ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ের সিক সাক্তি জেলায় একটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লার বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন ওই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ১১ জন কর্মচারী এবং আহত হয়েছেন আরও ২২ জন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সাক্তি জেলার সিংঘিতারাই অঞ্চলে অবস্থিত এ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রটির মালিক বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হয় ২০২৫ সাল থেকে।

সাক্তি জেলা পুলিশ ও প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারের কাজ শুরু করে।

জেলার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর মঙ্গলবার রাতে বলেন, চার জন কর্মচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন, আর বাকি সাত জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন। আহত ২২ জন কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কারাখানাটির বয়লার ইউনিট তারা সরাসরি পরিচালনা করতে না। এনটিপিসি জিই পাওয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড (এনজিএসএল) নামে অপর একটি কোম্পনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বয়লার ইউনিট পরিচালনা ও রক্ষাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল।

তবে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে করা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ হলো নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করা এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই এই বিস্ফোরণকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ নির্ধারণ করতে তদন্ত হবে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস

 

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১টি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ৮টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। একই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৯৮ শিশু, আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭৬ জনের।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই হিসাব ১৩ এপ্রিল সকাল আটটা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে যে শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, তার বাড়ি চট্টগ্রামে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া আট শিশুর ছয়টি ঢাকা বিভাগের, একটি চট্টগ্রামের এবং একটি রাজশাহীর। এই সময়ে সর্বোচ্চ ১৫৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ১৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। আর তিনজন করে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে। এর মধ্যে ৪৮৫ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৯৮ জন, যার মধ্যে ২৯০ জনই ঢাকা বিভাগে। সবচেয়ে কম রোগী ভর্তি হয়েছে রংপুর (৮) ও ময়মনসিংহে (১৬)।

এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৯৩৫ জন গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ৪১১ জন এবং ঢাকা বিভাগে ২৫৮ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ২৯ দিনে হামে মোট ৩১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৪ শিশুর।

এ ছাড়া গত ২৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৫ হাজার ৬৫৩ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১ হাজার ৬৫২ জন। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৮৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে ৯ হাজার ৩০৪ জন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর দেশের প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এ কথা জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ভেরোনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেলোনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ‘সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা’ অবশ্যই চালাতে হবে।

২০০৩ সালে ইতালির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির অধীনে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা প্রতিরক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহযোগিতার পথ সুগম করেছিল। ২০০৫ সালে ইতালি এটি অনুমোদন করে এবং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে আসছিল।

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও টাইমস অব ইসরায়েল

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও ইরানের বন্দর অবরোধের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে শুধু উত্তেজনাই বাড়বে এবং আগে থেকেই নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরও দুর্বল করবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে গুয়ো জিয়াকুন আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ বলে উল্লেখ করেন।

গতকাল সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে আজ মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ উপেক্ষা করে চীনের একটি ট্যাংকার হরমুজ পার হয়েছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’ ও ‘কেপলার’-এর তথ্যে বিষয়টি উঠে এসেছে।

সূত্র: আল–জাজিরা ও মিডল ইস্ট আই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ নতুন পোস্টে হুমকি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ ভাঙতে এলে ইরানের ‘অ্যাটাক শিপ’ (আক্রমণকারী জাহাজ) ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

এর আগে ট্রাম্প ইরানের সব বন্দর অবরোধ করার ঘোষণার সময় জানিয়ে দেন। আজ ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় (বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৮টা) অবরোধ শুরুর কিছুক্ষণ পরে ট্রুথ সোশ্যালে হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে, তাদের ১৫৮টি জাহাজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাদের স্বল্পসংখ্যক তথাকথিত “ফাস্ট অ্যাটাক শিপে” (দ্রুতগামী আক্রমণকারী জাহাজগুলো) আমরা এতদিন আঘাত করিনি, কারণ সেগুলোকে আমরা খুব একটা বড় হুমকি মনে করিনি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘সতর্কবার্তা: এই জাহাজগুলোর কোনোটি যদি আমাদের অবরোধের আওতায় থাকা এলাকার ধারেকাছেও আসে, তবে সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে। সমুদ্রপথে মাদক ব্যবসায়ীদের নৌকা ধ্বংস করতে আমরা যে পদ্ধতি ব্যবহার করি, এদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।’

সূত্র: আল–জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি বেড়ে চলেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক প্রধান জন ব্রেনান বলেছেন, ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্টদের কথা মাথায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যের সমর্থনে একজন কার্যক্ষমতাহীন বা বিতর্কিত প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল এমএস নাউ সিআইএর সাবেক প্রধান ব্রেনানের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে। সেখানে ব্রেনান বলেন, ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেবেন বলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি ‘স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন’। এ অবস্থায় এত মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় তাঁকে কমান্ডার ইন চিফ রাখা উচিত হবে না।

ব্রেনান যুক্তি দিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্রসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভান্ডারের ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ তাঁকে একটি অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকিতে পরিণত করেছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্পের ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা নিয়ে বিতর্ক চলছে। সাবেক সিআইএ পরিচালকের এই মন্তব্য তাঁকে ট্রাম্পকে ঘিরে চলমান বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় সিআইএ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন ব্রেনান।

গত ৭ এপ্রিল ইরান সরকারকে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, ইরান সরকার যদি তা না মানে তবে ‘আজ রাতেই ইরানি সভ্যতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে’।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

ব্রেনান এমএস নাউ–কে বলেন, এ ধরনের ভাষা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

ব্রেনান বলেন, ‘এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। আমার মনে হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা মাথায় রেখে ২৫তম সংশোধনী লেখা হয়েছিল।’

মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে বলা আছে, যদি প্রেসিডেন্ট মারা যান, পদত্যাগ করেন বা অভিশংসনের মাধ্যমে তাঁকে পদচ্যুত করা হয়, তাহলে ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর জায়গায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে শূন্যতা পূরণের প্রক্রিয়াও সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে। এই সংশোধনী ১৯৬৫ সালে ৮৯তম কংগ্রেসের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলোর কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং ১৯৬৭ সালে এটি পাস হয়।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পুরো মন্ত্রিসভা প্রথম থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি অবিচল ও অটল আনুগত্য বজায় রেখেছেন।

গত শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানে আবার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ব্রেনানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ একটি ফৌজদারি তদন্ত চালাচ্ছে। এই তদন্তকে ব্রেনানসহ অন্যরা প্রেসিডেন্টের তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখন পর্যন্ত ৯৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধকালীন সময়ে হামলার শিকার বিভিন্ন স্থানে মোট ১ হাজার ৭১১টি প্রযুক্তিগত উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার অভিযান চালানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক ভবন এবং ২৪ হাজারের মতো বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে। অনেক ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আবার কিছু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া সংস্থাটি জানায়, এসব হামলার প্রমাণ ও নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে উপস্থাপন করে ঘটনাগুলোর বিচারিক অনুসরণ নিশ্চিত করা হবে।

আরও বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে ৩৩৯টি চিকিৎসাকেন্দ্র— (যার মধ্যে হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি ও জরুরি সেবা ইউনিট রয়েছে) লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও অনেকগুলো দ্রুত আবার চালু করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের জরুরি সংস্থার প্রধান মাজিদ মিয়াদফার জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ২৫৮ জন নারী ও ১৮ বছরের নিচে ২২১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৮ শিশুও নিহত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালানো হয়, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তু এবং ইসরায়েলি অবস্থানগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সূত্র: প্রেস টিভি

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তিনি বলেন, ‘যদি মার্কিন সরকার তাদের কর্তৃত্ববাদী অবস্থান ত্যাগ করে এবং ইরানি জাতির অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তাহলে অবশ্যই সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।’

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের প্রশংসা করে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘আমি আলোচনাকারী দলের সদস্যদের, বিশেষ করে আমার প্রিয় ভাই ডক্টর গালিবাফকে অভিনন্দন জানাই। আমি বলব, সৃষ্টিকর্তা আপনাদের সহায় হোন।’

তিনি মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতেই কেবল এই দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব।

বর্তমান এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে উভয় পক্ষের অবস্থান নমনীয় হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক  বিশ্লেষকেরা।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবেশ বা বের হওয়া যেকোনো জাহাজ ‘অবরোধ’ করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘একটি পর্যায়ে হরমুজ দিয়ে “সবাইকে ঢুকতে দেওয়া হবে এবং বের হতে দেওয়া হবে”—এমন অবস্থানে পৌঁছাব আমরা। কিন্তু ইরান সেটি হতে দিচ্ছে না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি আমাদের নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করতে ও গতিরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি, যারা ইরানকে টোল (শুল্ক) দিয়েছে। যারা বেআইনিভাবে টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তাদের কোনো নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। মূলত তখন থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল–জাজিরা।

৪০ দিন যুদ্ধের পর আশা জাগিয়ে শুরু হওয়া ইসলামাবাদ আলোচনা নিরাশার মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে। কোনো ধরনের সমঝোতা না হওয়ার জন্য এখন পরস্পরকে দুষছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল শনিবার আলোচনা শুরুর পর ‘ইতিবাচক’ই বলা হচ্ছিল দুই পক্ষ থেকে। তবে রাত গড়িয়ে পাকিস্তানের রাজধানীতে যখন ভোর হলো, তখন ‘খারাপ খবর’ই দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি জানান, ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি।

পরিবেশটি কেমন হতাশার ছিল, তা বিবিসির পাকিস্তান সংবাদদাতা ক্যারি ডেভিসের জবানিতে স্পষ্ট হয়ে এসেছে।

ভ্যান্সের সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন ডেভিস। সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই তিনি দেখেন, হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের জন্য প্রস্তুত হওয়া দীর্ঘ গাড়িবহর। সেখানে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের নিজস্ব নিরাপত্তাদলও ছিল।

ক্যারি ডেভিস লিখেছেন, ‘আমরা আমেরিকার পতাকাশোভিত একটি গাড়িকে দ্রুত হোটেল ছাড়তে দেখেছি। ধারণা করছিলাম, দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো চুক্তি না হওয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শহর ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।’

আলোচনার ফলাফল নিয়ে সেখানে হতাশার স্পষ্ট আবহ দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে বড় ফারাক থাকায় শান্তিচুক্তি হওয়া কঠিন। তবে দুই পক্ষ থেকেই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসায় অনেকের আশা ছিল, সবাই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সত্যিই আন্তরিক।’

‘ফলে এই হতাশা শুধু সম্মেলনকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে,’ লিখেছেন বিবিসির এই সাংবাদিক।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ছবি: এএফপি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই শান্তি আলোচনার দিকে চোখ ছিল গোটা বিশ্বের। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধের কারণে ভুগতে হচ্ছে গোটা পৃথিবীর মানুষকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলার পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করলে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। এর মধ্যে ইরানের পাশাপাশি লেবাননে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যায় ইসরায়েল।

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বের তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। কেননা বিশ্বে জ্বালানি পরিবহনের ২০ ভাগই এই সরু জলপথ দিয়ে হয়।

হরমুজ না খুললে ইরানের সভ্যতা বিলীন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টা না গড়াতেই গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন তিনি। তারপরই ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনার তোড়জোড় শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিতে ইসলামাবাদে পৌঁছান দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাগের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে সঙ্গী করে।

ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে আবার হামলা হবে, ট্রাম্প আগেই এই হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন। এর ফলে বৈঠকে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় এই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে, এখন কী হবে? আবার কি যুদ্ধ শুরু হবে?

বিবিসির বিশ্ব সংবাদদাতা জো ইনউড তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ এই কথা দিয়েই শুরু করেছেন, মূল প্রশ্ন এখন—এরপর কী হবে?

আলোচনায় সমঝোতা যে কঠিন ছিল, তা মনে হচ্ছিল তাঁর। তাঁর ভাষায়, উভয় পক্ষই এই আলোচনায় এসেছে যুদ্ধে নিজেদেরকে বিজয়ী দাবি করে। তাই শুরু থেকেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন ছিল। শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, সেটি প্রায় অসম্ভবই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে যুদ্ধ আবার শুরু হবে, এমন ইঙ্গিত এখনো না পাওয়ার কথাই লিখেছেন জো ইনউড। তাঁর ভাষায়, ইরানের ওপর হামলা আবার শুরু হবে কি না, এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। তবে সম্ভাবনা যে বেড়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, এই প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি বলেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। যদিও ইরান সব সময়ই দাবি করেছে, তাদের এমন কোনো উচ্চাভিলাষ নেই।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক’ দাবির কারণে ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে গেছে।

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনাও কমে গেল। উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রর দুটি যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানো থেকে জো ইনউড ধারণা করছেন, ওয়াশিংটন হয়তো অন্য কোনো পথ খুঁজছে।

ইনউড লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সরাসরি বৈঠক ছিল ঐতিহাসিক। কিন্তু তা হয়তো কূটনীতির একটি ব্যর্থ উদাহরণ হিসেবেই ইতিহাসে লেখা থাকবে।

সিএনএনের তাৎক্ষণিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোনো চুক্তি না হওয়ায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তবে ট্রাম্প আবার যুদ্ধ শুরু করতে চাইবেন কি না, তা এখন স্পষ্ট নয়। কারণ, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য গতকাল শনিবার ইসলামাবাদে পৌঁছান পার্লামেন্টের স্পিকার বাগের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য গতকাল শনিবার ইসলামাবাদে পৌঁছান পার্লামেন্টের স্পিকার বাগের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, ছবি: এএফপি
 

ইসলামাবাদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভ্যান্স পুনরায় যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দেননি। বরং তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান চাইলে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব’ গ্রহণ করতে পারে।

আবার মতপার্থক্য দূর করতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো আলোচনার কথা ভ্যান্স বলেননি। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান আশা করছে, দুই পক্ষের আলোচনা চলবে।

আলোচনা শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে বলেন, উভয় পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ধরে রাখা অত্যাবশ্যক।

আগামী দিনগুলোতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তান ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা যে আবার হবে না, তা সরাসরি উড়িয়ে দিচ্ছে না ইরানও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও গুরুত্বপূর্ণ দুই-তিনটি বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।

ইসমাইল বাগাইয়ের ভাষায়, ‘এ আলোচনা হয়েছে ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর, যেখানে চারদিকে শুধু অবিশ্বাস আর সন্দেহ। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের ছিল না। আর তেমনটা কেউ আশাও করেনি।’

ভবিষ্যৎ আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কখনো শেষ হওয়ার নয়। সেটা শান্তির সময় হোক, কিংবা যুদ্ধের সময়, সময় সময়ের জন্যই।

  • তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিএনএন, তাসনিম নিউজ, ডন

ইরানের সঙ্গে পূর্বঘোষিত শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

পাকিস্তান সরকারের উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ছাড়া মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

সূত্র: আল–জাজিরা

শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা হওয়ার কথা।

পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের।

ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এই তথ্য জানিয়েছে। খবর আল–জাজিরার।