ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০টি সংসদীয় আসনের ফলাফল স্থগিত রেখে পুনর্গণনার জন্য আবেদন করেছে জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি আসনগুলোতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ স্থগিত রাখার জন্যও আইন প্রদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।

জামায়াত বলছে, এসব আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর সঙ্গে বিজয়ী ঘোষণা করা প্রার্থীর ব্যবধান খুবই অল্প। যেখানে ভোটের সর্বোচ্চ ব্যবধান হয়েছে ১০ হাজার মতো। আসনগুলোতে তারা জয়ের বার্তা পাচ্ছিল, যখন ভোগ গণনা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ভোট পুনরায় গণনা হলে তারা জয় পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে।

আসনগুলো হচ্ছে, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট- ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-১, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১ (রিকশা), ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ- ৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩ (রিকশা), ঢাকা-১৭, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪।

ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হচ্ছে জামায়াতের এজেন্ট সমর্থক ও নারীরা। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

তার মতে, ঢাকার কিছু আসনে ফলাফল দিতে অনেক দেরি হয়েছে। আবার কিছু জায়গায় খুব দ্রুত ফলাফল দেয়া হয়েছে। সেগুলোতে তিনি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখছেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, যারা সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে, তারা নেতাকর্মীদের সহিংসতা রুখতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। জামায়াতে ইসলামী আশা করেছিল ফ্যাসিবাদী আচরণমুক্ত নতুন বাংলাদেশে হবে।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই জামায়াতের। এ ছাড়া দলটির ছয় নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। এ ঘটনায় এক বিএনপি নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাকিব হোসেন ও বিএনপি কর্মী রাতুল আহম্মেদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কিল-ঘুষি মারার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনা মীমাংসার জন্য আজ সকালে ধানাইদহ বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে সালিস বসার কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে নগর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসাফ সরকারের নেতৃত্বে দলের ৪০–৫০ জন কর্মী ধানাইদহ বাজারে যাচ্ছিলেন। বাজার–সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছালে তাঁদের সঙ্গে দেখা হয় নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাসিনুর রহমানের। এ সময় বিএনপি কর্মীরা হাসিনুরের ওপর হামলা চালান। রামদা ও চাপাতির আঘাতে জামায়াতের এই নেতা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বিএনপি নেতা–কর্মীরা ধানাইদহ পূর্বপাড়ায় গিয়ে জামায়াত সমর্থক ছানোয়ার হোসেন, সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন, আবদুস সোবহান এবং পশ্চিম পাড়ার সিরাজুল ইসলাম, মাসুদ হোসেন ও হাফিজুর রহমাানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় জামায়াতের সমর্থকেরা বাড়িঘর থেকে বের হয়ে বিএনপি নেতা–কর্মীদের ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে বিএনপি নেতা আসাফ সরকার এবং জামায়াত কর্মী সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, রায়হানসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।

আহত ব্যক্তিদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি আমেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় জামায়াত নেতা হাসিনুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের বেশির ভাগ চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

আজ বেলা দেড়টার দিকে ধানাইদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ। বাজারের মোড়ে অর্ধশতাধিক পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। সেখান থেকে ধানাইদহ পূর্বপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, জামায়াত সমর্থক ছানোয়ার হোসেন, তাঁর ভাই সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন ও সোবহানের টিনের বাড়ি তছনছ করা হয়েছে। ঘরের বেড়ার টিন কেটে চূর্ণবিচূর্ণ করা হয়েছে। ছানোয়ারের বাড়ির শয়নকক্ষের রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, সেলাই মেশিনসহ অন্যান্য আসবাব ও কাপড়চোপড় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে।

ভুক্তভোগী সৈয়দ ইব্রাহীম আলী জানান, ঘটনার সময় প্রতিপক্ষের লোকেরা কয়েকটি গুলি ছুড়েছেন। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রও ছিল। ছানোয়ার হোসেনের স্ত্রী মনি বেগম বলেন, ‘বিএনপির লোকজন আমার মেয়ের বিয়ের তিনটি সোনার গয়না ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। হামলাকারীরা চুলার রান্না করা ভাত ও তরকারি মাটিতে ফেলে দিয়ে গেছে। আমাদের ঘরে ১০ টাকার জিনিসপত্রও নাই।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পুলিশ সুপার আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহনশীল না হলে এসব ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে না। এ ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আসাফ সরকারসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা হবে।’

এদিকে গতকাল বিকেলে লালপুর উপজেলার ডহরশোলা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মতিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করার ঘটনা ঘটেছে। তিনি নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী তাইফুল ইসলামের কর্মী ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থী ফারজানা শারমিনের কর্মী আবদুল মজিদ ও তাঁর সহযোগীরা প্রকাশ্যে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন।

তবে অভিযুক্ত আবদুল মজিদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লালপুর থানার পুলিশ ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ বিষয়ে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে নির্বাচিত বিএনপির আব্দুল আজিজ বলেন, ‘শুনেছি-ধানাইদহের ঘটনাটি নির্বাচনকেন্দ্রিক না। তবে নির্বাচনের পর পরই যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছে ,তাই আমি প্রশাসনকে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এতে বিএনপির কেউ দায়ী হলে তাঁর দায় বিএনপি নেবে না।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে নির্বাচন-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মঞ্চে তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, তিনি (তারেক রহমান) আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ২৯৭টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ২৯৭ জন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবার দেশ গড়ার পালা। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার পরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। সেখানে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকেরা উপস্থিত আছেন।

নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে
নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে, ছবি: সংগৃহীত
 

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানান তিনি।

শান্তভাবে বিজয় উদযাপন করেছেন বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। নেতা–কর্মীদের তিনি সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।

দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলেন তারেক রহমান। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তারেক রহমান।

গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও (চট্টগ্রাম–২,৪) বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাঁদের শরিকেরা পেয়েছে ৩টি আসন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। একটি আসনে জয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুই বিষয়ে শপথ নেবেন। একটি জাতীয় সংসদ ও অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কারের পক্ষে গণরায় এসেছে। এটা জুলাইয়ের স্বীকৃতি। ১৬ বছরের অনাচারের বিরুদ্ধে জনআকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ও কমিটমেন্ট থাকলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আলাপ-আলোচনা ও ঐক্য বজায় রেখে সবার উচিত সনদ বাস্তবায়ন। অনেকে শুধু গণভোটে ভোট দিয়েছেন বলে সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এক ভাগ ভোট বেশি পড়ে গণভোটে।

আলী রীয়াজ বলেন, অধিকাংশ মানুষ আর পুরানো ব্যবস্থায় ফেরত যেতে চায় না, একারণেই গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হয়েছে। সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। অঙ্গীকার অনুযায়ী দলগুলো কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন এমপিদের শপথ পাঠ অনুষ্ঠান হবে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, ‘খুব দেরি হলেও এটা ১৬ কিংবা ১৭ (ফ্রেব্রুয়ারি) তারিখ। এর পরে যাবে না।’

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম এ কথা জানান।

প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘শপথের প্রস্তুতির কাজ গতকাল (শুক্রবার) থেকেই শুরু হয়েছে। আজ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি কাজগুলো খুব দ্রুতগতিতে চলছে। প্রধান উপদেষ্টা কালকেও কাজ করেছেন, আজকেও করছেন। টিম কাজ করছে, ক্যাবিনেট কাজ করছে।’

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, ‘এটা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ ১৭ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন হবে।’

বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। তিন দিনের মধ্যে এটি না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর শিরীন শারমিন চৌধুরীকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এখন সিইসিকে দিয়ে শপথ পড়াতে হলে গেজেট প্রকাশের পর তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। এর বিকল্প কোনো কিছু করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যদি কোনো বিকল্প প্রস্তাব আসে, তাহলে এর আগেই সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। নতুন সরকারও দায়িত্ব নেবে।

সে ক্ষেত্রে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাঁদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।

প্রকৃতিতে আজ নবপ্রাণের স্পন্দন। বসন্তের রঙিন ছোঁয়ায় চারদিক যেন জেগে উঠেছে। কচি পাতার সবুজে, আগুনরাঙা শিমুল-পলাশের শোভায় প্রকৃতি আজ নতুন করে জীবনগান গাইছে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘আজি খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো,/ আজি ভুলিয়ো আপন–পর ভুলিয়ো,/ এই সংগীতমুখরিত গগনে/ তব গন্ধ তরঙ্গিয়া তুলিয়ো।’

আজ পয়লা ফাল্গুন, বাঙালির প্রাণের ঋতু বসন্তের প্রথম দিন। মাঘের শেষ বিকেলেও যে হিমেল পরশ টিকে ছিল, আজ ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই তা যেন মিলিয়ে গেছে। এই মহানগরের ইট-পাথরের ধূসরতা ছাপিয়ে আজ রাজপথ দখলে নিয়েছে বাসন্তী রং। বইছে দখিনা সমীরণের মৃদু হিল্লোল। অনেক তরুণীর পরনে হলুদ, বাসন্তী আর কমলা রঙের শাড়ি; মাথায় গাঁদা ফুলের মুকুট। অন্যদিকে ছেলেদের পরনে রঙিন পাঞ্জাবি অথবা ফতুয়া। এই পোশাকি বৈচিত্র্য যেন ঢাকার যান্ত্রিক চেহারাকে একনিমেষে মুছে দেয়।

আজ পয়লা ফাল্গুন, বাঙালির প্রাণের ঋতু বসন্তের প্রথম দিন। মাঘের শেষ বিকেলেও যে হিমেল পরশ টিকে ছিল, আজ ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই তা যেন মিলিয়ে গেছে। এই মহানগরের ইট-পাথরের ধূসরতা ছাপিয়ে আজ রাজপথ দখলে নিয়েছে বাসন্তী রং। বইছে দখিনা সমীরণের মৃদু হিল্লোল।
আগুন রাঙা পলাশের দেখা মেলে এই বসন্তে
আগুন রাঙা পলাশের দেখা মেলে এই বসন্তে

আজ পয়লা বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় উৎসবে যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় চিরাচরিত বসন্ত উৎসবের ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে গেছে। আজ এ উৎসব হবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে সাতটায়, সীমিত পরিসরে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনই জানিয়েছে বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষৎ।

অন্যান্য বার এই দিনে অমর একুশে বইমেলা থাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি এলাকা তরুণ–তরুণীদের পদচারণে মুখর থাকত। তবে এবার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। তবু বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের উচ্ছ্বাসে কোনো ভাটা পড়ছে না।

অনেক তরুণীর পরনে হলুদ, বাসন্তী আর কমলা রঙের শাড়ি; মাথায় গাঁদা ফুলের মুকুট। অন্যদিকে ছেলেদের পরনে রঙিন পাঞ্জাবি অথবা ফতুয়া। এই পোশাকি বৈচিত্র্য যেন ঢাকার যান্ত্রিক চেহারাকে একনিমেষে মুছে দেয়।

নতুনের আবাহনের ঋতু

বসন্তের সাজে এক নারী
বসন্তের সাজে এক নারী

বসন্ত মানেই জড়তা ঝেড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। রুক্ষ মাটির বুক চিরে যেমন নতুন ঘাস মাথা তোলে, তেমনি মানুষের মন থেকেও ক্লান্তি আর বিষাদ মুছে দিতে আসে ফাল্গুন।

বসন্তে বাংলাদেশের গ্রামবাংলার চিত্র আরও বেশি সতেজ হয়ে ওঠে। মাঠের পর মাঠ হলুদ শর্ষে ফুলের সমারোহ এখন কিছুটা কমলেও আম্রকাননে মুকুলের ম-ম ঘ্রাণ জানান দেয় ঋতু পরিবর্তনের বার্তা। যে শিমুলগাছটি সারা বছর নিঃশব্দে, প্রায় অবহেলায় দাঁড়িয়ে ছিল, সেটিই এখন লালে লাল হয়ে দূর থেকেই পথচারীর দৃষ্টি কাড়ে। গ্রামে পুকুরপাড়ে ঝরে পড়া শজনে ফুল কিংবা মেঠো পথে শুকনো পাতার মচমচ শব্দ মনে করিয়ে দেয়—বসন্ত শুধু রঙের নয়, নতুনের আবাহনেরও ঋতু।

আজ পয়লা বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় উৎসবে যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় চিরাচরিত বসন্ত উৎসবের ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে গেছে। আজ এ উৎসব হবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে সাতটায়, সীমিত পরিসরে।

প্রকৃতিতে রঙের উৎসব

বসন্ত উৎসবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ
বসন্ত উৎসবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ
 

ফাল্গুনকে বলা হয় ফুলের মাস। এ সময় বনে-বাগানে, পথের ধারে কিংবা গ্রামের উঠোনে ফুটে ওঠে বিচিত্র রঙের সমারোহ। পলাশের আগুনরাঙা ছটা, রক্তকাঞ্চনের গাঢ় লাল আভা, শিমুলের নরম পাপড়ি, অশোকের বিমোহিত সৌন্দর্য, সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন রঙের উৎসবে মেতে ওঠে। রাজধানীর ‘ফুসফুস’খ্যাত রমনা পার্কে গেলে দেখা মেলে রক্তকাঞ্চন, গামারি ও উদালের উচ্ছ্বাস। আম্রকুঞ্জে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে বেড়ায় বাতাসে, কোকিলের কুহুতানে ভরে ওঠে চারদিক। এই মাসে বাতাসে মিশে থাকে এক মৃদু উষ্ণতা, যা শীতের মলিনতাকে নিঃশব্দে মুছে দেয়।

বসন্তের দ্বিতীয় অংশ চৈত্রে এসে প্রকৃতি রূপ বদলায়। ফুলের উচ্ছ্বাস কমে আসে, গরম বাড়তে থাকে। দুপুরের রোদ তীব্র হয়। চৈত্র মানেই রোদের কড়া শাসন। এ সময় বাতাসে ধুলো মেশে। গাছের পাতা ঘন সবুজ হয়ে ওঠে, কিন্তু তাতে আর ফাল্গুনের কোমলতা থাকে না। মাঠঘাট ফেটে চৌচির হওয়া, পুকুরের পানি শুকিয়ে আসা আর প্রকৃতির রুক্ষতা, সবই জানান দেয় যে গ্রীষ্মের দাবদাহ দোরগোড়ায়।

তবে চৈত্রের এই খরতাপেরও একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। ঝরাপাতার মচমচ শব্দ আর বিকেলের হলদেটে রোদে একধরনের উদাসীনতা কাজ করে। বাংলার লোকজ সংস্কৃতিতে চৈত্রসংক্রান্তি এক বিশাল আয়োজন। বছরের শেষ দিনটিকে ঘিরে যে মেলা আর উৎসব হয়, তা মূলত জরা ও ক্লান্তিকে ধুয়েমুছে নতুন বছরকে বরণ করার এক প্রস্তুতি।

রাজধানীর ‘ফুসফুস’খ্যাত রমনা পার্কে গেলে দেখা মেলে রক্তকাঞ্চন, গামারি ও উদালের উচ্ছ্বাস। আম্রকুঞ্জে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে বেড়ায় বাতাসে, কোকিলের কুহুতানে ভরে ওঠে চারদিক। এই মাসে বাতাসে মিশে থাকে এক মৃদু উষ্ণতা, যা শীতের মলিনতাকে নিঃশব্দে মুছে দেয়।

নবজাগরণ অনিবার্য

একদিকে ফাল্গুনের অফুরন্ত দান, অন্যদিকে চৈত্রের সব কেড়ে নেওয়ার প্রবণতা, এ দুইয়ের মেলবন্ধনেই আমাদের জীবন আবর্তিত হয়। বসন্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন যেমন রঙিন হতে পারে, তেমনি কঠোর ও শুষ্ক হওয়াটাও প্রকৃতির নিয়ম।

আজকের এই সময়ে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে যখন ঋতুচক্রই বিপর্যস্ত, তখন বসন্তের চিরচেনা রূপ ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। বন উজাড় আর ক্রমবর্ধমান দালানকোঠার ভিড়ে শিমুল-পলাশ ক্রমেই কোণঠাসা। তবু ঋতুরাজ প্রতিবছর ফিরে আসে তার নিজস্ব মহিমায় আমাদের মনে করিয়ে দিতে যে শীতের রিক্ততার পর নবজাগরণ অনিবার্য। প্রকৃতির এ চক্রই আমাদের আশাবাদী করে তোলে।

আগামীকাল (শনিবার) সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বেলা ১১টায় এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ এই তথ্য জানান।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন। গণমাধ্যম সদস্যদের প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের ফলে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামীকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণসহ ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং সাধারণ জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “১৩তম সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণকে জানাই আমার উষ্ণ অভিনন্দন! নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে এক অসাধারণ বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ায় আমি তারেক রহমানকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল জনসমর্থন নিয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির ২১২ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন।তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

তার নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন ছিলেন। এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার গঠন করলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন।

তারেক রহমান শুধু ঢাকা-১৭ আসনেই নয়, তার পৈতৃক নিবাস বগুড়া-৬ আসন থেকেও ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২৫ নভেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের লন্ডনের নির্বাসনের পর দেশে ফেরেন তিনি এবং ২৭ নভেম্বর ভোটার হন। 

রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরোধী আন্দোলনে, এরপর ১৯৮৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সদস্য হন। ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, ২০০৭ সালে নির্বাসিত, ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব নেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু বরণ করার পর ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানকে দলের স্থায়ী কমিটি চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব পড়বে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকায় আসা একাধিক বিদেশি সাংবাদিক। তাঁদের এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও তাদের শরিক দল অংশ নিচ্ছে।

নির্বাচনের আগের দিন আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। সেখানে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন শুক্রবার সকালে সারা দেশ থেকে আসা ফলাফল গণনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।

বিবিসির একজন সাংবাদিক নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানতে চান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ দল কার্যত নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না—এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর ছায়া পড়ছে কি না? বাংলাদেশে এমন মানুষ থাকতে পারেন, যাঁরা ওই দলকে সমর্থন করতে চান, কিন্তু আগামীকাল ব্যালট পেপারে তাঁদের সেই পছন্দ থাকবে না। নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন নয়—এ প্রশ্নের জবাবে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভুলে গেলে চলবে না। দেড় দশক ধরে এই দেশ গণতান্ত্রিক ঘাটতির মধ্যে ছিল। এই সময়ে যাঁরা এখন ত্রিশের কোঠায়, তাঁরা কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যাঁরা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরা এখন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। সে কারণেই কিছু সত্তা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবে এতে ভোটার উপস্থিতি কমবে না—আপনারা আগামীকাল তা দেখবেন।’

সম্পূরক প্রশ্নে বিবিসির আরেক সাংবাদিক জানতে চান, তাহলে কি আপনি নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করছেন? জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমি বলছি, এটি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের বিষয়। আমাদের জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনাগুলো ভুলে গেলে চলবে না।’

# আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমার সম্ভাবনা দেখছে না ইসি
# নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা ভোটার উপস্থিতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সমান উৎসাহ রয়েছে। কিছুসংখ্যক মানুষ না-ও আসতে পারেন—এটি সব সময়ই ঘটে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ মানুষই ভোট দেবেন। আর যে দলের কথা বলছেন, তারা একা ছিল না—তাদের অন্য অংশীদাররা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সহিংসতার অভিযোগ আছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কি দুর্বল নয়—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘আমি একটি পাল্টা প্রশ্ন করি—কেউ কাজ করছে কি না, তা কি সব সময় দৃশ্যমান হয়? আমরা কার্যকরভাবে কাজ করছি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন সব সময় ভালো—বাংলাদেশ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন সফল নির্বাচন করেছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের কারণে সরকারি প্রভাব নেই। সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এটি অন্যতম সেরা পরিবেশ। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে আমরা সতর্ক। ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সক্ষমতা মোতায়েন করা হয়েছে—৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সদস্য মাঠে, প্রথমবার ইউএভি, ড্রোন, বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি ব্যবহার হচ্ছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে আয়োজিত নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, ঢাকা। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে আয়োজিত নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, ঢাকা। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘১৩ ডিসেম্বর থেকে “অপারেশন ডেভিল হান্ট” শুরু হয়েছে; প্রায় ৯০০ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। সাধারণ কোনো হুমকি নেই। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে, আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘তবে আমরা এমন ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না। বিশেষ করে আজ রাতে সব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে—আমরা সে বিষয়ে প্রস্তুত আছি। আর চরম পরিস্থিতিতে যদি কোনো কেন্দ্র এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে সেখানে ভোট নেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সেদিনই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পোস্টাল ভোটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার জানান, পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল ছিল, বাকিটা ম্যানুয়াল। প্রতিটি পোস্টাল ভোট সংসদীয় আসন অনুসারে গণনা করা হবে। ভোটের দিন বিকেল চারটার মধ্যে যে ভোটগুলো পোস্টে পৌঁছাবে, শুধু সেগুলোই গণনা করা হবে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল কবে ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ভোট শেষ হবে। এরপরই গণনা শুরু হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে দুই–তিন হাজার ভোট, দুই ধরনের ব্যালট—গণনায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা লাগতে পারে। রাত থেকে ভোরের মধ্যে প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করবে।’

ওই অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) প্রশ্ন করা হয়েছিল আগের দুই সিইসি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা এখন কারাগারে। নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে পূর্বসূরিদের পরণতি তাঁকে ভাবায় কি না? সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, জাতির কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি সে লক্ষ্যেই আইনকানুনের মধ্যে থেকেই কাজ করছি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই কাজ করছি। আমরা যে কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) দিয়েছি, সেই কমিটমেন্টকে ফোকাসে (লক্ষ) রেখেই কাজ করছি। সুতরাং আমাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য দেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি বলেন, ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি স্বাভাবিক বিষয়, এ বিষয়টি স্বরণে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকারই নয় বরং দায়িত্ব। সবাই সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটকেন্দ্রে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি দায়িত্বশীল ও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিইসি। ব্যক্তিগত কষ্ট তুচ্ছ করে জাতীয় নির্বাচনের এই ‘মহতী ব্যবস্থাকে’ সার্থক করে তোলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

ভোটকেন্দ্রে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে বলে ভাষণে উল্লেখ করেছেন সিইসি। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। পরদিন শুক্রবারের (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করবে ইসি।