ইরানের মিত্র হুথি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে যোগ দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বলেছে, তারা ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এ হুমকি মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।

দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করতে যাওয়া এই যুদ্ধে ইয়েমেন থেকে হামলা হওয়ার বিষয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি।

লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদাইদাহ বন্দর নগরীতে কুচকাওয়াজ করছেন হুথি বাহিনীর সদস্যরা
লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদাইদাহ বন্দর নগরীতে কুচকাওয়াজ করছেন হুথি বাহিনীর সদস্যরা, ছবি: হুথি মিলিটারি মিডিয়া/রয়টার্স

আজ শনিবার ভোরের এই বিবৃতির আগে গতকাল শুক্রবার আরও কিছু খবর পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়, ইরান প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে তেল আবিবে অন্তত পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলে গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল ও সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজছিল।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়ে নিজের মাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক কিশোরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত ট্রিস্টান রবার্ট (১৮) গত বছরের অক্টোবরে উত্তর ওয়েলসে তার মা অ্যাঞ্জেলা শেলিসকে (৪৫) হত্যা করে।

বুধবার (২৫ মার্চ) উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্ট এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, ট্রিস্টান রবার্টকে অন্তত ২২ বছর ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে।

আদালতের শুনানিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে ট্রিস্টান ডিপসিক নামের একটি এআই সার্চ প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়েছিল।

তদন্তকারীরা জানান, সে এআইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিল হত্যার জন্য হাতুড়ি নাকি ছুরি বেশি কার্যকর। শুরুতে এআই এ বিষয়ে উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, পরে নিজেকে একজন অপরাধবিষয়ক লেখক পরিচয় দিলে তাকে হাতুড়ির ব্যবহার, সুবিধা-অসুবিধা এবং হত্যার পর রক্ত ও দাগ পরিষ্কারের উপায় সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস আদালতে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। ট্রিস্টান প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে হামলার প্রস্তুতি নেয় এবং পুরো ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার অডিও একটি ডিক্টাফোনে রেকর্ড করে রাখে।

তদন্তে আরও জানা যায়, ট্রিস্টান অনলাইনে একাধিকবার নারীবিদ্বেষী পোস্ট করেছিল এবং নিজের মানসিক সমস্যার জন্য মাকেই দায়ী করত। রেকর্ড করা অডিওতে হামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ বর্ণনা পাওয়া গেলেও, তার নিষ্ঠুরতার মাত্রা বিবেচনায় তা আদালতে বাজানো হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে প্রথমে নিজ বাড়িতেই মায়ের ওপর হামলা চালায় ট্রিস্টান। রাত প্রায় ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় নির্যাতনের পর চিকিৎসার কথা বলে মাকে বাইরে নিয়ে যায়।

এরপর একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ব্যাগ থেকে একটি স্লেজহ্যামার বের করে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ টেনে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রাখে সে।

পরদিন সকালে পথচারীরা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। পরে ট্রিস্টানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতে আরও জানা যায়, ট্রিস্টানের অটিজম ও এডিএইচডি থাকায় তার জন্য সহায়তা খুঁজছিলেন মা অ্যাঞ্জেলা শেলিস। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে তিনি এক সমাজকর্মী ও বন্ধুদের জানিয়েছিলেন, তার ছেলে ছুরি ও হাতুড়ি কিনেছে।

নিজের ফোনে লেখা একটি নোটেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে লেখা ছিল: কেন? এগুলো সে কেন কিনেছে? সে কি আমাকে বা নিজেকে আঘাত করতে চায়?

রায় ঘোষণার সময় আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট। তিনি বলেন,মা ট্রিস্টানকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন।

এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহিংস বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি ঠেকাতে এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা কাঠামো আরও কঠোর করা জরুরি।

 

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ নেই।

বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ যাতায়াত করত। এখন তা কমে হাতে গোনা কয়েকটিতে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে খাদ্য থেকে শুরু করে স্মার্টফোন ও ওষুধ পর্যন্ত অসংখ্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

নিচে সম্ভাব্য প্রভাবের বিবরণ দেওয়া হলো—

সার (খাদ্য)
পেট্রোকেমিক্যাল তেল ও গ্যাস থেকে তৈরি হয়। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এগুলো বিপুল পরিমাণে উৎপাদন ও রপ্তানি করে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য হচ্ছে সার, যা বৈশ্বিক কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ সার, যেমন ইউরিয়া, পটাশ, অ্যামোনিয়া ও ফসফেট সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই প্রণালি দিয়ে সারসংশ্লিষ্ট পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, মার্চ ও এপ্রিল উত্তর গোলার্ধে বপন মৌসুম। এ সময়ে সারের ঘাটতি কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এখন সার কম ব্যবহার করলে বছরের পরের দিকে ফলন কমে যাবে।

জার্মানির গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কিল ইনস্টিটিউটের গবেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের জন্য প্রণালি বন্ধ থাকলেও পুরো একটি চাষাবাদ মৌসুম ব্যাহত হতে পারে; যার প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তার ওপর পড়বে।

প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক গমের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ফল ও সবজির দাম ৫ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ ছাড়া খাদ্যের দাম বাড়তে পারে জাম্বিয়ায় ৩১ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১৫ শতাংশ, তাইওয়ানে ১২ শতাংশ ও পাকিস্তানে ১১ শতাংশ।

রাশিয়া সাধারণত বৈশ্বিক সার রপ্তানির প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে। বিশ্লেষকদের মতে, তারা এই ঘাটতি পূরণে উৎপাদন বাড়াতে পারে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেন, সারসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে রাশিয়া ‘ভালো অবস্থানে রয়েছে’।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর জ্বালানি-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ১১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর জ্বালানি-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ১১ মার্চ, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

হিলিয়াম (মাইক্রোচিপ)
বিশ্বব্যাপী হিলিয়াম গ্যাসের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ সরবরাহ কাতার থেকে আসে। এই গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়।

এটি প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের একটি উপজাত। সেমিকন্ডাক্টর ওয়েফার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা পরে কম্পিউটার, যানবাহন ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোচিপে রূপান্তরিত হয়। হিলিয়াম হাসপাতালের এমআরআই স্ক্যানারের চুম্বক ঠান্ডা রাখতেও ব্যবহৃত হয়।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর কাতারের বিশাল রাস লাফান প্ল্যান্ট উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কাতার সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, যা সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের ফলে স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ডেটা সেন্টার পর্যন্ত নানা আধুনিক প্রযুক্তির দাম বাড়তে পারে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত যাদব সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি হিলিয়াম সংকটে এমআরআইয়ের খরচও বেড়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, একটি এমআরআই মেশিন চালাতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার লিটার হিলিয়াম লাগে। প্রতিবার স্ক্যান করার সময় এর কিছু অংশ বাষ্প হয়ে যায়।

পেট্রোকেমিক্যাল ডেরিভেটিভ (ওষুধ)
মিথানল ও ইথিলিনের মতো পেট্রোকেমিক্যাল থেকে উৎপন্ন উপাদানগুলো ওষুধ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন বৈশ্বিক পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের প্রায় ৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই দেশগুলো হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে এসব রাসায়নিক রপ্তানি করে, যার প্রায় অর্ধেক যায় এশিয়ায়।

ভারত বিশ্বের মোট জেনেরিক ওষুধ রপ্তানির প্রায় এক–পঞ্চমাংশ উৎপাদন করে, যার অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে যায়। এই ওষুধগুলোর বড় অংশ সাধারণত দুবাইসহ উপসাগরীয় বিমানবন্দর দিয়ে সরবরাহ করা হয়, যা সংঘাতের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সালফার (ধাতু বা ব্যাটারি)
সালফার তেল ও গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি উপজাত। উপসাগরীয় দেশগুলো এই উপজাত ব্যাপকভাবে উৎপাদন করে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সালফারের প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়।

সালফারের প্রধান ব্যবহার সার তৈরিতে হলেও এটি ধাতু প্রক্রিয়াজাতকরণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সালফার থেকে সালফিউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা কিনা তামা, কোবাল্ট ও নিকেল প্রক্রিয়াজাত ও লিথিয়াম উত্তোলনে ব্যবহৃত হয়। এই ধাতুগুলো ব্যাটারি তৈরিতে প্রয়োজন হয়। এমনকি গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম, যেমন ড্রোনে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সালফারের সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যাটারিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

বিবিসি

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটিতে থাকা অন্তত একটি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত সেনাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটপূর্ণ। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০৩ সেনা আহত হলেন।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইসরায়েলে হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬১ জন আহত হয়েছেন। ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এসব হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলে ইরানের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১১৬ জন।

আর শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান এবং হিজবুল্লাহ হামলায় বিভিন্ন হাসপাতালে ২৬১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে। জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।

সূত্র: আল–জাজিরা।

ইসরায়েলে হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬১ জন আহত হয়েছেন। ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এসব হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলে ইরানের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১১৬ জন।

আর শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান এবং হিজবুল্লাহ হামলায় বিভিন্ন হাসপাতালে ২৬১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে। জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।

সূত্র: আল–জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান যুদ্ধ বন্ধের একটি চুক্তি করার সুযোগ এখনো আছে। তবে সেটা নির্ভর করছে ইরানের ওপর। তিনি ইরানকে ‘চমৎকার আলোচক, তবে দুর্বল যোদ্ধা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত সত্ত্বেও ইরানের সামরিক বাহিনী অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করছি। তারা পরাজিত হয়েছে; তারা ফিরে আসার চেষ্টা করছে না। তাদের এখন একটি চুক্তি করার সুযোগ আছে, কিন্তু সেটা তাদের ওপর নির্ভর করছে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের মজুত ধ্বংস করছি, তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের ঘাঁটি ধ্বংস করছি। আমরা তাদের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছি এবং তাদের ক্ষেপণাত্রের একটি বড় অংশ এবং ৯০ শতাংশ লঞ্চার ধ্বংস করেছি।’

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে’ আছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ইরান চার থেকে ছয় সপ্তাহ টিকে থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

সূত্র: আল–জাজিরা।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করেছে।

কাৎজের দাবি, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া ও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মাইন স্থাপন করায় মূল ভূমিকায় ছিলেন আলিরেজা তাংসিরি।

তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সূত্র: আল–জাজিরা।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলে অভয় দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ এবং বিশেষ অনুমোদিত দেশের জন্য এই জলপথ খোলা থাকবে। ইরানের এই বন্ধুতালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই এই প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি–সংকট ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালিফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধ বলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম যে দাবি করে আসছে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘অনেক দেশের শিপিং কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ যাতায়াতের অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা যাদের বন্ধুরাষ্ট্র মনে করি বা অন্য কোনো কারণে অনুমতি দিয়েছি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে।’

আরাগচি আরও বলেন, ‘আপনারা খবরে দেখেছেন, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারত (এ তালিকায় আছে)। গত কয়েক রাতে ভারতের দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। এমনকি আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশও এ তালিকায় আছে। এসব দেশ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে এবং যুদ্ধের পরও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এই পথে চলতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যুদ্ধের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালি
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালি
 

আরাগচি বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চলটি এখন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই শত্রু বা তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকছে।’

চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে দেয় ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজা থেকে করাচিগামী ‘সেলেন’ নামে জাহাজটির ট্রানজিট অনুমতি না থাকায় সেটিকে মাঝপথ থেকেই ঘুরিয়ে দেয় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

ইরান বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে এই পথে দৈনিক ১২০টির মতো জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে এ সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কেপলারের মতে, এই সময়ে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে, যার মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাস পরিবাহী ট্যাংকার। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি–সংকটের কারণে বিমান সংস্থা থেকে শুরু করে সুপারমার্কেট—সবখানেই খরচ বাড়ছে এবং সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। অনেক সরকার এখন করোনা মহামারির সময়কার মতো জরুরি সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস

ভারতের দক্ষিণী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে ভোরের দিকে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মারকাপুরাম জেলার কাছে একটি যাত্রীবাহী বাস ও পাথরবোঝাই লরির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর আগুন ধরে যাওয়ায় অন্তত ১৩ যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার(২৬ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হরিকৃষ্ণ ট্রাভেলসের একটি প্রাইভেট বাস তেলেঙ্গানার নির্মল থেকে নেলোর জেলার বিঞ্জামুরু যাচ্ছিল, সেই সময় কানিগিরি থেকে আসা লরির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পরে উভয় যানবাহনে আগুন লাগে, যাত্রীরা বের হওয়ার সুযোগ পাননি। বাসে তখন প্রায় ৩৫–৪০ জন যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনায় আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন। মারকাপুরাম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুরুতর অবস্থার ৫ জনকে গুন্টুর জিজিএইচএ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হবে।
পুলিশ নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে জানানো এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে তল্লাশি চলার কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নারা চন্দ্রবাবু নাইডু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

কিয়েভ