যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর ধরে অভিবাসন হেফাজতে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী লেকা করদিয়া। গাজা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় তাকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আবার ইমিগ্রেশন ইস্যুতে আটক করা হয়।

২০২৪ সালের এপ্রিলে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বাইরে নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে লেকাকেও আটক করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ২০২৫ সালের মার্চে নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের সময় আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানায়, তার স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সংস্থাটির দাবি, ২০২২ সালেই ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে তার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।

এদিকে, বিদেশে অর্থ পাঠানো নিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তবে করদিয়া দাবি করেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠিয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক অভিবাসন বিচারক করদিয়ার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ পেয়েছেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় জামিন শুনানিতে বিচারক সরকারের যুক্তিকে অসৎ আখ্যা দিয়ে ১ লাখ ডলার জামিনে তার মুক্তির নির্দেশ দেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) টেক্সাসের ডালাসের কাছে একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের করদিয়া বলেন, আমি কী বলব বুঝতে পারছি না। আমি মুক্ত! আমি মুক্ত! অবশেষে, এক বছর পর।

ডিএইচএস অভিযোগ করেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী রাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তবে তার পরিবারের দাবি, তিনি কেবল আত্মীয়স্বজনদের কাছেই অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।


সূত্র: বিবিসি

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব