• Colors: Purple Color

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে সর্বোচ্চ আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। বঙ্গভবনে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ শপথ পড়াবেন।

আজ শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুই যুগ পর সরকার গঠন করছে বিএনপি।

সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। দলটি এ ঘোষণা আগেই দিয়েছে।

নির্বাচনে ফলাফল ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। আর তাঁদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অর্থাৎ বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ৭৭ আসন। ইতিমধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এখন নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথ কবে, কারা থাকছেন নতুন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে শপথ হয় বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতি এ শপথ পড়ান।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ, সংসদ নেতা নির্বাচন ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, এরপর সুবিধাজনক একটি সময় নির্ধারণ করা হয় শপথের জন্য। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী তিন দিন বা সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে শপথ হয়ে যাবে।’

তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে যদি বলা হয় আগামীকাল বা পরশু, সেটারও প্রস্তুতি আছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সংসদ সদস্যদের শপথ হওয়ার পর জানা যাবে মন্ত্রিসভার শপথ কবে হবে।

শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি আছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় বিএনপি ও দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান।

শার্লি বোচওয়ে তার বার্তায় বাংলাদেশের জনগণকে একটি সফল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং গণভোটে অবদান রাখা সব নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে আমি আন্তরিকভাবে প্রশংসা করি। বাংলাদেশ ও এর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং পরবর্তী ধাপে সমর্থন জোগাতে কমনওয়েলথের যে অঙ্গীকার, সেটি আমি আবারও পুনর্নিশ্চিত করছি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে এককভাবে জয়লাভ করে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এ ছাড়া ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা অবশিষ্ট দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির মিত্র শরিক দলগুলো আরও তিনটি আসন লাভ করেছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্যান্য শরিকেরা আরও ৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের সংসদ একটি বৈচিত্র্যময় এবং প্রতিনিধিত্বশীল রূপ পেতে যাচ্ছে।

 

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের দুটি সিল মারা ব্যালট ও গণভোটের চারটি ব্যালট উদ্ধারের দাবি করেছেন স্থানীয় লোকজন।‌ এ ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়। দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিকেলে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সহায়তায় ঘটনাস্থল ছাড়ার সময় ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ইউএনওর দাবি, ঘটনাটি কেন্দ্র করে তিনি ‘মবের’ শিকার হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধানের শীষ প্রতীকের সিলমারা দুটি ব্যালট ও চারটি গণভোটের ব্যালট উদ্ধারের দাবি করেন স্থানীয় লোকজন। বিদ্যালয়টি রংপুর-৬ আসনের নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্র ছিল। এ‌ ঘটনার খোঁজ নিতে দুপুরে পীরগঞ্জের ইউএনও, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও নির্বাচন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গেলে ভোট ‘কারচুপির’ অভিযোগ তুলে তাঁদের অবরুদ্ধ করা হয়।

ব্যালটগুলো আসলে সত্য কি না। কারণ, আমাদের কাছে সংরক্ষিত যে ব্যালটগুলো আছে, ওটার সাথে ওই সিলটা, ওই নম্বরটা মিল আছে কি না—এইটা আমরা আসলে ওই সময় দেখতে পাচ্ছিলাম না। ওখানে আসলে মব একটা ভায়োলেন্স তৈরি করা হয়েছে।‌ ওরা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের স্টেটমেন্ট চাচ্ছিল যে ওখানেই আমাদের বলতে হবে বিষয়গুলো।পপি খাতুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পীরগঞ্জ

ওই এলাকার বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন, ওই বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সিল মারা ব্যালট পায়। তারপর এলাকার লোকজন বিষয়টি দেখলে পীরগঞ্জের ইউএনও পপি খাতুনকে জানানো হয়। তিনি ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে বিকেল চারটার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পুলিশের সহায়তায় বের হন ইউএনও।

পপি খাতুন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এবং এগুলো সিজ (জব্দ) করার জন্য যাই। আসলে সিজ করতে গেলে তো একটা প্রক্রিয়া লাগে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়—কে দেখল, কে পেল। তাই না? সিজার লিস্ট (জব্দ তালিকা) তৈরি করে ওসি সাহেবসহ আমরা যখন ব্যাক করব, তখন আমাদের ওপর মব ভায়োলেন্স করা হয়। ওরা আসলে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখে ওখানে একটা পেশিশক্তির প্রদর্শন বা একটা হুমকি প্রদর্শন করে, রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা প্রদান করে। আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘ব্যালটগুলো আসলে সত্য কি না। কারণ, আমাদের কাছে সংরক্ষিত যে ব্যালটগুলো আছে, ওটার সাথে ওই সিলটা, ওই নম্বরটা মিল আছে কি না—এইটা আমরা আসলে ওই সময় দেখতে পাচ্ছিলাম না। ওখানে আসলে মব একটা ভায়োলেন্স তৈরি করা হয়েছে।‌ ওরা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের স্টেটমেন্ট চাচ্ছিল যে ওখানেই আমাদের বলতে হবে বিষয়গুলো।’

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, ‘ইউএনওর সঙ্গে আমরাও যাই। তিনি বের হওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে। তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙেছে।’

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের শীষের প্রতীকে সিল মারা দুটি ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের স্বাক্ষর আছে। এ ছাড়া গণভোটে  ‘হ্যাঁ’ সিলযুক্ত দুটি ও ‘না’ সিলযুক্ত দুটি ব্যালট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ব্যালটের বিপরীত পাশে নির্বাচন কমিশনের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।

উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৬৯। ভোট গ্রহণ হয়েছে ২ হাজার ৪০২টি। ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ হাজার ৫৩২ ভোট, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ৮৩২। আসনটিতে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমীন। ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম।

এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন শাহ আব্দুর রউফ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. রাহিদুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, ‘সব এজেন্টের সামনে বাক্স দেখিয়ে ভোট শুরু করি। সবার সম্মতিক্রমে ব্যালট বাক্স থেকে ব্যালট গণনা করে ফলাফল শিট তৈরি করা হয়। ব্যালট বাক্সের বাইরে আলাদা ব্যালট পাওয়া গেলে আমাদের করার কিছু নাই।’

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রমিজ আলম বলেন, তাঁরা ঘটনাটি অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব