ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানের পর নিউজিল্যান্ড—ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জিতেছে সর্বশেষ তিনটি সিরিজেই। তাতে সাফল্যের বড় কারিগর ছিলেন পেসাররা, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজসেরার পুরস্কারও গেছে নাহিদ রানার হাতে। শুধু তিনিই নন, কখনো শরীফুল ইসলামের সুইং, আবার কখনো মোস্তাফিজুর রহমানের কাটার এনে দিয়েছে ম্যাচের মোড় ঘোরানো সাফল্য।

এবার তাদের সামনে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। সব সময়ই পেস বোলারদের জন্য খ্যাতি আছে তাদের। তবে প্যাট কামিন্স–জশ হ্যাজলউডের মতো তারকা পেসারদের ছাড়াই এই সিরিজ খেলতে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। দলটির বর্তমান স্কোয়াডে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ নাথান এলিসও খেলেছেন মাত্র ২০টি ওয়ানডে।

বাকি তিনজনের মধ্যে জেভিয়ার বার্টলেট আর বেন ডোয়ারশুইস খেলেছেন ৬ ম্যাচ। লিয়াম স্কটের তো এখনো অভিষেকই হয়নি। একদিকে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান পেস আক্রমণ, অন্যদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তিই এখন পেস বোলিং।

তাহলে কি এই সিরিজে পেসারদের লড়াইয়ে বাংলাদেশই এগিয়ে? আজ মিরপুরে সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উত্তরে অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিস বলেছেন, ‘ধারণা করছি, সিরিজটা শেষ হলেই আমরা উত্তরটা পেয়ে যাব!’ এরপর তিনি বলেছেন, ‘আমাদের স্কোয়াড থেকে বড় (তারকা) কয়েকজন খেলোয়াড় বাইরে চলে গেছে। তবে আমি মনে করি যারা গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত খেলছে, যেমন নাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট বা বেন ডোয়ারশুইস। তাদের এই পর্যায়ে খেলার মতো এখন বেশ ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই তারাও দারুণ সম্ভাবনাময়। এই সিরিজে তারা কী করতে পারে তা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’

সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিস
সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিস
 

বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন নাহিদ রানাকে নিয়ে। গত মার্চে মিরপুরেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন, পরের সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ৮ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সিরিজসেরা।

নাহিদ যে এবার অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন, সেটি ভালোভাবেই জানেন ইংলিস, ‘আমি যে খুব বেশি তার বোলিং দেখেছি, তা নয়। কিন্তু যতটুকু দেখেছি, খুব ভালো বোলার সে, খুবই সম্ভাবনাময় একজন। লম্বা, জোরে বল করতে পারে— এমন কম্বিনেশন খুব চমৎকার ব্যাপার। আমাদের সবার জন্যই তাকে সামলানো বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা রিশাদ হোসেনের অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। সর্বশেষ বিগ ব্যাশে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ও বিপক্ষে ওই টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা এই সিরিজেও কাজে আসবে বলে বিশ্বাস ইংলিসের।

রিশাদ হোসেন
রিশাদ হোসেন
 

তিনি বলেছেন, ‘সে আসলেই খুব ভালো একজন বোলার। বিগ ব্যাশে খেলেছে, তাই আমার মনে হয় আমাদের বেশ কয়েকজন তাকে ভালোভাবেই দেখেছে। স্বাভাবিকভাবেই, ম্যাথু ওয়েড আমাদের কোচিং স্টাফে আছে, সঙ্গে এলিসও আছে—হোবার্টে তারা রিশাদকে খুব কাছ থেকে দেখেছে। তাই তাকে নিয়ে যে আমাদের দলের ভেতর আলোচনা হবে, সেটা একদম নিশ্চিত।’

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব