মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে ভারতীয় রুপির দর ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর সর্বনিম্ন ৯৫ দশমিক ২২-এ পৌঁছায়, যা এযাবৎকালের সর্বনিম্ন।
দিনের শুরুতে কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও পরে সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি রুপি। সকালে ৯৩ দশমিক ৬২ দরে লেনদেন শুরু করে তা ৯৩ দশমিক ৫৭ পর্যন্ত উন্নতি করলেও দ্রুতই পতন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত দিনের মধ্যেই বড় ধস নেমে ৯৫ দশমিক ২২-এ পৌঁছে যায়।
এর আগের কার্যদিবস শুক্রবারও বড় ধাক্কা খেয়েছিল রুপি। সেদিন ৮৯ পয়সা পড়ে ডলারের বিপরীতে ৯৪ দশমিক ৮৫ দরে লেনদেন শেষ হয়, যা তখনকার সর্বনিম্ন ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, রুপির ওপর চাপ বাড়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলার। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ায় ডলার সূচক ১০০-এর ওপরে অবস্থান করছে, যা রুপির পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তুলছে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৫ ডলারে উঠেছে। এতে আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
এর প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারেও। সোমবার সেনসেক্স প্রায় ১ হাজার ৭০০ পয়েন্ট এবং নিফটি ৫০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও শেয়ারবাজার থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রুপির ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে তা আরও দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি