• Colors: Purple Color

রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের সময়সীমা ২২ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন। রোববার (২০ এপ্রিল) কমিশনের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। তারা দলীয় নিবন্ধনের জন্য সময়সীমা ৯০ দিন বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।

আজই (রোববার) রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সীমার শেষ দিন ছিল। এ উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের পাঁচ সদস্য। বৈঠকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন, নিবন্ধনের সময়সীমা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। 

এরআগে, বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবকে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে দল নিবন্ধনে ৯০ দিন সময় বাড়ানোর আবেদন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন দলটি।

ভোটাধিকার প্রবাসীদেরও সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বাস্তবে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা সেই অধিকার চর্চার সুযোগ কখনোই পাননি। আইনে পোস্টাল ব্যালটের নিয়ম থাকলেও বিগত সময়ে একটি ভোটও বিদেশ থেকে আসেনি।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার প্রবাসীরা প্রতীক সম্বলিত পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুযোগ পাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগেই প্রতীকসহ ব্যালট পেপার প্রবাসীদের কাছে পাঠানো হবে। সেই ব্যালটে নিবন্ধিত দলগুলোর সংরক্ষিত প্রতীকের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ১০টি প্রতীক দেয়া থাকবে।

পুরো প্রক্রিয়াটি পোস্ট অফিসের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। ভোট দিতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের নিবন্ধনের জন্য তিন সপ্তাহ সময় পাবেন। প্রতীক বরাদ্দের পর ডাকযোগে ভোট পাঠাতে পারবেন তারা।

তবে কোনো দল প্রার্থী না দিলেও সেই প্রতীক ব্যালটে থেকে যাবে। এটি বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের পর ব্যালট পেপার পাঠাতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বহুবছর থেকে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও তা হয়নি। এই বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার অগ্রাধিকারে রয়েছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া অমূলক নয়, অনেকক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক। কারচুপি ঠেকাতে কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেছেন, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে মনোনয়ন চূড়ান্ত ও প্রতীক বরাদ্দের পর ভোটগ্রহণের সময় অন্তত ৩০ দিন করতে হবে। যাতে প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পৌঁছায় এবং সময়মতো ভোট ফেরত আসে। তবে অনেক অসুবিধার মধ্য দিয়ে হলেও প্রথমবারের মতো এটি চালু হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো রিটার্নিং অফিসার প্রভাবিত হলে ব্যালটগুলোর টাইমিংয়ের ক্ষেত্রে হেরফের করতে পারে। এরকম একটি ফাঁক থেকে যায়। কিন্তু এবারের ভোটে সেরকম ফাঁক ফোকর থাকার কথা নয়।

তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বদলে এবার সত্যিই প্রবাসী ভোটে প্রাণ ফিরবে কি না তার উত্তর ব্যালট ফেরার পরই মিলবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

এর মধ্যে ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) কমপক্ষে ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৩২ জন পর্যবেক্ষক যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩০ জনে।

আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের এই সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ওই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

এর আগে ১২তম, ১১তম ও ১০তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ এবং মাত্র চারজন।

ওআইসির নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার দুই সদস্যের পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক আসবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন পর্যবেক্ষক ব্যক্তিগত পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মুরশেদ বলেন, আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে, কারণ যেসব দেশকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের কয়েকটি এখনও প্রতিনিধি দলের নাম নিশ্চিত করেনি।

এখনো যেসব দেশ প্রতিনিধি নিশ্চিত করেনি, সেগুলো হলো—ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া।

এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম (ফেম্বোসা) শিগগিরই তাদের প্রতিনিধিদের নাম ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ প্রায় দুই হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

 

এক জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৯০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তাঁরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে চান। আর ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো ভোট দেওয়ার বিষয়ে অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা করছেন না। অন্যদিকে আগে যাঁরা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাঁদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন।

‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ একসঙ্গে এই জরিপ করেছে।

আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফল তুলে ধরা হয়। ফল তুলে ধরেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ। তিনি জানান, তাঁরা দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনে ভোটারদের ওপর এই মতামত জরিপ করেছেন। মতামত জরিপে অংশ নিয়েছেন ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ধাপে জরিপটি করা হয়।

জাকারিয়া পলাশ বলেন, জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে দুর্নীতির ইস্যু। জরিপে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন বলে মত দিয়েছেন।এ ছাড়া ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবেন বলে জরিপে এসেছে।

আগে যাঁরা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাঁদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন বলে জরিপে উঠে এসেছে—সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ ছাড়া আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন এমন ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। ১৩ শতাংশ ভোটার অন্যদের ভোট দেবেন। ২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন।

জরিপের ফল অনুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রথম ভোট দেবেন—এমন ভোটারদের ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা এবার জামায়াতকে ভোট দেবেন। ২৭ শতাংশ বিএনপি, ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। আর ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন।

জাকারিয়া পলাশ বলেন, মতামত জরিপে উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনে মানুষ এমন নেতাদের ভোট দিতে চান, যেই নেতা মানুষের কথা ভাবেন, আর শক্তিশালী নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভোটাররা ব্যক্তিগত বিশেষ যোগ্যতার তুলনায় জনদরদি প্রার্থীকে বেশি পছন্দ করছেন বলে জানিয়েছেন।

জরিপের ফলের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ দল ও প্রার্থী দুটিকে সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে—এমনটা জানিয়েছেন ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার শুধু দলকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। শুধু প্রার্থীকে গুরুত্ব দেবেন ৩০ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। আর ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনটিকে গুরুত্ব দেবেন, তাঁরা এখনো তা ঠিক করেননি বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ভিজিটিং প্রফেসর ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রফেসরিয়াল ফেলো এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেহেতু নির্বাচনে নেই, তাই তাদের ভোট এবার কোন দিকে যাবে, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ। জরিপের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এবারের নির্বাচনে অনেক মানুষ ভোট দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে ভোটের দিনের পরিস্থিতি কেমন হবে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যে ৮ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন—নিরাপত্তা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভালো না থাকলে তাঁদের অনেকে ভোটকেন্দ্রে না–ও যেতে পারেন। তখন এই ৮ শতাংশ হয়ে যেতে পারে ৮০ শতাংশ।

ভোটের দিনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ যাতে কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন না থাকেন, বিশেষত নারী ও বয়স্ক ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন।
এই অধ্যাপক মনে করেন, জরিপের ফল যেমনই হোক, নির্বাচনের দিন পরিস্থিতি কেমন হবে, ভোটাররা কতটা নিরাপত্তা পাবেন, ভোট গ্রহণ কতটা সুশৃঙ্খল থাকবে—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে কত মানুষ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিআরএফের সহসভাপতি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাবুল হক। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে, যেটা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে বেশি।

মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে এখনো উদ্বেগ আছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক সাহাবুল হক। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে একধরনের টেনশন কাজ করছে যে ভোটটা সুষ্ঠু হবে কি না, নিরপেক্ষ হবে কি না, ব্যালট বাক্স দখল হয়ে যায় কি না, কোনো ধরনের সংঘাত হয় কি না। এই উদ্বিগ্নতা মানুষের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও সাধারণ ভোটারও আছেন।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ আগের চেয়ে ধর্মকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘বেশি মানুষ কিন্তু এটা নিয়ে ভাবছে না; বরং তাঁরা দুর্নীতিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে—প্রার্থী বা প্রার্থীর দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে কি না।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সারা দেশে এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত এই ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটগ্রহণের আগে ও পরে মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক তদারকি করবেন। মূলত নির্বাচনের ময়দানে অপরাধ প্রতিরোধ এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই হবে তাদের প্রধান কাজ।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করবেন। তবে দায়িত্ব পালনের আগে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে যাতে তারা নির্বাচনী আইন ও বিধিনিষেধগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেন। তারা নির্বাচনী এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর টিমকে প্রয়োজনীয় আইনি দিকনির্দেশনাও প্রদান করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯-এর ৫ ধারা অনুযায়ী ক্ষমতা প্রাপ্ত হবেন। তারা ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় অবস্থান করবেন এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন। এর ফলে নির্বাচনী সহিংসতা রোধ এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।

 

ঢাকা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব