‘আনন্দ শোভাযাত্রা’,  ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নয়। এবার থেকে পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

সচিবালয়ে  সভা শেষে বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী । আজ রোববার সকালে
সচিবালয়ে  সভা শেষে বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী । আজ রোববার সকালে
 

আজ রোববার সচিবালয়ে এক সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

আগামী ৩ মে থেকে সারাদেশে শুরু হবে হামের টিকাদান কর্মসূচি। এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। আর ৩ মে থেকে অবশিষ্ট সারা দেশে একযোগে টিকা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, অতীতের সরকার টিকা দেয়নি বলে হাম বজ্রপাতের মতো এসেছে। প্রথম পর্যায়ে টিকা দেয়া হচ্ছে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। হাম এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা করোনার মহামারীর চেয়েও কম উদ্বেগজনক নয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে এই টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার বেলা একটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার কারখানাটিতে আগুন লাগে। দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

প্রথমে উদ্ধার হওয়া দগ্ধ পাঁচজনের মরদেহের মধ্যে তিনজনই নারী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে শুধু একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অপারেশনস ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা

কুমিল্লায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে হোস্টেলের কক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে সহপাঠীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নওশিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট।

সহপাঠীদের অভিযোগ, নওশিন মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষকের রোষানলে ছিলেন। তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপে রাখা হতো। একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। এতে মানসিক চাপে ১০৯টি ট্যাবলেট সেবন করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

আজ শনিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। নওশিনের সহপাঠীদের অভিযোগ, কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের একজন শিক্ষকের রোষানলে বারবার ফেল করতে হয়েছে নওশিনকে। এটি তাঁর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে। ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে ঘটনার পর বিষয়টি আলোচনায় আসার পর অ্যানাটমি বিভাগের ওই শিক্ষক গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। তিনি কারও কল ধরছেন না। এ জন্য তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

খুলনার সরকারি করনেশন গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন অর্পিতা নওশিন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নওশিনের সহপাঠীরা বলেন, প্রথম বর্ষ থেকেই কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের ওই শিক্ষকের রোষানলে পড়েন নওশিন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্যান্য সব বিষয়ে পাস করলেও অ্যানাটমিতে ফেল করেন তিনি। এরপর গত তিন বছরে আরও চারবার একই বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও প্রতিবারই অকৃতকার্য হন। প্রথম বর্ষে থাকতেই প্রকাশ্যে তাঁকে ফেল করানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে ওই শিক্ষক এমন আচরণ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তাঁদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। একই সেশনের অন্য শিক্ষার্থীরা এখন পঞ্চম বর্ষে পড়লেও নওশিন প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন।

নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বোনের আত্মহত্যা করার মতো মানসিকতা ছিল না। কলেজের মানসিক চাপই তাকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে। প্রথম বর্ষ থেকেই তাকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে। সবাই পাস করলেও আমার বোনকে একটি বিষয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তার সমস্যা কী, সেটাও কেউ বলেনি।’ তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ফরম পূরণের জন্য টাকা চেয়েছিল। আমি আশ্বস্ত করেছিলাম টাকা পাঠাব। এমন খবর পাব, কখনো ভাবিনি।’

আজ বিকেলে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে ওই শিক্ষার্থীর অসুস্থতার খবর পাই। খবর পাওয়ার পরপর জরুরি বিভাগে থাকা সব চিকিৎসককে প্রপার ট্রিটমেন্টের অনুরোধ জানাই। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায় ওই ছাত্রী মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ও পরিচালক হাসপাতালে ছুটে যাই। কিন্তু আমাদের ছাত্রীকে আর বাঁচাতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা থেকেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শিক্ষার্থীর ভাই বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আমরাও চরমভাবে শোকাহত।’

অ্যানাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। এ জন্যই আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। যদি এ ঘটনায় কেউ যুক্ত থাকে, তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। এরপরও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তার সরকারের সকল উপদেষ্টাকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কারকে কেন্দ্র করে যা হচ্ছে, তা অপ্রত্যাশিত নয়। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে, ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়।

বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর আর কিছুকে তোয়াক্কা করছে না। তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনছে না। তারা সেগুলোকে আইনে পরিণত করবে না। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বাতিল করে তারা আসলে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে চাচ্ছে।

তারা সংসদে সমাধান চেয়েছিলেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংসদে যেহেতু উপযুক্ত সমাধান আমরা পাচ্ছি না, তাই রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হোক, অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা হোক। বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না যে সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। এ অবস্থায় সরকারের ওপর যদি জনগণের আস্থা না থাকে, বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না। যুদ্ধের কারণে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে, তাতে দলগুলোর ঐক্য দরকার ছিল।

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সবাইকে অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি এ-ও বলেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, তারা কোনো কথা বলবেন না, তারা যার যার ক্যারিয়ারে ফিরে যাবেন— এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে। মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদেরকে ক্ষমতা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে হতাশ করেছে। তারপরও যতটুকু হয়েছে, তা ধরে রাখার জন্য তাদেরকেও রাজপথে নামতে হবে।

রাজধানীর কদমতলীর একটি গ্যাসলাইট কারখানায় আগুন লেগেছে। দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

আজ শনিবার দুপুরে কদমতলী চৌরাস্তার আল বারাকা হাসপাতালের পাশে ওই কারখানায় আগুন লাগে।

কদমতলীতে গ্যাসলাইট কারখানায় লাগা আগুন দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। আজ শনিবার দুপুরে
কদমতলীতে গ্যাসলাইট কারখানায় লাগা আগুন দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। আজ শনিবার দুপুরে
 

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, বেলা ১টা ১১ মিনিটে তাঁরা আগুন লাগার খবর পান। সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করে। বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

কীভাবে আগুন লেগেছে এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ ও গ্রামবাসীসহ অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন।

আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. মশিউর রহমান। তিনি ভাঙ্গা থানার কনস্টেবল পদে কর্মরত বলে নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দিপু। তবে আহত অন্য ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আজ শনিবার সকাল সোয়া সাতটায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, সংঘর্ষে দুপুর একটা পর্যন্ত ২৮ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবারের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ সকালে সেখানে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এর আগে গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর আবার সংঘর্ষে জড়ায় দুটি পক্ষ।

আজ সকালে শুরুতে হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামের বাজার এলাকায় দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এক পক্ষে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্য পক্ষে একই ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন।

সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
 

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য নিয়ে হামিরদী ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া নামের তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ আছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ বলছেন, ফুটবল খেলা উপলক্ষে মাইকিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়; আবার কেউ বলছেন, ঈদের চাঁদরাতে মনসুরাবাদ বাজারে একটি দোকানের সামনে পটকা ফাটানো নিয়ে বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

এ বিরোধের জেরে গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে খাপুরা গ্রামের এক ব্যক্তিকে মনসুরাবাদ বাজারে মারধর করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় এদিন বিকেল ও সন্ধ্যায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও আজ আবারও সংঘর্ষ হলো। প্রথমে সংঘর্ষ মনসুরাবাদ বাজার এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলো দেশি অস্ত্র ও ঢাল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন অবস্থান নেন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। অন্যদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা পলাশ সাহা জানান, সংঘর্ষের প্রায় ৫ ঘন্টা পর দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ডিবি ও পলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা এসে উভয়পক্ষকে হটিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া বলেন, অন্য তিনটি গ্রামের তুলনায় মনসুরাবাদ গ্রামটি বড় ও জনসংখ্যাও বেশি। বাজারটি তিন গ্রামের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাসস্ট্যান্ডটি মনসুরাবাদ গ্রামের দখলে রয়েছে। ছোটখাটো ঘটনা থেকে শুরু হয়ে এসব সংঘর্ষ পরে বড় আকার ধারণ করে। স্থানীয় আধিপত্যের কারণে তিনটি গ্রাম এক হয়ে মনসুরাবাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, তরুণদের মধ্যে নানা ছোট বিষয় নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত হয়—কখনো ইভটিজিং, কখনো খেলাধুলা, আবার কখনো মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে। এসব ঘটনাই পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের পর মনসুরাবাদ বাজার এলাকার চিত্র। আজ দুপুরে তোলা
সংঘর্ষের পর মনসুরাবাদ বাজার এলাকার চিত্র। আজ দুপুরে তোলা

এ সংঘর্ষে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম বলেন, ‘সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ডিবি ও থানা–পুলিশের দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।’

জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন। আর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়াও বন্ধ থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে আজ শুক্রবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্যের আলোকে গতকালের মন্ত্রিসভায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া, সারের উৎপাদন, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা, শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

অফিস সময় ও বিপণিবিতান

সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জরুরি সেবা ব্যতীত সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে বলে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বরাত দিয়ে তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশদূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বসাকল্যে ২০ (বিশ) শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী, মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনগুলো ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিপণিবিতানগুলো সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বাস্তবায়ন করবে।

আরও যত সিদ্ধান্ত

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

এ ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার কেনা শতভাগ বন্ধ এবং সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ করা জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

এ ছাড়া আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ, অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমানোর বিষয়েও মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‍সিদ্ধান্ত হয় বলে তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে না পেরে টানা ৩৩ দিন ধরে একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেইসঙ্গে ধ্বংসের চেষ্টা চালানো হচ্ছে ইরানের জ্বালানি ও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনাও।  

এরই ধারাবাহিকতায় এবার ইরানের সবচেয়ে উঁচু বি-১ সেতুতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যৌথ এ হামলায় ভেঙে গেছে সেতুটির মধ্যভাগ। অন্তত ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এ ঘটনায়। সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৯৫ জন। 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের কারাজের কাছে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু বি-১ সেতুতে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই সেতুতে দুইবার হামলা চালায়, যার ফলে সেতুর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে মাটিতে পড়ে গেছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ১ কিলোমিটার লম্বা সেতুটির বড় বড় অংশ হামলার পর ধসে পড়েছে। বিশেষ করে সেতুটির মাঝামাঝি অংশ বিধ্বস্ত হয়েছে। 

আলব্রোজ প্রদেশের কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেতুর মধ্যভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের কর্তৃপক্ষ বি-১ সেতুকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু বলে উল্লেখ করেছেন।  

হামলার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা একটি অগোছালো শত্রুর পরাজয় এবং নৈতিক পতন। তিনি আরও লিখেছেন, অসমাপ্ত সেতুসহ নাগরিক স্থাপনার ওপর হামলা ইরানিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে না।

ইরানি মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, সেতুটি তেহরান ও কারাজ-এর মধ্যে যানজট নিরসন করতে এবং দেশের উত্তর দিকে যাতায়াত সহজ করতে নির্মাণ করা হচ্ছিল। 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দুজন এবং একজন সচিব ও আরেকজন গ্রেড-২ পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া দুজনের মধ্যে সাবেক আমলা বিজন কান্তি সরকারকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক এবং তানভীর গনিকে বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী এই দুজনকে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ ও দায়িত্ব দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এ ছাড়া মো. শাকিরুল ইসলাম খানকে সচিব পদমর্যাদা দিয়ে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক এবং মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে গ্রেড-২ পদমর্যাদা দিয়ে যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এরপর একাধিকবার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়।

সবমিলিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ৪৯। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন।

এর বাইরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা ছিলেন। এখন আরও দুজনকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী করা হলো। আর দুজন সচিব ও গ্রেড-পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী হলেন।