ইরানের রাজধানী তেহরানে বিশাল এক বিস্ফোরণের ভিডিও শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে ইস্ফাহান শহরে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, এই হামলার ফলে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, যা এলাকা জুড়ে বিশাল অগ্নিগোলক ও কম্পন তরঙ্গ ছড়িয়ে পরে। যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করায় এই হামলা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যদিও পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব এবং তুরস্ক একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে বৈঠকে বসেছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একের পর এক বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রাতের আকাশ কমলা রঙে পরিণত হয়েছে। তবে এই ভিডিও সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি ট্রাম্প।

বিভিন্ন মিডিয়া দাবি করছে, ইস্ফাহানে গোলাবারুদের ডিপোতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথ হামলা চালিয়েছে।

ইস্ফাহান শহরটিতে ২৩ লাখ ইরানির বসবাস এবং সেখানে বদর সামরিক বাহিনীর বিমানঘাঁটি রয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, মার্কিন বাহিনী ইস্ফাহানে গোলাবারুদের ডিপোতে দুই হাজার পাউন্ডের বাঙ্কার বাস্টার বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

তবে এ হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে- সেই সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ইরানের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে- ট্রাম্পের হুমকির একদিন পরেই এই হামলা হলো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক  ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, "শীঘ্রই" যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তি না হলে তিনি ইরানের জ্বালানি সম্পদ এবং পারমাণবিক স্থাপনা ও পানি শোধনাগারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে দেবেন। এর একদিন পরই এই হামলার খবর আসে।

 

ইরান গতকাল সোমবার দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে জ্বালানি তেলবোঝাই একটি বিশাল জাহাজে হামলা করলে এটিতে আগুন ধরে যায়। এতে জাহাজটির মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোন হামলার কারণে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। আজ মঙ্গলবার ভোরে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সে আগুন নেভানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরই এ হামলার ঘটনা ঘটল।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলের খনিগুলো ধ্বংস করে দেবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলা চলছে।

‘আল-সালমি’ নামের কুয়েতি জাহাজে এই হামলা সেই উত্তেজনারই সবশেষ উদাহরণ। মাসব্যাপী চলা এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা (কেইউএনএ) জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় আল-সালমি জাহাজটিতে ইরানি হামলা হয়। এতে জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে।

দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নৌ-অগ্নিনির্বাপক দল ড্রোন হামলায় লাগা আগুন সফলভাবে নিভিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি এবং জাহাজের ২৪ জন ক্রু সদস্যই নিরাপদ আছেন।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে হামলার খবর আসার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। আক্রান্ত এই জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি।

তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও তিনি যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী এবং সামরিক পদক্ষেপ এ মুহূর্তে তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

দুবাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কেপিসি। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে চীনের চিংদাও বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত না হলেও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ করতে আগ্রহী। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে জলপথটির ওপর তেহরানের শক্ত নিয়ন্ত্রণ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এছাড়া এটি আবার চালু করার জটিল কাজটি ভবিষ্যতের জন্য ঝুলে থাকবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত কয়েক দিনে ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি জোর করে উন্মুক্ত করার অভিযানে নামলে যুদ্ধ ট্রাম্পের নির্ধারিত চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কর্মকর্তাদের মতে, এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধ্বংস করা। এরপর বর্তমান সংঘাত কমিয়ে আনা ও কূটনৈতিকভাবে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা অবাধ অবাধ বাণিজ্যের সুযোগ দেয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের ওপর চাপ দেবে, যেন তারা হরমুজ প্রণালি আবার খোলার নেতৃত্বে থাকে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রেসিডেন্টের সামনে সামরিক বিকল্পও খোলা আছে। তবে আপাতত সেগুলো তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

পাঁচ বছর আগে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মিয়ানমারের শাসনভার দখল করেছিলেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং, সাধারণ নির্বাচনের পর এখন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন তিনি।

আজ সোমবার দেশটির পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর পর প্রেসিডেন্ট পদে মিন অং হ্লাইংয়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। যেহেতু তিনি মনোনীত হয়েছেন, তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়া এখন প্রায় নিশ্চিত। পার্লামেন্টে তাঁর সঙ্গে আরও দুই ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, যাদের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে মিয়ানমারে কয়েক ধাপে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশটির বড় বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এ নির্বাচনের পর আজ পার্লামেন্টে প্রথম অধিবেশন বসে।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থান হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মিন অং হ্লাইং। এ কারণে পশ্চিমা অনেক দেশ তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পরপর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এতে হাজারো মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এই গৃহযুদ্ধে মিয়ানামারে শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। দেশটির বড় একটি অংশ এখনো সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে।

মিয়ানমারের নতুন পার্লামেন্টের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য মিন অং হ্লাইংয়ের অনুগত। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত, তাঁদের নির্বাচনে লড়তে হয়নি। বাকি সদস্যরা সামরিক বাহিনী সমর্থিত দলের হয়ে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।

সাধারণ নির্বাচন শান্তির পথ প্রশস্ত করবে—এমনটাই দাবি করেছিল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন জান্তা সরকার; কিন্তু নির্বাচনটি ছিল ব্যাপকভাবে বিতর্কিত। অনেক জনপ্রিয় দলকে নিষিদ্ধ করা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে অনেক জায়গায় ভোট গ্রহণ সম্ভব না হওয়ায় এ নির্বাচনকে অনেকে ‘প্রহসন’ হিসেবে দেখছেন।

সব অভিযোগ ও সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে সামরিক জান্তার দাবি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।

মিয়ানমারের নতুন পার্লামেন্টের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য মিন অং হ্লাইংয়ের অনুগত। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত, তাঁদের নির্বাচনে লড়তে হয়নি। বাকি সদস্যরা সামরিক বাহিনী সমর্থিত দলের হয়ে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।

নতুন প্রেসিডেন্ট কে হবেন, আগামী কয়েক দিন তা নিয়েই পার্লামেন্টে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এটা বলাই যায়, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংই দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন।

মনে করা হয়, প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছা মিন অং হ্লাইংয়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল শোচনীয় পরাজিত হয়। এরপর তাঁর এই পদ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছিল। মূলত এ কারণেই অং সান সু চির দলের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে তিনি অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলেন।

তবে প্রেসিডেন্ট হতে কিছু শর্ত আছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হলে মিন অং হ্লাইংকে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে হবে। আর এতে কিছু ঝুঁকি আছে। কারণ, অনেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা তাঁর নেতৃত্বে সন্তুষ্ট নন বলে শোনা যাচ্ছে।

মিন অং হ্লাইং এরই মধ্যে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার জন্য একান্ত অনুগত জেনারেল ইয়ে উইন ও-কে বেছে নিয়েছেন। ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের জন্য এই জেনারেলের কুখ্যাতি রয়েছে।

মিন অং হ্লাইংয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, একবার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ হারালে তিনি তাঁর ক্ষমতার বড় একটি অংশ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি নতুন একটি পরামর্শক কাউন্সিল গঠন করেছেন। তিনিই এর প্রধান হবেন। এর মাধ্যমে সামরিক ও বেসামরিক—উভয় বিভাগের ওপর তাঁর কর্তৃত্ব বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নতুন পার্লামেন্ট মূলত বর্তমান সামরিক জান্তারই একটি বর্ধিত রূপ, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পার্থক্য এই—এবার জেনারেলরা সামরিক উর্দি ছেড়ে বেসামরিক পোশাকে দেশ শাসন করবেন।

পাঁচ বছর আগে ক্ষমতা দখলের পর থেকে যাঁরা মিন অং হ্লাইংয়ের বিরোধিতা করে আসছেন, তাঁদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন বন্ধ করা হবে, এমন কোনো ইঙ্গিত তিনি বা তাঁর সহযোগীদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

বিবিসি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে ভারতীয় রুপির দর ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। 

সোমবার (৩০ মার্চ) আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর সর্বনিম্ন ৯৫ দশমিক ২২-এ পৌঁছায়, যা এযাবৎকালের সর্বনিম্ন।

দিনের শুরুতে কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও পরে সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি রুপি। সকালে ৯৩ দশমিক ৬২ দরে লেনদেন শুরু করে তা ৯৩ দশমিক ৫৭ পর্যন্ত উন্নতি করলেও দ্রুতই পতন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত দিনের মধ্যেই বড় ধস নেমে ৯৫ দশমিক ২২-এ পৌঁছে যায়।

এর আগের কার্যদিবস শুক্রবারও বড় ধাক্কা খেয়েছিল রুপি। সেদিন ৮৯ পয়সা পড়ে ডলারের বিপরীতে ৯৪ দশমিক ৮৫ দরে লেনদেন শেষ হয়, যা তখনকার সর্বনিম্ন ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, রুপির ওপর চাপ বাড়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলার। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ায় ডলার সূচক ১০০-এর ওপরে অবস্থান করছে, যা রুপির পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তুলছে।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৫ ডলারে উঠেছে। এতে আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার ওপর চাপ আরও বাড়ছে।

এর প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারেও। সোমবার সেনসেক্স প্রায় ১ হাজার ৭০০ পয়েন্ট এবং নিফটি ৫০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও শেয়ারবাজার থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রুপির ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে তা আরও দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

 

কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত সম্ভবত ‘অন্তত জুন মাস পর্যন্ত’ স্থায়ী হবে। তাঁর মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারবেন না।

বিশ্লেষক ম্যাডিসন কার্টরাইট বলেন, ট্রাম্পের আগের বাণিজ্যনীতিগুলোর মতো এখানেও তিনি শেষ মুহূর্তে পিছু হটবেন—এমন আশা করা ঠিক হবে না।

কার্টরাইট ব্যাখ্যা করেন, শুল্কনীতি নির্ধারণ করা প্রেসিডেন্টের বিশেষ অধিকার। কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা তিনি একা বা একতরফা ঠিক করতে পারেন না।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় মন্ত্রিসভা যখন জ্বালানি–সংকট মোকাবিলায় একটি ঐক্যবদ্ধ কৌশল তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন কার্টরাইট জানান কেন ফেডারেল ও রাজ্য নেতাদের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পরিকল্পনা করা উচিত। কারণ, ইরান যুদ্ধ দেশটির সীমিত জ্বালানির মজুতকে সংকটে ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ইরানকে সুবিধা দেয়—এমন কোনো চুক্তি না করে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গেলে ইরান যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কার্টরাইটের মতে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য যেকোনো স্থায়ী চুক্তিতে অবশ্যই ইসরায়েল ও ইরান, উভয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ছবি: এএফপি

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মধ্যে কোনো মিল নেই। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য পূরণ হওয়ার আগেই যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে ইসরায়েল সম্ভবত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

ট্রাম্পের আগের বাণিজ্যনীতিগুলোর মতো এখানেও তিনি শেষ মুহূর্তে পিছু হটবেন, এমন আশা করা ঠিক হবে না।ম্যাডিসন কার্টরাইট, অস্ট্রেলীয় বিশ্লেষক

অন্যদিকে ইরানকে সুবিধা দেয়—এমন কোনো চুক্তি না করে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গেলে ইরান যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল আক্রমণ করতে পারে, তার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। এ খবরে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলবে।

আজ সকালে এই প্রতিবেদন লেখার সময় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ১১৬ ডলার ১০ সেন্ট। আজ ইতিমধ্যে দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৬শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট। খবর অয়েল প্রাইজ ডটকমের

গতকাল রোববার ইরানের সংসদের স্পিকার বলেন, দেশটির বাহিনী মার্কিন সেনাদের জন্য ‘অপেক্ষা করছে’। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানান, আলোচনা চলছে এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে ইয়মেনের হুতি বিদ্রোহীরা জড়িয়ে পড়েছে। হুতিরা ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়েছে। ফলে তেল পরিবহনে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগরের সঙ্গে বৈশ্বিক নৌপথের সংযোগপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব আছে। তারা চাইলে এই পথ বন্ধ করে দিতে পারে। খবর সিএনএনের

এদিকে যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উদ্যোগী হয়েছেন। গতকাল তাঁদের বৈঠক ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় সহায়তা করবে পাকিস্তান।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে গ্যাসের দামও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯৮ ডলার।

এ পরিস্থিতিতে এশিয়ার ছোট দেশগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেননা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে তেল পরিবহন হয়, তার গন্তব্য মূলত এশিয়া। তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই ছড়িয়ে পড়বে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন র‍্যাপিডান এনার্জির প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা হলো মন্দা; কেবল তেমন কিছু ঘটলেই তেলের দাম কমতে পারে।  

ম্যাকনালির ভাষায়, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তেলের চাহিদা কমে যায়। কথাটা কর্কশ শোনালেও তেলের দাম হ্রাসের ক্ষেত্রে তা কার্যকর উপায়।’

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলেও গ্যাসের দাম দ্রুত কমবে না। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া এবং আশপাশের অবকাঠামোর ক্ষতি মেরামতের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। যেমন কাতারের রাস লাফান; এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র এবং মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইরান এই গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করে। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, দাম নির্ভর করবে তার ওপর।

এদিকে আজ এশিয়ার শেয়ারবাজারে সূচক পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে; দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। খবর বিবিসির

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার আগের দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার। এরপর পরিস্থিতি দ্রুতই বদলে যায়। ১৮ মার্চ ব্রেন্টের দাম ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে  উঠে যায়—২০২২ সালের জুন মাসের পর সর্বোচ্চ। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম সর্বোচ্চ ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, তিনি ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। সেই সঙ্গে ইরানের খারগ দ্বীপের রপ্তানি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণও চায় ওয়াশিংটন।

একে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন ট্রাম্প। দেশটির রাজধানী কারাকাসে গত জানুয়ারিতে সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী।

ওই সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে স্ত্রীসহ তুলে এনে নিউইয়র্কে আটক রাখা হয়েছে। এরপর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকা ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ইচ্ছার কথা জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

ফিনান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বোকা লোক বলছে, “আপনি এটা কেন করছেন?” ওরা আসলেই বোকা।’

‘হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, কিংবা হয়তো নেব না। আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প আছে’—বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে (খারগ দ্বীপ) আমাদের কিছুদিন অবস্থান করতে হতে পারে।’

খারগ দ্বীপে থাকা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প চটজলদি বলেন, ‘আমার মনে হয় না তাদের (ইরান) কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজে এটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারি।’

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও বিবিসি

ইরান ও হিজবুল্লাহ একযোগে ইসরায়েলের হামলা চালিয়েছে। এ সময় ইসরায়েলের ১০০টির ও বেশি শহরে সতর্কসংকতে বেজে উঠে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা চালানোর সময় ইরান থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ফলে একসঙ্গে ইসরায়েলের ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্কসংকেত বেজে উঠে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হাইফা উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র: আল–জাজিরা।

নাটকীয় পরিবর্তনের সুর বাজছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। আগ্রাসনমূলক কঠোর সব নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরো ৫০ অঙ্গরাজ্য এবার ফুঁসে উঠেছে ‘নো কিংস’ আন্দোলনে। প্ল্যাকার্ড-ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন প্রায় ৮০ লাখ মানুষ; সবার কণ্ঠে এক দাবি, ‘ট্রাম্প হঠাও’। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তৃতীয় দফার দেশব্যাপী বড় আন্দোলন।

 

[caption id="attachment_270553" align="alignnone" width="826"] ‘ঘর থেকেই শুরু হোক রেজিম পরিবর্তন’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিউইয়র্ক শহরে বিক্ষোভরত এক মার্কিন যুবক। ছবি: বিবিসি[/caption]

বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৩ হাজার ৩০০টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসির মতো বড় শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আমেরিকার পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে রোম, প্যারিস ও বার্লিনের মতো ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতেও এই আন্দোলন চলছে। তবে এবার আয়োজকদের মূল লক্ষ্য ছিল রক্ষণশীল ও গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষদের এই আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত করা।

[caption id="attachment_270552" align="alignnone" width="825"] ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে লাখো মানুষের ঢল। ছবি: বিবিসি[/caption]

এবারের তীব্র আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকাকে। গত বছরের ডিসেম্বরে এই মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে এক কুখ্যাত ও অত্যন্ত কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অভিযানে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল এবং নির্বিচারে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে, যখন এই অভিযানের সময় দুই নিরপরাধ মার্কিন নাগরিক নিহত হন। শনিবারের (২৮ মার্চ) এই বিশাল সমাবেশে নিহত সেই দুই নাগরিককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় এবং তাদের স্মরণে বিশেষ শোক কর্মসূচি পালন করা হয়।

এর আগে, গত জুন ও অক্টোবর মাসেও দেশটিতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে, এবারের ৮০ লাখ মানুষের এই রেকর্ড সমাবেশ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন।

[caption id="attachment_270551" align="alignnone" width="830"] আমেরিকান প্রবাসী ও কিছু ফরাসি নাগরিকরা মিলে প্যারিসের বাস্তিল চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ছবি: বিবিসি[/caption]

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এই বিশাল গণজাগরণ বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

[caption id="attachment_270550" align="alignnone" width="831"] লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্লোরিয়া মলিনা গ্র্যান্ড পার্কেও হয়েছে ব্যাপক জনসমাগম। ছবি: বিবিসি[/caption]

প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষমতায় এসেই বিচারবিভাগ ও প্রশাসনের ওপর একজন রাজার মতো নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে উঠেপড়ে লাগেন তিনি। কিন্তু, মার্কিনিরা ‘নো কিংস’ আন্দোলনের মাধ্যমে বার্তা দেন তাদের দেশে ‘কোনো রাজার জায়গা নেই’। এছাড়া গণহারে প্রবাসীদের আটক করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া, গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা এবং পরিবেশ নীতি নিয়েও ট্রাম্পের ক্ষোভ বাড়তে থাকে প্রতি সাধারণ মানুষের। মার্কিন জনসাধারণের সেই ক্ষোভের আগুনে এবার ঘি ঢেলেছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, ইরানে হামলার মাধ্যমে যা শুরু করেছেন ট্রাম্প নিজেই। 

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনও ঘোষণা ছাড়াই ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। ২৭ দিন ধরে চলমান যুদ্ধে এরই মধ্যে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হারিয়েছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব হামলায়। এছাড়া, ইরানের ২ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এখন পর্যন্ত।

তবে, পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে এরই মধ্যে প্রায় ভেঙে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের সংকটও তৈরি করে ফেলেছে ইরান। আর এই সংকট সরাসরি গিয়ে আঘাত করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনীতিতে। 

সব মিলিয়ে যতটা সহজে ইরানকে পরাস্ত করবেন বলে ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা, তেমনটা তো হচ্ছেই না; বরং ইরানের জবাবের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের সব পরিকল্পনা।

ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে নিজের মিত্রদের উসকানিতে এ যুদ্ধ শুরু করে এখন ঘোর বিপদে পড়ে গেছেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের স্বার্থে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনী ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করছেন বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন মার্কিন জনগণ; ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তারাও।

একদিকে প্রলম্বিত যুদ্ধ, অন্যদিকে হু হু করে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়— এসব মিলিয়ে এখন মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি প্রভাবশালী বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনসমর্থন বা অনুমোদন হার মাত্র ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে বর্তমানে। গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই তার জনপ্রিয়তার সর্বনিম্ন রেকর্ড। 

জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের প্রতি মার্কিনিদের সন্তুষ্টির হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে গেছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা হারিয়েছেন সাধারণ আমেরিকানরা।

২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল অর্থনৈতিক সংস্কার, অথচ বর্তমানে মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট। এমনকি এই হার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক অনুমোদন হারের চেয়েও নিচে নেমে গেছে।