যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হতে পেরেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় আজ সোমবার মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ট্রাম্প জানান, রোববার হওয়া আলোচনা সোমবারও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে। দেখা যাক এগুলো কোন দিকে নিয়ে যায়। আমি বলব, আমাদের মধ্যে প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রায় সব বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি।’

ট্রাম্প যোগ করেন, ‘তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে খুব আগ্রহী। আমরাও একটি চুক্তি করতে চাই। আজ সম্ভবত ফোনের মাধ্যমে আমাদের কথা হবে।’

ট্রাম্প জানান, তাঁর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার এই আলোচনা চালাচ্ছেন।

ইরানের ঠিক কার সঙ্গে কথা হচ্ছে, তাঁর নাম উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প জানান, এই আলোচনায় ইরানের একজন ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তবে ট্রাম্প জানান, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কিছু জানতে পারেনি। খামেনি বেঁচে আছেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

ট্রাম্প যোগ করেন, তিনি মোজতবা খামেনির মৃত্যু কামনা করেন না।

সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে না দিলে হামলা চালিয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই হুমকি দিয়ে পোস্ট করেন। সে অনুযায়ী তাঁর দেওয়া সময়সীমা আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে (তেহরান সময় মঙ্গলবার ভোররাত ৩টা ১৪ মিনিট) শেষ হওয়ার কথা ছিল।

ট্রাম্পের হুমকির পরদিন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানিকেন্দ্রগুলো ‘স্থায়ীভাবে ধ্বংস’ করে দেওয়া হতে পারে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ট্রাম্প যদি তাঁর হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে এ অঞ্চলের দেশগুলো যেন ‘বিদ্যুৎকে বিদায় জানায়’।

জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি গতকাল রোববার জানান, ‘ইরানের শত্রু’ দেশগুলোর জাহাজ বাদে বাকি সবার জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে দিনের শেষ ভাগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় তবে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।

আজ ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আবারও জানিয়েছে, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেকোনো হামলার একই ধরনের জবাব দেওয়া হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং তিনি ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকেন্দ্রগুলোয় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখবেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার কথা তেহরান অস্বীকার করেছে। তারা ট্রাম্পের এই দাবিকে জ্বালানির দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখছে।

সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়েছে। দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন।

গতকাল রোববার গভীর রাতের এ ঘটনার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এ প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের ওই ট্রাক পুলিশ সদস্যরা পরিচালনা করছিলেন। এর আগে জানানো হয়েছিল, একজন সার্জেন্ট ও একজন পুলিশ কর্মকর্তার হাত-পা ভেঙে গেছে এবং তাঁরা হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জ্যাজ এভিয়েশনের মাধ্যমে পরিচালিত এয়ার কানাডার সিআরজে-৯০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজ ৭২ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু নিয়ে মন্ট্রিয়েল থেকে আসছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইট রাডার ২৪’ জানিয়েছে, রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি প্রায় ২৪ মাইল বেগে ফায়ার ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়।

রয়টার্সের ছবিতে দেখা গেছে, উড়োজাহাজটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি ওপরের দিকে হেলে আছে।

দুর্ঘটনার পর মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, আজ সোমবার বেলা ২টা পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকতে পারে। এর মধ্যে ১৮টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমানবন্দরে এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে একটি যানের সংঘর্ষের পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা
নিউইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমানবন্দরে এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে একটি যানের সংঘর্ষের পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা, ছবি: রয়টার্স

নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের ট্রাকটি রানওয়েতে অন্য একটি ঘটনায় জরুরি ডাকে যাওয়ার সময় ৪ নম্বর রানওয়েতে উড়োজাহাজটির সঙ্গে ওই সংঘর্ষ হয়।

এ দুর্ঘটনার কারণে নিউইয়র্ক সিটির জরুরি বিভাগ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দর এলাকায় ফ্লাইটের সময়সূচি বিপর্যয়, সড়ক বন্ধ ও যানজট তৈরি হতে পারে।

দ্য গার্ডিয়ান সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর ধরে অভিবাসন হেফাজতে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী লেকা করদিয়া। গাজা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় তাকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আবার ইমিগ্রেশন ইস্যুতে আটক করা হয়।

২০২৪ সালের এপ্রিলে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বাইরে নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে লেকাকেও আটক করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ২০২৫ সালের মার্চে নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের সময় আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানায়, তার স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সংস্থাটির দাবি, ২০২২ সালেই ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে তার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।

এদিকে, বিদেশে অর্থ পাঠানো নিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তবে করদিয়া দাবি করেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠিয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক অভিবাসন বিচারক করদিয়ার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ পেয়েছেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় জামিন শুনানিতে বিচারক সরকারের যুক্তিকে অসৎ আখ্যা দিয়ে ১ লাখ ডলার জামিনে তার মুক্তির নির্দেশ দেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) টেক্সাসের ডালাসের কাছে একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের করদিয়া বলেন, আমি কী বলব বুঝতে পারছি না। আমি মুক্ত! আমি মুক্ত! অবশেষে, এক বছর পর।

ডিএইচএস অভিযোগ করেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী রাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তবে তার পরিবারের দাবি, তিনি কেবল আত্মীয়স্বজনদের কাছেই অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।


সূত্র: বিবিসি

 

ইসরায়েলে অব্যাহত রয়েছে ইরানের মিসাইল হামলা। রোববার (২২ মার্চ) রাতভর রাজধানী তেলআবিবসহ মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

বেশ কয়েকটি মিসাইল প্রতিহত করেছে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে কিছু কিছু স্থানে আঘাত হেনেছে এগুলো। পাওয়া গেছে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পর্যন্ত সকল স্কুল বন্ধ ও ৫০ জনের বেশি সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জারি করা হয়েছে একাধিক সতর্কবার্তা।

এর আগে, তেহরানের পূর্বাঞ্চলে ‘বিকট’ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আল জাজিরার প্রতিনিধি সুহাইব আল-আসা জানান, সেখানে বিস্ফোরণের তীব্রতা ও শব্দ ছিল নজিরবিহীন।

বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ড্রোন মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরাকের ইরবিলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কার্যালয়ে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীগুলো।

এদিকে, বাগদাদে ইরানপন্থী গোষ্ঠী পিএমএফের হেডকোয়ার্টারে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে, প্রধান বিমানবন্দরে মার্কিন কূটনীতিক ও লজিস্টিক সেন্টারে হামলা চালায় পিএমএফ।

অন্যদিকে, ইরানজুড়ে অব্যাহত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা। আইআরজিসির একাধিক ড্রোন ধ্বংসের ফুটেজ প্রকাশ করেছে মার্কিন সেন্টকম।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ১৫ প্রদেশে কমপক্ষে ২০৬ বার হামলা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা  

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি প্রকল্পে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। এক দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তাঁর দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার যে হুমকি দিয়েছেন, তারই জবাবে গতকাল রোববার তেহরান এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় আজ সোমবার সকালে বিশ্ববাজার খোলার পর বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের জীবনযাত্রাও চরম হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের অনেক দেশের মানুষ সুপেয় পানির জন্য সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্রকল্পের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো এমনভাবে ধ্বংস হবে, যা আর আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না।

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা ইরানের ক্ষতি করলেও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য তা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার ইরানের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ। এই বিদ্যুৎ মূলত তাদের মরুভূমির শহরগুলোকে বসবাসযোগ্য রাখে এবং সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করে। বিশেষ করে বাহরাইন ও কাতারের ১০০ শতাংশ সুপেয় পানি আসে সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্রকল্পের মাধ্যমে। এ প্রকল্প বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে সুপেয় পানির ৮০ শতাংশ ও সৌদি আরবের পানির চাহিদার ৫০ শতাংশ মেটায় এ ধরনের প্রকল্প।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো “এমনভাবে ধ্বংস হবে, যা আর আগের অবস্থায় ফেরানো” সম্ভব হবে না।’

এদিকে ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিও বন্ধ থাকবে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এ সরু জলপথ দিয়ে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের ধ্বংস হওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আবার চালু না হওয়া পর্যন্ত এ নৌপথ আর খুলে দেওয়া হবে না।’

কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতার এনার্জির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকেন্দ্রের দৃশ্য। ২ মার্চ ২০২৬
কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতার এনার্জির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকেন্দ্রের দৃশ্য। ২ মার্চ ২০২৬, ছবি: রয়টার্স
 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা ও পশ্চিমা দেশগুলোর মৈত্রীর সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

শেয়ারবাজারে ‘অনিশ্চয়তার টাইম বোমা’

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইজির বাজার–বিশ্লেষক টনি সিকামোর বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি বাজারের ওপর ৪৮ ঘণ্টার এক চরম অনিশ্চয়তার “টাইম বোমা” বসিয়ে দিয়েছে।’

আজ সোমবার লেনদেন শুরু হলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সিকামোর। এর আগে গত শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়। গত প্রায় চার বছরের মধ্যে তা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়। ইসরায়েল ইরানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর তেহরানও এর জবাবে সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে পাল্টা হামলা চালায়। পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে জ্বালানি উৎপাদন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

বিভিন্ন তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের পর বিশ্বে সবচেয়ে বড় জ্বালানি–সংকট তৈরি করেছে। নৌপথটি বন্ধ হওয়ায় গত সপ্তাহে ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম একলাফে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, ‘এ মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেবে। এ অভিযান শুরু হবে দেশটির সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে।’

গত শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্পের ওই সময়সীমা বাংলাদেশ সময় আগামীকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে শেষ হবে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে (আইএমও) দেশটির প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এ সুবিধা ‘ইরানের শত্রুদের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজের জন্য প্রযোজ্য হবে না।

ইরানের প্রতিনিধি আলী মুসাভি জানান, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে এ জলপথ দিয়ে চলাচল করা সম্ভব।

এদিকে জাহাজ চলাচল–বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ও পাকিস্তানের একটি তেলবাহী ট্যাংকার তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরেছে। কিন্তু বেশির ভাগ জাহাজ এখনো কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজেদের অবস্থানেই রয়েছে।

গত শুক্রবার তেহরান প্রথমবারের মতো ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের ঝুঁকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলোও এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায়

গত তিন সপ্তাহের তীব্র বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের নিজের সীমানার বাইরে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে তেহরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এ দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

গত শুক্রবার তেহরান প্রথমবারের মতো ৪ হাজার কিলোমিটার (২ হাজার ৫০০ মাইল) পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের ঝুঁকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সামরিক মহড়া। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের আরাস অঞ্চলে। ১৭ অক্টোবর, ২০২২
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সামরিক মহড়া। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের আরাস অঞ্চলে। ১৭ অক্টোবর, ২০২২ছবি: রয়টার্স

এ ছাড়া ইসরায়েলের ডিমোনা শহরের প্রায় ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত দেশটির একটি গোপন পারমাণবিক চুল্লির কাছেও ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

অন্য আরেকটি ফ্রন্টেও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত চলছে। গত রোববার ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সেনারা দক্ষিণ লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বেশ কিছু অবস্থানে অভিযান চালিয়েছে। তারাও পাল্টা ইসরায়েলের ভেতর রকেট হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্স

ইসরায়েলের আরাদ, দিমোনা ও তেল আবিব শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া লেবানন সীমান্তে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় এক ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৯২ জন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আনা হয় ৩০৩ জনকে। ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আরাদ শহরে গতকাল শনিবারের হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১৬ জন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরটির কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে গতকাল কাছাকাছি সময়ে দিমোনা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬৪ জন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত ব্যক্তিদের শরীরে জখম হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘বিশেষ বা অপরিচিত’ কোনো ঘরানার না হওয়া সত্ত্বেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন, দিমোনা ও আরাদ—উভয় শহরেই ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়। এর ফলে কয়েক শ কেজি ওজনের ওয়ারহেডসহ দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে।’

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনা দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইরান জানিয়েছে, দেশটির নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে দিমোনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের আরাদ শহরের বিধ্বংস্ত ভবন
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের আরাদ শহরের বিধ্বংস্ত ভবন, ছবি: রয়টার্স
 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামলার পর তিনি আরাদ শহরের মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছেন। নেতানিয়াহু এ ঘটনাকে শহরটির জন্য ‘অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ রোববার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবে একজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। আয়ালোন হাইওয়ে ও পার্শ্ববর্তী রামাত গান শহরসহ ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্য ইসরায়েলের পেতাহ তিকভা শহরেও একটি ভবন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উত্তরাঞ্চলে হামলায় নিহত ১

এদিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে লেবানন থেকে ছোড়া রকেট হামলায় আজ একজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থার বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

কয়েকটি গাড়িতে রকেটটি আঘাত হানে। পরে একটি গাড়ির আরোহীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রকেটের ‘সরাসরি আঘাতে’ দুটি গাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা গেছে।

তবে হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওফের মস্কোভিৎজ নামের ওই ব্যক্তি লেবানন থেকে ছোড়া ট্যাংক–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন। তিনি একটি কৃষিখামারের ব্যবস্থাপক ছিলেন।

আল–জাজিরা

ইরানকে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে এটি না খুললে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ নিয়ে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। বলেছেন, ‘ঠিক এ মুহূর্ত থেকে’ পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো প্রকার ‘হুমকি ছাড়াই’ ইরানকে এ জলপথ পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেবে। আর শুরু করা হবে সবচেয়ে বড়টি দিয়ে!’

জিএমটি অনুযায়ী ট্রাম্প গতকাল ২১ মার্চ (শনিবার) রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে ওই পোস্টটি করেন। সে হিসাবে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরান আগামীকাল ২৩ মার্চ (সোমবার) রাত ১১টা ৪৪ মিনিট (তেহরান সময় ২৪ মার্চ রাত ৩টা ১৪ মিনিট) পর্যন্ত সময় পাচ্ছে।

ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেবে। আর শুরু করা হবে সবচেয়ে বড়টি দিয়ে!ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

উল্লেখ্য, জিএমটির সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান ৬ ঘণ্টা। সেই অনুযায়ী, ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের শেষ সময় বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী হবে ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) ভোর ৫টা ৪৪ মিনিট।

পাল্টা হুমকি ইরানের

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিশানা করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত সব জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানি সামরিক বাহিনী।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত পানি শোধনাগার (ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট) এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোতেও হামলা চালাবে ইরান।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রয়াত প্রধান আলী লারিজানি আগেই সতর্ক করেছিলেন, ইরানের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে (গ্রিড) হামলা হলে ‘আধা ঘণ্টার মধ্যে পুরো অঞ্চল (মধ্যপ্রাচ্য) বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে’।

এদিকে ফারস নিউজ এজেন্সি উল্লেখ করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রয়াত প্রধান আলী লারিজানি আগেই সতর্ক করেছিলেন, ইরানের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে (গ্রিড) হামলা হলে ‘আধা ঘণ্টার মধ্যে পুরো অঞ্চল (মধ্যপ্রাচ্য) বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে’।

বিবিসি আল–জাজিরা

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে ইসরায়েলের আরাদ, ডিমোনা, ইলাত, বিরশেবা ও কিরিয়াত গাত শহরের সামরিক স্থাপনা এবং নিরাপত্তাকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আইআরজিসি কুয়েতের আলী আল-সালেম ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ও আল-ধাফরা ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

তাদের দাবি, এসব হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

তবে ইসরায়েল কোনো নিহতের খবর নিশ্চিত করেনি। দেশটির অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, আরাদ শহরে ৮৮ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ডিমোনা থেকে আহত ৩৯ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: আল–জাজিরা

লেবানন থেকে ছোড়া রকেটের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে উত্তর ইসরায়েলের দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ শনিবার এ হামলা হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১২’ জানিয়েছে, মেতুলা শহর লক্ষ্য করে প্রায় ১০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু রকেট আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি রকেটগুলো খোলা জায়গায় পড়েছে। হামলার সময় উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি অঞ্চল জুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইসরায়েলের ইয়েদিয়ত আহরোনোত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রকেটের টুকরো ও ধ্বংসাবশেষের আঘাতের ফলে মেতুলার একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে, লেবানন থেকে ছোড়া রকেটের আঘাতে সাফেদ শহরের আরেকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডের ঈদের জামাতে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানান। আজ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে রাজ্যের সবচেয়ে বড় জামাত হয়েছে রেড রোডে।

মমতা ঈদের শুভেচ্ছা বিলানোর পর রেড রোডে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনকে মাথায় রেখে মমতা আরও বলেন, ‘এই রাজ্যে সংশোধিত নিবিড় ভোটার তালিকা (এসআইআর) প্রণয়নের নামে আপনাদের নাম কাটা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এর জন্য আপনাদের পক্ষে আমার লড়াই জারি থাকবে।’

মমতা কটাক্ষ করে আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদিজি হলেন ভারতের সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী।’ মমতা হুমকির সুরে বলেন, বাংলাকে যে টার্গেট করবে, সে জাহান্নামে যাবে। তাই মমতা এই রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার প্রতি আবেদন জানান। বলেন, ‘আমি ভারতীয়দের নিয়েই গর্বিত।’
প্রতিবছর কলকাতার ধর্মতলার রেড রোডে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আজ সকাল থেকে ছিল ঝিরঝিরে বৃষ্টি। তবে তাতে নামাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। এসেছেন দলে দলে মুসল্লি। দেখা গেছে মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার। একবারে শিশু থেকে প্রবীণেরা ছিলেন। সবাই কোলাকুলি করেছেন।

কলকাতার রেড রোডের ঈদের জামাতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা
কলকাতার রেড রোডের ঈদের জামাতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা, ছবি: ভাস্কর মুখার্জী

নামাজ শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেই সঙ্গে রাজ্য ও দেশের উন্নয়ন ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার আবেদন জানান। মমতা বলেন, ‘এসআইআরে অনেকের নাম কাটা গেছে। আমি তাই নিয়ে লড়াই করছি। আদালতে গিয়েছি। সবার জন্য আমার এই লড়াই জারি থাকবে।’ মমতা জোরের সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের অধিকার মোদিজিকে কেড়ে নিতে দেব না।’ মমতা কটাক্ষ করে এ কথাও বলেন, ‘উনি যখন সৌদি আরব বা দুবাই গিয়ে হাত মেলান, তখন মনে পড়ে না হিন্দু-মুসলমানের কথা? দেশে এলেই নাম কাটার কথা মনে পড়ে?’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেড রোডের ঈদের জামাতে গিয়ে বক্তব্য দেন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেড রোডের ঈদের জামাতে গিয়ে বক্তব্য দেনছবি: ভাস্কর মুখার্জী

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মানবতার জন্য আমাদের সবার একজোট হতে হবে। সাম্প্রদায়িক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে। এই বাংলায় শান্তির বাতাবরণ তৈরি করতে হবে।’