লি জেলডিনকে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ট্রাম্প অবশ্য এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। বন্ডির সহযোগী ব্যক্তিরা গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর থাকার ছবির কথা উল্লেখ করে তাঁকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনাকে নাকচ করে দিয়েছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি একজন চমৎকার মানুষ এবং তিনি ভালো কাজ করছেন।’ পাম বন্ডির এক মুখপাত্র ট্রাম্পের এই বিবৃতির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

তবে কয়েক মাস ধরে বন্ডির ওপর প্রেসিডেন্টের মন তেতো হয়ে আছে। তার অন্যতম প্রধান অভিযোগ হচ্ছে, এপস্টিন ফাইলস বা নথিপত্র নিয়ে বন্ডির ভূমিকা। এই নথি ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছে তাঁর জন্য একটি রাজনৈতিক দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এমন ব্যক্তিদের মত হচ্ছে, তিনি বন্ডির যোগাযোগ দক্ষতার অভাব নিয়েও অভিযোগ করেছেন। বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ যথেষ্ট আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

গত মাসে হাউস ওভারসাইট কমিটি পাম বন্ডিকে সমন পাঠানোর পক্ষে ভোট দেয়। যৌন পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালে কারাগারে থাকাকালে আত্মহত্যা করা কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের বিষয়ে বিচার বিভাগের তদন্ত নিয়ে তাঁকে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করতেই এই সমন দেওয়া হয়।

বন্ডির জবানবন্দি ১৪ এপ্রিল নির্ধারিত রয়েছে। অবশ্য তিনি ও কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান কেনটাকি থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য জেমস আর কোমার এই জবানবন্দি এড়াতে একসঙ্গে কাজ করছেন। তবে একবার সমন জারি করার পর তা আইনত প্রত্যাহার করা সম্ভব কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, বন্ডির অধীনে বিচার বিভাগ তাঁর রাজনৈতিক শত্রুদের বিচার করতে যথেষ্ট তৎপর নয়। গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প পাম বন্ডির উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি কাউকে অভিযুক্ত না করার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরিয়ে দিতে কিছুটা দ্বিধাবোধ করছিলেন। কারণ, তাঁর প্রথম মেয়াদ ঘন ঘন বরখাস্ত ও কর্মী বিশৃঙ্খলার কারণে প্রশাসনের কাজ ব্যাহত হয়েছিল। তবে কিছু কর্মকর্তা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের মনোভাব বদলেছে। বিশেষ করে ক্রিস্টি নোমকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় মার্কওয়েন মুলিনকে অনায়াস নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া ট্রাম্পকে উৎসাহিত করেছে।

এক বছর ধরে ট্রাম্প পাম বন্ডির বিষয়ে মিশ্র সংকেত দিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ করেছেন, বন্ডি তাঁর অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বিশেষ করে এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস বি কোমি ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমসের মতো রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ মামলা জিততে না পারায় তিনি বেশ ক্ষুব্ধ।

একই সময়ে ট্রাম্প জনসমক্ষে বন্ডির আনুগত্যের প্রশংসা করেছেন এবং প্রায়ই তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত বন্ডিকে বরখাস্ত করলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। অবশ্য তিনি লি জেলডিনকে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

লি জেলডিন নিউইয়র্কের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এবং ওই রাজ্যের সাবেক গভর্নর পদপ্রার্থী। তিনি ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। ইপিএ প্রশাসক হিসেবে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলডিন ট্রাম্পের ‘জ্বালানি কৌশল’–এর ভিশন প্রচার করাকে নিজের মিশন হিসেবে নিয়েছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে কয়লাশিল্পের প্রচারমূলক হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে জেলডিন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তিনি আমাদের গোপন অস্ত্র। তিনি রেকর্ড সময়ের মধ্যে সব অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছে।’

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে ইপিএর প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নেদারল্যান্ডসের একটি জাদুঘর থেকে গত বছর দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় হারিয়ে যাওয়া রোমানিয়ার আড়াই হাজার বছরের পুরোনো অমূল্য সোনার হেলমেট অবশেষে উদ্ধার হয়েছে। বহুল আলোচিত এই প্রত্নসম্পদ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন ডাচ শিল্প-গোয়েন্দা আর্থার ব্র্যান্ড।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তিনি বলেন, এটি অবিশ্বাস্য। আমরা এর চেয়ে ভালো খবর আর পেতে পারতাম না।

তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হয়, বহুল আলোচিত কোটোফেনেস্তি সোনার হেলমেট আবারও উদ্ধার হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। ডাচ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া হেলমেটটিতে সামান্য ক্ষতির চিহ্ন থাকতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উত্তর নেদারল্যান্ডসের ড্রেন্টস জাদুঘরে একদল ডাকাত গভীর রাতে বিস্ফোরক ব্যবহার করে প্রবেশ করে। আতশবাজির শক্তিশালী বোমা ফাটিয়ে তারা জাদুঘরের দরজা ও কাচ ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং প্রদর্শনী কক্ষ থেকে মূল্যবান প্রত্নবস্তু লুট করে নিয়ে যায়।

চোরেরা পালিয়ে যায় পঞ্চম শতাব্দী পূর্বাব্দের এই অমূল্য স্বর্ণের হেলমেট এবং আরও তিনটি ডাসিয়ান স্বর্ণের ব্রেসলেট নিয়ে। নিদর্শনগুলো রোমানিয়ার জাতীয় ইতিহাস জাদুঘর থেকে প্রদর্শনীর জন্য ধার দেওয়া হয়েছিল।

এই চুরি শুধু নেদারল্যান্ডসেই নয়, রোমানিয়াতেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কারণ কোটোফেনেস্তির হেলমেট দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ সময় ধরে এর সন্ধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তল্লাশি চালানো হয়।

ঘটনার পর সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের জন্য ডাচ সরকার ৫৭ লাখ ইউরো বরাদ্দ রেখেছিল। নিদর্শনটি উদ্ধার হওয়ায় সেই আশঙ্কারও অবসান ঘটল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান